ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

Iftar distribution chandgaon Esat 25.6.15
বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চান্দগাঁও থানার চান্দগাঁও পূর্ব ওয়ার্ডের উদ্যোগে পবিত্র সাহে রমজান উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও দুঃস্থদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চান্দগাঁও থানার ইফতার সাগ্রী বিতরণ অনুস্ঠানে নেতৃবৃন্দ এই সকল দাবী জানান। চান্দগাঁও পূর্ব ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মোঃ ইসমাঈলের সভাপতিত্বে অস্থায়ী কার্যালয়ে এক ইফতার সাগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠঅনে অন্যানের মধ্যে ওসমান গনি, মাওলানা ইউসুফ, সাইফুল প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াত প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। বর্তমান মহাজোট সরকার জামায়াতকে আদর্শিক, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতকে ধ্বংস করার অপ”েষ্টা চালাচ্ছে। তারই ধারা বাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সফল মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে বিচারিক হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, যতবাধাই আসুক জামায়াত দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলাম এবং জামায়াতে 

ইসলামী সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। কিন্তু সরকার সেই কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বিজিবি সদস্যকে ধরে নিয়ে মায়ানমার কর্তৃক হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে নির্যাতন করার এবং এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে না পারায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবী জানান। নেতৃবৃন্দ পবিত্র রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সফল মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবী করেন। 

সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫

দিনাজপুর শহর জামায়াতের ইফতার মাহফিল শহীদদের রক্তের বদৌলতে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবেই ইনশাআল্লাহ


দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, জেল-জুলুম, হত্যা-ফাঁসি দিয়ে জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামী আন্দোলনকে দমানো যাবে না। কোনদিন ইসলামী আন্দোলন নিশ্চিহ্ন হয়নি, আর ভবিষ্যতেও হবে না। বরং এসবের মাধ্যমে দিনে দিনে জামায়াত তথা ইসলামী আন্দোলন এদেশে মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হবে। এদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী শহীদ কাদের মোল্লা-কামারুজ্জামানের রক্তের বদৌলতে এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবেই ইনশাআল্লাহ। 
গতকাল রোববার শহরের একটি হোটেলে দিনাজপুর শহর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘ইফতার ও রমযান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। দিনাজপুর শহর জামায়াতের আমীরের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল আজিজ, শহর জামায়াতের সাবেক আমীর তৈয়ব আলী, জামায়াত নেতা মাওলানা আতাউর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, মোল্লা মোঃ তোয়াব আলী প্রমুখ। ইফতারপূর্ব দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা মুজিবুর রহমান। মোনাজাতে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামানসহ দিনাজপুর জেলা জামায়াত নেতা মরহুম মাওলানা আব্দুল মাতিনের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, পবিত্র রমযান কুরআন নাজিলের মাস, কুরআন বোঝার মাস এবং সে অনুযায়ী নিজেকে গঠন করার মাস। এ মাসেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ হবে কুরআনের বাংলাদেশ। এখানে কুরআনের রাজ কায়েম করতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অধীনে ইসলাম নয়, বরং ইসলামের অধীনে রাষ্ট্র। কিন্তু আমাদের দেশে এখন রাষ্ট্রের অধীনে ইসলাম চলে যাওয়ায় দেশে অন্যায়, অত্যাচার, ব্যাভিচার ইত্যাদি সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড বেড়েই চলছে। তাই আমাদের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ইসলামের অধীনে রাষ্ট্র গড়ার কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশে ফিরে আসবে শান্তি-শৃংখলা ও ন্যায়-ইনসাফ।


রাজধানীসহ দেশব্যাপী জামায়াতের বিক্ষোভ সাধারণ মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া বাজেট জনগণ মানবে না


= গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে গতকাল রোববার রাজধানীতে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় -সংগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার : প্রস্তাবিত গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে গতকাল রোববার রাজধানীর ২ স্পটসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত মিছিল পরবর্তী পথসভায় বক্তারা বলেন, সরকার চলতি ২০১৫-১৬ সালের জন্য যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে তাতে জনগণের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এ বাজেট বাস্তবতা বিবর্জিত ও উচ্চাভিলাষী। নিম্ন আয়ের মানুষের এ বাজেট দ্বারা কোনো উপকার হবে না। এর ফলে পরনির্ভরতা বাড়বে, দেশ ঋণে জর্জরিত হবে। ব্যাংকের ওপর ঋণের নির্ভরতা বাড়বে। দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সাধারণ জনগণের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এ বাজেট জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষমতা দখল করা এই অবৈধ সরকারের বাস্তবতা বিবর্জিত ও অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বাজেট বাতিল করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
গতকাল দুপুর দুইটায় রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য কামাল হোসাইন, শামসুর রহমান, আমিনুর রহমান, জামায়াত নেতা সাইদুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী পূর্বের সেক্রেটারি শরিফ হোসাইন, শিবির নেতা সোহেল রানা মিঠু প্রমুখ।
এর আগে, সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর দয়াগঞ্জ-জুরাইন রোডে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামী। মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য আব্দুল মান্নান, আবু আলম ও গাজী আবুল কাসেমের নেতৃত্বে মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সাদেক বিল্লাহ, জামায়াত নেতা মোঃ শোয়েব, আবুল কাসেম ভূঁইয়া, আব্দুল করিম, গোলাম মোস্তফা, আব্দুর রহিম, গিয়াসউদ্দিন, মজিবুর রহমান মঞ্জু, মোঃ ফরিদউদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, নাঈমূল ইসলাম প্রমুখ।

