ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

আজ এক জন সালাউদ্দীন আইয়ুবীর (র) বড় প্রয়োজন

যৌন চাহিদা মানুষের প্রতি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত। তাই যারা বিয়ে করতে পারেনি, তাদের জন্য ভিন্ন উপায়ে যৌন চাহিদা পুরন করাটা দোষের কিছু নয়।
ইসলাম পরস্পরের প্রতি মহব্বত- ভালবাসা সৃষ্টির ধর্ম। তাই প্রেম- ভালবাসা বৈধ ও পুন্যর কাজ।
তরবারি নয় ভালবাসার জোরে ইসলাম প্রতিষ্টিত হয়েছে। ইসলাম শান্তি ও মানবতার ধর্ম। তাই সামরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করা মুসলমানদের জন্য হারাম। অতএব, মুসলমানরা কোন অবস্হাতেই জিহাদের নামে কোন ধরনের আন্দোলন- সংগ্রামে অংশ নিতে পারেনা।
উপরোক্ত কথাগুলো কোন নাস্তিকে বলেনি!এমনকি কোন আনাড়ি মুসলমানও বলেনি। বরং কথাগুলো একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞ ইমাম মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছে। তবে এখন নয়, বহু আগে মিশরের কায়রো অবস্হিত একটি বিখ্যাত মসজিদে দাঁড়িয়ে বলেছিল।
আসলে ঐ ইমাম মুসলমানই ছিলনা। সে ছিল শত্রু পক্ষের গুপ্তচর। তার আসল নাম ডিওক। ইসলাম সম্পর্কে তার গভীর পড়াশোনা ছিল। বেশ ধারন করেছিল আলেমের। অসম্ভব সুন্দর ছিল তার বচন ভঙ্গি। তাই সে তখন খুব সহজেই কায়রোর বিখ্যাত মসজিদে ইমামতির চাকরি ভাগিয়ে নিয়েছিল।
অতঃপর
সে কোরআন হাতে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়েই ইসলামে চরম ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছিল। ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করে মসজিদে বসেই সে সাধারন মুসলমানদের ইমান হরন করছিল। অত্যান্ত সুকৌশলে
সে মুসলিম জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছিল। অপুর্ব বচন ভঙ্গির সুবাদে তার ভক্ত- মুরিদের সংখ্যা বাড়তে লাগল। দুর-দুরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল তার খ্যাতি।
১১৭০ সাল, মিশরে তখন সুলতান সালাউদ্দীন আয়ূবীর (রহ:)শাসনকাল চলছিল। তিনি একের পর এক অঞ্চল বিজয় করে যাচ্ছিলেন। সম্মুখ যুদ্ধে শত্রুরা কিছুতেই তার সাথে পেরে উঠ ছিলেন না।
চোখের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল শত্রুদের। তারা কিছুতেই সালাউদ্দীন আইয়ূবীর অগ্রযাত্রা রোধ করতে সক্ষম হচ্ছিল না।
অতপর শত্রুরা গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিমদের পরাজিত করার চক কষল। তারা এ উদ্দেশ্য মুসলিম সাম্রাজ্যে দু দল উচ্চতর ট্রেনিং প্রাপ্ত গুপ্তচর পাঠালো। একদল নারী, অন্যদল পুরুষ।
নারীদের অস্ত্র ছিল যৌবন। তাদের কাজ ছিল যৌবন দ্বারা মুসলিম তরুনদের নৈতিক অধঃপতনের দিকে ধাবিত করা, রাজ্যময় অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়ে মুসলিম জাতির চেতনা- ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেয়া।
অন্যদিকে পুরুষ গুপ্তচরদের কাজ ছিল- মুসলিমদের ছদ্মবেশ ধারন করে মুসলিম জাহানের মধ্য বিভক্তি ও বিশৃংখলা সৃষ্টি করা, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করে সাধারন মুসলমাদের ইমান-আমল হরন করা!
মুসলিম জাতিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন করে দিয়ে সংগ্রামী ও জাতীয় চেতনা ধ্বংস করে দেয়া।
এই ছিল শত্রুদের বিনা যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয় চিনিয়ে নেয়ার নীল নকশা!!
বেশ জোরে- শোরে চলছিল গুপ্তচরদের কার্যক্রম। অশ্লিলতা আর নৈতিক অধঃপতনে ডুবে যাচ্ছিল মুসলিম সাম্রজ্য। বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়ছিল পুরো জাহানে। হুমকির মুখে ইসালামী শাসন।
কিন্তু তখন শাসন ক্ষমতায় ছিলেন সুদক্ষ শাসক সুলতান সালাউদ্দীন আইয়ূবী (রহ.)। তার সঙ্গী ছিলেন চৌকস গোয়েন্দা প্রধান আলী বিন সুফিয়ান (রহ.)। তাদের চৌকস কর্মতৎপরতায় তখন ধরা পড়েছিল গুপ্তচররা।
বন্দি করা হয়েছিল শত শত গুপ্তচরকে।
এদেরই একজন ইমাম রুপী ডিওক। সেই ডিওক স্বীকার করেছিল, তারা মুসলিমদের মধ্যে এমন একদল মুনাফিক তৈরি করতে চায়, যারা কোরআন হাতে নিয়ে মসজিদের মিম্বরে বসেই ইসলামী চেতনা ধ্বংস করবে।
কিন্তু তখন সুলতান আইয়ূবী (রহ.) এমনি এক দক্ষ মুসলিম শাসক ছিলেন, যিনি গুপ্তচরদের সমস্ত ষড়যন্ত্রের জালকে চিন্ন- ভিন্ন করে মুসলিমদের জাতীয় চেতনাবোধ জাগ্রত করেছিলেন!
সমস্ত কুসংস্কারকে সমুলে উৎখাত করে ছিলেন।
অত:পর
সমগ্র মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ব করে বিশ্বজয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মুক্ত করেছিলেন অসহায় ফিলিস্তিনিদের।
সেই যুগ অনেক আগে পেরিয়ে গেলেও বন্ধ হয়ে যায়নি সেই ষড়যন্ত্র। তাই আজ আমাদের মুসলিম সমাজ বিজাতীয় নোংরা সংস্কৃতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে।
আমাদের যুবকরা ডুবে যাচ্ছে অশ্লীলতায়। চেতনাহীন হয়ে পড়েছে তারা। হয়তো হাজার হাজার ডিওক নামক ফরীদুদ্দিন মাসুদী মিশে আছে আমাদের সমাজে।
মিশে আছে নামধারী ভন্ড পীর-সূফীরা যারা নানাবিধ শিরক্ -বিদআত তথা কুসংস্কার চালু করে মুসলিম জাতিকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন করে দিচ্ছে, মুসলিম উম্মাহকে শতভাগে খন্ড খন্ড করে দিচ্ছে!
জিহাদের অপব্যখ্যা করে মুসলিম জাতিকে সংগ্রাম বিমুখ করে অলস জাতি বানিয়ে দিচ্ছে।
আজ আমাদের একজন সালাউদ্দীন আইয়ূবী, তারেক বিন যিয়াদের প্রয়োজন, ভীষন প্রয়োজন।
যিনি ডিওক নামের মাসুদী, জালালী, সুফিয়ানী তাহেরীর সমস্ত ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্ন-ভিন্ন করে দিবে। সমুলে উৎখাত করবে সমস্ত বেহায়পনা আর কুসংস্কারকে।
কুসংস্কার মুক্ত করে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে। জুলুমের হাত থেকে মুক্তি পাবে বিশ্বের সকল মুসলমান । অত:পর বিশ্বের দরবারে আবারো আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।
হে আল্লাহ, আমাদের আরেকজন সালাউদ্দীন আইয়ূবী দাও।

