ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

"বদরুলের পক্ষের আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হয়ে বদরুলকে 'নির্দোষ' দাবি করে তার জামিন চান।" (মানবজমিন)


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  ১৬ কোটি মানুষের চোখের সামনে সংঘটিত অপরাধ কিভাবে ন্যায়বিচারে সহায়তাকারী মহান পেশার একজন আইনজীবীর চোখে নির্দোষ বলে বিবেচিত হয় ?

লিগ্যাল প্রাকটিশনারস এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ক্যাননস অফ প্রফেশনাল এটিক্যাট এন্ড কনডাক্ট, আইনজীবী সমিতির বিধিমালা কিংবা নবীন আইনজীবী হিসাবে সনদ নেবার সময় পঠিত আইনজীবীর শপথ বাক্যগুলোর সবই কি আমরা ভুলে গিয়েছি ?

আমরা কি অনুধাবন করি,
দেশের বিচারপ্রার্থী মানুষগুলো আমাদের সম্পর্কে কি রকম ধারনা পোষন করে ?

অথচ কোন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কিংবা আইনজীবীদের পেশাকে খাঁটো করে কেউ কিছু বললেই তার বিরুদ্ধে আমরা সারাদেশের আদালতে গনহারে মানহানির মামলা করে বসি। 

কিন্তু আইনজীবীর শপথ নিয়ে আমাদের মধ্যে গুটিকয়েক যারা এই পবিত্র পেশাকে লোকচক্ষুর সামনে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন করছি তাদের বিলাসী গাড়ির ভিড়েই কিন্তু কোর্ট প্রাঙ্গণ সবসময় জমজমাট। 

অবস্থা এমন যে- "অপরাধী যত বড়, কোর্টে তার পক্ষে বহরও তত বড় !"

আমি নিজে আইনজীবী এবং আমি আইনজীবী পরিবারের সন্তান।
বিশ বছর আগে বার কাউন্সিলে নবীন আইনজীবীদের বাধ্যতামূলক পেশাগত শিক্ষা, শপথ পাঠ চালুকরন, আইনজীবীদের নৈতিকতা ও মানবিকতা শিক্ষার পেছনে অনেকটা বছর সময় দিয়েছি। 

একাধিকবার দেশের প্রতিটা বারে ছুঁটে গিয়েছি আইনজীবীদের ট্রেনিং করাতে। লিগ্যাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের জন্মের সাথেও জড়িত ছিলাম। 

দেশবরেন্য বিচারপতি ও কিংবদন্তি আইনজ্ঞদের একান্ত সানিধ্যে থেকে তাদের মত আদর্শিক আইনজীবী হবার স্বপ্ন সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি।

আইন অঙ্গনের এই মহান আদর্শিক মানুষগুলোর অনেকে আল্লাহর রহমতে এখনও বেচেঁ আছেন। কিন্তু জাতীয় জীবন থেকে শুরু করে আইন অঙ্গনের সর্বত্রই আজ মিথ্যার প্রবল দাপটে তারা হয়ত এখন আর নবীন আইনজীবীদের কাছে এতোটা আকর্ষণীয় নন !

একারনেই হয়ত
আগে মানুষ "আইন জানা" আইনজীবীদের খুঁজতো, আর এখন "লাইন জানা" আইনজীবীদের খুঁজে !

মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

ব্রাজিলের ফুটবল দলবাহী বিমান দুর্ঘটনা ৮১ জনের মধ্যে ৭৫ জনই নিহত

দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় বিধ্বস্ত ব্রাজিলের ফুটবল দলবাহী বিমানের ৮১ জন যাত্রীর মধ্যে ৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে ৭৬ জন নিহতের কথা বলা হলেও আরেকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ছয়জন ‘অলৌকিকভাবে’ প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে দি ইনডিপেনডেন্ট। ব্রাজিলের চ্যাপেকোয়েন্স ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের বহনকারী ওই বিমানটি বলিভিয়া থেকে কলম্বিয়ার মেডেলিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।
তবে উদ্ধারকৃত ছয় যাত্রীর মধ্যে চ্যাপেকোয়েন্স ফুটবল দলের কেউ ছিল কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম। তবে উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে বিবিসি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আগামীকাল কোপা সুদ আমেরিকা টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় অংশ নিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলম্বিয়ার মেডেলিন শহরে যাচ্ছিলেন ব্রাজিলের চ্যাপেকোয়েন্স ক্লাবের সদস্যরা। বিমানের যাত্রীর মধ্যে ১০ ফুটবলার ছাড়াও ৫৭ যাত্রী ও নয়জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক এবং ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
মেডেলিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে এক বার্তায় বলেছে, ‘বিধ্বস্ত হওয়া সিপি-২৯৩৩ বিমানটি চ্যাপেকোয়েন্স রিয়েল ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের বহন করছিল।’
মেডেলিন শহরের মেয়র ফেদরিকো গুতিয়েরেজ বলেন, ‘এটি একটি বিষাদময় ঘটনা।’
মেয়র দুর্ঘটনায় পর অনেকেরই জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত খুব অল্প কজন আপাতত প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন খোদ চিকিৎসকরাই।
NTV

ইসলামে দাম্পত্য জীবন : ---ফখরুল ইসলাম খান।

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে জ্ঞান-বুদ্ধি,বিবেক-বিশ্বাস, নৈতিকতার ভিত্তিতেই সৃষ্টির সেরা বা আশরাফুল মাখলুকাত এর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তাই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়ই মানুষ সামাজিক ও নৈতিক জীব। সুখ, শান্তি, তৃপ্তি ও নিশ্চিন্ততা এবং নিরবচ্ছিন্ন আনন্দ লাভই হচ্ছে মানব জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য, মানব মনের ঐকান্তিক কামনা ও বাসনা। এদিক দিয়ে নারী পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। মানব জাতির সৃষ্টির মধ্যে এরাও একটি উদ্দেশ্য এই যে, নারী-পুরুষ জাতি মিলে একটি পরিবার গঠন করবে এবং তার থেকে একটি সভ্যতার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এই জন্যেই নারী-পুরুষকে ভিন্ন রূপে সৃষ্টি করেছেন। তাদের মধ্যে পারস্পরিক যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের দৈহিক গঠন ও মনস্তাত্মিক বিন্যাসকে পারস্পরিক ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই দাম্পত্য জীবনকে পুরোপুরি উপযোগী করে দেয়া হয়েছে। ইসলাম এমনি এক দাম্পত্য জীবনের নিশ্চয়তা দেয় যেখানে রয়েছে প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-মমতা, ভক্তি ভালবাসায় ভরপুর সুন্দর পরিবেশ। ইসলামের দাম্পত্য বিধান এমনই এক আইন বিধান যা সামাজিক বিধান সমূহের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী। ইসলামে এ বিধানের মৌলিক গুরুত্বের দিকে লক্ষ্য রেখে তা অন্তত নির্ভুল বুনিয়াদের উপর রচনা করা হয়েছে। এবং মুসলমানরা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের দ্বীনের মধ্যে একটি উত্তম, পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ বিধান লাভ করেছিল। এবং তা যে কোন দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের দাম্পত্য বিধানের তুলনায় নিঃসন্দেহে উত্তম বলা যেতে পারে। ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক এমন সামাজিকতা ও উত্তম নৈতিক আচরণের সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা। 

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহঃ

একজন নারী ও একজন পুরুষ তাদের মধ্যে পরস্পরে যৌন আকর্ষণের যে দাবী তা পূরণের জন্যে আল্লাহ সৃষ্ট যে বিধান সেটাই বিবাহ। ইসলামে নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের জন্যে বিবাহ হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায়। এবং সামাজিক সাংবিধানিক স্কীকৃত একমাত্র বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা। যার ফলে নারী পুরুষের একত্রে বসবাস ও পরস্পরে যৌন সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণরূপে বৈধ হয়ে যায়। বিবাহ ছাড়া অন্য কোন পন্থায় নারী পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থপন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নারী পুরুষ সৃষ্টি যত পুরাতন,বিবাহ ব্যবস্থাটিও তত পুরাতন এক মানবিক ব্যবস্থা একজন নারী ও একজন পুরুষ বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হয়ে সুশৃংখল ও সুষ্ঠু জীবন যাপনকেই বলা হয় দাম্পত্য জীবন। 

দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্যঃ

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি নারী-পুরুষের বিবাহের বয়স হলে তাদের জন্যে অপরিহার্য কর্তব্য হচ্ছে বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হয়ে দাম্পত্য জীবন-যাপন করা। একমাত্র বিয়ের মাধ্যমেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন সম্ভব, তেমনিভাবে যৌন মিলনের স্বাভাবিক অদম্য ও অনিবার্য স্পৃহা সঠিকভাবে পূরণ হতে পারে কেবল মাত্র এই পন্থায় আল্লাহ পাক দাম্পত্য জীবনের এই ব্যবস্থাপনা এজন্যেই করেছেন যে,নারী পুরুষ উভয়ই পরস্পরের নিকট পরম শান্তি, তৃপ্তি ও স্বস্তি লাভ করবে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক পবিত্র আল কুরআনের সুরা আরাফে বলেন,“এবং উহারই সত্তা হইতে উহার জুড়ি বানাইয়াছেন যেন উহার নিকট পরম শান্তি ও স্থিতি লাভ করতে পারে”।(সুরা আরাফ-১৮৯)।
এ আয়াত থেকে বুঝা গেল, স্ত্রী পুরুষের জন্যে এবং পুরুষ স্ত্রীর জন্যে শান্তি স্বরূপ। এর মাধ্যমে একদিকে মানব বংশ সংরক্ষণ এবং মানবীয় সভ্যতা ও তমদ্দুন সৃষ্টির ব্যবস্থা করেছেন। এই ব্যবস্থাপনা যদি না করতেন তাহলে মানব বংশ গরু-ছাগলের মতো সমাজে বৃদ্ধি পেতো। ইহার মাধ্যমে কোন সভ্যতা গড়ে উঠার কল্পনা করা যেত না। তাই আল্লাহ পাক নারী পুরুষের পরস্পর তারা পরস্পরের প্রতি কামনা-বাসনা ও উদ্যম, ব্যাগ্রতা, ব্যাকুলতার এক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, যেন একে অপরের সাথে লাভের পিপাসাই তাদেরকে পরিবার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধ্য করে। এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই মানব সভ্যতা গড়ে উঠা সম্ভব। 

