ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

চান্দগাঁও থানা জামায়াতের সদস্য (রুকন) বৈঠকে নেতৃবৃন্দ কথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকায় জনগন উদ্বিগ্ন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চান্দগাঁও থানার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকায় জনগন উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হল সকল দলের অংশ গ্রহনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করা এবং রুটিন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু কথিত   অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সকল দলের অংশ গ্রহনে নয়, বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, একের পর এক বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানী করে যাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ সকল দলের অংশ গ্রহনে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরি করতে  জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী দলের সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি ও বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষের দাবী অনুযায়ী নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ প্রসাশনের পক্ষপাত মূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রসাশন বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহবান জানান।নেতৃবৃন্দ চত্তগ্রামসহ সারাদেশে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের অব্যাহত গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ গনতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিরোধী দলের কর্মসূচীতে বাধা প্রদান না করার, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চালু করার জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের অব্যাহত গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ করার দাবী জানান। 
২৯ নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৭.০০ টায় অস্থায়ী কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের মজলিশে শুরার সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমীর মুহাম্মদ জয়নুল আবেদিন চৌধুরী জামশেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত রুকন বৈঠকে সেক্রেটারি মুহাম্মদ কলিম উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি জে. উদ্দিন, মুহাম্মদ নুরুল মস্তফা হেলালী, মুহাম্মদ আলতাফ উদ্দিন ভুঁইয়া, অধ্যাপক এ. এম. পাটোয়ারী, প্রচার সেক্রেটারি শেখ মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমখ বক্তব্য রাখেন।  


পুরো টাকা না পেয়ে এরশাদের নির্বাচন বর্জনের হুমকি!

পুরো টাকা না পেয়ে এরশাদের নির্বাচন বর্জনের হুমকি!
৩০ নভেম্বর, ২০১৩ বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এমনই দাবি করেছেন জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ।
নির্বাচনকে ঘিরে এরশাদ মনোনয়ন বাণিজ্যের শীর্ষে অবস্থান করবেন বলেও দাবি করেন তিনি। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেন এনটিভি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে কাজী জাফর এ সব কথা বলেন। 
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখানে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে। কিছু হয়তো পরিশোধ হয়েছে, কিছু এখনো পরিশোধ না হওয়ার কারণে তিনি মাঝে মাঝে গর্জন করছেন যে, এভাবে চললে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব হবে না বা নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।’  জাতীয় পার্টির প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে এরশাদ হয়তো শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করবেন। ২৯৯ আসনে প্রার্থী দেয়ার যোগ্যতা জাতীয় পার্টির নেই তা বুঝতে হবে। প্রার্থীর যোগ্যতা তিনি দেখেন না। যেকোনো জনপ্রিয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে তিনি অন্যকে মনোনয়ন দিতে পারেন বলে মানুষ বিশ্বাস করে।’
জাতীয় পার্টির ১৮ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাউন্সিলে এরশাদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সুরাহা করা হবে।’ কাউন্সিলে কারা থাকছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী জাফর বলেন, ‘এরশাদের দেয়া প্রার্থীর মধ্যে তো আছেই। এছাড়া ২২-২৩ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য তারা সবাই কাল আছেন। ভাইস-চেয়ারম্যানের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০-১১ জন। যুগ্ম-মহাসচিবের সংখ্যা ছিল চারজন।’
সাক্ষাতকারের শেষ দিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরশাদের রাজনৈতিক জীবনের সমাধি যতদিন করতে না পারবো এবং যতদিন রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এরশাদকে চিরতরে নির্বাসিত করতে না পারবো, ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে।’   কারা কারা থাকছেন তার জাতীয় পার্টিতে, সেটা দেখার জন্যে কাজী জাফর সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেন।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারে যোগদান এবং এ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে এরশাদ এবং কাজী জাফর পরস্পরকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করেন। নিজেকে চেয়ারম্যান এবং গোলাম মসিহকে মহাসচিব ঘোষণা করে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল ডাকেন তিনি।

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন রিজভী !

অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন রিজভী ! গুম হয়ে যেতে .... এমনকি খুনও হয়ে যেতে পারতেন রিজভী ! যেভাবে আটক হলেন রিজভী , তাতে মনে হয় সরকার রিজভীকে খুন করতেই চেয়েছিলেন । রাত তিনটার সময় গেট দিয়ে প্রবেশ না করে মই দিয়ে দোতলায় উঠে দরজার তালা ভেঙ্গে , সাংবাধিকদের রুমে বন্ধি করে গায়েব করতে চেয়েছিলেন রিজভীকে ।
তখন কার্যালয়ে অবস্থানরত এক সাংবাদিক মিডিয়াকে জানান , রাত সাড়ে তিনটার কিছু পরে তালাভাঙ্গার শব্দ হয়। এসময় আমিসহ কয়েকজন তিন তলায় জেগে ছিলাম। আমি ও গাজি টিভির রিপোর্টার গাউসুল আজম বিপু তখন শব্দের উৎস জানার জন্য দুই তালায় যাবার সাথে সাথে কয়েকজন সাদা পোশাকধারী পুলিশ আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। পরিচয় জেনে নিশ্চিত হবার পর আমাদের মোবাইল নিয়ে দুইতলার একটি কক্ষে আটক করে রাখে। সোয়া চারটার দিকে কক্ষের জানালা দিয়ে দেখতে পাই রিজভী আহমেদ ও বেলালকে নিয়ে সাদা পোশাকের পুলিশ সিড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে।
আজ আরেকটা ইলিয়াস আলী হারিয়ে যেতো আমাদের কাছ থেকে । রিজভীকে গুম করে সরকার বিএনপির অফিস নেতৃত্ব শূন্য করার চেষ্টা করছেন ।

তিন দিন ধরে নিখোঁজ তুরাগ থানা জামায়াতকর্মী

 তিন দিন ধরে নিখোঁজ তুরাগ থানা জামায়াতকর্মী। নিখোঁজের তিন দিন পরও এখনো সন্ধান মেলেনি তুরাগ থানার জামায়াতকর্মী মেহেদী হাসান ফারুকীর (৩৩)। শুক্রবার তুরাগ থানা জামায়াতের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর তুরাগ থানার কর্মী মেহেদী হাসান ফারুকী গত বুধবার অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। বিজ্ঞপ্তিতে অনতিবিলম্বে তাকে উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। নিখোঁজ মেহেদী হাসান ফারুকী নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাটেশ্বরী গ্রামের আবদুল মুকিতের ছেলে।

পাবনা ১ আসনে বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মনোনয়ন আমাকে রক্তাক্ত করেছে-Anjan Roy

 আমার কিছুই যায় আসে না, পাবনার কোন আসনে কে মনোনয়ন পেলো তাতে? কিন্তু আমার বিস্ময় প্রকাশের স্বাধীনতা থেকেই বলছি, পাবনা ১ আসনে বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মনোনয়ন আমাকে রক্তাক্ত করেছে, কারন এই লোকটি আমার জেঠূ জয়ন্ত রায়ের পাবনার বাড়ী দখলকারীদের নীরব মদদ দিয়েছে- বহুবার অনুনয় বিনয় করেও তার কাছে আমি ন্যায় বিচার পাই নি। আমি কখনো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ করিনি। কিন্তু যে দলটি সর্বদা সংখ্যালঘু নির্যাতন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলবে। সেই দলের পাবনা জেলা কার্যালয় বানানো হবে মুক্তিযুদ্ধে খুন হয়ে যাওয়া একজনের বাড়ী দখল করে- এটি কোন ন্যায় বিচার? আর আমি আদালতের কাছে গিয়ে, হাইকোর্টের রুল পাওয়ার পরেও বিচার পাবো না? অন্যদিকে যারা মদদ দেবেন দখলদারদের তারাই মনোনয়ন পেয়ে হাসবেন? আমি জানি অনেকেই আহত হবেন আমার এই প্রতিক্রিয়ায়, তারপেরেও সত্য অনেক সময়েই নিষ্ঠুর। সত্যি কথা বলা ছাড়া আমার সামনে দ্বিতীয় বিকল্প কখনো ছিলো না- এখনো নাই। # যা লিখছি তা আমার আবেগ থেকেই লিখছি। দয়া করে কোন পক্ষের দলকানা বক্তব্যে আমার রক্তপাত বাড়াবেন না।

কে এই সুজাতা সিং ? এই ভয়ংকর নারী ও তার পরিবারের অজানা তথ্য সম্পর্কে জানুনঃ

কে এই সুজাতা সিং ? এই ভয়ংকর নারী ও তার পরিবারের অজানা তথ্য সম্পর্কে জানুনঃ
বাংলাদেশে আগামি ৪ই ডিসেম্বর আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। ভারতের সাথে বর্তমান ভারত আম্বা লীগের দহরম মহরম এর কারণে খুব স্বাভাবিক মনে হচ্ছে ব্যাপারটা তাই না ? কিন্তু এর পিছনে আছে অনেক বিশাল এক ইতিহাস। আসুন জেনে নেই সেই ইতিহাস। সুজাতা সিং জন্ম নেন ১৯৫৪ সালে, তার পিতা হচ্ছেন টিভি রাজেস্বর। এই টিভি রাজেস্বর ছিলেন ভারতের আভ্যন্তরীণ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এর প্রধান বা ডাইরেক্টর ইন্দিরা গান্ধীর আমলে । কংগ্রেসের খুব কাছের লোক এই রাজেস্বর। তবে তার সুনামের মুল কারণ হচ্ছে অপারেশন সিকিমের একজন মুল রুপকার তিনি। রাজেস্বর ১৯৬২-৬৭ সালে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো স্পেশাল ডিউটি পালন করেন। আপনারা জানেন ১৯৭৫ এ সিকিম ভারতের অংশ হয়। কিন্তু এর বীজ বপন হয় ১৯৬৩ সালেই। এই রাজেস্বর এর চালেই সিকিমের রাজা নামগয়াল ১৯৬৩ সালে হোপ কুক নামে এক 'র' এর এজেন্ট মার্কিনী মহিলাকে বিয়ে করেন। রাজা নামগয়ালের পরবর্তী অজনপ্রিয়তার অন্যতম মুল কারণ ছিল হোপ কুক। সুযোগ বুঝে ১৯৮০ সালে তালাকও দেয় এই মহিলা। এই ঘৃণ্য চালের মুল হোতা ছিল সুজাতার পিতা রাজেস্বর। এর প্রতিদানে ১৯৮৫-৮৯ সালে সেই সিকিম এর গভর্নর করা হয় তাকে। পশ্চিম বঙ্গের গভর্নরও করা হয় ১৯৮৯-৯০ তে, যেসময় কলকাতা রায়টের বীজ বপন হয়, যা ৯২ তে কার্যকর করা হয়। ২০১২ সালে পদ্মবিভূষণ পদক পায় এই ঝানু এজেন্ট। এইতো গেল তার পিতার অপকর্মের কথা। এবার আসি মেয়ের কর্মজীবনে। সুজাতা ১৯৭৬ এ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়। তখন পিতা ছিল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এর জয়েন্ট ডাইরেক্টর। তাছাড়া মাত্র আগের বছরেই সিকিম অপারেশন সাকসেসফুল। তাই সুজাতা পায় ফরেন অফিসে চাকরি। ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফরেন অফিসে কাজ করার পাশাপাশি 'র' এর সেলগুলার সাথে ভালো লিয়াজ রাখে সুজাতা। তার সবচেয়ে বড় অর্জন ধরা হয় অস্ট্রেলিয়ায় থাকা কালীন ইউরেনিয়াম চুক্তি করা। কিন্তু সেই চুক্তি অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর আর কোনও দেশের সাথে না করলেও কেন ঠিকই বাধ্য হয়েছিল ভারতের সাথে করতে? সেটাও ছিল 'র' এরই মাস্টারপ্ল্যান। 'র' এর এজেন্টরাই ২০০৭-০৯ এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াতে ভারতীয়দের প্রতি অস্ট্রেলিয়দের ক্ষেপীয়ে তোলে যার ফলে বোকা অস্ট্রেলিয়রা তাদের পাতা ফাঁদে ধরা দেয় এবং কয়েক জায়গায় ভারতীয়দের হত্যাও করে। সেই সুযোগে সুজাতার নেতৃত্বে ভারত অস্ট্রেলিয়াকে ব্ল্যাকমেইল করে বাগিয়ে নেয় ইউরেনিয়াম চুক্তি। বাপ মেয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে এহেন পন্থা নেই যা তারা অবলম্বন করেছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সুজাতার স্বামী সঞ্জয় সিংহও ফরেন অফিসের সাবেক আমলা। এই সুজাতার এই ক্রান্তিকালীন সময়ে বাংলাদেশে আসার সাথে সাথে হাসিনাকে কি কুপরামর্শ দিবে, সেই ব্যাপারে সবাইকে সজাগ করে দিন এই নিউজটি শেয়ার করে। কারণ মানুষের সচেতনতাই ভেস্তে দিবে কোনও ষড়যন্ত্ ।

