ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব : মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ খন্দকার

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ইসলামী ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী আজ এক সমুজ্জ্বল বাস্তবতার নাম। সুদভিত্তিক ব্যাংকব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই নয় বরং লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, সিঙ্গাপুর, টোকিও ও টরেন্টোর মতো প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার কেন্দ্রগুলোতেও ইসলামী অর্থায়ন মডেলের উপস্থিতি বেগবান হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭৫টি দেশে ছয় শতাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকিং চালু রয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ এই সম্পদ ৫.০০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে। 
কুড়ি শতকের দ্বিতীয় ভাগে শুরু হওয়া ইসলামী ব্যাংকিং অতি অল্প সময়ের মধ্যে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বৈশ্বিক আর্থিক পরিমÐলে নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিতে সমর্থ হয়েছে। সাম্র্বতিকবিশ্বজনীন অর্থনৈতিক মন্দা ও নানা টানাপোড়েনের মাঝে চলতিধারার বহু ব্যাংক অস্তিত্ব হারালেও এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক টিকে থাকার বিশেষ শক্তি ও সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা বিশ্বের বহু আর্থিক বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে। 
আলকাস্ট (২০১২)-এর লেখক পাপ্পাশা, ইজ্জেলদিন ও ফুয়েরতেস্ব ১৯৯৫-২০১০ সময়ের মধ্যে ৪২১টি ইসলামী ও প্রচলিত ব্যাংকের ব্যর্থতার বিপত্তিগুলো নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা করেন। তারা দেখিয়েছেন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। 
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের উন্নয়ন গবেষক দলের সদস্য বেক, কান্ট ও মেরুশে (২০১০) ‘ইসলামী বনাম প্রচলিত ব্যাংকিং: ব্যবসা মডেল, দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা’শীর্ষক গবেষণার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যসাশ্রয়ী। গবেষণার মাধ্যমে তারা ইসলামী ব্যাংকগুলোর উচ্চ ‘ক্যাপিটালাইজেশন’-এর প্রমাণ পান। এই Ôক্যাপিটাল কুশন’ও উচ্চতর ‘লিকুইডিটি রিজার্ভ’-এর কারণে সঙ্কটকালে ইসলামী ব্যাংকগুলো ভালো দক্ষতা দেখাতে সক্ষম হয়।