দাম্পত্য জীবনের মৌলিক দিকঃ

আল্লাহ পাক বিনা উদ্দেশ্যেই বিয়ে এবং দাম্পত্য জীবনের এ ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করেননি। তিনি তাঁর আপন ইচ্ছায় এই ব্যবস্থাপনা করেছেন। ইসলাম যেনাকে হারাম ঘোষণা করেছে এবং নারী-পুরুষের চরিত্রকে অশ্লীলতা ও নির্লজ্জতা থেকে এবং সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দাম্পত্য জীবনের এই ব্যবস্থাপনা করে রেখেছেন। আল্লাহ পাক দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মৌলিক দুটি দিকের বর্ণনা করেছেন। 
সুরা আর রূমের মধ্যে তিনি বলেন-“তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে ইহাও একটি যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই জাতির মধ্য হইতে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের নিকট পরম প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও স্বহৃদয়তার সৃষ্টি করে দিয়েছেন”। (রূম-২১) এ আয়াত থেকে দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মৌলিক দুটি দিক পাওয়া যায়। (১) নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাজত। (২) ভালবাসা ও আন্তরিকতা। 

নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাজতঃ

আল-কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রাখলে একথা পরিস্কার হয়ে যায় যে, বিয়ের মাধ্যমেই স্বীয় নৈতিক চরিত্র পবিত্র-পরিচ্ছন্ন ও কলুষমুক্ত রাখা সম্ভব। এবং অবাধ যৌন চর্চার মত চরিত্রহীনতার কাজ থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়। এ সম্পর্কে কুরআন মজীদে আল্লাহ পাক বলেন-“এই মুহরিম স্ত্রীলোকদের ছাড়া অন্য সব মহিলা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যেন তোমরা নিজেদের ধন-সম্পদের বিনিময়ে তাদেরকে হাসিল করার আকাংখা কর। তাদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য এবং অবাধ যৌন চর্চার প্রতিরোধের জন্যে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে”। নিসা-২৪।
এ আয়াতে নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বের হেফাজতের জন্যে বিবাহের তাগিদ করা হচ্ছে। চরিত্র ও সতীত্ব হেফাজত করাই হচ্ছে ইসলামে বিয়ের আসল উদ্দেশ্য। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের দাম্পত্য জীবনের মধ্যে চরিত্র ও সতীত্বের পূর্ণ হেফাজতই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকৃতপক্ষে ঈমানই মানুষের নৈতিক জীবনে বিল্পব সাধন করতে সক্ষম, মানুষের ভিতরে ঈমানী চেতনাকে জাগ্রত করে ন্যায়-অন্যায়ের ফল হিসেবে পুরস্কার ও তিরস্কার লাভের গভীর বিশ্বাস জম্মানোর মধ্যে দিয়েই নৈতিক মান গঠন করা সম্ভব। মানুষের উন্নত নৈতিকতার প্রতি গভীর অন্তর দৃষ্টিপাত করেই সেক্্রপিয়র বলেছেন-মানুষ! কি অপূর্ব সৃষ্টি! যুক্তিতে মাহন, সৃজনী শক্তিতে অসীম, দৈহিক গঠনে সম্প্রমোদ্রেককারী। কর্ম নৈপুন্যে সে দেবতার মতো, বোধ শক্তিতে বিধাতার মতো। সে পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রাণীকুলের শ্রেষ্ঠতম। মৃত্তিকার সারাংশটুকুর পরিচয় কি এতেই শেষ হয়ে যায়। মানুষের পরিচয় এতটুকু নয়, মানুষই সৃষ্টিজগতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের অধিকরী। 
কিন্তু আজ আমাদের দেশের দিকে তাকালে মনে হয় এ কথাটি মোটেই সত্য নয়। মানুষ আল্লাহর প্রতিধিত্ব ছেড়ে দিয়ে সে প্রতিনিধিত্ব করছে শয়তানের, দাসত্ব করছে পাশবিক প্রবৃত্তির অথবা পাশ্চাত্যের ভোগবাদীদের। ইসলাম মানুষের চেতনায় সতীত্বকে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বদ্ধমুল করতে এবং তা হেফাজত করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে এবং তা হারালে চিরতরেই হারায়। সতীত্ব যার নিকট যতখানি মূল্যবান, তিনি ততখানি সচেতন হবেন তা হেফাজতের জন্যে। তাই দাম্পত্য জীবনের শৃংখলা, স্থিতিশীলতা ও স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করার জন্য সতীত্ব হেফাজতের প্রতি যত্ববান হওয়া অতীব জরুরী। আল্লাহ পাক এ সম্পর্কে (সুরা আন-নূরে) মুমিন পুরুষ ও মুমিন মহিলাদের তাকিদ দিয়েছেন-“তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিযন্ত্রন করে রাখে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করে। কেননা দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে লজ্জাস্থানের হেফাজত সম্ভব নাও হতে পারে”। 
এ আয়াতে দৃষ্টি শক্তিকে নিয়ন্ত্রণের আদেশ করা হয়েছে। বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ মূলত লজ্জাস্থানের হেফাজতের স্বার্থে। আর দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা সম্ভব। লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা, অন্তরে প্রবেশ করে দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে। এজন্যেই যৌনাঙ্গের হেফাজত করার আদেশ দেয়ার পর আল্লাহ পাক এর পুরুস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে, তারা পুরুষ কিংবা নারী হোক-“আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য খুব বেশী করে সওয়াবের ব্যবস্থা করে রেখেছেন”। (আল-কুরআন)
দাম্পত্য জীবনে শৃংখলা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সতীত্বের গুরুত্ব যেহেতু অপরিসীম, সেহেতু ইসলাম এটাকে চারিত্রিক পবিত্রতার অবিচ্ছেদ্য অশং মনে করে। কুরআন মজীদে সুরা মুমতাহিনায় আল্লাহ পাক বলেন-“এবং তার প্রতিশ্রুতি দিত এই বলে যে, তার ব্যভিচার করবে না, আর তাদের সন্তান হত্যা করবে না। (আল-কুরআন) এভাবে ইসলাম মানুষের চেতনায় নৈতিক চরিত্র ও সতীত্বকে অমূল্য সম্পদ হিসাবে জাগ্রত করতে এবং তা হেফাজতে আন্তরিক হতে সাহায্য করেছে। 

ভালবাসা ও আন্তরিকতাঃ

ইসলামের দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের মৌলিক দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে মানব জাতির উভয় শ্রেণী নারী পুরুষের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হবে ভালবাসা ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে। বৈবাহিক সর্ম্পকের সাথে সমাজ ও সভ্যতার যে সমস্ত উদ্দেশ্য সংযুক্ত রয়েছে সেগুলোকে তারা নিজেদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফলতার সাথে পূর্ণ করতে পারবে এবং দাম্পত্য জীবনে তারা শান্তি, আনন্দ ও আরাম উপভোগ করতে পারবে। সামাজিক জীবনের মহান উদ্দেশ্য সমূহের পূর্ণতার জন্য শান্তি যোগাবার ক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা ও আন্তরিকতার খুবই প্রয়োজন। উল্লেখিত আয়াতে আলোকে চিন্তা করলে জানা যায় যে, ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবনের দর্শনই হচ্ছে ভালবাসা ও আন্তরিকতা। এখানে ভালবাসা বলতে যৌন আকর্ষণ, যৌন প্রেমকে বুঝানো হয়েছে। ইহা নারী পুরুষের মিলনের প্রাথমিক কারণ এবং ইহাই তাদেরকে একে অন্যের সহিত সংযুক্ত করে রেখেছে। দাম্পত্য জীবনে ভালবাসা ও আন্তরিকতা যত বৃদ্ধি পাবে এই জন্যে তারা একে অন্যের প্রতি কল্যাণকামী, সাহনুভতিশীল, দরদী ও সুখ দুঃখের সঙ্গী হিসেবে দাম্পত্য জীবনে জান্নাতী পরিবেশ বিরাজ করবে। একে অন্যের প্রতি তেমন এক সম্পর্ক সৃষ্টি হতে থাকবে যাকে ‘রাহমাত’ বা আন্তরিকতা বলা হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে এই সম্পর্ক ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এমন এক সময়ও আসে তখন যৌন আকর্ষণ,যৌন প্রেমের পরিবর্তে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের জন্য দরদী অনুগ্রহসম্পন্ন ও মেহেরবান হয়ে উঠে। ভালবাসা ও আন্তরিকতা এই দুটি শক্তি আল্লাহ তায়ালা তাদে মধ্যে মিলন বাসনা ও উদগ্র ব্যাকুলতার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর এই মিলন বাসনাই শুধু স্বস্তি ও প্রশান্তি লাভ করতে চায়। এর কারণেই নারী পুরুষ একে অন্যের নিকটবর্তী হতে বাধ্য হয়। এই ভালবাসা ও আন্তরিকতা এমন এক সম্পর্ক গড়ে তুলে যারা ভিন্ন পরিবারে, ভিন্ন পরিবেশে, লালিত পালিত হয়েছিল তাদের মধ্যে এমন এক স্থায়ী বন্ধুত্বের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়। আর এই ভালবাসা ও আন্তরিকতা কোটি কোটি নারী পুরুষ তার বাস্তব ও ব্যক্তিগত প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিজেদের জীবনে লাভ করেছে। 

রাসুলের (সা) দাম্পত্য জীবন :

