ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৪

আওয়ামীলীগ হলো সর্বকালের শ্রেষ্ট জালিম সরকারঃ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


তারিখঃ ২৯/১১/২০১৪
আওয়ামীলীগ এখন ধর্ষকের দলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে একটি ট্রাইব্যনাল গঠন করে সরকার জামায়াতের নিরপরাধ নেতেৃবৃন্দকে কথিত র্ধষণের দায়ে বিচার করছে। প্রতিনিয়ত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। কিন্তু তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। আওয়ামীলীগ এখন একটি ধর্ষকের দলে পরিণত হয়েছে।
শনিবার বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন।

তিনি বর্তমান সরকারকে জালিম সরকার উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামীলীগ হলো সর্বকালের শ্রেষ্ট জালিম সরকার। অতীতের সব জালিম শাসকরা ধ্বংস হয়ে গেছে। টিকে আছে মজলুমরা। বর্তমান জালিম সরকারও ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিবিরের ৩জন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন করে তাদেরকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
তারা সংবিধান থেকে আল্লাহ উপর আস্থা বিশ্বাস মুছে ফেলেছে। তারাও একদিন মুছে যাবে। এই সরকার জুলুম থেকে ৯০ বছর বয়সের মানুষও রেহায় পাচ্ছে না।
অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকার দিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের অকাল মৃত্যুতে সারা দুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের ন্যায় শোকে কাতর বাংলাদেশও

 ঢাকা: ক্রিকেট মাঠে চোট পেয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিল হিউজের অকাল মৃত্যুতে সারা দুনিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের ন্যায় শোকে কাতর বাংলাদেশও।
শুক্রবার বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার চতুর্থ ওয়ানডেতে দু’দলের ক্রিকেটার ও ক্রীড়ামোদীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। এ জন্য ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছেন ক্রিকেটার, আম্পায়ারসহ মাঠে উপস্থিত দর্শকরা।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় খেলা শুরুর আগে ১২টা ২৪ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত নীরবতা পালন করেন দু’দলের ক্রিকেটাররা। এসময় গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন দর্শকরাও। তাদের হাতেও ছিল কালো ব্যানারে হিউজের জন্য শোক।
বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও শোক প্রকাশ করেছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘লড়াকু মানসিকতার প্রতিরূপ ছিলেন ফিলিপ হিউজ। বিশ্ব ক্রিকেট অবশ্যই তার অনুপস্থিতি অনুভব করবে। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ফিলিপের পরিবার, বন্ধু এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট পরিবারকে আমাদের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
উৎসঃ  বাংলামেইল২৪.কম

আবর রক্তাত্ত মিশর, শহীদ হয়েছেন তিন বিক্ষোভকারিসহ এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

জুমার নামাজের পর মিশরের সেনাবাহিনী দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে এবং গনতন্ত্র রক্ষার জন্য সিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলে সেনা পুলিশ নির্বিচারে গুলি করলে শহীদ হন তিন বিক্ষোভকারি 
মিশরের রাজধানী কায়রোয় অজ্ঞাত অস্ত্রধারীর হামলায় সেনাবাহিনীর এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিহত ও দুই সেনা আহত হয়েছে। 
মিশরের সেনাবাহিনী দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। তবে মুরসির সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলিমিন এ ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে। আনসার বেইত আল-মাগদিস নামের একটি তাকফিরি সংগঠন সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হয়।

মুসলিম বিশ্বের সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

মুসলিম বিশ্বের সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ইসলামি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।
‘ইসলামি বিশ্বের সংকট মোকাবিলার একমাত্র শর্ত ঐক্য, সংহতি এবং জোটবদ্ধতা। বিশ্বাস করুন, ঐক্যবদ্ধ হলেও আমরা প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারি,’ বলেন এরদোগান।

বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে ইসলামিক ইকোনমিক কোঅপারেশনের (কমসেক) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি আরো বলেন, ‘মুসলিম বিশ্ব সম্প্রতি অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি সাধন করেছে। পাশাপাশি তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।’
‘আমরা যদি (মুসলমান হিসেবে) একত্রে কাজ করতে পারি তবে আমরা শতাব্দীকাল ধরে চলা ফিলিস্তিনিদের একাকীত্ব দূর করতে পারি…আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে ইরাক ও সিরিয়ার শিশুদের রক্তের হোলিখেলা বন্ধ করা সম্ভব।’
ইরাক ও সিরিয়ার জনগণের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ‘দয়া করে এই দৃশ্যের দিকে দৃষ্টি দিন এবং ভাবুন এসব হত্যা ও সংঘাত থেকে কারা লাভবান হচ্ছে আর কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
জাতিসংঘের সমালোচনা করে স্পষ্টভাষী এরদোগান বলেন, ‘শিশুদের রক্তবন্যায় জাতিসংঘ নীরব দর্শক হয়ে থাকলেও ওআইসি তো নীরব থাকতে পারে না।’
‘ইরাক, সিরিয়া অথবা অন্যত্র যা ঘটছে তার কোনো সমাধান কী জাতিসংঘ দিতে পেরেছে? জাতিসংঘ কী ন্যায়বিচার করতে পারছে? যে সংস্থায় আদৌ ন্যায়বিচার নেই সেখান থেকে তো ন্যায়বিচার আশা করা যায় না।’
মুসলমানরা আমেরিকা আবিস্কার করেছে বলে সম্প্রতি এরদোগান যে মন্তব্য করেন সেই প্রসঙ্গে আবারো কথা বলেন তিনি। এ কারণে কিছু পশ্চিমা গণমাধ্যম তাকে টার্গেট করেছে বলেও মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
‘আমরা সভ্যতার ইতিহাস, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও সামরিক ঐতিহাসিক সত্য স্মরণ করিয়ে দেয়ায় তারা বিরক্ত হচ্ছে।’
‘কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের ৩১৪ বছর আগেই মুসলিস নাবিকরা ১১৭৮ সালে ওই মহাদেশে অবতরণ করেন,’ আবারো বলেন এরদোগান।
মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রশংসা করে বিশ্বের ১৭তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ১০ বছরে মুসলিম বিশ্বের বাণিজ্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৮১ সালে মক্কায় প্রতিষ্ঠিত কমসেকের নিজস্ব একটি রিয়েল স্টেট স্টক মার্কেট থাকা দরকার বলে মত দেন এরদোগান।
এছাড়া কমসেক স্বর্ণ বিনিময়ের পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মত মন্তব্য করেন তিনি।
উৎসঃ ফেসবুক

ঢাকা মহানগর সূত্রাপুর জামায়াতের সদস্য সম্মেলন

জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী সূত্রাপুর থানা শাখার উদ্দ্যেগে ২৯ নভেম্বর সকাল ৯টায় স্থানীয় কার্যালয়ে সদস্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 
সূত্রাপুর থানা আমীর এবিএম সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে ও থানা সেক্রেটারী মিয়া মোহাম্মদ শোয়েবের পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির।
২০১৫-১৬ সেশনের থানা আমীর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত থেকে সদস্যদের ভোট গ্রহণ করেন আবদুস সবুর ফকির। নির্বাচন পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথি বর্তমান দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন-ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রায় ভীত জালেম সরকার কুরআনভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে জামায়াতকে নেতৃত্বশুন্য করতে সুদুঢ়প্রসারি ষড়যন্ত্র করছে। বিচারের নামে অবিচার চালিয়ে নিরপরাধ শীর্ষ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। দেশ চালাতে ব্যর্থতা ঢাকতে অনির্বাচিত সরকার জনগণের সকল অধিকার হরণ করে পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছে।
জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন- সরকার তেল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। অযোগ্য শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের ব্যর্থতায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যর্থ সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল গণআন্দোলন তৈরী করে এ সরকারের পতনকে তরান্বিত করতে রুকনদের মাঠে ময়দানে সক্রিয় ও অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে।

