ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

সিরাত- রক্ত হিম করে দেয়া এক প্রিয়ভাজন

বাংলাদেশ বার্তা ডেসবকঃ দেলওয়ার ভাই বললেন "তারেক ভাই, কে নাকি ট্রেনে কাটা পড়েছে।' বিশ্বাস হয়নি! কি মনে করে সিকিউরিটি বক্সে কল দিলাম। ওখানে জানিয়েই আবার নিচে নামলাম। অশান্তি দূর করতে হাঁটছি। দেখি দেলওয়ার ভাই দৌড়াচ্ছে, আর বলছে ভাই, 'ওসমান হলের কে জানি!'- আমি আর স্থির থাকতে পারিনা, কারণ এই অভিজ্ঞতা আরেকবার হয়েছিল।  পিছন পিছন আমিও দৌঁড়। একটু আগাতেই সিরাতের নাম ভেসে আসছিল। সিকিউরিটি আংকেল গিয়ে আইডিকার্ড হাতে নিতেই 'আমার রক্তগুলো জমে যায়।' এটা কিভাবে সম্ভব। ভাবলাম হয়ত শুধু হাত পা ভাঙ্গবে! মনকে বেশ শক্ত করে মোবাইলটা হাত দিয়ে চেপে ধরে একপা দু'পা আগাচ্ছি। একটু পরেই কেটে পড়া হাত! নিস্তেজ। এবার পাগলের মত জিজ্ঞেস করছি সিরাত কই? ওরে মেডিকেল নিছে কেউ? সবাই হাত ইশারা করে কিন্তু মুখ দিয়ে কিছু বলেনা! সবাই যেন কোন অপঘাতে বোবা হয়ে যাওয়া ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। স্বভাবগতভাবেই ধমকিয়ে উঠি। যাকে ধমক দিলাম সে জড়াই ধরে কান্না শুরু করে দিল। আমি তখনও ভাবছি "একটা হাত'ইতো, বাকীটা বেঁচে গেলেই হয়। কিন্তু পরক্ষণেই যে অভিজ্ঞতার সম্মুখিন আমি হয়েছি তা অতীতের সকল আঘাতকে ভুলিয়ে দিয়েছিল। শরীরের শিরা-উপশিরাগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছিল।
সিরাতের ছিন্নভিন্ন দেহ। বিচ্ছিন্ন হাঁড়গোড় আর রাস্তায় পিষে যাওয়া মগজ দেখে আমি স্তম্ভিত!

ওসমান (রাঃ) হল প্রভোস্ট স্যারকে ( এড. আব্দুল মালেক স্যার) কল দিলাম। বড় ভাই, বন্ধু, রুমমেট সবাইকে কল দিচ্ছিলাম। একটা নাম্বারে কল দিতে আমার হাত কাঁপছিল। Rabiul। যার মাধ্যমে সিরাত আই আই ইউ সি'র সবুজ ক্যাম্পাসে আমাদের সহযাত্রী হয়েছে। রবিউল আমাকে জড়াই ধরে সিরাত কিনা সেটা সিউর হচ্ছিল। বার বার জানতে চাচ্ছে সে কেন আসবে? সিরাত হবার কথা না। ঠিক একই কাজ করেছেন সিরাতের খুব কাছের Fudayel ভাই! কেউ মেনে নিচ্ছেনা সিরাত কিভাবে হয়! আরেকজন স্যার যিনি সিরাতের পাশের গ্রামের। ফরহাদ স্যার। যার রিকমান্ড নিয়ে সে প্রভোস্ট স্যারদের কাছে হল সীট আবেদন করেছিল। শ্রদ্ধেয় Afm Nuruzzaman স্যার, বার বার উনাকে বলতে হয়েছে, এমনকি Abdul Malek স্যারও! "হ্যাঁ, তুমি যাকে পাঠাইছিলা ঐ ছেলেটাই! একপর্যায়ে মালেক স্যার বললেন 'আমি নিশ্চিত! '- ওপার থেকে আর কথা আসেনা। - কি বলবে কে! সবাই বাকরুদ্ধ! Eftekhar স্যারতো কিংকর্তব্যবিমূঢ়! উনি বোঝতেই পারছেন না "এটা কিভাবে সম্ভব!'
চটপটে, অল্পভাষী , সদাহাস্যজ্জ্বল, জনমদুঃখী সিরাত! ক্যাম্পাসে আসার আগেই হলে থাকা না থাকা নিয়ে একদিন রবিউল জানিয়েছিল। সম্ভবত শুরু থেকে সে ফুদায়েল ভাইয়ের সাথে ছিল। পরে রবিউলের রুমে পার্মানেন্ট ফ্লোরিং হয়েছিল সীট হবার আগ পর্যন্ত। আমার একটা স্বভাব হচ্ছে "কাউকে আদর করলে ধমক দিতাম বেশি।"- সিরাত সেই তালিকার একজন। বেশি হাসত বেশি ধমক খাইতো। ওঁর সবগুলো ফ্রেন্ডই আমার খুব কাছের কচিকাঁচা। যদিও ভার্সিটি পড়ুয়া তবুও ওরা যেন আপন ছোটভাই। একটা তো সরাসরি রুমমেট! Md Ryhanul Islam ই- একদিন বললো, 'ভাই ওঁর আম্মা নেই।' সেদিন থেকে সিরাত আমার কাছে অন্য কিছু। তাঁকে বলেছিলাম 'তোর সাথে খুব একা একা কথা আছে।' খুব ছোটবেলা আম্মু হারানো ছেলেটা এত হাসে কিভাবে! এইযে হলে আছে উনাকে মিস করেনা। কয়দিন আগে ঈদ গেল! তাঁর ঈদ কেমন ছিল? এসব নিয়েই মূলত গল্প করা। কিন্তু ব্যস্ততা আমাদের সে সুযোগ দেয়নি।
এত অল্প সময়ে ভার্সিটির বড় একটা অংশের নজর কাড়বে সিরাত এটা কেউ ভাবেনি। হয়ত আড়াল থেকে কেউ কেউ ঈর্ষাও করত!- ছেলেটা এত ভাল কেন!
মানুষের স্থিরচিত্র ধারণ করে নিজেকে আনন্দ দিত সিরাত! ডিএসএলারে সুনিপুণভাবে এঁকে নিত প্রিয় মানুষগুলোর মুখাবয়েব, শারীরিক সৌন্দর্য। কিন্তু সিরাত, সেকি জানত অল্প সময়েই তাঁকে বিদায় জানাতে হবে এই মানু্ষের আয়োজন, পৃথিবীর মোহ আর জাগতিক ভালবাসা।
দুঃখীদের দেখলেই চেনা যায়! সিরাতকে দেখলে এটা কস্মিনকালেও কেউ ভাবতনা তাঁর মনে কোন কষ্ট আছে। সে স্বাভাবিক চাঞ্চল্য ধরে রেখেছে পুরো ক্যাম্পাস লাইফ। ফুটবল মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা, ডিপার্টমেন্ট, ক্লাব, স্কাউটস সবকিছুতেই ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। আজ সব সেই উপস্থিতির স্মৃতিচিহ্ন। 
আমরা সীরাতকে হারাইনি, একটা সদাচঞ্চল, হাস্যজ্জ্বোল, পরোপকারী বন্ধুকে আল্লাহ'র সিদ্ধান্তে তাঁর স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তরিত করেছি। আমরা সব্বাই মিলে জান্নাতে আবার হাসবো, গল্প করবো, জীবনের না বলা গল্পগুলো শুনবো আর শুনাবো ইন শা আল্লাহ। সিরাত একটা ক্ষণজন্মা ভালবাসার নাম। 
------------------------------
সংক্ষিপ্ত পরিচিতঃ
""""""""""""""""""""""""""""
নামঃ কাজী এস. এম আমিরুল ইসলাম সিরাত
জন্ম: ১৯৯৭
মৃত্যুঃ ৩০ জুলাই ২০১৮, সকাল ৮.৪৫ মি.
পিতা: মো: আব্দুল গফুর
প্রতিষ্ঠানঃ আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।
বিভাগ: ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টার।
মৃত্যুর ধরণ: ট্রেন দুর্ঘটনা। ( নানুর জানাযায় যাওয়ার জন্য সকাল ৮.৪৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলঘ্ন রেলওয়ে রাস্তা দিয়ে ভার্সিটি বাস ধরতে যাওয়ার সময় পিছন থেকে চাঁদুপুর থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনগামী আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র আমিরুল ইসলাম সিরাত ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত


বাংলাদেশ বার্তাঃ জুলাই ৩০, ২০১৮: আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইংরেজী বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আমিরুল ইসলাম সিরাত আজ সকাল আনুমানিক ৯টায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছে।
 ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সে তার নানীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার এক সহপাঠী থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে ট্রেনের লাইন ধরে সর্টকার্ট রাস্তা দিয়ে বাস ধরবেন বলে দৌড়াচ্ছিলেন। এই সময় পেছন থেকে  একটি ট্রেন এসে পড়লেও সে কোনো কিছু আচ করতে পারেনি। বাড়িতে মোবাইলে কথা বলতে থাকায় ট্রেনের হুইসেলও সে শুনেনি। তাছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান আশপাশ থেকেও অনেকে তাকে চিৎকার করে সতর্ক  করতে থাকে  কিন্তু মোবাইলে কথা বলতে থাকায় কোন কিছুই তার কানে পৌছায়নি। তার এই অসতর্কতার পরিণাম হল, লাশ হয়ে যাওয়া
সকাল বেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরুর প্রাককালে এমন খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্র শিক্ষক সিরাতের মরদেহের কাছে ছুটে যায়। খবর দেয়া হয় তার বাবাকে। খুব তড়িৎ গতিতে সিরাতের লাশ পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণ করে গোছল করিয়ে জানাজার ব্যবস্থা করা হয়। সেন্ট্রাল মসজিদের খতীব . বিএম মফিজুর রহমান আল আজহারী জানাজা নামাজের ইমামতি করেন। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি  প্রফেসর . মোহম্মদ আলী আজাদী, ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ট্রাস্ট মেম্বার প্রফেসর আহসান উল্লাহ, ট্রাস্ট সদস্য প্রফেসর আমিরুল ইসলাম, প্রফেসর . কাজী দ্বীন মুহাম্মদ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডীন চেয়ারম্যানবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি...

বাংলাদেশ বার্তাঃ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি...
১. বেপোরোয়া ড্রাইভারকে ফাঁসি দিতে হবে এবং এই শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে।

২. নৌ-পরিবহন মন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের চলাচলে এমইএস ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. প্রত্যেক সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাতে স্পিড ব্রেকার দিতে হবে।
৫. সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।
৬. শিক্ষার্থীরা বাস থামানোর সিগন্যাল দিলে, থামিয়ে তাদের বাসে তুলতে হবে।
৭. শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ ও লাইসেন্স ছাড়া চালকরা গাড়ি চালাতে পারবে না।
৯. বাসে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।
দাবিগুলোর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত, আর আপনি?

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮

শমসের পাড়ার জামায়াত কর্মী হারুন অর রশিদের ইন্তেকালে চান্দগাঁও জামায়াতের শোক প্রকাশ

বাংলাদেশ বার্তাঃ জুলাই ২৯, ২০১৮ তারিখ শমসের পাড়া নিবাসী মরহুম হামিদ মিস্ত্রির পুত্র হারুন অর রশিদ (৬৫) আজ আনুমানিক বিকাল ৫টায় অসুস্থতাজনিত কারণে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে মরহুমের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ২ভাই, স্ত্রী, ৩মেয়ে, ১ ছেলে ও অসংখ্য শুবাকাংখী রেখে যান। 

নামাজে জানাজার সম্ভাব্য সময়

আগামী কাল ৩০ জুলাই সকাল ১০টায় মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। 
আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলকে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শোকবাণী

 শমসের পাড়া নিবাসী  জামায়াত কর্মী হারুন অর রশিদের ইন্তেকালে চান্দগাঁও থানা জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারী শোক প্রকাশ করে এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন, হারুন অর রশিদের ইন্তেকালে জামায়াত একজন নিবেদিত প্রাণ ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হারালো। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য তার খেদমত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল ও মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

একটি মানুষকে আর কতভাবে নির্যাতন করা হবে!


বাংলাদেশ বার্তাঃ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার মজলুম সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মাহমুদুর রহমান অ্যাম্বুলেন্সে করে আজ দু’টি আদালতে হাজির হয়েছেন। ঢাকার জেলাজজ আদালতে একটি মামলায় শুনানী ছিল। গায়েবী অভিযোগ, আমেরিকায় প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যা ষড়যন্ত্র! এই মামলার নির্ধারিত শুনানীর তারিখ ছিল আজ। অ্যাম্বুলেন্সে করেই গেলেন হাজিরা দিতে।

সুনামগঞ্জের একটি মামলায় জামিন বাতিল করে গত বৃহস্পতিবার ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল। সেই ওয়ারেন্টের কপি দ্রুত গতিতে ঢাকায় চলে আসে। সেই মামলায় তিনি আজ জামিন চাইতে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ আজ ৬ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেছে।

একটি মানুষকে আর কতভাবে নির্যাতন করা হবে! ২০১০ সালের এপ্রিলে ঢাকার ৭ রাস্তার মোড়ে গাড়িতে হ্যামার দিয়ে আক্রমনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এরপর জুনে গ্রেফতারা করা হয় দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল পত্রিকা। তখন রিমান্ডে নিয়ে তাঁকে হত্যার অপচেষ্টাও চালানো হয়েছিল। সেই দফায় ১৪দিন রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করা হয়।

২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতারের পরও রিমান্ডে রাখা হয় মোট ২৪ দিন। তখনো তাঁর উপর নির্যাতন হয়েছে অবর্ণনীয়। 
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই কুষ্টিয়ার ঘটনা সবারই জানা। টানা সাড়ে ৪ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন কুষ্টিার একটি আদালতে। সেখানেও ছাত্রলীগের গুন্ডারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালিয়ে রক্তাক্ত করে।

এই অবস্থায়ও তিনি আজ অ্যাম্বুলেন্সে করেই আদালতের গেলেন। হাজিরা দিলেন। আবার হাইকোর্টে গিয়ে জামিন চাইলেন।

Oliullah Noman

২৮ জুলাই ২০১৮, শনিবার, ৯:১৪ মিডিয়ার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে উস্কানীমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে জোটের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান


বাংলাদেশ বার্তাঃ একটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জামায়াত আলাদা অংশ গ্রহণ করায় জোটের আদৌ কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই গত ২৭ জুলাই ২০ দলীয় জোটের একটি শরীক দলের এক নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ ২৮ জুলাই প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় ঐতিহাসিক প্রয়োজনেই ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে। যে জাতীয় প্রয়োজনকে সামনে রেখে ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে সেই প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বরং সে প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। আমরা অতি সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি যে, একটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে  কেন্দ্র করে অতি উৎসাহি কতিপয় মিডিয়ার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ২০ দলীয় জোটের দায়িত্বশীল কোন কোন নেতা কখনো কখনো অনাকাংখিত মন্তব্য করে থাকেন। জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউ কেউ সম্প্রতি এমনও মন্তব্য করেছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যে, ‘কোন একটি দল একাই সরকার পরিবর্তন করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
১৯৯১ সালের উদাহরণ টেনে তিনি আরো বলেছেন যে, কারো সহযোগিতা ছাড়াই জোটভুক্ত একটি দল বিজয় লাভ করেছিল।’ তিনি আসলেই এ ধরনের কোন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আর যদি তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েই থাকেন তাহলে আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, ১৯৯১ সালে জামায়াত তার নিজ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছিল। দেশ ও জাতির স্বার্থে এ ধরনের সমর্থন এবং উদারতা ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। চারদলীয় জোটের আকার বৃদ্ধি করে পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোট গঠনের পর স্থানীয় সরকার পর্যায়ের পৌরসভা, ইউপি নির্বাচন এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচন দফায় দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমস্ত নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো যার যার মতো করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তাতে জোটের রাজনীতির কোন ক্ষতি হয়নি। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের একটি স্তরের নির্বাচন। ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি মাত্র সিটিতে জামায়াত নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছে। বাকী সব কয়টি সিটিতে বিএনপির প্রার্থীদের জামায়াত সমর্থন দিয়েছে। এ সমর্থন দিতে গিয়ে প্রায় সব জায়গাতেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জেল, জুলুম ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব নিয়ে অতি উৎসাহী এক শ্রেণীর প্রচার মাধ্যমের কোন দায়িত্বশীল আচরণ জাতি লক্ষ্য করেনি। একটি মাত্র সিটিতে জামায়াত অংশগ্রহণের কারণে তারা এখন তা নিয়ে ঝড় তোলার চেষ্টা করছে।
আমরা জোটভুক্ত সকল দল এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাব যে, কারো উস্কানীর শিকার হয়ে আমরা যেন এমন কোন বক্তব্য প্রদান ও আচরণ করে না বসি যা দেশ ও জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয়। অতীতে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা যার যার মত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি তাতে জোটের কোন ক্ষতি হয়নি। একটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আলাদা অংশগ্রহণ করায় জোটের আদৌ কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
স্বৈরশাসনের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য কার্যকর আন্দোলন ও অর্থবহ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানোর জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

"যিনি আমাদের মসজিদ দিয়েছেন আমরা তাকে গলাধাক্কা দিয়েছি" :আহমেদ আফগানী

বায়তুল মুকাররম মসজিদ। কে না চিনে? বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ। আমি নোয়াখালীর মফস্বলে বেড়ে উঠা মানুষ। বায়তুল মুকাররমে নামাজ পড়া ছিল স্বপ্নের মতো। একবার একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অনেকের সাথে এলাম পল্টনে। স্কুলছাত্র ছিলাম বলে নিয়ে আসতে চাইছিলো না কেউ। কিন্তু জোর করে চলে এলাম। 

পল্টন ময়দানে এসে জানতে পারলাম পাশেই বায়তুল মুকাররম। অনেক ভাইকে বললাম ভাই আমাকে একটু নিয়ে চলেন। মসজিদটা একটু দেখবো। কিন্তু কেউ রাজি হলো না দলছুট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। প্রচণ্ড গরম। আইসক্রিম আর তরমুজ বিক্রি হচ্ছে স্থানে স্থানে। 

আইসক্রিম খেতে এসে দেখি আমার স্কুলের এক স্যার। সালাম দিলাম। তিনি বললেন ছোট মানুষ তুমি। কেন এলে? আমি কিছু না বলে চুপ করে ছিলাম। তিনি আমাকে আইসক্রিম কিনে দিলেন। বললেন আর কিছু লাগবে কিনা? 

আমি বললাম, স্যার বায়তুল মুকাররমে যোহর নামাজ পড়তে চাই। তিনি বললেন বেশ! আমিও তো চিন্তা করে রাখছি যোহর বায়তুল মুকাররমে পড়বো। এরপর স্যারের পিছে লেগে থাকলাম। যাতে এত মানুষের মধ্যে স্যারকে হারিয়ে না ফেলি। 

সেই আমার প্রথম বায়তুল মুকাররম দেখা ও নামাজ পড়া। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করেছিল। আহা আমি বাংলাদেশের সেরা মসজিদে নামাজ পড়ছি। যে মসজিদকে এতদিন পত্রিকায় ও টিভিতে দেখেছি সেটাতে এখন আমি নিজেই। আহা...। চোখ বন্ধ করে এখনো টের পাই ছেলেবেলার সেই অনুভূতি। 

এরকম দুইটা অনুভূতির জন্য অপেক্ষা করছি। এক. সৌদিতে গিয়ে কা'বায় ও নববীতে দাঁড়িয়ে আবেগে আপ্লুত হবো আর চোখের পানি ফেলবো। দুই. জেরুজালেমে গিয়ে অনেক নবীর স্মৃতি বিজড়িত বায়তুল আকসায় সিজদা দিয়ে পড়ে রইবো। জানিনা কবে আল্লাহ তায়ালা আমার ইচ্ছেগুলো কবুল করবেন! 

যাই হোক ফিরে আসি বায়তুল মুকাররমে। এটি পল্টনে অবস্থিত। মসজিদটির আয়তন ৬০ হাজার বর্গফুট। এর ধারণ ক্ষমতা ৪০,০০০। মানে একসাথে ৪০ হাজার মানুষ এখানে নামাজ পড়তে পারে। এই সুবিশাল মসজিদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং ধারণক্ষমতা বিবেচনায় এটি পৃথিবীতে দশম বৃহত্তম মসজিদ। 

পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর যে ক'জন ব্যক্তি/পরিবার নিজ উদ্যোগে পাকিস্তান গঠনে এগিয়ে এসেছিলেন তাদের মধ্যে বাওয়ানী, আদমজী, ইস্পাহানী অন্যতম। বাওয়ানী পরিবারের লতিফ বাওয়ানী বাংলাদেশে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১৫ টি শিল্পকারখানা স্থাপন করে। বাংলাদেশের পাটকে সোনালী আঁশে পরিণত করে মূলত বাওয়ানী, আদমজী ও ইস্পাহানী পরিবার। 

লতিফ বাওয়ানী পূর্ব-পাকিস্তানে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ স্থাপনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সে জন্য ঢাকার আলেম সমাজ ও গণ্যমান্যদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন ১৯৫৯ সালে। সেখানে ঠিক হয় এই মসজিদের নাম হবে বায়তুল মুকাররম। কমিটির নাম হয় বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি। কিন্তু তখনো ঠিক হয়নি মসজিদটি কোথায় স্থাপিত হবে? 