একজন মানুষের পারিবারিক জীবনই হচ্ছে সেই মানুষটির সার্বিক পরিচয় প্রকাশ করে। বিশ্বের সকল মানুষের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পারিবারিক জীবনকে গোপন করে রাখে। কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী (সা) এর স্ত্রীরা জনপ্রতিনিধির মতো স্বামীর জীবনের সকল কথা ও কাজ লক্ষ্য করতেন এবং সেসব কথা সকলের সামনে প্রকাশ করে দিতেন। রাসুলের (সা) জীবনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় জীবনই আমাদের সকলের সামনে বর্তমান। তাই আসুন আমরা রাসুল (সা) জীবনী আলোচনা করে দেখি তার দাম্পত্য জীবন কেমন ছিল? রাসুলের (সা) সীরাত থেকে জানা যায় তাঁর দাম্পত্য জীবনে ছিল গভীর ভালবাসা, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সীমাহীন আবেগ ও নিষ্ঠা। কঠিন দারিদ্র, অনাহার, তথা সকল প্রতকিুল পরিবেশও তাদের এ মধুর সম্পর্কে একদিনের জন্যও কোন ধরনের ফাটল দেখা যায়নি। ইসলাম যে মানুষের স্বভাবগত নির্মল আবেগ অনুভুতিকে অস্বীকার করেনি তার প্রমাণ পাওয়া যায় রাসুলের (সা) দাম্পত্য জীবনের আচণের মধ্যে। কখনো কখনো তাদেরকে দেখা যায় সাধারণ মানুষের মত আবেগ প্রবণ। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে,রাসুলের (সা) স্ত্রীরা যেমন ছিলেন একজন নবীর স্ত্রী। তেমনি একজন নারীও বটে। আবার রাসুল (সা) যেমন একজন নবী ও রাসুল,তেমনি ছিলেন একজন স্বামীও বটে। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী হিসাবে তাদের এমন বহু আচার-আচরণ ও মান-অভিমানের কথাও ঘটনা বিভিন্ন গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যা আমাদের জন্য অতি চমকপ্রদ ও শিক্ষনীয়। রাসুলের (সা) দাম্পত্য জীবনের কয়েকটি আচরণ তারই প্রিয়তমা কয়েকজন স্ত্রীর ভাষায় এখানে তুলে ধরেছি। 
সুরা আর রূমের ২১ নং আয়াতের বাস্তব চিত্র আমরা দেখতে পাই রাসুলের (সা) দাম্পত্য জীবন। রাসুল (সা) বলেন-তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম। আমি আমার স্ত্রীদের নিকট তোমাদের সকলের চেয়ে উত্তম। আল-হাদীস। 

খাদীজার (রা) প্রতি ভালবাসাঃ

খাদীজার (রা) প্রতি রাসুলের (সা) ছিল গভীর ভালবাসা, সহমর্মিতা, সীমাহীন আবেগ ও নিষ্ঠা। খাদীজার (রা) মৃত্যুর পরও রাসুল (সা) প্রায় তাকে স্বরণ করতেন। কি কারণে তিনি রাসুলের সমস্ত হৃদয়ে আসন করে নিয়েছিলেন? কিসের আর্কষনে তাকে বার বার স্মরণ করতেন ? রাসুলের সিরাত থেকে জানা যায় যে, তিনি সর্বপ্রথম ওহী লাভ করার পর তার মনে যে ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি হয়েছিল, তার অপনোদনের জন্যে তিনি সর্বপ্রথম খাদীজার (রা) কাছে সব খুলে বলেন-“আমি এই ব্যাপারে নিজের সম্পর্কে বড়ই ভীত হয়ে পড়েছি”। 
একথা শুনে তার প্রিয়তমা স্ত্রী বলেছিলেন, প্রিয় স্বামী আমার আল্লাহ পাক আপনাকে কখনই এবং কোন দিন, কোন দিক দিয়ে লজ্জিত করবেন না। কেননা আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন। অপরের বোঝা বহন করে থাকেন, মেহমানদারী, বিপদে সাহায্য করে থাকেন, এজন্য আল্লাহ কখনই শয়তানদের আপনার উপরে বিজয়ী বা প্রভাবশালী করে দিবেন না। এতে আমার কোন সন্দেহ নেই যে, কোন অমূলক ধারণা আপনার উপর চাপিয়ে দিবেন না। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আপনার জাতির লোকদের হেদায়াতের কাজের জন্যেই বাছাই করে নিয়েছেন। 
খাদীজা (রা) সম্পর্কে রাসুলের (সা) কি পরিমাণ প্রেম-ভালবাসা ছিল এই হাদীসে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আয়িশা (রা) বলেন-“রাসুল (সা) একদিন খাদীজার (রা) প্রশংসা শুরু করলেন এবং দীর্ঘ সময় প্রশংসা করতে থাকলেন। এতে আমার অর্ন্তদাহ হলো। বললামঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা) আপনি একজন কুরাইশ বৃদ্ধা, যার ঠোট লাল এবং যার মৃত্যুর পর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছে, এত দীর্ঘ সময় তার প্রশংসা করছেন। আল্লাহ তো তার চেয়ে ভাল স্ত্রী আপনাকে দান করেছেন। একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা) চেহারার রং পাল্টে গেল। তিনি বললেন, খাদীজা আমার এমন স্ত্রী ছিল যে,মানুষ যখন আমাকে নবী বলে মানতে অস্বীকার করে, তখন সে আমার প্রতি ঈমান আনে, মানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলতে চেয়েছে, তখন সে সত্যবাদী বলেছে। এবং মানুষ যখন আমাকে সাহায্য করতে চায়নি, তখন সে তার অর্থ বিত্ত সহকারে আমার পাশে এদে দাড়িয়েছে। আল্লাহ তার মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দিয়েছেন। যখন অন্য স্ত্রীরা আমাকে সন্তান থেকে বঞ্চিত করেছেন। বুখারী মুসলিমের একটি হাদীসে আয়িশার (রা) বর্ণনায় নবী করীমের (সা) এরূপ একটি মন্তব্য পাওয়া যায়, রাসুল (সা) বলেছেন- “হে আয়িশা! খাদীজা খাদীজাই, তার কোন তুলনা হয় না। সে ছিল অদ্বিতীয়া”। 
খাদীজার (রা) কত যে প্রেম ও ভালবাসা ছিল রাসুলুল্লাহর (সা) প্রতি তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। রাসুলের (সা) সীরাত থেকে দেখতে পাই, মক্কার কাফের ও মুশরিকদের অত্যাচারে তাঁকে তিন বজর বন্দী জীবন বাধ্য হয়ে অতিবাহিত করতে হয়েছে। এমন এক সংকটময় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়,রাসুল (সা) ও তার সাহাবীরা (রা) বাধ্য হয়ে গাছের পাতা বাকল ও শুকনো চামড়া আগুনে পুড়িয়ে ক্ষুধা মিটাতে হয়েছে। এই সংকটময় পরিবেশে রাসুলের (সা) একমাত্র জীবন সঙ্গীনী প্রিয়তমা স্ত্রী খাদীজা (রা) কায়মনোবাক্যে তাঁর প্রিয় স্বামীর সেবায় নিয়মিত নিয়োজিত ছিলেন। আরবের শ্রেষ্ঠ ধনীর দুলালী, সেরা সম্পদশালিনী খাদীজা (রা) তাঁর প্রাণপ্রিয় স্বামীর সাথে কত যে কষ্ট ভোগ করেছিলেন এবং এত কষ্ট সহ্য করেও একদিনের জন্যেও স্বামীর সেবায় উদাসীনতা দেখাননি বরং স্বামীকে প্রেরণা যোগাতেন ও উৎসাহের সঞ্চার করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা) অনেক সময় যখন খুবই অবসন্ন ও ভারাক্রান্ত মনে ঘরে ফিরতেন, তখন খাদীজা (রা) কে দেখে তাঁর (সা) চক্ষু শীতল হয়ে যেত। খাদীজার (রা) প্রেম ভালবাসা ও আবেগ মাখা শান্তনার বাণী শুনলে রাসুলের (সা) হৃদয় মন জুড়িয়ে যেত। তিনি আবার নতুন করে উজ্জীবিত হতেন। তাঁর প্রেম-ভালবাসার সিন্ধ স্পর্শে রাসুলের (সা) সমস্ত ক্লান্তি ও গ্লানি মুছে একাকার হয়ে যেত। তিনি তাঁর পবিত্র অন্তরে আবার অসাধারন কর্ম প্রেরণা লাভ করতেন। 