চাঁদপুরে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, আটক ৩

চাঁদপুরে অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ, আটক ৩। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আঠারো দলের ডাকা ৭১ ঘণ্টা অবরোধে শনিবার সকাল চাঁদপুরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছ অবরোধকারীদের সাথে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে শহরের মঠখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঢিলে আহত হয়েছেন দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত কয়েকজন

নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বিতর্কিত নাম শামীম ওসমান। খুন-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগের গুণে তার বংশের পরিচয় ছাপিয়ে উঠেছে। মারো-ধরো-কাটো ধরনের কথা বলতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি -কাউকেই পাত্তা দেন না তিনি। হুমকি-ধামকি দিয়ে সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেন নিয়মিতই।
নিজ এলাকার বাইরেও সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমান এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসন থেকে বাদ পড়েছেন নাগরিক সমাজে অপেক্ষাকৃত বেশি জনপ্রিয় বর্তমান সংসদ সদস্য কবরী সরোয়ার।  
চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। নিজ হাতে মানুষ পেটান। সাংবাদিক পিটিয়েও বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, মাদকব্যবসাসহ বহু অভিযোগ রয়েছে। নবম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা ছিলো।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তা থেকে অব্যহতি পান। এরপরও বির্তক বদির পিছু ছাড়েনি। একের পর এক বির্তকিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যেমে দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছেন। দশম সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনিও মনোনয়ন পেয়েছেন।  শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। এই প্রার্থী তালিকায় উঠে এসেছে এমনই কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির নাম। সন্ত্রাস নৈরাজ্য থেকে শুরু করে ব্যর্থতার নানা ঘটনায় তারা অভিযুক্ত। 
 দখল সন্ত্রাসের অভিযোগে একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে লিজ নেয়া জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর কাছে তার গডফাদার 'খ্যাতি' আছে। আছে সন্ত্রাসের অভিযোগ। তিনি এবারও এই আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।
নরসিংদীর নিজ এলাকায় চরম বির্তকিত হয়েছেন রাজিউদ্দিন রাজু। জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডের সাথে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। লোকমানের পরিবার ও সমর্থকরা সরাসরি রাজিউদ্দিন রাজুর নাম বলেছেন। আর এই নিয়েই রাজু’র বির্তকিত উপখ্যান ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। এলাকার মানুষেরও ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন তিনি। নরসিংদী-৫ আসন থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতন থেকে শুরু করে এলাকায় নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিকবার বির্তকিত হয়েছেন কামাল মজুমদার। এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নিতীর অভিযোগও রয়েছে। সেই কামাল মজুমদার এবারও সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা-১৫ আসন থেকে।
পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন। এক এগারোর সময় শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার পক্ষে ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনাকে তখন তিনি ‘শেষ হাসিনা’ বলে ডাকতেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় রয়েছে ব্যাপক জামায়াতপ্রীতি ও স্বজন প্রীতিরঅভিযোগ। দলীয় কর্মীদের বড় একটি অংশ তার বিরুদ্ধে সরাসরি মাঠে রয়েছেন। নানা বির্তকিত কাজের সাথেও তার নাম উঠে আসে। নবম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও এবার তিনি দলীয় টিকিট পেয়েছেন। 
তরুণ সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধরী শাওনের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলা সম্পকির্ত বিতর্ক। যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ ‌ছিল তার বিরুদ্ধে। পরে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে শাওনকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়। তবে বির্তক থেকে রেহাই পাননি। এ নিয়ে তার সংসদীয় এলাকায়ও রয়েছে নানা সমালোচনা। এবারও তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

আগুন দিচ্ছে কারা? মানুষ মারছে কারা?

শুরু হল বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচী। ব্যাপারটা অনেকটা হরতালের মত মনে হলেও, বাস্তবে কিছুমাত্রায় বেশি তীব্র আন্দোলন। প্রতিটি জেলা, প্রতিটি শহর জনগণ অবরুদ্ধ করে রাখবে। চলতে দেয়া হবে না সরকারি অফিস, ব্যাংক-লেনদেন। প্রদর্শন করা হবে সরকারের প্রতি অনাস্থা আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী।
অবরোধকে সামনে রেখে সরকারও নেমে গেছে রাস্তায়। সরকারদলীয় সন্ত্রাসীলীগ আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী পুলিশের সাদা পোশাকের টীম কাজে নেমে পড়েছে হাতে পেট্রোল আর গান পাউডার নিয়ে। সন্ত্রাসীলীগের দানবগুলো বাগে পেলে ছাড়বে না কোন বাস-গাড়ি এমনকি অবরুদ্ধ সিএনজির প্যাসেঞ্জারকেও। অট্টহাসি হেসে হেসে পেট্রোল কিবা গান পাউডার ছিটিয়ে জ্বালিয়ে দেবে আরও কিছু প্রাণ আর ফোনে গদগদ হয়ে বলবে: “স্যার, আইজকাও ৫ জন।” তার কাজ শেষ।
সাংবাদিক হাজির হবার আগেই তাকে ফোন দিয়ে জানানো হবে “৫ জন অগ্নিদগ্ধ, বিরোধী দল খারাপ” এইটা ছাপেন। প্রতিদিন সহিংসতার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ, জ্বলছে গাড়ি, জ্বলছে জীবন।
বিরোধীদলের আন্দোলনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করতে উন্মাদ সরকার একের পর এক প্রাণনাশ করেই যাচ্ছে। এই হত্যাযজ্ঞ চালাতে এতটুকু মন কাঁপেনা হাসিনার, এই এতটুকুও না।
প্রশ্ন: হরতাল কিংবা অবরোধে অগ্নিসংযোগ এবং মানুষ হত্যা করা হলে কারা বেশি লাভবান হন? হরতালকারী নাকি সরকার?

রাবিতে আওয়ামীপন্থি কর্মচারীর রগ কর্তন: প্রতিবাদ মিছিলে ককটেল হামলা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি এক কর্মচারীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ডান হাতের রগ ও বাম হাতের আঙুল কেটে দেয়া হয়। বুধবার রাত ১১টার দিকে নগরীর বিনোদপুর বাজারের হানুফার মোড়ে ঘটনাটি ঘটে। আহত সেলিম রেজা খান সেলু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী। তিনি মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক এবং ক্যাম্পাসে আওয়ামীপন্থি কর্মচারী হিসেবে পরিচিত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাদের ওপর ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে ছাত্রলীগের ৩-৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নগরীর মতিহার থানার ওসি আবদুল মজিদ বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেলিম রেজা সেলু বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি হানুফার মোড়ে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত তার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার মাথায় ও হাতে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রামেক হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, সেলু বর্তমানে ৩০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে হাতের রগ কেটে দিয়েছে। তবে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেন, ঘটনার জন্য শিবিরের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়। স্থানীয় কোন্দল থেকে তার ওপর হামলা হতে পারে। (তথ্য সূত্রঃ ফেসবুক)

যশোরে জামায়াত নেতা বুলবুলকে গুলি করে হত্যা




 যশোরে জামায়াত নেতা বুলবুলকে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারে ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার: কক্সবাজারে চকরিয়া উপজেলায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিকসহ আরো ৩৫ জন। নিহত বিএনপি নেতা জাকির হোসেন চকরিয়া পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ছিলেন।  জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী বলেন, “আওয়ামী ক্যাডারদের মিছিল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ  সভাপতি জাফর আলম নিজেই গুলি করেন। এতে জাকির হোসেন নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত হন।” এ সময় ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মী ও জানাজায় অংশ নেয়া জনতা ৫০টিরও বেশি গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেল তিনটায় চকরিয়া বাস স্টেশনে জানাজা শেষে যুবদল নেতা আবদুল হালিমের লাশ দাফনের জন্য মিছিল করতে করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন পরিবারের সদস্য এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করলে পুলিশ অতর্কিত লাশবাহী ওই মিছিলে গুলি করে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা এলোপাতাড়ি গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে।
সংঘর্ষ শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলমের নেতৃত্বে সশস্ত্র মিছিল বের করলে সংঘর্ষ ত্রিমুখী রূপ নেয়। ওই মিছিল থেকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে শহর প্রদক্ষিণ করে।
বিরোধী জোটের অবরোধ চলাকালে গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে চকরিয়া উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বানিয়ারছড়া পয়েন্ট থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। পরে তার ওপর পুলিশি নির্যাতন হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি ও পরিবারের সদস্যরা। আহত অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ২৭ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে চকরিয়ার ডুলাহাজারা মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান। আহত সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশি হামলার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ তার ওপর হামলা চালায়। তার দাবি, চকরিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কল্লোল চৌধুরীর নেতৃত্বে তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার মাথা, পা ও গায়ে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়। ওই সময় সাংবাদিক জহিরের ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়। তিনি জানান, ওই সময় বেসরকারি টিভি চ্যানেল 
এনটিভির একটি ক্যামেরাও কেড়ে নেয়া হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, জানাজা শেষে ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীরা চিরিঙ্গা স্টেশনে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থেই রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
সিলেটের আলাপ.কম/