রাজশাহী অফিস : প্রস্তাবিত গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী গতকাল রোববার দুপুরে তালাইমারী এলাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
মিছিলটি তালাইমারী বাজার থেকে আরম্ভ হয়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের পশ্চিম পাশে এসে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ২০১৫-১৬ সালে যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে তা জনস্বার্থবিরোধী এ বাজেট সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে না। এ বাজেটে সরকারের লোকদের তুষ্ট করা হয়েছে। জোর করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের প্রতিটি কর্মকা- প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধীদল ও মত দমনের জন্য সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে এবং মামলা, গ্রেফতার ও গুপ্তহত্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মহাদুর্যোগ ডেকে আনবে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর আজ কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ইসলামী শক্তিকে দুর্বল করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ সকল শীর্ষ নেতাদের রমযানের পূর্বেই জনগণের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বাজেটে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। এ বাজেট জনস্বার্থ বিরোধী ও ঋণনির্ভর। সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের তুষ্ট করার কাজে ব্যস্ত। সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাট, খুন, গুম, পাচারবাজিতে লিপ্ত। এর প্রভাব বাজেটের উপর পড়ছে। সরকার এক দিকে বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন ও জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষা-কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত ধ্বংস করছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ভাগ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করে শিক্ষা সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাজেটে দেশের দরিদ্র জনগণের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশই ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ উন্নয়নমূলক কাজে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানো হয়নি। বাজেটে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের প্রবণতা বিদ্যমান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বেশীরভাগ খরচ হবে পূর্বের ঋণ পরিশোধ। সরকারী প্রশাসনের রক্ষণা-বেক্ষন, বিলাসদ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস ও কর রেওয়াতের নামে ধনিক শ্রেণীকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। নগর সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে দলীয় ও আজ্ঞাবহ প্রশাসন লালনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, জনগণের উপর অতিরিক্ত করারোপ করে জুলুম শোষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে নিজেদের আখের গোছানোই সরকারের লক্ষ্য। 
বাজেটে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ দিবসে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
নগরীর জেল রোডে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে আছদগঞ্জের আনসার ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নগর উত্তর শিবির সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কোতোয়ালী উত্তর থানা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ আমির হোসাইন, কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা সেক্রেটারী আ.ক.ম.ফরিদুল আলম ও জামায়াত নেতা নুরুল কবির, শিবির নেতা ছাদুর রশিদ, ছালাম ছিদ্দিকী ও শ্রমিক নেতা মকবুল আহমদ প্রমুখ।
খুলনা অফিস : প্রস্তাবিত গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে রোববার খুলনা মহানগরী জামায়াত নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক আলফিদা হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মনিরুল ইসলাম, তরিকুর রহমান, আবুল হাসান, রুস্তম আলী, নাঈমুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম প্রমূখ। 
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার চলতি ২০১৫-১৬ সালের জন্য যে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে তা জনগণের স্বার্থবিরোধী। বাজেট ঘোষণার সাথে সাথেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পবিত্র এ রমযান মাসে সাধারণ দরিদ্র জনগণ দু’বেলা খাবার জোটাতে পারছে না। দরিদ্র জনগণ ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। সরকার কৃষি ও জনস্বাস্থ্য খাতে ভর্তুকি দেয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট বসিয়েছে। কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি খাতের ওপর সরকারের উদাসীনতা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের অবজ্ঞা ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের মত শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট বসানোর মাধ্যমে মূলত শিক্ষা সংকোচনেরই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 
এ বাজেটের দ্বারা সরকারি দলের লোকদের ও সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বাজেটে সাধারণ জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। ঘোষিত বাজেট একটি ঘাটতি বাজেট এবং ঋণ নির্ভর। সরকার বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়নের কোন দিক নির্দেশনা নেই। দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ গণ বিরোধী বাজেট জনগণ মানে না।
সিলেট ব্যুরোঃ সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অবৈধ সরকার চলতি বছরের জন্য জনগণের স্বার্থবিরোধী বাজেট ঘোষণা করেছে। এ বাজেটের দ্বারা সরকারী দলের লোক, সরকারী কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘোষিত ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেটে সাধারণ জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে। বাস্তবায়নের কোন দিক নির্দেশনা ছাড়া বিশাল অঙ্কের কাল্পনিক বাজেট জাতি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের বর্তমান নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থায় এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। বাজেট ঘোষণার সাথে সাথেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পবিত্র এ রমযান মাসে সাধারণ দরিদ্র জনগণ দু’বেলা খাবার জোটাতে পারছে না। তাদের অবস্থা নুন আনতে পান্তা ফুরায়। দরিদ্র জনগণ ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। সরকার কৃষি ও জনস্বাস্থ্য খাতে ভর্তুকি দেয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট বসিয়েছে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষিখাতের ওপর সরকারের উদাসীনতা প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের অবজ্ঞা ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের মত শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্যাট বসানোর মাধ্যমে মূলতঃ শিক্ষা সংকোচনেরই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অবিলম্বে প্রস্তাবিত এই জনস্বার্থ বিরোধী বাজেট বাতিল করতে হবে। 
গতকাল রোববার গণবিরোধী বাজেট ঘোষণার প্রতিবাদে জামায়াত কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসুচীর অংশ হিসেবে বন্দর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিলেট মহানগর জামায়াত।মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত কথা বলেন। মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, জামায়াত নেতা আজিজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা এহতেশামুল হক জাকারিয়া ও ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।
ফেনী সংবাদদাতা: কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গরীব মারার উচ্চ বিলাসী বাজেট বাতিলের দাবিতে গতকাল রোববার সকালে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে জামায়াতে ইসলামী ফেনী শহর শাখা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াস, জামায়াত নেতা জাহিদ হোসাইন, শিবির নেতা নাজমুস সাকিব প্রমুখ। মিছিলটি শহরের ট্রাংক রোড থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। মিছিলে বিপুল সংখ্যক জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী অংশ নেন।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রস্তাবিত বাজেটকে গণবিরোধী বলে ঘোষণা করে দেশব্যাপী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসুিচ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিরাজগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে সদর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল (রবিবার) দুপুরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্র ই,বি রোডের পাঁচ রাস্তার মোড় হতে শুরু করে সরকারি ইসলামীয়া কলেজে এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শিবিরের সেক্রেটারী একরামুল হক, শিবির নেতা জাহিদুল ইসলাম, তাত্তহীদুল ইসলাম, আক্তার হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : গণবিরোধী বাজেটের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বেলকুচিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেলকুচি উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মী ও সাধারণ জনতা। রোববার বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে উপজেলা সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মাহবুবুর রশিদ শামীম ও উপজেলা শিবির সভাপতি ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলার মূল সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কথিত সরকারের গণবিরোধী বাজেটের বিপক্ষে শ্লোগান দেয়।
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতাঃ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগমারা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বাগমারায় বিক্ষোভ মিছিলসহ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার নরদাশ ও দামনাশ ইউনিয়নের যথাক্রমে আমীর মোজদার হোসেন ও বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে গণবিরোধী বাজেট দাবি করে বক্তারা বক্তব্য রাখেন।
বগুড়া অফিস : প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত। কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার দুপুর ২টায় শহরের নারুলী সাফি ক্লিনিকের সামনে থেকে বের হয়ে মিছিলটি টেম্পু ষ্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। 
জামায়াতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও মিছিলে জামায়াত-শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মি অংশগ্রহণ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহবান মানুষের প্রাণহানি ও ত্রাণের জন্য হাহাকার উঠলেও সরকারের নীরবতা চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ : ছাত্রশিবির


কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আহবান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির।
গতকাল রোববার দেয়া যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, টানা বর্ষণে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারে বন্যার পানি ও পাহাড় ধসে ইতিমধ্যে নারী শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে বোয়ালখালী, পটিয়া, সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। চাঁদপুরে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে স্কুল, ঘরবাড়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বান্দরবানে পাহাড়ের ঢালুতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এসব এলাকায় ফসলের জমি, পুকুর তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। অসংখ্য মসজিদ ডুবে যাওয়ায় মানুষ নামায আদায় করতে পারছেনা। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সহায়তার জন্য হাহাকার উঠলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য সহায়তার তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা। ফলে পবিত্র রমযানে ঠিক মত সেহরী ইফতার করতে পারছেনা হাজারো মানুষ। দিন দিন অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ সরকার ও জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বন্যায় মানুষের প্রাণহানি ও ত্রাণের জন্য হাহাকার উঠলেও সরকারের নিষ্ঠুর নীরবতা চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। মাহে রমযানে এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া যায়না। অবিলম্বে বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে। পানিবন্দি ও পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই ভাবে সামর্থবানরাও দায় এড়াতে পারেনা। তাদের উচিৎ যার যার অবস্থান থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো।
নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, কারো উপর দায় চাপিয়ে বসে থাকা ছাত্রশিবিরের কাজ নয়। সুতরাং প্রতিটি নেতাকর্মীকে যার যা আছে তা নিয়েই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের সহায়তার জন্য ছাত্রজনতাকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি যার যার অবস্থান থেকে সবাই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে অল্প সময়ে বন্যার্তদের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব। 
নেৃতবৃন্দ বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, সামর্থবান ও নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান।


মিরপুর পশ্চিম থানা জামায়াতের ইফতার


রমযানকে আত্মগঠন ও খোদাভীতি অর্জনের মাস হিসেবে কাজে লাগাতে হবে
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোঃ মোবারক হোসাইন বলেছেন, রমযানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে খোদাভীতি অর্জন করে আখেরাতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভই মুমিন জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য এই মাসকে আত্মগঠন ও খোদাভীতি অর্জনের মাস হিসেবে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলেই রমাযনের রোজা পালন সার্থক হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর মিরপুরের একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর মিরপুর (পশ্চিম) থানা আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ও মিরপুর (পশ্চিম) থানা আমীর নূরুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা জাহাঙ্গির আলম, মাওলানা রোকন উদ্দিন, রফিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
মোবারক হোসাইন বলেন, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিলের এই রমযান মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে যেভাবে কুরআনের শিক্ষাকে ধারণ করছি, এমনিভাবে যদি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলতে পারি তাহলেই দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। 
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের বর্ণনা দিয়ে মোবারক হোসাইন বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর দেয়া এই কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা সকল মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। এই ঈমানী দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্যই তিনি সকলকে ইসলামী আন্দোলনে শরীক হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।


জননেতা মুজাহিদ আপষহীন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি -ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম


আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একটি বিপ্লবী নাম, একটি আন্দোলন, একটি সংগঠন, একটি ইতিহাস, একটি আপষহীন সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। এই ভূখন্ডে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম, জাতির উত্থান-পতন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী বিরোধী সংগ্রামে জনাব মুজাহিদ একটি অকুতোভয় নাম। তিনি আধিপত্যবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদ বিরোধী চেতনার বিপরীতে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বাংলার জমিনে নাস্তিকতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের রক্তচক্ষু মোকাবেলা করে তৃণমুল থেকে গড়ে উঠে আসা একজন সংগ্রামী প্রাণপুরুষ। নীতির প্রশ্নে সদা আপোষহীন এই মানুষটি কেবলমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার আপরাধে ফাঁসির মুখোমুখি আজ দন্ডায়মান। সরকার শুধুমাত্র আদর্শিক কারণেই ইসলামী আন্দোলনের এই জনপ্রিয় নেতাকে হত্যার পাঁয়তারা করছে।
জনাব মুজাহিদ ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অনুপম কারিগর। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানীত আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করেছেন। মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কায়েম করেছেন সততা, ইনসাফ, সত্যবাদিতার উজ্জল উদাহরণ। আতœত্যাগ, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দেশ প্রেমের সাক্ষর রেখেছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে। জনগণের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছেন সোনার বাংলাদেশ গড়ার মিশন ও ভিশন। আবিষ্কার করেছেন সন্ত্রাস, দূর্নীতিম ও অপরাজনীতিমুক্ত একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন। তাঁদের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দু,নেতার এ সাড়া জাগানিয়া আয়োজনে আওয়ামী-বামদের হিংসা, ক্রোধ, জিঘাংসা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাদের বিরুদ্ধে। তাই ষড়যন্ত্র আর কুটকৌশলের মধ্যে দিয়ে চলতে থাকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে হত্যা করার ঘৃন্য চক্রান্ত।
আল্লাহর দ্বীনের গোলামদের মধ্যে তবুও যেন নেই উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা! মাবুদের সাথে কৃত ওয়াদা ”রাদিআল্লাহু আনহু ওয়া-রাদু আনহু” আল্লাহর সন্তুষ্টিই যেন জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ পাওনা। ফাঁসির কাষ্ঠেও তাঁরা অটল ও অবিচল। শাহাদাতের অমিয় তৃষ্ণায় যেন তারা পিপাসার্ত। কোন কিছুই যেন তাঁদের কাবু করতে পারছে না! ঠিক একই কায়দায় অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে তাঁরই দু অন্তরঙ্গ সাথী শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান আর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জালিমের জুলুমের শিকার হয়ে চির-বিদায় নিয়েছেন এ আন্দোলনের আধ্যাতিœক নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা এ.কে.এম ইঊসুফ, অধ্যাপক এ.কে.এম নাজির আহমদ সহ আন্দোলনের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা। কিন্তু এ বিদায় মুমীন বান্দাহর জন্য শেষ নয়। এটি অনন্ত জীবনের সূচনা মাত্র।
ব্যক্তি জীবনে অল্পে তুষ্ট, নির্লোভ, পরোপোকারী, দৃঢ়চেতা, সংগ্রামী জননেতা মোহাম্মদ মুজাহিদ খুব অল্প সময়ে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই জনপদ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। নিজের কর্ম তৎপরতায় সদা তৎপর তিনি। যার ফাঁসির রায় নিয়ে সারা বিশ্ব এখন উদ্বিগ্ন! কিন্তু তাঁর মধ্যে নেই কোন হতাশা আর ভয়ের ছাপ! বরং তিনি মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার রায় শুনে আইনজীবীদের কাছে বললেন-”সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শাস্তির জন্য আমি মোটেই বিচলিত নই। আমি পত্রিকার মাধ্যমে অবহিত হয়েছি যে, আপীল বিভাগে আমার পক্ষে আইনজীবীরা যথেষ্ট বলিষ্ঠভাবে এবং দৃঢ়তার সাথে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঐসব মিথ্যা অভিযোগে দোষী আমাকে সাব্যস্ত করার কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপক্ষ আমার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি।
এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ট্রাইবুনালে জেরার সময় স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের কোথাও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত কোনো অপরাধের সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। এমনকি আমি আদৌ আল বদর, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল শামস বা এই ধরনের কোনো সহযোগী বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম এমন কোনো তথ্য তিনি তার তদন্তকালে পাননি। এর পরও আমার মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

আমি আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট। ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে কোন ধরনের অপরাধের সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধে এত বছর পরে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। 
প্রতিদিন বাংলাদেশে শত শত লোক স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করে। এসব মৃত্যুর সাথে ফাঁসির আদেশের কোনো সম্পর্ক নেই। কখন, কার, কিভাবে মৃত্যু হবে সেটা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করেন। আল্লাহর সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সাধ্য কারো নেই। সুতরাং ফাঁসির আদেশে কিছু যায় আসে না। আমি মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার ঘোষণায় উদ্বিগ্ন নই।

অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা গোটা মানব জাতিকে হত্যা করার শামিল। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে, যে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে তার জন্য আমি মোটেই বিচলিত নই। আমি আল্লাহর দ্বীনের উদ্দেশ্যে আমার জীবন কুরবান করার জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি।"
এই ক্ষণজন্মা, মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর পিতা প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবীদ মাওলানা আব্দুল আলীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের মধ্যে দিয়ে শিক্ষার হাতেখড়ি। জনাব মুজাহিদের পিতা মাওলানা আব্দুল আলী একজন ধর্মীয় ও আধ্যাতিœক নেতা হিসেবে আজও ফরিদপুরসহ গোটা অঞ্চলের মানুষের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৬২-১৯৬৪ সাল পর্যন্ত প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যও (এমপিএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ফরিদপুর ময়জুদ্দিন স্কুল ও ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশুনা সুসম্পন্ন করে ভর্তি হন রাজেন্দ্র কলেজে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ¯œাতক ডিগ্রী লাভ করেন। পরে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আগমন করেন। জানুয়ারী এবং ফেব্রুয়ারী মাত্র দুই-আড়াই মাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ক্লাস করার পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় জনাব মুজাহিদ আর সেখানে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্র রাজনীতি:-

এই মেধাবী চৌকস সচেতন মানুষটি ছাত্র-সমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। শুরুতে রাজেন্দ্র কলেজে কিছুদিন এনএসএফ এ কাজ করেন। পরে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের সাথে যুক্ত হন। জড়িয়ে পড়েন আল্লাহর জমিনে তাঁর দ্বীন কায়েমের আন্দোলনে। খুব অল্পসময়ের মধ্যে প্রতিভাবান এই সংগঠক তাঁর কর্মের মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ফরিদপুর জেলায় ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং ঢাকায় এসে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের ঢাকা জেলার সেক্রেটারী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৭১ সালের জুলাই তে ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক সেক্রেটারী (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) মনোনীত হন এবং এর মাত্র দুই মাস পর অক্টোবরে তিনি ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক সভাপতি নির্বাচিত হন।

কর্মজীবন: 

জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ তার পেশাগত জীবন শুরু করেন নারায়নগঞ্জ আদর্শ স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টার কারনে আদর্শ স্কুল আজও নারায়নগঞ্জ জেলায় সর্বশ্রেষ্ঠ স্কুল হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি নারায়াণগঞ্জের আদর্শ স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে কাজ করেন। যদি তিনি সত্যিই কোন অপরাধ করতেন তাহলে আওয়ামীলীগ অধ্যষিত নারায়ানগঞ্জে তিনি কি টিকে থাকতে পারতেন? পরবর্তীতে সাংগঠনিক প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। জনাব মুজাহিদ বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স এর চেয়ারম্যান, দৈনিক সংগ্রামের চেয়ারম্যান এবং সাপ্তাহিক সোনার বাংলার পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। গ্রেফতার হওয়ার কিছু দিন পুর্বে তিনি ’রাইজিং সান’ নামক একটি ইংরেজী পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। জনাব মুজাহিদ গ্রেফতার হয়ে যাওয়ায় পত্রিকাটি আজও আলোর মুখ দেখেনি।

বৈবাহিক অবস্থা: জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদ ১৯৭৩ সালের ১৮ অক্টোবর বেগম তামান্না-ই-জাহানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তামান্না-ই-জাহান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগরী মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মো: মুজাহিদ এর ৩ পুত্র এবং একজন মেয়ে।
বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনে যোগদান: ছাত্রজীবন শেষ করার পরপরই জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮২-১৯৮৯ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরী জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও লিয়াজো কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মনোনীত হন এবং সেই থেকে আজ অবধি তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
জাতীয় রাজনীতিতে অবদান: আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে একটি সুপরিচিত নাম। একটি উজ্জল নক্ষত্র। বাংলাদেশের সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ ভুমিকা এবং জোট রাজনীতির প্রবর্তক তিনি। বিশেষ করে চার দলীয় জোটের প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক অবদান রেখেছেন তিনি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলনেও তিনি কার্যকর ভুমিকা পালন করেন।
২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। দেশে রাজনৈতিক ও গনতান্ত্রিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। গনমাধ্যমে ঐ সময়ে বছরের সেরা আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম কাতারে। দেশে গনতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে রাজপথে ছিলেন সদাতৎপর।
তিনি ১৯৬৯ এর গন অভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনে, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে, ১৯৯৪-১৯৯৬ কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে, ২০০০ সালে জনগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে এবং ২০০৭ সালে গনতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।

জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ তিন তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করার পরও তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ এবং তার মনোনীত প্রার্থী মহব্বত জান চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই বিজয় ছিনিয়ে নেন। সমাজকল্যানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে তিনি মাদারীপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মাদারীপুর এবং নিজ জেলা ফরিদপুরে অসংখ্য সামাজিক ও কল্যানমুলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত।