বেশিরভাগ লোক বলেছিলো পুরান ঢাকায় করার জন্য। কিছু লোক বললো নতুন ঢাকায় করা ভালো হবে কারণ সেটা হবে পরিকল্পিত ঢাকা। যেহেতু এটা গ্র্যান্ড মসজিদ হবে তাই পুরান ঢাকায় সম্ভব নয় কারণ সেখানে এত জায়গা নেই। তাহলে? পরে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় এটি পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলেই স্থাপিত হবে। আর সেটা হবে পল্টনে। 

ঢাকায় যখন এমন আলোচনা চলছিলো তখন পাকিস্তানের শাসক ছিলেন সেনাশাসক স্বৈরাচারী আইয়ুব খান। স্বৈরাচারীদের একটা ব্যাপার থাকে এমনসব আকর্ষণীয় কিছু করা যাতে তারা মানুষদের কাছে ভালো ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান পায়। যেমন বাংলাদেশে এরশাদ নিজেকে ইসলামিক প্রমাণ করার জন্য অনেক কিছু করেছে। আবার এখন হাসিনা নিজেকে তাহাজ্জুদ্গুজার হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

আসলে এরা সবাই আইযুবের শিষ্য। যাই হোক আইয়ুব খানও এমন একটি মসজিদের কথা ভাবছেন যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যকে শাণিত করবে। এটা হবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এমন সময় লতিফ বাওয়ানীর প্রস্তাব আইয়ুব খানের কাছে পৌঁছলে তা আইয়ুবের জন্য সহজ হয়ে গেলো। একইসাথে আইয়ুব খান ঢাকাকে সেকেন্ড রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলো। তাই পাকিস্তানের পার্লামেন্টের জন্য শেরে বাংলা নগরে কাজ শুরু করলো। 

জাতীয় সংসদ ভবন ও বায়তুল মুকাররম মসজিদ দুটি মেগা প্রজেক্ট আইয়ুব একইসাথে শুরু করে। লতিফ বাওয়ানী ও বায়তুল মুকাররম মসজিদ সোসাইটি মসজিদের খরচের একটি অংশ বহন করে। সরকার প্রায় সাড়ে আট একর জমি বরাদ্দ দেয় মসজিদের জন্য। মসজিদটি এখন যে স্থানে সেখানে একটি বিশাল পুকুর ছিল, নাম পল্টন পুকুর। সেই পল্টন পুকুর ভরাট করেই মসজিদ স্থাপিত হয়। 

বিশিষ্ট স্থপতি আবদুল হুসেন মুহাম্মদ থারিয়ানিকে মসজিদ কমপ্লেক্সটির নকশার জন্য নিযুক্ত করেন লতিফ বাওয়ানী। থারিয়ানীর বাড়ি ছিল মুম্বাইতে। পরে অবশ্য পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। পুরো কমপ্লেক্স নকশার মধ্যে দোকান, অফিস, লাইব্রেরি ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদের প্রধান কক্ষটি তিন দিকে বারান্দা দিয়ে ঘেরা। মিহরাবটি অর্ধ-বৃত্তাকারের পরিবর্তে আয়তাকার।

বাইরে থেকে দেখলে বায়তুল মোকাররম মসজিদকে ‘কাবার’ মডেলের মতো মনে হবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদটি প্রধানত ৮তলা। নীচতলায় বিপণী বিতান ও গুদামঘর। বাকীগুলো নামাজের জন্য। আল্লাহর ৯৯টি নামের কথা স্মরণ করে মসজিদটির উচ্চতা ৯৯ ফুট করা হয়েছে। 

১৯৬৩ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের প্রথম পর্বের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম জুমআর নামাজ আদায় করা হয়। আর এর পরদিন ২৬ জানুয়ারি শনিবার তারাবীহ নামাজ শুরু হয়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন মুজিব সরকার সমাজতন্ত্রীদের পরামর্শে লতিফ বাওয়ানীর সমস্ত শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়। বাওয়ানী পরিবার প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যায়।

শুক্রবার, ২৭ জুলাই, ২০১৮

প্রসঙ্গ পিনাকী : এদেশের কমিউনিস্টরাও এখন মুসলমানদের সমর্থনে দৈত্য হতে চায়


বাংলাদেশ বার্তাঃ এতোদিন হাসিনার বচন শুনে এসেছি, আমার উপর ভরসা রাখুন। এখন কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে সেই লাইন ধরেছে পিনাকী ভট্টাচার্য। অনুনয় বিনয় করে সে বলেছে, “প্লিজ সিপিবি সম্পর্কে ‘গুজবে’ কান দেবেন না, ‘ভরসা রাখুন’ আমার উপরেও কিছুটা। সিপিবির পদস্খলন হলে আমিই প্রথমে ‘নির্মমভাবে’ সিপিবি নেতৃবৃন্দকে ধরবো।”
কয়েকদিন ধরেই পিনাকী এধরণের আহবান জানিয়ে আসছে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে, এর পেছনে অবশ্যই বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। একটি লেখায় তো সরাসরি উপসংহার টেনেছেই, “আপনারাই এখন ভেবে দেখুন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ইমরান এইচ সরকার, ক্ষমতা বহির্ভুত বামেরা আপনার মিত্র কিনা। মিত্র হলে কাছের নাকি দুরবর্তী মিত্র। নিজেই বুঝে নিতে পারবেন।”
পিনাকীর কথায় অনেকেই প্রভাবান্বিত হতে পারে যেহেতু মুসলমান আজকাল তাদের ধর্মগ্রন্থের(৫/৮২) উপর ইস্তিকামত নয়, তাই তাদেরকে নিকট ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়া দরকার। মিশরের ইখওয়ানের প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে শহীদ করেছিল বাদশাহ ফারুক। তাকে উৎখাত করতে মিশরের সেনা অফিসারদের সহায়তা করেছিল ইখওয়ান, যা ‘ফ্রি অফিসার্স মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত হয়। ইখওয়ানের সহায়তায় মিশরে সেনাশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রথম রাষ্ট্রপতি হয় নাগিব। তাকে সরিয়ে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হয় গামাল আবদেল নাসের। সে ইখওয়ানের উপর যে ভয়াবহ অত্যাচার চালিয়েছিল তা ইতিহাসে বিরল। সাইয়েদ কুতুব শহীদকে সে-ই ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছিল।
অর্থাৎ ইখওয়ানিরা যে ‘ফেরাউন’ নাসেরকে ক্ষমতা দিয়েছিল, সে-ই পরবর্তীতে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যতে পরিণত হয়। এরকম দৈত্য মুসলমানরা আরো জন্ম দিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাথে ‘কৌশলগত’ কোয়ালিশন গড়তে গিয়ে। খিলাফত আন্দোলনের কথা পূর্বের পোস্টে উল্লেখ করেছি। এই আন্দোলনে মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী ভ্রাতৃদ্বয় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ‘কৌশল’ করতে গিয়ে কাছে টেনেছিল মোহনদাস গান্ধীকে। সেই গান্ধী উল্টো খিলাফত আন্দোলনকে তো ব্যর্থ করলোই, মুসলমানদের গরু জবাইয়ের অধিকারও কেড়ে নিল।
একটি বিষয় সবাই স্বীকার করবে যে, উপমহাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে এই গান্ধী, গুজরাটের দাঙ্গাকারী মোদিও তার কাছে চুনোপুঁটি। সাতচল্লিশে মুসলমানবিরোধী দাঙ্গায় এই গান্ধীই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এতবড় ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্য কিন্তু জন্ম নিয়েছিল মুসলমানদেরই সহায়তায়। ইতিহাস কিন্তু এটি স্বীকার করে নেয় যে, খিলাফত আন্দোলনই গান্ধীকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্ল্যাটফর্ম দিয়েছিল। এর আগে উপমহাদেশের রাজনীতিতে গান্ধীর নেতা হিসেবে কোন অবস্থানই ছিল না।
এতো গেল কংগ্রেসের গান্ধীর কথা, বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদও কিন্তু মুসলমানদেরই তৈরী! জিন্নাহর সাথে মতপার্থক্যের ফলে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মুসলিম লীগের সাথে কৃষক প্রজা পার্টির কোয়ালিশন ভেঙে দিয়ে এই শ্যামাপ্রসাদের ‘হিন্দু মহাসভা’ দলটির সাথে কোয়ালিশন করে। পুরো ১৮০ ডিগ্রি টার্ন! অবশ্য এই শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা বেশিদিন টিকতে পারেনি, ‍মুসলিম যুবকদের আন্দোলনে ১ বছরের মাথায় সে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ‍মুজিবের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে এর উল্লেখ রয়েছে।
এই মন্ত্রিসভা বেশিদিন না টিকলেও এর ফলশ্রুতিতেই হিন্দু মহাসভা ও তার নেতা শ্যামাপ্রসাদ, প্রথমবারের মতো ক্ষমতার স্বাদ নিতে সমর্থ হয় এবং হিন্দুদের নেতা হিসেবে জায়গা করে নেয়। মুসলমানদের দেয়া এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই সে কলকাতায় সাতচল্লিশে দাঙ্গায় ইন্ধন দেয় এবং ভারতে বিজেপি নামক উগ্র মুসলিমবিরোধী দলটি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।
এরকম উদাহরণ বহু রয়েছে, একদা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অং সান সুকির সমর্থকরাও ছিল মুসলমান। এখন এই যে মুসলমানদের সমর্থন নিয়ে কুফরী শক্তির দৈত্যতে পরিণত হওয়ার রেওয়াজ, এটি এদেশের পতিত কমিউনিস্টরাও ব্যবহার করতে চায়। কমিউনিস্টদের নিয়ে এদেশের অনেকেই ঠাট্টা-তামাসা করে তাদের জনসমর্থনহীনতার কারণে। তাদের পোস্টারে লেখা থাকে ১১ দলের সভা, কিন্তু সভায় ১১ জন লোকও পাওয়া যায় না। নির্বাচনে দাঁড়ালে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াটা তাদের জন্য অনিবার্য বিষয়।
এই যে এদেশের চুনোপুঁটি কমিউনিস্ট, এরাও তো সারাজীবন ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা হয়ে থাকতে চায় না। এরাও তো অং সান সুকি, মিশরের নাসের, গুজরাটের নরেন্দ্র মোদির ন্যায় মুসলিমবিরোধী বড় কসাই হতে চায়। সেজন্য প্রথমে দরকার, পূর্বের ন্যায় মুসলমানদের ফুসলিয়ে ‘কোয়ালিশন’ করা। একবার কোয়ালিশন হয়ে গেলেই, নেতা হিসেবে অবস্থান তৈরী হলেই মুসলমানদের উপর চড়াও হয়ে নির্যাতন করা যাবে মিশরের গামাল কিংবা বার্মার সুকির মতো, এই-ই তাদের আশা।
আসলে এদেশের মুসলমানদের তো কোন কোয়ালিশনের দরকার নেই। সাতচল্লিশে আমাদের পূর্বপুরুষেরা ছিল পাকিস্তানের সমর্থক, তারা কিন্তু ব্রিটিশদের খেদাতে হিন্দুদের সাথে কোয়ালিশন করতে যায়নি। তারাই সফল হয়েছে, স্বাধীন দেশ পেয়েছে। বিপরীতে যারা কংগ্রেসকে সমর্থন করে হিন্দুদের সাথে কোয়ালিশন করতে গিয়েছিল, তারা এখন উঠতে বসতে মার খাচ্ছে।
সাতচল্লিশে আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বাধীন দেশ না থাকার পরও, বর্তমানের ন্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভূখণ্ড না থাকার পরও সফল হয়েছিলেন, কারণ তারা কাফিরদের সাথে কোয়ালিশন করতে যায়নি। সুতরাং বর্তমানে কোটাবিরোধী আন্দোলনে মুসলমানদের কোয়ালিশন করতে হবে কেন? ‍পিনাকীদের ছলনায় বিভ্রান্ত হবেন না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে মুসলমানদের কোন কোয়ালিশনের দরকার নেই।