আয়িশার (রা) প্রতি ভালবাসা :-

রাসুলুল্লাহ (সা) ও আয়িশার (রা) দাম্পত্য জীবন এবং তাদের মধ্যেকার মধুর সম্পর্কের কয়েকটি ঘটনার চিত্র তুলে ধরছি আয়িশার (রা) ভাষায়। একবার আয়িশার (রা) মাথায় ব্যথা হলো। রাসুলুল্লাহর (সা) তখন অন্তিম রোগ লক্ষণ শুরু হতে চলেছে। তিনি আয়িশা (রা) কে বললেন, তুমি যদি আমার সামনে মারা যেতে আমি নিজ হাতে তোমাকে গোসল দিয়ে কাপন পরাতাম এবং তোমার জন্য দোয়া করতাম। তখন আয়িশা (রা) বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা) আপনি আমার মৃত্যু কামনা করছেন। যদি এমন হয় তাহলে আপনি তো এই ঘরে নতুন একজন স্ত্রী এনে উঠাবেন। রাসুলুল্লাহ (সা) একথা শুনে মৃদু হেসে দেন। 
রাসুলুল্রাহ (সা) আয়িশার (রা) সাথে যখনই পানাহার করার সুযোগ হতো, তখন একই দস্তরখানায় একই থালায় আহার করতেন। পানাহারের মধ্যে প্রেম-প্রীতির অবস্থা এমন ছিল যে, আয়িশার (রা) চোষা হাড় রাসুল (সা) চুষতেন। গ্লাসের যেখানে মুখ লাগিয়ে আয়িশা (রা) পানি পান করতেন, রাসুল (সা) সেখানে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন। রাত্রে ঘরে আলো জ্বলতো না তাই খেতে বসে মাঝে মাঝে উভয়ের হাত একই টুকরো গোস্তের উপর গিয়ে পড়তো এবং ভালবাসার টানাটানি চলতো গোস্তের টুকরা নিয়ে। 
একবার এক চলার পথে সফরে আয়িশার (রা) উঠনিটি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আয়িশা (রা) কে নিয়ে দৌড় দেয়। এতে রাসুলুল্রাহ (সা) এতই অস্থির হয়ে পড়েন। মুখ দিয়ে তখন উচ্চরিত হতে শোনা যায়-ওয়া আরুসাহ, হে আমার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী। কোন এক সফরে আয়িশা (রা) রাসুলুল্লাহ (সা) সফর সঙ্গীনী ছিলেন। চলার পথে এক পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ (সা) সকল সঙ্গীকে আগে চলার নির্দেশ দিলেন। তারপর আয়িশা (রা) কে বললেন, এসো আমরা দৌড়াই দেখি কে আগি যেতে পারে। তখন আয়িশা (রা) ছিলেন হালকা-পাতলা তাই তিনি আগে চলে গেলেন। তার কিছু কাল পরে এমন দৌড় প্রতিযোগিতার সুযোগ আরেক বার আসে। আয়িশা (রা) বলেন, তখন আমি আগের চেয়ে একটু মোট হয়ে গিয়েছিলাম। তাই রাসুলুল্লাহ (সা) আমার আগে চলে যান। তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেনঃ এ আয়িশা এ হচ্ছে ঐ দিনে বদলা। 
একবার ঈদের দিন কিছু হাবশী লোক হেলিয়ে-দুলিয়ে পলোয়ানীর কসরত দেখাচ্ছিল। আয়িশা (রা) স্বামীর নিকট এই খেলা দেখার আবেদন করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা) আয়িশা (রা) কে আড়াল করে দাড়িয়ে থাকলেন এবং আয়িশা (রা) সেই খেলা উপভোগ করলে। যতক্ষণ আয়িশা (রা) ক্লান্ত হয়ে নিজেই সরে না গেলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) ততক্ষণ ঠাঁয় দাড়িয়েছিলেন। 
আয়িশা (রা) কে খুশী করার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা) মাঝে মধ্যে আয়িশা (রা) কে গল্প শোনাতেন। আবার কখনও কখনও ধৈর্য্য সহকারে আয়িশার (রা) গল্প শুনতেন। রাসুলুল্লাহ (সা) অন্তিম রোগ, শয্যায় বারবার তিনি জিজ্ঞেস করতে লাগলেন আজ কি বার ? সবার বুঝতে আর বাকী থাকলো না যে তিনি আয়িশার (রা) বারির দিনটির অপেক্ষা করছেন। সুতরাং তাঁকে আয়িশার (রা) ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। ওফাৎ পর্যন্ত তিনি আয়িশার (রা) ঘরে অবস্থান করেন। আয়িশার (রা) রানের উপর মাথা রেখে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাসুলে করীম (সা) অনেক সময় আয়িশার (রা) রানের উপর মাথা রেখে শুয়ে যেতেন। 
উম্মে সালমার (রা) মন্তব্যের জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আয়িশার ব্যাপারে তোমরা আমাকে বিরক্ত করবে না। কারণ আয়িশা ছাড়া কোন স্ত্রীর লেপের নিচে আমার উপর ওহী নাযিল হয়নি। 
আমর ইবনুল আস (রা) জাতুস সালাসিল যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে রাসুলুল্লাহ (সা) কে একদিন জিজ্ঞেস করেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা) এ পৃথিবীতে আপনার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি কে? তিনি বললেন আয়িশা। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলে ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা) আমার প্রশ্ন পুরুষ সম্পর্কে তখন রাসুলে করীম (সা) বললেনঃ আয়িশার গর্বিত পিতা। 
উম্মুল মুমিনীন সুফিয়া (রা) বলেনঃ একবার রাসুলুল্রাহ (সা) মসজিদে ইতেকাফরত ছিলেন। আমি কিছু কথা বলার জন্যে রাত্রে তার কাছে গেলাম। আমি ফিরে আসার সময় রাসুলূল্লাহ (সা) আমার সাথে উঠে এলেন, আমকে চম্মুন দিয়ে বিদায় দেবার জন্যে। এ সময় দুজন আনসার সাহাবী আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। আমাদের দেখে তারা দ্রুত চলে যাচ্ছিলেন। রাসুল (সা) তাদের ডেকে বললেনঃ তোমরা একটু দাঁড়াও, এ হচ্ছে সুফিয়া বিনতে হুয়াই (আমার স্ত্রী)। বুখারী।
একবার আয়িশা (রা) অতি যতœ সহকারে দরজায় একটি ছবিওয়ালা পর্দা টানালেন। রাসুলুল্লাহ (সা) ঘরে ঢুকতে যাবেন এমন সময় পর্দার প্রতি তার দৃষ্টি পড়লো। সাথে সাথে তার চেহারা মুবারক বিবর্ণ হয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে আয়িশা (রা) সবকিছু বুঝে ফেললেন। তিনি বললেন, প্রাণের স্বামী আমার ক্ষমা করুন। ্আমার অপরাধ কোথায় বলবেন কি? রাসুল (সা) বললেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে সেখানে ফেরেস্তা প্রবেশ করে না। একথা শুনার পর আয়িশা (রা) পর্দাটি ছিড়ে ফেললেন। আয়িশা (রা) ও স্ত্রীদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সীরাত ও হাদীস গ্রন্থে রাসুলুল্লাহ (সা) ও আয়িশার (রা) প্রেম প্রীতির এক চমৎকার দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। আয়িশা (রা) স্বামীর প্রিয়তমা স্ত্রী হওয়া সত্বেও অতি আগ্রহ ভরে অন্যদের চেয়ে বেশী মাত্রায় স্বামীর সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশী ছিলেন। স্বামীর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন তার জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয় যায়। আল্লাহ পাক আমাদের প্রিয় নবী (সা) কে যেমনি দুনিয়ার মানুষের হেদায়াতের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন ঠিক তেমনি তার প্রিয়তমা স্ত্রীদেরকেও একই উদ্দেশ্যে মনোনীত করেছিলেন। তারা যেন তাদের প্রাণপ্রিয় স্বামী নবী করীম (সা) কে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে পারেন। রাসুলে করীম (সা) যেমন ছিলেন উচ্চ বংশের, অভিজাত খান্দানের মানুষ। এইভাবে আল্লাহ পাক তার প্রিয়তমা স্ত্রীদেরকে তাদের নানা বৈশিষ্ট্যের কারণে উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিলেন। যাতে উম্মতে মুহাম্মদী তাদের দাম্পত্য জীবন অনুসরণ করবে এবং তাদের বর্ণিত নবী জীবনীর আদর্শ থেকে পথ নির্দেশ লাভ করবে। রাসুলে করীম (সা) যে মহান আদর্শ বাস্তবায়নে সচেষ্ট ছিলেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীরাও ছিলেন সেই আদর্শের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত ও মৃর্ত প্রতীক। তারা তাদের দাম্পত্য জীবনে আল্লাহ ও তার রাসুলের সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তারা পার্থিব জগতের ভোগ বিলাসকে প্রত্যাখান করেন এবং রাসুলের (সা) প্রতি নিবেদিত থেকে তাকে ভালবেসে জীবন কাটাতে চেয়েছিলেন। রাসুলে করীমের (সা) প্রতি তাদের আনুগত্য ও ভালবাসার উজ্জল নমুনা তা মুসলিম স্ত্রীদের জন্যে বাস্তব দৃষ্টান্ত। 
উল্লেখিত ঘটনার আলোকে জানা যায় যে, রাসুলে করীমের (সা) দাম্পত্য জীবনে ছিল গভীর ভালবাসা, পারস্পরিক সহমর্মিতা, সীমাহীন আবেগ ও নিষ্ঠা। রাসুলে করীম (সা) বৈধতার মধ্যে থেকেই তার স্ত্রীদের মনোরঞ্জন করতেন। তাদের সাথে রসিকতাও বৈধভাবে করতেন। স্ত্রীদের নির্দোষ ইচ্ছা আকাংখাই তিনি পুরণ করতেন। তাদের সুখ ও দুঃখের সাথী ছিলেন। সকল বিষয়েই তিনি স্ত্রীদের সাথে আলোচনা করতেন। এমনকি তিনি স্ত্রীদেরকে তার গোপন কথার আমানতদার মনে করতেন। 
---------------------অসমাপ্ত 

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৬

মা ও মেয়ে একটি বাস্তবতা

মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর যখন সে আবার বাবার বাড়ি আসে তখন মা খুব আগ্রহ ভরে জানতে চায় যে ঐ বাড়িতে তার কেমন লেগেছে ?

মেয়ে জবাবে বলে- “ আমার ওখানে ভালো লাগেনা। মানুষগুলো কেমন যেন। পরিবেশটাও আমার ভালো লাগছেনা”।
মেয়ের ভেতর এক ধরনের হতাশা দেখতে পায় তার মা।
দেখতে দেখতে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। মেয়ের চলে যাবার সময় চলে আসে।
চলে যাবার ঠিক আগের দিন মা তার মেয়েকে নিয়ে রান্না ঘরে প্রবেশ করেন। মা হাড়িতে পানি দেন এবং তা গরম করতে থাকেন।
একসময় যখন তা ফুটতে থাকে তখন মা হাড়িতে গাজর, ডিম আর কফির বিন দেন। এভাবে বিশ মিনিট পর মা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। একটি বাটিতে গাজর, ডিম এবং কফির বিন নামিয়ে রাখেন। এবার তিনি মেয়েকে উদ্দেশ্য
করে বলেন- “তুমি এখান থেকে কি বুঝতে পারলে আমাকে বল” ?
.
মেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে- “আমি দেখলাম তুমি গাজর, ডিম আর কফির বিন সিদ্ধ করলে মাত্র”।
.
মেয়ের কথা শুনে মা বললেন- “হ্যাঁ, তুমি ঠিকই দেখেছ। তবে তুমি কি আরও কিছু লক্ষ্য করনি?”
মেয়ে বলে- “ না- মা,”
.
মা বলে- “গাজর মোটামুটি শক্ত ধরনের, ডিম খুব হালকা আর কফির বিন খুবই শক্ত। কিন্তু যখন এগুলিকে গরম পানিতে রাখা হল তখন তিনটি জিনিসের তিন রকম অবস্থা হল। গাজর খুব নরম হয়ে গেল, আর ডিম শক্ত হয়ে গেল আর কফির বিন সুন্দর ঘ্রান আর মিষ্টি স্বাদে পানিতে মিশে গেল”।
.
মা এবার দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে যেন অনেক অতীতে চলে যেতে চাইলেন। তারপর আবার বাস্তবে ফিরে এসে মেয়ের দিকে ফিরে বললেন- “আমি তোমাকে এখন যে কথাগুলি বলব, আমার মাও ঠিক এইভাবেই আমাকে এ কথাগুলি বলেছিল। আমি জানিনা কথাগুলি তোমার কতটুকু উপকারে আসবে, তবে আমার জীবনকে অনেক প্রভাবিত করেছিল”।
.
মা কিছুক্ষন বিরতি দিয়ে বলতে লাগলেন- “তুমি যদি তোমার স্বামীর বাড়িতে নিজেকে কঠিনভাবে উপস্থাপন কর, তবে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে তোমার সংঘর্ষ হবে- তোমাকে দুর্বল করে ঠিক গাজরের মতই নরম করে ফেলবে- তোমার ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলবে।
.
যদি তুমি নিজেকে নরম-ভঙ্গুর করে উপস্থাপন কর তবে প্রতিকূল পরিবেশ তোমাকে কব্জা করে ফেলবে, আঘাতের পর আঘাত এসে তোমার হৃদয়কে একসময় কঠিন করে ফেলবে ঠিক ডিমের মত।
.
কিন্তু তুমি যদি তোমার ভালবাসা দিয়ে নিজেকে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে মিশিয়ে দিয়ে তার অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পার তবে পরিবেশ সুন্দর হয়ে উঠবে ঠিক যেমন কফির বিন গরম পানির সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে পানিকে সুস্বাদু
আর চারপাশকে মিষ্টি ঘ্রানে ভরিয়ে দিয়েছে”।
.
পরের দিন যখন মেয়েটি তার স্বামীর বাড়িতে যাচ্ছিল তখন তার ভিতর এক আশ্চর্য শান্ত ভাব আর এক দৃঢ় প্রত্যয়
প্রকাশ পাচ্ছিল।''
(অনুবাদকৃত গল্প-বিমূর্ত)
.
আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি সবসময় অনুকুল থাকবেনা, তাই বলে নিজেকে পরিস্থিতির কাবু না করে র্ধৈয্য, ভালবাসা, সহমর্মিতা নিয়ে পরিস্থিতিকে কাবু করতে হবে । সুখ সবসময় নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।