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহাম্মদ Ôইসলামিক ফাইন্যান্সের ভবিষৎ সুদ’ শীর্ষক এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ইসলামী পদ্ধতি পৃথিবীকে কিছু দেয়ার সামর্থ্য রাখে, বিশেষ করে আর্থিক সঙ্কট, সার্বভৌম ঋণ ও আর্থিক মন্দার এই দুঃসময়ে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই শিল্প একসময় বিশ্বে দৃঢ় অবস্থান করে নেবে এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অবশ্যই এর উজ্জ্বল ভবিষৎ রয়েছে। 
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের স্থিতিশীলতা ও টেকসইযোগ্যতার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর জেতি আখতার আজিজ ও তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর দুরমাস ইলমাজ। ব্যবসাসংক্রান্ত সাংবাদিকতার সাথে জড়িত আর্থিক বিশ্লেষক ইমা ভেন্ডর (Emma Vandore) ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে সঙ্কট থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে তা নিয়ে একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও সঙ্কট থেকে ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নিরাপদ রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকিং পদ্ধতি যদি ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হতো তাহলে আমরা যে সঙ্কটময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি তা প্রত্যক্ষ করতে হতো না। 
ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নের ওপর বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব সিরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান অধ্যাপক মনজের কাহ্ফ বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো তাদের অস্তিত্বের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এবং এমন এক ব্যাংকব্যবস্থার বাস্তব রূপায়ণে সাফল্য দেখিয়েছে যা নৈতিকতার বন্ধন, জমাকারীদের সাড়া আদায় এবং একই সঙ্গে উৎপাদন ও বাস্তব বাজারের প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। 
ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার বিশ^ব্যাপী জনপ্রিয়তা ও ক্রমগতিক সাফল্য এর অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। এসব সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কতিপয় দিক এখানে তুলে ধরা হলো:
১.শরিয়াহর নীতি-আদর্শ অনুসরণ: ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রধান দিক হলো এটি শরিয়াহর নীতি-আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যাংকিং করে। আর শরিয়াহর মূল লক্ষ্যই হলো মানুষের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধন করা। এ ছাড়া ইসলামী বিশ^বীক্ষণ (worldview) ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার দার্শনিক ভিত্তি হওয়ার কারণে এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অন্তর্নিহিত শক্তি হিসেবে কাজ করে। কেননা, ইসলামের বিশ^বীক্ষণ অনুযায়ী মানুষের কর্মফল শুধু ইহজীবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরকালেও তাকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
২.লাভ-লোকসানে অংশীদার: ইসলামী ব্যাংক অংশীদারি পদ্ধতিতে আমানত গ্রহণ ও বিনিয়োগ করে। অর্থনৈতিক উঠানামার ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীগণ বেশি মুনাফা করলে ব্যাংক বেশি মুনাফা পায়। ফলে আমানতকারীদের আয়ও বেড়ে যায়। অনুরূপভাবে বিনিয়োগ গ্রাহকগণ লোকসান করলে ব্যাংকও তা বহন করে এবং আমনতকারীদেরকে তা বহন করতে হয়। ফলে লাভ-লোকসানের প্রভাব গোটা অর্থনীতির ওপর পড়ে। এ কারণে কোনো বিশেষ পক্ষ এককভাবে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে না বা সে বিপর্যয়ের শিকার হয় না। 
৩.ন্যায়বিচারমূলক আচরণ: ইসলামী অর্থায়ন পদ্ধতি উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারমূলক আচরণ করে এবং নিছক লাভকে প্রাধান্য দেয়ার পরিবর্তে সমাজের সকল মানুষের চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দেয়; যা সামাজিক উন্নয়নের সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় সাধন করে। ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থায় শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, ব্যবসায়ীর যুক্তিসঙ্গত মুনাফা অর্জনে সহায়তা করাসহ সকল অর্থনৈতিক পক্ষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়।
৪.সুদের বিলুপ্তি ঘটায়: সুদ নৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়সহ মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক আঘাত হানে এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে লÐভÐ ও ধ্বংস করে দেয়। ফলে ইসলামী ব্যাংকিং যেমন মানুষকে সুদি লেনদেন থেকে বিরত রাখে, তেমনি এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি থেকেও অর্থনীতিকে রক্ষা করে। 
৫.টাকার কারবার নয়, পণ্যের ব্যবসা: ইসলামী ব্যাংক টাকার ব্যবসা করে না; বরং পণ্যের ব্যবসায় নিয়োজিত থাকে। অর্থ ঋণ দিয়ে কৃত্রিম উৎপাদন সৃষ্টির পরিবর্তে প্রকৃত লেনদেন ও উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য ইসলাম ক্রয়বিক্রয় পদ্ধতিকে অনুমোদন করেছে। ক্রয়বিক্রয় পদ্ধতি অনুশীলনে প্রতিটি লেনদেন হয় বস্তুনিষ্ঠ ও উৎপাদনশীল। যে কারণে সমাজে কৃত্রিম অর্থ সৃষ্টির সুযোগ কমে যায় এবং আর্থিক মন্দা ও অস্থিতিশীলতার কবল থেকে ব্যক্তি ও সমাজের সম্পদ নিরাপদ হয়। 
৬.পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং: ব্যাংকিং কার্যক্রম শুধু মুনাফা দ্বারা তাড়িত হলে লোভ-লালসার বিস্তার, সামাজিক অবক্ষয় ও পরিবেশ দূষণসহ নানাবিধ কারণে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী বসবাসযোগ্যতা হারাতে পারে। তাই ইসলামী ব্যাংক শুধু মুনাফা সর্বোচ্চকরণকেই তার মূল লক্ষ্য হিসেবে গণ্য না করে people (মানুষ) ও planet (পৃথিবী)-এর কল্যাণে কাজ করে। পরিবেশবান্ধব টেকসই কার্যক্রম গ্রহণ করে ইসলামী ব্যাংক পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখা, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মুনাফা অর্জন করার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। ফলে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার অর্থ হলো মানবিক ব্যাংকিং ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে শরিক হওয়া। 
৭.মানিবিক ব্যাংকিং: ইসলামী ব্যাংক জনকল্যাণমুখী লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। ‘তেলা মাথায় তেল দেয়া’ইসলামী ব্যাংকের নীতি নয়। উচ্চবিত্ত গুটিকয়েক ব্যক্তির মধ্যে বিনিয়োগ সুবিধা সীমিত না রেখে, সহায়ক জামানতবিহীন সাধারণ মানুষ এবং দরিদ্রদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে মানবিক ব্যাংকিংয়ের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকে। 
৮.যাকাত প্রদান: ইসলামী ব্যাংক তার বিভিন্ন রিজার্ভ ও সঞ্চিতির ওপর যাকাত দেয়। ফলে ব্যাংকের লাভের কিছু অংশ গরিব মানুষের হাতে যায়। এ কারণে কার্যকর চাহিদা বাড়ে, অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, উৎপাদন বাড়ে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্য দিকে ইসলামী ব্যাংক যাকাত দেয় বলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে যাকাত প্রদানের আবহ সৃষ্টি হয়। এর দ্বারা গ্রাহকেরাও ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাকাত দানে উৎসাহিত হয়। 
৯.সামাজিক অবক্ষয় রোধ: ইসলামী ব্যাংক মদ, গাজা, বিড়ি-সিগারেটসহ নানাবিধ ক্ষতিকর খাতে বিনিয়োগ করা থেকে দূরে থাকে। একইভাবে ঘুষ, দুর্নীতি, জুয়া, ফটকাকারবারি ইত্যাদি নেতিবাচক কার্যক্রমকে নিরুৎসাহিত করে। ফলে ইসলামী ব্যাংক মানবসম্পদকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে থাকে। 
১০.ঋণবাজারের বিলুপ্তি: অংশীদারি পদ্ধতির পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক সুদভিত্তিক লেনদেনের পরিবর্তে মুনাফার ভিত্তিতে পণ্যসামগ্রী কেনাবেচা পদ্ধতিতে পুঁজি বিনিয়োগ করে। ফলে ঋণ বাজারের (Loan Market) বিলুপ্তি ঘটে এবং গোটা বাজার পুঁজি বাজারে (Capital Market) পরিণত হয়। 
১১.বিনিয়োগ আদায় সহজ: ইসলামী ব্যাংক গ্রাহককের কাছে মুনাফার ভিত্তিতে পণ্য বিক্রি করে। ফলে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যবসার পরিবর্তে অন্যত্র বিনিয়োগের অর্থ স্থানান্তর করতে পারে না। তা ছাড়া উক্ত পণ্য হাইপোথিকেশন (hypothecation) ও প্লেজ (pleadge) পদ্ধতিতে ব্যাংকের জামানতে থাকে। ফলে বিনিয়োগগ্রহীতা বিনিয়োগ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক উক্ত পণ্য বিক্রি করে অর্থ আদায় করতে পারে। এ কারণে বিনিয়োগের অর্থ অনাদায়জনিত ক্ষতি থেকে ব্যাংক ও অমানতদারগণ নিরাপদ থাকে এবং সামষ্টি অর্থনীতিতে ঝুঁকি হ্রাস পায়। 
১২.ঝুঁকি ভাগাভাগি: অংশীদারি পদ্ধতির মূলনীতি হলো, ‘ঝুঁকির সাথে লাভ এবং লাভের সাথে।’ এ নীতির আলোকে ঝুঁকি শুধু উদ্যোক্তার প্রতি বর্তায় না, পুঁজির মালিককেও তা বহন করতে হয়। এভাবে লক্ষ লক্ষ আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার লোকসান গ্রহণ করলে প্রত্যেকের ভাগে লোকসানের পরিমাণ কমই হয়, যা বহন করা প্রত্যেকের জন্য সহজ এবং কেউ দেউলিয়া হয় না। কাজেই মুনাফায় অংশীদারি পদ্ধতিকে দেউলিয়ার বিপরীতে রক্ষাকবচ হিসেবে গণ্য করা হয়। 
১৩.জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগ: প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থায় লোকসানের বোঝা ঋণগ্রহীতাকে একাই বহন করতে হয়। ফলে সমাজের জন্য কল্যাণকর হলেও কেবল ঝুঁকির কারণে উদ্যোক্তাগণ বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সাহস পায় না। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের অংশীদারি নীতির কারণে ঝুঁকির বোঝা শুধু উদ্যোক্তাকে একাই বহন করতে হয় না; বরং সকল পক্ষই তা বহন করতে বাধ্য। কাজেই এ নীতি-আদর্শের কারণে জনকল্যাণমূলক বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন সম্ভব হয়। 
১৪.দক্ষতাপূর্ণ বিনিয়োগ বরাদ্দ: প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার পূর্বনির্ধারিত হারে সুদ পাওয়ার মতো ইসলামী ব্যাংকে মুনাফা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। কোনো প্রকল্পে লাভ হলে ব্যাংকের লাভ আর লোকসান হলেও তা ব্যাংককে বহন করতে হবে। কাজেই কোনো প্রকল্পে অর্থায়ন করতে হলে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে বিনিয়োগ গ্রাহকের দক্ষতা ও প্রকল্পের উৎপাদনশীলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। এ কারণে প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার তুলনায় ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ বরাদ্দ অধিকতর দক্ষতাপূর্ণ ও উৎপাদনশীল হয়। 
১৫.বাস্তব লেনদেন: সুদের ভিত্তিতে অর্থ ঋণ দিয়ে কৃত্রিম উৎপাদন সৃষ্টির পরিবর্তে ইসলামী ব্যাংক বাস্তবে পণ্য কেনাবেচা করে। ফলে এর প্রতিটি লেনদেন হয় বস্তুনিষ্ঠ ও উৎপাদনশীল। যে কারণে সমাজে কৃত্রিম অর্থ সৃষ্টির সুযোগ অনেকটা কমে যায়। 
১৬.স্থিতিশীল ও টেকশই অর্থনীতি বিনির্মাণ: ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি লেনদেন রিয়েল বা বাস্তবভিত্তিক, বস্তুনিষ্ঠ ও সম্পদনির্ভর। ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগের অর্থ প্রস্তাবিত খাতেই ব্যবহার করতে হয়, অনুৎপাদনশীল খাতে এ অর্থ ডাইভার্ট বা স্থানান্তরের সুযোগ নেই। কাজেই ইসলামী ব্যাংকিং অর্থনীতিকে মন্দার কবল থেকে নিরাপদ করত স্থিতিশীল ও টেকশই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে।
১৭.আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: ইসলামী ব্যাংকিংয়ে শুধু আর্থিক সেবাই দেওয়া হয় না; বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হয়। কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার প্রবর্তক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থায় প্রান্তিক জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ উদ্দেশে স্বল্পোন্নত অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে সর্বোৎকৃষ্ট সেবা প্রদান, চাহিদাভিত্তিক খুচরা, এসএমই ও ক্ষুদ্র অর্থায়ন স¤প্রসারণ নিশ্চিত করা। 
১৮.সামষ্টিক সামাজি দায়বদ্ধতা: কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি আধুনিককালের হলেও ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে তা সহজাত বিষয়। সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সামনে নিয়েই ইসলামী ব্যাংক যাত্রা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংকিং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, খেলাধুলা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। 
১৯.শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি: ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থার কর্পোরেট কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যাংকের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি। এ কমিটির প্রতিনিধি ব্যাংকের বিভিন্ন সভা যেমনÑপরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি, অডিট কমিটি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি, বার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং শরিয়াহসংক্রান্ত পর্যালোচনা ও অভিমত দিয়ে থাকেন। ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রমে শরিয়াহ পরিপালনসহ ব্যাংকের সকল কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টি জোরদার হয়। 
২০.নৈতিক ব্যাংকিং: পশ্চিমা বিশ্বের নৈতিক ব্যাংকিংয়ের সাথে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের তুলনা করা হলেও ইসলামি ব্যাংকিং প্রচলিত নৈতিক ব্যাংকিং থেকে আরো বেশি নৈতিক (more ethical)। কেননা, প্রচলিত নৈতিক ব্যাংকিংয়ে সুদকে অনৈতিক গণ্য করে তা পরিহার করা হয় না। অথচ ইসলাম, ইহুদি, খ্রিষ্ট, বৌদ্ধ, হিন্দু প্রভৃতি ধর্মে সুদকে অনৈতিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এমনকি সুদ যে মানবিক বিষয় নয়; বরং শোষণের হাতিয়ার তা বিভিন্ন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ ও মনীষীর বক্তব্য থেকেও প্রমাণিত। সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টোটল, অ্যাডাম স্মিথ, কার্ল মার্কস ও কিনসের মতো বিখ্যাত পণ্ডিতগণ সুদকে সমাজ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করেছেন। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের উক্ত সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার পরও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো এরও সমালোচনা করার মতো দিক রয়েছে। খ্যাতিমান গবেষকদের দৃষ্টিতে ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা অর্জনে ইসলামী ব্যাংকিংকে যেতে হবে আরো বহু দূর, সৃষ্টি করতে হবে দক্ষ ও পেশাদার ব্যাংকার, ঘটাতে হবে পণ্যবৈচিত্র্য ও মানসম্মত সেবার উন্নয়ন। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সকল স্তরে শরিয়াহর নীতিমালা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এখন এ শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু মুনাফা দ্বারা তাড়িত হয়ে শরিয়াহ পরিপালনে শৈথিল্য দেখালে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আরো চ্যালেঞ্জ আসছে বিশ্বব্যাপী আর্থিক উদারীকরণ (liberalization), বিনিয়ন্ত্রণ (deregulation) ও বিশ্বায়ন (globalization) থেকে। এগুলো মোকাবেলায় শাক্তিশালী ভিত্তি, উচ্চতর দক্ষতা ও বিরূপ পরিবেশে টিকে থাকার শক্তি অর্জনে আগে থেকেই সচেষ্ট হতে হবে। 
ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করতে একদল শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ ও ইসলামী ব্যাংকারের প্রয়োজনীয়তা সময়ের অপরিহার্য দাবিতে পরিণত হয়েছে। এমন অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ রয়েছেন যাদের অথনীতি ও ব্যাংকিং সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই আবার অনেক ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ আছেন যারা ইসলামী শরিয়াহ সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখেন না। ইসলামী ব্যাংকব্যবস্থাকে বিশ্বজনীন আদর্শ ও কল্যাণকর ব্যবস্থারূপে প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও পেশাদার ব্যাংকারদের মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিশেষ করে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিত্য-নতুন আর্থিক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের নব জাগরণ ইসলামী ব্যাংকিংকে সমৃদ্ধ করবে। 
বিশ্বের অন্যতম শরিয়াহ স্কলার জাস্টিস তকি উসমানি বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিষয়গুলো অনেকট উপেক্ষিত। এমন অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ দেখতে পাওয়া যায়, যারা নামায-রোযা, বিবাহ-তালাকের ওপর গভীর জ্ঞান রাখলেও, আধুনিক যুগের জটিল ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত রীতিনীতি সম্পর্কে তারা খুব কম ধারণাই রাখেন। ফলে ব্যবসায়ীগণ তাদেরকে ব্যবসার মূল সমস্যা বোঝাতে পারছেন না। আলেমগণও নিজ থেকে এসব বিষয় জানার চেষ্টা করেন না। ফিকহের যেসব মূলনীতির ওপর এসব সমস্যার সমাধান দেয়া যায় সেগুলো সম্পর্কে তারা ততটা অভিজ্ঞ নন বলে তারা ব্যবসা-বাণিজ্যের বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে ব্যর্থ হন। কাজেই ব্যবসায়ীরা মনে করেন আলেমদের কাছে প্রকৃত সমাধান নেই। তাই তারা যা খুশি করেন। অথচ পূর্ববতী সময়ের আলেমগণ এসব বিষয়ে খুবই সচেতন ছিলেন। 
হানাফি মাযহাবে অন্যতম ফকিহ ইমাম মুহাম্মদ। তার নিয়ম ছিল বজারে বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে উঠাবসা করা এবং ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়া। একদিন এক ব্যক্তি তাকে বাজারে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আলেম মানুষ, কিতাব পড়া ও পড়ানো আপনার কাজ। আপনি বাজারে কেন? তিনি উত্তরে বললেন, আমি ব্যবসায়ীদের রীতিনীতি ও তাদের পরিভাষা সম্পর্কে জানতে এসেছি। কারণ এ ছাড়া সঠিক মাসয়ালা বের করা যায় না। 
ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধনে প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সমালোচনা। কিন্তু সমালোচনার ক্ষেত্রেও রয়েছে নৈতিকতা ও জবাবদিহি। ইসলামের দৃষ্টিতে সমাধান জানা না থাকলে শুধু সমস্যা উসকিয়ে দেয়া সমালোচকের কাজ নয়, তাকে প্রকৃত সমস্যার সমাধানও বলে দিতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নতুন সমস্যা ও পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই নবোদ্ভাবিত সমস্যাদির শরিয়াহসম্মত সমাধান প্রয়োজন। সময়ের পরিবর্তনে উদ্ভাবিত নতুন, কঠিন ও জটিল সমস্যাকে যদি শরিয়াহর আলোকে বাস্তবানুগ সমাধান না দেয়া হয় কিংবা সমাধান না দিয়ে নীরবতা অবলম্বন করা হয়, তাহলে ইসলামী শরিয়াহ থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই সা¤প্রতিক উদ্ভাবিত বিষয়ের সমাধান অবশ্যই দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম র.-এর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, যদি কোনো সমাধান প্রত্যাশীকে কোনো জরুরি বা প্রয়োজনীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার মাসয়ালা দিতে হয় তাহলে গবেষকের উচিত হবে তার বিকল্প পথ বলে দেয়া। 
প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থার তুলনায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বয়স একেবারেই কম। সামনে এগোতে হলে ভাঙতে হবে বহু বাধা ও প্রতিকূলতার পাহাড়। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সফলতা ও সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন কার্যকরী ও যোগ্য নেতৃত্ব, সকল পক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং গঠনমূলক দিকনির্দেশনা।
ইমেজ সূত্র : https://voiceofislam.com.bd/2018/10/31/

বুধবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯

এএফপি’র রিপোর্ট: ধর্মঘটের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০০ গার্মেন্ট শ্রমিক চাকরিচ্যুত


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে এ মাসে বেতন বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ধর্মঘটে যোগ দেন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। এক পর্যায়ে তা সহিংস হয়ে ওঠে। এ ধর্মঘটে যোগ দেয়ার কারণে নিম্ন বেতনভুক্ত এসব শ্রমিকের প্রায় ৫০০০ জনকে চাকরিচ্যুত করেছেন কারখানার মালিকরা। বিশ্বের বিভিন্ন ব্রান্ডের পোশাক সেলাই করতেন এসব শ্রমিক। মঙ্গলবার এসব তথ্য দিয়েছে পুলিশ। সারাদেশে গার্মেন্ট কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কয়েক দিনের এ ধর্মঘট, প্রতিবাদে কারখানা ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এতে ৩০০০ কোটি ডলারের এ শিল্পে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।
ঢাকার উপকণ্ঠে আশুলিয়া হলো এ শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। সেখানে বড় বড় খুচরা ক্রেতাদের জন্য পোশাক সেলাই করা হয়। সেখানে সংঘর্ষে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন।
পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগে কয়েক হাজার শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো অভিযোগ করেছে, এ শিল্পে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এখন পর্যন্ত ৪৮৯৯ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি কারখানা থেকেই বরখাস্ত করা হয়েছে কমপক্ষে ১২০০ শ্রমিককে। তাদের বেতন মাসে ৯৫ ডলার থেকে শুরু হয়ে আরো উপরে। কিন্তু শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, বরখাস্ত করা শ্রমিকের বাস্তব সংখ্যা আরো অনেক বেশি, যা ৭ হাজারের কাছাকাচিছ। এ ছাড়া আরো একশত শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেছেন, অনেক শ্রমিক কাজে ফিরতে ভয়ে আছেন। তিনি বলেন, অজ্ঞাত ৩০০০ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে পীড়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শ্রমিক কারখানায় না যাওয়াকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। 
বাংলাদেশে রয়েছে ৪৫০০ তৈরি পোশাক কারখানা। এতে কাজ করেন ৪১ লাখ শ্রমিক। চীনের পরেই এ দেশটি সারা বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে এই পোশাক বিক্রি থেকে। তাই এই শিল্প উল্লেখযোগ্য শক্তি রাখে।
শ্রমিকদের ধর্মঘট বন্ধ করতে মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ। তবে ওই ধর্মঘট মাত্র তখনই শেষ হয় যখন সরকার বেতন সামান্য বৃদ্ধি করতে রাজি হয়। এই বৃদ্ধি এতটাই সামান্য যে, কোনো কোনো শ্রমিকের জন্য তা মাসে মাত্র কয়েক সেন্ট (১০০ সেন্ট সমান এক ডলার)। সোমবার আমস্টার্ডাম ভিত্তিক শ্রমিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইনের বেন ভ্যানপেপোরস্ট্রেইটি বলেছেন, প্রকৃত সত্য হলো সাম্প্রতিক সংশোধনীর পরও বাংলাদেশের এসব শ্রমিক এখনও খুবই কম মজুরি পাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের ভীতি প্রদর্শনেেক বেছে নিয়েছে এবং তাদের যেকোনো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টাকে দমন করছে।

