ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর আলোকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক আ.ম.ম. মসরুর হসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগরীর সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স
লেবেল
- খবর
- মতামত- বিশ্লেষণ
- বিবৃতি
- রাজনীতি
- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
- আন্তর্জাতিক
- প্রচ্ছদ
- আইনশৃঙ্খলা
- শোক সংবাদ
- বিবিধ
- স্মৃতি
- আইন-আদালত
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- শিক্ষা
- ডেমোক্রেসি
- ইসলাম
- স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞান
- অর্থনীতি
- ইসলামী আন্দোলন
- সাহিত্য-সংস্কৃতি
- হাদীসের বাণী
- শীতবস্ত্র বিতরণ
- সভ্যতা
- ইতিহাস
- গল্প
- মিডিয়া
- শোকবাণী
- খেলাধুলা
- জাতীয়
- IIUC News
- চিঠি
- কৃষি
- দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
- প্রবাস
- গবেষণা
- আবিস্কার
- কুরআন
- সম্পাদকীয়
- বাণী
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
- সাইবার ক্রাইম
- দারসুল কুরআন
- ব্রেকিং নিউজ
রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৪
ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী জামায়াতের আলোচনা সভাঃ গণবিস্ফোরণের আগেই কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন -নূরুল ইসলাম বুলবুল
গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীসহ দেশব্যাপী আলোচনা সভা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা মহানগরী আয়োজিত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, জনগণ ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরাচারী সরকারকে পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য করেছিল। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে সেদিন গণতন্ত্র মুক্তি পেলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে আবারও গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গলাটিপে হত্যা করেছে। তাই দেশকে বাকশালী ও স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে হলে ‘৯০ এর গণআন্দোলনের চেতনায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি সরকারকে গণবিস্ফোরণের আগেই পদত্যাগ করে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে দুর্বার গণআন্দোলনে মাধ্যমে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে।
রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত ‘ গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ফরিদ হোসাইন ও অধ্যাপক মোকাররাম হোসাইন খান, জামায়াত নেতা খন্দকার মিজানুর রহমান, শামীম হাসনাইন ও আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের একটি নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে উৎখাত করে গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছিলেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চালানো হয়েছিল দুঃশাসন ও লাগামহীন দুর্নীতি। ধ্বংস করা হয়েছিল দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। কেড়ে নেয়া হয়েছিল মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার। কিন্তু জনগণ ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ৯ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছে। জনতার আন্দোলন যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখনই স্বৈরাচার ও বাকশালীদের অশুভ আঁতাতে গণআন্দোলন বার বার বিভ্রান্ত হয়েছে। কিন্তু ১৯৯০ সালের ২৭ নবেম্বর নতুন করে ৮ দল, ৭ দল ও ৫ দলীয় জোটসহ জামায়াতে ইসলামী যুগপৎভাবে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করে। এতে শহীদ হন ডা. মিলনসহ আরও অনেকে। স্বৈরাচারী সরকারের গণমাধ্যমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিবাদে স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত সংবাদপত্রের সকল প্রকার প্রকাশনা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রবল গণঅন্দোলনের মুখে ৪ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৫ ডিসেম্বর লাখ লাখ জনতা রাজপথে নেমে এসে বিজয়োল্লাস প্রকাশ করে। ৬ ডিসেম্বর একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয় স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার। আর এভাবেই বীর জনতা গণতন্ত্রকে স্বৈরাচারের হাত থেকে শৃংখল মুক্ত করে।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালে লগি-বৈঠার তা-বের মাধ্যমে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি করে দেশের গণতন্ত্রকে আবারও হত্যা করা হয়। আবারও বাকশালী ও স্বৈরাচারী অপশক্তির আঁতাতের মাধ্যমে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পাতানো ও ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা হয়। ৫ বছর ধরে চলে জুলুম-নির্যাতন, অপশাসন-দুঃশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, বেপরোয়া লুটপাট, হত্যা-সন্ত্রাস-নৈরাজ্য। তারা নিজেদের সীমাহীন অপকর্ম ঢাকতে ও নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ৫ জানুয়ারির তামাশা ও ভাঁওতাবাজীর নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা দখল করে। কথিত এই নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অন্যরা মাত্র ৫ ভাগেরও কম ভোট পেয়ে নির্বাচিত বলে দাবি করা হয়। যা বিশ্বের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি নজীরবিহীন ঘটনা। মূলত গণতন্ত্র হত্যা করে দেশে একদলীয় ও বাকশালী শাসন কায়েমের জন্যই কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। তাই জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনতে হলে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