!!!!!!!!!! মুল পোস্ট : রাজীব খাজা..

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই, ২০১৮

কে এই মাহমুদুর রহমান ?


বাংলাদেশ বার্তাঃ জন্ম পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় ১৯৫৩ সালে।
বুয়েট থেকে অসাধারণ গৌরবজনক ফলাফল। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ।
জাপানের বিখ্যাত মনোবুশো স্কলারশিপে লাভ। সেখানে সিরামিক শিল্পে উচ্চতর ডিপ্লোমা ।
সিরামিক শিল্পে অতিশয় সফল উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পপণ্য রপ্তানির পথিকৃত।
বিয়ে করেন বিখ্যাত শিল্পপতি হারুনুর রশীদ মুন্নু সাহেবের মেয়েকে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের ইতিহাসে সফলতম চেয়ারম্যান যার সময় অসাধারণ সৃজনশীল প্রচারণা ও তুখোড় মেধাবী ব্যবস্থাপনায় নজিরবিহীন গতিতে এদেশে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন। এ সময় ভারতের অতি ক্ষমতাধর টাটা কোম্পানির একটি বিশাল প্রকল্পের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর বিবেচনায় সরকারের পক্ষে ফেরত দিয়ে ভারতীয় লবি, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতীয় মদতপুষ্ট মিডিয়ার চরম বিরাগভাজন হন।
জাতীয় ক্রান্তিকালে আমার দেশ নামে একটি অখ্যাত পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অবিশ্বাস্য গতিতে এটিকে পরবর্তীতে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় পত্রিকায় রূপান্তরিত করেন যদিও এটি নজিরবিহীন সাফল্যের চূড়ায় পৌছার পরপরই সরকার কতৃক নিষিদ্ধ হয়।
এই সামান্য একটি পত্রিকার সাহায্যে অজস্র মিডিয়ার মোকাবেলা করে তিনি আগুন ঝরা কলমের সাহায্যে জনমতের স্রোত অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে এবং সুবিশাল এক জাতীয়তাবাদী পাঠকগোষ্ঠী তৈরী করবার কাজে অকল্পনীয় সফলতা লাভ করেন।
চরম ইসলাম বিদ্বেষের বুদ্ধিবৃত্তিক মোকাবিলা, ইমরান এইচ সরকারের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে শুরুতেই পরিস্কার ও সাহসী অবস্থান নেওয়া, স্কাইপ সংলাপ ফাঁস, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও তথ্যবহুল লেখনী ইত্যাদি কারণে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন। একশ্রেণীর মানুষের কাছে বিরাগভাজন হন। অপর একশ্রেণীর কাছে হয়ে ওঠেন কিংবদন্তির অসমসাহসী মহান বীর।
তিনি একাধিক অতিশয় তথ্যবহুল ও চরম ধারালো যুক্তি সংবলিত গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করেন যেগুলো ব্যাপক পাঠক প্রিয়তা লাভ করে।
তিনি একজন অবিশ্বাস্য উঁচু মানের বিতার্কিক। এই বিষয়ে কারো কোন সন্দেহ থাকলে ইউটিউবে যেয়ে আগের টক শো গুলোতে ওনার পারফরম্যান্স দেখতে পারেন।
তিনি ব্যক্তিগত জীবনে নিঃসন্তান।
আমার দেশ পত্রিকা চালু রাখতে গিয়ে ওনার সিরামিক কারখানা এবং ওনার স্ত্রীর মেলামাইন কারখানা বিক্রি করে দেন।
উনি ৫ বছর কারাগার ও রিমান্ডে ছিলেন।
অতিশয় পুস্তক প্রেমিক এই মানুষ অধিকাংশ সময় বাংলা ও ইংরেজি বই ও পত্রিকা পড়ে সময় কাটান। ফেসবুকে তিনি নিজে নেই, যদিও ওনার নামে একটি ফেসবুক ফ্যান পেইজ চালু আছে।
সাংঘাতিক আগুনঝরা, অকাট্য তথ্যভিত্তিক লেখা এবং প্রচন্ড শক্তিশালী, পেশিবহুল, ধারালো ও অনমনীয় ভাষার কারণে ওনার বিরুদ্ধে বর্তমান মামলার সংখ্যা ১২৫ ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আহসান হাবিবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ

বাংলাদেশ বার্তাঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বগুড়া পশ্চিম সাংগঠনিক শাখার রুকন বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আহসান হাবিব ৭০ বছর বয়সে গত ২৪জুলাই দিবাগত রাত ৩টায় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্মীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। আজ ২৫ জুলাই বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে তাকে বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার শান্তাহার পৌর এলাকার পাশ্চিম সিংড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে।

শোকবাণী

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আহসান হাবিবের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদ আজ ২৫ জুলাই ২০১৮ এক শোকবাণী প্রদান করেছেন।
শোকবাণীতে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আহসান হাবিব (রাহিমাহুল্লাহ)-কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ক্ষমা ও রহম করুন। তাকে সম্মানিত মেহমান হিসেবে কবুল করুন ও তার কবরকে প্রশস্ত করুন। তার গুণাহখাতাগুলোকে নেকিতে পরিণত করুন। তার জীবনের নেক আমলসমূহ কবুল করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন।
তিনি শোকবাণীতে তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে এ শোকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।

আধুনিক ব্যবস্থাপনায় দাওয়াতি কাজের কৌশল- ড. মোবারক হোসাইন

বাংলাদেশ বার্তা প্রকৃত দাওয়াত দানকারী তিনিই-যিনি মানুষকে দাওয়াত দেয়ার আগে নিজেকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেন, অর্থাৎ “First you sell yourself”. আধুনিক যুগে দাওয়াতি কাজে সফলতা লাভ করতে হলে

দাওয়াতের পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে।সাধারণত প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা ও চেতনা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। আজকের যুগে দাওয়াতি কাজ করা মানে হাতের তালুতে আগুনের
স্ফুলিঙ্গ রাখা যেমন কঠিন তার চেয়েও বেশি কঠিন বর্তমান মানুষের কাছে। কারণ যুগের পরিবর্তনে মানুষের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, মানুষ তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর হচ্ছে। তাই আধুনিক যুগে দাওয়াতি কাজ করতে হলে T.C বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।
Target people customer solution- লক্ষ জনগণের সমাধানে জনগণকে সবসময় সহজভাবে তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তাদের কোনো প্রকার সমস্যা থাকলে সমাধানের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। জনগণই সব কিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের সেইভাবে যথার্থ মূল্যায়ন করে কাজ করতে হবে। 
Communication একটা মানুষকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করে। মানুষের মধ্যে সম্পর্ক হলে মানুষ তাকে মূল্যায়ন করে। বিখ্যাত মনীষী রুশো বলেছেন, ‘মানুষ স্বাধীনভাবে কাজগুলো করে কিন্তু সকলে শৃঙ্খলাবদ্ধ, মানুষ তার জীবন অতিবাহিত করে সব মানুষের সম্পর্কের মাধ্যমেই।’
প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পরিবর্তনের ধারা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আজকের যুগে যে দাওয়াত মানুষের নিকট অত্যন্ত আকর্ষণীয় পরবর্তীতে তার চাহিদা নাও থাকতে পারে। মানুষের চাহিদা, মানুষের গতিশীলতা, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হওয়ার কারণে দাওয়াতের কৌশলও পরিবর্তন হতে পারে, সে কারণে সর্বদা সতর্কতার সাথে দাওয়াতি কাজ করতে হবে। আচার ব্যবহার জীবনকে ১০০% পরিপূর্ণ করতে পারে, যদি, A=1, B=2… Z=26 হলে- Hard Work = (H+A+R+D+W +O+R +K) =8+1+8+4+23+15+18+ 11= 98%, Knowledge = (K+N+O+ W+L+E+D+G+E) =11+14+15+23+ 12+5+4+7+5 = 89%, Attitude = (A+T+T+I+T+U+D+E)= 1+20+20+9+20+21+4+5 = 100% হয়।
শুধুমাত্র Attitude (আচরণ) আপনার জীবনকে ১০০% করতে পারে। খারাপ আচরণ দিয়ে কখনোই ইতিবাচক ফল করা যায় না। Education is need to relationship KSA=Knowledge+Skill+ Attitude
প্রকতপক্ষে শিক্ষা হলো Knowledge+Skill+Attitude এর সমন্বয় সাধন Prospect মানে প্রাথমিকভাবে যারা দাওয়াত গ্রহণ করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আদর্শ Prospect হলো অঅঘ= AAN= Ability+Authority+Need এর যোগ্যতা, ক্ষমতা, সর্বোপরি চাহিদা আছে। দাওয়াত দান কারীদেরকে অপমান ও মানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করার মত ক্ষমতা রাখতে হবে। কারণ আপনাকে নানা ধরনের মানুষের সাথে মিশতে হবে। তাদের মেজাজও বিচিত্র কিন্তু দাওয়াত গ্রহণকারী নির্বাচনে আপনাকে তো বাছ-বিচার করলে চলবে না, আর মানুষের সাহায্য ছাড়া এ পথে এক পা-ও এগোনো মুশকিল, তাই মানুষের সঙ্গে একবার দুইবার মিশেই তাকে পরিত্যাগ করবেন না। Prospect খোঁজার কৌশল  আপনজনের মাঝে সন্ধান, পরিচিত কোনো সূত্র ধরে কারোর কাছে সন্ধান, গণজমায়েত (Public Forum)-এর সুযোগ নিয়ে সন্ধান, সরাসরি ই-মেইল-এ Direct Mail-এর মাধ্যমে প্রচার, টেলিফোনের মাধ্যমে সন্ধান, পর্যবেক্ষণ (Telemarketing)-এর মাধ্যমে প্রচার, সামাজিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সন্ধান, সর্বোপরি সামনা সামনি (Visiting Face to Face) অনুসন্ধান। তবে বণিত পদ্ধতিগুলোর বিশেষ কোনো একটির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। একটি পদ্ধতিতে সুফল না পেলে সঙ্গে সঙ্গে কৌশল বদলে ফেলুন। 
মানুষ কখন দাওয়াত গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় সেটা জানা থাকলে দাওয়াত দানকারীর কাজটা সহজ হয়ে যাবে। দাওয়াত গ্রহণকারী যেভাবে দাওয়াত গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয় তার নাম AIDAS তত্ত্ব অর্থাৎ Attention (মনোযোগ), Interest (আগ্রহ), Desire (ইচ্ছা), Action (ক্রিয়া) কার্যকরীভাব প্রকাশের প্রথম নীতিসূত্র (LAW)-কে ভুলে গেলে চলবে না। Look (দর্শন), Action (চলন) এবং Word বা বলন বা বাচনভঙ্গি। দাওয়াত গ্রহণকারীর প্রতিটি কথা হাসিমুখে গ্রহণ করতে হবে এবং বাকি কথা হাস্যরস দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে তাকে কথার জালে নিজের দিকে টানতে হবে।
কথা বলার সময় KISS নীতি (Keep it short & simple) অনুসরণ করবেন। সাহস এবং চিন্তার গভীরতা না থাকলে জীবন লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে। সঙ্কীর্ণচিত্ত দুর্বল এবং অলসমনা ব্যক্তিরা সবসময় নির্বোধতার পথই বেছে নেয়। চিন্তা হলো কাজের প্রাণ। আপনি যদি আপনার মনকে সাফল্যের শর্ত চাপিয়ে দেন তাহলে সাফল্যের কার্যসাধন অবশ্যই তাকে অনুসরণ করতে চাইবে। 
যারা মন প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করেন যে তারা পারেন, সঙ্কটের মুখেও তারা টিকে থাকার বিরল যোগ্যতা অর্জন করেন। প্রতিযোগিতার সঙ্গে পার্থক্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করুন, আপনি কোথায় শক্তিশালী আর প্রতিযোগী কোথায় শক্তিশালী সেটা বুঝতে পারলে আপনিই জয়ী হবেন। না বলবেন না, বলবেন-
১. আপনি বুড়ো মানুষ বা আপনি প্রবীণ ব্যক্তি আপনি অভিজ্ঞ ব্যক্তি।
২. আপনি যখন বলছেন চেষ্টা করবো, এই বয়সে আমার পক্ষে আর বলানো সম্ভব না। এটা না হওয়ার কারণ নাই, আমার যথেষ্ট বয়স হয়েছে বলেই বুঝতে পারি কেন বদলানোর প্রয়োজন।
৩. এটা অসম্ভব হবে না অসম্ভব বলব না, তবে কাজটা বেশ শক্ত।
৪. এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। আমি নিজে কিছু করতে না পারলেও কিছু করানো যায় কিনা দেখছি।
৫. এটা আমার দোষ নয়। দেখা যাক, আপনার সুবিধাতে আমি কী করতে পারি। 
৬. আমি জানি না দেখি কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।
৭. এটা আমার কাজ বা দায়িত্ব নয় আপনাকে সঠিক ব্যক্তির কাছে পাঠাচ্ছি, যিনি যথার্থই আপনাকে সাহায্য করতে পারবে। 
পৃথিবীতে তিন ধরনের মানুষ আছে,
১। যারা ঘটনা ঘটান,
২। যারা ঘটনা ঘটতে দেখেন ও
৩। যারা ঘটনা ঘটতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