সামাজিক কার্যক্রম: -

নি:স্বার্থ একজন সমাজ সেবক হিসেবে আলী আহসান মো: মুজাহিদ এর ব্যাপক সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। দেশজুড়ে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ ও এতিমখানা বিনির্মাণে তার সক্রিয় ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করে। জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন এবং মন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে ৫ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান:-

জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারনে ২০০২ সালে তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার ফাজিলকে বিএ সমমানের এবং কামিলকে মাস্টার্স মানে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক ও গবেষনা প্রতিষ্ঠান নির্মাণেও তাঁর ভূমিকা সক্রিয় ছিল।
তিনি বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক শিশু সদন (সরকারী এতিমখানা) নির্মাণ করেন। যা সমাজের ভাগ্যহত ও অনগ্রসর কিশোর কিশোরীদের উন্নয়নের মূল ¯্রােতধারায় নিয়ে আসতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। ২০০১ সালে যখন জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদ সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেন, তখন তা একটি দুর্বল বা লো প্রোফাইল মিনিস্ট্রি হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু তার ৫ বছরের মেয়াদের শেষে এটি হাই প্রোফাইল তথা আলোচিত মন্ত্রনালয়ে পরিণত হয়।

প্রতিবন্ধীদের পূনর্বাসন:-

জনাব মুজাহিদের যোগ্য নেতৃত্বে ২০০৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম প্রতিবন্ধী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ’মুক্তা’ নামক একটি মিনারেল ওয়াটারেরও প্রবর্তন করেন। যা প্রতিবন্ধীদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত এবং বাজারজাতকৃত। তার এই উদ্যেগের কারনে বাংলাদেশের নাম তখন বিশ্ব দরবারে ভিন্নভাবে প্রশংসিত হয়। তার সময় প্রতিবন্ধী অলিম্পিকেও বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করে।

সুদ মুক্ত ঋন ও এসিডদগ্ধদের ভাতা:-

এছাড়া সুদ মুক্ত ঋন ও এসিডদগ্ধদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ভাতা প্রদান করা হয় তাঁর সময়ে। জনাব মুজাহিদ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিজে এই ভাতা বিতরণ করতেন। তাই তাঁর সময়ে গ্রামের অভাবী মানুষ সুদখোর মহাজন এবং বেসরকারী সংস্থার হাত থেকে মুক্ত হয়ে সরকারের কাছ থেকে বিশেষত সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের হাত থেকে ঋন নিতে শুরু করে।

লেখক মুজাহিদ :- আলী আহসান মো: মুজাহিদ একজন জনপ্রিয় এবং স্বনামধন্য লেখক। তার ৩টি বই পাঠক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বইগুলো হলো: আজকের মুসলমান ঃ ইসলামের দাবী, বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী, তুরস্ক সফর। এছাড়া বেশ কিছু বই ও লেখনী ইংরেজী ভাষায় অনুদিত হয়েছে। জনাব মুজাহিদ ইসলামী শিক্ষা, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুর উপরও নিয়মিতভাবে লেখালেখি করেছেন।
দেশে ভ্রমন:-জনাব আলী আহসান মো: মুজাহিদ বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করেছেন। এই সব দেশে তিনি গণ্যমান্য, প্রভাবশালী এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দের সাথেও সাক্ষাৎ করেন। তার ভ্রমনকৃত উল্লেখযোগ্য দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমীরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, জাপান, থাইল্যান্ড এবং তুরস্ক।
এমন প্রতিভাসম্পন্ন, দেশপ্রেমিক, ইসলামী চিন্তাবিদকে আজ হত্যা করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। মানব সমাজে আজ মনে হচ্ছে সত্য পন্থীরাই যেন অপরাধী। প্রকৃত অপরাধীরা যেন সাধু!!! জালেমের বিষাক্ত হুংকার মানব সমাজকে আজ কাঁপিয়ে তুলছে। নির্যাতিতের করুণ ফরিয়াদে আকাশ বাতাস দলিত মথিত ও তিক্ত-বিষাক্ত। কিন্তুু তারপরও কি সত্য পথের সৈনিকেরা কি ভিত? না, বরং প্রতিটি মুমিন এই বিপদ সংকুল পথ পাড়ি দেয়াকে নিজের ঈমানী দায়িত্বের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেই এগিয়ে চলছে। এই রকম কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে সকল নবী রাসুল (স:) কে। যুগে-যুগে যারাই সেই পদাংক অনুসরন করবে, তাদের প্রত্যেককেই একই পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এ পরীক্ষা কোন কারণে আসেনি। বরং এটি চিরন্তন।
অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও মিসরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মোহম্মদ মুরসিকে সাজা দিল আদালত একই দিন। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বাধীনতার বিরোধীতা! অন্যজন ড. মোহম্মদ মুরসি স্বাধীনতার পক্ষের নেতা হয়েও সাজার ধরন কিন্তু একরকম!! অথচ ইখওনুল মুসলিমিন মিসরে স্বাধীনতা এনেছিল। তাহলে কি তাদের অপরাধ? তাদের আপরাধ একটাই। আল্লাহ বলেন -"ওই ঈমানদারদের সাথে তাদের শত্রুতার এ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না যে তারা সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল"
আজ আমাদের প্রিয় নেতা জনাব মুজাহিদ ভাই সেই পরীক্ষায় অবতীর্ণ। কোনো এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! কবরে সকল মুমিনের পরীক্ষা হবে, কিন্তু শহীদের হবে না, এর কারণ কী? হুজুর (সা.) জবাবে বললেন, তার মাথার ওপর তলোয়ার চমকানোই তার পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট।’ 
আল্লাহর দ্বীনের দায়ী হিসেবে সারা বাংলাদেশে নয়, বরং ছুটে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর অনেক প্রান্তে। মিথ্যা কালিমা আর ষড়যন্ত্রের কালো কাপড় কি সেই আলোচ্ছটাকে আবৃত করতে পারে? যেই শির আজন্ম এক পরওয়ারদিগার ছাড়া কারো কাছে নত হয়নি, ফাঁসির আদেশে সেই শির দুনিয়ার কোন শক্তির কাছে নতি শিকার করতে পারে?