রাজশাহী অফিস : জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী ডাক্তার মুহাম্মাদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য উজ্জল। গণভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের একদলীয় শাসন থেকে দেশের জনগণ গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছিল। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিজয় লাভ করেছিল। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে আজ আবারো সেই স্বৈরচারী এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করছে। স্বাধীন দেশের জনগণ তা কখনো মেনে নিতে পারে না। অবিলম্বে দেশের জনগণ শেখ হাসিনা ও এরশাদের পাতানো গণতন্ত্র থেকে দেশকে মুক্ত করে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাল্লাহ। তিনি গতকাল শনিবার জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর উদ্যোগে স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তবে এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম, মহানগরীর প্রচার সেক্রেটারী শাহাদাত হোসাইন, জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি স্বীকৃত আদর্শ রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক দেশে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের গণতান্ত্রিক কর্মকা-ের অধিকার এই দলের রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার জোর করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অন্যায়ভাবে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এমনকি মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়ে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দিয়ে দেশ থেকে ইসলামী নেতৃত ¡শূন্যের ষড়যন্ত্র করছে এই সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সরকারের আমলে কুরআনের তাফসির মাহফিল বন্ধ করার জন্য ১৪৪ ধারা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে। আলেম-ওলামাদের লাঠিপেটাও করছে এ সরকার। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ জামায়াত নেতা ও সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সংবিধানে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা পুনঃস্থাপন, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনের জোর দাবি করেন।
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী আ.জ.ম ওবায়েদুল্লা বলেছেন, ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’। ১৯৯০ সালের এই দিনে দেশের মুক্তিকামী জনগণ গণ আন্দোলনের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায় করেছিল এবং গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। জনগণ ফিরে পেয়েছিল তাদের ভোটাধিকার। তিনি আরো বলেন, জনগণের আশা ছিল ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবসের আগেই জনদাবি মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন জনগণ গণতন্ত্রিক স্বৈরাচারকে হটাতে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বেরাচারী এরশাদের মত এই সরকারকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। তিনি অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল মজলুম নেতৃবৃন্দদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, আবু বকর ছিদ্দিক, নাজিম উদ্দীন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।
খুলনা অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, নব্বই দশকে এরশাদের স্বৈরশাসনের রূপেই এ অবৈধ সরকার দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করছে। দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায় করেছিল এবং গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছিল। ঠিক সেই গণআন্দোলনের মাধ্যমেই এ অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, জেনারেল এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছিলেন। জনগণ আন্দোলন করে ‘স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে’ ভোটাধিকার আদায় করেছিল। আজকে আবার আওয়ামী মহাজোট সরকার স্বৈরাচারী এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। জাতিকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। শনিবার খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত গণতন্ত্র মুক্তি দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এসময় আরও বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, প্রচার সেক্রেটারি আল ফিদা হোসেন, জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলাম পান্না প্রমুখ।