সমাজে তিন ধরনের মানুষ বসবাস করে তাই তাদের দাওয়াত দিতে হলেও তিন ধরনের কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এই তিন ধরনের ব্যক্তিরা হলেন ১. First Mover ২. First Flower ৩. Late Mover
১. First Mover যারা তারা প্রথম শ্রেণীর লোক। তারা সবকিছু আগে শুনে করে। তাদের কাছে দাওয়াত দিতে হলে দায়ীকে সেভাবেই চিন্তা করতে হবে।
২. First Flower যারা কোনো কিছু আবিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে অনুসরণ করে।
৩. Late Mover যারা তারা সবকিছু ধীরে ধীরে গ্রহণ করে। পর্যায়ক্রমে তাদের দাওয়াত দিতে হবে।

রাসূল (সা) বলেন, মানুষের মনে দুই ধরনের প্রেরণা আসে- একটি আসে ফেরেশতার পক্ষ থেকে, আর সেটা হলো সৎ কাজের আগ্রহ এবং সত্যের স্বীকৃতি ও উপলব্ধি, এটা যার মনে অনুভূত হবে তার জানা

দরকার যে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে এবং আল্লাহর শোকর আদায় করা উচিত। আর একটা প্রেরণা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আর তা হলো খারাপ কাজের আগ্রহ, সত্যকে অস্বীকার এবং ভালো কাজ রোধ করার প্রবৃত্তি। যার মনে এ প্রবৃত্তি অনুভূত হবে তার উচিত বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া। দাওয়াতি কাজের মাধমে আল্লাহকে সহজে স্মরণ করা যায় এবং ভালো কাজের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। রাসূল (সা) এক হাদিসে বলেন, জান্নাতের বাগানগুলোতে তোমরা ফলমূল আহরণ করো। 
সাহাবীগণ বললেন, জান্নাতের বাগান কোথায়? তিনি বললেন, যে সব বৈঠকে আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। ইসলামী আন্দোলনের কাজ এক ব্যক্তি পাহাড়ে গিয়ে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতো। তাকে রাসূল (সা)-এর নিকট নিয়ে আসা হলে রাসূল (সা) তাকে বললেন, তুমি ও অন্যকেও যেন এ কাজ না করে। ইসলামের কোনো যুদ্ধের ময়দানে সবর করা এ ধরনের কোনো ব্যক্তির ৪০ বছরে ইবাদতের চেয়ে উত্তম।
দাওয়াত গ্রহণকারীর মন জয় করার ৬টি বিশেষ পদ্ধতি
১. দাওয়াত গ্রহণকারীর সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন বা ভালোভাবে উপস্থাপন করুন।
২. মানুষের নাম তার নিজের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই যথাসম্ভব মানুষের নাম মনে রাখার চেষ্টা করুন।
৩. আপনি যাকে দাওয়াত দেবেন তাকে গুরুত্ব দিন ও এটা মন থেকেই করুন। 
৪. দাওয়াত গ্রহণকারী যে বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী, সে বিষয়ে আলোচনা করুন।
৫. ভালো শ্রোতা হোন, দাওয়াত গ্রহণকারীকে কথা বলতে দিন।

৬. বিজয়ী তিনিই যিনি কখনও হাল ছাড়েন না। মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না, স্বপ্নই আপনাকে দিন রাত কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যের হৃদয়ের ভেতরে ঢোকার সহজ পথ বিনয় ও সততা। আপনি বিনয়ী এবং সৎ। এই বিশ্বাস আপনাকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
মানুষ তার চলার পথে নানাভাবে শিখে- নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে শিখে, বুদ্ধি দিয়ে শিখে, বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব, প্রকৃতি, বইপত্র সব কিছু থেকেই শিক্ষা নেয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় শিক্ষক সে নিজে। নিজে শিখতে না চাইলে অন্য কেউ তাকে শেখাতে পারে না। মানুষের সাফল্য সবটুকু করতে পারায় নয়, সাধ্যমতো করতে পারায়।
সফল দাওয়াত দানকারীর ব্যক্তিত্ব গঠনের কৌশল
* সুন্দরভাবে কথা বলা।
* নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা।
* বিশ্বাসী হতে হবে।
* দাওয়াত দানকারীর মূলধন কঠোর পরিশ্রম।
* সহিষ্ণু হতে হবে সহিষ্ণু ব্যক্তিরাই শেষ পযর্ন্ত টিকে থাকে tough time does not last but only tough people do)।
* সময়ানুবর্তিতা অবলম্বন করুন। দাওয়াতি কাজে সফল হওয়ার সাতটি বিশেষ কৌশল
* লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। যে জানে তার জীবনের লক্ষ্য-পৃথিবী তাকে সেখানে পৌঁছানোর পথ তৈরি করে দেয়। লক্ষ্য অর্জনে সদা সচেষ্ট থাকুন।
* কৌশলী হোন; কারণ যোগ্যতম ব্যক্তিরাই শেষ পযর্ন্ত টিকে থাকে। কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, যদি আপনি মনে করেন পারবেন, নিশ্চয়ই পারবেন।
* চিন্তা করুন, অবশ্যই ভালো উপায় খুঁজে পাবেন।
* আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী, আচার ও আচরণ যেন ইতিবাচক হয়।
* সবসময় হাসুন, তাহলে সমগ্র পৃথিবী আপনাকে দেখে হাসবে।
* সৃজনশীল ও উদ্যমী হোন।
* অন্যকে ভালোবাসুন, আপনিও ভালোবাসা পাবেন। দাওয়াতি কাজে কার্যকরী যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা
* কখনোই আশা করবেন না যে, দাওয়াত গ্রহণকারী আপনার কাছে এসে ধরনা দেবে।
* ভাববেন না প্রথম সাক্ষাতেই দাওয়াত গ্রহণ করে ফেলবে।
* সুসংগঠিতভাবে নিয়মিত ফলোআপ করুন।
* প্রতি সপ্তাহে নতুন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
* যাদের সাথে পরিচিত হচ্ছেন, তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব আপনারই।
* মনে রাখবেন, কিছু পেতে হলে, কিছু দিতে হবে। কেননা দিন আপনার আমার সবার জন্যই ২৪ ঘণ্টা। শুধু লক্ষ্য রাখবেন, ত্যাগের চাইতে প্রাপ্তি যেন সবসময় ভারি থাকে।