কুমিল্লার জনসভা : ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত-শিবির

২০ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত কুমিল্লা টাউন হলের শনিবারের জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জামায়াত-শিবির।
তবে লক্ষাধিকেরও বেশি নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়ে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতের নেতৃবৃন্দ জানান, জনসভার সিদ্ধান্তের পর পরই তারা কুমিল্লা অঞ্চলের সকল জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সকল নেতা-কর্মীকে জনসভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদ-ের রায় প্রদান করে। এছাড়া দলটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল কামারুজ্জামানের চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসি বহাল রাখায় দলের নেতা-কর্মীরা ক্ষোপ প্রকাশ করে। এজন্য কুমিল্লার ২০ জোটের জনসভায় তারা ব্যাপক সংখ্যাক নেতা-কর্মীর শোডাউনের মাধ্যমে সরকারকে একটা শক্ত জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দীন মোহাম্মদ শীর্ষ নিউজ বলেন, জোটের জনসভা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি ব্যাপক। জামায়াত-শিবিরের লক্ষাধিকেরও বেশি নেতা-কর্মী উপস্থিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। 
তিনি বলেন, জনসভার মঞ্চ টাউন হল হলেও এর বিস্তৃতি হবে পুরো শহর। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। ২০ দলীয় জোটের কুমিল্লার জনসভা হবে স্মরণকালের জনসভা। সরকারের অপকর্ম ও দু:শাসনের জবাব দিতে এদিন কুমিল্লাবাসী রাজপথে নেমে আসবে।
তবে নিজেদের ঘাটি হিসেবে পরিচিত জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরও বসে নেই। জনসসভা সফল করতে তারাও নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
কুমিল্লা মহানগর শিবির সভাপতি মো. শাহ আলম তাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে শীর্ষ নিউজকে বলেন, শিক্ষানগরী হিসেবে কুমিল্লার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এখন জনসভার অপেক্ষায় আছে। কুমিল্লা অঞ্চলের আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসভা বাস্তবায়নের কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টার পর থেকেই আমাদের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জনসভায় আসতে শুরু করবে।
জনসভায় শিবিরের ৫০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটবে বলেও জানান তিনি।
সউজন্যেঃ শীর্ষ নিউজ

শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৪

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ কোটি বই ছাপাচ্ছে ভারত! ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল বলে দাবি শিক্ষাবিদদের

বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ কোটি বই ছাপাচ্ছে ভারত!
ঢাকা: বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ লাখ বইয়ের প্রথম চালান ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পৌঁছেছে।
প্রথম চালানে বই এসেছে ৩২ লাখ। ভারতে ছাপানো এসব বই সোমবার সন্ধ্যায় বেনাপোল বন্দরে পৌঁছে। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে বন্দরের ৪২ নাম্বার শেড থেকে এসব বই খালাসের কাজ শুরু হয়।
মঙ্গলবার বই পরিদর্শনে বেনাপোল বন্দরে এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নুজহাত ইয়াসমিন বলেন, এবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। ৯৫টি প্যাকেজে ২১টি মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ করছে।
এর মধ্যে ভারতের কৃষ্ণা ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৯০ লাখ বই ছাপানোর কাজ পেয়েছে। প্রথম চালানে ৩২ লাখ বই বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসার পর মঙ্গলবার দুপুর থেকে এসব বই খালাস করা শুরু হয়েছে। টেন্ডার পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানের বই ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে যাবে।
ভারত থেকে এত বিপূল বানিজ্য দেয়াকে ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল বলে দাবি করেছেন শিক্ষাবিগণ। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যবই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। প্রসঙ্গত, গত বছর ভারত থেকে তিন কোটি বই ছাপিয়ে আনা হয়।
উৎসঃ নিইজ বিডি

বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৪

২৮টি টিভি চ্যানেলের অব্যহত জামায়াত বিরোধী প্রচারনা আর গন জাগরন মঞ্চের দাবী এই দেশের মানুষের বড় একটি অংশ স্বীকার করে না

গতকাল রাতে মাছরাঙ্গা টিভিতে টক শো দেখছিলাম। সেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারশ্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের কিছু কথা খুব ভাল লাগলো। টক শোতে উপস্থিত অন্যন্য অতিথি যেমন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত কিংবা মাছরাঙ্গা টিভির উপস্থাপক রেজওয়ানুল হক কেউ পার্থের কথার খুব ভাল জবাব দিতে পারে নাই।
পার্থ বলছিলেন, গত ৬ বছর বাংলাদেশের ২৮টি টিভি চ্যানেল নিরবিচ্ছিন্নভাবে জামায়াতের বিরোধীতা করে গেছে। জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার বলে গালি দিয়েছে। অথচ তার জবাব দেয়ার জন্য জামায়াতের কোন লোককে টিভিতে ডাকা হয়নি।
ঘন্টার পর ঘন্টা টিভিতে গন জাগরন মঞ্চ দেখানো হয়েছে। সেখোনে জামায়াত নিষিদ্ধসহ আরও নানা জামায়াত বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে। অথচ উপজেলা নির্বাচনের রেজাল্ট দেখুন। শুধু জামায়াত নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়, আওয়ামী লীগের এলাকা থেকেও জামায়াতের অসংখ্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। আপনি কোন ভাবেই এই বাস্তবতাকে অবিশ্বাস করতে পারবেন না। এই নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য দেখে বোঝা যায়, ২৮টি টিভি চ্যানেলের অব্যহত জামায়াত বিরোধী প্রচারনা আর গন জাগরন মঞ্চের দাবী এই দেশের মানুষের বড় একটি অংশ স্বীকার করেনা। জামায়াত বিরোধী এই চিন্তাধারার সাথে দেশের সাধারন মানুষ একমত নয়।

লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে লুকোচুরি খেলার পরিণাম ভয়াবহ হবে : জামায়াত

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি মো: সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ক্ষমার অমার্জনীয় অপরাধ করার পরও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার পর সরকার তাকে নিয়ে দুইদিন নাটক করেছে। লতিফ সিদ্দিকীকে শুধু গ্রেফতারের মাধ্যমেই এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ শান্ত হবে না, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আর সরকার যদি তাকে কারাগারে জামাই আদরে রেখে জনগণকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। 
তখন শুধু লতিফ সিদ্দিকীই নয় সরকারকেও এদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না। কোনো লুকোচুরি খেলা তৌহিদী জনতা মানবে না। 
বুধবার সকাল ৮টায় রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বিচারের দাবিতে এক বিােভ মিছিল শেষে সমাবেশে তিনি একথা বলেন। 
মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও রমনা থানা আমির ড. রেজাউল করিম, জামায়াত নেতা অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দিন, সালাউদ্দিন, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, মেজবাউদ্দিন নাঈম, শিবির নেতা আনিসুর রহমান বিশ্বাস, তারিক হাসান প্রমুখ।