সিলেট ব্যুরো : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দেশপ্রেমিক জনতার দুর্বার আন্দোলনে এরশাদের স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। এই দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায় করার মাধ্যমে গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। জনগণ ফিরে পেয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার। আবারও স্বৈরশাসনের প্রেতাত্মা আওয়ামী অপশক্তি জাতির ঘারে জগদ্দল পাথরের ন্যায় বসে রয়েছে। তাদের অবৈধ ক্ষমতা লিপ্সা বহু কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। আধিপত্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী শক্তি তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সহায়তায় বাংলাদেশকে সার্বভৌমহীন ভূ-খন্ডে পরিণত করতে চাইছে। হাসিনা সরকারের ফ্যাসিবাদী কায়দায় জুলুম, নিপীড়ন ও নির্যাতনের ষ্টীমরোলার এরশাদের স্বৈরশাসনকেও হার মানাচ্ছে। গণতন্ত্র মুক্তি দিবসের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। স্বৈরাচারী এরশাদও যেমন বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরাও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি গতকাল শনিবার কেন্দ্র ঘোষিত ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর সহকারী সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, জামায়াত নেতা মুফতি আলী হায়দার, মাওলানা আব্দুল মুকিত, আব্দুল্লাহ আল মুনিম, এডভোকেট আলীম উদ্দিন, এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, আনোয়ার আলী, চৌধুরী আব্দুল বাছিত নাহির, শফিকুল আলম মফিক, রফিকুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।
ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীতে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে একটি মিলনায়তনে শহর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শহর আমীর মুফতি আবদুল হান্নান। শহর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান চৌধুরী, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন- দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র এবং শতভাগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবেনা। তাই মানুষের প্রকৃত অধিকার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই সম্ভব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল শহর শাখার উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র মুক্তি’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তগণ উক্ত কথা গুলো বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন- জামায়াতে ইসলামী টাঙ্গাইল জেলা শাখার সেক্রেটারী ও শহর শাখার আমীর আহছান হাবীব মাসুদ। বক্তব্য রাখেন শহর শাখার শু’রা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ জহির উদ্দিন বাবর, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শেখ, মোঃ হাফিজুর রহমান, ০৭নং ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা শওকত আলী, ০২ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম ও ১৮ নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারী এম.এ. হাকীম প্রমুখ।
শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা : শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে গনতন্ত্র মুক্তি দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আমীর অধ্যাপক মো: মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা মো: জাহাঙ্গীর কবির, পৌরসভাপতি অধ্যক্ষ মাও: মো: আতাউল হক, ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যক্ষ মাওলানা মো: আব্দুল মতিন, শিবলী সাদিক, মাও: মো: মনিরুজ্জামান, মো: আজিজুল হক প্রমুখ।
গাজীপুর সংবাদদাতা : গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর জয়দেবপুর থানা জামায়াতের উদ্যোগে শনিবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর মোঃ ছাদেকুজ্জামান খান এর সভাপতিত্বে সেক্রেটারি ইউসুফ আব্দুল্লাহ এর পরিচালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর মহানগরী জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস. এম. সানাউল্লাহ, বিষেশ অতিথি ছিলেন জেলা আমীর আবুল হাসেম খান, মহানগরী জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি হাফিজ ইব্রাহীম অন্যান্যের মাধ্যে বক্তব্য রাখেন জয়দেবপুর থানা দক্ষিণের আমীর মাও. সাইদুর রহমান, গোলাম নজীব, আসাদুল্লাহ্ প্রমুখ।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা : জামায়াতের ইসলামী জয়পুরহাট শহর শাখার উদ্যোগে স্থানীয় এক মিলনায়তনে গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহর জামায়াতের আমীর ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিবুল আলম লিটন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মু. আতাউর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহর জামায়াতের রাজনৈতিকসেক্রেটারী এ্যাড: আব্দুল মোমেন ফকির, জামায়াত নেতা আব্দুল বাতেন, মোনায়েম সরদার প্রমূখ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন- স্বৈরচারী এরশাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা চালু হয়েছিল নব্য স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ৫ জানুয়ারী ২০১৪ ভোটার বিহীন নির্বাচনী নাটক করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রেরসে ধারাকে হত্যা করেছে। সরকার জনগণের কাঁধের উপর জগদ্বল পাথরের মত জেঁকে বসেছে। আন্দোলন ছাড়া এ স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার না হটানো পর্যন্ত গণতন্ত্র মুক্তি লাভ করতে পারে না। তিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আগামী দিনে সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।
