ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪

বিজয়ের রক্ত আর মিডিয়ার ফ্লাশলাইটের আধার আর মিডিয়ার বেশির ভাগে চলছে অব্যাহত মতলবি অপপ্রচার

আমরা মিছিল করলে বলে নাশকতা, পুলিশ গুলি করলে মিডিয়ার প্রশংসা পায়, মারা গেলে আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি কাঁদে।
আবার পুলিশি বর্বরতার জন্য রাস্তায়
না নামতে পারলে চেঁচিয়ে বলতে থাকে,
ওরা আন্দোলন করতে পারে না।
এতে গোয়েন্দা সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারিং বা পুলিশের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে না।
হিটলার, মুসোলিনি, স্টালিনের ফ্যাসিবাদকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে হিংস্র্র
নেকড়ের মতো লেলিয়ে দিয়েছেন আর
একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী ও মিডিয়া তার রক্তপানে উন্মত্ত হয়ে গেছে।
এর অর্থ কী, আমাদের কিছু করার নেই?
এটুকু
বলতে পারি সর্বোপরি প্রয়োজন বুকভরা সাহস। সাহস দেখাতে পারলেই
স্বৈরাচারের প্রথম পরাজয়
ঘটে যাবে। হাসিনা সরকার মুখে যত সবল,
ভেতরে ভেতরে ভীষণ অস্থির,
দুর্বল,আতঙ্কগ্রস্ত। একটি স্ফুলিঙ্গ
বা স্পার্ক হলেই সরকার ভেস্তে যাবে।
শহীদি চেতনায় রাজপথ কাঁপাতে পারলে কাজ হয়ে যাবে।
এখনই
দেশকে বাঁচাতে অকুতোভয়ে রাজপথে নেমে আসতে হবে।
একটি জাতির চূড়ান্ত মুক্তির জন্য
রক্ত তো লাগতেই পারে।
এমনি মরার চেয়ে শহীদি মৃতুতেই
সর্বকালেই বিজয় সুনিশ্চিত । তাই এদেশের সাধারন মানুষের মত এগিয়ে আসলে
জিয়াদের মতো এই
দেশকে উদ্ধার করা যাবে ।

নতুন বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে জামায়াতের আহ্বান


২০১৫ সালের শুভ যাত্রালগ্নে দেশবাসীকে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ। বুধবার সন্ধ্যায় নববর্ষের এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বিদায়ী ২০১৪ সাল ছিল দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ, গণতন্ত্র হত্যা, মানুষের মানবাধিকার হরণ করা ও সরকার কর্তৃক জনগণের উপর চরম জুলুম এবং নির্যাতনের বছর। বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জনগণের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের রাস্তায় দেখা মাত্র গুলি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে এবং প্রকাশ্যে দিবালোকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করছে ও গুম করছে প্রতিপক্ষকে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ক্রস ফায়ার করে ১২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ৮৮ জনকে গুম করা হয়েছে। পুলিশের হেফাজতে খুন হয়েছে ১৩ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৪৭ জন। সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৭৩টি। বিএসএফ-এর গুলিতে ৩২ জন নিহত হয়েছে। সরকার বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে তাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে মানবাধিকার লংঘন করেছে।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের শুভলগ্নে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

“নববর্ষ কি আমাদের সংস্কৃতি….? ---ফখরুল ইসলাম খান।

আমরা বাংলাদেশের মানুষের পাশ্চাত্যের কোনো ভালগুণ আমাদের সমাজে প্রসার করতে পারি নি বা চাই নি। তবে তাদের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও মাদকতার ধ্বংসাত্মক দিক গুলি আমরা খুব আগ্রহের সাথে গ্রহণ করতে ও প্রসার করতে চাচ্ছি। এজন্য খৃস্টীয় ক্যালেন্ডারের শেষ দিনে ও প্রথম দিনে থার্টিফার্স্ট নাইট ও নিউ-ইয়ারস ডে বা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমাদের বেহায়পনার শেষ থাকে না। কিন্তু বর্তমানে নববর্ষ উপলক্ষ্যে এমন কিছু কর্মকান্ড করা হচ্ছে যা কখনোই পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশীরা করেন নি? বরং এর অধিকাংশই বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে প্রচণ্ডভাবে সাংঘর্ষিক। নববর্ষ উদযাপনের নামে যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীদেরকে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এদেশের মানুষেরা যা জানত না এখন নববর্ষের নামে তা আমাদের সংস্কৃতির অংশ বানানো হচ্ছে।
পারসিক প্রভাবে শরতের পূর্ণিমায় ‘নওরোজ’ এবং বসন্তের পূর্ণিমায় ‘মিহিরজান’ নামে জাতীয় উৎসব দু’টি তারা বিভিন্ন অশ্লীল আচারণ-আচরণের মাধ্যমে পালন করতো। জরথুস্ত্র প্রবর্তিত নওরোজ’ ছিলো নববর্ষের উৎসব। নববর্ষের উৎসব কিন্তু মাত্র একদিনে উৎযাপিত হতো না। এটি ছয় দিনে বিস্তৃত করা হতো।এর মধ্যে ছিলো একটি ‘নওরোজ’-এ আম্মা বা ‘কুসাক’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষের উপভোগের জন্য নববর্ষ দিবস। অপর একটি দিবস ছিল ‘নওরোজ’-এ ‘হাসা’ বা ‘নওরোজ’-বজুর্গ। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দের জন্য নববর্ষ উৎসব। সে দিবসটি উপভোগ করার কোনো অধিকার ছিল না সাধারণ মানুষের। ‘কিসরা’ বা পারস্যের বাদশাহরা এই উৎসব উদ্ভোধন করতেন। জরথুস্ত্র প্রবর্তিত ‘মিহিরজান’ নামক উৎসবটিও একইভাবে বিভক্ত রাখা হতো ছয় দিন ধরে। এর মধ্যেও ছিল ‘মিহিরজান’-এ আম্মা, ‘মিহিরজান’-এ হাসা’ প্রভৃতি দিবস। এক পর্যায়ে ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ উৎসব পালন বিস্তৃততর পরিধিতে ব্যাপ্ত হয়ে পড়ে। ছয় দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন ধরে এই উৎসব দু’টি উৎযাপিত হতে থাকে।
এপ্রিল মাসে আমরা বাংলাদেশীরা একটি উৎসব করে থাকি, তা হলো ১৪ই এপ্রিল। অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ পালন করা। আমাদের দেশে প্রচলিত বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন মূলত ইসলামী হিজরী সনেরই একটি রূপ। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হতো। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরর চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। এ কারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবারের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্রাট আকবার তার দরবারের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরী চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খৃস্টাব্দে সম্রাট আকবার এ হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ইতোপূর্বে বঙ্গে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্চির প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। কিন্তু ৯৬৩ হিজরী সালের মুহাররাম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়। তাহলে বাংলা সন মূলত হিজরী সন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হিজরত থেকেই এ পঞ্জিকার শুরু। ১৪১৫ বঙ্গাব্দ অর্থ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হিজরতের পর ১৪১৫ বৎসর। ৯৬২ চান্দ্র বৎসর ও পরবর্তী ৪৫৩ বৎসর সৌর বৎসর। সৌর বৎসর চান্দ্র বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন বেশি এবং প্রতি ৩০ বৎসরে চান্দ্র বৎসর এক বৎসর বেড়ে যায়। এজন্য ১৪৩৩ হিজরী সাল মোতাবেক বাংলা ১৩১৮-১৯ সাল হয়।
আমাদের দেশজ সংস্কৃতির অনেক ভাল দিক আছে। সামাজিক শিষ্টাচার, সৌহার্দ্য, জনকল্যাণ, মানবপ্রেম ইত্যাদি সকল মূল্যবোধ আমরা সমাজ থেকে তুলে দিচ্ছি। পক্ষান্তরে দেশীয় সংস্কৃতির নামে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মাদকতা ও অপরাধ একসূত্রে বাধা। যুবক-যুবতীদেরকে অবাধ মেলামেশা ও বেহায়াপনার সুযোগ দিবেন, অথচ তারা অশ্লীলতা, ব্যভিচার, এইডস, মাদকতা ও অপরাধের মধ্যে যাবে না, এরূপ চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য অপরাধের সাথে অশ্লীতার পার্থক্য হলো কোনো একটি উপলক্ষ্যে একবার এর মধ্যে নিপতিত হলে সাধারণভাবে কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীরা আর এ থেকে বেরোতে পারে না। বরং ক্রমান্বয়ে আরো বেশি পাপ ও অপরাধের মধ্যে নিপতিত হতে থাকে। কাজেই নিজে এবং নিজের সন্তান ও পরিজনকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করুন। মহান আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুন। আমীন!!