বিশ্ববাসীর প্রতি এক ধর্ষিতা রোহিঙ্গা বোনের আহবান

রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।জলে কুমির ডাংগায় বাঘ।আজকে দুটি ঘটনা আমাকে ভীষণ ব্যতিত করেছে।নিরবে কিছুক্ষন অশ্রু বিসর্জন দিয়ে মনটাকে হাল্কা করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়েছি। প্রথম ঘটনা হচ্ছে আজকে মংডুর রামাবাইল্লা নামক গ্রামে মিয়নমার বর্বর মিলিটারী হানা দেয়।এখন স্বভাবত: সব রোহিঙ্গা পল্লিই থাকে পুরুষশুন্য কারণ পুরুষ দেখামাত্রই আগে গুলি পরে কথা আর মহিলারা ও নিরাপত্তার ভয়ে এক জায়গায় জড়ো হয়ে থাকেন।মিলিটারী এসেই শুরু করে মারধর ও পালাক্রমে গণধর্ষন।মহিলারা কান্নাকাটি শুরু করলে ৪৫ বয়সী এক মহিলাকে মেরে মাথা থেতলে দেয়।যাওয়ার সময় মিলিটারী তাদের বসের জন্য মিলিটারী ক্যাম্পে ২ জন যুবতীকে সংগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।এতে মহিলারা মিলিটারীর পায়ে পড়ে অনুনয় করলে আরেকদফা মারধর করে চলে যাওয়ার সময় পরিধেয় ও শীতবস্ত্র গুলোতে আগুন দেয়,ঘরে থাকা খাবারের চাল গুলো বাহিরে ফেলে দিয়ে চলে যায়। দ্বিতীয় ঘটনাটি বড়ই বেধনাবিধুর এবং নির্মম পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশ হিসেবে যা কল্পনা করতেই গা শিউরে ওঠে।গত কদিন ধরে একটা খবর কানে আসছিল সত্যতা জানতে আজ টেকনাফে কর্মরত জনৈক সংবাদ কর্মিকে ফোন দিলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার নামক গ্রাম দিয়ে আরাকান থেকে পালিয়ে আসা কিছু রোহিঙ্গা শিশু ও মহিলাদের স্হানীয় বখাটেরা আটক করে দুজন রোহিঙ্গা যুবতীকে নির্জন এলাকায় নিয়ে উপর্যপুরী ধর্ষন করে।মুমূর্ষ অবস্হায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে হতভাগীনিরা মারা যান।কাফিরদের হাতে ইজ্জত গেলেও প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল সে সম্ভ্রম রক্ষা করতে মুসলিম দেশে এসে প্রাণটা দিতে হল।
আমার অবলা বোনদের।শুনেছি ঘটনা প্রশাসন জানতে পেরেছে এবং অপরাধীরাও চিন্হিত হয়েছে তবে বাদী না থাকায় মামলা হয়নি।হয়ত ঐ আদালতেই মামলা হবে যেখানে বাদীর প্রয়োজন হবেনা।মিয়ানমারে কাফের হাতে ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনা অহনিশী ঘটছে কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যখন আশ্রয় নিতে আসা মুসলিম দেশে হয় কষ্টটা তখন রাখার জায়গা থাকেনা। ২০১২,মিয়নমারের গণহত্যা শুরু হলে সাগর পথে আকিয়াব থেকে একটি নৌকাভর্তী রোহিঙ্গা নারী শিশুরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশের দিকে আসলে বিজিবি তাদের সাগরে ঠেলে দেয়।আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গারা কিছুদূর গিয়ে রাতের আধাঁরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।এরই মাঝে শাহপরীরদ্বীপ থেকে কিছু যুবক ট্রলারে করে গিয়ে ছয়জন মহিলাকে ধর্ষণ করে এবং লুটপাঠ করে।আজকে শাহপরীরদ্বীপ সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে,বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্যএলাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শুনে ঐ ঘটনার কথা মনে পড়লো।যে লোকালয়ের বাতাসে অবলা নারীর চিৎকার আহাজারী আছে সে লোকালয়ের বাতাস বিষাক্ত।
উখিয়া নিউজ


রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

খুদে আইনস্টাইন

Mukimul Ahsan Himel made an extraordinary movie, খুদে আইনস্টাইন for Channel 24 to spread #PresidentObama recognition to Soborno Isaac (সুবর্ণ আইজ্যাক). Millions of people cried in joy as they watched it on TV: http://bari-science-lab.com
Click Here to see more

শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৬

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  পাকিস্তানের একজন বিশ্বখ্যাত চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ ইশান খান। তিনি নিউরো মেডিসিন (মস্তিষ্ক) বিশেষজ্ঞ। মস্তিষ্কের সব জটিল রোগের চিকিৎসায় তার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। একবার ডাঃ ইশান বিমানে চড়ে পাকিস্তানের করাচী থেকে অন্য একটি শহরে যাত্রা করলেন। কিছু দূরে যেতেই বিমান ঝড়ে কবলিত হলো। কোন উপায় না দেখে পাইলট বিমানের জরুরী অবতরণ করালেন দূরের ছোট্ট একটি বিমান বন্দরে। বিমান থেকে সব যাত্রীরা নেমে বাহিরে দাঁড়ালো, ডাক্তার ইশানও নামলেন। তিনি পাইলটকে জিজ্ঞাসা করলেন অন্য কোন ভাবে ঐ শহরে যাওয়া যাবে কিনা। কারন ডাঃ সাহেবের ঐ শহরে যাওয়াটা খুব জরুরী। কোন না কোন ভাবে ডাক্তার ইশান এর জন্য তিন চাকার একটি গাড়ীর ব্যবস্থা করা হলো। ডাক্তার সাহেব গাড়িতে রওয়ানা করলেন মূল সড়কে গিয়ে গাড়ি ধরার জন্য।
অচেনা গ্রামের মেঠো পথে আঁকাবাঁকা হয়ে গাড়ী চলছে। তখন গভীর রাত, চারদিকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, যেনো আকাশের সব মেঘ আজ ধরার বুকে নামার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে।নাহ, এ পরিস্থিতে আর এই ভ্যানগাড়ীতে বসে থাকা সম্ভব নয়। ডাঃ ইশান বড্ড ভয়ও পাচ্ছেন। দূরে একটা ছোট্ট কুটির দেখা যাচ্ছে, সেখানে নিভু নিভু আলো জ্বলছে, ডাঃ ইশান দৌড়ে গেলেন ঘরের দিকে। একবৃদ্ধা দরজা খুললেন, ডাঃ তাঁর সব ঘটনা খুলে বললেন এবং রাতে থাকার আশ্রয় চাইলেন। বৃদ্ধা ডাঃ কে আপ্যায়ন করলেন,ওজু নামাজের ব্যবস্থা করলেন। নামাজের বিছানার পাশে দেখলেন একটি অসুস্থ ছোট্ট শিশু ঘুমিয়ে আছে। ডাঃ সাহেব বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই শিশুটি কে এবং তাঁর কি হয়েছে?বৃদ্ধা উত্তর করলেন এ শিশুটি আমার নাতি, তাঁর মা বাবা মারা গেছে। সে খুব অসুস্থ, তাঁর চিকিৎসা এ দেশে কোন ডাক্তারই করতে পারছেনা, তবে একজন বিশেষজ্ঞ পারবেন বলে সবাই পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা ডাঃ সাহেবের সাথে দেখা করার জন্য যখন চেষ্টা করলাম তখন তাঁরা আমাদের ৬ মাস পরের সিরিয়াল দিয়ে দেখা করতে বলেছেন।আমি প্রতি ওয়াক্ত সালাতের শেষে আল্লাহর কাছে বলি ওগো দয়াময় এ শিশুটি এতিম, ও ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত , তোমার কুদরতী তাজাল্লী দিয়ে আমাদের সাহায্য করো। ডাঃ সাহেবের সাথে আমার দেখা করার পথ সহজ করো। প্রসেসর ডাঃ ইশান বললেনঃ মা সে ডাক্তারের কি নাম? বৃদ্ধা উত্তরে বললেনঃ ডাঃ ইশান!
এবার ডাক্তার অঝর ধারায় চোখের পানি ফেল কাঁদছেন আর বলছেন “মাগো আমিই ডাক্তার ইশান”এখন বুঝেছি কেন আমার প্লেন নষ্ট হলো, কেন এতো ঝড় তুফান নেমে এলো, কেনইবা আমি এ বাড়িতে আশ্রয় নিলাম। বৃদ্ধা দুহাত তুলে অতঃপর মহান রবের সেজদায় চিৎকার করে কাদতে লাগলেন।বাহিরে অঝর ধারায় বারি প্রবাহিত হচ্ছে, আর জীর্ণ কুটিরে চোখের পানিতে নামাজের মুসাল্লা ভিজিয়ে দিচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে নামী চিকিৎসক ডাঃ ইশান।
শিক্ষাঃ মুসলিম ভাইয়েরা কখনো আপনার রবের ক্ষমতাকে সামান্য ভাববেননা, মনে রাখবেন, আল্লাহর জন্য অসম্ভব বলে কিছুই নেই। লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা।
আপনি যত বড় পাপী হননা কেন, আল্লাহ্ তায়ালা আপনার ডাকে সাড়া দিবেনই, যদি আপনি পরিপূর্ণ ঈমানের সাথে আল্লাহ্ তায়ালাকে ডাকতে পারেন।
সংগৃহিত

সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন’ বই এর মোড়ক উন্মোচন


আলহামদুলিল্লাহ, গতকাল ২৫ নভেম্বর, চট্টগ্রামের স্টেশরোডস্থ মটেল সৈকতের হলঘরে এক চমৎকার এক অনুষ্ঠানে সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন বই এর মোড়ক উন্মোচন হল।আজিজুর রহমান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের রেক্টর্, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. আবদুল করিম মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় মঞ্চে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বঙ্গ এন সি সি হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রফেসর ডা. শ্রীকান্ত চৌধুরী, পশ্চিম বঙ্গ মেট্রোপলিটন হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রফেসর ডা. শীলাদিত্ত মুথার্জি প্রমুখ।

শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৬

রোহিঙ্গা কারা?


বর্তমান মিয়ানমারের রোহিং (আরাকানের পুরনো নাম) এলাকায় এ জনগোষ্ঠীর বসবাস। অষ্টম শতাব্দীতে আরবদের আগমনের মধ্য দিয়ে আরাকানে মুসলমানদের বসবাস শুরু হয়। আরব বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠী মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নিকট) চেয়ে মধ্য আরাকানের নিকটবর্তী ম্রক-ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে পছন্দ করতো। এই অঞ্চলের বসবাসরত মুসলিম জনপদই পরবর্তীকালে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে
ইতিহাস ও ভূগোল বলছে, রাখাইন প্রদেশের উত্তর অংশে বাঙালি, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোগল, আরবীয় ও পাঠানরা বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর বসতি স্থাপন করেছে। তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। উর্দু, হিন্দি, আরবি শব্দও রয়েছে। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস ‘মগ’ ও ‘রোহিঙ্গা’। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগের মুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে ‘মগ’দের। এক সময় তাদের দৌরাত্ম্য ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়।
ইতিহাস এটা জানায় যে, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহিঙ্গা স্বাধীন রাজ্য ছিল। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হয়। সে সময়ে পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এ জনগোষ্ঠীর কয়েকজন পদস্থ সরকারি দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে মিয়ানমারের যাত্রাপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। রোহিঙ্গাদের জন্য শুরু হয় দুর্ভোগের নতুন অধ্যায়। সামরিক জান্তা তাদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে। তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ধর্মীয়ভাবেও অত্যাচার করা হতে থাকে। নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া হয়। হত্যা-ধর্ষণ হয়ে পড়ে নিয়মিত ঘটনা। সম্পত্তি জোর করে কেড়ে নেওয়া হয়। বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত করা হতে থাকে। তাদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নেই। বিয়ে করার অনুমতি নেই। সন্তান হলে নিবন্ধন নেই। জাতিগত পরিচয় প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। সংখ্যা যাতে না বাড়ে, সে জন্য আরোপিত হয় একের পর এক বিধিনিষেধ। 

To be continue

গণভবনে নৌকা প্রতীকের সভা সুস্পষ্ট আচরণবিধির লঙ্ঘন

নাসিক নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ স্থানীয় নেতাদের নিয়ে সরকারি বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান।
বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর বুধবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ তোলেন বিএনপির এই প্রার্থী।
মনোনয়ন জমার শেষ হওয়ার আগের দিন বুধবার দুপুরে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সাখাওয়াত।
এর আগে, মঙ্গলবার গণভবনে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইভীকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সাখাওয়াত বলেন, ‘যদিও তিনি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত না, তারপরও তিনি দেশের অর্থাৎ সকলের প্রধানমন্ত্রী। গণভবন একটি সরকারি বাসভবন। সেখানে একজন প্রধানমন্ত্রী সুর্নিদিষ্ট দলীয় প্রার্থী নিয়ে কোনো সভা করতে পারেন না। এটা নির্বাচনী আচরণবিধির পর্যায়ে পড়ে না’।
তিনি বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু ভোট আশা করি। ভোটাররা নির্বাচনে গণতন্ত্রের যে অধিকার সেই অধিকার থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।
‘সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ জনগণ নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং পছন্দের প্রার্থীকে যেন ভোট দিতে পারে’।
এই নির্বাচন কমিশনার ও সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা এই কমিশনার সর্বশেষ নির্বাচন তাই আমরা অত্যন্ত আশা নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি’।
সাত খুনের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাখাওয়াত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির একটি কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি।
এদিকে দলভিত্তিক এ নির্বাচনে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে কোনো বিষয়কে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে আমলে নিতে নারাজ নির্বাচন কর্মকর্তারা।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি এখন পর্যন্ত পান নি।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মেয়র পদের কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সবকিছুই হতে হবে নির্বাচনী আইন-বিধি মেনেই। প্রার্থীরা কী পারবে, কী পারবে না-তা স্পষ্ট বলা রয়েছে’।
কোন বিষয়টি আচরণবিধির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে, তা উল্লেখ করে অভিযোগ দিতে প্রার্থীদের প্রতি পরামর্শ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ইতোমধ্যে মতবিনিময়ের প্রচেষ্টা চালানোয় কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য এক প্রার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই রিটার্নিং কর্মকর্তা।
উৎসঃ   আরটিএনএন

মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের নামাজে জানাযা সম্পন্ন


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফটিকছড়ি থানা শাখার সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফটিকছড়ি পৌরসভা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের নামাজে জানাযা সম্পন্ন হয়েছে।

আজ বাদ এশা ফটিকছড়ি আমানবাজার সংলগ্ন মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা আলহাজ্ব সরোয়ার আলমগির, আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, হারুয়ালছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইকবাল চৌধুরি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. এ সালাম, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, মাওলানা ইউছুফ, বিবিরহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি, কার-মাইক্রো-হাইচ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

জানাযায় ছাত্রশিবির ও জামায়াতের মহানগর, জেলা ও স্থানীয় দায়িত্বশীল ও সাবেক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান আজ সকাল ১০.০০ ঘটিকায় চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬

মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর গণহত্যা বন্ধ করুনঃ দেশব্যাপি জামায়াতের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালিত

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর সেই দেশের সরককার কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা বন্ধের দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ন িবিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিতঃ 

 ঢাকা মহানগরী উত্তর


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন বলেছেন, মিয়ানমানমার বর্গীদের রোহিঙ্গাদের উপর চালানো বরর্বতা ও নির্মমতা হালাকুখানের বাগবাদ ধবংসের নির্মমতাকেও হার মানিয়েছে। নির্বিচারে চলছে ইতিহাসের জঘণ্যতম গণহত্যা। সেনাবাহিনী সহ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার বাড়ীঘরে হামলা, লুট-তরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নারীদের গণধর্ষণ চালাচ্ছে। তিনি মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর চালানো নির্মম গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ওআইসি সহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবন জানান। 

তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ১০ নং গোল চত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান, মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, মোস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দীন, ডা. শফিউর রহমান, আবুল ফজল, জসিম উদ্দীন ও একেএম সোলাইমান সহ বিভিন্ন থানার সেক্রেটারিগণ।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনা বাহিনী ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পুরা রাখাইন রাজ্যকে নরকে পরিণত করেছে। সেখানে গত প্রায় দেড় মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪ শতাধিক মুসলামনকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। শতাধিক নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধর্ষণের পর কাউকে কাউকে হত্যাও করার ঘটনাও ঘটেছে। ঘাতকদের নারকীয় তান্ডব এখনো অব্যাহত আছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে বাধা দিচ্ছে। মূলত সরকার রোহিঙ্গাদের রক্ষায় কোন ভূমিকা তো পালন করছেই না বরং তাদেরকে আবারও ঘাতকের মুখেই ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরি ও রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ পুরো রাখাইন রাজ্যকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছে। 'সেনাবাহিনী বিভিন্ন পাড়ার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। মুসলমানদের সহায়-সম্পদ লুন্ঠন করা হচ্ছে। লোকজনকে গুলি করে হত্যা করে লাশের সাথে পৈশাচিক আচরণ করছে। প্রতিনিয়ত পোড়া লাশের গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে। ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে লোকজন যখন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, তখন হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলিবর্ষণ করে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।' 'রোহিঙ্গারা যেখানে গিয়ে লুকাচ্ছে, সেখানে রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে পথেঘাটে, খালে নদীতে তাদের মেশিনগান দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে।' তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে সোচ্চার হওয়া এবং মানবিক সাহায্য প্রদানের জন্য আহবান জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির বলেছেন, রোহিঙ্গাদের আর্তনাদে রাখাইন রাজ্যের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। গ্রামের পর গ্রাম পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে। প্রতিনিয়ত স্বজনহারাদের আহাজারী শোনা যাচ্ছে। অগণিত বনি আদম আশ্রয় নিচ্ছে বনে-জঙ্গলে বা কোন উন্মুক্ত স্থানে। জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকার তাদেরকে আশ্রয় না দিয়ে উল্টো তাদেরকে বর্মী ঘাতকদের মুখেই ঠেলে দিচ্ছে। তিনি মিয়ানমারে গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় সহ রোহিঙ্গাদের বাঁচাতে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহবান জানান। 
তিনি আজ রাজধানীতে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি গেন্ডারিয়া রেল স্টেশন থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুরাইনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন, সেক্রেটারি শফিউল আলম, জামায়াতে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য ডা. খন্দকার আবু ফতেহ, নিজামুল হক নাঈম, আব্দুর রহীম ও শাহজাহান খান, জামায়াত নেতা মহীউদ্দীন, বোরহান উদ্দীন, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, ছাত্রনেতা আবদুল হামিদ, কাজী মাসুম, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, তারেক নাসরুল্লাহ ও নূরুজ্জামান প্রমূখ।

আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ স্যাটেলাইটে ধারণ করা বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি বাড়ী ধ্বংস করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ বলছে, সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত সেখানকার ত্রিশ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনী ৬৯ জন রাখাইনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। এ পর্যন্ত সহ¯্রাধিক নাগরিককে তারা আটক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। মূলত বর্মী বর্গীরা মুসলমানদের উপর নির্মম গণহত্যা চালিয়ে মাতম প্রকাশ করলে বিশ্ববিবেক রহস্যজনকভাবে নিরব। তিনি রোহিঙ্গাদের রক্ষায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ওআইসি সহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

তিনি বলেন, রাখাইন প্রদেশের মংডু জেলার উত্তরে ঘটনার ভয়াবহতা অতীতের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় সাত দশক আগে থেকে রাখাইন প্রদেশে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের সূত্রপাত। নানান অজুহাতে ছলচাতুরিতে সে দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা বারবার নিপীড়ন চালিয়েছে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর। বর্বর অমানবিকতার সকল রেকর্ড ছাড়ানোর কথা বিশ্বজুড়ে পৌঁছে গেছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। অনুরোধও জানানো হয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও অনুরোধকে উপেক্ষাই করে চলেছে। উপরন্তু রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, গাজীপুর, মোমেনশাহী, নারায়াণগঞ্জ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কক্সবাজারসহ সারাদেশেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ পালন করে জামায়াত।

মাহমুদুর রহমান: মজিবুর রহমান মন্জু

.বন্ধুর পথে চলতে চলতে কাজের সূত্রে দেখা
সে দেখার পর তোমার-আমার মিলেছে সরল রেখা
সংগ্রামী তুমি সাহসী যোদ্ধা শেখনি হটতে পিছু।
গালি অপমান জেল রিমান্ডে মাথা করনিকো নীচু।
সবাই যখন ভয়ে কাচু-মাচু সত্য লিখেনি হায়!
নির্ভীক তুমি লিখে গেছো সব কাঁধে নিয়ে তার দায়।
আমারদেশ কে বানিয়েছো তুমি ন্যায়ের কন্ঠস্বর
তাই কেঁপে ওঠে দূর্নীতি আর জুলুমবাজের ঘর।
বিচারের নামে কেলেঙ্কারির মুখোশ দিয়েছো খুলে
সেই কলংক বিশ্ব বিবেক যাবেনা কখনো ভুলে।
অর্থের লোভ ক্ষমতার মোহ হুমকি মৃত্যুভয়
দলেছো দুপায়ে তুলেছো ঝান্ডা ঈমান করোনি ক্ষয়।
শাহবাগ থেকে ফ্যাসিবাদী ঝড় আঘাত হানার কালে
তুমি একা ডাক দিয়েছিলে রুখো বজ্র নিনাদ তালে।
তোমার সে ডাকে ঘরে ঘরে ওঠে মুক্তির জয়গান
জেগে ওঠে সব নিপীড়িত মন জনতার সংগ্রাম
হাতে হাত রেখে মজলুমানেরা একাকার হয় পথে
প্রবল জোয়ারে সিংহাসনের খুটি টলে যায় তাতে।
শোষকের গুলী এফোঁড় ওফোঁড় করেছে হাজার বুক।
সেই কালো রাত বীভৎস স্মৃতি চিরজীবনের দূখ।
আধার রাতে পুলিশের দল ঘেরিছে আমারদেশ
বন্দী করেছে কাটেনি যখনো আলো আঁধারির রেশ
তিল তিল করে দিয়েছে কষ্ট রিমান্ডে চোখ বেঁধে
হত্যা করতে চেয়েছে তোমায় বন্য হিংস্র জেদে
কঠিন ধৈর্যে অটল থেকেছো করোনি সমর্পন
চোখের জলে জানিয়েছে জাতি তোমায় সমর্থন।
পথে আজ নেই ঝাঁঝালো মিছিল নেইতো মুষ্টি হাত!
যেই হাত তুলে বলেছিলে তুমি রুখে দাও ফ্যাসিবাদ।
ঘরে ঘরে আছে চাপা কান্না তপ্ত দীর্ঘশ্বাস।
মুক্তির পথ আর কতদূর কেটে যায় দিন মাস।
তুমি বলেছিলে সংগ্রাম ছাড়া যায়না বিজয় গড়া
আঘাত আসলে বুক টান করে হাতে হাত ধরে দাড়া।
এ জাতি আবার দাঁড়াবে সত্য তোমার হাতটি ধরে,
অপেক্ষা আছে সম্বল হয়ে বাংলার ঘরে ঘরে।
বুড়িগঙ্গায় জোয়ার উঠবে কর্ণফুলীতে গান।
তুমি আসবেই বিপ্লবী রুপে মাহমুদুর রহমান।

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বরতম গণহত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিক্ষোভ মিছিল



মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বরতম গণহত্যার প্রতিবাদে আজ সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা মহানগরী উত্তর' শাখার উদ্দ্যোগে মিরপুর দশ নং গোল চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য জনাব মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন ও মো: মাহফুজুর রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার করীম, মোস্তাফিজুর রহমান, আশরাফুল আলম, নাসির উদ্দিন, ডা: শফিয়ার রহমান, আবুল ফযল, জসিমউদ্দিন ও কে এম সোলায়মান।

এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন থানার সেক্রেটারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। মিছিলটি মিরপুর দশ নং গোল চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেনারসি পল্লীর এক নম্বর গেটে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর বর্বরতম গণহত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি'সহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানানো হয়। সেই সাথে বাংলাদেশসহ সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে মানবিক সাহায্যের আহবান জানানো হয়। 

নবনির্বাচিত আমীরে জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অন্তরালে || ড. মোঃ নূরুল আমিন ||