রবিবার, ১৭ জুন, ২০১৮

সোনালী ব্যাংকের ৭ বস্তা টাকা চুরির সময় ২ কর্মচারী হাতেনাতে আটক

এবার শবেকদরের ছুটিতে সোনালী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৭ বস্তা নতুন টাকা বের করে নেয়ার চেষ্টা করেছে ব্যাংকটির দুই কর্মচারী। তবে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসাররা টাকার বস্তাসহ ওই দুই কর্মচারীকে আটক করে।
জানা যায়, ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীরা। হঠাৎ তারা দেখতে পান সাত বস্তা নতুন টাকাসহ একটি পিকঅ্যাপ ভ্যান বের হচ্ছে। আনসারের প্রহরীরা পিকঅ্যাপ ভ্যানকে আটকান। পিকঅ্যাপ ভ্যানে থাকা দুইজনের কাছে নতুন টাকা বের করে নেয়ার বৈধ ছাড়পত্র চান। তারা প্রথমে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা। আবার বলেন, ভল্টে সমপরিমাণ পুরনো নোট রেখে নতুন টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীদের ম্যানেজ করতে পারেননি সাথে থাকা লোকজন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে টাকা আবার ভল্টে রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ে।

ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ রকম একটি ঘটনা তিনি শুনেছেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর প্রকৃত ঘটনা জানানো যাবে।জানা গেছে, এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ভল্টের চাবি ছিল সোনালী ব্যাংকের ক্যাশের যুগ্ম জিম্মাদার গোলাম মোস্তফা ও সাধারণ শাখার যুগ্ম জিম্মাদার বাবুল সিদ্দিকীর কাছে। এর মধ্যে বাবুল সিদ্দিকী কিছু দিন আগে এ শাখায় যোগ দিয়েছেন। আর গোলাম মোস্তফা আগে থেকেই এ শাখায় ছিলেন। বুধবার শবে কদরের ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ ছিল। এ সময়ে তারা ভল্ট থেকে ৭ বস্তা ২ টাকা ও ৫ টাকা নোটের নতুন টাকা পিকঅ্যাপ ভ্যানে করে বের করে নিচ্ছিলেন। কিন্তু বাদ সাধে ব্যাংকের সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকা আনসারের নিরাপত্তা প্রহরীরা।

সাধারণত ব্যাংক থেকে কোনো বস্তা বা কোনো যন্ত্রপাতি বের হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র থাকে। ওই ছাড়পত্র দেখে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যারা সংশ্লিষ্ট পণ্য ব্যাংক হতে বের হতে দেন। তাই সাত বস্তা নতুন টাকা বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা প্রহরীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দেখতে চান। কিন্তু ছাড়পত্র না থাকায় টাকাকারবারিরা নানা টালবাহানা করতে থাকে। পরে আনসারের সদস্যদের পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে নতুন টাকার বস্তা আর বের হতে দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গতকাল ব্যাংক খোলার সাথে সাথে হইচই পড়ে যায়। ব্যাংকপাড়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে সোনালী ব্যাংকের সাত বস্তা নতুন টাকা পাচারের চেষ্টার ঘটনা। সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে সোনালী ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সোনালী ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন টাকা না দিয়ে কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দেন।
বিশেষ করে ঈদকেন্দ্রিক এ তৎপরতা বেশি বেড়ে যায়। তারা ভল্টে পুরনো টাকা রেখে বস্তায় বস্তায় নতুন টাকা কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাত বস্তায় কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ছিল। এ টাকা তারা তিন লাখ টাকা থেকে চার লাখ টাকা বেশি দরে বিক্রি করেছিল কালোবাজারিদের কাছে। কিন্তু আনসার সদস্যদের সতর্কতার কারণে ও ছুটির দিন থাকায় এ যাত্রায় তারা রেহাই পায়নি। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

বুধবার, ১৩ জুন, ২০১৮

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কোনও ভ্যাট বা কর বসানো হয়নি !!


প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কোনও ভ্যাট বা কর বসানো হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার (১৩ জুন) বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এই তথ্য জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ভ্যাট বা কর বসানো হচ্ছে বলে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে সেই তথ্য সঠিক নয়।’
এনবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মুমেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর ভ্যাট বা কর বসানোর বিষয়টি গুজব। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্টেটমেন্ট হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রচারে কোনও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।’

এদিকে বিকালে সৈয়দ এ মুমেন গনমাধ্যমে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্সের উপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আরোপিত হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। দেশের বৈধ রেমিটেন্স প্রবাহ বন্ধ করে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অপপ্রয়াস হিসাবে এই প্রচারণা চালানো হতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মনে করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর আরোপিত হয় পণ্য বা সেবা সরবরাহের ওপর। বাংলাদেশের প্রবাসীরা দেশের বাইরে কঠোর শ্রমের মাধ্যমে যে সেবা দিয়ে থাকেন তার বিনিময়ে বৈদেশিক মুদ্রা আসে। এ সম্পূর্ণ কার্যক্রম মূল্য সংযোজন কর আইন- ১৯৯১ এর ধারা ৩ এর উপধারা ২(ক) মোতাবেক সেবা রফতানি হিসাবে বিবেচিত। সুতরাং এ রফতানি কার্যক্রম ভ্যাটের আওতা বহির্ভূত। অর্থাৎ রেমিটেন্স সীমা নির্বিশেষে এ খাতের ওপর কোনও ভ্যাট প্রযোজ্য নয়। তাই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে যে কোনও পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিটেন্স পাঠাতে পারেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ চ্যানেল বা হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিটেন্স পাঠাতে হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে না। তাই হুন্ডির মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হুন্ডি বা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের বিষয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছে।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮

২৫ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘১৫ মাসেই সংকটে ইসলামী ব্যাংক’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে ইসলামী ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ বার্তাঃ২৬ এপ্রিল,২০১৮:  ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এ মালিকানা বদলের পর আর্থিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে যে খবর ছাপা হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর। গ্রাহকের আস্থায় চিড় ধরার বিষয়টি অনুমান নির্ভর এবং সংকট সৃষ্টির বিষয়টিও কল্পনা প্রসূত। এ ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ের তুলনায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ে আমানত বৃদ্ধির হার ছয় গুণেরও বেশি। এর মাধ্যমে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ১০% যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ১২% দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে দেশের স্থিতিশীলতা ও উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ থাকায় ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ বেড়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দেশের মোট বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। 
এছাড়া ২০১৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে এর একটি বড় অংশই হলো এই সময়ে বিগত বছরের বিভিন্ন শিল্প যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানীর মূল্য পরিশোধ জনিত কারণে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সার আমদানী এবং বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক পন্য সংরক্ষণের মওসুমের কারণেও প্রতিবছর এসময় বিনিয়োগ বেড়ে যায় যা স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি। দেশের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমদানী নির্ভর বিনিয়োগ রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় বৈদেশিক মুদ্রার মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানী উত্তর বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। বিনিয়োগের হার সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া সময়সীমার মধ্যেই ব্যাংকের আইডিআর সমন্বয় করার কার্যকর পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে। 
২০১৮ সালে ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ২ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি নতুন হিসাব খোলা হয়েছে। আরো অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে ব্যাংকের সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে এযাবত ৯৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। গ্রাহকদের আস্থা হারানোর মত কোন ঘটনা এ ব্যাংকে ঘটেনি এবং ব্যাংকে কোন কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনাও হয়নি। ব্যাংকের বোর্ডে দ্বন্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। ব্যাংকে সুশাসন বলবৎ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সকল নিয়ম কানুন পরিপালন করেই ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে সুতরাং ব্যাংক কোন বিশেষ গ্রুপের কাছে জিম্মি হওয়ার বিষয়টি অবান্তর। 
ব্যাংকে কোন তারল্য সংকট নেই এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ইসলামী বিনিয়োগ বন্ডে ইসলামী ব্যাংকের পর্যাপ্ত তারল্য সংরক্ষিত আছে।

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

যে দুটো কারনে ইসলামী ব্যাংক থেকে সরে যেতে হলো আরাস্ তু খানকে......