পা দিয়ে লিখেই এবার জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে অদম্যপ্রান মেধাবী বিউটি

হাত নেই তাতে কি? ইচ্ছাশক্তি তো আছে। আর ইচ্ছাশক্তি থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছা যায়। এরই প্রমাণ দিল ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বায়েজিদ আলীর কন্যা বিউটি খাতুন। প্রচণ্ড ইচ্ছের কাছে থেমে থাকেনা কোন অদম্যপ্রান ...
সময়ের কণ্ঠস্বর

থার্টি ফার্স্ট’ আমাদের সংস্কৃতি নয়: নইম কাদের

বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে থার্টি ফার্স্ট উদযাপিত হয়। পাকিস্তান আমলে, এমনকি স্বাধীনতার অনেক পরেও এ দেশের মানুষ ‘থার্টি ফার্স্ট’ শব্দের সাথেই পরিচিত ছিল না। গত শতকের শেষের দিকে ইংরেজদের অনুকরণে বাংলাদেশে থার্টি ফার্স্ট উদযাপনের প্রচলন শুরু। এটা ব্যাপক প্রচার পায় ২০০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মধ্য রাতে মিলেনিয়াম বা সহস্রাব্দ পালনের মাধ্যমে। মধ্য রাতের পর বিশ্ব একুশ শতকে প্রবেশ করে। এরপর ‘থার্টি ফার্স্ট’-এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।
থার্টি ফার্স্ট পালনের যে রেওয়াজ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তা সুস্থ সংস্কৃতি বা বিনোদন নয়। বরং একটি মারাত্মক ভাইরাস। তরুণ ও যুবসমাজের দেশপ্রেম এবং ধর্মীয় চেতনা ধ্বংস করে দেয়ার জন্য এমন একটি ভাইরাসই যথেষ্ট হতে পারে।
হাজার হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে ভরপুর আমাদের এই জনপদ। রাতকেন্দ্রিক কোনো সংস্কৃতি এ দেশে গড়ে ওঠেনি। ‘বারো মাস তেরো পার্বণের দেশ’ হওয়া সত্ত্বেও কোনো পার্বণই রাতের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এ দেশের মানুষ পরিশ্রমী, কষ্টসহিঞ্চু। শ্রমজীবী মানুষগুলোর সারা দিন পরিশ্রমের পর জারি গান, সারি গান, পুঁথি পাঠের আসরের যে নির্মল বিনোদন তা রাতের কিয়দংশের অনুষ্ঠান। ইসলামের আগমনের পর এ দেশের মানুষ এক নতুন ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। বাঙালি সংস্কৃতির সাথে ইসলামি সংস্কৃতির সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ স্থানীয় সংস্কৃৃতি।
কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য- ‘আমি তোমাদের ঘুমকে শান্তির বাহন করেছি, রাতকে করেছি আচ্ছাদানকারী ও দিনকে জীবিকা অর্জনের সময় বানিয়ে দিয়েছি।’ (সূরা নাবা)
হাদিস শরিফে এশার আগে ঘুমানো এবং এশার নামাজের পর বৈষয়িক কার্যাবলি সম্পাদনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কদর রজনী, শবে মেরাজে দীর্ঘ রাত জেগে একাকী নফল এবাদত, বিশেষ করে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ অবশ্যই ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ এবাদত।
‘থার্টি ফার্স্ট’ ভিন দেশ থেকে আমদানি করা একটি বিকৃত বিজাতীয় সংস্কৃতি। যেসব জাতির কাছে নিজস্ব কোনো ক্যালেন্ডার নেই, তারা দিন গণনার জন্য ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করতে পারে; কিন্তু বাংলাভাষী মানুষ ইংরেজি নববর্ষকে এভাবে উন্মাদনায় বরণ করতে পারে না। আমাদের আছে বাংলা বর্ষ এবং ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সন। দু’টি সনই বিজ্ঞানসম্মত এবং সমৃদ্ধ। এর পরও ভিন্ন সংস্কৃতির একটি সালকে বরণ করার জন্য বাড়াবাড়ি করা হীনমন্যতা ছাড়া কিছুই নয়।
গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষগুলো এখনো ওই সন দু’টি নিজেদের ক্যালেন্ডার হিসেবে ধরে রেখেছেন। এক শ্রেণীর পরজীবী গোষ্ঠী যেভাবে ‘থার্টি ফার্স্ট’ নিয়ে মেতে উঠেছে, আমার আশঙ্কা ১০০ বছর পরে আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে বাংলা সন হারিয়ে যাবে। এ দেশে ‘মগী’ সনের প্রচলন ছিল। ১৮৯৬ সালে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। উপকূলবাসীর কাছে সেটি ‘৫৯মগীর তুফান’ নামে পরিচিত ছিল। কারণ সে সময় এখানে ইংরেজি সাল গণনার প্রচলন ছিল না, মানুষ মগী সন গণনার মাধ্যমেই সময়ের হিসাব রাখত। ১০০ বছর পরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়জন শিক্ষার্থী বলতে পারবেন মগী সন নামক কোনো ক্যালেন্ডারের কথা কখনো শুনেছে কি না। এই জনপদে জনজীবনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত এই সন যেভাবে হারিয়ে গেছে, বাংলা সনও হারিয়ে যেতে বসেছে।
যেভাবে ‘থার্টি ফার্স্ট’ পালন করা হয়, বিকৃত রুচির বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কোনো মতেই এটাকে উৎসব বলা যাবে না। উৎসব সেটাই, যেখানে সব বয়সের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ থাকে, থাকে সুস্থ বিনোদন। ‘থার্টি ফার্স্ট’ নৈতিকতার চরম অধঃপতন এবং অশ্লীলতার প্রদর্শনী।
ঘর থেকে বেরিয়ে লং ড্রাইভে চলে যাওয়া, রাস্তায় যুবক-যুবতীদের ঢলাঢলি, ছাড়াও সাগর তীরে বা নাইট কাবগুলোতে যা হয় সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অভিভাবক কি তার সন্তানদের সাথে বসে এসব উপভোগ করতে পারবেন?
তরুণ-তরুণীদের চরিত্র নষ্ট করে ফেলা, যুবসমাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীলনকশার একটি অংশ ‘থার্টি ফার্স্ট’। 
বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এ দেশের ও যুবকদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখাতে হবে, নৈতিকতার বলে বলিয়ান হতে হবে। নৈতিক চরিত্রের জোরেই মুসলমানগণ গোটা বিশ্ব শাসন করেছিলেন। আবার যখনই চরিত্রে ঘুণে ধরেছে, ভিন্ন জাতি তাদের ওপর চেপে বসেছে। চরিত্র ধ্বংস করে দেয়ার জন্য বহুমুখী তৎপরতা চলছে। এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ হতে হবে প্রতিটি অভিভাবককে, সচেতন হতে হবে গোটা জাতিকে। চরিত্র বিধ্বংসী যেকোনো কথিত উৎসব বর্জনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আমার এই লেখাটি দৈনিক নয়াদিগন্তে প্রকাশিত হয়
নইম কাদের
E-mail : nayeemquaderctg@gmail.com

কুড়িল বিশ্বরোডে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৭

রাজধানীর বসন্ধুরা এলাকায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২ টার দিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদন্ডের প্রতিবাদে বসন্ধুরা গেট থেকে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা একটি লাঠি মিছিল নিয়ে বিশ্বরোডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ পেছন থেকে ধাওয়া দিলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় জামায়াত-শিবিরের ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলেও জামায়াতের এক নেতা দাবি করেন।

বাংলাদেশ বার্তার পক্ষ থেকে জেএসসি, পিএসসিতে সাফল্য অর্জনকারীদের অভিনন্দন

২০১৪ সালের জেএরসি, পিএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় সফলতা অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের ও তাদের অভিভাবকবৃন্দকে বাংলাদেশ বার্তার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তাদের সর্বঙ্গীণ জীবনের উত্তত্তোর সফলতা কামনা করছি। এরাই আমাদের জাতির ভবিষ্যত, এদের সফলতা জাতির সফলতা। এই শিশুরা সফল হলে জাতি সফল হবে। ২০১৪ সালের জেএরসি, পিএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় সফলতা অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিস্যত কামনা করছি। সম্পাদক, বাংলাদেশ বার্তা

মানুষ কতটা মহৎ হতে পারে তা হয়ত অজানাই থেকে যেত যদি না আমার উস্তাজ ড. মুহাম্মদ উমরের সাথে দেখা হত-- আমিনুল হক

আমিনুল হক
মানুষ কতটা মহৎ হতে পারে তা হয়ত অজানাই থেকে যেত যদি না আমার উস্তাজ ড. মুহাম্মদ উমরের সাথে দেখা হত। উনাকে নিয়ে এর আগেও লিখেছি। আবারও লিখতে বাধ্য হলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, (তোমরা যদি শোকরিয়া কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরো বাড়িয়ে দিব)। 
১. গতকাল একসাথে কাজ করছিলাম দুজনে। কথায় কথায় আমার পায়ের তলায় ব্যাথার কথা শেয়ার করেছিলাম স্যারের সাথে। বলছিলাম, ডাক্তার ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, মলম দিয়েছে, কোনো কিছুতেই আরাম বোধ করছি না। উনি বললেন, ডাক্তার ভুল ওষুধ দিয়েছে। উনি একটা ওষুধ বের করে তখনি আমাকে খাওয়ালেন। নতুন এক বক্স ওষুধ দিলেন পরে খাওয়ার জন্য। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলেন কোন পানি পান কর তোমরা। আমি বললাম, বাসায় পানি ফুটিয়ে পান করি। গাড়ি না থাকার কারনে দোকান থেকে পানির গ্যালন কিনে আনা সম্ভব না। তিনি বললেন, তোমার রোগ সারাতে হলে দোকান থেকে ভালো ব্রান্ডের পানি কিনে পান করতে হবে। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। আপনার আদেশ পালিত হবে ইনশাআল্লাহ........

২. কথায় কথায় জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা জামা কাপড় কি দিয়ে ধৌত কর? আমি বললাম, আল্লাহর দেয়া হাত আর সাবান। আরো বললাম, বউ খুব তাগাদা দিচ্ছে ওয়াশিং মেশিন ক্রয় করার জন্য। আমি তাঁকে কথা দিয়েছি অচিরেই কিনে দিব। কিন্তু অচিরেই করতে করতে আজ তিন বছর কেটে গেছে........
৩. আজ সকালে উস্তাজ ফোন করলেন...। বাবা তুমি কোথায় আছ। বাসায় নাকি বাইরে? আমি বললাম, বাসায় আছি। উনি বললেন আমি কিছুক্ষণের মধ্যে আসতেছি।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে, উস্তাজ এখনো আসছে না। ২.৩০ দিকে তিনি তাঁর গাড়িসহ হাজির হলেন। গাড়ি থেকে নেমে আমাকে গাড়ির কাছে আসার আদেশ করলেন। বললেন, আল আইন কোম্পানির এই পানির গ্যালনটা বাসায় রেখে আবার আস। আর মনে রেখ, এই কোম্পানির পানি ছাড়া আর কখনো অন্য কোনো পানি পান করবে না। 
বাসায় পানি রেখে আবার গাড়ির কাছে গিয়ে দেখি এলজি কোম্পানির বিশাল এক ওয়াশিং মেশিন। আমি তো আসমান থেকে পড়ে গেলাম। উস্তাজ বললেন, হতবাকের কি আছে। এটি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে উপহার দিলাম। আমি রাগ করি এমন কোনো বাক্য তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই না এখন।
এরপর আমি তাঁকে বললাম, উস্তাজ একটু বাসায় আসেন। তিনি বললেন, ওয়াশিং মেশিন খোজার জন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরেছি। আমি এই কোম্পানির একটি ওয়াশিং মেশিন গত সাত বছর যাবত ধরে ব্যবহার করতেছি। কোনো সমস্যা করছে না। তাই আমি চেয়েছি হুবহু আমার মতই একটা তোমাকে একটা গিফট করি। এজন্য একটু দেরী হল। 
আমার বাসায় এক কাপ চা পান করে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন তার বাসায়। উস্তাজকে বিদায় দিয়ে ভাবতে লাগলাম আসলেই এমন মানুষ এই যুগে পাওয়া বড় কষ্টকর। আল্লাহ তুমি আমাদেরকেও ভালো হওয়ার তাওফিক দাও.........

