ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

শনিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৬

মাওলানা সাঈদীকে খালাস দিলেন বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা

৩১ ডিসেম্বর ২০১৫,বৃহস্পতিবার, ১২:২৭
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দিলেন বিচারপতি মো : আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। আপিল আবেদনের লিখিত রায়ে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আসামি পক্ষ সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে তিনি রাজাকার বাহিনী এবং শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন না ও কোনো অপরাধ করেননি। আসামি পক্ষ আরো প্রমাণ করতে পেরেছে যে, ঘটনার সময় তিনি পিরোজপুর ছিলেন না, যশোর ছিলেন।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা রায়ে লিখেছেন ১৯৭১ সালে তিনি রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং এ হিসেবে তিনি বিভিন্ন অপরাধ করেছেন মর্মে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা প্রমাণের দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্রপক্ষের। কিন্তু তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি।
রায়ে তিনি আসামি পক্ষের আপিল আবেদন গ্রহণ করে মাওলানা সাঈদীকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়ে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। অপর দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা মাওলানা সাঈদীকে খালাসের পক্ষে দীর্ঘ রায়ে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, অন্যান্য তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে যুক্তি তুলে ধরেছেন।
১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মাওলানা সাঈদীকে আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর মধ্যে দুইটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাওলানা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। সে সময়কার প্রধান বিচারপতি মো: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে এ রায় দেন।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। ৬১৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় মূলত লিখেছেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) এবং বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। বেঞ্চের অপর সদস্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি এ এইচ এম শাসসুদ্দীন চৌধুরী (বর্তমানে অবসরে) এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার রায়ের সাথে একমত পোষণ করেছেন রায়ে।
অপর দিকে মাওলানা সাঈদীকে তিনটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, একটি অভিযোগে ১২ বছর এবং আরেকটি অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়ে বেঞ্চের চারজন বিচারপতি যে রায় দিয়েছেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত রায় দিয়েছেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। তিনি তার ২৪৪ পৃষ্ঠার রায়ে মাওলানা সাঈদীকে সবগুলো অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন।
বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী রায়ে ২৩৮ পৃষ্ঠার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মালার উদাহরণের সাহায়্য্ ে
রাষ্ট্রপক্ষ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মোট ২০টি অভিযোগ আনে ট্রাইব্যুনালে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ মাওলানা সাঈদীকে ইব্রাহীম কুট্টি ও বিশাবালী হত্যাকাণ্ডের দু’টি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপর ছয়টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও সাজা উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে যে আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় সেগুলো হলো ৬, ৭, ৮ (ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা), ১০ (বিশাবালী হত্যা), ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯।
রাষ্ট্রপক্ষ ছয়টি অভিযোগে সাজা উল্লেখের দাবি জানিয়ে আপিল আবেদন করে। অপর দিকে আসামিপক্ষ মাওলানা সাঈদীর বেকসুর খালাস করে আপিল আবেদন করে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড অপর দু’টি অভিযোগের একটিতে ১২ বছর এবং আরেকটিতে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়।
আলোচিত ইব্রাহীম কুট্টি হত্যাকাণ্ডে ১২ বছর জেল এবং বিশাবালী হত্যাকাণ্ডে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বিশাবালী হত্যার অভিযোগসহ আরো দু’টি অভিযোগে মাওলানা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে আপিলের রায়ে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন গ্রহণ করে যে তিনটি অভিযোগে সাজা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো ৭, ১৬ ও ১৯ নং অভিযোগ।
১৬ নম্বর হলো গৌরাঙ্গ সাহার তিন বোন মহামায়া, আনু ও কমলাকে অপহরণ করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেয়ার অভিযোগ। এ অভিযোগে আপিল বিভাগের রায়ে মাওলানা সাঈদীকে আমৃত্য কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর দিকে ১৯ নম্বর অভিযোগ হলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১০০ থেকে ১৫০ জন হিন্দুকে জোর করে ধর্মান্তরকরণ। এ অভিযোগেও মাওলানা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সাত নম্বর অভিযোগ ছিল শহিদুল ইসলাম সেলিমের বাড়িতে আগুন দেয়া। এ অভিযোগে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
৭, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে ট্রাইবু্যুনাল মাওলানা সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করলেও কোনো সাজা উল্লেখ করেননি। আপিল বিভাগের রায়ে এ তিন অভিযোগের বিপরীতে সাজা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া আরো তিনটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল মাওলানা সাঈদীকে দোষী সাব্যস্ত করলেও সে তিনটি অভিযোগে আপিলের রায়ে খালাস দেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ তিনটি হলো (৬) পাড়েরহাটবাজারে দোকানেপাটে লুটপাটে নেতৃত্ব প্রদান এবং অংশ নেয়া, (১১) মাহবুবুল আলম হাওলাদারের বাড়িতে লুট এবং তার ভাইকে নির্যাতন এবং (১৪) ১৯৭১সালে হোগলাবুনিয়া এলাকায় হিন্দুপাড়ায় আক্রমণ এবং শেফালী ঘরামী নামে একজন মহিলাকে রাজাকার কর্তৃক ধর্ষণে সহায়তা এবং সেখানে উপস্থিত থাকা।
বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ইব্রাহীম কুট্টি, বিশাবালী হত্যাসহ মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত সবগুলো অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন।
মাওলানা সাঈদী ১৯৭১ সালে পিরোজপুরে সংঘটিত অপরাধ স্থলে ছিলেন না। তিনি ১৯৭১ সালের আগে থেকেই যশোর নিউ টাউনে ভাড়া থাকতেন। এপ্রিলে তিনি ধানঘাটা হয়ে মহিরনের সদরুদ্দীন পীর সাহেবের বাড়িতে যান। এরপর সেখান থেকে পীরের শিষ্য দোহাখোলা রওশন আলী মাওলানা সাঈদীকে তার বাড়িতে নিয়ে রাখেন সপরিবারে। আসামিপক্ষের দাবি পিরোজপুরে সংঘটিত অপরাধের সাথে পাকিস্তান আর্মি, রাজাকার এবং শান্তি কমিটির সদস্যরা জড়িত ছিল, মাওলানা সাঈদী নন। বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা তার রায়ে এ তথ্য তুলে ধরে বলেন, আসামিপক্ষ তাদের দাবি প্রমাণে সক্ষম হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে নৈরাজ্যকর ঘটনার জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ বার্তাসারা দেশের মতো সাতকানিয়া পৌরসভায়ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনে সরকারদলীয় লোকেরা প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য দলের প্রার্থী সমর্থকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া প্রভাব খাটিয়ে অতিমাত্রায় শক্তি জোর প্রয়োগ করে যে নৈরাজ্যকর বিভীষিকাময় পরিস্থিতি অবস্থার সৃষ্টি করেছে তার প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জাফর সাদেক এক বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাতকানিয়ায় অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে একজন নিরীহ ভোটারকে গুলী করে হত্যা করা হয় এবং নির্বাচন শুরুর পূর্বেই ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। আর ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গেলেও সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য মেয়র পদের ব্যালট পেপার ভোটারদের দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। আবার কোন কোন কেন্দ্রে সরকারদলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীকে জেতানোর জন্য কাউন্সিলদের ব্যালটও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনের পূর্বেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রফিকুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় সরকারদলীয় ক্যাডাররা তার গাড়ি বহরে হামলা করে এবং প্রার্থী একজন মহিলা নেত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। তিনি ধরনের নৈরাজ্যকর বিভীষিকাময় অবস্থার জন্য সরকারদলীয় ক্যাডারদের দায়ী করেন এবং এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানান।
এছাড়া বাঁশখালীতে সকাল ১১টার পূর্বেই সরকারদলীয় প্রার্থীর লোকজনেরা বেশ কয়েকটি কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সীল মারে। চন্দনাইশেও বিকালের দিকে কয়েকটি কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকেরা গোলযোগ সৃষ্টি করে ভোট কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে, ফলে কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। 
গণতন্ত্রের নামে জনগণকে ভোটাধিকার দেয়ার নামে শাসকগোষ্ঠি পৌরসভা নির্বাচনে যেভাবে কেন্দ্র দখল ভোট কারচুপির নৈরাজ্যকর অপরিণামদর্শী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তিনি শাসকশ্রেণীর এসব কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানান এবং সর্বস্তরের জনগণকে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে জনমত গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