তারাবির নামাজের ঈমানি চেতনা, আনন্দ ও ফজিলত:

বাংলাদেশ বার্তঃ  রমজানের আনন্দ ও ঈমানি চেতনা জামাতে তারাবির নামাজেই সহজে লাভ করা যায়. বিশেষ ভাবে হারাম শরীফে কাবার সামনে শাইখ ছুদাইছ সুরাইম জুহানির পিছনে তারাবিহ পড়তে কি যে আনন্দ তা বলা সম্ভব নয়, মনে হয় যেন এই মাত্র কোরআন নাযিল হচ্ছে.
আলহামদুলিল্লাহ্ প্রতি বছর তাদের পিছনে নামাজ পড়ার সুযোগ আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন.
সৌদি আরবে প্রায় সকল মসজিদে তারাবিহ হয় ধীরে ধীরে তারতিল সহকারে সুমধুর কন্ঠে বুঝে শুনে যা শুনলে মন গলে যায়.ইমাম মুসল্লী সকলেই কোরান বুঝে তাই নামাজে কাদেঁ।
কিন্তু আফসোসের বিষয় আমেদের দেশের অধিকাংশ তারাবিহ তে এত তাড়াতাড়ি তেলাওয়াত ও নামাজ আদায় করে যাতে তাজবিদ আদায় হয়না , যার অর্থ বুঝে যায়না , রুকু সিজদা ঠিক মত আদায় হয়না , শুধু মাত্র বিশ রাকআত ও খতম উদ্দশ্য. ফলে এসকল তারাবিহের নামাজে ছওয়াব লাভের আশা করা যায়না, যেহেতু যে কোন আমল রাসুল (সা:) এর সুন্নাহ মোতাবিক না হলে তাতে কোন ছওয়াবের আশা করা যায়না.
তারাবির নামাজ ফরজ নহে তা সুন্নাত বা নফল নামাজ , তাই তা কম বেশী যাই পড়েন তা ধীর সহীর ভাবে বুঝে বুঝে আল্লাহর ভয়ে পড়বেন তা হলে সেই নামাজের মাধ্যমে সকল গুনাহ মাফ হবে ,

قال رسول الله صلى عليه وسلم من قام رمضان ايمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه ( صحيح البخاري)
আর যে ইমামের পিছনে তারাবিহের নামাজ আদায় করবেন তা পূর্ন করবেন তাহলে সারা রাত জেগে নফল নামাজের ছওয়াব পাওয়া যায় .
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم من قام مع الامام حتي ينصرف كتب له قيام ليلة. ( ترمذي)
আল্লাহ তা আলা আমাদেরকে মনগড়া আমল থেকে বিরত রাখুন ও রাসুল সা এর সুন্নাত মোতাবিক আমলের তাওফিক দান করুন আমিন. 
বিনীত মামুনুর রশীদ মাদানী.

প্রসংগ: রোযা পালন,,,,,,,,,,,


১) সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার ও যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত থাকাকে সওম বা রোযা বলে।
২) প্রত্যেক বালেগ ও সুস্থ মস্তিষ্ক পুরুষ ও মহিলার রমাদান মাসে রোযা রাখা ফরয।
৩) ওজর ব্যতীত রোযা না রাখা কবীরা গুনাহ।
৪) রোযা রাখার ইচ্ছা করা বা সিদ্ধান্ত নেয়াকে রোযার নিয়ত বলে।
৫) নিয়ত হচ্ছে রাতে এই ইচ্ছা করা যে, আগামীকাল আমি রোযা রাখবো" অথবা সকালে এই ইচ্ছা করা যে, আজ আমি রোযা রাখছি"।
৬) রোযার জন্য সাহরী খাওয়া উত্তম। কিন্তু রোযা শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাহরী খাওয়া শর্ত নয়। কেউ যদি সাহরী খাওয়ার সুযোগ না পান তবুও তাঁর রোযা হয়ে যাবে।
৭) কোন ব্যক্তি রমাদানে সফরে থাকলে ও রোযা রাখা কষ্টকর হলে রোযা না রাখা জায়েয। পরবর্তী সময়ে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৮) হায়েয ও নিফাস অবস্থায় মহিলাদের রোযা রাখা জায়েয নেই। পরবর্তী সময়ে সেই রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৯) গর্ভবতী মহিলা রোযা রাখলে অসুস্থ হয়ে পড়লে রমাদানে রোযা না রাখা জায়েয। পরবর্তী সময়ে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১০) দূগ্ধপোষ্য শিশু যদি মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছু না খায় এবং মা রোযা রাখলে দূধের অভাবে শিশুর কষ্ট হয় তাহলে মা'র রোযা না রাখা জায়েয। পরবর্তী সময়ে সেই রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১১) অসুস্থ ব্যক্তি রোযা রাখলে অসুখ বেড়ে গিয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করার আশংকা থাকলে রমাদানে রোযা না রাখা জায়েয। সুস্থ হয়ে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১২) এমন বৃদ্ধ ব্যক্তি যার পক্ষে রোযা রাখা সম্ভব নয় তিনি রোযা না রেখে ফিদ্ইয়া দেবেন।
১৩) ফিদ্ইয়া হচ্ছে কোন মিসকিনকে প্রতিটি রোযার জন্য দুই বেলা আহার করানো কিংবা খাদ্যদ্রব্য প্রদান।
১৪) সুস্থ-সক্ষম ব্যক্তি বিনা ওজরে রমাদানের রোযা না রাখলে তাঁকে প্রতিটি রোযার কাফ্ফারা স্বরুপ একধারে দুই মাস রোযা রাখতে হবে। এইভাবে রোযা আদায় করা কালে যদি মাঝখানে একটি রোযা বাদ পড়ে তাহলে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।
১৫) স্বামী-স্ত্রী রমাদানে দিনের বেলা "বিছানায় গেলে" উক্ত নিয়মে কাফ্ফারা আদায় করতে হবে।
১৬) ওজর বশত ছুটে যাওয়া রোযা একটানা রাখা যায়, আবার ভেংগে ভেংগেও আদায় করা যায়।
১৭) কো্ন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির পক্ষ থেকে নামায কিংবা রোযা আদায় করতে পারবেন না।
১৮) অপবিত্র অবস্থায় সাহরী খাওয়া যায়, রোযাও হবে। তবে অপবিত্র অবস্থা থেকে যতো তাড়াতাড়ী সম্ভব পবিত্র হওয়া উচিত।
১৯) তারাবীহ রমাদানের সাথে সম্পর্কিত। রমাদানের পর শুধু রোযার কাযা আদায় করতে হবে, তারাবীহ নয়।
২০) অযু-গোসলের সময় গলার ভেতর পানি প্রবেশ করলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
২১) ঘুমের মধ্যে গোসল ফরয হলে রোযা নষ্ট হয় না।
২২) রোযাদার ভূলে কিছু খেয়ে ফেললে বা পান করলে রোযা নষ্ট হয় না।
২৩) ইনজেকশন নিলে রোযা নষ্ট হয় না।
২৪) রক্ত দান করলে রোযা নষ্ট হয় না।
২৫) শরীরের কোন স্থান থেকে রক্ত বেরুলে রোযা নষ্ট হয় না।
২৬) জিহবা দিয়ে কোন কিছুর স্বাদ-আস্বাদান করে থুথু ফেলে দিলে রোযা নষ্ট হয় না। কিন্তু বিনা প্রয়োজনে এইরুপ করা মাকরুহ।
২৭) রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করা মাকরুহ।
২৮) বেলা ডুবার সাথে সাথে ইফতার করতে হবে।
২৯) আল্লাহর রাসুল (সা:) খেজুর কিংবা পানি দিয়ে ইফতার করতেন।
৩০) মুয়াজ্জিন ইফতার করে আযান দিবেন।
৩১) যেহেতু রেডিওতে সঠিক সময়ে আযান দেয়া হয় সেহেতু রেডিওর আযান শুনে ইফতার করা জায়েয।
৩২) ইফতারের সময় দূ'আা পড়া মুস্তাহাব, শর্ত নয়। দূ'আা না পড়ে ইফতার করলেও রোয়া হয়ে যাবে।
(সমস্ত রোযাদারের জন্য পড়া অতীব জরুরী)
সংগ্রহ ঃ মাসিক পৃথিবী

বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

জমকালো বিজ্ঞাপনের প্রচার দেখে এইচ এস সি তে ভর্তি হলেই চুঙ্গায় ডুকে যাবেন

বাংলাদেশ বার্তাঃ ভাল জিনিসের প্রচার কম থাকে।যে জিনিস অচল তার প্রচার বেশী।লোভনীয় প্রস্তাব থাকে।সেদিন রাস্তায় ফুটপাথে এনার্জি লাইট বিক্রি দেখে বিভ্রান্ত হইছিলাম। একটি লাইট মাত্র ২০০/-তবে একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি।বাঙ্গালী ফ্রি খাইতে চাই বেশী।তাই দুটো লাইট মাত্র দুশো টাকায় কিনে এক মাসও ব্যবহার করতে পারিনি কয়েক সপ্তাহে ফিউজ।কারে বলুম গ্যারান্টি কার্ড তখন কলা পাতা হয়ে গেল। কারন এর পরে বিক্রেতাকে রাস্তায় দেখা যায়নি।
আজকাল এসএসসি পাস করা ছাত্রছাত্রীরা স্বভাবতই সরকারী কলেজে ভর্তি হতে চাই।কিন্ত সরকারি কলেজে আসন সংখ্যা সীমিত।অন্যদিকে বেসরকারি এমপিও ভুক্ত কলেজ আছে ভুড়ি ভুড়ি।সে সব কলেজে ভর্তি করাতে চাইনা অভিভাবকগন।বেসরকারি কলেজ গুলোর প্রতি ছাত্রছাত্রীদের বেতন ভাতা আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারের চাপ থাকে বেশি।যার কারনে একটি সীমার মধ্যে থেকে বেতন আদায় করে এসব প্রতিষ্ঠান।এখানে একটি কথা বলে রাখছি যেই পন্য বাজারে সহজে পাওয়া যায় তার কদর কম থাকে।অপরদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান আছে তারা শিক্ষার নামে বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে তাদের কোন নিজস্ব ভবনতো নাই বরঞ্চ খেলার মাঠ সহ বিনোদনের কোন ব্যবস্হা নাই।ভর্তি পিরিউডে এসব কলেজ গুলো তাদের জমকালো বিজ্ঞাপনে অনেকে আকৃষ্ট না হয়ে পারেনা যেমন এসি রুম ডিজিটাল ক্লাস রুম ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করবে কোন প্রাইভেট পড়তে হবেনা বেসসরকারির মধ্যে প্রথম ৯৮% পাস হেন থেন ইত্যাদি বিজ্ঞাপন গুলো দেখে অভিভাবক সমাজ বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে বোকা হয়ে ধোঁকা খেয়ে যাবার মত পরিস্হিতি সৃষ্টি হয়।কোন ক্রমে একবার ছাত্র ভর্তি করাতে পারলে হলো চুঙ্গায় ডুকে যাবে আর মাসে মাসে কত টাকায় যে দিতে হয় তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে।কেউ ভর্তি বাতিল করাতে চাইলে পুরো দুই বছরের বেতন সহ অন্যার্ন খরচ দিয়ে বেরিয়ে আসতে হবে।এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র যাদের কোন সরকারি ট্রেনিং নাই।ফলে শিক্ষির্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে সৃজনশীল উপযোগী মান সম্মত শিক্ষা হতে বঞ্চিত হয়।
এটি দীর্ঘ দিন হতে চলে আসা অনিয়ম। এসব অনিয়ম গুলো দেখার মত কোন অভিভাবক এই সমাজে নেই।শিক্ষার নামে ব্যাবসা কখন বন্ধ হবে?আর কত আমাদের অভিভাবক সমাজ তাদের জমকালো বিজ্ঞাপনে বোঁকা হয়ে ধোঁকা খাবে?
পরামর্শঃ
আমি একজন শিক্ষক হিসেবে যেহেতু শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িৎ তাই অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিবো আপনার সন্তানদের যদি কোন কারনে সরকারি কলেজে ভর্তি করাতে না পারেন তাহলে বেসরকারি এমপিও ভুক্ত কলেজে নিশ্চিন্তে ভর্তি করাতে পারেন।কারন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগন সবাই উচ্চতর ডিগ্রিধারী এবং যোগ্যতার বলে নিয়োগ প্রাপ্ত।স্ব স্ব বিষয়ে পাঠদানে সরকারি প্রশিক্ষন প্রাপ্ত।সরকার এদেরকে শতভাগ বেতন দিয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার, ২৩ মে, ২০১৭

IIUC’র Water Treatment Plant উদ্বোধন: শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করাহবে