হে আল্লাহ আমার উস্তাজকে উত্তম প্রতিদান দান কর। আমীন!

মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৪

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যায়ভ্রষ্ট রায়ের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিবাদ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের  বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যায়ভ্রষ্ট রায়ের বিরুদ্ধে জনতা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। জামায়াতসহ সাধারণ জনগণ মনে করে বর্ত মান সরকার জামায়াতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পাড়ায় প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে সংগঠন হিসেবে জামায়াতকে ধ্বংস করার জন্যই একের পর এক জামায়াতের নেতৃবৃন্দকে বিচারিক হত্যার অপচেষ্টা করছে সরকার। 
আজ জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায় প্রদানের পর জামায়াত সমর্থকসহ সাধারণ জনগণ মাঠে নেমে আসে। ...
উৎসঃ ফেইসবুক

বুধ-বৃহস্পতিবার জামায়াতের হরতাল

বুধ-বৃহস্পতিবার জামায়াতের হরতালশীর্ষ নিউজ ডটকম, ঢাকা : মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসি দেয়ার প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উৎসঃ শীর্ষ নিউজ ডটকম/আনসারী/এমএ

ট্রাইব্যুনালে সুগন্ধি মেখে আসেন এটিএম আজহারুল ইসলাম

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম
ঢাকা: ট্রাইব্যুনালে পায়ের উপর পা রেখে চেয়ারে বসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। এসময় তাকে খুব স্বভাবিক দেখা যায়। ট্রাইব্যুনালে সুগন্ধি মেখে আসেন তিনি।
মানবতা বিরোধী অপরাধর মামলার রায় ঘোষণার জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয় আজহারকে। তার পরনে হালকা কলাপাতা রঙের পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা দেখা যায়। পাঞ্জাবির উপর পরেছেন অ্যাশ কালারের একটি স্যুয়েটার। চোখে চশমা ও পায়ে সু পরেছেন তিনি।
আজহার মনোযোগ দিয়ে রায় শুনছেন এবং স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ এদিক ওদিক তাকান। পায়ের ‍উপর পা দিয়ে রায় পড়া শুনছেন তিনি।
উৎসঃ বাংলামেইল২৪ডটকম/ এআই/ এজেড/ এফএ

সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৪

বিশ্বব্যাপী ইসলামের দিকে ঝুঁকছে তরুণ প্রজন্ম - ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