পাবনা সংবাদদাতা : সৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে পাবনা পৌর জামায়াত গতকাল এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইকবাল হুসাইন। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান, সেক্রেটারী ইকরামুল হক, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পৌর সভাপতি ইঞ্জি: খোরশেদ আলম প্রমুখ।
Labels:
খবর,
জাতীয়,
প্রেস বিজ্ঞপ্তি,
রাজনীতি
গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আলোচনা সভায় আ.জ.ম ওবায়েদুল্লা : গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারকে হটাতে বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ
বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী আ.জ.ম ওবায়েদুল্লা বলেছেন,আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’। ১৯৯০ সালের এই দিনে দেশের মুক্তিকামী জনগণ গণ আন্দোলনের মাধ্যমে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী আদায় করেছিল এবং গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছিল। জনগণ ফিরে পেয়েছিল তাদের ভোটাধিকার । জেনারেল এরশাদ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছিলেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর দুঃশাসন চালিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার জন্য ভোট ডাকাতির প্রহসনের নির্বাচন করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন। জনগণ আন্দোলন করে ‘স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়ে’ ভোটাধিকার আদায় করেছিল।
তিনি আরো বলেন, জনগণের আশা ছিল ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন দিবসের আগেই জনদাবী মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু সেই পতিত স্বৈরাচারের ডিগবাজিও বন্ধ হয়নি এবং গণতান্ত্রিক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাও ভোটার বিহীন নির্বাচন অথবা বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় ফলাফল ঘোষণার সংসদ বানিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন জনগণ গণতন্ত্রিক স্বৈরাচারকে হটাতে আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বেরাচারী এরশাদের মত এই সরকারকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। তিনি অবিলম্বে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল মজলুম নেতৃবৃন্দদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবী জানান।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, আবু বকর ছিদ্দিক,নাজিম উদ্দীন প্রমূখ।
শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪
যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারেন খালেদা
06 Dec, 2014 বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে ‘দেশনেত্রী পরিষদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, যে যেখানে আছেন সেখান থেকেই প্রস্তুতি নেন, যাতে সময় হলেই বেরিয়ে পড়তে পারেন। নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। সরকার যেভাবে ছক আটছে যে কোনো মুহূর্তে দেশনেত্রীকে (খালেদা জিয়া) আটক করতে পারে।
বিএনপির কথা এবং কাজে ফাঁক থাকায় জনগণ মাঠে নামছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নর্দমার চেয়েও দুর্গন্ধময়। আওয়ামী লীগ দেখলেই জনগণ এখন নাকে রুমাল দেয়। কিন্তু তার মানে এই নয়, জনগণ বিএনপিকে খুব পছন্দ করে।
গয়েশ্বর বলেন, আমাদের কথা এবং কাজে ফাঁক থাকায় এবং কমিটমেন্ট না থাকায় জনগণ মাঠে নামছে না। দলের বড় বড় পদ নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আগ্রহ দেখাই, কিন্তু পদ নেওয়ার পর আমাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
স্বৈরাচার পতন দিবসের আলোচনা সম্পর্কে ‘উষ্মা’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের মীর জাফর, ১৯৭১ সালের রাজাকার, ১৯৭৫ সালের বাকশাল, ১৯৮১ সালের স্বৈরাচার এবং ওয়ান ইলেভেনের সংস্কার-এই পাঁচটি শব্দ আমাদের অভিধানে নিকৃষ্ট শব্দ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়া এবং থাকার প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলই মীর জাফর, রাজাকার, স্বৈরাচার, বাকশাল এবং সংস্কারপন্থীদের বুকে টেনে নিয়েছে, কোলাকুলি ও মোলাকাত করেছে।
গয়েশ্বর বলেন, ১৯৮১ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বিএনপির অবস্থা আজকের মতো এত শক্ত ছিলো না। দেশব্যাপী এতো জনসমর্থনও ছিলো না। কেবল খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং যুব ও ছাত্রসংগঠনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে এরশাদের পতন হয়েছিলো।
কিন্তু কী এমন প্রয়োজন হলো যে গত আওয়ামী লীগ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আমলে সেই এরশাদকে নিয়েই আমাদের আন্দোলন করতে হলো?- প্রশ্ন গয়েশ্বরের।
তিনি বলেন, ওই সময় বিএনপির যেসব অনুষ্ঠানে এরশাদ উপস্থিত থেকেছেন সেসব অনুষ্ঠানের মঞ্চে তো দূরের কথা তার ধারের কাছেও আমি যাইনি।