মূলত আধিপত্যবাদী শক্তি এই দেশকে লুটপাটের প্রধান বাঁধা মনে করে এদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী শক্তিকে। এটি আজ আর কারোই বুঝতেই বাকী নেই। দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ এই অকুতোভয় সৈনিক তার সার্বিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে পালন করেছেন আপসহীন ভূমিকা। কোন শক্তির কাছেই তিনি মাথা নত করেননি। এক এগারো সরকার অনেকের মত তাঁকেও গ্রেফতার করেছে তথাকথিত দূর্নীতি মিথ্যা মামলা দিয়ে। কিন্তু সরকার জামায়াতের দু’নেতার সততার কাছে পরাস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোন দূনীতি আবিস্কার করতে পারেনি। কারণ দূণীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাদের মিশন এবং ভিশন তারা কি দূণীতি করতে পারে?
আজ আওয়ামীলীগ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার দিনক্ষন ঠিক করে যেন আনন্দ উপভোগ করছে, তাদের কি জানা নেই যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণ, জীবন-মৃত্যু নিজের হাতে রেখে দিয়েছে? জন্মিলেই মৃত্যু অনিবার্য সত্য হল মৃত্যু। এ দুনিয়া থেকে সবাইকে বিদায় নিতেই হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শহীদ কামারুজ্জামান শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা সহ এই দেশপ্রেমিক সিপাহসালারা মানুষের হৃদয়ে টিকে থাকবে শতাব্দী থেকে শতাব্দী। সুতরাং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।
যে আইন মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী সে আইনইকে কালো আইন ছাড়া কি বলা যেতে পারে? বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন একটি কালো আইন তা নিয়ে এখন আর কোন সন্দেহ নেই। এই আইন দিয়ে ন্যায় বিচার একেবারেই অসম্ভব। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, কালো আইন হিসেবে খ্যাত। যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লডর্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যা প বাংলাদেশ সফর করে সাফ বলেছেন-“১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে প্রণীত আইন যথেষ্ট নয়।“
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এশিয়া বিভাগ, দ্যা ওয়ার ক্রাইমস কমিশন অব দ্যা ইন্টারন্যাশনাল বার এ্যাসোসিয়েশন, দ্যা ওয়ার ক্রাইমস প্রজেক্ট ও অ্যামনে¯িট ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এই আইনের মাধ্যমে বিচারকাজ চালিয়ে গেলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিতর্ক বাড়বে।” টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে, সরকার তার পরিচিত প্রতিপক্ষ এবং রাজনৈতিক শত্রুদেরকে দমন করতেই এ বিচারকে ব্যবহার করছে”।
জনাব মুজাহিদের মৃত্যুদন্ডের এ রায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তিত্ব তাদের উদ্বেগ অব্যাহত রেখেছে। খ্যাতনামা বৃটিশ আইনজীবী ও পার্লামেন্টারিয়ান এবং মানবাধিকার প্রবক্তা লর্ড কার্লাইল “এই বিচারকে ন্যায়ভ্রষ্ট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিচারের মান, সাক্ষীদের সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, আদালতের কথিত বৈষম্যমূলক আচরণ, বিচারকদের নিরপেক্ষতা প্রভৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন যে, যে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জনাব মুজাহিদকে ফাঁসির দন্ড দেয়া হয়েছে তা নিম্নমানের এবং তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই।”
ব্রাসেলস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা নো পিস উইদাউট জাস্টিস (NPWJ) নন ভায়েলেন্ট রেডিক্যাল পার্টি ও এনআরপিটিটি এই রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে “রোম সংবিধি অনুযায়ী ভিক্টিমের সঠিক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থার আইন উপদেষ্টা এলিসন স্মীথ কর্তৃক প্রদত্ত এই বিবৃতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ বিচারের যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায্যবিচার নিশ্চিত না করায় তাদের অব্যাহত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয় ইতঃপূর্বে এই ট্রাইব্যুনাল যেসব রায় দিয়েছিল তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল যথেষ্ট উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছিল, কেননা যে প্রক্রিয়ায় সেখানে বিচার কাজ চলেছে তাতে অভিযুক্তের ন্যায়বিচার পাওয়ার ন্যায্য অধিকার বারবারই লঙ্ঘিত হয়েছে। তাদের মতে মুজাহিদের মৃত্যুদন্ডের রায়টি হচ্ছে সেই ভ্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া ও অন্যায্য রায়ের সর্বশেষ উদাহরণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পেছনে আরও যেসব কারণ ছিল তার মধ্যে রয়েছে আইসিটির বিচারকদের আইনের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগে ব্যর্থতা, আসামী পক্ষের সাক্ষীর সংখ্যা ভয়াবহভাবে সীমিত করে দেয়া প্রভৃতি। বিবৃতিতে বলা হয় যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে অভিযোগের তদন্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। এতে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্তদের দন্ড স্থগিত করে বাংলাদেশ কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত রোম সংবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের জন্য সঠিক বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানানো হয়।”
জনাব মুজাহিদের আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “'যে অভিযোগের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে সেই হত্যাকান্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আনতে পারেনি। এখানে ঢালাওভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রায়ের পুর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর আমরা রিভিউ করবো। আমরা আশাবাদী সেখান থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে।”
মুলত: পৃথিবীর অনেক জায়গায় In the name of law তথা আইনের দোহাই দিয়ে ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। দার্শনিক সক্রেটিসকে হ্যামলক বিষ প্রয়োগে হত্যার রায় দিয়েছিল আদালত। জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিওকেও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় আদালতের নির্দেশেই। হাজার বছর পর এসে প্রমাণিত হয়েছে দুটি রায়ই ভুল রায় ছিল। এ জন্য বিচারককে পরকালে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে সেই অন্যায়টি-ই করছে বে-আইনী ভাবে। এটিও শাসক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে এক প্রকার ধোঁকা। দেশের জনগণ এটি খুব ভালোভাবেই জানে। বর্তমান সরকার কালো আইন দিয়েই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে রাজনীতি অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইতিহাস সাক্ষী ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করে কেউ সফল হয়নি। জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আদর্শকে স্তদ্ধ করা যায় না।
শহীদ কামারুজ্জামান, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার পর ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপ্রিয় নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে দেশের জনগণ। বিক্ষুব্ধ ও ভারাক্রান্ত গোটা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ। নিরপরাধ এই প্রিয় মানুষগুলোর জন্য মাহে রমযানে আল্লাহর দরবারে বায়তুল্লাহর গেলাফ ধরে আর তাহাজ্জুতে জায়নামাজ চোখের পানিতে ভাসাবে পৃথিবীর লক্ষ-লক্ষ মানুষ। হে! মাবুদ কোন একটি ফরিয়াদকে তুমি কবুল কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রানপ্রিয় নেতাকে মর্যাদার সাথে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও। হে! আরশের মালিক তুমি আমাদের অশ্রƒসিদ্ধ বিনীত ফরিয়াদ কবুল কর। আমীন।
লেখক: সহকারী সম্পাদক, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা।

"" পূণ্যবতী স্ত্রী পেতে হলে আপনাকে আগে পূণ্যবান হতে হবে ""


ডঃ শহীদুল্লাহকে তাঁর স্ত্রী অনুরুধ করলেন দাঁড়ি কেটে ফেলার জন্য।
তিনি বললেন, তিনদিন পর জানাবো।
স্ত্রী ভাবলেন হয়ত তিনদিন পর স্বামী দাঁড়িবিহীন তার সামনে আসবেন।
,তিনদিন পর ডঃ শহীদুল্লাহ তার স্ত্রীকে বললেন তোমাকে দুইটা জিনিষের প্রস্তাব দিচ্ছি,তুমি যে কোন একটি গ্রহন করবে। হয়ত তুমি থাকো আর আমার দাঁড়িও থাকুক নতুবা তুমি চলে যাও আর আমার দাঁড়ি থাকুক। এভাবেই তিনি স্ত্রীর অন্যায় প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিলেন।
কোরআনের ভাষায় 'মানুষকে দূর্বল করে সৃস্টি করা হয়েছে'।
আর মানুষ সম্ভবত স্ত্রীর প্রতি-ই সবচেয়ে বেশী দূর্বল। এই দূর্বলতাকে কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে।
এক দূর্সম্পর্কের ভাই আমাকে বললেন,
'দাঁড়ি রাখতে চাই কিন্তু তোমার ভাবী বলেছেন এখন না, আরো কয়েকবছর পর।
দাঁড়ি রাখা ওয়াজিব না সুন্নাত সেই বিতর্কে না গিয়ে শুধু এতটুকু বলতে চাই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর এই ভালোবাসা এই দূর্বলতাকে বেশীরভাগ স্ত্রীই অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেন। অথচ এই দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে স্বামীকে ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারতেন।
,একটা নারী যেমন কোন পুরুষকে জলন্ত অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করতে পারে তেমনি পারে খাদের কিনারা থেকে ভালবাসার শক্তি দিয়ে ফিরিয়ে আনতে।
একজন নারীর এত বিশাল ক্ষমতা!
তাইতো আল্লাহর রাসূল পূণ্যবতী স্ত্রীকে প্রিয় বস্তু আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহ তুমি আমাদের সকলকে পুন্যবতি স্ত্রী দান করিও।

রবিবার, ২৮ জুন, ২০১৫

"প্রস্তাবিত বাজেট ঋণ নির্ভর ও জনস্বার্থ বিরোধী"


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বাজেটে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। এ বাজেট জনস্বার্থ বিরোধী ও ঋণনির্ভর। সরকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের তুষ্ঠ করার কাজে ব্যস্ত। সরকারী দলের নেতা-কর্মীরা টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস ও লুটপাট, খুন, গুম, পাচারবাজিতে লিপ্ত। এর প্রভাব বাজেটের উপর পড়ছে। সরকার এক দিকে বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন ও জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে অন্যদিকে শিক্ষা-কৃষিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাত ধ্বংস করছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ভাগ মূল্য সংযোজন কর আরোপ করে শিক্ষা সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাজেটে দেশের দরিদ্র জনগণের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশই ব্যয় হবে সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ উন্নয়নমূলক কাজে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আস্ছে। বাজেটে কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানো হয়নি। বাজেটে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের প্রবণতা বিদ্যমান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বেশীরভাগ খরচ হবে পূর্বের ঋণ পরিশোধ। সরকারী প্রশাসনের রক্ষণা-বেক্ষন, বিলাসদ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস ও কর রেওয়াতের নামে ধনিক শ্রেণীকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। নগর সেক্রেটারী মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে দলীয় ও আজ্ঞাবহ প্রশাসন লালনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজন করেছে। তিনি বলেন, জনগণের উপর অতিরিক্ত করারোপ করে জুলুম শোষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে নিজেদের আখের গোছানোই সরকারের লক্ষ্য। 
বাজেটে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানোর প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ দিবসে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সমাবেশে তিনি সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
নগরীর জেল রোডে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে আছদগঞ্জের আনসার ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নগর উত্তর শিবির সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল আমিন।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কোতোয়ালী উত্তর থানা জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ আমির হোসাইন, কোতোয়ালী দক্ষিণ থানা সেক্রেটারী আ.ক.ম.ফরিদুল আলম ও জামায়াত নেতা নুরুল কবির, শিবির নেতা ছাদুর রশিদ, ছালাম ছিদ্দিকী ও শ্রমিক নেতা মকবুল আহমদ প্রমুখ।