এরশাদ-হাসিনা ইতিহাসের ধিকৃত স্বৈরাচার: বি. চৌধুরী ।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, অচিরেই বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস লেখা হবে।সেখানে ধিকৃত ও জঘণ্য স্বৈরাচার হিসেবে এরশাদ এবং শেখ হাসিনার নাম লেখা থাকবে।
তিনি বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শহীদ ডা. মিলন হত্যা দিবসের’ আলোচনায় একথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই আলোসভার আয়োজক।এতে অংশ নিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নিজের জীবন দিয়ে শহীদ ডা. মিলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার মৃত্যু যুবসমাজকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল।তিনি বলেন, ডা. মিলনের গণতন্ত্র
আজ আবার জবরদখল হয়ে গেছে।আমরা যদি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানাই তবে জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ হয়ে যাব।এই সময়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হতে পারে- বর্তমান স্বৈরাচার সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা।
বর্তমান সরকারকে অদ্ভুত ও জগাখিঁচুরি আখ্যা দিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে দেশে এক অদ্ভুত ও জগাখিঁচুরি মার্কা সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করেছে,যেভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করেছে,পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই।তিনি বলেন, সরকারের অনেক দায়িত্ব। দেশের জনগণের দায়িত্ব, মানুষের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু এই সরকার এসব দায়িত্ব পালন না করে শুধু ক্ষমতা আঁকড়ে বসে আছে।বিকল্পধারা সভাপতি বলেন,‘আওয়ামী লীগ ভেবেছে আর কোনো দিন বাংলাদেশে সঠিক ইতিহাস লেখা হবে না।
কিন্তু অচিরেই বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস লেখা হবে। সেখানে ধিকৃত ও জঘণ্য স্বৈরাচার হিসেবে এরশাদ এবং শেখ হাসিনার নাম লেখা থাকবে।’তিনি বলেন, ‘ইতিহাসই তাদের বিচার করবেই, করবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়।’
এরশাদকে ইতিহাসের নিকৃষ্ট স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, ‘এরশাদ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত ও জঘণ্যতম অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তিনি নিকৃষ্ট স্বৈরাচার, বড় দুর্নীতিবাজ। অথচ
ইতিহাস ভুলে বর্তমান সরকার তার সঙ্গে জোট করেছে।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে।’ মেনন ও ইনুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইনু- মেননরা আজ তাদের ভাইয়ের রক্তের কথা ভুলে গিয়ে এরশাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে তুলেছে।এখন এরশাদকে নিয়ে তারা ডা. মিলনের কবর জিয়ারত করলে রাজনৈতিক নাটকের ষোল কলা পূর্ণ হবে।’বর্তমান সরকার স্বৈরাচারের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী।ড্যাব সভাপতি ডা. একেএম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য 
রাখেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ,আমানউল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা.এমএ মাজেদ, ড্যাব সচিব ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

গাজীপুরে জামায়াতের সমাবেশে পুলিশের গুলি

গাজীপুরে বুধবার লতিফ সিদ্দিকীর বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। এতে এক শিবিরকর্মী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। এসময় পুলিশ অন্তত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ জানান, গাজীপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দুপুরে মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকা রোডে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে পৌছে পথসভায় মিলিত হয়। এসময় পুলিশ পেছন দিক থেকে সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের অতর্কিত হামলা ও গুলিবর্ষণে শিবির কর্মী শামীম রাবার বুলেট বিদ্ধ হন। এ ছাড়া পুলিশী হামলায় আরো অন্তত ৫ নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ জামায়াত সন্দেহে জামায়াত কর্মী নিজাম (৩২) সহ অন্তত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জামায়াত জানিয়েছে।
মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি খায়রুল হাসান, সহ-সেক্রেটারি মোঃ হোসেন আলী, প্রচার সেক্রেটারি আফজাল হোসাইন, হাফেজ ইবরাহীম,সাদেকুজ্জামান খান, শিবির নেতা ইমতিয়াজ প্রমুখ।
এক যুক্ত বিবৃতিতে মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ ও সেক্রেটারি
খায়রুল হাসান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ইসলামী জনতার উপর এই নগ্ন হামলা প্রমাণ করে বর্তমান সরকার নাস্তিকদের দোসর।
বিবৃতিতে অবিলম্বে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়।
উৎসঃ নয়া দিগন্ত

একটি অসাধারণ ন্যায়বিচার ও খ্রীস্টানদের ইসলাম কবুলের ঘটনা!

একদিন আলেকজান্দ্রিয়ার খ্রীস্টান পল্লীতে হৈ চৈ পড়ে গেল। কে একজন গত রাত্রে যীশু খ্রীস্টের প্রস্তর নির্মিত প্রতিমূর্তির নাক ভেঙ্গে ফেলেছে। খ্রীস্টানরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। তারা ধরে নিল যে, এটা একজন মুসলমানেরই কাজ।
খ্রীস্টান নেতারা মুসলিম সেনাপতি আমরের কাছে এলো বিচার ও অন্যায় কাজের প্রতিশোধ দাবী করতে। আমর সব শুনলেন। শুনে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তিনি প্রতিমূর্তিটি সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করে দিতে চাইলেন। কিন্তু খ্রীস্টান নেতাদের প্রতিশোধ নেবার বাসনা ছিল অন্যরূপ। তাদের সংকল্প প্রকাশ করে একজন খ্রীস্টান নেতা বললো, "যীশু খ্রীস্টকে আমরা আল্লাহর পুত্র বলে মনে করি । তাঁর প্রতিমূর্তির এরূপ অপমান হওয়াতে আমরা অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। অর্থ এর যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ নয়। আমরা চাই আপনাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতিমূর্তি তৈরী করে ঠিক অমনি ভাবে তাঁর অসম্মান করি।"
এ কথা শুনে বারুদের মত জ্বলে উঠলেন আমর। ভীষণ ক্রোধে মুখমন্ডল উদ্দীপ্ত হয়ে উঠলো তাঁর। কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সংযত করে নিয়ে তিনি খ্রীস্টান বিশপকে লক্ষ্য করে বললেন, "আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য যে কোন প্রস্তাব করুন আমি তাতে রাজি আছি। আমাদের যে কোন একজনের নাক কেটে আমি আপনাদের দিতে প্রস্তুত, যার নাক আপনারা চান।" খ্রীস্টান নেতারাও সকলেই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো।
পরদিন খ্রীস্টানরা ও মুসলমানরা বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হলো। মিশরের শাসক সেনাপতি আমর সবার সামনে হাজির হয়ে বিশপকে বললেন, "এদেশ শাসনের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের, তাতে আমার শাসন দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। তাই তরবারি গ্রহণ করুন এবং আপনিই আমার নাসিকা ছেদন করুন।"
এই কথা বলেই তিনি বিশপকে একখানি তীক্ষ্মধার তরবারি হাতে দিলেন। জনতা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রীস্টানরা স্তম্ভিত। চারদিকে থমথমে ভাব। সে নীরবতায় নিঃশ্বাসের শব্দ করতেও যেন ভয় হয়। সহসা সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এলো। চিৎকার করে বললো, "আমি-ই দোষী! সিপাহসালারের কোন অপরাধ নেই। আমি-ই মূর্তির নাসিকা কর্তন করেছি, এই তা আমার হাতেই আছে!" সৈন্যটি এগিয়ে এসে বিশপের তরবারির নীচে নিজের নাসিকা পেতে দিল।
স্তম্ভিত বিশপ! নির্বাক সকলে। বিশপের অন্তরাত্মা রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। তরবারি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বিশপ বললেন, "ধন্য সেনাপতি, ধন্য এই বীর সৈনিক, আর ধন্য আপনাদের মুহাম্মাদ যাঁর মহান আদর্শে আপনাদের মত মহৎ, উদার, নির্ভীক ও শক্তিমান ব্যক্তি গড়ে উঠেছে। যীশু খ্রীস্টের প্রতিমূর্তির অসম্মান করা অন্যায় হয়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু তার চাইতেও অন্যায় হবে যদি আজ আমি এই সুন্দর ও জীবন্ত দেহের অঙ্গহানি করি। সেই মহান ও আদর্শ নবীকেও আমার সালাম জানাই।" এই বলে তিনি ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! আল্লাহু আকবর!
সংগৃহীত 

কাদের মোল্লার ন্যায়বিচার পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্ন........????