গশ্বের বলেন, এ দেশে স্বৈরাচার এরশাদ এবং রাজাকার জামায়াতের সঙ্গে মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগ বিএনপি দুই দলকেই বসতে হয়, সে কেবল ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার জন্য। ব্যক্তি স্বার্থের জন্যও কেউ কেউ স্বৈরাচারের দালাল হয়েছেন। ১৯৮১ সালের পর বিএনপির অনেক বাঘা বাঘা নেতা এরশাদের বুটের তলায় আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের প্রায় ৭৫ ভাগ এমপি মন্ত্রী এখন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে অবস্থান করছেন। সুতরাং স্বৈরাচারের পরিষদবর্গকে দলে রেখে স্বৈরাচার পতন দিবস পালন কতটুকু যুক্তিসঙ্গত সেটি আমাদের ভেবে দেখতে হবে।
দেশনেত্রী পরিষদের সভাপতি একেএম বশির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্র নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ প্রমুখ।
উৎসঃ বাংলানিউজঐতিহাসিক ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ আজ
স্টাফ রিপোর্টার : আজ ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক গণতন্ত্র মুক্তি দিবস। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব আন্দোলন-আদর্শের ভিত্তিতে এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’, ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ ও ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। এরশাদের দল জাতীয় পার্টি এদিনটিকে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে।
এদিকে গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রহীন দমবন্ধ অবস্থায় শাসক দলের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ পরে এবছর এমন এক সময়ে দিনটি হাজির হয়েছে যখন জাতীয় জীবনে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঘনঘটা। ক্ষমতাসীনদের একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের খায়েশ ও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের ভয়ানক ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক দিয়েছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ ও সুধীসমাজ মন্তব্য করেন। আধিপত্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী শক্তি তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সহায়তায় বাংলাদেশকে যেন সার্বভৌমহীন এক ভূখন্ডে পরিণত করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য উজ্জ্বল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মহাবিজয় অর্জিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে আধিপত্যবাদীদের কালো থাবায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র অনেকবার হোঁচট খায়। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সামনে এগুবার পথ আরও বন্ধুর করে ফেলা হয়। এ বছর এমন এক সময়ে গণতন্ত্র দিবস পালন করা হচ্ছে যখন দেশে পঁচাত্তরের বাকশালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। হীনস্বার্থে সংশোধিত ও পকেটবন্দী সংবিধানের দোহাই দিয়ে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ফন্দি-ফিকির করছে আওয়ামী লীগ। কতিপয় ‘খয়ের খাঁ’কে নিয়ে মহাজোট সরকারকে নতুন মোড়কে ‘সর্বদলীয় সরকার’ রূপ দেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা তার সরকারের অংশীদার করেন সেই স্বৈরাচার এরশাদ এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না এমন কয়েকজন বাম নেতাকে। এ নির্বাচন ও সরকারকে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ গণতান্ত্রিক ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত প্রায় ছয়টি বছর বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকার নানা ছুঁতোয় বাধা দিচ্ছে। এমনকি নিগ্রহের শিকার সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদেরও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করার অধিকারটুকু হরণ করছে সরকার। যে কারণে অনেকে এ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘নব্য স্বৈরাচার’ ইত্যাদি আখ্যা দিচ্ছে।
গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৬ সালের প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার তার সামরিক লেবাস বদলে হন ‘গণতন্ত্রী’। কিন্তু দেশের সর্বস্তরের জনগণ তাকে মেনে নেয়নি। বরং এই জগদ্দল পাথরকে সরাতে সংগ্রাম করেছে টানা নয়টি বছর। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমে সকল রাজনৈতিক দল পৃথকভাবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বক্তব্য, বিবৃতি, মিটিং-মিছিল করলেও সময়ের ব্যবধানে গঠিত হয় জোট। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল এবং বামপন্থীদের দ্বারা গঠিত ৫ দলীয় জোট তীব্র আন্দোলনে নামে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যায় স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে। ১৯৯০ সালের নবেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। স্বৈরাচারী এরশাদ এ সময় ছাত্র আন্দোলনে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য অভি-নীরু চক্রকে ব্যবহার করে। পুলিশের ছত্রছায়ায় এই চক্রের গুলীতে ২৭ নবেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে তৎকালীন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের তরুণ শিক্ষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হন। ডা. মিলনের তাজা রক্ত ছাত্র গণআন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