বগুড়ায় ১৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বগুড়া শহর জামায়াতের ১৪নং ওয়ার্ডের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
২৬ জুন ২০১৫ তারিখ শুক্রবার  ওয়ার্ড সভাপতি মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে মালগ্রাম মসজিদে বাইতুল্লায় মাহে রমজান উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ বেগ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহর জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাহেব আলী, কোষাধ্যক্ষ শাহজাহান আলী। অন্যান্যের মধ্যে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি বলেন কুরআন নাযিলের মাস রমযান। এই মাসে কুরআন হাদিসের আলোকে প্রত্যেকের জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ঝিনাইদহে জামায়াতের ১২ রোজাদার মহিলা নেত্রী-কর্মীকে গ্রেফতারের নিন্দা হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই রমযান মাসে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে -জামায়াত


ঝিনাইদহ শহর শাখা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সুমাইয়া বেগমসহ ১২ জন মহিলা নেত্রী ও কর্মীকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান গতকাল শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেপাড়ী পাড়ার মহসিন মিয়ার বাড়ী থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ঝিনাইদহ শহর জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি সুমাইয়া বেগমসহ ১২ জন রোজাদার মহিলা নেত্রী-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এ পবিত্র রমযান মাসে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরো বলেন, ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার নাথ জামায়াতের গ্রেফতারকৃত মহিলা নেত্রী ও কর্মীরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা- এবং নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও অলিক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তিনি বলেন, তারা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বেপারী পাড়ার মহসীন মিয়ার বাড়ীতে মহিলাদের নিয়ে একটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার নাথের প্রতি আহ্বান জানান এবং জামায়াতের গ্রেফতারকৃত নেত্রী ও কর্মীদের অবিলম্বে নি:শর্তভাবে মুক্তি প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

রমযানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনে ধারণ করতে পারলেই রোজা সার্থক হবে : সেলিমউদ্দিন

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ সেলিমউদ্দিন বলেছেন, রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মহান মাস পবিত্র রমযান। রহমতের এই ধারা অব্যাহত রাখতে রমযানের শিক্ষাকে ব্যক্তিজীবনে ধারণ করতে হবে। মু’মিনের আত্মগঠন ও ব্যক্তিচরিত্র উন্নয়নে রমযানের শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারলেই রোজার সার্থকতা। সেই সঙ্গে আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিয়ে ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করার শিক্ষা নিতে হবে রমযান থেকে।
গতকাল শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী যাত্রাবাড়ী (পূর্ব) থানা আয়োজিত এক শিক্ষা বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে শিক্ষা বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াত নেতা রুহুল কুদ্দুস, মীজানুল হক, আব্দুল করিম, মিজানূর রহমান মালেক প্রমুখ।
সেলিমউদ্দিন আরো বলেন, ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে অপপ্রচার ও জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। সকল নিপীড়ন উপেক্ষা করে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামকে বিজয়ী করতেই নেতা-কর্মীদের কুরআনের শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনে কুরআনের মাসকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র রমযান মাসে আজ ইসলামপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দ কারাগারে বন্দী। তাদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যার নারকীয় ষড়যন্ত্র করছে সরকার। নব্বইভাগ মুসলমানের দেশে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের ওপর এই নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, এই রমযান মাসে বদরের যুদ্ধে হক ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ্বে হকপন্থীদের বিজয়ের যে ইতিহাস রচিত হয়েছিলো তারই ধারাবাহিকতায় বাংলার জমীনে সকল মিথ্যাচার ও অপশক্তি নির্মূলে জনগণ আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি দেশের জনগণের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অবিলম্বে সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

শনিবার, ২৭ জুন, ২০১৫

আল-কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রেরণা দেয় মাহে রমযান -মোবারক হোসাইন


জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোবারক হোসাইন বলেছেন, রমযান মাস মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিলের মাস। তাই এ মাসে কুরআনকে ব্যক্তিজীবন ও সমাজ জীবনে ধারণের মাধ্যমে কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। কুরআন অনুসরণ করে সমাজ পরিচালিত হলে আজকের সমাজে এত অন্যায়, অনাচার, জুলুম, নির্যাতন থাকত না।
গতকাল শুক্রবার পল্লবী থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাইসুল ইসলাম পবন, নওশাদ আলম, গাজী মোস্তফা কামাল, শাহজাহান খান, আব্দুল কাদের প্রমুখ।
মোবারক হোসাইন বলেন, নব্য জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে মানবতাকে মুক্ত করে সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই। কিন্তু কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে হক ও বাতিলপন্থীদের চিরন্তন দ্বন্দে¦র ধারাবাহিকতায় আজো ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দিতে নানামুখী অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের পথ বেছে নিয়েছে ইসলাম বিরোধী শক্তি।
তিনি বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামপন্থী সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের ওপর চালানো হচ্ছে জুলুম-নির্যাতন। বাতিলপন্থী জুলুমবাজ অপশক্তির মনে রাখা উচিত যুগে যুগে আল্লাহ কাফের-বেঈমানদের মিথ্যাচারকে মানুষের সামনে যেমন উন্মোচিত করে দিয়েছেন এবং সত্যকে বিজয় দান করেছেন আজও তেমনিভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে আল্লাহর জমীনে তার দ্বীন প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছে সময়ের ব্যবধানে আল্লাহ তাদেরকেও বিজয় দান করবেন।
মোবারক হোসেন আরো বলেন, রমযানের প্রকৃত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করতে হবে। কুরআন অনুসরণ করে অন্যায়, অনাচার, জুলুম, নির্যাতন রোধ করে ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুবিধা বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তিনি দাবি করেন যে, ‘কুরআনের জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আনতে পারলেই ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তির সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব।’ এজন্য তিনি সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনে শরিক হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভাসানটেকে ইফতার মাহফিল: জামায়াতে ইসলামী ভাসানটেক থানার রজনীগন্ধা ওয়ার্ডের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলের মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ভাসানটেক থানা সেক্রেটারি আলাউদ্দিন মোল্লা। ওয়ার্ড সভাপতি ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াত নেতা শামসুর রহমান খান, আব্দুর রহিম, মোঃ আলাউদ্দিন প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০১৫

কর্মকর্তাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠান

বাংলাদেশ বার্তাঃ ২৫ জুন ২০১৫: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম কুমিরা ক্যাম্পাস কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। 
২৪ জুন ২০১৫ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম কুমিরা ক্যাম্পাস  প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন এর সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জনাব মোঃ জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 
ডেপুটি ডািইরেক্টর  জনাব ইজাবুল খালিদের পরিচালনায়  উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ডঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ক্যাম্পাস চীপ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম কুমিরা ক্যাম্পাস,  মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব চৌধুরী গোলাম মাওলা, এডিশনাল ডাইরেক্টর, স্টুডেন্ট ডিভিশন। অন্যান্যের  মধ্যে সহকারী প্রক্টর জনাব মোঃ জাহেদ হোসেন ভূঁইয়া, লেকচারার মুহাম্মদ নুরুন্নবী প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন। শুভেচ্ছা বক্তব্য পেশ করেন জনাব জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া।  অনুষ্ঠানে বক্তাগণ রমজান মাস ও রোজার তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ন ও হৃদয়গ্রাহী আলোচনা পেশ করেন।
আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সফল করায় অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব মোঃ জাহিদ হোসেন সকলকে ধন্যবাদ জানান।