সীতাকুণ্ডে ফের পুলিশি তাণ্ডব! ৩ শিশু গুলিবিদ্ধ

সীতাকুণ্ডে ফের পুলিশি তাণ্ডব! ৩ শিশু গুলিবিদ্ধ; মহিলাদের ঝাড়ু মিছিল। গতকাল সকাল ১১টায় ৩য় দিনের মতো অবরোধ চলাকালে হঠাৎ করে পুলিশ পৌরসভাস্থ এয়াকুবনগর গ্রামে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি ছররা গুলি বর্ষণ করে। এতে ৩ শিশুছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে প্রবেশ করে মহিলাদেরকে গুলির ভয় দেখায়। তাদের সঙ্গে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। গ্রামের মৌলভী মোহাম্মদুর রহমান (রহ.)-এর মাজারে পুলিশ জুতা নিয়ে প্রবেশ করে সেখানে থাকা ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী এবং বিশ্রাম নেয়ার বৈঠকখানা ভাঙচুর করে। পুলিশের তাণ্ডবের ফলে মহিলারা গ্রামের রাস্তায় ও রেল লাইনে অবস্থান নিয়ে ঝাড়ু মিছিল এবং পুলিশের দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন। গুলিবিদ্ধ শিশুরা হলো রাবেয়া সুলতানা (১২) ৬ষ্ঠ শ্রেণী, মোবারক হোসেন (১২) পঞ্চম শ্রেণী, আবদুল আহমেদ (১০) তৃতীয় শ্রেণী।

খুন-গুমকারীদের পুরস্কৃত করা হলো: আইভী

‘রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় নারায়ণগঞ্জে যারা খুন, গুম, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন করছে তাদেরকেই সরকার পুরস্কার হিসেবে মনোনয়ন দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শুক্রবার বিকেলে শীতলক্ষ্যা স্বাধীনতা চত্বরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) এর যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী সহিংসতা প্রতিরোধ  দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী নগর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইভী বলেন, 
নারায়ণগঞ্জের সকল মা বোনদের অত্যাচার জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আপনাদের পাশে যদি কেউ না থাকে আপনি একাই  প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে যখন আপনাদের ডাক দিব তখন আমার ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন। নারায়ণগঞ্জের সবাই একত্রিত থাকলেই সব জল্লাদদের শায়েস্তা করা সম্ভব হবে।

উৎসঃ ঢাকাটাইমস২৪

শেখ হাসিনা মনে করেছেন ভারতের সাথে তাঁর রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, শেখ হাসিনা মনে করেছেন ভারতের সাথে তাঁর রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। কিন্তু আমি ভারত ঘুরে দেখে আসলাম এন্ট্রি খাতায় ওনার নাম নেই। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ভারত আপনাকে বুদ্ধি দিতে পারে কিন্তু নির্বাচনে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী দিবস উপলক্ষে প্রত্যন্ত অঞ্চল   বক্তাবলীর লক্ষ্মীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত স্মরণ সভায় একথা বলেন তিনি। বক্তাবলী পরগণা বাইশ ময়ালী ফরায়েজী জামাতের যুগ্ম মহাসচিব সরদার মো. হাবিবুল্লার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, ড. মো. ওসমান গণি, জয়নুল আবেদীন পকির, আমির হোসেন প্রধান, আব্দুর রহমান, এম এ মতিন প্রমূখ। কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, সারাজীবন তলাবিহীন নৌকার পিছনে কাজ করেছি। কিছুদিন হলো গামছার ছায়ায় এসেছি।

আওয়ামীলীগের হাতেই লেখা আছে দেশ ও জাতির করুণ সর্বনাশ!

বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদেরকে জেলে রেখে এবং তাদের নামে মিথ্যা মামলা ও হয়রানি অব্যাহত রেখে আওয়ামীলীগ নিজেদের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করছে। গণতন্ত্র এবং জনগণের দাবীর প্রতি এর চেয়ে নিন্দনীয় প্রহসন আর কী হতে পারে? বিরোধীজোটবিহীন নির্বাচনের জন্য সরকারের এসব খেয়ালীপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে বিশ্বনেতৃত্বও। বিশ্বমিডিয়ায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের কালো চেহারা এবং উত্তেজিত জনতার চেহারা প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন দুর্যোগ আগে আর কখনো আসেনি। তবে কি আওয়ামীলীগের হাতেই লেখা আছে দেশ ও জাতির করুণ সর্বনাশ!

শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

রাজধানীতে ধসে পড়েছে চারতলা ভবন

রাজধানীর পুরান ঢাকার কলতাবাজার এলাকায় রঘুনাথ দাস লেনে নির্মাণাধীন একটি চারতলা ভবন ধসে পড়েছে। শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছিল। শুক্রবার সকালে হঠাৎ এর কাঠামো ধসে পড়ে। তবে এই সময় সেখানে কেউ ছিলেন না। স্থানীয়রা জানান, ভবন নির্মাণের আগে ঠিকমতো পাইলিং করা হয়নি বলে তাদের ধারণা। তাছাড়া এক মাসের মধ্যে চারতলার ছাদ ঢালাই দেয়া হয়েছে। তাই হয়তো নির্মাণাধীন ভবনটি ধসে পড়তে পারে।

আবারো কাল থেকে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ

শনিবার ভোর ৬ টা থেকে আবারো ৭২ ঘণ্টার সড়ক-নৌ ও রেলপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।  বিরোধী দলের ওপর জুলুম নির্যাতন একতরফা তফসিল ঘোষণা, শীর্ষ নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার ও তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার ভোর ৬ টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার সড়ক-নৌ অবরোধ