ফাঁসির রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার পেয়েছিলেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার আইনজীবীরা বলছেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে তাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করেছেন। তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন ১৯৭৩-এ দণ্ডিত ব্যক্তিদের পক্ষে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার আপিল বিভাগের পূর্ণ রায় প্রকাশের পর তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে সেদিন তড়িঘড়ি করে রিভিউ আবেদন করা হয়েছিল। আমরা যদি সময় পেতাম, তাহলে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের তখন সময় দেয়া হয়নি। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির এ সভাপতি আরও বলেন, কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হলেন কিনা জনমনে এখন সেই প্রশ্ন উঠেছে।
কাদের মোল্লার আরেক আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হল, কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন দায়েরের জন্য ১৫ দিন সময় ছিল। কিন্তু সরকারের তাড়াহুড়োর কারণে আমরা দ্রুত রিভিউ আবেদন করতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে তা দু’দিনের শুনানি করেই খারিজ করা হয়েছিল। রিভিউয়ের জন্য সময় পেলে কাদের মোল্লা আরও কয়েকদিন বেঁচে থাকতেন। তাকে অবশ্যই ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিনি কেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন? তার রিভিউ আবেদনের শুনানি করেই তো খারিজ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রায় দেন আপিল বিভাগ। ৫ ডিসেম্বর রায়ের পূর্ণ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি প্রকাশের পর ৮ ডিসেম্বর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনাল সেদিনই মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে আদেশটি ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
৯ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রায় পুনর্বিবেচনার এবং জেল কোডের কোনো বিধান কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তাই যে কোনো দিন তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা যাবে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যের পরের দিন রাতে ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ওই রাতেই কাদের মোল্লার পক্ষে দুটি আবেদন দাখিল করা হয় আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে। এর একটি ছিল রিভিউ আবেদন গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে, অন্যটি ছিল রিভিউ আবেদন। এ দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি কাদের মোল্লার ফাঁসি স্থগিত করার আদেশ দেন। এরপর ১১ ও ১২ ডিসেম্বর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ দুটি আবেদনই খারিজ করে দেন। ১২ ডিসেম্বর রাতেই কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর থেকে তার ফাঁসি কার্যকরে সময় লাগে এক সপ্তাহ।
জামায়াতের আরেক সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পরও একই অবস্থা দেখা যায়। ৩ নভেম্বর আপিলে ফাঁসি বহাল রাখার রায়ের পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এই রায় রিভিউয়ের (পুনর্মূল্যায়নের) কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না’। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এর আগে কাদের মোল্লার রায়ের পরেও তার পক্ষ থেকে একটি রিভিউ আবেদন হয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দেন। এক্ষেত্রে রিভিউয়ের আর কোনো সুযোগ নেই’।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যক্তিগত মত জানিয়ে বলেন, ‘কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপির প্রয়োজন হবে না। সংক্ষিপ্ত আদেশেও তার ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে’। এর দু’দিন পর আইনমন্ত্রী তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকরের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তিনি প্রাণভিক্ষার জন্য সাত দিনের সময় পাবেন। যখন থেকে তিনি মৃত্যুদণ্ড বহালের খবর শুনেছেন, তখন থেকে এ সাত দিনের গণনা শুরু হয়েছে।
পরে অবশ্য অ্যাটর্নি জেনারেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ পাঠানো হবে, নাকি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাঠানো হবে, তার সম্পূর্ণ এখতিয়ার আপিল বিভাগের। এছাড়া আপিল বিভাগ যেহেতু এখনও সংক্ষিপ্ত আদেশ পাঠাননি, সেহেতু পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিই পাঠাবেন বলে ধারণা করছি।
মঙ্গলবার রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভউয়ের রায় প্রকাশ হওয়ায় কামারুজ্জামানের রিভিউ নিয়ে দোদুল্যমনতা কেটে গেল। আমি বলেছিলাম রিভউ করার সুযোগ নেই। কিন্তু সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার বলে তার একটা সুষ্ঠু সমাধান হল।
মাহবুবে আলম আরও বলেন, কামারুজ্জামানের রিভিউ করার সুযোগ করে দিলেও তার ক্ষেত্রে জেলকোড প্রযোজ্য হবে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। তবে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার পরে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা (প্রাণ ভিক্ষা) চাইতে পারবেন। রিভিউ আবেদনের পরে কামারুজ্জামানের রায়ের কোনো পরিবর্তন না হলে রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রিভিউ মানে ভুল সংশোধন করা, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং আইনের বরখেলাপ হয়েছে কিনা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখা। যদি রায়ে কোনো ভুল হয় তা সংশোধন করে দেয়া। কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় প্রকাশের পর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার পর রিভউ আবেদন করা হবে।
উৎসঃ যুগান্তর রিপোর্ট, প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর, ২০১৪ 

সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৪

এদের অপরাধ এরা ইসলামী আন্দোলন করে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে

জামায়াত নেতৃবৃন্দের সারা জীবনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ  করলেও অপরাধের কোন চিত্র পাওয়া যাবে না। দেশের অন্যান্য দলগুলো ঘাটলে তাদের মত সৎ ও সহৎ নেতা পাওয়া দায় হবে। সারা জীবন জামায়াতের এই সকল নেতা নিজের জন্য তেমন কিছু করেন নি, কিন্তু দেশের জন্য, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করে আসছেন। জামায়াতের এসকল সৎ যোগ্য ও সফল নেতৃত্বের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে এটা যারা চান না, তারাই তাদের নামে অপপ্রচার করে, নানা ভাবে তাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে। যারা দেশকে ভালবাসেন, দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা সৎ লোকেদের সঙ্গী-সাথী হয়ে যান। সকল ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে রক্ষা করতে, অন্যায়, জুলুম থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলুন। উৎস: ফেইসবুক

বিপুল ভোটে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের ওপর মামলা-বরখাস্তের খড়গ এবারের টার্গেট বিরোধীজোট সমর্থিত মেয়র-চেয়ারম্যানরা!