বাংলাদেশ বার্তা ২২ মে ২০১৭: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম  শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে কুমিরাস্থ ক্যাম্পাসে নিজস্ব Water Treatment Plant স্থাপন ও উদ্বোধন করেছে।
২২ মে ২০১৭ সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর ভিসি প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে কুমিরাস্থ ক্যাম্পাসে নিজস্ব Water Treatment Plantস্থাপন ও বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এ সময় অন্যন্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান জনাব অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, পিপিডির চেযারম্যান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমীরুজ্জামান, চীফ ইঞ্জিঃ (চলতি দায়িত্ব) মোঃ জাহেদ হোসেন , এলএমডি’র ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) ইজাবুল খালিদ ভূঁইয়া,   প্রকৌশলী মোঃ মোশারফ হোসেন, প্রকৌশলী মোঃ আবু সোয়েব, প্রকৌশলী সেলিম জাহাঙ্গীর, সিনিয়র এ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইক্টের, মাইনুল ইসলাম, এ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইক্টের (স্টোর) শেখ মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
ঘন্টায় ২,০০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন সক্ষম Water Treatment Plant স্থাপন ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন কালে  ভিসি প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম  শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার  উদ্দেশ্যে কুমিরাস্থ ক্যাম্পাসে নিজস্ব Water Treatment Plantস্থাপন করে  তা বিতরণের ব্যবস্থা করে পানীয় পানির সংকট সমাধান হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সুষ্ঠু বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তিনি কিছু পরামর্শ  প্রদান করেন।
এসময় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার  উদ্দেশ্যে কুমিরাস্থ ক্যাম্পাসে নিজস্ব Water Treatment Plantস্থাপন করে  তা বিতরণের ব্যবস্থা করে পানীয় পানির সংকট সমাধান হওয়ায় মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। নেতৃবৃন্দ উক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। 
শেষে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭

জাগপা সভাপতি, সংগ্রামী রাজনীতিবীদ শফিউল আলম প্রধান ইন্তেকাল করেছেন...


বাংলাদেশ বার্তাঃ হঠাৎ করেই খবরটা পেলাম। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান আর নেই। আজ বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর আসাদগেটে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন তিনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

আমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে অনেক স্মৃতি মানুষটার। সর্বশেষ জাগপা আয়োজিত গত বছরের ইফতার মাহফিলে তার সাথে দেখা হয়েছিল। সেই ইফতার মাহফিলের কয়েকদিন আগে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দেখা। সেখানেই তিনি জাগপার ইফতার মাহফিলে যাওয়ার দাওয়াত দিলেন। নগদ অামন্ত্রনপত্র দিলেন। সংগে মৌখিক দাওয়াত। এরপর আবার বেশ কয়েকবার ফোন দিয়ে তাগাদাও দিলেন।

সেখানে গিয়ে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ছেলে হাসান জামিল ভাই, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীভাইসহ অনেককেই পেলাম। আমার কাছে সেই ইফতার মাহফিলটা স্মরনীয় একটা আয়োজন, কেননা সেদিন তিনি আমাদের অসম্ভব সম্মান দিয়েছিলেন। একটা বড় টেবিল তিনি রেখেছিলেন শহীদ পরিবার ও অপহৃত পরিবারের সদস্যদের জন্য। আমরা জামায়াতের শহীদ দায়িত্বশীলদের পরিবারদের সদস্যরা ছাড়াও ঐ টেবিলে বিএনপির নিখোঁজ নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী, চৌধুরী আলমের পরিবারসহ আরও অনেকগুলো ভিকটিম পরিবার বা পরিবারের প্রতিনিধি সেখানে ছিল। ইফতারির আগে তার ভাষনেও তিনি নাম ধরে ধরে আমাদের শহীদ নেতৃবৃন্দের কথা বলেছিলেন। 
ফখরুল ইসলাম খান

তিনি আমাদেরকে এবং ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে কমরেড বলতেন। আর বিপ্লবী লাল সালাম দিতেন। আপনার বিদায়বেলায়ও আপনার জন্যও অনেক দোয়া আর লাল সালাম রইলো, কমরেড...আল্লাহ আপনার নেক আমলগুলো কবুল করে নিন। আমিন

চান্দগাঁও থানা জামায়াতের উদ্যোগে দোয়া দিবস পালন

বাংলাদেশ বার্তা ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১৯ মে ২০১৭ ইং তারিখ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের জন্য কেন্দ্র ঘোষিত দোয়া দিবস পালন করে।
চান্দগাঁও জামায়াত নেতা জনাব আবু জাওয়াদের সভাপতিত্বে দোয়া দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শরীফ, আবু নাহিদ, অধ্যাপক এ হক, এন. ইসলাম, ইবনে জিয়া  প্রমূখ।
নেতৃবৃন্দ বরেন, সরকার অন্যায় ভাবে জপমায়ত-শিবিরের নেতাকর্মীদের  মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাবনইদ করে রেখছে। কারাবন্দিদের মধ্যে অনেক বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ নেতাকর্মী রয়েছে, যাদের সুচিকিৎসা ও সেবা=শুশ্রা করা র্প্রয়োজন। মুক্তি না পাওয়ায় তাদের পরিবারের সেবা ও সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বক্তাগণ মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত সকল কারাবন্দি নেতাকর্মী নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেন।
আলোচনা শেষে সকল কারাবন্দি নেতাকর্মীর সুস্থতা ও আসুমুক্তি কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। 

বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০১৭

মরহুম আব্দুল ওয়াদুদ সাহেবের ইন্তেকালে শ্রমিক কল্যানের শোক প্রকাশ


বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট (দক্ষিণ) জেলার পক্ষ থেকে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পাঠানটুলার সাবেক শিক্ষক, বালাগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাবেক নাজিম,গহরপুর তালতলা গ্রামের বাসিন্দা, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ সাহেবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ এবং মরহুমের শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। 
মরহুমের জানাযার নামায আজ বাদ আসর হযরত শাহজালাল (রহ) দরগাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়।
আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন উনাকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।

শুক্রবার, ১২ মে, ২০১৭

ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিক হিন্দু,তাহলে গো হত্যার অযুহাত দেখিয়ে মুসলিম নিধন করছে হিন্দু সন্ত্রাসীরা।


ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থা কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত দেশের ৭৪ কসাইখানার মধ্যে ১০ টির মালিক হিন্দু। এমনকি ভারতের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক কসাইখানার মালিকও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

দেশের সবচেয়ে বড় কসাইখানা তেলেঙ্গানার মেডক জেলার রুদ্রম গ্রামে অবস্থিত। কমপক্ষে ৪০০ একরজুড়ে থাকা ওই কসাইখানার মালিক সতীশ সভারওয়াল। এটি ‘আল কবীর এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ চালিয়ে থাকে। ভারতের মুম্বাইয়ের নরিম্যান পয়েন্টে অবস্থিত সদর দফতর থেকে তারা মধ্য-পূর্বের কয়েকটি দেশে গবাদি পশুর গোশত রফতানি করে।

আল কবীরের দফতর দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত, জেদ্দা, দাম্মাম, মদিনা, মাসকট, দোহা এবং অন্যত্র রয়েছে। সংস্থাটি গতবছর কমপক্ষে ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে।