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই

সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধানের ভিত্তিতে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখার এবং সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। বাংলাদেশের সরকারের রূপরেখা ও সরকার নিয়োগ সম্পর্কে সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। বর্তমান মহাজোট সরকার কর্তৃক সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচনের এ পদ্ধতি পৃথিবীর আর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী নির্বাচনের ময়দান সমতল করার যে আবশ্যকতা, মহাজোট সরকার কর্তৃক সংশোধিত এ সংবিধানের মাধ্যমে সেটা উপেক্ষিত হয়েছে। কেউ মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সমস্ত ক্ষমতা ইস্তেমাল করবেন, সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, আর কেউ তার কিছুই করতে পারবেন না এটা ন্যায় ও সমতার খেলাপ। সংবিধান ও নির্বাচনের বিধি-বিধানে এমন ব্যবস্থা এবং নিশ্চয়তা থাকতে হবে, যাতে প্রার্থীদের মধ্যে অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে কোনোরূপ বৈষম্য না থাকে। সমতল ময়দানে সবাই নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন, জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন তারাই সরকার গঠন করবেন, ক্ষমতায় যাবেন। গণতন্ত্রে ক্ষমতার পালাবদলের এটাই উপায় ও নিয়ম। বর্তমান সংবিধানে যে ব্যবস্থা রয়েছে তাতে নির্বাচনে সমতল ময়দানের নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই।  
নবম জাতীয় সংসদের কথিত শেষ অধিবেশনের মাধ্যমে, সংবিধানে নির্বাচনকালীন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা সংযোজনের কিংবা নির্বাচনের ময়দান সমতল করার সুযোগ অনিশ্চিত হয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে বলেছেন, অধিবেশন শেষ। এখন নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। বাংলার মাটিতে সেই নির্বাচন অবশ্যই হবে। সেই নির্বাচন বানচাল করার ক্ষমতা কারোরই নেই। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, রাষ্ট্রপতি তাকে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির পরামর্শেই তিনি ছোট পরিসরের নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করেছেন। এ সরকার শুধু রুটিন কাজ করবে।   
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কালীন সরকার গঠনের যে কথা ঘোষণা করেছেন তাতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এ সরকার পরিচালনার দায়িত্ব তিনি সংবিধানের কোনো ধারার আলোকে, কিভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে প্রাপ্ত হলেন? ‘নির্বাচনকালীন সরকার’, ‘সর্বদলীয় সরকার’, ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার’ এর কোনোটিরই অস্তিত্ব বর্তমান সংবিধানে নেই। এসব সরকারের কথা বলে আওয়ামী লীগ মূলত সংবিধান লংঘনের ভূমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কোনো দায়িত্ব যদি তাকে রাষ্ট্রপতি দিয়ে থাকেন তাহলে তা সংবিধানের ভিত্তিতেই হতে হবে। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান নিছক আলাপ-আলোচনার বিষয় নয়। এটি একটি সাংবিধানিক বিষয়। সংসদ অধিবেশনের সমাপণী ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর ঐ ঘোষণার মাধ্যমেই দেশবাসী জানতে পারলো দেশে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হয়েছে যা পরবর্তী নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী কোন বিধির আলোকে, কিভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে এ অনুমতি গ্রহণ করলেন, রাষ্ট্রপতিই বা কিভাবে তা প্রদান করলেন তা কেউ জানতে পারলো না। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী এ সরকার গঠন ও তা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের বিষয়টি অবশ্যই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হতে হবে। এরূপ সরকার গঠনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সকল মন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতির গেজেট নোটিফিকেশনও থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে কখন, কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় এরকম অনুমতি দিলেন কিংবা প্রধানমন্ত্রীই বা কখন পদত্যাগ করলেন অদ্যাবধি কেউ তা জানতে পারলো না। 
  সংবিধানের ৫৭(৩) এবং ৫৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে সরকার পরিচালনার অনুমতি দানের বিধান সংযুক্ত আছে। প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়া ব্যতীত এ বিধানের সুবিধা নেয়া যাবে না। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে যে সুবিধা দেয়া আছে তা পেতে হলে সর্বাগ্রে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু আমরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো ঘটনা সম্পর্কে কোনো গণমাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে অদ্যাবধি জানতে পারিনি। সংবিধানের ৫৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরকার পরিচালনার অনুমতি অবশ্যই প্রমাণিত হতে হবে। কারণ এ ধরনের কোনো অন্তর্বর্তী বা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের অনুমতির বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের নিছক কোনো বিষয় নয়। এটা সাংবিধানিক সরকার গঠনের আইনী বাধ্যবাধকতার বিধান। সে কারণেই রাষ্টপ্রতি নামে যেকোনো আদেশকে অবশ্যই সংবিধানের ৫৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘সত্যায়িত বা প্রমাণিকৃত’ হতে হবে বলে সংবিধানে বাধ্যবাধকতা প্রদান করা হয়েছে।  
  সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্য নিয়ে এক ধূ¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সংসদে ঘোষণার পূর্বে কোথায় রাষ্ট্রপতি তাকে এ দায়িত্ব অর্পণ করলেন তা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের কেউ অবহিত নয়। তিনি ২০ নভেম্বর সংসদে বললেন, রাষ্ট্রপতি তাকে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। তার ২ দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন। ধরে নেয়া যায় রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক ঘটনাটি সরকার কিংবা বঙ্গভবন থেকে জানানো হলো না কেন? পরদিন রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করেন নির্বাচন কমিশনের পুরো টিম। তারা রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। সেদিনও নির্বাচন কমিশনকে এ কথাটি জানানো হয়নি। আরো বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, নির্বাচন কমিশনের সাক্ষাতের ২ ঘণ্টা পর বিরোধী দলীয় নেতাসহ ১৮ দলীয় জোটের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা রাষ্ট্রপতির নিকট সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন। রাষ্ট্রপতি তাদেরকে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি ১৮ দলীয় জোটের দাবি বিবেচনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করবেন। অথচ: মহামান্য রাষ্ট্রপতি তখনো জানেন না তার একদিন আগেই তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার অনুমতি দিয়ে রেখেছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব গণমাধ্যমে সরবরাহকৃত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে, রাষ্ট্রপতির নিকট উত্থাপিত দাবিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের নির্দেশ দিয়ে থাকলে রাষ্ট্রপতি কি করে ১৮ দলীয় জোটের দাবি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে পারেন? 
 রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ সময়ে একাধিক প্রেস রিলিজ ও বক্তব্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার কোনো প্রেস রিলিজ বা গেজেট নোটিফিকেশন অথবা প্রজ্ঞাপন জাতির দৃষ্টিগোচর হয়নি। সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার অনুমতি প্রাপ্তির বিষয়টি গোটা জাতির নিকট এক রহস্যজনক ঘটনা। সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধানাবলী ও নির্দেশিকা উপেক্ষা করে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রাপ্তির বিষয়টি এক গোলোক ধাঁধার সৃষ্টি করেছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অন্ধকারে রেখে স্বঘোষিতভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে নির্দেশ পাওয়ার কথা বলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া অবলম্বন আওয়ামী লীগের একটি নতুন চমক ছাড়া আর কিছু নয়। দেশবাসীর বুঝতে বাকী নেই, প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য রাষ্ট্রপতির ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের একটি অভিনব নাটক জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। যিনি সংবিধান নিয়ে এ ধরনের দূরভিসন্ধিমূলক ও রহস্যজনক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন তার অধীনে নির্বাচন কিছুতেই অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 
 নবম জাতীয় সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রাপ্তির বায়বীয় ঘোষণা দিয়ে সরকার একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী ও বন্ধু রাষ্ট্রবর্গও সকল দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথা বলে আসছেন। 
 সংঘাত, সহিংসতা, একগুঁয়েমিতা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও অশান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরেপীয় ইউনিয়ন, চীন- সবাই বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষের মতই সবদলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে একদলীয় নির্বাচনের পথে হাঁটছে। সংবিধান, গণতন্ত্র সবই গণআকাক্সার ফসল। কিন্তু সেদিকে আওয়ামী লীগ ভ্রুক্ষেপ করছে না। যে কোনোভাবে ক্ষমতায় থাকার বা পুনরায় ক্ষমতায় আসার নেশা আওয়ামী লীগকে অস্থির করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ সরকার চায় না ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। প্রধানমন্ত্রী ও তার পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যগণ ও দলীয় নেতৃবৃন্দ যে ভাষায় কথা বলছেন তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। তারা সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পথ পরিহার করে একদলীয় নির্বাচনের কথাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যক্ত করছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজ একদলীয় নির্বাচনের ব্যাপারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তারা স্পষ্টতই বলেছেন, একদলীয় নির্বাচন বাংলাদেশকে সংঘাত ও সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিবে। 
 নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। বহিঃবিশ্বেও অনুরূপ উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ বিরাজমান। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস্, লন্ডনের প্রভাবশালী সাময়িকী দি ইকনোমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর একগুঁয়েমিতা ও হটকারিতার কারণে রাজনৈতিক সঙ্কট ক্রমশই ঘনীভূত হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় বর্তমান মহাজোট সরকার কর্তৃক সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভাকে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ অথবা যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন এর কোনো অস্তিত্ব সংবিধানে নেই, জনগণের নিকট এর কোন গ্রহণযোগ্যতাও নেই। এই অভিনব সরকার গঠনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে দমন করে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার নীল নকশা প্রণয়ন করেছে মাত্র। এ ধরনের জবরদস্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটে নিক্ষেপ করবে। 
 ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতি যে আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দীর্ঘ ৪২ বছর পরেও আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, মানুষের জান-মাল এবং সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মূল কারণ হলো ক্ষমতার লোভ, লালসা ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অভিপ্রায়। রাজনীতিবিদদের অদূরদর্শিতা, অপরিণামদর্শী ও স্বার্থবাদী ভূমিকা দেশে সংঘাতমূখর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের ভালো-মন্দ বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে না। দলীয় স্বার্থবাদীতা আবহমান কাল থেকে চলে আসা আমাদের সামাজিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে নি:শেষ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্মান, মর্যাদা নিয়ে বিশ্ব দরবারে কিভাবে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে সে চিন্তা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত মহলে নেই।  
বিশ্বায়নের এই যুগে তেল, গ্যাস, ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যেসব দেশ ও সংস্থা সরাসরি অবদান রাখেন তারা তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অবরোধের সম্মুখীন হতে পারে। 
 বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশ তার বিশাল জনশক্তির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম। বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চল, সমুদ্র বন্দর ও পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতো। কিন্তু আওয়ামী লীগের অপরিণামদর্শী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিরোধী দলকে সমূলে উৎপাটন করার অসৎ রাজনৈতিক মনোবৃত্তি দেশকে দীর্ঘমেয়াদী সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। 
 আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার মোহ দেশকে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করেছে। প্রতিনিয়তই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রাণ দিচ্ছে নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষ। পুলিশ বাহিনীকে পেশাদারিত্বের পরিবর্তে দলীয় উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবিধান স্বীকৃত মিছিল, মিটিং, সমাবেশের আয়োজন করলেই পুলিশ সেখানে গুলি চালাচ্ছে। পুলিশ ফৌজদারী অপরাধ দমনের চাইতে রাজনৈতিক দমন, পীড়নে ব্যস্ত। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন, চোখ তুলে ফেলা, গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়াসহ নির্যাতনের বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে। রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। সরকারের নিবর্তনমূলক ভূমিকায় জনজীবন আজ চরমভাবে বিপর্যস্ত। সর্বত্রই অস্থিরতা।   
 কোনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল বা নেতা জাতিকে অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করতে পারেন না। আওয়ামী লীগের নিকট দেশ, দেশের মানুষ ও জনগণের উন্নতি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি বড় কথা নয়। ক্ষমতাই তাদের মুখ্য। ক্ষমতায় যাওয়ার নেশা তাদেরকে অস্থির করে তুলেছে।

ছাত্রজনতার তীব্র আন্দোলনে অবৈধ আওয়ামী সরকারের পতন ঘন্টা বেঁজে উঠেছে- শামসুল ইসলাম এমপি

সর্বগ্রাসী দূর্নীতি, নাস্তিকদের লালন, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও আলেমদের উপর নির্যাতন, গণহত্যা, দেশ ও ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রের কারণে বহু আগেই এই আওয়ামী সরকার থেকে দেশের জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে র‌্যাব পুলিশ বিজিবিকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। সংলাপ নাটক, বিশ্ববেহায়া নাটক, অবৈধ মন্ত্রিসভা ও আজ্ঞাবহ তফসীল ঘোষণা করে সরকার দেশের গণতন্ত্রমণা ও শান্তিকামী মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। কিন্তু অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতা কখনো পূরণ হতে দেবেনা। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা রাজপথে নেমে এসেছে। দেশ এখন দেশ ও ইসলামপ্রিয় ছাত্রজনতার দখলে। ছাত্রজনতার তীব্র আন্দোলনে অবৈধ এই আওয়ামী সরকারের পতন ঘন্টা বেঁজে উঠেছে।

নেতাকর্মীদের মুক্তি দেন .. খালেদার হুশিয়ারী...

গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি চেয়ে সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,স্বৈরশাসকদের মতো আচরণ করবেন না। এমন আচরণ করলে তার অনুরূপ জবাবদেওয়া হবে। বিবৃতিতে নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের ও আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

আমার প্রার্থীদের বোমা ও আগুনের মুখে ফেলে দিতে পারিনা : এরশাদ

‘আমার প্রার্থীরা ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবে কিনা, ভোট সুষ্ঠু হবে কি না জানি না। আমি আমার প্রার্থীদের বোমা ও আগুনের মুখে ফেলে দিতে পারিনা।’ এ ভাবেই মন্তব্য করলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সময় এরশাদ জানান, পরিবেশ না থাকলে তার পক্ষে নির্বাচনে যাওয়া সম্ভব না।  এরশাদ প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মনোনয়ন দাখিল করবেন কিন্তু আমার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবেন। আমি যদি নির্দেশ দেই তাহলেই মাঠে নামবেন। এ সময় এরশাদ রাষ্ট্রপতিকে সম্মান দেখিয়ে ওনার আসনে কোনো প্রার্থী দেবেননা বলে জানান।

কক্সবাজারে শবযাত্রায় পুলিশের গুলি! ১ জন নিহত

পুলিশী নির্যাতনে নিহত চকরিয়া উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিমের জানাযা শেষে লাশ কাঁধে নিয়ে মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেই মিছিলে অতর্কিতভাবে গুলি চালায় পুলিশ। মুহুর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিএনপি কর্মী জাকির। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। মূহুর্তের মধ্যেই চকরিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরাও। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ এখনো পর্যন্ত চলছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অর্ধ সত্য এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে

 জনগণের আন্দোলন যতই বেগবান হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে সেই আন্দোলন সম্পর্কে জনগণের মনে সংশয় সৃষ্টির জন্য অর্ধ সত্য এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে। তেমনি একটি সংবাদ হলো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মধ্যে বৈঠকের খবর। এই বৈঠক নিয়ে সরকারি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যদি বৈঠক হয়ে থাকে তাহলে সেই বৈঠকের এজেন্ডা কি ছিল? মির্জা ফখরুল কি সেখানে চা বিস্কুট খাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন? যদি কোনো বৈঠক হয়েই থাকে তাহলে নিশ্চয় বিরোধী দলের তরফ থেকে সরকারের কাছে এক বা একাধিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাবসমূহ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান কি? সরকার কি সেগুলো মেনে নিয়েছে? নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে? এ ব্যপারে সরকারের তরফ থেকে কিছুই বলা হচ্ছে না। উল্টো চলমান দুর্বার গণআন্দোলনে ভাটা সৃষ্টি করার জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলছেন যে, মির্জা ফখরুল এবং সৈয়দ আশরাফের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