বাংলাদেশ বার্তাঃমুলত দুটো কারনেই আরাস্তু খানকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ডেইলী স্টারের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ২১ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত না করায় এবং দুটো বড় কোম্পানীকে বিশাল আকারের ঋন দিতে অস্বীকার করায় আরাস্তুর চেয়ারম্যান পদটি দায়িত্ব নেয়ার এক বছর ও ৩ মাসের মাথায় শেষ হয়ে যায়।

জানা যায়, একটি অদৃশ্য মহল থেকে কয়েকমাস আগে আরাস্তুু খানের কাছে ব্যাংকের ২১ জন কর্মকর্তার একটি তালিকা যায়। বলা হয় এদের সবাইকে বরখাস্ত করতে হবে কেননা এদের সাথে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা আছে। এই তালিকায় ব্যাংকের এএমডি, ডিএমডি এবং মধ্যম সারির বেশ কিছু কর্মকর্তাও ছিলেন।

এই ২১ জনের মধ্যে একজন এএমডি, ৩ জন ডিএমডি এবং একজন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে জোর করে গত ৩ এপ্রিল পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহনও করা হয় দুদিনের মধ্যে।

কিন্তু এর পরপরই আরাস্তুু খানের উপর চাপ আরও বেড়ে যায় যাতে তালিকায় থাকা বাকি ১৬ জনকেও অনতিবিলম্বে বরখাস্ত করা হয়। সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই। কেননা আরাস্তুু খান একসাথে এত কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিতে রাজী হননি। তিনি জানিয়েছিলেন, এতগুলো সিনিয়র অফিসারকে একসাথে সরিয়ে দিলে ব্যাংক সমস্যায় পড়ে যাবে।

আরাস্তু খানের এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের একজন পরিচালক সরকারকে বোঝান যে আরাস্তুু খানকে দিয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে সরানো যাবেনা। আর তখনই আরাস্তুকে বলা হয় তিনি যাতে পদত্যাগ করেন। প্রবল এই চাপ সইতে না পেরে ১৭ এপ্রিল পদত্যাগ করেন তিনি আর সাথে সাথেই তার পদত্যাগপত্র গৃহীতও হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক নাজমুল হাসান। এর আগে নাজমুল হাসান ছিলেন স্বতন্ত্র পরিচালক। তাকে নতুন করে আরমাদা স্পিনিং মিলসের প্রতিনিধির দায়িত্ব দেয়া হয়, যেটা আগে আরাস্তুু খান নিজেই করতেন।

দ্বিতীয় যেই কারনে আরাস্তুুকে চলে যেতে হলো তাহলো তিনি বড় ঋন না দেয়ার ব্যপারে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। একটি বড় কোম্পানী (যার রিয়েল এস্টেট ও সিমেন্টের ব্যবসা আছে) ইসলামী ব্যাংকের কাছে ১৪শ কোটি টাকা ঋন চায়। কিন্তু ব্যাংকের তহবিল সংকট আছে এই অজুহাত দেখিয়ে আরাস্তু এত বড় ঋনটি দিতে অস্বীকার করেন। এর পর আরেকটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানীও ৫০০ কোটি টাকা ঋন চাইলে আরাস্তু সেটাও না করে দেন। ঐ রিয়েল এস্টেট কোম্পানীর মালিক সরকারের একজন গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তি হওয়ায় এই ঋনটি স্যাংকশন না হওয়ার বিষয়টি সরকারের উপরমহলে চলে যায় ফলে কপাল পোড়ে আরাস্তুু খানের।

আরাস্তুুকে এই বিষয়ে ফোন দেয়া হলে তিনি ঋন না দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে সিনিয়র অফিসারদের বরখাস্তের প্রসংগে তিনি কোন কথা বলেননি। তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তিনি আর কোন মন্তব্য করবেন না।

Courtesy: Ali Ahmad Mabrur

শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১৮

২০২০ সালের মধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফিরে যাবে বাংলাদেশিসহ ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক

বাংলাদেশ বার্তাঃ ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফিরে যাবে বাংলাদেশিসহ ৬ লাখ ৭০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্যাংক অব সৌদি ফ্রান্সি।
সৌদি সরকার বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে (যারা ফ্যামেলি নিয়ে থাকেন ) গত পহেলা জুলাই ২০১৭ হতে তাদের পরিচয় পত্র (আকামা) নবায়ন করতে বর্ধিত ফি নিতে শুরু করেছে। যা(প্রতি মাসে) ২০২০ সাল নাগাদ পর্যায়ক্রমে বেড়ে ৪’শ রিয়াল (ফ্যামিলি মেম্বারদের ক্ষেত্রে) । আর শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ৮'শ রিয়ালে পৌঁছাবে ।
ভিশন ২০৩০ অনুসারে সৌদি অর্থনীতিতে পণ্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের করারোপ সহ তেল রফতানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। যাতে করে সৌদি নাগরিকদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ব্যাংক অব সৌদি ফ্রান্সির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বর্তমানে সৌদি আরবে ১ কোটি ৬০ লাখ বিদেশি নাগরিক কাজ করছে। এবং প্রতি বছর ১ লাখ ৬৫ হাজার বিদেশি নাগরিক দেশটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে।এদের মধ্যে বর্তমানে ১৫ লাখের বেশী বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছে....
প্রশ্ন হলো ২০২০ সালে পরে আমরা কি পারবো এদেশে থাকতে?
আমাদের দ্বারা কি সম্ভব ১৫০০-২০০০ রিয়াল বেতনে চাকরি করে কপিলের ফায়দা দিয়ে ২০২০ সালে ১২০০০ রিয়াল দিয়ে আকামা নবায়ন করতে?

আমরা ১৫ লক্ষ প্রবাসী কি পারবো আমাদের ১৫ লক্ষ ফ্যামিলির দায়িত্ব বহন করতে?
এখনি সময় আমাদের নতুন করে কিছু ভাবার?
আমাদের দেশে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকতো
পরের দেশে পরাধীন থেকে নিজের আনন্দময় দিনগুলি শেষ করে দিতাম না । আমাদের দেশের মত কর্মঠ মানুষ বিশ্বের আর কোন দেশে নাই। আমাদের সরকারের কাছে ১৫ লক্ষ সৌদি প্রবাসির 
আকুল আবেদন রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কথা একটু কষ্ট করে ভাবুন ।
প্লিজ আমাদের মত প্রবাসীদের দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন ।
দেশের চাকা সচল রাখতে শুধু বিদেশে নয়, সঠিক সুযোগ পেলে দেশে থেকেও করা যায় ।
জনস্বার্থে:
আমরা সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী।

শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭

অমুসলিমদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ইসলামিক অর্থব্যবস্থা


বাংলাদেশ বার্তাঃ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসলামিক অর্থনীতি ঐতিহ্যগতভাবেই আধিপত্য বিস্তার করেছে। এখন বাকি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশগুলোই ইসলামিক অর্থব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

ডেয়ালগিক ডেটা অনুযায়ী, আরো সুদৃঢ় বাজার পরিস্থিতি এবং একটি উন্নত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উপলব্ধি দ্বারা উদ্দীপিত নন-মুসলিম দেশসমূহের ইসলামি ঋণ প্রদান গত তিন বছরের মধ্যে ২০১৭ সালে নতুন উচ্চতায় আরোহণ করেছে।