‘অ্যারাবিয়ান এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ –এর মালিক সুনীল কাপুর। এদের সদর দফতর ভারতের মুম্বাইতে। সংস্থাটি বিফের পাশাপাশি ভেড়ার গোশতও রফতানি করে। এর পরিচালক বোর্ডে বিরনত নাগনাথ কুডমুলে, বিকাশ মারুতি শিন্দে এবং অশোক নারং রয়েছেন।

এমকেআর ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টর্স প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক মদন অ্যাবট। অ্যাবট কোল্ড স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডের কসাইখানা রয়েছে পাঞ্জাবের মোহালি জেলায়। এর পরিচালক সানি অ্যাবট।

‘আল নূর এক্সপোর্টস’-র মালিক সুনীল সুদ। কোম্পানিটির দফতর ভারতের দিল্লিতে। কিন্তু এর কসাইখানা এবং গোশত প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগরের শেরনগর গ্রামে। এছাড়া মীরাট এবং মুম্বাইতেও তাদের প্ল্যান্ট রয়েছে। সংস্থাটির অন্য অংশীদার হলেন অজয় সুদ। সংস্থাটি ১৯৯২ সালে তৈরি হয় এবং তারা ৩৫টি দেশে ‘গরুর গোশত’ রফতানি করে থাকে।

এওভি এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কসাইখানার অবস্থান উত্তর প্রদেশের উন্নাউতে। এদের গোশত প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট রয়েছে। এর পরিচালক ওপি অরোরা। সংস্থাটি ২০০১ সাল থেকে কাজ করছে। তারা মূলত গরুর গোশত রফতানি করে থাকে। কোম্পানির সদর দফতর নয়ডাতে। এওভি এগ্রো ফুডসের পরিচালক হলেন অভিষেক অরোরা।

স্ট্যান্ডার্ড ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমল ভার্মা। কোম্পানিটির কসাইখানা এবং প্ল্যান্ট উত্তর প্রদেশের উন্নাউতে অবস্থিত।

পোন্নে প্রোডাক্টস এক্সপোর্টসএর পরিচালক এস স্বস্তি কুমার। এদের গরুর গোশতসহ মুরগির গোশত এবং ডিমের ব্যবসাও আছে। এদের প্ল্যান্ট রয়েছে তামিলনাড়ুতে।

অশ্বিনী এগ্রো এক্সপোর্টসের কসাইখানা রয়েছে তামিলনাড়ুর গান্ধীনগরে। কোম্পানিটির পরিচালক কে রাজেন্দ্রন। তার মতে, ‘ধর্ম নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যবসার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।’

মহারাষ্ট্র ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজের হলেন সানি খাট্টার। তিনিও মনে করেন, ‘ধর্ম এবং ব্যবসা ভিন্ন জিনিস। দুটোকে মিশিয়ে ফেলা ঠিক নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি হিন্দু এবং গরুর গোশত ব্যবসা করি তাতে কী হয়েছে? এই ব্যবসা করে কেউ খারাপ হিন্দু হয়নি।’ কোম্পানিটির কসাইখানা মহারাষ্ট্রে অবস্থিত।

এসব ছাড়াও হিন্দুদের এমন কোম্পানি রয়েছে যারা গরুর গোশত রফতানি ক্ষেত্রে রয়েছে। এদের কসাইখানা না থাকলেও এরা গোশত প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্যাকেজিং করে তা রফতানি করে। কনক ট্রেডার্স এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান।

এর মালিক রাজেশ স্বামী বলেন, ‘এই ব্যবসায়ে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। দুই ধর্মের মানুষজন একসঙ্গে কাজ করে থাকে। এতে কেউ হিন্দু হলেও তা কোনো ব্যাপার নয়।’ তার মতে, কসাইখানা বন্ধ হলে হিন্দু-মুসলিম উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওই ব্যবসায়ে প্রচুর সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায় সরাসরি মালিক না হলেও তারা পরিচালক, গুণমান ব্যবস্থাপক, উপদেষ্টাসহ এ ধরণের বিভিন্ন পদে কাজ করেন।(টিডিএন বাংলা)

বুধবার, ১০ মে, ২০১৭

হাই ব্লাড প্রেশার? ঘরেই আছে সমাধান।

হাই ব্লাড প্রেশারকে হাইপারটেনশনও বলা হয়। এই কন্ডিশন তখনি সৃষ্টি হয় যখন আর্টারিতে রক্তের অনেক প্রেশার থাকে। একজন ব্যক্তির ব্লাড প্রেশার রিডিং যখন ১৪০/৯০ mm Hg বা এর চেয়েও বেশি হয় তখন বলা হয় হাইপারটেনশন। একে “সাইলেন্ট কিলারও” বলা হয়ে থাকে। কেননা যদি সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা করা না হয় তাহলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এমনকি কিডনি ফেইলিওর-ও হতে পারে কিন্তু লক্ষণীয় কোন সিম্পটম্প দেখা যাবে না। বর্তমানে এমন কোন একটি বাসা পাওয়া যাবে না যেখানে কোন একজন হাইপারটেনশনের রোগী নেই। প্রেশার হুটহাট বেড়ে যেতে পারে। সবার সিম্পটম এক না তবুও কমন কিছু সিম্পটম হলঃ
প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করা, ঘাড় ব্যথা করা,বমি বমি ভাব হওয়া এমনকি বমিও হয়ে যাওয়া। আর খুব এক্সট্রিম হলে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
যদিও ডাক্তার বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবুও খুব সিম্পল কিছু ন্যাচারাল উপাদান দ্বারা হাই ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোল করতে পারেন। এইসব উপাদান গুলো কিচেন ইনগ্রেডিয়েন্স নামে পরিচিত, কেননা এসব উপাদান আমরা আমাদের কিচেন কেবিনেটই পেয়ে থাকি।

হাই ব্লাড প্রেশারের কিছু কারণঃ

০১. প্রতিদিন ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া।
০২. অ্যালকোহল গ্রহণ করা।
০৩. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অনেক বেশি ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য /পানীয় থাকা।
০৪. নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে না তোলা।
০৫. মেন্টাল স্ট্রেস।
০৬. অবেসিটি, যেহেতু হার্টকে অতিরিক্ত ব্লাড পাম্প করা লাগে।
০৭. বংশগত ভাবে অনেকেয় হাই ব্লাড প্রেশারের শিকার হয়ে থাকে।

কোন উপাদান কীভাবে ব্যবহার করবেন হাইপারটেনশন মোকাবেলা করার জন্যঃ

কলাঃ কলা এমন একটি ফল যা ব্লাড প্রেশারের রোগীরা প্রেশার কন্ট্রোল করার জন্য প্রতিদিন খেতে পারেন। কলাতে থাকা পটাসিয়াম প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একই সাথে কলাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কম উপরন্তু কোলেস্টেরল ফ্রি। হাইপারটেনশনের পাঠকেরা আপনারা প্রতিদিন একটি করে কলা খেতে পারেন।