বুধবার, ২৪ জুন, ২০১৫

একজন প্রেসিডেন্টের কথা


যিনি ছোটবেলায় রাস্তায় কফি আর কলা ভাজা বিক্রি করতো ছেলেটি। কুকুরকে ভীষণ ভয় পেত সে। পথে কোনো কুকুর দেখলেই ভয়ে দৌড়াতে শুরু করতো। এই ভয় তাকে অস্থির করে তুলতো। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে একদিন হঠাৎ ছেলেটি প্রতিজ্ঞা করলো আর ভয় পাবে না সে। সিদ্ধান্ত হলো- যখনই কুকুর দেখবে তখনই চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে থাকবে। সিদ্ধান্ত কাজে দিল। এই সিদ্ধান্তই পাল্টে দিলো তার জীবনের মোড়। কারো রক্তচক্ষুই আর ভয় পেত না ছেলেটি। কোনো সমস্যা এলে ভয় পেয়ে তা থেকে পালিয়ে না গিয়ে তাকে মোকাবিলা করা, সমস্যা উৎস খুঁজে বের করা পরিণত হয় তার স্বভাবে। এবং এই মন্ত্রই তাকে পৌছেঁ দেয় সাফল্যের চূড়ায়।যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন,তিনি আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ডাঃ মাহাথির মোহাম্মদ। 
মাহাথিরের পূর্বপুরুষ চট্টগ্রামের! চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের সামান্য পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম মরিয়ম নগর। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এ গ্রামের এক যুবক ব্রিটিশ শাসিত মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তিনি ছিলেন জাহাজের নাবিক মালয়েশিয়ায় আলোর সেতার গিয়ে এক মালয় রমনীর সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হন। তাদের ঘরেই জন্ম নেয় বিখ্যাত মাহাথিরের পিতা মোহাম্মদ ইস্কান্দার। এ সূত্রে মাহাথিরের রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশের রক্ত।বাংলাদেশের ফজলি আম আর দই তার প্রিয় খাবার। 
১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই ৫৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হন ড. মাহাথির মোহাম্মদ।আর দশজন প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনি ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এদিক- ওদিক ঘুরে বেড়াই। দেহরক্ষী আছে তবে তাদের অনেক দূরে থাকতে হয়। আমি মনে করি, যেসব নেতা জনগণ থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকেন, আমি তাদের মতো নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে থাকতেই পছন্দ করি। পছন্দ করি নিজে বাজার করতে। সবার সাথে মিশে কফি পান আমার পছন্দ।’ মাহাথিরই পৃথিবীর একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি নিজের নাম লেখা ব্যাজ পরতেন।
‘আমাকে দশজন যুবক দাও, তাহলে আমি সারা বিশ্বকে তোলপাড় করে দেব’- বলেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ। কিন্তু মাহাথিরের কাছে ব্যাপারটি ছিল - ‘ দশজন যুবক দেওয়া হলে মালয়ীদের সাথে নিয়ে আমি বিশ্বজয় করে ফেলবো।’ বাস্তাবে হয়েছেও তাই। মালয়েশিয়ার নতুন প্রজন্মকে তিনি স্বদেশপ্রেমে
এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন যে, তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌছেঁ দিয়েছেন।নিরহংকারী এই মানুষটি বলেছিলেন, "জনগণ আমাকে ভুলে গেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না। মন্দটাই মনে রাখে মানুষ। ভালোটা হাড়গোড়ের সঙ্গে মাটিতে মিশে যায়। জনগণ আমাকে মনে রাখল কি রাখল না তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। "
আশা করি চমৎকার এই মানুষটির মতো এদেশেরও একদিন কেউ হাল ধরবেন। পরিবর্তন আসবে এ দেশের। সে দিনের অপেক্ষায় রইলাম আমরা সবাই .

ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত পুলিশ

ফেনীতে ছয় লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারের সময় এএসআই মাহফুজুর রহমানকে র‌্যাবের গ্রেফতারের পর থেকে বেরিয়ে আসছে ভয়ংকর সব তথ্য । তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতে পুলিশের ছয় সদস্যের সিন্ডিকেটের নাম।
কক্সবাজারে কর্মরত পুলিশের একটি সিন্ডিকেট দুই বছর ধরে সারা দেশে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে ছয় লাখ ৮০ হাজার ইয়াবা পাচারের সময় ফেনীর লালপোল থেকে এই সিন্ডিকেটের সদস্য এএসআই মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।
পুলিশের কাছ থেকে ইয়াবা কিনলে ঝুঁকি কম, তাই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন ঝুঁকেছে পুলিশের এই বিশেষ সিন্ডিকেটের দিকে।
পুলিশের এ সিন্ডিকেটটি মাসে অন্তত ৫০ লাখ ইয়াবা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে বলে গোয়েন্দা সাংস্থার সূত্রের বরাতের খবর প্রকাশ করেছে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সন।
খবরে বলা হয়, সিন্ডিকেটের বেশির ভাগ সদস্যের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। এ কারণে পুলিশের মধ্যে এই সিন্ডিকেটের নাম ‘কুমিল্লা সিন্ডিকেট’ হিসেবেও পরিচিত। কক্সবাজারের জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও টেকনাফ থানায় বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা মিলে গড়ে তুলেছেন এ সিন্ডিকেট। এর মধ্যে এসআই পদমর্যাদার দুই সহোদরও রয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) নজরুল ইসলাম বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার রাতে র‌্যাবের একটি দল ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্য এএসআই মাহফুজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর সঙ্গে গাড়িচালক জাবেদ আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মাহফুজ ২০১৩ সালে কক্সবাজার থেকে বদলি হয়ে ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত ছিলেন। এর আগে দুই বছর তিনি কক্সবাজার জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার মিরপুর গ্রামে। জাবেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার বাদুগড় গ্রামে। ঢাকায় তাঁর কাছ থেকে ইয়াবাগুলো হাইকোর্টের মুহুরি মো. মোতালেব, অ্যাডভোকেট জাকির, এসবির কনস্টেবল শাহীন, কাশেম ও গিয়াসের বুঝে নেওয়ার কথা ছিল। মাহফুজ বেশির ভাগ সময় কর্মরত ছিলেন ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট কক্সবাজারের টেকনাফ থানায়।
জানা গেছে, ইয়াবাসহ ধরা পড়ার পর র‌্যাবের কাছে মাহফুজ স্বীকার করেছেন তিনিসহ পুলিশের অন্তত ছয় কর্মকর্তা ইয়াবা পাচারের সঙ্গে যুক্ত। মাহফুজ ইয়াবাগুলো নিয়েছিলেন হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রেঞ্জের কুমিরা ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আশিকুর রহমান ও কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. বেলালের কাছ থেকে। র‌্যাবের করা মামলায় মাহফুজের সহযোগী হিসেবে বেলাল ও আশিককেও আসামি করা হয়েছে।
র‌্যাবের কাছে মাহফুজ তাঁর সহযোগীদের নাম স্বীকার করেছেন। বেলাল ও আশিক ছাড়াও সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন কক্সবাজার ডিবি পুলিশের এসআই আমিরুল ইসলাম, ডিবি পুলিশের এসআই কামাল আব্বাস ও আশিকের ভাই কক্সবাজার ডিবি পুলিশের এসআই (বর্তমানে মহেশখালী থানায় কর্মরত) আনিসুর রহমান। সবার বাড়ি বৃহত্তর কুমিল্লায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা কক্সবাজরে চাকরি করছিলেন।
গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় কক্সবাজারে ইয়াবা আটক করেছেন এই সিন্ডিকেটের পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা আটক করলেও তাঁরা অল্প পরিমাণ জমা দিয়েছেন পুলিশ বিভাগে। বাকি ইয়াবা নিজেরা বিক্রি করার জন্য সেগুলো কক্সবাজারে ভাড়া বাসায় নিয়ে মজুদ করতেন। কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনে বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টে রুম ভাড়া নিয়েও সেখানে ইয়াবা মজুদ করতেন তাঁরা। এই মজুদ থেকে মাসে দুটি চালান ঢাকায় পাঠানো হতো। নিরাপদে ইয়াবার চালান ঢাকায় আনতে ব্যবহার করা হতো পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি।
জানা গেছে, পুলিশ লেখা ব্যক্তিগত গাড়ি দেখলে রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ তল্লাশি করত না। ফলে সহজেই ইয়াবা পৌঁছে যেত ঢাকায় নির্দিষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হাতে।
মাহফুজ র‌্যাব কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তাঁরা নিয়মিতভাবে ইয়াবা পাচার করতেন। কক্সবাজার থেকে এএসআই বেলাল ইয়াবা সংগ্রহ করে তাঁর (বেলালের) মালিকানাধীন মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় নিয়ে যেতেন। আর মাঝেমধ্যে কক্সবাজার যেতেন মাহফুজ। মাহফুজের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেলাল ও আশিকই ইয়াবা পাচারের মূল হোতা। বেলালের নিজস্ব মাইক্রোবাসে করে ইয়াবা পাচার বেশি হয়।’ মাহফুজুরের গাড়িচালক জাবেদের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাবেদ মূলত মাহফুজুরের গাড়িচালক। তবে ইয়াবা কার কার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, সেটা জাবেদ জানেন না। মাহফুজ নিজেই গাড়ি চালিয়ে গ্রাহকদের কাছে ইয়াবা পৌঁছে দেন।’
এএসআই মাহফুজ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ সিন্ডিকেটের অনেকেই কক্সবাজার থেকে বদলি হওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছে। ইতিমধ্যে সিন্ডিকেটের সদস্য এএসআই বেলাল ও এসআই কামাল আব্বাসকে ডিবি পুলিশ থেকে বদলি করা হয়েছে।
উৎসঃ ফেসবুক