ইসলামিক অর্থনৈতিক পণ্য শরিয়া অথবা ইসলামি আইন মেনে চলে এবং ঝুঁকি ও মুনাফা-বণ্টন নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। শরিয়া আইনে ঋণের উপর সুদ উপার্জন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি মদ, শুয়োরের মাংস, পর্নোগ্রাফি বা জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কে আর্থিক কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করেছে।

ডেয়ালগিক ডেটা অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাইরে নন-মুসলিম দেশগুলোর সরকারি ‘সুকুক’ বা ইসলামিক বন্ডের মূল্য ২.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যেটি ২০১৬ সালের চেয়ে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি এবং ২০১৫ সালে রেকর্ডকৃত দ্বিগুনের চেয়েও ১ বিলিয়ন ডলার বেশি।

গ্লোবাল ব্যাংকিংয়ের দৃষ্টিকোন থেকে বাকি বিশ্বের জন্য অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান উৎস হিসেবে ইসলামিক ফাইন্যান্সের রূপান্তর মূলত ঋণগ্রহীতার তালিকা থেকে সহায়তা প্রাপ্ত হয়েছে; যারা সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ইসলামিক বন্ড বিক্রি করেছে।

এই তালিকায় প্রথম দিকের নন-মুসলিম প্রতিযোগীদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার। সিঙ্গাপুরকে অনুসরণ করে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য, লাক্সেমবার্গ এবং হংকং ২০১৪ সালে তাদের প্রথম সুকুক বা ইসলামিক বন্ড ইস্যু করে।

সম্প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। তাদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া এবং আইভরি কোস্টে আইন এবং কর ব্যবস্থায় পরিবর্তন করা হয়েছে; যেটি ঋণগ্রহীতাদের জন্য ইসলামিক বন্ড ইস্যুকরণ সহজ করেছে।

ইসলামিক বন্ড বিক্রির দিক থেকে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোও পিছনে নেই। মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি ‘গোল্ডম্যান স্যাচ’ এবং জেনারেল ইলেকট্রিকসের ‘জি ই ক্যাপিটাল’ গত কয়েক বছরে ইসলামিক বন্ড বিক্রি করছে।

শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২৬ নভেম্বর সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগণের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের শামিল

বাংলাদেশ বার্তাঃ আগামী ১লা ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিটের জন্য গড়ে ৩৫ পয়সা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ঘোষণার প্রতিবাদে এবং এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আজ ২৪ নভেম্বর প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। এ সিদ্ধান্ত দেশের মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগণের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের শামিল।


ভোক্তা জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সরকার ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ৩৫ পয়সা বা গড়ে শতকরা ৫.০৩ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আগামী ১লা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার যে ঘোষণা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বর্তমান সরকারের আমলে এ পর্যন্ত মোট ৮বার বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম কমছে সেখানে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কোন যুক্তি নেই। মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করার জন্যই সরকার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকারের আয় বাড়বে ১৭০০ কোটি টাকা।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের তীব্র কষাঘাতে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে। তার উপর আবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সরকার জনগণের উপর বোঝার উপর শাকের আটি চাপিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর ফলে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ও বাসা ভাড়া আরো বাড়বে এবং কৃষি ও শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। ফলে দেশের উৎপাদন ব্যাহত হবে।

বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। কাজেই এ সরকার জনগণের স্বার্থ, সুবিধা, অসুবিধা ও সুখ-দু:খের কথা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে না। সরকারের লক্ষ্য জনগণকে শোষণ করে জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে শক্তির জোরে ক্ষমতায় টিকে থাকা। এ কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী সরকারের নিকট থেকে জনগণের কোন কল্যাণ আশা করা যায় না।

অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির এ গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার দাবীতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ২৬ নভেম্বর রোববার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করছি।
ঘোষিত এ কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং দল-মত নির্বিশেষে দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

রবিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৭

শিক্ষিত বেকার ও বিদেশী শ্রমিক।


বাংলাদেশ বার্তাঃ দুনিয়ার অনেক ধরনের নিয়ম বা কেলকুলেশন আমাদের দেশে আইসা মাইর খাইয়া গেছে! যেমন ধরেন দুনিয়ার সব দেশে আপনার যত বেশি শিক্ষা থাকবে তত বেশী আপনার কাজ পাওয়া সহজ হবে বা আপনি শিক্ষিত হলে বেকার থাকার কোন সম্ভবনা নাই কিন্তু আমাদের দেশ হলো তার বিপরীত মানে আপনি ডিগ্রি ধারী হলে বেকার থাকার মারাত্মক সম্ভাবনা আছে। গবেষণা ও তথ্য উপাত্ত বলছে বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকারের হার বেশি আর তা ডিগ্রি ধারীদের বেলায় প্রায় ৫০ ভাগ!
পক্ষান্তরে বিদেশি দক্ষ শ্রমিক বছরে বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে তার মানে আমরা শিক্ষিত হয়েছি কিন্তু দক্ষতা অর্জন করতে পারি নাই। যদিও আমরা বাংলাদেশীরা বিশ্বের প্রায় ১৫৪ দেশে এক কোটি দশ লাখ মানুষ কাজ করতেছি আর বছরে ১২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছি যা দেশের মোট GDP এর ১২/১৫ শতাংশ ও দেশের দ্বিতীয় আয়ের মাধ্যম। কিন্তু তারপরেও দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার যাদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত জনবল বেশি।
দেশীয় কোম্পানি ও বহু জাতিক কোম্পানি গুলো বিদেশি শ্রমিক নিভর্র হয়ে যাচ্ছে ফলে বেকারের হার আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে তাই অতি সত্তর দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে না হলে বড় ধরনের catastrophe ঘটে যেতে পারে।
যদি তাদের শিক্ষায় সমস্যা থাকে তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে আর যদি প্রশিক্ষণের দরকার পড়ে তবে তার ব্যবস্থা করতে হবে। মোট কথা আগে দেশের জনবল দেশের কাজে লাগাতে হবে তারপরে যদি বিশেষ কাজে বিদেশি লোকবল লাগে তাও নিতে হবে। দেশে কেন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তার জন্য উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা করে সমাধান বাহির করতে হবে।
আমরা আমাদের Man Power আগে নিজের দেশে কাজে লাগাতে হবে তারপরে বিদেশে রপ্তানি করার চিন্তা করবো। আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে সল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে দেশের শিক্ষিত বেকারেরা কাজ পায়। দেশের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরো বেশী সুযোগ তৈরি করতে না পারলে বিদেশী শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে এমনটা স্বাভাবিক।

বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০১৭

হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই বাঁচার আকুতি


সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসলহারা প্রত্যন্ত গ্রাম গুলোতে ঈদের আনন্দ নেই। পরপর কয়েক বছর শিলাবৃষ্টি, অতিবর্ষন আর গেল চৈত্র মাসের বন্যার কারনে বছরে একটি মাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে না পারার ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের ঈদরে আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। পবিত্র রোজায় চরম কষ্টে দিনযাপন করে কোন রকম সংসার চালাতে তাদের কন্ঠে কেবলই শুধু বাঁচার আকুতি। সারা বছর পরিশ্রম করে গোলাঘরে ধান ভর্তি করে প্রতিবছর যারা ঈদের আনন্দে মেতে ওঠতেন, চলতি বছর ফসল ডুবির কারণে তাদের ঘরে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের আনন্দ নেই। অনেকেই ছেলে মেয়ে ও পরিবার পরিজনকে নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছেন না।