অন্য দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকীব উদ্দিন আহমেদও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ৭টি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর তিনি বলেছেন যে, সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে যদি কোনো অপোষ মীমাংসা বা সমঝোতা হয় তাহলে নির্বাচনী তফসিলের পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। আন্দোলনের গতি এবং জনগণের মারমুখী মনোভাব দেখে নির্বাচন কমিশন ভয় পেয়েছে। তাই তারা এখন অসংলগ্ন কথা বলছেন। যদি নির্বাচনী তফসিলের পুনর্বিন্যাসের কোনো সুযোগ থেকেই থাকে তা হলে এত তাড়াহুড়ো করে তফসিল ঘোষণা করা হলো কেন? একদিন আগেই তো তিনি বলেছিলেন যে, সোমবার দিন তফসিল নিয়ে বৈঠক করবেন। এর পর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন যে, কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে। অথচ তার পরদিনই সকাল থেকেই রেডিও এবং টেলিভিশনের ক্রু এবং ক্যামেরাম্যানরা তার বক্তৃতা রেকর্ড করার জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে হাজির হন। দুপুরের মধ্যেই রকীব উদ্দীনের ভাষণ রেকর্ড করা হয়। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, রোববার সন্ধ্যায় তিনি যখন বলেছিলেন যে, আরো ২/৪ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হবে তখন তার এই বক্তব্যটি দেশের বড় কর্তাদের পছন্দ হয়নি। তখন গ্রীন রুম থেকে হুকুম আসে যে যত দ্রুত সম্ভব তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সেই হুকমেরই পরিণতি হলো সোমবার সাত তাড়াতাড়ি করে তফসিল ঘোষণা করা। (তথ্যসূত্রঃ ফেসবুক)

অনুমতি না পাওয়ায় শনিবারের সমাবেশ বাতিল

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা নয়াপল্টনে কোনো স্থানেই সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভ সমাবেশ বাতিল করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তবে এদিন দেশের সব থানা ও উপজেলা পর্যায়ের এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিরোধী জোটের অবরোধ চলাকালে হামলা মামলা ও হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল ১৮ দল।
শুক্রবার রাতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সংঘাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে সরকারের প্রতি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি 'র আহবান

সরকারের সকল প্রকার দমন-পীড়ন, গ্রেফতার-নির্যাতন উপেক্ষা করে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে নির্দলীয় সরকারের দাবীতে ডাকা অবরোধ জনগণ সর্বাত্মকভাবে সফল করেছে। তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচীতে স্বত:স্ফুর্ত অংশ গ্রহণ করে জনগণ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিলকে ঘৃনা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফ্যাসিষ্ট সরকার জনগণের আন্দোলনকে দমন করার জন্য বিরোধীদলের শান্তিপূর্ণ অবরোধে দলীয় ক্যাডার আর পুলিশ দিয়ে হামলা আর গুলি চালিয়ে নিরপরাধ ২১ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। সরকারের পেটুয়া বাহিনীর হামলায় আহত হয়েছে বিরোধীদলের সহস্রাধিক নেতাকর্মী। সম্পুর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে কয়েকশ নেতাকর্মীকে। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছে আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছে তাদের সুস্থতা কামনার সাথে সাথে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি সরকারের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।
দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে কোন নির্বাচন জনগন হতে দেবে না। জনগণ জীবন দিয়ে হলেও সরকারের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। নির্দলীয় সরকারের দাবী মেনে নিয়ে সৃষ্ট সংঘাতের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

আতঙ্কিত পুলিশ

আবু সালেহ আকন
আতঙ্কে পুলিশ। অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যরাও এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছেন। বিশেষ বিশেষ জেলার পুলিশ সদস্যদেরও মনোবল আগের মতো চাঙ্গা নেই। পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্দেশ রয়েছে যে করেই হোক রাজধানীকে বিরোধী দলের আন্দোলন-বিক্ষোভ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এতে জান যায় যাক। এক দিকে চাকরি হারানোর ভয়, অপরদিকে কখন বিরোধী জোটের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হয়। সব মিলিয়ে দোটানায় পুলিশ সদস্যরা। কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে পুলিশের দায়িত্ব পালনে কিছুটা ব্যতিক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে।

গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় মির্জা ফখরুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শাহবাগে গতকাল গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মির্জা আব্বাস, দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, বিএনপি নেতা আমাউল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, জুয়েল ভুঁইয়া, ওবায়দুল হক নাসির, মাহিদুল ইসলাম হিরু, মাসুদ রানা, হুমায়ুন কবির, সাইফুল আলম নিরব, মামুন হাসান এবং জামায়াতের পল্টন থানার আমির শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বাদি হয়ে এই মামলাটি করেন। রমনা বিভাগীয় পুলিশের উপকমিশনার মারুফ হাসান সরদার এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/২৯নভেম্বর ২০১৩/১৬.০২/সাই

আন্দোলনের কর্মসূচি আসছে

বিরোধী দল অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ধাপে ধাপে কর্মসূচি দিচ্ছে। একবারেই সবচেয়ে কঠোর কর্মসূচিতে ঝাঁপ না দিয়ে ধীরে ধীরে তারা পর্যাক্রমে কর্মসূচিকে কঠোর থেকে কঠোরতর করছে। এই কর্মসূচি প্রণয়নে তারা অত্যন্ত পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ১ম ও ২য় সারির সমস্ত নেতা কারারুদ্ধ। তৃতীয় সারিরও অনেকে কারারুদ্ধ। ছাত্রশিবিরের অবস্থাও একই রকম। যারা এখনও গ্রেফতার হননি তারা পলাতক বা অত্মগোপন অবস্থায় আছেন। বিএনপির স্ট্যাডিং কমিটির ৪ জন শীর্ষ নেতাসহ শতশত নেতা ও কর্মী কারাগারে। হাজার হাজার কর্মী আত্মগোপনে। তার পরেও অবরোধ কর্মসূচি সফল হয়েছে। এর কারণ হলো জনগণ আন্দোলনে শরিক হয়েছেন।

আগামী ২ ডিসেম্বর মনোনয়পত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। স্বাভাবিকভাবেই এই দিন হরতাল বা অবরোধ কর্মসূচি দেয়া হবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সব দিন বিরোধী দলের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচন প্রতিহত করতে চাইলে এ সব দিনে কঠোরতর কর্মসূচি দিতে হবে। কিছুক্ষণ আগেই বলেছি যে, গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটি হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের আন্দোলন। এটি কবে শেষ হবে কেউ তা বলতে পারছেন না। সরকার যদি বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্য কোন সমঝোতায় না আসে তাহলে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন চলবে। নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য যে যে কর্মসূচি দেয়া প্রয়োজন সেই সেই কর্মসূচি দেয়া হবে। গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার গণঅভ্যুত্থানের পদধ্বনি শোনা গেছে। যতই দিন যাবে ততই সেই গণঅভ্যুত্থান সমগ্র দেশকে গ্রাস করবে।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশ-হেফাজত সংঘর্ষ, আহত ১০


মুন্সীগঞ্জে পুলিশ ও হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০জন আহত হয়েছে। এ সময় চার হেফাজত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শহরের পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুরের পুরাতন ফেরীঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজ শেষে হেফাজত কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, পুলিশ-প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা পুরাতন ফেরীঘাট সংলগ্ন জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চায়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে মিছিলে বাধা দেয়।

জরুরী। নিজে জানুন। অন্যদেরকে জানান

জরুরী। নিজে জানুন। অন্যদেরকে জানান। বিরোধী দলকে ফাঁসাতে বাসে আগুন দিচ্ছে রাষ্ট্র-বিরোধী শক্তি। সরকার এদের না ধরে, বিরোধী দলের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। কিন্তু মারা যাচ্ছে নিরিহ মানুষ। বাসের আগুনের বিপদ থেকে বাঁচতে নীচের কাজ গুলো করুনঃ ১- বাসে উঠেই দরজার কাছে বসা হেল্পার সহ ২-৩ জন যাত্রী মিলে দায়িত্ব নিন পরবর্তী প্যাসেঞ্জার উঠার সময় ব্যাগ চেক করার। দলবদ্ধ ভাবে এই কাজ করতে থাকুন। সন্দেহভাজন বোতল, পাউডার, তেল, দেখলেই চিৎকার করে অন্যদের সাহায্য চান। ২- বাসে উঠেই সামনে, পিছনে, ডানে, ও বামের একজন করে যাত্রীকে দায়িত্ব দিন সজাগ দৃষ্টি রাখতে রাস্তার লোকজনের উপর। বাসের হেল্পার ও যাত্রীরা একে অপরের সাথে কথা বলুন, সকলকে সতর্ক রাখুন। ২- সব সময় সাথে বড় বোতলে পানি রাখুন। এই পানি খাবেন না, জমিয়ে রাখুন বিপদের জন্যে। আগুন লাগলে যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি মুখে, চোখে, মাথায়, ও হাতে পানি ঢেলে তারপরে দৌড় দিন। এতে আগুনের উত্তাপ কম লাগবে, টিস্যু ড্যামেজ কম হবে। আল্লাহ সহায় হলে, ভেজা চামড়া পুড়বার আগেই পালাতে পারবেন। ৩- ফুলহাতা কাপড় পড়ুন। সুতির মোটা কাপড়ে আগুন ধরতে সময় বেশি লাগে সিল্কের কাপরের চাইতে। ৪- সবাই কাঁধের ব্যাগ ব্যবহার করুন। হেলমেট কিংবা টিনের বালটি ব্যাগে নিয়ে উঠতে পারেন । আগুন লাগলে বালতি বা হেলমেট কিংবা কাঁধের ব্যাগের ভিতরে যতদূর সম্ভব চোখ খোলা রেখে মাথা ঢুকিয়ে দৌড় দিলে মাথার বড় অংশ ও চোখ রক্ষা পাবে আগুনের আঁচ থেকে। ৪০-৬০ সেকেন্ডের জন্যে নিরাপদ থাকলেই বেড়িয়ে পড়তে পারবেন। ৫- সাথে ছোট হাতুড়ি কিংবা লহার দন্ড রাখুন। গ্লাস ভাংতে কাজে দিবে। ৬- সানগ্লাস ব্যাবহার করতে পারেন বাসে বসে থাকার সময়। হঠাত আগুন লাগলে চোখ বাঁচাবে। ৭- সজাগ থাকুন, বাসের জানালা বন্ধ রাখুন। এখন শীতকাল, তাই জানালা বন্ধ রাখতে খুব বেশি কষ্ট নাও হতে পারে। ৮- জানালার পাশে বসলে, কাঁধের ব্যাগ মাথা ও জানালার কাচের মাঝামাঝি দিয়ে রাখতে পারেন। রাস্তা থেকে কিছু ছুড়লে, সরাসরি মাথায় বা মুখে লাগবে না। আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা করুন। জালেম ও অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করুন। রাষ্ট্র-বিরোধী বাসে আগুন লাগানোর সময় ধরা পড়লে নিজেরা উত্তম মধ্যম দিয়ে বুঝার চেস্টা করুন এরা বাংলাদেশী কিনা। বাংলায় কোন বিশেষ টান আছে কিনা খেয়াল করুন।