সরদার আবদুর রহমান : এবার কি বিরোধীজোটের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা টার্গেট! জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার মেয়র এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ওপর মামলা চাপিয়ে এবং তাদের ওপর বরখাস্তের খড়গ ঝুলিয়ে অকেজো করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক সপ্তাহে বিরোধীজোট সমর্থিত বেশ কিছু সংখ্যক জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত, গ্রেফতার এবং কারো কারো বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এর ফলে নানা সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
গত বছর জুনে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন ও চলতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিল মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সরকারবিরোধী জোট বিপুল সাফল্য লাভ করে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত পৌরসভার বেশ ক’টিতে তারা বিজয়ী হন। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে বিরোধীজোটের বিপুল বিজয় ঘটে। বর্তমানে দুই ডিসিসি ও রংপুর ছাড়া দেশের সবক’টি সিটি কর্পোরেশনেই বিএনপি প্রতিনিধিরা মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। বেশ ক’টি পৌরসভায় মেয়র পদেও রয়েছেন তারা। অন্যদিকে সাড়ে চার শতাধিক উপজেলার মধ্যে ২০ দলীয় জোট সমর্থিত চেয়ারম্যানের সংখ্যা প্রায় ২শ’ এবং ভাইস চেয়ারম্যান তার দ্বিগুণ।
সাময়িক বরখাস্তের হিড়িক
মামলার বিচারে পরবর্তী পরিণতি যাই হোক- অভিযোগের সূত্রে এসব জনপ্রতিনিধি আদালতের ঘানি টানতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রথম খড়গ আসছে ‘সাময়িক বরখাস্ত’ হবার মধ্য দিয়ে। প্রকাশিত খবরে এ পর্যন্ত বেশ ক’জন জনপ্রতিনিধির বরখাস্ত হবার কথা জানা গেছে। গত ১১ নবেম্বর বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মন্ডলকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তার বিরুদ্ধে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ থানায় দায়ের করা চারটি ‘নাশকতা’ মামলার আসামী হিসেবে পুলিশের দেয়া চার্জশিটের প্রেক্ষিতে তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে। নুরুল ইসলাম মন্ডল স্থানীয় জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল। গত ১৮ নবেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলায়মান সরকার সাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান উভয়েই বরখাস্ত হবার প্রেক্ষিতে আদেশ অনুসারে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেজিয়া বেগম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, উপজেলা চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান জেলা জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক। গত ১ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ পৌর মেয়র জামায়াত নেতা নুরুন্নবী প্রামানিক সাজুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার কথা জানায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তাকে ১১টি নাশকতার ঘটনার মামলার আসামী করা হয়। তিনি জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতেও পাঠায়। গত ২ অক্টোবর গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। চিঠির বরাত দিয়ে জানানো হয়, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা দুইটি মামলার অভিযোগপত্র গাইবান্ধা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত ও গাইবান্ধা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত গ্রহণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দবিবর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তিনি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। নাশকতামূলক কর্মকা-ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয় বলে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান। গত ২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরীকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, উখিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ চৌধুরী উখিয়ার বৌদ্ধ মন্দিরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী। ইতোমধ্যে এ মামলার চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া উপজেলায়ও একই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উখিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ও উখিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী, এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী চার্জশিটভুক্ত আসামী। ঝালকাঠির বিএনপি নেতা ও নলছিটি পৌর মেয়র মজিবুর রহমানকে তার দায়িত্ব পালনে আ’লীগের পরিকল্পিত বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠে। ‘অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত বছর ৩১ জুলাই তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলে উচ্চ আদালত তার বষ্কিার আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এ নিয়ে স্থানীয় আ’লীগের সঙ্গে আইনী লড়াই বাধে। এতে সর্বশেষ দফায় বিজয়ী হয়ে মজিবুর রহমান মেয়রের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। গত ১১ জুন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, চাঁদের বিরুদ্ধে চারটি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণও করেন। এরই প্রেক্ষিতে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
মামলার পাহাড়ে মেয়ররা
গুরুতর ‘অপরাধ’ বিষয়ক মামলায় জড়িত করে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়তে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন মেয়রও। এদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররাও রয়েছেন। সর্বশেষ সিলেটে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটে সিলেটের মেয়র আরিফুল হককে জড়ানো হয়েছে। ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি শাহ এএমএস কিবরিয়া খুন হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সিআইডি মুফতি হান্নানসহ ১১ হরকাতুল জিহাদ ক্যাডারকে অভিযুক্ত করে। গত ১৩ নবেম্বর এই মামলায় সিলেটের মেয়র আরিফুল হক, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিকে গাউছসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে সম্পুরক চার্জশিট দেয়া হয়। অতঃপর হয়তো তার ওপর বরখাস্তের খড়গ নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজশাহীতে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতে দাখিলকৃত চার্জশিটে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনুসহ বিএনপি-জামায়াতের ৮৮ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলা থেকে রেহাই পাননি খুলনা সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনিও। গত ৮ নবেম্বর রাতে একটি ইজিবাইক পোড়ানোর মামলায় খুলনার বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জামায়াতের মহানগরী নায়েবে আমীর মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকুল আলম মনা, মহানগরী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলমসহ ৭৪ জনকে আসামী করা হয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামালের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে। গত ১৯ নবেম্বর বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে এ মামলা দু’টি দায়ের করা হয়। গাজীপুর সিটিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার পরের দিন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে আসামী করে একটি মামলা করে পুলিশ। এতে ৫ ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও আসামী করা হয়। এই মামলায় বেআইনি জনসমাবেশ করে রাস্তা বন্ধ ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এদিকে পবিত্র হজ্ব ও মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ)কে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ১ অক্টোবর যশোরে অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করা হয়। কিন্তু পুলিশ এই কর্মসূচিতে গুলীবর্ষণ করে তা পন্ড করে দেয়। এই ঘটনায় আবার দু’টি মামলা হয়। এতে যশোর পৌরসভার মেয়র মারুফুল ইসলাম, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র আবদুস সামাদ বিশ্বাস, মনিরামপুর পৌরসভার মেয়র শহীদ ইকবাল, বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র আবদুর রহিম মনা, কাউন্সিলর হাজি আনিসুর রহমান মুকুল প্রমুখকে আসামী করা হয়। 
গ্রেফতার ও কারাবাস
সাময়িক বরখাস্ত ও নিত্যনতুন মামলা দেয়ার পাশাপাশি এসব জনপ্রতিনিধিকে একের পর এক গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অব্যাহত আছে। এসব মেয়র ও চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন কারাগারে কাটিয়ে কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভে সমর্থ হন। কিন্তু এজন্য যে হয়রানি ও নির্যাতন পোহাতে হয় তা কোনভাবেই মেটানো যায় না। সর্ব সাম্প্রতিক ঘটনায় গত ২০ নবেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক কবিরসহ বিএনপির ২০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৫ জানুয়ারি নিবার্চনকালে সংঘটিত আন্দোলনের সময় দায়েরকৃত একটি মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ আসামীরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদেরকে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২০ অক্টোবর সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সহসভাপতি আব্দুর রউফকে শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কার্যকলাপ ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ অন্তত পাঁচটি মামলা করে। এছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাস্টার একটি মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে আদালতে আটক হন। তার বিরুদ্ধে দোকানপাট ভাংচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে আ’লীগ ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ২৭ মার্চ রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে শপথ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিন উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস-চেয়ারম্যান। এরা হলেন, পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারি থানার উপজেলা চেয়্যারম্যান আবদুর রহমান আবদার, ভাইস চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান, বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানি ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর বাসেত সাজ্জান। সারাদেশে প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে তারা জয়লাভ করেন। এদের মধ্যে গোলাম রাব্বানি ও আবদুর বাসেত উপজেলা জামায়াত নেতা। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে। বাকি তিনজন বিএনপি নেতা। গত ২৪ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান মোরাদ আলী নাশকতার একটি মামলায় আদালতে জামিন আবেদন করতে গেলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। মেয়াদ শেষে তিনি মেহেরপুর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে। ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুল হাই ঝিনাইদহের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের ৫টি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এভাবে দেশের অধিকাংশ বিজয়ী বিরোধীজোট সমর্থিত মেয়র ও চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অসংখ্য মামলা দায়ের করেছে এবং এসব মামলায় তাদেরকে থানা-আদালত-কারাগারের হাজতে টানাটানি করে নিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সরকার রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে অন্যায়ভাবে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করছে এবং মামলা দিয়ে অবিরাম নির্যাতন করছে। তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে জনগণকে সেবা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। এটা জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞার প্রকাশ করেও তারা উল্লেখ করেন।

ফেনীতে ‪জামায়াত‬ নেতাকে গ্রেফতারের নিন্দা: জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সরকার গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে -অধ্যাপক মুজিব


ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ মুজিবুর রহমানকে গত ২১ নবেম্বর অন্যায়ভাবে পুলিশের গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান গতকাল শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন। 
বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারের একদলীয় স্বৈরাচারী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে জাতির সামনে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে অস্ত্র উঁচিয়ে মানুষ হত্যা করছে, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করছে, অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিনা দোষে সরকার গ্রেফতার করে জেলে আবদ্ধ রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে কষ্ট দিচ্ছে। সরকারের এ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোঃ মুজিবুর রহমানসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের গ্রেফতারকৃত সকল নেতা-কর্মীকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

জনকন্ঠে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ- ‪‎জামায়াত‬ নেতৃবৃন্দের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা রিপোর্ট করা হয়েছে -হামিদ আযাদ


দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় “জামায়াতের মুনাফেকি শুধু রাজনীতিতে নয়, ব্যক্তি জীবনেও” শিরোনামে গতকাল রোববার প্রকাশিত ভিত্তিহীন মিথ্যা রিপোর্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদ বিবৃতি দিয়েছেন। 
বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ রিপোর্টে দৈনিক জনকণ্ঠের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণের চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এ রিপোর্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী বেগম শামসুন্নাহার নিজামী ও নেতৃবৃন্দের পুত্রদের সম্পর্কে যে সব আজগুবি তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের উর্বর মস্তিষ্কের উদ্ভট আবিষ্কার ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, দৈনিক জনকণ্ঠের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার যদি নিজের টেবিলে বসে এ ধরনের ফরমায়েশী কাল্পনিক রিপোর্ট তৈরি না করে খোঁজ-খবর নিতেন তাহলে জানতে পারতেন যে, আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাহসহ জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতার পুত্রই মাদরাসায় পড়া-শুনা করে কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই দৈনিক জনকণ্ঠে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও তাদের সন্তানদের জড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। 
এ ধরনের ভিত্তিহীন মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

শীর্ষ আলেমদের নিন্দা ও গ্রেফতার করে শাস্তি দাবি: ঢাকায় ফিরেছেন লতিফ সিদ্দিকী


মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বরখাস্ত হওয়া আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন। গতকাল রোববার রাতে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সেখানেই অপেক্ষা করছেন।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তাবলিগ জামাত, পবিত্র হজ্জসহ নানা বিষয়ে কটাক্ষ করায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এই পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরলেন। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কৃত এই নেতা কোন দেশ থেকে ফিরলেন তা বিস্তারিত জানা যায়নি। এ ব্যাপারে তার ব্যক্তিগত ফোনে গতরাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরলেও পরিচয় জানার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্কে তাবলিগ জামাত, পবিত্র হজ্জ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তার বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে তাকে মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তিনি নিউইয়র্ক থেকে সরাসরি কলকাতা গিয়েছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ভারত থেকেই ঢাকায় ফিরেছেন আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে। ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় দেশের বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তি করায় ১২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন।
একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্তকৃত এই মন্ত্রী ঢাকায় ফিরলেও এখনই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উত্তরা জোনের ডিসি ইকবাল হোসেন লতিফ সিদ্দিকীর ঢাকা আসার কথা স্বীকার করে বলেন, তাকে গ্রেফতারের কোনো কাগজ আমাদের কাছে নেই। তাই তাকে গ্রেফতার করার কোনো সুযোগ নেই।
শীর্ষ আলেমদের নিন্দা ও গ্রেফতার করে শাস্তি দাবি :
মহানবী (সা.), ইসলাম ও পবিত্র হজ্জ সম্পর্কে কটূক্তিকারী আত্মস্বীকৃত নাস্তিক ও মুরতাদ আব্দুল লফিত সিদ্দিকীর দেশে ফেরার দুঃসাহসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ ইসলামী নেতৃবৃন্দ।
গতকাল রোববার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে শীর্ষ ওলামা নেতৃবৃন্দ বলেন, আত্মস্বীকৃত নাস্তিক ও মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে দেশের সচেতন তৌহিদী জনতা যখন সোচ্চার এবং গোটা দেশ যখন উত্তাল হয়ে উঠেছে তখন সরকার গণদাবি উপেক্ষা করে এই স্বঘোষিত মুরতাদকে দেশে আসার সুযোগ করে দিয়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনা, বোধ-বিশ্বাস, আবেগ-অনুভূতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তৌহিদী জনতা সরকারের এই ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্র কোনভাবেই মেনে নেয়নি এবং নেবেও না। তারা সরকারি সহায়তায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং টালবাহানা পরিহার করে এই অর্বাচীনকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে।

সরকার জামায়াতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি বেছে নিয়েছে -ডা. শাহিদী


‪#‎জামায়াতে‬ ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী বলেছেন, সরকার জামায়াতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্র ও হত্যার রাজনীতি বেছে নিয়েছে। তারা আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের একের পর এক প্রাণদন্ডে দন্ডিত করছে। কিন্তু প্রহসনের মাধ্যমে জাতীয় নেতাদের হত্যার ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বরং যেকোনো মূল্যে সরকারের যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে রুখে দেয়া হবে। তিনি জিঘাংসা ও হত্যার রাজনীতি পরিহার করে অবিলম্বে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সৃষ্ট পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর ধানমন্ডি থানা আয়োজিত প্রাক্তন ছাত্রদের এক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। থানা আমীর এডভোকেট জসিম উদ্দীন তালুকদারের সভাপতিত্বে শিক্ষা শিবিরে উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, জামায়াত নেতা মাওলানা সেলিমুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ ও আশিকুন্নবী প্রমুখ।
ডা. শাহিদী বলেন, সরকার নিজেদের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই ৫ জানুয়ারির তামাশা ও ভাঁওতাবাজির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের থলের বিড়াল ইতোমধ্যেই বেরিয়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ঘুষকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়ে অপরাধীদের উৎসাহী করেছেন। ছাত্রলীগের অস্ত্রবাজি ও লাগামহীন সন্ত্রাসে শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনকে কলুষিত করা হয়েছে। তাই এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন জনগণের কল্যাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি ব্যর্থ ও জুলুমবাজ সরকারের পতনের লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ছাত্রলীগ যা করছে এটা রাজনীতি না, এটা গুণ্ডামী এটা মাস্তানী : ------- ড. আসিফ নজরুল

ছাত্রলীগ যেটা করছে এটা রাজনীতি না, এটা গুণ্ডামী এটা মাস্তানী এবং পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে নিজের ছাত্রসংগঠন নিজেরা মারামারি করে ৩৯ জন মারা গেছে এটা যে একটা ব্যান সংগঠনে পরিণত হয় নাই এটাই তো একটা অদ্ভুত ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাবির অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
আজ রাতে একটি বেসরকারী টিভি টকশোতে তিনি এসব বলেন।

লতিফকে রাতের মধ্যে গ্রেফতার না করলে আন্দোলন : খেলাফতে মজলিশ

আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইসলামী অন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা এ বিক্ষোভ করবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচার সম্পাদক আহমদ আব্দুল কাইয়ুম শীর্ষ নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা না হয় তাহলে তারা আরো কঠোর আন্দোলনের দিকে যাবে বলে তিনি জানান।

লতিফকে গ্রেপ্তার না করলে এই মুহূর্তে ঢাকা ঘেরাও- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ

বিমানবন্দর থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার না করলে ঢাকা ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একই দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশ।
রোববার রাতে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই মুখপাত্র এ ঘোষণা দেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সাংবাদিকদের ফোনে বলেছেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা না হলে এই মুহূর্ত থেকে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।’ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশেল সদস্য সচিব মুছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীকে ঢাকা বিমান বন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।’
নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিবৃতি দিয়েছেন তারা।
এর কিছুক্ষণ পরই গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীকে বিমানবন্দর থেকে দেশের মাটিতে নামতে দেয়া হলে ঢাকা ঘেরাও এবং লাগাতার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন। রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম, হজ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মানব মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করে তিনি শুধু বাংলাদেশের ১৫ কোটি মোসলমানের হৃদয়ে আঘাত হানেনি বরং বিশ্বের ১৪০ কোটি মোসলমানের হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছেন। এহেন ধৃষ্ঠতা পোষণকারী স্বঘোষিত মুরতাদ পীর আওলিয়াদের এই পবিত্র ভূমিতে পা দেয়ার দুঃসাহস পেলো কোথায়? স্পষ্ট বলতে চাই, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে সরকারকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।’
অপরদিকে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকেই দায়ী থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী ঐক্য আন্দোলন।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সেক্রেটারি ডা. মওলানা এনামুলহক আজাদ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর নিরাপদে দেশে ফেরা কোনোভাবেই মেনে নেয় হবে না। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করা না হলে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কুলাংগার লতিফ সিদ্দিকী রাসূল (স.) ও হজ্ব সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে কোনোভাবেই দেশের মাটিতে থাকতে দেয়া হবে না। সরকারের যোগসাজসেই এ শয়তান দেশে ফিরেছে।’
উল্লেখ্য, নবী(সা.), হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ায় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে রোববার রাতে ঢাকায় ফিলেছেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি রাত পৌন ৯টয় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি।
উৎসঃ বাংলামেইল২৪ডটকম

রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে অস্ত্রের মজুদ, আর নেতাদের বাসাগুলো মিনি ক্যান্টনমেন্ট!

ছাত্রলীগ ক্যাডার শিপলুর বাসা থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র)
 অঞ্জন গ্রুপের অস্ত্রের যোগান দিয়েছিল ‘ছাত্রলীগ ক্যাডার’ শিপলু। রিভলবার, পাইপগান, চাপাতিসহ সব অস্ত্রের ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তোলেছিল তার বাসা। আগের রাতে শিপলু বাসার অদূরে পাঠানটুলা পয়েন্টের কাছে বসে ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা করেছিল ছাত্রলীগের অঞ্জন গ্রুপের ক্যাডাররা। আর ঘটনার দিন শিপলুর বাসার সামনে এসে জড়ো হয় বহিরাগত ছাত্রলীগ 
ক্যাডাররা। এ সময় শিপলুর বাসা থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে নিয়ে আসা হয় অস্ত্রের চালান। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসব অস্ত্র নিয়ে ঢুকেছিল ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সংঘর্ষের ঘটনার পরপরই সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে রাতেই পুলিশ নগরীর পাঠানটুলাস্থ রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকার মজুমদার কটেজস্থ শিপলুর বাড়ি থেকে গুলিভর্তি একটি কালো রঙের রিভলবার, গুলি ও ১৯টি রামদা উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রলীগ ক্যাডার শিপলুর বাসা ছিল কাশ্মির গ্রুপ ছাত্রলীগের অস্ত্রের আড়ত। এই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই বিশেষ অপারেশন শুরু করা হয় শিপলুর বাসায়। এ সময় শিপলু বাসাতেই ছিল। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। তবে, তার বাসা থেকে অস্ত্রের সঙ্গে এমদাদুল নামের এক ছাত্রলীগ ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করেছে। শুধু শিপলুর বাসাই নয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলও ছিল ছাত্রলীগের অস্ত্রাগার। আগ্নেয়াস্ত্র থেকে শুরু করে সব ধরনের অস্ত্র হলে রাখতো ছাত্রলীগ কর্মীরা। বেশ কয়েক মাস ধরে ওই হল নিয়ন্ত্রণ ছিল ছাত্রলীগের উত্তমের। হলের নিয়ন্ত্রণের জের ধরে উত্তমকে কোপানো হয়েছিল। হলে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা জানায়, শাহপরান হল বর্তমানের ছাত্রলীগের দখলে থাকায় বেশির ভাগ কক্ষেই ছাত্রলীগ কর্মীরা বসবাস করতো। এ কারণে হলের ভেতরেই আগ্নেয়াস্ত্র সহ দা, রামদা, চাপাতি রাখা হতো। ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত কয়েকটি কক্ষেই এসব অস্ত্র রাখা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কখনোই অভিযান চালানো হয়। সংঘর্ষের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর ক্ষোভ জানিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বারবার প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অস্ত্র উদ্ধারে হল তল্লাশি করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেদিকে কর্ণপাত করেনি। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের শুরুতেই হল থেকে ছাত্রলীগের একটি অংশ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। আর অঞ্জনের নেতৃত্বে অপর অংশটি নগরীর পাঠানটুলা দিয়ে নয়াবাজার হয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে। ফলে দুটি গ্রুপের কর্মীরা অন্তত ১০-১২টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গোলাগুলিতে শরিক হয়। এ সময় একপক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, সংঘর্ষ থামার পর রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম একযোগে নগরীতে অভিযানে নামে। অভিযানকালে শিপলুর বাসা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের চালান উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নগরীর কুয়ারপাড় থেকে সন্ত্রাসী অনিক ও জয়ন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। জালালাবাদ থানা পুলিশ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানান তিনি। এদিকে, শাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার সকালে জালালাবাদ থানা পুলিশ বাদী হয়ে ২৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনকে ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। ওসি আক্তার হোসেন জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এ মামলা করা হয়। এদিকে, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় গোটা নগরীতে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকাল পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোট ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। কোতোয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া মো. রহমতুল্লাহ জানিয়েছেন, পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্রবাজদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। 