জামালগঞ্জের বৃহত্তর ফসলী এলাকা পাকনা হাওরের ফেনারবাঁক গ্রামের বাসিন্দা তিন সন্তানের জননী স্বাধীনা বেগম বলেন, বানে (বন্যায়) আমরার ঈদের খুশি নিছেগা, ধনীরাই কোন ধান পায়নাই আমরার গরীবেরতো কিচ্ছুই নাই। ঘরে কোন খাওন নাই, সরকারী কোন সাহায্যেও পাইনাই আমার ছোট-ছোট অবুঝ দুধের বাচ্চা কাচ্চা নিয়া ঊনা-উফাসে চলতাছি। ঈদ কি জিনিষ আমরার মনে নাই, জীবন বাঁনোই দায়। রোপাবালী গ্রামের স্মামী হারা ৫৫ উর্দ্ধ বয়সের রংমালা বেগম বড় আক্ষেপ করে বলেন, তার স্মামী মারা যাবার পর চরম দুর্দীনে কাটছে তার সংসার জীবন। আয় রোজগারের কোন মানুষ নেই, অন্যের ঘরে কাজ করে জীবন চলছে, সরকারী কোন সাহায্য কখনো তিনি পাননি। অভাবের কারণে তার দুই কন্যা সন্তান মেয়ের বাড়িতে রেখেছেন, ঈদের আনন্দ বলতে তাঁর কাছে কিছুই নাই বলেই চোখ মুচতে লাগলেন। উদয়পুর গ্রামের রেজুয়ান আহমদ বলেন, রোজাই রাখতাছি খুব কষ্টে আর এই বছর আমরার ঈদের খুশি নাই। আমরার ফসলতো গেছেই জৈষ্ঠ্য মাইয়া বানে গেরামের ৪৫ টা গরু মইরা আমরার এখন গোয়াল শূন্য হইছি।

সরকারে যে সাহায্য দিছে আমরার গেরামে মাত্র কয়েকজনে পাইলেও বেশীর ভাগ মানুষ এখনো পায়নি। কত কষ্টে আমরা আছি ঈদ নামের একটা দিন আছে, হাসি খুশি করমু মুখে হাসিও আয় না। ঘরে গিয়রা ছোট ভাই বোনদের মুখের দিকে চাইলে ছোকে পানি আয়। কেউরে তো নতুন জামা কাপড় কিনে দিতে পারছিনা। কেউর ঘরে ধান-চাল নাই আমরার গেরামে ঈদের আনন্দ নাই। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ সুবিধা বঞ্চিত-নিপীড়িত জনগোষ্টির কান্না আজো কেউ শোনেনা। সীমাহীন বৈষম্য আর উন্নয়ন বঞ্চিত এ অঞ্চলের মানুষগুলো ডুবে আছে অন্ধকারে। চরম অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার এ অঞ্চলের মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগই হচ্ছে জীবন সঙ্গী। এর মধ্যে পাল্লা দিয়ে মোকাবেলা করতে হচ্ছে জোতদার ইজারাদারদের শাসন।

রক্ত চক্ষু আর অন্যায় ভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে নিরিহ মানুষজন। এ ভাবেই সংকটের পর সংকটে চিরকাল দিনাতিপাত করছেন তারা। বছরের একটি সময় এ অঞ্চলের মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাদের হাতে কোন কাজ থাকে না, ফলে দেখা দেয় চরম খাদ্য সংকট। উন্নয়ন, শিক্ষা আর প্রযুক্তির আলো থেকে আজো তারা অনেক দূরে। বিশাল হাওরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষেরা এ ভাবেই যুগের পর যুগ মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন ক্ষুধা, দারিদ্র্য, রোগ-শোক আর অবহেলায়। ফসলহারা হাওরবাসীর কন্ঠে কেবলই শুধু বাঁচার আকুতি।

সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

সাত বছরে ব্যাংক থেকে ‘৩০,০০০ কোটি টাকা চুরি

গত দেড় দশকে ব্যাংকিং খাতে ৯টি বড় ধরণের আর্থিক কেলেঙ্কারি হয়েছে। আর গত ৭ বছরে ঘটা ৬টি বড় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি চুরি বা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার দুপরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে লিখিত বক্তব্যে তিনি একথা জানান।
তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে চলেছে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যতম বাধা। এ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আস্থাহীনতা ও উৎকণ্ঠা।
বখতিয়ার আহমেদ বলেন, নিকট অতীতে পুজিবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক ও ডেসটিনি কেলেঙ্কারির সাথে সাম্প্রতিক যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনা। ভবিষ্যতে এ সকল ঘটনা উত্তরণে এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা গুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
তিনি প্রবন্ধের শুরুতে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। সমস্যাগুলো হলো- ১. বিনিয়োগ না বাড়ায় ব্যাংকগুলোতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত পড়ে থাকা, ২.ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিচ্ছে তা আদায় করতে না পারা, কিংবা কাকে ঋণ দেয়া হবে তা নিয়ে সংকট তৈরি হওয়া, ৩. ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম ও জালিয়াতি, ৪. ব্যাংকগুলোর কেবল লাভের পেছনে ছোটা, ৫. বিপুল অঙ্কের খেলাপি ও মন্দ ঋণ, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে, ৬. ব্যাংকগুলোর আইটি সিস্টেম সুরক্ষিত না থাকা, ৭. মূলধন ঘাটতি, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে, ৮. আমানত সংগ্রহে অসম প্রতিযোগিতা, ৯. ব্যবস্থাপনার সংকট, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর, ১০. সরকারি এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, ১১. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সিবিএ নেতাদের দৌরাত্ম্য।
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব মির্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবু আহমেদ, সুজন নির্বাহী সদস্য জনাব আলী ইমাম মজুমদার ও ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. সাজ্জাদ জহির, জনাব নুরুল হক মজুমদার, আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন প্রমুখ।
এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে অত্যন্ত বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এ খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। কি কারণে আজ এ অবস্থা তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। দলীয়করণ ও রাজনীতি ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক এর কর্তৃত্ব ও নজরদারি অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আছে কি না সে বিষয় নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেন।’
মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা যে কম আছে তা নয়, ক্ষমতা যতটুকু আছে তার কতটুকু প্রয়োগ করছে তা বিবেচ্য বিষয়। ক্ষমতার প্রয়োগের জন্য যথাযথ ও যোগ্য লোক নিয়োগ প্রদান করতে হবে। তিনি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট নিয়মিত করা, ব্যাংকগুলো যাতে বড় ধরণের ঝুকির মধ্যে না পড়ে সেদিকে নজর রাখা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কাকে ঋণ প্রদান করা হবে সেটি বিবেচনায় আনা, ঋণ আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক এর নীতিমালা যা আছে তা আর্ন্তজাতিক মানের কিন্তু নিয়ম/নীতিমালা আমাদেরকে পালন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংকসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে আবার বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, একটা ভারসাম্য রাখতে হবে। এছাড়াও সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে নিয়োগ প্রদান করতে হবে। আর্থিক খাতের অনিয়মের জন্য বিচার করতে হবে তাহলে বারবার এরকম দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’
তিনি আরো বলেন, ‘আর্থিক খাতের মত একটি খাতে যদি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয় তাহলে তা ধ্বংস হতে বাধ্য। তিনি ঋণ প্রদান কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, সবমসময় টাকাওয়ালাদের ঋণ প্রদান করা হয়। কিন্তু তা না করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা ও মহিলাদের ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের আর্থিক খাতে বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে, আর এ অবস্থা চলতে থাকলে রিজার্ভের টাকা চুরি, বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক ও পুঁজি বাজার কেলেঙ্কারীর মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।’
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অযাচিত সব দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দু:খ প্রকাশ করে অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এর রিজার্ভ চুরির ঘটনা অতীতে কখনো ঘটেনি, অন্যান্য দেশেও এরকম ঘটেছে বলে আমার অন্তত জনা নেই। আর্থিক খাতের দুর্নীতিরোধে যাদের দায়িত্ব রয়েছে তাদের অনেকেই দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে তিনি মন্তব্য করেন। ব্যাংকিং খাতের এ হতাশাজনক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন গর্ভনর যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
ডা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে বা আর্থিক খাতে না সকল খাতেই বিচারহীনতা বিরাজ করছে। অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করছে। তবে আশার কথা যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে তারা যথাসময়ে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে।
ড. সাজ্জাদ জহির বলেন, অর্থখাতের যে পরিবর্তনগুলো সারা বিশ্বব্যাপী ঘটছে তার সাথে সঙ্গতি রেখে আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। আমাদের সেই দক্ষ জনবল নেই যারা প্রযুক্তির ওপর প্রভাব রাখে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণে যে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন তা করা হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। Diganta.net