আওয়ামীলগের আমলনামা

১৯৯১-৯৬ আমলে আওয়ামী লীগ মোট হরতাল ডেকেছিল ১৭৩ দিন।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে আওয়ামী লীগ এবং জামাতের যুগপৎ কর্মসূচী কিছু রেকর্ড নিম্নরূপ: ১৯৯৪ সাল : ২৬ এপ্রিল হরতাল, ১০ সেপ্টেম্বর অবরোধ, ১১, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর হরতাল, ২৭ সেপ্টেম্বর অবরোধ ৩০ নভেম্বর অবরোধ, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর হরতাল, ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ, ২৯ ডিসেম্বর অবরোধ। ১৯৯৫ সাল : ২, ৩ ও ৪ জানুয়ারি হরতাল। ১৯ জানুয়ারি অবরোধ। ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি হরতাল। ১২ ও ১৩ মার্চ লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল। ২৮ মার্চ ঢাকা অবরোধ। ৯ এপ্রিল ৫ বিভাগে হরতাল। ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল। ৬ সেপ্টেম্বর সকাল- সন্ধ্যা হরতাল। ১৬, ১৭, ১৮ সেপ্টেম্বর লাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল। ৭ এবং ৮ অক্টোবর পাঁচ বিভাগে লাগাতার ৩২ ঘণ্টা হরতাল। ১৬, ১৭, ১৮ এবং ১৯ অক্টোবর লাগাতার ৯৬ ঘণ্টা হরতাল। ৬ নভেম্বর ঢাকা অবরোধ।১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।৯, ১০ ও ১১ ডিসেম্বর লাগাতার ৭২ ঘণ্টা হরতাল। ১৭ ডিসেম্বর সকাল- সন্ধ্যা হরতাল। ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী অবরোধ। ১৯৯৬ সাল : ৩ ও ৪ জানুয়ারি লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল। ৮ ও ৯ জানুয়ারি লাগাতার ৪৮ ঘণ্টা হরতাল। ১৭ জানুয়ারি সকাল- সন্ধ্যা হরতাল। ২৪ জানুয়ারি সিলেটে ১১ ঘণ্টা হরতাল। ২৭ জানুয়ারি খুলনায় সকাল- সন্ধ্যা হরতাল। ২৮ জানুয়ারি খুলনায় অর্ধদিবস হরতাল। ২৯ জানুয়ারি ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হরতাল। ৩ ফেব্রুয়ারি অর্ধদিবস হরতাল। ৭ ফেব্রুয়ারি ফেনীতে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্তহরতাল। ৮ ফেব্রুয়ারি ফেনীতে হরতাল।১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে হরতাল। ১১ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জে হরতাল। ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অবরোধ। ১৪, ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল। ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি লাগাতার অসহযোগ। ৯ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত লাগাতার ২২ দিনঅসহযোগ।

শাহবাগের বাসে অগ্নিসংযোগঃ অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য


আজকে সন্ধ্যার সময় শাহবাগ ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউটের বাস পুড়ানোর ঘটনার তদন্তে সাংঘাতিক কিছু তথ্য পেয়েছে যেড ফোর্স। আমাদের কয়েকজন ডিএমসি এবং ঘটনাস্থলে যেয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন।
বিহঙ্গ পরিবহনের বাসটি গুলিস্তান থেকে মিরপুরের দিকে যাচ্ছিল। মত্স্য ভবন থেকে যাত্রী নামিয়ে শাহবাগ মোড়ে যাওয়ার আগেই শিশুপার্কের কাছে কয়েক যুবক পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। গেটের কাছেই সেটি বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ির ভেতরে আগুন ধরে যায়। এই অবস্থায় চালক গাড়ি চালিয়ে সামনে এগুনোর চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজনের সঙ্গে ধাক্কা খায়।এসময় ভিতরেও তরল জাতীয় দাহ্য পদার্থ দেখেন যাত্রীরা।

বাসে আনুমানিক ৩০ জন যাত্রী ছিল। প্রেসক্লাবের সামনে থেকে দুই-তিন জন যুবক বাসে উঠে। তাদের হাতে প্লাষ্টিকের বোতল ও একটি পুঁটলা ছিল। বাসটি শিশুপার্কের সামনে আসামাত্র বিকট একটি শব্দে গেটের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। এক যুবক বাসের মধ্যে তখন পেট্রোল ঢেলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতেই আগুন ধরে যায়। তবে বাস হেলপার রফিকুল ইসলাম জানান, চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এই সময় গেটের কাছে বিস্ফোরণের পর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। প্রথমে চালক মাহবুব টের পাননি। পরে চিৎকার শুনে বাস থামিয়ে ফেলেন তিনি। তার অবস্থাও বেশি ভালো না বলে জানান হেলপার।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন জানান, শিশুপার্কের সামনে তারা হঠাৎ করেই বাসের সামনে আগুন দেখতে পান। সেই আগুন ক্রমশ ভেতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার লাইটপোস্ট ভেঙে সড়ক বিভাজকের ওপর উঠে যায়। অন্য যাত্রী রাহাদুল জানান, জানালার পাশের সিটে বসা ছিলাম। হঠাত্ আগুন দেখে চিত্কার দিয়ে উঠি। কুলকিনারা না পেয়ে জানালার গ্লাস ভেঙ্গে নিচে লাফ দেই। অর্থাৎ ভিতরের আগুন একাধিক যাত্রী স্বীকার করেছেন।

অর্থাৎ দুটি টিম ছিল এই কাজে, অন্তত ৩ জন বাসের ভিতরেই ছিল, এবং বাকিরা শিশু পার্কে অপেক্ষা করছিল। উল্লেখ্য প্রেসক্লাব থেকে যেখান থেকে যাত্রী উঠানো হয় সেখানেই পুলিশ থাকে সারাক্ষন। তাই সন্দেহজনক পোটলা ও বোতল নিয়ে কিছু যুবক বাসের জন্য অপেক্ষা করলেও কেন পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করে নাই ?

প্রেসক্লাব থেকে শিশু পার্ক হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত সেসময় ৮টি পয়েন্টে পুলিশ ছিল। তারা ছিলঃ

১. প্রেসক্লাবের সামনে
২. ঈদ্গাহ ময়দানের সামনের গলচত্তরে
৩. পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সামনে (মৎস্য ভবন সংলগ্ন)
৪. রমনা পার্কের মৎস্য ভবন সংলগ্ন গেটে
৫. ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউটের সামনে
৬. শিশু পার্কের সামনে
৭. পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে
৮. শাহবাগ মোড়ে
৯. শাহবাগ থানায়

বাসটিতে আগুন লেগে যায় ভিতর থেকে এবং বাইরে ছোড়া বোমা থেকে। ৩০ জন যাত্রী বের হন যাদের মধ্য ১৯জন অগ্নিদগ্ধ হন। সাথে সাথে বাসটিতে আগুনও দেয়া হয়। সব ব্যপার সিমুলেশন করলে সম্পূর্ণ ঘটনা ঘটাতে অন্তত ২ মিনিট সময় লাগবে বলে প্রতীয়মান হয়।

পায়ে হেঁটে কোনও পুলিশ উপরের ৫,৬ ও ৭ নং জায়গা থেকে ২ মিনিটের মধ্যে বাসের কাছে আসতে পারতেন, হাতেনাতে ধরতে পারতেন। টহল গাড়ি ছিল ৩ ও ৮ নং জায়গায়, যেখান থেকে গাড়িতে আসতে ৩০ সেকেন্ড লাগে। এতো পুলিশ পুরা জায়গা ঘেরাও করে সার্চ করলে অবশ্যই দোষীদের ধরা যেত, কিন্তু কেউ ধরা পড়েনি।

অন্যদিকে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সুত্রে শহিদুল্লাহ হলের কুখ্যাত ছাত্রলীগ নেতা জহির অরফে টাকলা জহির এবং এস এম হলের নেতা দীদারের দ্বারা শিশুপার্কের সামনে বাসে অগ্নিকান্ডের জন্য জড়িত থাকার সম্ভাবনা জানা গেছে তাদের অন্যগ্রুপের সহকর্মী বেশ কয়েকজন নেতার কাছ থেকে।

ইতিমধ্যে, সামন্ত লাল সেনের (সাচিপ নেতা ও কট্টর আওয়ামী পন্থী ) ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের অগ্নিদগ্ধ ১৯ জনের মধ্যে নাহিদ নামে একজনের মৃত্যু।বাকিদের দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে না নিলে হয়ত সকাল হতে হতে আরও কয়েকজনের কপালে লেখা থাকতে পারে সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

আর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার এই ঘটনা স্ক্রলে আসতে থাকে ৬-৪০ মিনিট থেকেই।

এই পুরা ঘটনাকেই যেড ফোর্স আন্দোলন সেল ঘৃণ্য সাজানো ঘটনা হিসেবে দাবী করছে এবং এই ব্যাপারটি সবার কাছে ছড়িয়ে দেবার অনুরোধ জানিয়েছে। (ফেসবুক তথ্যসূত্র)

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

হাসপাতালে অবরুদ্ধ কাজী জাফর

ঢাকা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, ‘বর্তমানে আমি এক কঠিন অবস্থার মধ্যে হাসপাতালে দিন অতিবাহিত করছি। আমাকে হাসপাতালে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।’ 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এক দিকে দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যাপারে বাধা-নিষেধ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এমনকি এই সময়ে হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন (জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য) সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ গণমাধ্যমের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
জাফর বলেন, ‘আমি জানি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাতে নয় সরকার ও কোন বিশেষ মহলের চাপেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই পৃথিবীর বহু দেশে রাজনীতিবিদরা হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বক্তব্য প্রদান করে অনেক যুগান্তকারী ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা করবেন না। আমি গোটা জাতি এবং জাতীয় পার্টির লক্ষ লক্ষ নেতা, কর্মী বিশেষ করে তৃণমূল কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে বলতে চাই আমাকে হত্য বা গুম করে কেউ আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারবে না।

একদলীয় নির্বাচন পাহারা দিতে জনগনের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নামবে না....