রসুনঃ ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়াতে এক স্টাডিতে পাওয়া গিয়েছে যে রসুন প্রেশারের রোগীদের জন্য ওষুধ স্বরূপ কাজ করে, কারণ এটি প্রাকৃতিক ভাবেই কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় তাই প্রেশারও কমে যায়। চিবানো রসুন হাইড্রোজেন সালফাইড তৈরি করে, যা ব্লাড ফ্লো সঠিক রাখে, গ্যাস দূর করে এবং হার্টের উপর থেকে প্রেশার কমিয়ে আনে। প্রতিদিন রান্না অথবা কাঁচা এক কোয়া রসুন আপনার জন্য যথেষ্ট।

কাঁচা বাদামঃ কাঁচা বাদাম মানে যে বাদামটি বালুতে ভাঁজা হয়নি। প্রতিদিন ৪-৫ টি কাঁচা বাদাম আপনাকে রাখবে প্রেশার থেকে কয়েকশ হাত দূরে। কাঁচা বাদামে আছে monosaturated ফ্যাট। প্রমাণিত হয়েছে এই ফ্যাট রক্তের কোলেস্টেরল কমিয়ে আনে সেই সঙ্গে arterial inflammation ও কমিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আপনি থাকেন লোয়ার ব্লাড প্রেসার লেভেলের আওতায়।

ডাবের পানিঃ ডাবের পানিতে আছে পটাশিয়াম, ইলেক্ট্রোলাইট এবং অন্যান্য নিউট্রিয়েণ্ট। কিছুদিন আগে West Indian Medical Journal এ পাবলিশ হওয়া একটি স্টাডিতে দেখা গেছে স্টাডিতে অংশ নেয়া ৭১% সিসষ্টলিক প্রেশার কমে গিয়েছিল আর ২৯ জনের ডায়াষ্টলিক প্রেশার কমে গিয়েছিলো নিয়মিত ডাবের পানি পান করার কারণে।

হলুদঃ অনেকেই হয়ত জানি না এর আরেক নাম কারকিউমিন। এর অনেক গুলো গুণের মধ্যে একটি হল এটি সারা শরীরের ইনফ্লামেসন দূর করে। ইনফ্লামাসনের প্রাথমিক কারণ হিসেবে হাই কোলেস্টেরল এমনকি হাই ব্লাড প্রেশারকে দায়ি করা হয়। হলুদ ব্লাড ভেসেল শিথিল করে। এটি ব্লাড থিনার-ও, যা হাইপারটেনশনের সাথে ফাইট করার আরেকটি শক্তিশালী হার্ব।

ডার্ক চকলেটঃ প্রতিদিন অল্প অল্প ডার্ক চকলেট খান আর হাই ব্লাড প্রেশার থেকে দূরে থাকুন। আরেকটি সুখবর হল ডার্ক চকলেট খেলে মোটা হওয়ার কোন ভয় নেই। এই চকলেটে আছে কোকো আর কোকোতে থাকা পলিফেনলস প্রেশার কমাতে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখবেন পরিমাণ যেন খুবই কম হয়।

কালোজিরাঃ কালজিরার তেলে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো কোলেস্টেরল আর ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন এক চা চামচ করে কালোজিরার তেল খান। যদি এই তেল খেতে আপনার খারাপ লাগে তাহলে জুস অথবা চায়ের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

লেবুর রসঃ হাইপারটেনশনের কন্ট্রোলের জন্য নিয়মিত লেবুর রস পানের অভ্যাস করুন। লেবু ব্লাড ভেসেল নরম করে এবং তাদের রিজিডিটি দূর করে। ফলে হাই ব্লাড প্রেশার কমে যায়। উপরন্তু লেবুতে থাকা ভিটামিন বি এর জন্য হার্ট ফেলুয়ার এর চান্স কমে যায়। যাদের হাই ব্লাড প্রেশার আছে তারা দিনে কয়েকবার লেবুর পানি পান করবেন।

পেঁয়াজের রসঃ প্রতিদিন একটি মাঝারি সাইজের কাঁচা পেঁয়াজ খান। এটি নার্ভাস সিস্টেমের জন্য টনিকের মত কাজ করে। এটি রক্ত পরিষ্কার করে, হার্টের কার্যকারিতা রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং কোলেস্টেরল কমানোর মাধ্যমে প্রেশার কমিয়ে দেয়।
Dr. Asim Datta