পৃথিবীতে এখন শতকরা ত্রিশ থেকে পয়ত্রিশ জন তরুণ- যুবক।
এরাই আগামীর পৃথিবী গড়ার কারিগর। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে যাদের বয়স ১৪-৩০ তারাই তরুণ। যাদের বয়স ২৫-৪০ এর মধ্যে তারাই যুবক। আজ গোটা সমাজের সকল বিপদই যেন তরুণ-যুবকদের তাড়া করছে। অজানা এক আতঙ্ক আর উদ্বিগ্নতা তরুণ-যুবকদের উপর ভর করেছে। অপসংস্কৃতির কালো থাবা, ইন্টারনেট প্রযুক্তির অভিশাপ, ড্রাগের মরণ কামড় যেন গোটা জাতি, সভ্যতা, সমাজকে অক্টোপাশের মতো আটকে ফেলেছে। নৈতিকতা মুক্ত উন্নতি যেন তরুণ-যুবকদের অশান্তি আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। মায়ের জাতি নারীকে ব্যবহার করেছে পণ্য হিসেবে। ধর্মীয় শৃঙ্খলমুক্ত শিক্ষিত যুবক তরুণ যেন হিংস্র, অসভ্য আর ইতর প্রাণীর স্বরূপ। কিন্তু সকল বাধা উপেক্ষা করেও বিশ্বব্যাপী শাশ্বত বিধান ইসলামের দিকেই ঝুঁকছে তরুণ-যুবকরা। ইসলাম আজকের আধুনিক জাহিলিয়াতকে মোকাবেলা করছে প্রতিনিয়ত। ইসলামের প্রগতিশীলতা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান স্থান, কাল পরিবেশ অনুযায়ীই বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক। ৭৫০ খৃ. থেকে ১৭০০ খৃ. পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বছর পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস; আচরণ ও কর্মধারার নিয়ন্ত্রণ করেছে ইসলামী জীবন বিধান। ১৭৫০ খৃ:. থেকে ২০০০ পর্যন্ত মুসলমানগণ শিক্ষা ও জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়ার কারণে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসন থেকে ছিটকে পড়ে। আধুনিক পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে আগামীদিনের জীবন আদর্শ হিসেবে ইসলামের পূর্ণতা, বাস্তবতা, প্রগতিশীলতা নির্ভুলতা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সঙ্গতিপৃর্ণ জীবন বিধান হিসেবে এর কোনো বিকল্প নেই? এটাই আজ সারা পৃথিবীর স্কলার পণ্ডিতদের ধারণা। আজকের পৃথিবীব্যাপী ইসলামের মূল চালিকা শক্তির উৎস হচ্ছে ছাত্র-যুব আন্দোলন। তাই বিরোধীদের সকল পরিকল্পনা যুবক-তরুণদের উত্থানরোধে ব্যয়িত। এক্ষেত্রে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, অপপ্রচার, বিভেদ, বিভ্রান্তি, অনৈক্য, আর নৈতিক চরিত্র ধ্বংসের সকল আয়োজন চলছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদী চিন্তা দিয়ে ঢেকে ফেলা হচ্ছে তরুণদের কোমলমতি মন-মানষিকতাকে। ইসলামের পুনঃজাগরণের ক্ষেত্রে মুসলমান যুব সমাজের ভূমিকা অনন্য। বাংলাদেশে তার ব্যতিক্রম নয়। অনুমান করা যায় একবিংশ শতাব্দীতে যুবক-তরুণদের স্রোত আরো বেড়ে যাবে। কিন্তু পাশ্চাত্য আজ তাদের সকল শক্তি নিয়োগ করেছে ইসলামের বিরুদ্ধে। তবুও হাসান আল বান্না, সাইয়্যেদ কুতুব কর্তৃক মিসরীয় মুসলিম ব্রাদারহুডের সংগঠন গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে নাড়া দিয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নকে সবাই মিলে স্বৈরাচারী, নির্লজ্জ এবং অগণতান্ত্রিক কায়দায় উৎখাত করতেও দ্বিধা করেনি। প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সর্বোচ্চ শক্তির প্রয়োগ মুসলিম তরুণীরা যেভাবে মোকাবেলা করছে তাতে মনে হয়, লাল রক্তের সিঁড়ি আবার বিজয় আনতে বেশি সময় নেবে না। সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী’র জামায়াতে ইসলামী নাড়া দিয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশসহ প্রাচ্য-পাশ্চাত্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনকে। ফলে দিশেহারা ভারতসহ পশ্চিমারা। ভারত ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বাংলাদেশে সেই নির্লজ্জ, জঘন্য, অবৈধ ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত মহড়া এখন প্রকাশ্য। এখানেও ইসলাম প্রিয় তরুণ-যুবকরা হাজী তিতুমীর ও ব্রেলভীর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জীবন দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছে। ভারতের ভেতরে বিশ কোটি আর এখানের ১৫ কোটিকে হিসেবে নিয়েই এগুতে হবে। পশ্চিমা সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আমেরিকা এবং জার্মানিতে এখন সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বসবাস। ব্রিটেন, ফ্রান্সেও মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, তবু এ সংখ্যাই অনেক বড় এবং দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। Cordoba-র অদ্ভুত সুন্দর সেই পুরনো মসজিদের কাছেই, আবার মুয়াজ্জিনের আজান শোনা যাচ্ছে। স্পেনের মাটি থেকে শেষ মুসলিমটিকে বিতাড়িত করার পাঁচশ’ বছর পর এই ঘটনা বড়ই আশার আলো ছড়াচ্ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যে ইসলামই একমাত্র বিস্তার লাভকারী ধর্র্ম। মসজিদগুলোতে আধুনিক শিক্ষিত যুবক-তরণদের সংখ্যাই বেশি। যাদের সামনে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ব্যাখ্যা, অবৈজ্ঞানিক আর অযৌক্তিক কোনোটাই যেন দাঁড় করানো কঠিন। নাস্তিকতা নয় আল কুরআনের বৈজ্ঞানিক আলোয় তরুণ প্রজন্মকে ইসলামমুখী করছে সবচেয়ে বেশি। যারা সত্যকে জানার জন্যই প্রচেষ্টারত, অন্য কোনো উদ্দেশ্য নয়। এমনটি বলেছেন- ড, আহমদ দিদাত, জন এল এসপোসিতো, ড. তারিক রমাদান, ইয়াহিয়া এমেরিক, মুরাদ হফম্যান এর মতো পণ্ডিতগণ। কারণ বর্তমান পৃথিবীতে ১৫০ কোটি মানুষ দ্বিধাহীন চিত্তে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনকে আল্লাহর বাণীরূপে গ্রহণ করেছে। তা হচ্ছে- A miracle of purity of style, of wisdom and of truth. আজ যারা পৃথিবীকে বদলাতে চান তারা কি নিজেকে বদলাতে পেরেছেন? অথচ আজকের বিুব্ধ পৃথিবীতে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে নাড়া দিচ্ছে। আজ পৃথিবী যতই মানবাধিকার, ন্যায়বিচার আর আইনের শাসনের কথা বলুক না কেন, ইসলামের ধারে কাছেও কেউ যেতে পারেনি এবং পারবে না। প্রাচ্য-পাশ্চত্যে কোথাও আর মিথ্যা আবরণ দিয়ে তা আড়াল করা যাচ্ছে না। তরুণ বয়সে বালক মুহাম্মদ (সা.) তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে গড়ে তুলেছে হিলফুল ফুযুল। হজরে আসওয়াদ স্থানান্তরের মাধ্যমে সমাজের বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আর কলহের অবসান করেছেন মাত্র কয়েক মিনিটে। মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর মাত্র ৪০ বছর বয়সে আল্লাহর কালামের উপর্স্থিতি তাঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে বিশ্বময়। মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার গড়ে তোলেন ইসলামের ছায়াতলে। আজকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরাও গবেষণা করে ঠিক করতে পারছেন না এটা আসলেই কিভাবে সম্ভব!। সম্প্রতি প্যারিস থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক lenouvel observation পত্রিকা মুসলমানদের দ্বীন ও দাওয়াতী কার্যক্রমের সম্পর্কে ফরাসী গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায়- সংবিধান অনুগত মুসলমানদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে এমন শিল্পাঞ্চলীয় এলাকার মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। রশিদ নামের এক ফরাসী যুবক জেলখানা থেকে বেরিয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে-আমি নেশায় চরমভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। চাহিদা মেটানোর জন্য চুরি ডাকাতি করতেও আমার কোনো অনুশোচনা হতো না। শেষ পর্যন্ত চুরি করার অভিযোগে আমাকে জেলখানায় যেতে হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাওয়ার পর একজন টেক্সিচালক আমাকে অত্যন্ত আদর-যতœ করে মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করার পর আমার মনোজগতে এক অভাবনীয় বিপ্লব শুরু হয়। এখন আমি শুধু নেশা থেকেই তাওবা করিনি, বরং ইসলাম গ্রহণ করে এবাদত-বন্দেগীর মধ্যে মানসিক যে তৃপ্তি পেয়েছি সারা দুনিয়ার নেশা এবং ঐশ্বর্য আমাকে এতো মানসিক তৃপ্তি ও প্রশান্তি দিতে পারবে না; ইসলামিক সেন্টার, জাপান মুসলিম এসোসিয়েশন জাপানের তাহজীব তামাদ্দুনে, জীবনধারা ও শিক্ষা সংস্কৃতিতে মুসলমানদের মাধ্যমে এক নীরব বিপ্লব সাধিত হতে চলেছে। চীনের উওর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত গাংসু প্রদেশে প্রায় ১৩শ বছর আগে ইসলামের আবির্ভাব হয়; তবে হুই জাতির লোকেরাই অধিক হারে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি জেন্স এর ডিফেন্স উইকলীকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে ইসলাম শুধু গ্রীসের জন্য নয় বরং গোটা ইউরোপের জন্য এক বিরাট আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্য বিভাগের প্রধান থমাস ইরভিং পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে কয়েক হাজার অমুসলিম আমেরিকান এই কুরআন অনুবাদগ্রন্থ ক্রয় করেন। তরুণ-যুবকদের ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়াকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছে- দ্য ক্যাশ অব সিভিলাইজেশনস গ্রন্থে-শ্যামুয়েল পি হান্টিংটন ইসলামের দিকে তরুণ-যুবকদের ঝুঁকে পড়াকে দেখছেন আতঙ্ক হিসেবে। অনুসন্ধান করেছেন এর কারণ। তিনি লিখেছেন- “ইসলামের পুনঃজাগরণে যখন এশীয়রা তাদের অর্থনীতির বিপুল বিকাশের ফলে ক্রমান্বয়ে আরও দৃঢ় শক্তিসম্পন্ন হচ্ছে, মুসলমানেরা একই সঙ্গে তরুণরা ইসলামের ভেতর ফিরে যাচ্ছে; যেখানে তারা মনে করে তাদের পরিচয়, জীবনের অর্থ, স্থায়িত্ব, স্থিরতা, বৈধতা, উন্নয়ন, ক্ষমতা, আশা-আকাক্সা ইত্যাদির সূতিকাগার। তারা এক্ষেত্রে একটি স্লোগান দ্বারা সবকিছু বুঝাতে চায়, আর তা হলো, ‘ইসলামই হলো সমাধান’। কিন্তু পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং চূড়ান্তভাবে ইসলামের মধ্যে যাবতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে ফেরে। সুতরাং, তাদের মতে ইসলামই অধুনা বিশ্বের একমাত্র পথ। ইসলামী পুনঃজাগরণের মাধ্যমে মুসলমানেরা সকল বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলন যা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাওয়া হয়। ধর্মীয় পুনঃজাগরণ আসলে একটি প্রধানধারা, তবে তা চরমপন্থী নয়, আর তা বিস্তৃত, কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো ছিটানো নয়। ইসলামী প্রতীক, বিশ্বাসসমূহ, আমলসমূহ, প্রতিষ্ঠানাদি. রাজনীতি এবং সাংগঠনিক তৎপরতা সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের দৃঢ়তা, আজ্ঞা এবং সমর্থন লাভ করে। যার পরিমাণ হবে বিলিয়ন মুসলমান, যার ব্যাপ্তি মরোক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া এবং নাইজেরিয়া থেকে কাজাকিস্তান অবধি। তাছাড়া বামপন্থী রাজনীতি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আর তেমন শক্তভাবে দাঁড়াতে পারেনি। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন নানা কারণে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। কেননা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেবার জন্য যে বুদ্ধিমত্তা ও শক্তি প্রয়োজন তা অপাশ্চাত্য দেশে খুবই সীমিত মানুষের মধ্যে রয়েছে। তাই এটি একটি পাশ্চাত্যমুখী এলিটভিত্তিক আন্দোলন, যার গণভিত্তি নেই বললেই চলে”। মার্কিন মি. প্যাট্রিক বুকানন তাঁর ‘পাশ্চাত্যের মৃত্যু’ নামক গ্রন্থে লেখেন, ‘২০৫০ সাল পর্যন্ত আমেরিকার অবস্থা বর্তমান তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো হয়ে যাবে। সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ১৫ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়াবে। মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বিবেচনা করে চ্যা›েসলর এঙ্গেলা মার্কেল মন্তব্য করেছেন- “জার্মানি একদিন ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং ডয়েসল্যান্ডে ইসলামের সবুজ অর্ধচন্দ্র পতাকা উড়বে। জার্মানি শিগগির ইসলামের একটি শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হবে। জার্মানিতে মুসলমানদের সংখ্যা ৫০ লাখ। আমেরিকায় ৩০ বছরের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা ইহুদিদের ছাড়িয়ে যাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল। আঠারো বছর আগে আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সি¤েপাজিয়ামে বলা হয়েছে-স্থানীয়ভাবে মুসলমানদের গ্রহণযোগ্যতা ও মুসলমানদের প্রতি ধর্মীয় সহনশীলতাও বাড়ছে। পাবলিক স্কুলসমূহে সাপ্তাহিক ছুটির ¯¦ীকৃতি এবং ক্যাফেটেরিয়ায় শূকরের মাংস পরিবেশন বন্ধ করা হয়েছে। মুসলিম ছাত্রীরা আলাদা কাসে সাঁতার শিখতে পারে ও জিমনেসিয়ামে পা সমান লম্বা স্লাক্স পরতে পারে। এই সবই হচ্ছে -৯/১১ ঘটনার এক বছরের মধ্যেই অমেরিকাতে মুসলমানদের সংখ্যা ৩০ হাজার এবং ইউরোপে বিশ হাজারেরও অধিক বৃদ্ধির ফল। বিশ্ব এখন পশ্চিমাবলয়ের বাইরের পানে ছুটে চলেছে। ধর্মীয় ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো তার স্থান দখল করে চলেছে। ওয়েস্টফালিয়া (Westphalia) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে ধর্মনিরপেক্ষ করার অর্থাৎ রাজনীতি থেকে ধর্মকে বাদ দেয়ার অপচেষ্টা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে পড়ছে। পাশ্চাত্য সভ্যতা প্রায় নিঃশেষ হতে চলেছে। এডওয়ার্ড মরটিমার বলেন, ধর্ম ক্রমাগত আন্তর্জাতিক বিষয়াদির ওপর কর্তৃত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি করছে। সুদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদ জয়ী হয়ে বেরিয়ে আসবেন। আর সেটাই ইসলামী বিশ্ব। মুহাম্মদ (সা.) এর আন্দোলনে সবচেয়ে তরুণ যুবকরাই আলোড়িত করেছিল। দশ বছরের তরুণ আলী আবুজেহেল আর আবু সুফিয়ানের রক্তচুকে উপেক্ষা করে রাসূলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। বিজয়ের সেনানায়ক তরুণ সেনাপতি খালিদই মুসলিম জাহানের বিজয় পতাকা রোম-পারস্য পর্যন্ত ছুয়ে দিয়েছে। জিব্রাল্টার পাড়ি দিয়ে তরুণ সেনানায়ক তারেক স্পেনের বুকে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেছিল। ১৭ বছরের তরুণ মুহাম্মদ বিন কাসেম সিন্ধুপাড়ি দিয়ে ভারত বর্ষে ইসলামের বিজয় মশাল জ্বালিয়েছে। তারুণ্যের চেতনায় উজ্জীবিত সতের সাওয়ারী নিয়ে লক্ষণ সেনের বাংলায় মজলুম মানুষের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ইখতিয়ার উদ্দীন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি। যুবক বাবর পেরেছিল বিশাল ভারতবর্ষে নতুন ইতিহাস রচনা করতে। মাত্র সতের বছর বয়সে সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী তার লেখনী, চিন্তা আর আন্দোলন সংগঠন গড়ে তুলে রীতিমত আলোড়ন সৃষ্টি করেন। সাইয়েদ কুতুব, হাসান আল বান্নার মতো জগৎ সেরা ব্যক্তিরা তরুণ-যুবক হিসেবেই তাদের চিন্তা, লেখনী, আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যুগের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেছেন অত্যন্ত দৃঢতা, বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে। ইসলাম যুবকদের অনেক মর্যাদা দিয়েছে। যৌবনের ইবাদতই আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। কাল কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ার নিচে ুসৎ চরিত্রশুুুীল যুবকদের জন্যই আসন হবে। সুতরাং আজকের তরুণ-যুবকরা যেভাবে ইসলামকে নিজের জীবনাদর্শ হিসেবে গ্রহণ করছে তাতে একথা সত্য আগামীর পৃথিবী হবে ইসলামের পৃথিবী। আজকের পৃথিবীর অবস্থা যেন রাসূল (সা.) এর ভবিষ্যৎ বাণীরই প্রতিচ্ছবি। mrkarim_80@yahoo.com