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

হিজাবী তরুণীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজে মুসলিমদের সম্মানে এক ইফতার পার্টিতে বলেছেন, যে কোনো ধর্মীয় বা আদিবাসী গোষ্ঠীকে টার্গেট করার বিরুদ্ধে আমেরিকানরা ঐক্যবদ্ধ। সোমবার তিনি মুসলিমদের সম্মানে হোয়াইট হাউজে এক ইফতার ডিনারের আয়োজন করেন। এতে কূটনীতিক, কংগ্রেস সদস্যসহ ৪০ জন অংশ নেন। এ সময় ভাষণে ওবামা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে আমাদের ধর্মবিশ্বাস যাই হোক না কেন আমরা সবাই একই পরিবার।’ এ সময় ওবামা কয়েকজন তরুণ মুসলিমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ করে সামান্থা ওলাউফ নামের এক তরুণীর যিনি হিজাব পরার অধিকার রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছিলেন। ২০০৮ সালে ১৭ বছর বয়সে ওকলাহোমার একটি দোকানে হিজাব পরে চাকুরির সাক্ষাৎকার দেয়ায় তাকে চাকুরি দেয়া হয়নি। ওবামা বলেন, ‘তিনি হিজাব পরার অধিবার রক্ষায় ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ- তিনি চেয়েছিলেন অন্য সবার মত সমান সুযোগ।’ ‘তিনি সুপ্রিম কোর্টের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, যেটা তার বয়সে থাকলে আমি করতাম না, এবং তিনি বিজয়ী হয়েছেন, ’ বলেন ওবামা। সূত্র : এপি  

এ মাস ত্যাগের, ভোগের নয়

এ মাস ত্যাগের, ভোগের নয়। এ মাস সহমর্মিতার, স্বার্থপরতার নয়। রমজান নৈতিক সংযমের মাস। এটা নিছক অর্থনৈতিক সঞ্চয়ের মাস নয়, যা অনেক ব্যবসায়ীর আচরণে প্রতিভাত হয়। মাহে রমজানে আমরা রকমারি আয়োজনে মেতে উঠি মুসলমান হিসেবে প্রকৃত প্রয়োজন বিস্মৃত হয়ে। আমাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনুষ্ঠান বড়। তাই ঘটা করে ইফতার ‘পার্টি’। কিন্তু দরিদ্র পড়শির ইফতারের সামর্থ্য আছে কি না, খবর নিই না। এ মাসে প্রচার করে মানুষ জমিয়ে জাকাত হিসেবে দেয়া হয় পরিধানের অযোগ্য শাড়ি-লুঙ্গি। অথচ জাকাত যে আত্মকর্মসংস্থান ওদারিদ্র্য মোচনের বলিষ্ঠ হাতিয়ার, সেটা ডিগ্রিধারী মুসলমানেরাও উপলব্ধি করেন না।
রমজান তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় মনে জাগ্রত আর কাজে প্রতিফলিত করার মাস। তাহলেই ঈমানদারের প্রকৃত মুনাফা অর্জিত হবে, যা তিনি মজুদ করবেন অনন্ত পরকালের জন্য। আল কুরআনে যে লাভজনক তেজারত বা ব্যবসায়ের কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মুনাফা সেই পবিত্র ব্যবসায় বা দ্বীনদারির। এটা বাজারিপণ্যের দাম বাড়িয়ে রোজাদারকে কষ্ট দেয়ার অসৎ প্রবণতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মাপে আর ওজনে কম না দিতে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের ক’জন ব্যবসায়ী এই সতর্কতা বজায় রাখেন? এমনকি রোজার মাসেও আমরা এ ব্যাপারে সজাগ হই না। যেসব ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে, ওজন ও মাপে কম দিয়ে দুনিয়ার লাভকে বড় করে দেখেন, তাদের কেউ কেউ দৃশ্যত ধর্ম পালনকারী হলেও আসলে ধর্মীয় চেতনা তাদের নেই। তা থাকলে সমাজ ও মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতেন তারা। আজ সমাজে ন্যায়বিচার ও নীতিনিষ্ঠার অভাব এবং বৈষম্য-বেইনসাফির প্রাদুর্ভাব। রোজায় অগ্নিমূল্যসহ ব্যবসায়িক অসততা এর একটি উপসর্গ।

কূটনীতিকদের সম্মানে জামায়াতের ইফতার



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আজ ২২ জুন, ২০১৫ সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স ও কূটনীতিকগণের সম্মানে এক ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। এ ইফতার পার্টিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বেইসান জে. আবদুল লতিফ, ওমান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওমর মুহাম্মদ রামাদান আল-বুসাইরী, পাকিস্তান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সামিনা মেহতাব, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ড. লুসিনডা বেল, ফিলিস্তিন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব দ্য মিশন ইউসেফ এস. ওয়াই রামাদান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ডেপুটি চীফ অব মিশন মি. ফিরিডেরিক মাদুরাউড, আইআরআই-এর রেসিডেন্ট কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ডিসিধর স্টোজকভ, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন বাহরাম সাঈদ জাদে, এনডিআই-এর কান্ট্রি পরিচাল জনাব সাইফুল করিম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভ্যাটিকান সিটি, ব্রিটিস, জাপান, তুরস্ক, সুইডেন, চীন, সৌদি আরব প্রভৃতি দেশের কূটনীতিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ ইফতার পার্টিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এড. জসিম উদ্দিন সরকার, জনাব আবদুর রব, এড. মশিউল আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সহকারী সেক্রেটারী জনাব মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
এ ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদের একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
জনাব মকবুল আহমাদ এ ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, চার্জ দ্যা এফেয়ারস ও কূটনীতিকগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইসলাম ও গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং জামায়াতে ইসলামীর আছে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বর্তমান সময়ের দাবী, তার রূপকার জামায়াতে ইসলামী। গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের জন্য যে বহুদলীয় জোট গঠন করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামী তার শরীক দল। এ জোট বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করেনা। বরং সন্ত্রাসবাদকে পাপের কাজ বলে ঘৃণা করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের ইসলামীর সংগ্রামের গৌরবজনক ইতিহাস আছে। কিছু অন্যায়কারী লোক ছাড়া কেউই জামায়াতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনতে পারে না। বর্তমানে দেশের জনগণের জানমালের কোন নিরাপত্তা নেই। দেশের জনগণ ভয়ভীতি ও উদ্বেগের মধ্যে আছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য আপনাদের দেশগুলো অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানোর জন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারাগারে বন্দী জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং জেলের বাইরে অবস্থানকারী আমি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমরা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন অগণতান্ত্রিক সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার তার হিং¯্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আমাদের অত্যন্ত সুপরিচিত দুই জন কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা ও শহীদ মুহাম্মাদ কামারুজ্জামানকে অসুষ্ঠু ও অত্যন্ত বিতর্কিত বিচার প্রক্রিয়ায় হত্যা করেছে।
এ পবিত্র রমজান মাসে আমি আপনাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার ২ নং আয়াতটি উল্লেখ করছি, 
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ 
মায়েদা-২
“নেকী ও আল্লাহভীতির সমস্ত কাজে সবার সাথে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজে কাউকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। তাঁর শাস্তি বড়ই কঠোর। ”

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে কমলা রঙয়ের মৃত্যুদণ্ডের পোশাক পড়ানো হয়েছে


গতকাল মিশরের চার হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে কমলা রঙয়ের মৃত্যুদণ্ডের পোশাক পড়ানো হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের এই পোশাক পড়ানো হয়।মৃত্যুদণ্ডের পোশাক পরিধান করার পর মুরসি বলেন,"আমি ৪০ বছর ধরে এমন মৃত্যুর কামনায় করেছি।"
আল্লাহু আকবার! তার পূর্বসূরিরাও এরকমই ছিলেন।ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মৃত্যুকে তারা হাসিমুখে আলিঙ্গন করেছেন।মৃত্যুভয়ে তারা ভীত নয়। সাইয়েদ কুতুবের অনেক ছবিই নেটে আছে।কোন ছবিতেই তাকে তেমন হাসিমুখে দেখা যায়না তবে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার পূর্বমুহূর্তের তার একটা হাস্যজ্জল ছবি আছে।ছবিটা দেখলেই মনে হবে যেন তিনি বহু প্রতীক্ষিত কোন জিনিস লাভ করতে যাচ্ছেন।মিশরের প্রধান বিচারপতি আবদুল কাদের আওদাহ ফাঁসির রায় শুনে আনন্দে সেই কবিতা পাঠ করছিলেন যে কবিতা খোবায়েব (রাঃ) শাহাদাতের পূর্বে পাঠ করেছিলেন।  উৎসঃ ফেসবুক