সোমবার, ৮ মে, ২০১৭

শবে বরাত ---আল ইমাম ও উস্তাদ আল্লামা মওদুদী (রঃ)।

সাধারণত শবে বরাতকে মুসলমানদের একটি পর্ব বা খুশির দিন বলে মনে করা হয়। এর জন্য কিছু রসম রেওয়াজও গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো বেশ কড়াকড়ির সাথে পালন করা হয়। ধুমধাম ও জাকজমকের বিচারেতো যেন মোহররমের পরপরই এর স্থান। কিন্তু সত্য কথা হলো, এটা অযথা একটি মনগড়া পর্ব। না কুরআন মজীদে এর কোনো ভিত্তি আছে না হাদীস শরীফে। না সাহাবায়ে কেরামেট যুগের ইতিহাসে এর কোনো নাম নিশানা পাওয়া যায়। আর না প্রাথমিক কালের বুযুর্গানে দ্বীনের কেউ এটাকে ইসলামের পর্ব বলেছেন।
প্রকৃতপক্ষে ইসলাম রসম রেওয়াজ ও পালা পার্বণের দ্বীন নয়। ইসলামতো একটি সাদাসিধা ও যুক্তিসঙ্গত দ্বীন। এ দ্বীন মানুষকে রসম রেওয়াজের বেড়াজাল থেকে, খেল তামাশার অর্থহীন কাজকর্মে মশগুল হওয়া থেকে বাজে কাজ সময়, শ্রম ও সম্পদ অপচয় থেকে রক্ষা করে জীবনকে বাস্তব সত্যের দিকে আকৃষ্ট করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা ও কল্যাণের কাজে মানুষকে ব্যস্ত রাখে। এমন একটা দ্বীনে প্রকৃতির সাথে এরূপ কাজের কোনো সামঞ্জস্য নেই যে, সে বছরে একদিন হালুয়া রুটি পাকানো ও আতসবাজি করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেবে আর মানুষকে বলবে যে, তুমি বিশেষভাবে প্রতি বছর নিজের জীবনের কিছু মূল্যবান সময় ও নিজের কষ্টার্জিত ধনের বেশ কিছু অংশ বরবাদ করতে থাকো। এর চেয়েও দূরতম কথা হলো এই যে, ইসলাম এমন কোনো রসম রেওয়াজ পালন করতে অভ্যস্ত করবে, যা শুধু সময় ও টাকা পয়সাই বরবাদ করে না, বরং কোনো কোনো সময় জীবননাশের ঘটনাও ঘটে এবং ঘরবাড়ী পর্যন্ত এই শিখা গিয়ে পৌছে। এ ধরনের বাজে কাজের নির্দেশ দেয়াতো দূরের কথা, যদি এমন ধরনের কোনো রেওয়াজ নবী করীম (সঃ) এর যামানায় বিদ্যমান থাকতো, তাহলে নিশ্চয়ই আইন প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়া হতো। আর এ ধরনের যেসব রেওয়াজ সে সময় প্রচলিত ছিলো তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
হালুয়া ও আঁতশবাজীর ব্যাপারটাতো এতো পরিষ্কার যে, যে ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে সামান্য কিছুও জানে সেও প্রথম দৃষ্টিতেই বলে দেবে যে, এসব কাজ করা এ দ্বীনের স্পিরিটের খেলাপ। কিন্তু আমরা যখন তালাশ করি যে, সাবান মাসের এ বিশেষ দিনের সাথে কোনো নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় আকীদা সংশ্লিষ্ট আছে কিনা অথবা কোনো আবশ্যকীয় ইবাদাত নির্ধারিত আছে কিনা,তখন এর কোনো নাম নিশানাও পাওয়া যায় না। ইসলামী সাহিত্যে যদি বেশী কিছু পাওয়া যায় তা শুধু এই যে, একবার শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাত্রে হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে বিছানায় না পেয়ে তালাশ করতে বেরিয়ে পড়লেন। তালাশ করতে করতে তিনি 'জান্নাতুল বাকী' কবরস্থানে গিয়ে তাঁকে পেলেন। এখানে আসার কারণ জিঙ্গেস করলে তিনি বললেন, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানের দিকে দৃষ্টি দান করেন এবং কালব গোত্রের ভেড়াগুলোর দেহে যে পরিমাণ লোম আছে তত সংখ্যক মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন। কিন্তু হাদীসের বিখ্যাত ইমাম তিরমিযী (রাহঃ) এ বর্ণনাটিকে "যয়িফ" বলেছেন এবং নিজের অনুসন্ধান সম্পর্কে বলেছেন, এ হাদীসের সনদ সঠিকভাবে হযরত আয়েশা (রাঃ) পর্যন্ত পৌছে না। অন্য কতিপয় হাদীসে যা কিছু কম মর্যাদাসম্পন্ন হাদীস গ্রন্থে পাওয়া যায়, তাতে এ রাতের ফযিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এতে ভাগ্যের ফয়সালা করা হয়, জন্ম ও মৃর্ত্যুর বিষয় চুড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এ হাদীসই দূর্বল। প্রতিটি হাদীসের সনদেই কোনো কোনো দূর্বলতা বিদ্যমান। এজন্য হাদীসের প্রাচীনতর ও অধিক নির্ভরযোগ্য কিতাবের কোথাও এ হাদীসের উল্লেখ পাওয়া যায় না। তারপরও যদি এর কোনো ভিত্তি স্বীকার করে নেয়া হয় তাহলে শুধু এতটুকুই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে যে, এ রাতে ইবাদাত করা ও আল্লাহর নিকট মাগফিরাত কামনা করা একটি উত্তম কাজ যা ব্যক্তিগতভাবপ করলেও সওয়াব পাওয়া যাবে। এসবই রিওয়ায়াত হতে এর বেশী কিছু প্রমাণিত হয় না, যার ভিত্তিতে মনে করা যেতে পারে যে, ১৪ তারিখে বা ১৫ তারিখের রাতকে ইসলামে ঈদ সাব্যস্ত করা হয়েছে অথবা কোনো সামাজিক ইবাদাত হিসাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
হাদীসের অধিক নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ হতে যে কথা প্রমাণিত তা এই যে, রমযান মাস আসার আগেই শাবান মাসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর উপর এক ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হতো। রমযান হলো সেই মাস, যে মাসে আল্লাহ তায়ালা মহানবী (সঃ) কে নবুওয়তের মতো মহামান্বিত পদে অধিষ্ঠিত করেছেন এবং কুরআনের মতো চিরস্থায়ী কিতাব নাযিল শুরু হয়েছে। এ কারণে শুধু রমযান মাসেই তিনি অসাধারণ ইবাদাত বন্দেগীতে মশগুল হতেন না বরং এর আগে থেকেই তাঁর ধ্যান আল্লাহর সাথে লেগে যেতো। হযরত আয়েশা (রাঃ) ও হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বরণনা করেছেন, রমযান ছাড়া বছরের বাকী এগারো মাসের মধ্যে শুধু শাবান মাসই এমন, যে মাসে তিনি সবচেয়ে বেশী রোযা রাখতেন। প্রায় গোটা মাসই তিনি রোযা অবস্থায় কাটাতেন। কিন্তু এ আমল শুধু তাঁর নিজের জন্য নির্দিষ্ট ছিলো। আল্লাহর সাথে তাঁর গভীর রূহানী সম্পর্কের কারণেই তা সম্ভব ছিলো। করআন নাযিল হওয়ার মাস থেকেই তাঁর এ বৈশিষ্ট্য ছিলো। সাধারণ মুসলমানদের জন্য শাবান মাসের শেষ পনর দিন রোযা না রাখার জন্য তিনি হেদায়াত দিয়েছেন। কেননা এ মাসের শেষের পনর দিন মানুষ রোযা রাখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, ধীরে ধীরে তা একটা অপরিহার্য প্রথায় পরিণত হয়ে যাবার আশংকা ছিল। আর রমযান মাসের ফরয রোযার উপর অযথা আরো দশ পনরটি রোযা যুক্ত হয়ে যাবে। এভাবে মানুষের উপর এমন একটা বোঝা চাপবে, যা আল্লাহ তাদর উপর চাপাননি।