সভা-সমাবেশে বাধা ও সরকারের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে জাতীয় নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবী হরতালের কিছু চিত্র



ইসলামী ছাত্রশিবির টঙ্গী কলেজ শাখা 

ঘরের ককটেলে কব্জি উড়ে গেল আ. লীগ নেতার স্ত্রীর

ঘরের ককটেলে কব্জি উড়ে গেল আ. লীগ নেতার স্ত্রীর
বগুড়ায় ঘরে রাখা ককটেল বিস্ফোরণে রেবেকা সুলতানা রঞ্জন (৩৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সোমবার দুপুর সোয়া ২ টার দিকে সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের মুলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা  গেছে,  দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা সোমবার দুপুরে বাড়ির বৈঠকখানা পরিষ্কার করার সময় ঘরের এক কোণায় একটি কৌটা দেখতে পান। তিনি সেটা খোলার চেষ্টা করলে তার হাতের ওপর বিকট শব্দে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। এতে রেবেকার দুই হাতের বেশ কয়েকটি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক অপারেশন করে রেবেকা সুলতানার দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।
সোনাতলা থানার ওসি সেলিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

উৎসঃ শীর্ষ নিউজ ডটকম/প্রতিনিধি/রাজিব/সুজন

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গ্রেপ্তার



জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও থেকে RAB গ্রেফতার করেছে। RAB-এর ভাষ্যমতে সরকারের বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্রের” অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জামাতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য তাহের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।

হরতালের সমর্থনে ঢাকা মহানগরী সূত্রাপুর থানা জামায়াতের মিছিল ও পিকিটিং.....

আজ ২০ দলের হরতালের সমর্থনে সকাল ৮টার দিকে পুরান ঢাকার শ্যামবাজার এলাকায় মিছিল বের করে সুত্রাপুর থানা জামায়াত। সূত্রাপুর থানা জামায়াতের আমীর এবিএম সাইফুল্লাহর এর নেতৃত্বে মিছিলটি হয়। মিছেলে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম, হারিছ উদ্দিন, নাঈমুল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজি, সূত্রাপুর থানা শিবিরের সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মিছিল পরবর্তী পুরান ঢাকায় শিবির ও জামায়াত নেতাকর্মী পিকেটিং করে। 

জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার রায় কাল

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গত ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ১৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ২০১২ সালের ১২ আগস্ট ট্রাইব্যুনালের আদেশে রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

চার্চিল কি মুসলিম হতে চেয়েছিলেন!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও নোবেলজয়ী সাহিত্যিক উইনস্টন চার্চিল হয়তো ইসলামধর্ম গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। ইসলামধর্ম গ্রহণ না করতে অনুরোধ জানিয়ে ১৯০৭ সালে চার্চিলকে লেখা তাঁর এক হবু আত্মীয়ার চিঠিতে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার চার্চিলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে সম্প্রতি এই চিঠি খুঁজে পেয়েছেন। ব্রিটেনের দ্য ডেইলি মেইল ও দ্য সানডে টেলিগ্রাফ এ খবর জানিয়েছে।
ভারত ও সুদানে সেনাকর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চার্চিল ইসলামধর্ম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসেন। ১৮৯৬ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে বদলি হন চার্চিল। ১৮৯৮ সালে মিসরে বদলি হন এবং কিছুদিন পরই সেখান থেকে সুদানে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস ও দর্শন বিষয়ে অনুরাগী চার্চিল এ সময়ে প্রাচ্যের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। গবেষক ড. ওয়ারেন ডকটার জানিয়েছেন, চার্চিলের পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেই ইসলাম ও প্রাচ্য সংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগের কথা জানতেন।
চার্চিলের ভাইয়ের বাগদত্তা লেডি গেন্দোলিন সে সময় এক চিঠিতে তাঁকে ইসলাম গ্রহণ না করতে আকুতি জানান। দ্য সানডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সেই চিঠিতে গেন্দোলিন লেখেন, ‘দয়া করে ইসলামধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে যেয়ো না। আমি খেয়াল করেছি যে তোমার স্বভাবের মধ্যে প্রাচ্যভাবাপন্নতা এবং পাশাদের মতো হয়ে ওঠার প্রবণতা আছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি যদি ইসলামের সংস্পর্শে আসো, তাহলে হয়তো যতটা ভাবছ, তার চেয়ে বেশিই বদলে যেতে পারো তুমি। রক্তে বান ডাকতে পারে। তুমি কী বুঝতে পারছ না আমি কী বলতে চাইছি। এর বিরুদ্ধে লড়াই করো।’
ওয়ারেন ডকটার দ্য সানডে টেলিগ্রাফকে বলেছেন, চার্চিল কেবল ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মকে সমমর্যাদাতেই দেখতে চাননি, উসমানীয় সাম্রাজ্যের সামরিক শৌর্য ও সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাসের ব্যাপক প্রশংসাও করতেন তিনি। সংবাদপত্রটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ১৯৪০ সালে লন্ডনে একটা মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেন এবং প্রকল্পটির জন্য এক লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেন তিনি। এটা রিজেন্ট পার্কে অবস্থিত লন্ডন কেন্দ্রীয় মসজিদ।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক মনে করেন, বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে চার্চিলের ধারণা ‘সমকালীনদের পুরোপুরি সাম্রাজ্যবাদী ও প্রাচ্যবাদী ধারণার তুলনায় প্রবলভাবেই ভিন্ন ছিল।’ তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি চার্চিলের অনুরাগ অনেকটাই ভিক্টোরীয় ধ্যানধারণা-তাড়িত ছিল। যে দৃষ্টিভঙ্গিতে বেদুইন গোষ্ঠীগুলোর যাযাবর ধারার জীবনযাপন এবং সম্মানের সংস্কৃতি ছিল মারাত্মকভাবে কল্পনাশ্রয়ী।’ চার্চিল ইসলাম সম্পর্কে এতটাই বিশদভাবে জানতে আগ্রহী ছিলেন যে বিশের দশকেই শিয়া ও সুন্নি মুসলিমদের পার্থক্য নিয়ে কৌতূহলী ছিলেন তিনি। 
face book: DR. REZAUL KARIM

বঙ্গবন্ধুকে অবমাননায় এবার মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা!

সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান
মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানসহ আরও অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষাদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী সোমবার বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ঢাকার সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নাজমুন নাহার নিপুর শুনানি শেষে এ বিষয়ে পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে মামলায় সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম, দোহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরুল কবির ভূইয়াসহ ১০ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আবদুল মান্নান খান দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে একটি মিছিল নিয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানস্থলে যান।
উক্ত অনুষ্ঠানে আবদুল মান্নান খানের নাম প্রচার না করায় সে ও তার ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করেন। এরপর মঞ্চে টানানো ব্যানারে ‘নেত্রীর ছবি ও নাম কেন নেই কেন এমন প্রশ্ন করেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল করিম ভূঁইয়াকে গালিগালাজ করেন।
মঞ্চে যখন মান্নান খানের নেতৃত্বে এই নিন্দনীয় হামলা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার তা-ব চলছিল তখন সামনে উপস্থিত ৫ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার অনেকে যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে বাদীকেও তারা মারধর করেন।
উল্লেখ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের এ নেতা ও তার স্ত্রীর বিরুব্ধে মামলায় গত ২১ আগস্ট একটি মামলা করে দুদক। মামলায় আব্দুল মান্নান খান দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে চার লাখ ৫৯ হাজার ৫৯৭ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন এবং তার আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৫ লাখ চার হাজার ২৬২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।

উৎসঃ ঢাকাটাইমস২৪

রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

পোস্টমর্টেম গাজীপুর : টার্গেট তারেক রহমান নাকি জামায়াত? নাকি চক্রান্ত আরও গভীরে?