এদিকে সেদিন থেকে সাংবাদিক সমাজ সকল সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে। অন্যদিকে রাজপথে ছাত্র-গণআন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। নব্বইয়ের ৪ ডিসেম্বর রাতে স্বৈরাচারী এরশাদ গোয়ার্তুমী ভেঙ্গে আকস্মিক পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। পরদিন ৫ ডিসেম্বর রাজপথে নামে জনতার ঢল। যেনো এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ায় আবেগাপ্লুত গোটা জাতি। স্বৈরাচারের পদত্যাগের পরই সাংবাদিকরা কাজে যোগ দেন এবং ৬ ডিসেম্বর আবার সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
আন্দোলনরত দল ও জোটগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে প্রথম নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। শাহাবুদ্দীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘণ্টা বাজে এবং শুরু হয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা। দেশ-বিদেশে বহুল প্রশংসিত ঐ নির্বাচনের অনুসরণেই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিরোধী রাজনৈতিক জোটসহ দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে একাট্টা হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ পালন উপলক্ষে বিএনপি গতকাল শুক্রবারই জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা করে। অন্যদিকে, আজ ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় পার্টি। বিকেল ৩টায় জাতীয় পার্টির কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এদিকে গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলাদা বাণী দিয়েছেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রহীন দমবন্ধ অবস্থায় শাসক দলের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দিবসটি উপলক্ষে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ পরে এবছর এমন এক সময়ে দিনটি হাজির হয়েছে যখন জাতীয় জীবনে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের ঘনঘটা। ক্ষমতাসীনদের একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের খায়েশ ও জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই সংবিধান সংশোধনের ভয়ানক ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক দিয়েছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ ও সুধীসমাজ মন্তব্য করেন। আধিপত্যবাদী-সম্প্রসারণবাদী শক্তি তাদের এদেশীয় এজেন্টদের সহায়তায় বাংলাদেশকে যেন সার্বভৌমহীন এক ভূখন্ডে পরিণত করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য উজ্জ্বল। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মহাবিজয় অর্জিত হয়েছিলো। পরবর্তীতে আধিপত্যবাদীদের কালো থাবায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র অনেকবার হোঁচট খায়। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সামনে এগুবার পথ আরও বন্ধুর করে ফেলা হয়। এ বছর এমন এক সময়ে গণতন্ত্র দিবস পালন করা হচ্ছে যখন দেশে পঁচাত্তরের বাকশালের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। হীনস্বার্থে সংশোধিত ও পকেটবন্দী সংবিধানের দোহাই দিয়ে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার ফন্দি-ফিকির করছে আওয়ামী লীগ। কতিপয় ‘খয়ের খাঁ’কে নিয়ে মহাজোট সরকারকে নতুন মোড়কে ‘সর্বদলীয় সরকার’ রূপ দেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা তার সরকারের অংশীদার করেন সেই স্বৈরাচার এরশাদ এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না এমন কয়েকজন বাম নেতাকে। এ নির্বাচন ও সরকারকে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ গণতান্ত্রিক ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। গত প্রায় ছয়টি বছর বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে সরকার নানা ছুঁতোয় বাধা দিচ্ছে। এমনকি নিগ্রহের শিকার সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীদেরও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করার অধিকারটুকু হরণ করছে সরকার। যে কারণে অনেকে এ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘নব্য স্বৈরাচার’ ইত্যাদি আখ্যা দিচ্ছে।
গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৬ সালের প্রহসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার তার সামরিক লেবাস বদলে হন ‘গণতন্ত্রী’। কিন্তু দেশের সর্বস্তরের জনগণ তাকে মেনে নেয়নি। বরং এই জগদ্দল পাথরকে সরাতে সংগ্রাম করেছে টানা নয়টি বছর। এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমে সকল রাজনৈতিক দল পৃথকভাবে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বক্তব্য, বিবৃতি, মিটিং-মিছিল করলেও সময়ের ব্যবধানে গঠিত হয় জোট। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল এবং বামপন্থীদের দ্বারা গঠিত ৫ দলীয় জোট তীব্র আন্দোলনে নামে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যায় স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে। ১৯৯০ সালের নবেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। স্বৈরাচারী এরশাদ এ সময় ছাত্র আন্দোলনে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য অভি-নীরু চক্রকে ব্যবহার করে। পুলিশের ছত্রছায়ায় এই চক্রের গুলীতে ২৭ নবেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে তৎকালীন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের তরুণ শিক্ষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হন। ডা. মিলনের তাজা রক্ত ছাত্র গণআন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