জীবনে চলার পথে ধ্রুব সত্য স্বার্থবাদী এক অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ I এড়িয়ে চলুন, 
সন্তুষ্টজনক দুই We সর্বদা ব্যবহার করুন,
তিন অক্ষর বিশিষ্ট দূষিত শব্দ Ago ধ্বংস করুন, 
বহুল ব্যবহৃত চার অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Love মুল্যায়ন করুন,
আনন্দদায়ক পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Smile সর্বদা ধারণ করুন, 
দ্রুতবেগে ছড়ানো পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Rumor অবজ্ঞা করুন,
শ্রমসাধ্য সাত অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Success অর্জন করুন, 
ঈর্ষা উদ্রেককারী আট অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Jealousy থেকে দূরে থাকুন,
সবচেয়ে শক্তিশালী নয় অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Knowledge অধিকার করুন, 
সবচেয়ে দরকারি দশ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দ Confidence কে বিশ্বাস করুন। 
দাওয়াতি কাজ সহজ কাজ নয় বা দাওয়াত হল যুদ্ধ ক্ষেত্র, এখানে যে যত বেশি কৌশলী হবেন, তিনি তত সফলকাম হবেন। এক বালতি পানি পাহাড়ের ওপর থেকে নিচে ফেলে দেয়া সহজ কিন্তু এক বালতি পানি পাহাড়ের ওপর উঠান সহজ কাজ নয়।
জ্ঞানের ক্ষেত্রে একজন দায়ীর/দাওয়াত দানকারীর যোগ্যতা
১. কুরআন ও তাফসীরের জ্ঞান
২. হাদিসের জ্ঞান
৩. ইলমুল ফিকহ
৪. সিরাতুন্নবী (সা)
৫. ইলমুত তাওহিদ ও আকায়েদের জ্ঞান
৬. দাওয়াহ বিষয়ে জ্ঞান
৭. ইসলামী ব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞান
৮. ইতিহাসের জ্ঞান চারিত্রিক যোগ্যতা
১. ইসলাম
২. উত্তম আদর্শ
৩. সত্যনিষ্ঠ
৪. আমানতদার
৫. সহনশীলতা ও কোমলতা
৬. বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল হওয়া
৭. বীরত্ব
৮. ধীর-স্থিরতা
৯. দানশীলতা ও বদান্যতা
১০. মিষ্টভাষী ও হাসিমুখ চেহারা
১১. মানবসেবা ও তাদের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা
১২. মানুষকে যথার্থ মর্যাদা প্রদান
১৩. উত্তম আচরণ
১৪. দাওয়াতের ক্ষেত্রে সহজনীতি গ্রহণ করা
১৫. মজলুম মানুষের পাশে দাঁড়ানো
১৬. ধৈর্য।

সুতরাং আগামী দিনে ইসলামী বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে হলে মানুষের মেজাজ বুঝে দাওয়াতি কাজ করতে হবে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনেক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
লেখক : কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ ইসলামী
ছাত্রশিবির।

বুধবার, ২৫ জুলাই, ২০১৮

টেবিল ঘড়ির মার্কার বিজয়ে সিলেট নগরীতে পরিবর্তন ও উন্নয়নের নবদিগন্তের সুচনা হবে --এডভোকেট জুবায়ের

বাংলাদেশ বার্তাঃ আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে সিলেট নাগরিক ফোরাম মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমি কথিত নগর পিতা হতে চাইনা। নগরবাসীর খাদেম হিসেবে নিজের জীবনের সেরাটা তুলে ধরতে চাই। মিডিয়া বান্ধব উন্নতিতে আমরা বিশ্বাসী নই, কারণ আমানতদারিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের রয়েছে সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান একঝাঁক সুনাগরিক। যাদের নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পরিবর্তন ও উন্নয়ন। ৩০ জুলাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে টেবিল ঘড়ি মার্কার বিজয়ের মাধ্যমেই আমরা সিলেটে পরিবর্তন ও উন্নয়নের নবদিগন্তের সুচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।
তিনি রবিবার টেবিল ঘড়ি মার্কার সমর্থনে নগরীর বন্দরবাজার থেকে গণসংযোগ শুরু করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গণসংযোগ শেষে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে উপরোক্ত কথা বলেন। গণসংযোগকালে নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এসময় বন্দরবাজার থেকে শুরু করে গোটা নগরী লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও জেলা দক্ষিণের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, ২০ দলীয় জোট সিলেট মহানগর সদস্য সচিব ও নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব মো: ফখরুল ইসলাম, জেলা উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, ২০ দলীয় জোট সিলেট জেলা সদস্য সচিব ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, লেবারপার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপির সিলেট জেলা সভাপতি সায়েদুর রহমান চৌধুরী রুপা, বিজেপি জেলা আহ্বায়ক মোজাম্মেল হোসেন লিটন, হেফাজতে ইসলাম সিলেটের সমন্বয়কারী মাওলানা আসলাম রহমানী, ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা জহুরুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির জেলা সভাপতি ক্বারী আবু ইউসুফ চৌধুরী, এনডিপি জেলা সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, জাগপা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, ইসলামী ঐক্যজোট মহানগর সেক্রেটারী ডা: হাবিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা রফিক বিন সিকান্দার, বিজেপি জেলা সদস্য সচিব ডা: একেএম নুরুল আম্বিয়া, জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো: শাহজাহান আলী, এডভোকেট আব্দুর রব ও ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক জমশেদ আলম, সিলেট সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জৈন উদ্দিন, সাবেক দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ডা: আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সেক্রেটারী ফরিদ আহমদ প্রমুখ।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ


বাংলাদেশ বার্তাঃ কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত দুষ্টচক্র এবং তাদের পেছনের হোতাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জামায়াতের

দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ২৫ জুলাই প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ ঘটনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, দেশে কী ভয়াবহ দুর্নীতি চলছে। এ অবস্থায় দেশবাসী সকলেই উদ্বিগ্ন।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনা তদন্ত করে ইতোমধ্যেই দুদক কয়লা উধাও হওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। বড় পুকুরিয়া কয়লা মাইনিং কোম্পানীর এমডিসহ কোম্পানীর ১৯ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একদিকে কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলছে, অন্যদিকে কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনাকে সিস্টেম লস হিসেবে চালিয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ ঘটনা যাতে কেউ ধামাচাপা দিতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকেই সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

এদিকে কয়লার অভাবে বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার ফলে উত্তরাঞ্চলে এ জুলাই মাসের প্রচন্ড গরমের মধ্যে তীব্র লোড সেডিং শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে যখন মানুষ অতিষ্ঠ তখন ভয়াবহ লোডসেডিং এর ফলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার দ্রুত অবসান হওয়া উচিত।

এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শেয়ার মার্কেট কেলেংকারী, ব্যাংক থেকে টাকা লুটপাট এবং ডাকাতির উৎসব, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অর্থ ডাকাতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা জালিয়াতি এবং বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা গায়েব ও লুটপাটের ঘটনায় জনগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিবাজ, কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক এ সরকারের হাতে পরবর্তী কোন্ সর্বনাশ জাতির জন্য অপেক্ষা করছে, তা ভেবে দেশের বিবেক মানুষ আতঙ্কিত? এ সর্বনাশা খেলা থেকে দেশ এবং জাতিকে রক্ষা করতে হলে সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, বিবেকবান বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং দেশের জনগণকে সরকারের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত দুষ্টচক্র এবং তাদের পেছনের হোতাদেরকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”