আন্দোলনে আবার হোচট লেগেছে, যদিও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মানতে নারাজ। তাদের মতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লাগাতার কর্মসূচি আসছে। আন্দোলনের তোড়ে আওয়ামী গং খড়-কুটোর মত ভেসে যাবে। বিএনপি মনে করে আগামী দুই মাসের মধ্যে মিসেস হাসিনা মিয়ার অবৈধ সরকারের পতন হবে। লন্ডনে নেতা কর্মীদের ক্ষোভের মুখে বিএনপির যুগ্ন-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন এমন আশার বানী শোনালেন যদিও প্রবাসী নেতা কর্মীদের সন্দেহ এতে কমেছে কিনা বোঝা গেল না। গাজীপুরে সমাবেশে অবৈধ সরকারের ১৪৪ ধারা জারীর বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অনড় যাত্রাকে হঠাত করে হরতালে পরিনত করার মত অপমানজনক কর্মসূচী দেয়ার বিষয়টি অনুসন্ধান করতেই পাওয়া গেলো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিএনপির শরিকদল জামায়াতে ইসলামীকে জঙ্গি দল প্রমানে ব্যর্থ হয়ে, আন্দোলন বিমুখ এবং অবৈধ সরকারের সাথে আঁতাতকারী প্রমান করতেই বিএনপির ভেতরের একটি গ্রুপ এ কাজটি করাচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। গাজীপুর সেই চক্রান্তেরই একটি অংশ। যদিও এ নাটকের পাশ দিয়ে অবৈধ সরকারকে আরও সুযোগ দিয়ে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলেও জানা যায়।
বিএনপির হাইকমান্ড সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায় বিএনপির এই চক্রটি মূলত তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানকে বাধাগ্রস্থ করতেই অবৈধ সরকার বিরোধী আন্দোলনের গতিকে স্থিমিত করে দিতে চায়। প্রথম দিকে তারেক রহমানের সাবেক হাওয়া ভবনের লোকজনের বিরুদ্ধে এ অবস্থান থাকলেও কালক্রমে সেটি এখন তারেক রহমানের বিরুদ্ধেই দানা বেঁধেছে। এই গ্রুপটি মনে করে তারেক রহমান দলীয় প্রধান বা কো-প্রধান হওয়ার সাথে সাথেই দলীয় কাঠামো এবং দলীয় নেতৃত্বে আমুল পরিবর্তন হবে। সেই পরিবর্তনে বর্ষীয়ানদের অনেকেই বাদ পড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল ভেবেই আতঙ্ক বাড়ছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটকে দুর্বল করতে সরকারী টোপ যা 'র' এর নকশার অংশ ছিল তা গিলতে বিএনপির এই গ্রুপটির একটুও কষ্ট হয়নি। টোপ গেলার পরেই জামায়াতকে বিএনপির কাছ থেকে সরাতে এবং গ্রামীণ নিরীহ প্রান্তিক মুসল্লিদের বিএনপি বিমুখ করতেই আন্দোলনে নানান বিপর্যয় সৃষ্টি করা হয়। এতে ইসলামই রাজনৈতিক শক্তির সাথে বিএনপির দুরত্ব বাড়তে থাকে; এমনকি বিএনপিকে ইসলামই শক্তি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখতেও শুরু করে। জনমনেও এর প্রভাব দেখা যায়।
অবৈধ সরকারের গোয়েন্দা সূত্র মতে মিসেস হাসিনার অবৈধ সরকার অনেকখানি নিশ্চিন্তে দেশ পরিচালনা করছে এবং অচিরেই সশস্ত্র পুলিশ হিসেবে আরও ৫০ হাজার দলীয় কর্মী নিয়োগ করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। এমনকি ৫০ হাজার নতুন পুলিশের মধ্যে কমপক্ষে ৫ হাজার প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ভারতীয় কম্যান্ডো নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায় গাজীপুরকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি প্রস্তাব দেয়, সেই মোতাবেক বিএনপির নেতা কর্মীরা যাতে কম ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেই লক্ষকে সামনে রেখে গাজীপুরের আশেপাশে টঙ্গিসহ নানা স্থানে হাজার হাজার কর্মী সমাবেশ করে রাখে জামায়াত। বেগম জিয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করতে ঢাকা থেকে রওয়ানা দেবেন এবং জোট নেত্রী হিসেবে তাকে প্রোটেকশন দেয়াসহ সরকারী ব্যুহ ভাঙ্গার দায়িত্ব ২০ দলকে সাথে নিয়ে পালন করবে জামায়াত। এই প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই হতাশ জনগণের মনোবল চাঙ্গা হবে যা হাসিনার তখতে তাউসকে তাসের ঘরের মত উড়িয়ে দেবে। বেগম জিয়া এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু বিএনপি হাই কমান্ডের একটি অংশ যাদের হঠাত করেই বুকে ব্যাথা সহ নানান বিমারী ধরা পড়ে তাও আন্দোলনের সময়ে তারাই গাজিপুর নাটকে নয়া সংশোধন এতে হরতালে পরিনত করে।
১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা আসার আগে শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন শনিবার গাজীপুরে বিএনপির জনসভা হবেই। আবার সেই মির্জা সাহেবই সংবাদ সম্মেলন করে বললেন, গাজীপুরে জনসভা ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি এবং বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং দেশজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ২০-দলীয় জোট। শুক্রবার রাত ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির আচরনে মনে হয় হাসিনা তাদের সভার স্থান পরিছন্ন করে দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার সবকিছু সরবারহ করবে। না হলে সরকারের বিরুদ্ধে হরতাল হবে। হরতাল চলবে।
জানা গেছে জামায়াতে ইসলামী সর্বদাই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের উপর আস্থাশীল এবং সেইভাবেই তারা তার সাথে সংযোগ বজায় রেখে চলেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জামায়াতে ইসলামীকে হাসিনা গংদের সাথে আঁতাতকারী হিসেবে প্রচারনা চালানোর মূল কারিগরদের সবাই বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত প্রমান পাওয়ার পরেও এমনকি সকল আন্দোলন সংগ্রামকে অংকুরেই বিনাশ করে দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধংস করে দেয়ার এই চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা দেখেই জামায়াতে ইসলামী ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নেয়া শুরু করেছে।
অবৈধ সরকারী সূত্র মতে ইসলামী শক্তি এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির সম্মিলনে জেনারেল জিয়াউর রহমান যে রাজনৈতিক দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন, সেটি ধংস করতে ইসলামী শক্তি এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির বিভাজনের কোন বিকল্প নেই। 'র' এর ছক মোতাবেক সেটিরই বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর এর সফল বাস্তবায়নেই 'র' এদেশে ভারতের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় ধংস করে দিতে যাচ্ছে তারেক রহমান ও তার দলীয় শক্তি এবং ইসলামী রাজনৈতিক শক্তিসহ প্রান্তিক মুসলমানদের ঐক্য। ফলাফল বুঝিয়ে বলার আর অপেক্ষা রাখে না। এক ঢিলে অনেক পাখি সাবার।
উৎসঃ এসনিউজ

দেখা হবে জান্নাতের সিঁড়িতে: সানোয়ার জাহান


ছোটবেলা থেকে সবাই আমাকে পিয়ারি বলে ডাকতো। আমাদের অরজিনাল বাড়ি ছিল মুর্শিদাবাদে। আমার দাদারা জমিদার ছিলেন। আমার আব্বা উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। পাকিস্তান হওয়ার পরে কলকাতার চাকরি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ঢাকায় এসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এই সরকারি চাকরির সুবাদে বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন। তিনি শেষ বয়সে দিনাজপুরে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অবসর নেন ও স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আমার ভালো নাম সানোয়ার জাহান, আমার পিতার নাম মীর নাতেক আলী ও মাতা নূরজাহান বেগম।

আমি ইডেন মহিলা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভায় আমি প্রথম সারিতে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি তখন ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী। আমি ২৩ মার্চ রাত্রে ঢাকা ত্যাগ করি ও কুষ্টিয়ার কুমারখালী চলে যাই। তখন আব্বা সেখানকার সার্কেল অফিসার ছিলেন। সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা কিবরিয়া সাহেব (পরবর্তীতে এমপি) সহ অন্যান্য নেতাদের সাথে আমাদের পরিবারের সুসম্পর্ক ছিল। তারা আমাদের বাসায় আসতেন। যুদ্ধ শুরু হলে আমরা কুমারখালী ছেড়ে খোকশা নামক গ্রামের দিকে চলে যাই। মাসখানেক পরে আমরা আবার কুমারখালীতে ফেরত আসি। ওখানে আমরা নানা উপায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করি ও সাহায্য-সহযোগিতা করি। আমার মা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করতেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হওয়ার পরে মুক্তিযোদ্ধারা বাসায় এসে উল্লাস করে ও মিষ্টি বিতরণ করে। এর কিছুদিন পরে আমরা দিনাজপুরে চলে যাই। এরও কিছু দিন পরে আমি ইডেন মহিলা ছাত্রী ইউনিয়নের জিএস ছিলাম। পরে আমি ছাত্রী ইউনিয়নের নেত্রীদের নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি।

১৯৭৬ সালে পারিবারিকভাবে আবদুল কাদের মোল্লার সাথে আমার বিয়ে হয়। তখন আবদুল কাদের মোল্লা একজন মেধাবী ছাত্র ও লেখক হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। আমার আব্বা দৈনিক ইত্তেফাকে পবিত্র শবে মেরাজের উপরে একটা লেখা পড়ে আবদুল কাদের মোল্লাকে পছন্দ করেন। তখন তাঁর নামে কোনো যুদ্ধ অপরাধ তো দূরের কথা, সাধারণ যে কোনো অপরাধের জন্যও কোনো মামলা এমন কি জিডি পর্যন্ত হয়নি। তাঁর যদি কোনো মামলা অথবা কোনো গুজবও থাকতো, তবে আমাদের মতো সম্ভ্রান্ত পরিবার উনার সাথে আমার বিয়ে দিতেন না, আমিও সম্মত হতাম না।

পর্দার ব্যাপারে উনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। বিয়ের দিনে সুটকেসের ভিতরে আমার জন্য হাত ও পায়ের মোজা দিয়েছিলেন। আমার এক মামা মোজাগুলো দেখে বলেছিলেন ‘এখনই এত কঠোরতা অবলম্বন করছো বাবা’। উত্তরে উনি বলেছিলেন ‘বিড়াল মারলে প্রথম রাতে মারাই ভালো’।

আমি প্রথম যখন শ্বশুর বাড়িতে গেলাম, সারা গ্রামের লোকজন ভেঙ্গে পড়েছিলো আমাকে দেখার জন্য। কিন্তু উনি আমার পর্দা রক্ষার জন্য কঠোর ছিলেন। এতে আত্মীয়-স্বজনরা মনঃক্ষুণœ হলেও উনি তার পরোয়া করেননি।