এদিকে সেদিন থেকে সাংবাদিক সমাজ সকল সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আহ্বান করে। অন্যদিকে রাজপথে ছাত্র-গণআন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। নব্বইয়ের ৪ ডিসেম্বর রাতে স্বৈরাচারী এরশাদ গোয়ার্তুমী ভেঙ্গে আকস্মিক পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। পরদিন ৫ ডিসেম্বর রাজপথে নামে জনতার ঢল। যেনো এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ায় আবেগাপ্লুত গোটা জাতি। স্বৈরাচারের পদত্যাগের পরই সাংবাদিকরা কাজে যোগ দেন এবং ৬ ডিসেম্বর আবার সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
আন্দোলনরত দল ও জোটগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে প্রথম নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। শাহাবুদ্দীন সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘণ্টা বাজে এবং শুরু হয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা। দেশ-বিদেশে বহুল প্রশংসিত ঐ নির্বাচনের অনুসরণেই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিরোধী রাজনৈতিক জোটসহ দেশের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে একাট্টা হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ পালন উপলক্ষে বিএনপি গতকাল শুক্রবারই জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা করে। অন্যদিকে, আজ ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাতীয় পার্টি। বিকেল ৩টায় জাতীয় পার্টির কাকরাইলস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
দৈনিক সংগ্রাম এর সৌজন্যে
গুপ্ত হামলায় রক্তাক্ত শফিউল আলম প্রধান
![]() |
| গুপ্ত হামলায় রক্তাক্ত শফিউল আলম প্রধান |
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা শফিউল আলম প্রধানের উপর হামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনে অংশ নেয়ার সময় কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করে। এতে তার ব্যাপক রক্তক্ষরণও হয়েছে। ধানমন্ডি ইবনে সিনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি মহাম্মদপুরের বাসায় বিশ্রামে আছেন।
রাজপথের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর জনাব শফিউল আলম প্রধানের উপর এই নগ্ন হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
উতসঃ নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী ২০১৪
শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী ২০১৪
ইতোমধ্যে তীব্র শীত দেশের অসহায় ও দরীদ্রদের জীবনে নিয়ে এসেছে এক দূর্বিষহ কষ্ট। তাদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রীয় সংগঠন ০১ ডিসেম্বর থেকে ০৭ ডিসেম্বর’১৪ পর্যন্ত শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচী গ্রহন করেছে।
করনীয় :
১. প্রত্যেক জনশক্তি কমপক্ষে ১ টি শীতবস্ত্রব বিতরণ করবেন।
২. এতিম, পথশিশু, ভিক্ষুক, ছিন্নমুল ও গরীবদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৩. উপশাখা/ ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিকল্পনা কার্যকর করা।
৪. সকল পর্যায়ে জনশক্তিদের নিজে বাস্তবায়ন করা ও সাধারন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
১. প্রত্যেক জনশক্তি কমপক্ষে ১ টি শীতবস্ত্রব বিতরণ করবেন।
২. এতিম, পথশিশু, ভিক্ষুক, ছিন্নমুল ও গরীবদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৩. উপশাখা/ ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিকল্পনা কার্যকর করা।
৪. সকল পর্যায়ে জনশক্তিদের নিজে বাস্তবায়ন করা ও সাধারন মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
আল্লাহ আমাদেরকে উপরোক্ত কর্মসূচীগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও তাঁর দ্বীনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দিন ॥
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪
আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত এখন রাস্তায় । হায়রে পুলিশ তোদের কি মা-বোন নেই ?
Labels:
আইনশৃঙ্খলা,
মতামত- বিশ্লেষণ,
সভ্যতা
মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পরিবারের পক্ষ থেকে সুশীল সমাজ ও জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন
-
মাওলানা সাঈদী যদি হত্যা, ধর্ষন বা লুটপাটের সাথে জড়িত থাকতেন তা হলে কি করে-
১। তার তফসির মাহফিলে লক্ষ লক্ষ লোক উপস্থিত হন?
২। তার ইমামতিত্বে কিভাবে লোক জন নামায আদায় করেন?
৬। যার বিরুদ্ধে পিরোজপুর শহরের এত অপকর্মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর শহরের কোন সাক্ষী নাই কেন?
মাওলানা সাঈদী যদি হত্যা, ধর্ষন বা লুটপাটের সাথে জড়িত থাকতেন তা হলে কি করে-
১। তার তফসির মাহফিলে লক্ষ লক্ষ লোক উপস্থিত হন?