ইতোমধ্যে সবাই জেনে গেছেন, একদলীয় নির্বাচন পাহারা দিতে জনগনের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী নামবে না। তবে হ্যা, আজ দিনের বেলায় নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধির অফিসিয়াল ল্যঙ্গুয়েজ হলো, “সেনাবাহিনী সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে তৈরী!” এটাই বলার কথা। বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভাঙ্গায় ব্যবহার হওয়া সেনাবাহিনীর সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়।  
নির্বাচন কমিশেনের সভায় সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি গিয়েছিলেন সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. আবু বেলাল মো. শফিকুল হক। এটা হচ্ছে বিখ্যাত আওয়ামী এডভোকেট আনিসুল হকের (শেখ মজিব হত্যা মামলার প্রসিকিউটর) ছোট ভাই। হাসিনা খুব আশা করে শফিকুল হককে ওখানে বসিয়েছে। তাতে কি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসওর কোনো কমান্ড নাই,এ পদটি প্রধানমন্ত্রীর একটা ষ্টাফ অফিসার, এটা অন্য মন্ত্রনালয়ের সচিবের মত পদ। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে সব যায়গায় যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। সেনাবাহিনী প্রধান বা এডজুটেন্ট জেনারেল গেলে গোটা সেনাবাহিনীর মতামত তুলে ধরতে পারত।
সুত্র ও তথ্য মতে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান থাকতে রাজনৈতিক দমন পীড়নে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না, এটা হলো বটম লাইন। আর দেশে অরাজক পরিস্থিতি (মানে দেশে যখন আর কোনো বৈধ রাজ থাকবে না), তখন সেনাবাহিনী এগিয়ে আসবে, এটাই স্বাভাবিক।
সেনাবাহিনীর দেশপ্রেম নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই আমার।

এবার এরশাদকে অপসারণ করলেন জাফর

এবার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে চিঠি দিয়েছেন
দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ। যদিও এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে এরশাদ দলের জ্যেষ্ঠ  প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন।  বিকেলে কাজী জাফরের ব্যক্তিগত সহকারী গোলাম মোস্তাফা জানান, কাজী জাফর স্বাক্ষরিত অপসারণের চিঠি এরশাদের বাড়ি ও অফিসের ফ্যাক্সে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এরশাদের ব্যক্তিগত, দলীয় ইমেইলেও কপি পাঠানো হয়েছে।  (তথ্য সূত্র ফেসবুক )

এরশাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদে’ নামবেন কাজী জাফর

এরশাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদে’ নামবেন কাজী জাফর:#soinik 

 জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, এরশাদ জাতীয় পার্টির পিতৃত্ব দাবি করতে পারেন না। গতকাল বুধবার প্রথম আলো ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, অনেকে মনে করে অর্থ এবং একটি ‘ভিনদেশের’ চাপে পড়ে এরশাদ ‘তথাকথিত সর্বদলীয়’ সরকারে যোগ দিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ শুরু করবেন। আগামীকাল শুক্রবার তাঁর হাসপাতাল ছাড়ার কথা রয়েছে।
 এরশাদকে উদ্দেশ করে কাজী জাফর বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি বলেছেন, “হু ইজ কাজী জাফর? আই এম দি ফাদার অফ জাতীয় পার্টি।” আমি তাঁকে প্রশ্ন করতে চাই, হু ইজ এরশাদ? এরশাদ সবকিছুর পিতৃত্ব দাবি করতে পারেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির পিতৃত্ব তিনি দাবি করতে পারেন না।’ কাজী জাফর এরশাদকে ভদ্র ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই এরশাদ চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও পরে রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছিলেন। জাতীয় পার্টি যখন গঠন করা হয়, তখনও এরশাদ চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। এমনকি তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও ছিল না। কাজী জাফরের দাবি, ১৮ দফার ভিত্তিতে তিনি, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, রিয়াজউদ্দিন ভোলা, শাহ মোয়াজ্জেম, শামসুল হুদা, এম এ মতিন, মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রথমে জাতীয় ফ্রন্ট এবং পরে জাতীয় পার্টি গঠন করেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কাজী জাফর আহমদ বলেছেন, এরশাদ জাতীয় পার্টির পিতৃত্ব দাবি করতে পারেন না। গতকাল বুধবার প্রথম আলো ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, অনেকে মনে করে অর্থ এবং একটি ‘ভিনদেশের’ চাপে পড়ে এরশাদ ‘তথাকথিত সর্বদলীয়’ সরকারে যোগ দিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই তিনি এরশাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ শুরু করবেন। আগামীকাল শুক্রবার তাঁর হাসপাতাল ছাড়ার কথা রয়েছে।
এরশাদকে উদ্দেশ করে কাজী জাফর বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি বলেছেন, “হু ইজ কাজী জাফর? আই এম দি ফাদার অফ জাতীয় পার্টি।” আমি তাঁকে প্রশ্ন করতে চাই, হু ইজ এরশাদ? এরশাদ সবকিছুর পিতৃত্ব দাবি করতে পারেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির পিতৃত্ব তিনি দাবি করতে পারেন না।’ কাজী জাফর এরশাদকে ভদ্র ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই এরশাদ চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও পরে রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছিলেন। জাতীয় পার্টি যখন গঠন করা হয়, তখনও এরশাদ চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। এমনকি তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও ছিল না। কাজী জাফরের দাবি, ১৮ দফার ভিত্তিতে তিনি, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, রিয়াজউদ্দিন ভোলা, শাহ মোয়াজ্জেম, শামসুল হুদা, এম এ মতিন, মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রথমে জাতীয় ফ্রন্ট এবং পরে জাতীয় পার্টি গঠন করেন।

দেশজুড়ে গণবিস্ফোরণ : নিহত আরও ৯ : তফসিলের পর সহিংসতায় ১৮ জনের মৃত্যু

একতরফা নির্বাচন করার চেষ্টার প্রতিবাদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিনও সারাদেশ ছিল বিস্ফোরণোন্মুখ। প্রথম দিনের অবরোধের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনেও দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। নজিরবিহীন অবরোধে দ্বিতীয় দিনেও অচল ছিল সারা দেশ। রাজপথ, রেলপথ ছিল বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে।
তবে জনগণের এই বিদ্রোহকে দমন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী বর্বরতা চালিয়েছে। এদিনও নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী দলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। তাদের সহযোগীর ভূমিকায় ছিল আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা। নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের হামলায় সিরাজগঞ্জে বিএনপি-জামায়াতের ২ কর্মী এবং সাতক্ষীরায় জামায়াতের ১ কর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া অবরোধকারীদের হামলায় গাজীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ গতকাল ৯ জন নিহত হয়েছে।
এর মধ্যে গত সন্ধ্যায় যশোরে এক জামায়াত নেতাকে নিজ বাড়িতে গুলি করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আবদুল হাই সিদ্দিকী বুলবুল ছিলেন একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। জামায়াত নেতাদের দাবি, স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বুলবুলকে খুন করেছে। বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার যশোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া চট্টগ্রামে এক টেম্পো চালক এবং মঙ্গলবার ঢাকায় ককটেল হামলায় আহত ব্যাংক কর্মচারী আজ ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
তফসিল ঘোষণার পর অবরোধে এ পর্যন্ত সারাদেশে সহিংসতায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিএনপি জামায়াতের ৭ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে এ সময় আওয়ামী লীগের ৩ নেতাকর্মীরও মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ১৮ দলের চূড়ান্ত দফার আন্দোলনে গত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নিহত হয় অন্তত ৩৪ জন। ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ২২ নেতাকর্মী নিহত হয়।
ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলনে গত ২৫ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে।

গতকালের অবরোধে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

অবরোধের দ্বিতীয় দিনে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে গতকাল রাজশাহী ও খুলনায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। রাজশাহীতে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়। খুলনায় আহত হয় নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
এছাড়া বরিশালেও অবরোধকারীদের ওপর পুলিশ হামলা চালালে অনুরূপ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র পরিণত হয় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর এলাকা। সেখানে এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদসহ ১৮ দলের ৩২ নেতাকর্মী আহত হয়।
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সারাদেশে অন্তত ৩৫ জেলায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সাত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ পুলিশ ও তিন সাংবাদিক রয়েছেন।
এদিকে গতকাল রেল যোগাযোগ ছিল প্রায় বন্ধ। অবরোধকারীরা গতকাল ভোরে জয়পুরহাটে রেললাইন উপড়ে ফেলায় চার ঘণ্টা রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সিরাজগঞ্জে গভীর রাতে রেললাইন কেটে ফেলায় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এখনও সেখানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
সকালে যশোরের রূপদিয়া স্টেশনের কাছে রেললাইন উপড়ে আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। চাঁদপুরে রেললাইনে আগুন দিয়েছে অবরোধকারীরা। এদিকে আগের রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে লাইনচ্যুত অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন সরানো গেলেও বগি উদ্ধার শেষ না হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সিরাজগঞ্জে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিএনপি-জামায়াতের ২ জন নিহত

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ হামলা চালাকালে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে আবদুল জলিল (৫৫) নামে এক জামায়াত কর্মী ও মাসুম বিল্লাহ (২৮) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত আরও অর্ধশত আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে বেলকুচির কল্যাণপুর থেকে জামায়াত ও বিএনপি নেতা কর্মীরা প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মুকুন্দগাতী বাজারে এসে অবরোধের পক্ষে অবস্থান নেয়।
জামায়াত-বিএনপির মিছিলটি মুকন্দগাতি বাজার এলাকার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে আসা মাত্র আগে থেকেই অবস্থান নেয়া পুলিশ মিছিলটিকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। একই সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ওই মিছিলের ওপর গুলি চালায়।
এ সময় র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় মাসুম বিল্লাহ ও আবদুল জলিল গুলিতে নিহত হন। আহত হয় ২৫ জন।
নিহতদের মৃতদেহ তাদের পরিবারের সদস্যরা নিয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী জামায়াত ও বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত বিএনপির হামলায় তাদের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাতক্ষীরায় গণবিস্ফোরণ, পুলিশের গুলিতে জামায়াত কর্মী নিহত, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতিসহ গ্রেফতার ১১
সাতক্ষীরায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। বুধবার ভোররাতে সদর উপজেলার আগরদাড়ি ইউনিয়নের আবাদের হাটখোলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামসুর রহমান (৩৫) শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের আবদুল মাজেদের ছেলে।
জানা যায়, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরতে পুলিশ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সদরের আগরদাড়ি মাদরাসা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শত শত গ্রামবাসী সড়কে নেমে পড়ে। তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করে। এ অভিযানে জনগণের কাছে পুলিশ ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাতে খুলনা পুলিশের ডিআইজি মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাব ও বিজিবির সহায়তায় এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের গুলিতে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা শামসুর রহমান নিহত হয়। এ সময় হাজারো গ্রামবাসী সড়কে বসে পড়ে। সাতক্ষীরা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। ভোর ৫টার দিকে পুলিশ জনতার ব্যারিকেড ভেঙে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়।
যৌথবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরক র্মীরা সদর উপজেলা এলাকার আবাদেরহাট বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী কার্তিক সাধু, নূর ইসলাম, শাহ আলমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান; তাপস আচার্য এবং গোপাল হালদারসহ অন্তত পাঁচজনের বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে আগুন দেয়।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল খালেক মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, ‘যৌথবাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য ৩৩টি গাড়ি নিয়ে এলাকায় আসে এবং নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী মাইকিং করলে লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের গুলিতে শামছুর রহমান নামে আমাদের এক কর্মী মারা গেছে।’
সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় যৌথবাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি।
সাতক্ষীরা সদর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল গফফার জানান, গত ৫ বছরের মধ্যে আগরদাড়িতে এটি পুলিশের সবচেয়ে বড় ধরনের অভিযান। পুলিশের গুলিতে নিহত শামসুর রহমান (৩৫) জামায়াতের কর্মী।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সদরের আলিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১১ জামায়াত, শিবির ও নিরীহ গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে গতকাল ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শহরের কদমতলা, রামচন্দ্রপুর মোড়, বাকাল ব্রিজ, চালতেতলা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে।
কলারোয়ায় অবরোধের গাছচাপায় মহিলার মৃত্যু
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গোপীনাথপুরে রাস্তা অবরোধ করে রাখা গাছ সরাতে গিয়ে গাছচাপায় এক মহিলা নিহত হয়েছে। গতকাল বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিলা গোপীনাথপুরের হারুনার রশিদের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (২৪)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ দারা খান জানান, রাতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা একটি গাছ অর্ধেক কেটে রাস্তার ওপর ফেলে সড়ক অবরোধ করে। বেলা ১২টার দিকে আম্বিয়া গাছের ডাল-পালা কাটার জন্য সেখানে গেলে বাকি অর্ধেক গাছের নিচে সে চাপা পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কালীগঞ্জ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা নিহত

বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ.স.ম. হান্নান শাহকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত হরতালে গতকাল কালীগঞ্জ ছিল রণক্ষেত্র। এ সময় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ককটেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা আওয়ামী লীগ নেতা ও জামালপুর ইউপি সদস্য কামাল হোসেন শেখকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সকালে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দোলান বাজারে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করে।
দুপুর দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা মো. কামাল মেম্বারের নেতৃত্বে দোলান বাজার থেকে একটি হরতালবিরোধী মিছিল নিয়ে চুপাইরের দিকে অগ্রসর হলে দীঘিরপাড়ে হরতাল সমর্থকরা পেছন দিক থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কামাল মেম্বার আহত হন। এছাড়াও ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হোসেনসহ (২৪) উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়।
কামাল মেম্বারকে উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডা. মো. মাসুদ রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কামাল মেম্বারের মৃত্যুর সংবাদ দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দোলান বাজারের প্রায় ১০টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয় এবং প্রায় ৪০টি দোকানে ভাংচুর করে।
অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে নরসিংদীর পলাশ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ঘটনার পরপরই কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আল মামুনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হরতাল সমর্থকরা বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পালের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার ব্যস্ততম স্থান সোনালী ব্যাংক মোড়ের মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে অজ্ঞাত ৩ ব্যক্তি একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এর ৫ মিনিট পর ৫০ গজ দূরে পুরাতন ব্যাংকের মোড়ে আরও একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ভয়ে পথচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। উপজেলার সর্বত্র থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
যশোরে জামায়াত নেতাকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা
গতকাল সন্ধ্যায় যশোরে এক জামায়াত নেতাকে নিজ বাড়িতে গুলি করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আবদুল হাই সিদ্দিকী বুলবুল ছিলেন একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, সে সম্বন্ধে তাত্ক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বুলবুলকে খুন করেছে। বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে আজ যশোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
এলাকাবাসী জানায়, রাত সোয়া ৭টার দিকে বুলবুল তার বাড়িতে অবস্থিত কম্পিউটার কোচিং সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ৩-৪টি মোটরসাইকেলযোগে কয়েক দুর্বৃত্ত এসে খুব কাছ থেকে বুলবুলের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বুলবুল। খুনিরা হেলমেট পরিহিত থাকায় তাদের কেউ চিনতে পারেনি। খুনিরা পালিয়ে গেলে এলাকাবাসী বুলবুলকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান।
সাতকানিয়ায় মাইক্রো উল্টে যুবক নিহত
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবরোধকারীদের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাস উল্টে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার নাম মো. শাহেদ (২০)। গতরাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া উপজেলার হাসমতের দোকান এলাকায় অবরোধকারীরা মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে। এটি দ্রুতবেগে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময় গুরুতর আহত শাহেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহেদ সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে।
চট্টগ্রামে টেম্পো চালক নিহত
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত কালো তফসিলের বিরুদ্ধে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধের দ্বিতীয় দিনে গতকাল চট্টগ্রামে পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল বেপরোয়া।
নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবরোধকারী ১৮ দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে রাবার বুলেট, টিয়ারশেলের সঙ্গে মুহুর্মুহু গুলি চালিয়েছে পুলিশ। উপর্যুপরি গুলিবর্ষণে অন্তত ২০ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যও রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যুদ্ধংদেহী অবস্থানের পরও রাজপথ দখলে রাখে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। দিনভর চলতে থাকা সংঘর্ষ এক পর্যায়ে খণ্ডযুদ্ধে পরিণত হয়। সংঘর্ষের সময় নগরীর নিমতলা ট্রাক টার্মিনাল এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক যানবাহনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সংঘর্ষের সময় অলঙ্কার এলাকায় পুলিশের ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। জেলার পটিয়ায় পুলিশের সঙ্গে অবরোধ সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় পালাতে গিয়ে টেম্পো উল্টে মারা যান টেম্পো চালক এরশাদ আলী।

ঢাকায় ককটেলে আহত ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়ায় অবরোধকারীদের ছোড়া ককটেলে আহত এক নারী ব্যাংক কর্মচারী মারা গেছেন। আনোয়ারা বেগম (৪৫) নামের ওই নারী ন্যাশনাল ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ছিলেন।
গতকাল ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আনোয়ারার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা।
বিরোধী দলের ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার বিকালে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন আনোয়ারা। তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এরপর পথচারীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
৩৫ জেলায় সংঘর্ষ সহিংসতা, ১৪ পুলিশ ও তিন সাংবাদিকসহ আহত সাত শতাধিক
অবরোধের প্রথম দিনের মতো গতকালও অনুরূপ হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে অন্তত ৩৫টি জেলায়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটে, খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, নওগাঁ, লক্ষ্মীপুর, কুড়িগ্রাম, পটুয়াখালী, নীলফামারী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, ঝিনাইদহ, জামালপুর, চাঁদপুর, দিনাজপুর, কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, ফেনী, চাঁপাইনবাবাগঞ্জ, নোয়াখালী, শরীয়তপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও যশোরসহ আরও কয়েকটি জেলায় এসব সংঘর্ষ-সহিংস ঘটনা ঘটে।
এসব জেলার বিভিন্ন জায়াগায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রতি বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। অনেক স্থানে যোগ দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। সাধারণ জনতাকে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সাত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৪ পুলিশ ও তিন সাংবাদিক রয়েছেন।
বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে গতকাল রাজশাহী ও খুলনায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। রাজশাহীতে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ ৫০ নেতাকর্মী আহত হন। খুলনায় আহত হন নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপিসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
বিভাগীয় শহরগুলোর বাইরে ব্যাপক সংঘর্ষ-সহিংস ঘটনা ঘটে সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নাটোর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে।
এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও পৌর এলাকার একডালায় পুলিশ-আওয়ামী লীগের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। ঝিনাইদহের খালিশপুরে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। এ সময় সংঘর্ষ হলে তিন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাসহ ১০ জন আহত হন।
নাটোরে বিএনপি-জামায়াতের ৩ কর্মীকে মারধর করায় ১৮ দলের কর্মীরা আওয়ামী লীগ-যুবলীগের ৩-৪টি বাড়িতে ভাংচুর চালায়। এ সময় সংঘর্ষ বাধলে ১৫ জন আহত হয়। এর আগে বড়াইগ্রামের রাজাকার মোড়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ হলে ২৫ জন আহত হয়।
নরসিংদীতে জেলা বিএনিপর মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। এ সময় সংঘর্ষ বাধলে আহত হন পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টরসহ ১০ নেতাকর্মী।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক আহত হয়। সোনারগাঁয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। গুলিবিদ্ধ ১০ জনসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। রূপগঞ্জের ভুলতায় যুবদল-ছাত্রদলের ওপর আওয়ামী লীগ-পুলিশ গুলি চালালে ৮ জন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়। সিদ্ধিরগঞ্জেও পুলিশের লাঠিচার্জে ৫-৬ নেতাকর্মী আহত হন। সেখানে অবরোধকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন এক সাংবাদিক।

সিরাজগঞ্জে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ আহত ৫০

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া ও যুবদল নেতা রাসেল আহমেদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
সকালে উল্লাপাড়া উপজেলার বোয়ালিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে ফরিদুল, রকি, আলম, রফিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ১০-১৫টি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় অর্ধশতাধিক টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অপর দিকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় জামায়াত-বিএনপি অবরোধের সমর্থনে দুপুর ১২টার দিকে মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার মুকন্দগাতী গার্লস স্কুলের সামনে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের টিয়ারশেল এবং রাবার বুলেটে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া, যুবদল নেতা রাসেল আহমেদসহ প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।
এদিকে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার একডালা মহল্লায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুখু মিয়া, সনি, বাদশা, জাহাঙ্গীর, রফিক, শওকতসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশ প্রায় ২০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অবরোধের সমর্থনে সকালে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের তেকুপিতে রাস্তার ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের ধাওয়া দেয়।

ঝিনাইদহে জামায়াত-যুবলীগ সংঘর্ষে আহত ১০

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে সদর উপজেলার বিষয়খালী বাজারে ১৫টি টেম্পো ও দুটি ট্রাক ভাংচুর করেছে পিকেটাররা। মহেশপুর উপজেলার খালিশপুরে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুবলীগের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া শৈলকূপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে শিবির নেতাকর্মীরা।
গতকাল বুধবার সকাল থেকে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের শেখপাড়া, গাড়াগঞ্জ, মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর, দারিয়াপুর বাজার, হুদার মোড় এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরের জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টার থেকে শুরু করে বলুহর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় গাছ ফেলে আগুন জ্বালিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এছাড়া ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়কের হাটগোপালপুর, গোয়ালপাড়া, কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের লাউতলা, ঘিঘাটি, ঝিনাইদহ-যশোর সড়কের মোবারকগঞ্জ সুগার মিল গেট ও খয়েরতলা এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের পিকেটাররা। ভোর থেকে কর্মীরা এসব সড়কে অবস্থান নেয়। এরপর বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে। পুলিশ টহল থাকলেও মহেশপুরসহ ছয় উপজেলাতেই মারমুখী ভূমিকায় দেখা গেছে অবরোধ সমর্থকদের। জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে কোনো রকমের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন ছেড়ে যায়নি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারে কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা সড়কে ভোর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার জন্য অবস্থান নেয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়ার জন্য তাদের ধাওয়া করলে তারাও পাল্টা ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। অবরোধকারীদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা শন্টু চৌধুরী, এসবিকে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহজাহান ও যুবলীগ নেতা আব্দুল জলিল বিসুসহ ১০ জন আহত হন। এছাড়া একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে শিবির কর্মীরা। সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি পৌঁছলে অবরোধকারীরা পিছু হটে যায়।


বড়াইগ্রামে বিএনপি-জামায়াত ও আ.লীগের সংঘর্ষে আহত ২৫

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, অবরোধের দ্বিতীয় দিনে জেলার বড়াইগ্রামের রাজাকার মোড়ে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। এর আগে গত রাতে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ১০ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে চিকিত্সাধীন বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের আটক করতে পুলিশ হাসপাতালে হানা দিলে ১৮ দলের কর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৩/-৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। পরে হাসপাতাল থেকে ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার অবরোধের সমর্থনে সকাল থেকেই বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রামের রাজাকার মোড়ে অবস্থান নেয় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। সকাল ১১টার দিকে রাজাকার মোড়ে যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবারের সংঘর্ষের জেরে জামায়াত