আমার স্বামী আবদুল কাদের মোল্লা ১৯৭৭ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। এরপর তিনি দৈনিক সংগ্রামে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি ১৯৮২/৮৩ সালে পরপর দুইবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সহ-সভাপতি ছিলেন। ঐ সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরীসহ প্রথিতযশা সাংবাদিকদের সাথে তিনি আড্ডা দিতেন প্রেস ক্লাবে। এই সময় সাংবাদিক ইউয়নিয়ন ও কল্যাণ ফান্ডের টাকা তিনি বিশ্বস্ততার সাথে সংক্ষরণ করেছেন। অসহায়, বেকার, দুঃস্থ, অসুস্থ সাংবাদিকদের কল্যাণে অন্যান্য সাংবাদিক নেতাদের সাথে নিয়ে কাজ করেছেন। তার আমানতদারীতা নিয়ে কেউ কোনোদিন কোন প্রশ্ন করেননি। কারণ তিনি ছিলেন সবার বিশ্বস্ত ও প্রিয় ‘ মোল্লা ভাই’।

তিনি ১৯৮৬ সালে এরশাদের শাসনামলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে গ্রেফতার হন। পরে গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯১ সালে তিনি জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর আমীর হন। এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ-এর সাথে গ্রেফতার হন। ঐ সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুস সামাদ আজাদ, জাতীয় পার্টির নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ প্রমুখদের সাথে লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। কিছুদিন পরেই তিনি জেল থেকে ছাড়া পান। পরে তিনি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনোই যুদ্ধ অপরাধী অথবা অন্য কোনো মামলার অপরাধী এই কথা কেউ বলতে পারেনি। খুন-ধর্ষণ, লুটতরাজ ইত্যাদি জঘন্য সব অভিযোগ বা অভিযোগের গুজব কখনোই উনার নামে ছিল না।

আমার স্বামী আবদুল কাদের মোল্লা সব সময় সৎ ছিলেন। হালাল রুজি-রোজগারের ব্যাপারে উনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। উনার চাওয়া-পাওয়া অত্যন্ত সীমিত ছিল, অল্পেই তুষ্ট থাকতেন। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে উনার কোনো চাহিদা ছিল না। সারাদিন উনি নানা কাজে ব্যস্ত থাকলেও রাত্রে এসে ছেলে-মেয়েদের খোঁজ-খবর নিতেন।

আমার প্রথম সন্তান হওয়ার পর উনি প্রোগ্রাম করে বাসায় এসে বাচ্চাকে ধরে রাখতেন। এমনকি পায়খানা-প্রস্রাবও করিয়ে দিতেন। বাচ্চাদেরকে ঘাড়ে করে উনি ঘুরে বেড়াতেন।

উনি নিজের কাজ নিজে করতে পছন্দ করতেন। সেলাই করা থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়া, উনি নিজে করতে চাইতেন বা করতেন। উনার যত কাজই থাক, কুরআন তিলাওয়াত ও হাদীস না পড়ে সাধারণত ঘুমাতেন না। স্ত্রী হিসাবে তিনি কখনো আমার অমর্যাদা করেননি। ছেলে-মেয়েসহ আমাদের প্রায়ই কুরআন-হাদীসের আলোকে শিক্ষাদান করতেন। সব সময় সত্যের উপর থাকার জন্য তিনি জোর করতেন।

আমার স্বামী যন্ত্রের মতো কাজ করেছেন। বিয়ের পর থেকে আমি দেখেছি উনি নিরলসভাবে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। যখনই কেউ কোনো মিটিং বা প্রোগ্রামের জন্য ডেকেছে, উনি ছুটে গেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রয়োজনে যখন যেখানে প্রয়োজন তিনি গিয়েছেন। আমার ছোট ছেলে মওদূদ হওয়ার দিন উনার কিশোরগঞ্জে প্রোগ্রাম ছিলো। উনি আমাকে বললেন যে, আমার তো জরুরি প্রোগ্রাম আছে। আমি চলে গেলে তুমি ম্যানেজ করে নিতে পারবে কিনা, আমি বললাম পারবো। উনি চলে গেলেন কিশোরগঞ্জ। পরেরদিন এসে তিনি মওদূদ এর মুখ দেখলেন।

ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ সব মহলে উনার গ্রহণযোগ্যতা ও অবাধ যাতায়াত ছিলো। উনার বুক ভরা সাহস ছিলো। সত্য কথা বলতে তিনি দ্বিধা করতেন না। তিনি অত্যন্ত রসিক লোক ছিলেন। নানা গল্পে-কৌতুকে রসময় কথায় আসর মাত করে রাখতেন। এই জন্য সকল মহলে উনার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিলো।

সম্ভব হলে উনি আমাকে ও বাচ্চাদেরকে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। উনার বিভিন্ন জেলায় নানা কর্মসূচি থাকতো। উনি সম্ভব হলে আমাকে নিয়ে যেতেন। বাসার কাজের মানুষের ব্যাপারে তিনি সহৃদয় ছিলেন। তাদের সাথে সদ্বব্যবহার করার জন্য বলতেন। আত্মীয়-স্বজন আসলে তাদের আদর-যত্ম করার জন্য বলতেন। তিনি নানা সামাজিক সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন। মাদরাসা, এতিমখানা, স্কুল, কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন।

জেলখানায় শেষ দুটি দেখায় উনি আমাকে বলেছেন, আমি ইসলামী আন্দোলন করার কারণে তোমাকে যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল দিতে পারিনি। ছেলে-মেয়েদের সব ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করো। আমি উত্তরে বলেছি, প্রশ্নই আসে না ক্ষমা করার। ইসলামী আন্দোলনের জন্য যা করা দরকার তুমি তাই করেছ। আমি বরং সাংসারিক প্রয়োজনে তোমাকে বিরক্ত করেছি। কারণে-অকারণে নানা প্রয়োজনের কথা বলেছি। উত্তরে তিনি বলেন, তোমরা সর্বঅবস্থায় আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখবে ও ধৈর্য ধরবে।

যেদিন উনার ফাঁসি হয় সেদিন সাক্ষাতে উনি আমাকে বলেনÑ বাকি ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিবে। পারিবারিক সকল দায়িত্ব পালন শেষে আল্লাহ যেন তোমাকে দ্রুত আমার কাছে নিয়ে আসেন।

তিনি আরো বলেন তোমরা ব্যক্তিগতভবে কোনো প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করবে না। ইসলামী আন্দোলন এদেশে প্রতিষ্ঠা ও বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে আমার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে, তার বদলা হবে। একমাত্র ইসলামকে এদেশে জয়ী করেই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা আমার প্রতি ফোঁটা রক্তের প্রতিশোধ নিবে। এটা সবাইকে বলে দিবা। তিনি আরও বলেনÑ হালাল রোজগারের মাধ্যমে জীবন ধারণ করবা। হালাল রোজগারে কেউ কখনও না খেয়ে মরে না। আর কারও হারাম রোজগারের গাড়ি-বাড়ি দেখে আফসোস করবা না। এটা আল্লাহতায়ার খুবই অপছন্দ। ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে আমার জান্নতের সিঁড়িতে দেখা হবে।

লেখক : শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রী।

সিলেট জামায়াতের আঞ্চলিক দায়িত্বশীল বৈঠকে ৩ দিনের কর্মসূচী এডভোকেট জুবায়ের সহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবীতে আজ সোমবার সিলেটে সর্বাত্মক হরতাল পালন করুন ---অধ্যাপক ফজলুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক দায়িত্বশীল অধ্যাপক ফজলুর রহমান বলেছেন, সরকার দেশপ্রেমিক জনতার চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে দেশব্যাপী বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করছে। উচ্চ আদালতের জামিন প্রাপ্ত এবং নিয়মিত হাজিরা দেয়ার সময় সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে গ্রেফতারের ঘটনায় সিলেটবাসী বিস্মিত। পরিচ্ছন্ন রাজনীতির অহংকার সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবি এডভোকেট জুবায়েরকে একটি ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় সিলেট জামায়াতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। দলীয় আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত যুবলীগ নেতা জগৎজ্যোতি হত্যা মামলায় মূল আসামীদের আড়াল করতেই সরকার নিরীহ জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। যে মামলায় পুর্বে এডভোকেট জুবায়েরের নাম ছিলন এমতাবস্থায় তড়িঘড়ি করে তার নাম এজাহারে তালিকাভুক্ত করে গ্রেফতার সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন বহি:প্রকাশ। এডভোকেট জুবায়ের সহ সকল রাজবন্দীদের নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে আজ সোমবার গোটা সিলেটে জামায়াত আহুত সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করেন। এছাড়া মঙ্গলবার সিলেট মহানগরীর সকল থানায় থানায় বিক্ষোভ, বুধবার সিলেট বিভাগ জুড়ে জামায়াতের ডাকে বিক্ষোভ কর্মসুচী পালিন হবে।
তিনি রোববার মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেট বিভাগীয় জামায়াতের আঞ্চলিক দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলে বিস্তারিত কর্মসুচী ঘোষনা করেন। দায়িত্বশীল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক সচিব আজিজুর রশীদ চৌধুরী বাবুল, সিলেট জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, সিলেট মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মো: ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা দক্ষিণের নায়েবে আমীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারী মাওলানা লোকমান আহমদ, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট আব্দুর রব ও নুরুল ইসলাম বাবুল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট জিয়াউদ্দিন নাদের, জামায়াত নেতা জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুস শাকুর এবং ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি মু. আব্দুর রাজ্জাক ও সেক্রেটারী মাসুক আহমদ প্রমুখ।

যে কারণে পিছু হটল বিএনপি....!!!!!!!!!!! “রাজনৈতিক বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এটা বিএনপির রাজনৈতিক 'অদূরদর্শিতা'।