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমীর জনাব মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের নতুন নতুন ষড়যন্ত্র নিয়ে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে বলে মনে হয়। অনেকে বলছেন, আসলে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ নয় বরং জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হওয়াই তার প্রধান অপরাধ। জামায়াত সততার কথা, সত্যের কথা বলে। অন্যায়-অবিচার ও ব্যভিচারের বিরোধিতা করে এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত ইনসাফ ও সুশাসন ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। সৎ ও যোগ্য লোকের শাসনের কথা বলে এবং প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে শিক্ষা-প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৎ, যোগ্য, নিষ্ঠাবান ও দেশপ্রেমিক লোক তৈরি করে। ধাপে ধাপে তাদের অগ্রগতি উক্ত মহলের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে মনে হয়।
এক একজন করে জামায়াতের শীর্ষ ও প্রতিভাবান নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে, সকল নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইনের সার্বজনীন বিধিমালার প্রয়োগ তাদের বেলায় বন্ধ রেখে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেও তাদের পিপাসা মিটেনি। তারা ভেবেছিলেন এতে নেতৃত্বশূন্য হয়ে দলটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। জনাব মকবুল আহমাদ প্রায় ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আমীরের দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমীর নির্বাচিত হয়ে দলের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন এবং শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রদত্ত তার ভাষণ দেশে-বিদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের যেমন উজ্জীবিত করেছে তেমনি আলেম-ওলামা এবং সহযোগী রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এটি সহ্য করা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কাজেই জনাব মকবুলকে ঠেকানো নয়, জামায়াতকে ঠেকানো তারা জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে। এখন তারা তাকে রাজাকার বানাচ্ছেন এবং কোনো প্রকার সাক্ষী সাবুদ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বা পরিবারসমূহের অভিযোগের ভিত্তিতেও নয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মিথ্যা ও বানোয়াট কল্পকাহিনীর ভিত্তিতে তাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে।
আইসিটির একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে বলেছেন যে, রাজাকারদের তালিকায় নাকি তার নাম পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী বিষয়টিকে হাস্যস্পদ বলে অভিহিত করেছেন। জনাব মকবুল আহমাদের পিতা একজন অবস্থাসম্পন্ন দানশীল ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। মাসিক নব্বই টাকা বেতনের জন্য তিনি অথবা তার ভাই রাজাকারের চাকরি গ্রহণ করেছিলেন এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তার বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার গ্রাম বা ইউনিয়ন অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামের কোনোও লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন নজির নেই। সৎ জীবন-যাপনের অংশ হিসেবে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে শিক্ষকতার জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুশিপুর গ্রামের আহসান উল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দানের যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে তাও মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। আহসান উল্লাহর স্ত্রী সালেহা বেগম এবং তার ভাই মুজিবল হক এই অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, আহসান উল্লাহ তার সাত মাস বয়সী ছেলের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখার জন্য বাড়ি এসেছিলেন এবং পরে তিনি বাড়ি থেকে ছিলনিয়া বাজারে যান এবং সেখান থেকে ফেরত আসেননি। ধরে নেয়া হয়েছে যে তিনি মারা গেছেন; কিন্তু তার লাশ কোথাও পাওয়া যায়নি। এর সাথে জনাব মকবুল আহমাদের কোনো সংশ্লিষ্ট ছিল না। একইভাবে লালপুর গ্রামের হিন্দু পাড়ার আগুন দেয়া এবং ১১ ব্যক্তিকে হত্যা করার যে অভিযোগ এখন তার বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে লালপুরের হিন্দু পাড়ার বাসিন্দারাও তাকে সর্বৈব মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন যে, জনাব মকবুল আহমাদ ও তার দল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করেছেন; বিপদে-আপদে সাহায্য করেছেন। তাদের পাড়ায় আগুন লাগানো অথবা হিন্দুদের হত্যা করার সাথে তার কোনো সংশ্রব নেই। তারা এও অভিযোগ করেছেন যে, জনাব মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য কিছু কিছু লোক ও দল তাদের বিভিন্নভাবে ভয় ও প্রলোভন দেখাচ্ছে, কিভাবে সাক্ষ্য দিতে হবে বাতলিয়ে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এটি একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।
গত শনিবার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘জামায়াত আমীর মকবুলের চিঠিতেই একাত্তরে হত্যার প্রমাণ’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টটিতে জামায়াতে ইসলামীর ফেনী মহকুমার প্যাড ব্যবহার করে মহকুমা আমীর হিসেবে জনাব মকবুল আহমাদ কর্তৃক রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামে ভারপ্রাপ্ত ডিউটি অফিসার জনাব ফজলুল হককে স্বহস্তে ইংরেজিতে একটি চিঠি লিখেছেন বলে দেখানো হয়েছে। চিঠিটি রহস্যজনক। চিঠিতে ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর নেতা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনের চট্টগ্রাম যাবার তথ্য দিয়েতাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার গতিবিধি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে ... ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। এক. ১৯৭১ সালে ফেনী মহকুমা জামায়াতের কোনো আমীর ছিলেন না, এই পদও ছিল না। তখন পদটির নাম ছিল নাজেম এবং জনাব মকবুল আহমাদ নাজেম পদেও ছিলেন না, অন্য এক স্থানীয় ব্যক্তি নাজেম ছিলেন। দুই. প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের কিছু কালচার বা সংস্কৃতি থাকে এবং তা শুরু থেকেই গড়ে উঠে।
জামায়াতে ইসলামীর কালচার হচ্ছে সরকারি, বেসরকারি অথবা আধা-সরকারি, যে ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক পত্রই হোক না কেন ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিয়ে তা শুরু করা হয়। এ ক্ষেতে তা নেই। তিন. রেডিও পাকিস্তান, চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত ডিউটি অফিসারকে তিনি পত্র লিখতে যাবেন কেন? চট্টগ্রামে কি তার সংগঠনের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি ছিলেন না?’ আরো কথা আছে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে রেডিও পাকিস্তানের কোনো আঞ্চলিক দফতর ছিল না। চট্টগ্রাম পোতাশ্রয়ে নোঙ্গর করা জাপানী একটি জাহাজের ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ব্যবহ৮ার করে প্রথমত এবং পরে কোলকাতা থেকে আরো যন্ত্রপাতি এনে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রাথমিক অবস্থায় মেজর জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ব্যাপক গোলাগুলির কারণে মে মাসের ২৫ তারিখে বেতার কেন্দ্রটি কোলকাতায় স্থানান্তরিত হয় এবং যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা সেখানেই থাকে। কাজেই আগস্ট মাসে ফজলুল হকের রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত ডিউটি অফিসার হিসেবে থাকার প্রশ্নটি অবান্তর। চতুর্থত তথাকথিত চিঠিটির হাতের লেখার সাথে আমীরে জামায়াত জনাব মকবুল আহমাদের হাতের লেখা, বাক্য গঠনপ্রণালী এবং নামের বানান কোনোটারই মিল নেই। তা হলে প্রশ্ন হচ্ছে তারা কেন এটা করলেন? নিশ্চয়ই বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখানোর জন্য। বাঙাল বা বাঙালিদের ব্যাপারে অনেক কথা আছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আক্ষেপ করে লিখেছিলেন, “সপ্তকোটি সন্তানেরে হে বিমুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি” লর্ড মেক্লে গাঙ্গেয় উপত্যকার বাঙালিদের শঠ, প্রতিহিংসাপরায়ণ, পরশ্রীকাতর স্বার্থপর, প্রতারক, মিথ্যাচারী, লোভী প্রভৃতি বিশেষণে বিশেষায়িত করেছিলেন। আবার কোনো কোনো বিদেশী পন্ডিতের ভাষায় বাঙালিরা প্রতিভাবান ও দূরদর্শী “What Bengal thinks today, India thinks tommrow” এটা তাদেরই কথা। অর্থাৎ সব বাঙালিরা অমানুষ নয়, তাদের মধ্যে মানুষও আছে। জনাব মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে আনীত এ ধরনের অভিযোগ এরআগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময়ও ফেনীর অন্যতম নিন্দিত ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারী তুলেছিলেন। কিন্তু ফেনীবাসীর প্রতিবাদের মুখে তিনি পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে এতই যদি তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ থাকে তাহলে বিগত ৪৫ বছর ধরে কেন ফেনী অথবা অন্য কোথাও তার বিরুদ্ধে কোনো থানা অথবা আদালতে জিডি বা মামলা হয়নি? এখন কেন এই মিথ্যাচার?
কারণ অবশ্য আছে। প্রথমত আদর্শিক দীনতার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দ্বিতীয়ত ইসলামভীতি এবং তৃতীয়ত দেশের বিদ্যমান অবস্থা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম সম্প্রতি ‘শান্তি হারানো এক দেশ’ শীর্ষক এক নিবন্ধে একটি কঠোর সত্য কথা বলেছেন। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ সরকার জনপ্রিয় দাবিকে উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচন ছাড়াই ২০১৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। প্রধান বিরোধী দলকে কোণঠাসা করতে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করেই যাচ্ছে সরকার। কোনো বিরোধী পক্ষকেই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে দিচ্ছে না .... পরিহাস হচ্ছে যে, দলকে আওয়ামী লীগ ধ্বংস করতে চায় সেই দলটি হয়ে উঠতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পর্দার আড়ালে অপেক্ষা করছে। বড় দুই দলের দুর্নীতি ও দলবাজিতে ত্যক্ত-বিরক্ত মানুষ জামায়াতের দিকে ঝুঁকছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের আগে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ভাগে জামায়াত অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ... পুনর্গঠিত জামায়াত যদি সৎ নেতৃত্বের দ্বারা পরিচীিলত হয়তাহলে গণেশ উল্টে যেতে পারে। আমি শুনেছি আওয়ামী সরকারকে অপছন্দ করে এমন বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যেই বলতে শুরু করেছেন, “এছাড়া আমরা আর কোথায় যেতে পারি?” আমীরে জামায়াত জনাব মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের পেছনে তাদের অস্তিত্বের ভয়ই ভূমিকা পালন করছে বলে আমার বিশ্বাস।
Source :https://goo.gl/fnmPBq

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবীতে চান্দগাঁও জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ২৩ নভেম্বর ২০১৬ইং বুধবার: মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর সেই দেশের সরবারের পরিচালিত গণহত্যা বন্ধের দাবীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চান্দগাঁও থানা জামায়াত নগরীর বহদ্দারহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
জামায়াত নেতা জনাব আবু জাওয়াদ এর নেতৃত্বে নগরীর বহদ্দারহাটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ইবনে হোসাইন, এস. এম. মাহমুদ, আবু নাহিদ, অধ্যাপক আবু এস. আফরিন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর সেই দেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন ইতিহাসের জঘন্নতম ও পৈচাষিক কায়দায় গণহত্যা ও নির্যাতনের চিত্র অনলাইন মিডিয়ায় ভাইরাল হলেও জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ পশ্চিমা বিম্বের নিরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর সেই দেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা বন্ধ করে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।  
পাশাপাশি ওআইসিসহ মুসলিম বিম্বের নেতৃবৃন্দকে অবিলম্বে মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর সেই দেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যা বন্ধ করে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসহ তাদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানান। 

১৩১৯ দিন কারাভোগের পর আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুক্তি পেয়েছেন

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্তঃ ১৩১৯ দিন কারাভোগের পর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার দুপুর একটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।
জনাব মাহমুদুর রহমানের কারা মুক্তির খবর পেয়ে মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে। ইতিপূর্বে  সকল মামলায় জামিন পেয়েও বার থেমে গেছে তার মুক্তি বার্তা। 

আজ শহীদ আলী আহসান মো: মুজাহিদের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী..

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আজ শহীদ আলী আহসান মো: মুজাহিদের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী। ঠিক এক বছর আগে, ২০১৫ সালের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ২১ নভেম্বর দিবাগত রাতে, ২২ নভেম্বর রাত ১২:৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়।

শহীদ মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয় ২০১০ সালের ২৯ জুন। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ৫ বছরেরও বেশী সময় তাঁকে কারাগারে অন্তরীন রাখা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এমনকি তাঁর জীবনের শেষ কয়টি ঘন্টায়ও কথিত ক্ষমা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে ইতিহাসের জঘন্যতম মিথ্যাচার পরিচালনা করা হয়।

তাঁকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে পরিবারের সাথে শেষ সাক্ষাত করানো হয়। তিনি জানতেনও না, যে তাঁকে ঐ রাতেই ফাঁসি দেয়া হবে। তাঁকে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিও নিতে দেয়া হয়নি। পরিবার সাক্ষাৎ করে বের হয়ে যাওয়ার ২৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।

এভাবে সর্বক্ষেত্রে মিথ্যাচার ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে শহীদ মুজাহিদকে জাতির সামনে হেয় করা হয়! তিনি হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে চলে গেছেন, যাবার আগে পরিবার ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে গেছেন, পরিবারকে তার ব্যবহার্য সকল জিনিষপত্র ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করে গেছেন।

আজ তিনি সকল ধরনের প্রোপাগান্ডা, ষড়যন্ত্র ও অন্যায় অবিচারের উর্ধ্বে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর এই মৃত্যু শহীদি মৃত্যু। তিনি এই দেশে কুরঅানের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করে গেছেন সারা জীবন। তাই আল্লাহর কাছে তিনি যেন তাঁর শাহাদাতকে কবুল করেন। তাঁর স্বপ্ন অনুযায়ী বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করে দেন। এই মাটিকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য কবুল করে নেন।

শহীদ আলী আহসান মো: মুজাহিদসহ সকল শহীদদের জন্য দেশবাসীর কাছে আমরা দোয়ার আবেদন করছি। আল্লাহ যেন আমাদের উন্নত ধৈর্য্য ধারন করার ও শহীদের স্বপ্ন অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। অামীন। 

-সংগৃহিত
Like
Comment