অস্ত্র আড়ত শাবির চারপাশ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের ছাত্র ম্যাচ ও রাজনৈতিক ক্যাডারদের বাড়ি ঘরকে অস্ত্রের আড়ত হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এ কারণে ক্যাম্পাসে কিছু ঘটলে দ্রুত অস্ত্র চলে যায় ক্যাডারদের হাতে। পার্শ্ববর্তী নয়াবাজার, টিলাগাঁও, কালিবাড়ি, টুকের বাজার এলাকায় এসব অস্ত্র রাখা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক কারণে ক্যাম্পাসের চারপাশে গ্রাম ও বাড়িঘর রয়েছে। এসব এলাকায় অনেক ছাত্র ম্যাচ রয়েছে। এসব ছাত্র মেসে ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল। আর বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের দিন ছাত্রলীগের পার্থ গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যায়। ওই গ্রুপের কর্মীরা দা, রামদা ও চাপাতি নিয়ে আসে ছাত্রহল থেকে। একই সঙ্গে অঞ্জন গ্রুপের কর্মীরা নগরীর কুয়ারপাড়, আম্বরখানা, বাগবাড়ি এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। সংঘর্ষের সময় ছাত্রদের ব্যাগে রক্ষিত ছিল ককটেল। আর ওই ককটেলগুলো ব্যহার করা হয় সংঘর্ষের দিন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ: সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালেই তিনটি ছাত্রহল বন্ধ করে দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ কারণে প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই হল ছেড়ে চলে যায় শিক্ষার্থীরা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলে অবস্থানকারী ছাত্রীরা হল ছাড়েন গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত। রাতে উৎকণ্টয় কাটানো পর ভোর হতেই ছাত্রীরা হল ছাড়তে শুরু করেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আনিকা নামের এক ছাত্রী জানান, তার বাসা ঢাকায়। স্বল্প সময়ের নোটিশে তাকে হল ছেড়ে দিতে হয়েছে। ওদিকে সিলেটে তিনি প্রাইভেট টিউশনি করান। এ অবস্থায় তাকে বাধ্য হয়ে সিলেটে থাকতে হচ্ছে। কয়েকজন ছাত্র জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খুব কম অংশ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরপরও রাজনীতির কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। এদিকে, গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ছাত্রহল ও দুটি ছাত্রী হলই ফাঁকা হয়ে গেছে। সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে গেছে। তবে, প্রতিটি হলেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ফটকেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়া ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। গোলচত্বর এলাকায়ও রয়েছে পুলিশ মোতায়েন। 
আতঙ্কিত শিক্ষকরাও: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলি বিনিময় ও ছাত্রলীগ নেতা সুমন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আতঙ্কিত হয়েছে পড়েছেন। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে বহিরাগতদের অস্ত্রের ব্যবহার ও ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষকদের আতঙ্কের বিষয়টি ভিসিকে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা। গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ইউনূস জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনোই অস্ত্রের ব্যবহার করে না। বহিরাগতরা অস্ত্র নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে গোলাগুলি করে। আর এবার গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখরও আহত হয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শাবি প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। একই কথা জানিয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সিলেটের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। যেভাবে হোক ক্যাম্পাসে বহিরাগত ঠেকাতে হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার কমাতে হবে। নতুন ক্যাম্পাসে থাকা ৫ শতাধিক শিক্ষকও নিরাপদ থাকতে পারবেন না। 
প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ: ক্যাম্পাসে পুলিশের সামনেই ছাত্রলীগের অস্ত্রবাজির ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়টি প্রকাশ্য এসেছে। বলা হচ্ছে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তবে এ অভিযোগটি মানতে নারাজ জালালাবাদ থানার ওসি। তিনি জানান, পুলিশ ৯৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ও প্রচুর সংখ্যক টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর পুলিশের ওপর আঘাত এলেও পুলিশ পিছু না হটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে শাহপরান হল এলাকায় অবস্থানরত পুলিশ দলকে ছাত্রলীগের একটি অংশ তালাবদ্ধ করে বন্দি করে ফেলে। আর বড় অংশটি অবস্থান করছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। ঘটনার দিনও এডিসি মিডিয়া মো. রহমতুল্লাহ জানিয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতটুকু সহায়তা চেয়েছে ততটুকু দেয়া হয়েছে। কোন গাফলতি করা হয়নি। ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদ্যসরা পুলিশ ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারবার চেষ্টা চালান। এ কারণে অ্যাকশনে যেতে পুলিশকে অনুমতি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠার পর প্রশাসনকে অ্যাকশনের অনুমতি দেয়া হয়।
জরুরি বৈঠক ও ভিসির বক্তব্য: শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় রাতেই সিন্ডিকেট সভা করে প্রফেসর ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাসকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরপরও সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গতকাল সকালে সিনিয়র শিক্ষকদের নিয়ে সভার আহ্বান করেন ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভুঁইয়া। গতকাল তিনি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়েল সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যারোচনা বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকে সব কিছু নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি বলেন, আশা করি খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু করা হবে। 
নিহত সুমনের লাশ গ্রামের বাড়িতে: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী সুমন ছিল সিলেট ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। ঘটনার পর বিকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমনের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। রাতে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামাচর গ্রামে। সেখানে তার লাশ নিয়ে কান্নার রোল পড়ে পরিবারে সদস্যদের মধ্যে। সুমনের সহপাঠী আরেক সুমন গতকাল জানিয়েছেন, রাতেই সুমনের মরদেহ দাহ করা হয়েছে। তবে, গতকাল পর্যন্ত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হলে পুলিশ সেটি গ্রহণ করে অভিযান শুরু করবে। 
সূত্র- মানবজমিন, ঢাকার নিউজ- ২২ নভেম্বর ২০১৪:(ছাত্রলীগ ক্যাডার শিপলুর বাসা থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র)

'চিন্তিত নই, জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে' :মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী

মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বলেছেন, আমি মৃত্যু নিয়ে চিন্তিত নই। কারণ জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। যার যেখানে মৃত্যু লেখা আছে সেখানেই হবে। নবী রাসুল ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উপর অতীতে জুলুম নির্যাতন ও মিথ্যা অপবাদ এসেছে। আজ আমরা যেহেতু ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সেহেতু এধরনের যুলুম নির্যাতন আমাদের উপর এসেছে।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আইনজীবীরা তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও মাওলানা নিজামীর ছেলে ব্যরিস্টার নাযিবুর রহমান মোমেন তার সাথে দেখা করেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাওলানা নিজামী বলেছেন, রায়ে তার সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য। তিনি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকতে এবং কোনো প্রকার উস্কানিতে পা না দিতে বলেছেন।
নিজামী আরো বলেছেন, একাত্তরে আমি এবং আমার দল কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। শুধুমাত্র জামায়াত দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী শক্তি এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে সরকার গঠনে সমর্থন না দেয়ায় আমাকে এই বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
রায়ে যেসব ঘটনার কথা বলা হয়েছে আমি কখনো সেসব জায়গায় যাইনি। সরকার অন্যায়ভাবে আমাকে এই মামলায় সাজা দিয়েছে। এজন্য অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। তবে তা শান্তিপূর্ণভাবে করতে হবে।উৎসঃ টাইমনিউজবিডি

ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস ও এইচটি ইমামের অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী শাখা

ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাস ও এইচটি ইমামের অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী শাখা। 
ছাত্রলীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে সারাদেশের সকল শ্রেণীর মানুষ ক্ষুদ্ধ। প্রথম আলো পত্রিকায় তথ্য উপাত্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশ করেছে। গতকাল ২২ নভেম্বর দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা সম্পাদকীয়তে সরকার এবং আওয়ামীলীগকে উদ্দেশ্য করে “ছাত্রলীগ সম্পদ না বোঝা” শীর্ষক কলাম লিখেছেন। আজ দৈনিক নয়াদিগন্ত সম্পাদকীয় লিখেছেন। নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদকীয় সম্মানিত পাঠকবৃন্দের জন্য হুবহু তুলে ধরলাম।
“বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ছাত্রলীগ একটি নিয়ন্ত্রণহীন ছাত্রসংগঠনে পরিণত হয়েছে। হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলÑ হেন অপরাধ নেই যার সাথে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা এদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেয়নি, বরং ছাত্রলীগের ভেতরে অন্য ছাত্রসংগঠনের লোক ঢুকে পড়েছে বলে এদের অপকর্ম জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অভিভাবকত্বের পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ছাত্রলীগের নেতারা পরে তার সাথে দেখা করে ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগ ভালো হওয়া তো দূরে থাক, আরো বেশি সহিংস, আরো বেশি ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে, ছাত্রলীগের ওপর ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদের কোনো ঘাটতি হয়নি; বরং তাদের নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এমনকি নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে।
 সরকার প্রায়ই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, সহিংসতা আর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে থাকে। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশের প্রধান সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন হচ্ছে ছাত্রলীগ। যে সংগঠন শুধু বিরোধী দল নয়, নিজেদের লোককেও হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। এই সংগঠনের অস্ত্রবাজদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে বারবার প্রচারিত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হয় না, বরং আহত হলে রাষ্ট্রীয় খরচে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। কার্যত ছাত্রলীগের মাধ্যমে সন্ত্রাসকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হচ্ছে।
 এর ফল হিসেবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও অরাজকতার কারণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ছয় বছরে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ছয় বছরে মারা গেছে ৩৯ জন। এর বাইরে ভিন্নমতাবলম্বী বহু ছাত্র নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের যে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় তাকে ধ্বংস করেছে ছাত্রলীগ। আক্ষরিক অর্থে ছাত্রলীগ এখন একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।
 দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে এ সংগঠনটির বিরুদ্ধে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।”