গাজীপুরে জনসভা ডেকে পিছু হটার ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছেন না বিএনপির সমর্থকরা। এ নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশ বলছেন, গতকাল গাজীপুর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সরকারের হাতে তাদের সমালোচনা করার অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। বার বার ভুল সিদ্ধান্তে দলকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।
আরেক পক্ষ বলছে, দল ও জোটগতভাবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতির চেয়ে লাভই হয়েছে। তবে জনসভা থেকে পিছু হটায় রাজনৈতিক বিশিষ্টজনেরা বলছেন, এটা বিএনপির রাজনৈতিক 'অদূরদর্শিতা'। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি কারণে গাজীপুরে জনসভা থেকে পিছু হটেছে বিএনপি। এর মধ্যে একটি হলো গত শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে এ বিষয়ে একজন প্রভাবশালী সদস্য বেগম জিয়াকে জানান, ৩ ও ৫ জানুয়ারির আগে বড় কোনো ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। এতে ওই দুটি কর্মসূচি ভেস্তে যাবে। আরেক যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়- গাজীপুরে বিএনপি সাংগঠনিকভাবেও দুর্বল। ওই জনসভায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে। অনেকেই গ্রেফতার হয়ে যাবেন।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও গ্রেফতার হতে পারেন। এ ছাড়া আজ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং আইয়ের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকের কথা রয়েছে। চীনের প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বিএনপি। তাই এর আগে কোনো অঘটনে না যাওয়াই ভালো বলেও স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্য মনে করেন। অবশ্য বেশ কয়েকজন সদস্য এসব পরামর্শের বিরোধিতাও করেন। তবে তাদের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি। স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী এক সদস্যের কথাই গ্রহণ করে জনসভায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বেগম জিয়া। একই সঙ্গে গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল এবং সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জনসভা না করে গাজীপুরে হরতাল পালনের সিদ্ধান্তকে 'ভুল' বলে আখ্যা দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, 'আমরা ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করব। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর আগে বড় কোনো ঝুঁকিতে না যাওয়াই ভালো বলে অনেকে মনে করেন। তাই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনসভা না করে গাজীপুরে হরতালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।' তবে জনসভা থেকে পিছু হটায় ২০-দলীয় জোটের শরিক দলগুলোও চরম হতাশ। জামায়াত, লেবার পার্টিসহ বেশির ভাগ শরিক দল বেগম খালেদা জিয়ার গাজীপুর অভিমুখী যাত্রার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে 'আত্দঘাতী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ এক নেতা এটিকে একটি 'ভুল' সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বলেন, 'আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি ছিল যেখানেই বাধা, সেখানেই সমাবেশ করার। তা করলেই রাজনৈতিক কৌশলগতভাবে ২০ দল আরও এগিয়ে যেত।' নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, 'জনসভা না করে হরতাল কর্মসূচি দেওয়ায় বিএনপি আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা কাটিয়ে উঠতেও তাদের সময় লাগবে। কারণ, এতে দলের নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি হঠাৎ করেই মোড় ঘুরিয়ে ফেলায় মাঠপর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই আমি এর যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ দেখি না।' যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, 'গাজীপুরের জনসভা না করার পেছনে বিএনপির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা অবশ্যই ছিল। তারা দল ও জোটগতভাবে বৈঠক করেছে। সেখানে যা ভালো মনে করেছে তা-ই তারা করেছে। এতে ভালো হলো কি মন্দ হলো, সবই তাদের নিজস্ব ব্যাপার।' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, 'বিএনপি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি করতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অথবা ছাত্রলীগ-যুবলীগের মাধ্যমেও বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আবার বিএনপি এসবের প্রতিবাদে হরতাল কর্মসূচি দিলে বলা হয়, দলটির আন্দোলনের শক্তি নেই। এখন বিএনপিকেই এই তিন বাধার আলোকে বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আমি মনে করি, এখনো আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।' সাবেক সংসদ সদস্য মেজর মো. আখতারুজ্জামান (অব.) বলেন, সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতো ১৪৪ ধারা ভেঙে গাজীপুরে জনসভা করা অথবা গাজীপুর অভিমুখে যাত্রা শুরু করা। যদি যাত্রাপথে কোনো বাধা আসত তাহলে সে বাধা সাহসের সঙ্গে জনগণকে নিয়ে মোকাবিলা করে রাজনৈতিক বিজয় নিয়ে আসা যেত। যাত্রাপথে জনগণও তখন তার পাশে থাকত। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মাঠে নামতে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মুখিয়ে ছিল। জনসভা না করে হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করাও বিএনপির ভুল রাজনীতির একটি অংশ। এটা বিএনপির আরও একটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

পাঁচ ঘণ্টা থানা হেফাজতে জিহাদের বাবা...!!

রাজধানীর শাহজাহানপুরে পানির পাইপে আটকে পড়া (অনিশ্চিত) শিশু জিহাদের বাবা নাসির উদ্দিন বকুলকে পাঁচ ঘণ্টা থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
এ সময় শাহজাহানপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেন নাসির। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উদ্ধার কাজ চলার সময় মিডিয়া বিরক্ত করতে পারে বলে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ আমাকে শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে জিহাদ পাইপে পড়েনি বলে বক্তব্য দিতে পুলিশ আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে।’
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানান নাসির। তিনি বলেন, ‘সেই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে বলেন, তোমার ছেলে পাইপে পড়ে যায়নি। তুমি তাকে লুকিয়ে রেখেছো। আমি তাকে বলি, আমি কেন নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রাখবো! তখন তিনি বলেন, তাহলে অন্য কেউ লুকিয়ে রেখেছে, অপহরণ করতে পারে। আমি তাকে তবু বলতে থাকি, আমি একজন গরিব মানুষ- আমার ছেলেকে কেউ কেন অপহরণ করবে। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা ধমকের সুরে বলেন, তাহলে তুই তাকে লুকিয়ে রেখেছিস।’

১৪৪ ধারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জামায়াতের আহবান

১৪৪ ধারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জামায়াতের আহবানগাজীপুরে ২০ দলের জনসভাস্থলে জারিকৃত ১৪৪ ধারার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গাজীপুরের জনগণসহ দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ আহবান জানান।
ডা. শফিক বলেন,‘সরকারের এই অশুভ পদক্ষেপের মাধ্যমে এক দলীয় স্বৈরাচারী চরিত্রই জাতির সামনে অত্যন্ত নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে। সরকারের এ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াবার জন্য আমি গাজীপুরের জনগণসহ দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে ডা. শফিক আরো বলেন, ‘সরকার ২০ দলীয় জোটের গাজীপুরের জনসভা বানচাল করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে জনগণের সভাসমাবেশ করার মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সরকারের এই অন্যায় পদক্ষেপে দেশবাসী বিস্মিত হয়েছে। ২০ দলীয় জোটের জনসভা বানচাল করার জন্য সরকার গায়ে পড়ে ঝগড়া সৃষ্টি করতে চায়। সরকারের ১৪৪ ধারা জারির অন্যায়, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন পূর্বেই ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গাজীপুরে জনসভা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের উচিত ছিল ২০ দলীয় জোটের ঘোষিত গাজীপুরের জনসভা সফল করার ব্যাপারে সহযোগিতা করা। কিন্তু সরকার তা না করে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দিয়ে ২০ দলীয় জোটের জনসভার স্থানে পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে শুক্রবার গাজীপুরের প্রশাসনকে দিয়ে ২০ দলীয় জোটের জনসভা বানচাল করার জন্য অন্যায়ভাবে ১৪৪ ধারা জারি করিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মাস্তানি ছাড়া আর কিছুই নয়।’
শীর্ষ নিউজ ডটকম/বিজ্ঞপ্তি/আনসারী/জুআ

পেশাদাররা ব্যর্থ, সফল স্বেচ্ছাসেবীরা..

এসব দুর্যোগে স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারীদের মধ্যে থাকেন ছাত্র, বেকার, পোশাক কারখানার শ্রমিক, মুদি দোকানি, দোকানের কর্মচারী। মোট কথায় বেশিরভাগই থাকেন সাধারণ জনতা।

ফলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান চালানোর প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

শুক্রবার বিকেল থেকে আজ (শনিবার) বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ সমগ্রবিশ্বের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল রাজধানীর শাজাহানপুরে ওয়াসার পরিত্যক্ত পাইপের ভেতর আটকে থাকা শিশু জিহাদের উদ্ধারের অপেক্ষায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে পাইপে শিশু জিহাদের অস্তিত্ব নেই ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উদ্ধার অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল আহাম্মেদ আলী খান।


অথচ এই ঘোষণার মাত্র আধাঘন্টা পর বেলা ৩টায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুই দুঃসাহসিক পাম্প ক্লিনার রহমত ও ফারুক তাদের নিজস্ব স্ক্যাচার দিয়ে শিশু জিহাদকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পাইপ থেকে বের করে আনেন।

বাংলাদেশের দুটি হৃদয়বিদারক ঘটনায় পেশাদার উদ্ধারকারীরা তেমন সফলতার মুখ না দেখলেও তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী আনাড়ি উদ্ধারকর্মীরা।

দুটি ঘটনার একটি হল রানা প্লাজা ধস এবং অপরটি শাহজাহানপুরের শিশু জিহাদ উদ্ধার। দুটি ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবীদের তৎপরতা এবং সফলতা দেশবাসীর অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছে।


সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকাণ্ডসহ নানান ধরনের দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পেশাদারদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মীরা।


এর চিত্র দেখা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর, আইলা ও রানা প্লাজায় এবং সর্বশেষ শিশু জিহাদ উদ্ধার অভিযানে। পেশাগতরা উদ্ধার বিষয়ে নানান ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলেও একেবারে প্রশিক্ষণবিহীন স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধার কর্মীদের কাজেই সফলতা দেখা যায়।

এমনকি মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পিনাক-৬ ডুবে গেলে স্বেচ্চাসেবী উদ্ধারকারীরা অনেককে জীবিত এবং মৃত উদ্ধার করে। তাছাড়া সম্প্রতি সুন্দরবনের তেলবাহী টাঙ্কার সাউদার্ন স্টার-৭ ডুবির পরও ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল অপসারণ করে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানাপ্লাজা ধসের উদ্ধারকাজে সরকারি বাহিনীর চেয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যাপকভাবে প্রসংসিত হন। সে সময় উদ্ধারকাজে দগ্ধ হয়ে প্রাণ দেন স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মী ইজাজ উদ্দিন চৌধুরী কায়কোবাদ। পরে তাকে বনানী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

এছাড়া আরো অনেকে নিজের জীবনবাজী রেখে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। দুটি ঘটনাতেই স্থানীয়রা প্রশাষনের বিরুদ্ধে উদ্ধারে অভিযানে গাফলতির অভিযোগ আনেন।