২। তার ইমামতিত্বে কিভাবে লোক জন নামায আদায় করেন?
৩। যে সব এলাকায় সংগঠীত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে সে সব এলাকায় তিনি কিভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন?
৪। তিনি ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে পালিয়ে থাকলে কিভাবে ১৯৭৩ সালে ঢাকার আর্মানিটোলায় মাহফিল করলেন? কিভাবে ১৯৭৪ সালে মতিঝিলে তাফসির মাহফিল করলেন? ১৯৭৪ সালে নিজ ঠিকায় কিভাবে পাসপোর্ট পেলেন?
৫। তিনি কিভাবে স্বাধীনতার পর জন্মগ্রহন কারী আলমগীর পশারির বাড়ী ১৯৭১ সালে লুট করলেন?৬। যার বিরুদ্ধে পিরোজপুর শহরের এত অপকর্মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর শহরের কোন সাক্ষী নাই কেন?
৭। সাঈদী সাহেব যদি প্রকৃতই পুলিশ অফিসার ফয়জুর রহমান আহমেদ কে হত্যা করে থাকতেন তবে কেন তার ছেলে জাফর ইকবাল, মেয়ে সুফিয়া হায়দার, জামাই আলী হায়দার ও স্ত্রী আয়েশা ফয়েজ সাক্ষী দিতে আসলেন না? কেন আয়েশা ফয়েজ তার মামলায় সাঈদী সাহেবের নাম উল্লেখ করেন নি?
৮। তিনি যদি ইব্রাহিম কুট্রিকে হত্যা করতেন তাহলে তার স্ত্রী কেন এজাহারে সাঈদী সাহেবের নাম উল্লেখ করেন নি?কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়নি?
৯। ১৯৭১ সালের অপকর্মের জন্য ১৯৭২ সালে দালাল আইনে লক্ষাধীক লোককে গ্রেফতার ও ৩৭ হাজারের অধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কেন সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে কোন মামলা হল না?
১০। পিরোজপুরের কুখ্যাত রাজাকার দেলোয়ার শিকদারের অপকর্মের বোঝা কেন সাঈদী সাহেবের উপর চাপানোর চেষ্টা চলছে?
১১। কলা চোর, ট্রলার চোর, যৌতুক আইনে দন্ডিত, স্ত্রীর গলায় ছুরি চালানো ব্যাক্তির সাক্ষের উপর ভিত্তি করে কিভাবে একজন নিরপরাধ লোককে দন্ডিত করা যাবে?
১২। সাঈদী সাহেব যদি সত্যিই যুদ্ধাপরাধ /মানবতা বিরোধী কোন অপরাধ করে থাকতেন তাহলে কেন বিগত ৪০ বছরে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হল না?
১৩। সেইফ হাউজে সাক্ষীদের দেড়মাস যাবত আটক রাখার পরও তারা মিথ্যা বলতে রাজী না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিত দেখিয়ে পুলিশের নিকট দেয়া জবানবন্দী কে প্রমান হিসাবে নিয়ে কি করে সাঈদী সাহেবের মত ব্যাক্তিকে শাস্তি দেয়া যাবে?
১৪। যে বিচারপতি নিজে বাইরের লোকের সাথে শলাপরামর্শ করে বিভিন্ন অর্ডার দিয়েছেন তার রেকর্ড কৃত সাক্ষ্য প্রমান কিভাবে নিরপেক্ষ হবে?
১৫। যে বিচার পতি নিজেই সাঈদী সাহেবের বিরুদ্ধে তদন্তকমিটিতে ছিলেন তার গঠন কৃত চার্য কিভাবে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করবে?
১৫। যেখানে শহীদ ভাগীরথীর ছেলে গনেশ চন্দ্র সাহা সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষী দিল ও বিশাবালীর ভাই শুখরঞ্জন বালীও সাক্ষী দিতে এসেছিল কিন্তু তাকে সরকারী লোকজন অপহরন করায় সে আর সাক্ষী দিতে পারেনি।এমতাবস্থায় উক্ত হত্যা গুলির জন্য কিভাবে সাঈদী সাহেবকে জড়ানো যাবে?
এ বিষয়ে ভিডিওগুলো দেখতে ভিজিট করুন:-মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা উত্তর
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)