ইসলামে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে, আল্লাহপাক বান্দাদের উপর যে কাজ অপরিহার্য করেছেন, এছাড়া আর কোনো কাজ যেন বান্দাহ তার নিজের উপর অপরিহার্য করে না নেয়। কোনো স্বরচিত রসম রেওয়াজ, কোনো কৃত্রিম নিয়ম-কানুন, কোনো সামষ্টিক তৎপরতা এমন হতে পারবে না যার অনুসরণ লোকদের জন্য ফরযের মতো হয়ে যাবে। আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণ কোন্ কাজের অনুসরণে রয়েছে, এবং কোন্ কাজের কতটুকু অনুসরণ রয়েছে, তা তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন। তাঁর কায়েম করা সীমা অতিক্রম করে বান্দাদের নিজ থেকে যদি কোনো রসম রেওয়াজ নির্দিষ্ট করে নেয় এবং ফরযের মতো গুরুত্ব দিয়ে পালন করে তাহলে তারা নিজেরা নিজেদের জীবনকে সংকটে ফেলবে। অতীতের জাতিগুলো এ ভূলই করেছিলো। তারা নতুন নতুন রেওয়াজ রীতি আবিষ্কার করে নিজেদের উপর ফরয ওয়াযিবের বোঝা চাপাতে থাকে এবং ধীরে ধীরে রেওয়াজ রসমের এমন এক জাল নিজেদের চারদিকে বিস্তার করে ফেললো যে, তা অবশেষে তাদের হাত পা বেঁধে ফেললো। রেওয়াজ রসমকে কুরআন জিঞ্জিরের সাথে তুলনা করে বলে দিয়েছে যে, মুহাম্মদ (সঃ) এর মিশনের একটা বড় কাজ হলো---এসব জিঞ্জির টুকরা টুকরা করে দূরে নিক্ষেপ করা, যার মধ্যে তারা নিজেদেরকে বেঁধে রেখেছে। এ কারণেই শরীয়াতে মুহাম্মদীতে ফারায়েযের একটা খুবই হালকা ও সহজ নিয়ম ঘোষণা করে বাকী সব রেওয়াজ রসমের অবসান ঘটানো হয়েছে। রমযানের ঈদ ও কুরবানির ঈদ ছাড়া আর কোনো পর্ব রাখা হয়নি। হজ্ব ছাড়া আর কোনো বাধ্যতামূলক সফর রাখা হয়নি। যাকাত ছাড়া কোনো নযর-নিয়ায বা দান-খয়রাত ফরয করা হয়নি। একটা চিরন্তন নীতিমালা ঠিক করে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহর ফরয কাজে যেভাবে কিছু জিনিস হ্রাস করার অধিকার কারো নেই এভাবে বাড়াবাড়িরও নেই কোনো অধিকার।
প্রাথমিক কালে যেসব লোক শরীয়াতে মুহাম্মদীর প্রাণসত্তাকে বুঝতো তারা কঠোরভাবে এ নীতিমালা অনুসরণ করে চলতো। তারা কোনো নতুন রেওয়াজ প্রচলিত করা হতে বিশেষভাবে বিরত থেকেছেন এবং যে জিনিস বাধ্যতামূলক রসমে পরিণত হতে যাচ্ছে বুঝতে পারতেন, সাথে সাথে তার মূল কেটে ফেলতেন। তাদের জানা ছিলো, কোনো কাজকে নেকী ও সওয়াবের কাজ মনে করে প্রথম প্রথম খুব ভালো নিয়তেই শুরু করার পর ধীরে ধীরে তা কিভাবে প্রথম সূন্নাত তারপর ওয়াজিব তারপর ফরয এবং সবচেয়ে ফরযের চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম জিনিসে পরিণত হয় এবং অঞ্জতার কারণে লোকেরা এই সাথে কিভাবে অসংখ্য খারাপ কাজকে মিশ্রিত করে একটি নিকৃষ্ট রসম বানিয়ে নেয় এবং এই প্রকারের রসম জমস হয়ে কিভাবে মানব জীবনে একটি এবং মানব জীবনের উন্নতির পথে একটি বিরাট বাধা হয়ে দাড়ায়। এজন্য প্রাথমিক কালের আলেম ও ইমামগণ শরীয়াতে কোনো বাড়তি কাজের প্রচলন যেন গড়ে উঠতে না পারে, এদিকে কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখতেন। তাঁরা বিশ্বাস করতেন, যা শরীয়াতে নেই তাকে শরঈ মর্যাদা দেয়া, অথবা যে কাজের শরীয়াতে যে মর্যাদা আছে তার চেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়াই হলো বিদায়াত এবং প্রতিটি বিদায়াতই পথভ্রষ্টতা। কিন্তু দূঃখের বিষয়! পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এদিকে চরম অমনোযোগ ও অবহেলা প্রদর্শন করা হয় এবং মুসলমানরাও ধীরে ধীরে নিজেদের মনগড়া রেওয়াজ রসমের জালে এমনভাবে আটকে যেতে লাগলো, যেভাবে দূনিয়ার অন্যান্য জাতিও ফেঁসে গিয়েছিলো। এ ক্ষতির একটি বড় কারণ হলো---পরবর্তীকালে যেসব জাতি ইসলাম গ্রহন করে তারা ইসলামেরসঠিক তা'লীম তরবিয়াত পাননি। তারা নিজেদের সাথে তাদের পুরানো জাহিলিয়াতের অনেক ধ্যান ধারণা, অনেক নিয়ম পদ্ধতি নিয়ে ইসলামের সীমায় প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শত শত বছরের রসম রেওয়াজ, পূঁজা-পার্বণ, মেলা, যাত্রা ইত্যাদি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো। এগুলো ছাড়া তাদের ধর্মীয় জীবনে কোনো মজাি ছিলো না। Shah Jalal Miazi সহজ-সরল শরীয়াতের সীমার মধ্যে এসে ঐসব পুরানো রসম রেওয়াজের বোঝা নামিয়ে ফেলা ও পুরানো জিঞ্জিরের বন্ধন কেটে প্রশান্তি লাভ করার পরবর্তে এখানে এসে তারা ঐসব বোঝা কিভাবে আবার মাথায় উঠিয়ে নেবে যা ইসলাম নামিয়ে দিয়েছিলো, ওই সব জিঞ্জির চবার পরে নেবে যা ইসলাম কাটে দিয়েছিলো, সেই চিন্তা করতে লাগলো।
সূতরাং তারা কিছু প্রাচীন জাহিলিয়াতের রসম রেওয়াজের প্রকাশ্য রূপ পরিবর্তন করে রেখে দেয়, কিছু নতুন রেওয়াজ আবিষ্কার করে, এমনকি তাদের পুরানো ধর্মের মতো ইসলামকেও রসম রেওয়াজ ও পালা পার্বণের ধর্ম বানিয়ে ছাড়লো। এ নতুন রেওয়াজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাশা'আল্লাহ বেশ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ব্যবহার করা হলো। ইসলাম মানুষের জন্য যে জীবন ব্যবস্থা ঠিক করেছে তার নীতিমালা জানার জন্য কুরআন হাদীস খুঁজে দেখা হয়নি, বরং নতুন নতুন রসম চালু করার জন্য বা প্রচীন জাহেলী রসম চালু রাখার জন্য কোনো বাহানা খুঁজে পাওয়া যায় কিনা তার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপর যদি কোথাও সামান্যতম ইংগিতও মিলে যেতো তাহলে তার উপরই একটি পাহাড়সম ইমারাত নির্মাণ করে ফেলা হয়েছে। ইসলামে পালা পার্বণের যে অভাব ছিলো তা পূরণ করতে পেরেছে এই ভেবে লোকেরা আত্মতৃপ্তি বোধ করত। অথচ তারা নিজেদের অঞ্জতার কারণে সেইসব বেড়ী পরে নিলো যা আল্লাহ ও তাঁর নবীর মাধ্যমে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন এবং তারা তাদের নিজেদের সেই জালে ফাঁসিয়ে দিলো, যাতে আটকে পড়ে দূনিয়ার কোনো জাতি কখনো আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।

 বি: দ্রঃ লেখাটি ১৯৪৭ সালের আগে "অল ইন্ডিয়া রেডিও এবং ৪৭ সালের পরে রেডিও পাকিস্তান থেকে মাওলানার (রঃ) বেশ কিছু কথিকা প্রচারিত হয়। বর্তমান "ইসলামী অনুষ্ঠানের তাৎপর্য" নামে প্রকাশিত একটি বই থেকে।
(ইসলাম প্রিয় ঈমানদারদের লেখাটি পড়া অত্যন্ত জরুরী)