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

সরকার অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে----ড. রেজাউল করিম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম বলেছেন, জনমত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি প্রমাণ করে সরকার জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। মূলত এই গণবিরোধী সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। তাই গণবিচ্ছিন্ন সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি আজ রাজধানীতে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ১০ নং গোলচত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ ১১নং এ গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিশে শুরা সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক আনোয়ারুর করিম, আবুল হাসান, আশরাফুল আলম, এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল, আলাউদ্দীন মোল্লা, নাসির উদ্দীন ও আব্দুস সাকী এবং ছাত্রনেতা আব্দুল আলীম প্রমূখ।

ড. রেজাউল করিম বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতার কারণেই গণদুর্ভোগ এখন চরমে ওঠেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি না পেলেও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এখন লাগামহীন। উপর্যুপরি জনগণের উপর একের পর এক করের বোঝা চাপিয়ে অনির্বাচিত সরকার নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ও কামনা-বাসনা চরিতার্থ করতে তৎপর। মূলত আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই গণদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং দেশে দুর্ভিক্ষের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মূলত অনির্বাচিত ও গণবিরোধী সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন গণদুর্ভোগ বাড়বে বৈ কমবে না। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ফ্যাসীবাদী ও স্বৈরাচারি সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে হবে। 

তিনি বলেন, দেশের গ্যাস খাত কোন লোকসানী বা অলাভজনক খাত নয়। বিগত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা প্রভূত মুনাফা করলেও সরকার কোন কারণ ছাড়াই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। এ বিষয়ে জনমত ও বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতও উপেক্ষিত হয়েছে। একদিকে সরকার রাষ্ট্রের লোকসানী খাতগুলোকে অযৌক্তিকভাবে ভর্তূকি দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে, অপরদিকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্খিতভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তোলা হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে নিম্মমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মানুষের মধ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পরবে। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গণদুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবীতে চান্দগাঁও জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ইং; গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে চান্দগাঁও থানা জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত। 
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চান্দগাঁও থানার উদ্যাগে জামায়াত নেতা আবু জাওয়াদের নেতৃত্বে অসাভাবিক, অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ নগরীর বহদ্দারহট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
 বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ইবনে হোসাইন, এস. এম. মাহমুদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। 
বক্তারা আরো বলেন, সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে ক্রমেই গণদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একের পর এক সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পরছে। সরকারের গণবিরোধীতার ধারাবাহিকতায় আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন দু’দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা নতুন করে গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে এবং দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে।
বক্তারা আরো বলেন, সরকার প্রথম ধাপে ১ মার্চ থেকে একচুলা ৭৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা, সিএনজি প্রতি ঘন মিটারে ৩৮ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে ১ চুলা ৯০০ টাকা, দুই চুলা ৯৫০ টাকা, সিএনজি গ্যাসের দাম প্রতি ঘন মিটারে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্তে জাতীয় অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছবে।

বক্তারা আরো বলেন, মূলত সরকার জনগণের কথা না ভেবে দুর্নীতি ও লুটপাটকে নির্বিঘ্ন করতেই সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বক্তারা অবিলম্বে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করতে আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী সফল করতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অধস্তন সংগঠন ও সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে এবং দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির মারাত্নক অবনতি ঘটাবে------------মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী কেন্দ্র ঘোষিত আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফল করতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অধঃস্তন সংগঠন ও সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
এক বিবৃতিতে মহানগরী উত্তর আমীর বলেন, সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তারা জনজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে ক্রমেই গণদুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। একের পর এক সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পরছে। সরকারের গণবিরোধীতার ধারাবাহিকতায় আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন দু’দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা নতুন করে গণদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে এবং দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রথম ধাপে ১ মার্চ থেকে একচুলা ৭৫০ টাকা, দুই চুলা ৮০০ টাকা, সিএনজি প্রতি ঘন মিটারে ৩৮ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে ১ চুলা ৯০০ টাকা, দুই চুলা ৯৫০ টাকা, সিএনজি গ্যাসের দাম প্রতি ঘন মিটারে ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্তে জাতীয় অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছবে।

তিনি আরও বলেন, মূলত সরকার জনগণের কথা না ভেবে দুর্নীতি ও লুটপাটকে নির্বিঘœ করতেই সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। তিনি অবলম্বে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করতে আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারির শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী সফল করতে ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের অধস্তন সংগঠন ও সকল স্তরের নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ২৮ ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা জামায়াতে ইসলামীর

অন্যায় ও অযৌক্তিভাবে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার ২৮ ফেব্রুয়ারী দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ২৬ফেব্রুয়ারী প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন,“সরকার আগামী ১ মার্চ ও ১ জুন দু’দফায় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক।
সরকার প্রথম ধাপে ১ মার্চ থেকে একচুলা ৭৫০ টাকা, দুইচুলা ৮০০ টাকা, সিএনজি প্রতি ঘন মিটারে ৩৮ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে ১ চুলা ৯০০টাকা, দুইচুলা ৯৫০ টাকা, সিএনজি গ্যাসের দাম প্রতি ঘন মিটারে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেশের দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের প্রতি মরার উপর খাড়ার ঘায়ের শামিল। সরকারের এ অন্যায় সিদ্ধান্তে দেশের গোটা অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দরিদ্র ও সাধারণ জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে জনগণ বিক্ষুব্ধ।
সরকারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এ অন্যায় ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করছি।
ঘোষিত এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখা ও দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মানিকগঞ্জে ইসলামী ব্যাংক হাসপতালে কনসালটেন্টদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত: একসাথে এতো সৎ মানুষের সমন্বয় আমি জীবনে দেখিনি : আরাস্তু খান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেছেন, আমি অনেক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু এতো সৎ লোকের সাথে আমি জীবনে পূর্বে কখনো কাজ করার সুযোগ পাইনি এক সাথে এতো সৎ মানুষের সমন্বয় দেখে আমি অভিভূত
আজ শুক্রবার সকালে মানিকগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের কনসালটেন্টদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন
তিনি বলেন, মানুষ সম্পূর্ণ সততার সাথে হাসিমুখে, তুলনামূলকভাবে কম বেতনে এভাবে তখনই কাজ করতে পারে যখন মানুষ কমিটেড থাকে। আমি দেখেছি ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী সৎ। তারা এতোটা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে বলেই আজ ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে আবার মানুষকে বেশি সেবা দিয়েছে। মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কি করতে হয় তা ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা দের্খিয়ে দিয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে জঙ্গি অর্থায়নের কোনো প্রমাণ নেই
আমি ব্যাংকের স্টাফদের বেতন বাড়ানোর কথা বলেছি। অনেক ব্যাংকের এমডি পযর্ন্ত বেশি বেতন পেলে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের একজন কর্মচারীও বেতনের আশায় প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যায়নি। আমি এতো সৎ মানুষের সাথে কাজ করতে পেরে সত্যিই গর্বিত।
তিনি সময় মানিকগঞ্জে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালের নিজস্ব জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন
হাসপাতালের নিজস্ব জায়গার অনুষ্ঠিত হাসপাতালের চেয়ারম্যান এস এম রইস উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, ডা: প্রফেসার মো: সিরাজ উদ্দিন, ডা: প্রফেসার মোহাম্মদ আলী, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের হাসপাতাল সেকশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল, হাসপাতালের এমডি সরকার মোহাম্মাদ মাসুদউর রহমান, পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ জামাল কোম্পানী, অ্যাড. পরিচালক মো: আওলাদ হোসেন, সুপার মো: আবুল কালাম আযাদ প্রমুখ
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সরকারের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মানুষের যে সেবা করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। বিত্তশালী মানুষদের শুধু অর্থের জন্যে নয়, মানুষের সেবা করার জন্যে এমন মহৎ কাজে এগিয়ে আসতে হবে

সভাপতির বক্তব্যে এস এম রইস উদ্দীন বলেন, আমরা হাসপাতাল পরিচালনা করছি অর্থ উর্পাজনের জন্যে নয়, মানুষের সেবা করার জন্যে। আমাদের আর্দশ অব্যাহত থাকবে। আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। Daily Naya Diganta