২০১৫ সালে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে নিহত ১৮৩


মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, বাংলাদেশে ২০১৫ সালে ১৮৩ জন ব্যক্তি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সংস্থাটি এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে। তাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থার কর্মকর্তা নুর খান লিটন বলছেন, ২০১৫ সালে আগের বছরের চেয়ে ৫৫ জন মানুষ বেশি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মারা গেছে। গত বছর সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ১৫১ জন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৪৭ জন। এছাড়া গত বছর গুম হয়েছে ৫৫জন। ২০১৫ সালে গণপিটুনিতে মারা গেছে ১৩৫জন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্টে গেল বছরে সীমান্তে হত্যা এবং নারী নির্যাতনের চিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্র:বিবিসি

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অলি আহমদ এর মৃত্যুতে ডা. তাহের এর শোক প্রকাশ


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা দক্ষিণ শাখা সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার অলি আহম্মেদ (৬৩) শুক্রবার সন্ধা ৬ টা ২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজীউন)। তিনি স্ত্রী ২ পুত্র ও ২ কন্যাসহ বহু আত্বীয়-স্বজন রেখে গিয়েছেন। তার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নিবার্হী পরিষদ সদস্য ও চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ ডা.সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

শোকবাণীতে তিনি বলেন,মরহুম অলি আহম্মেদ আল্লাহর দ্বীনের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তিনি সারা জীবন জনগণের সেবা করে গিয়েছেন। তার জীবনের সকল নেক আমল কবুল করে আল্লাহর যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই, আল্লাহ তাদেরকে যেন এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
আগামী কাল শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা টমচমব্রীজ ও দুপুর ২ টায় মরহুমের নিজ বাড়ী চৌদ্দগ্রাম গুণবতী হাইস্কুল মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ডিসেম্বর-২০১৫


জাতিসংঘের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষনা অনুযায়ী, মৌলিক অধিকার হচ্ছে মানুষের জন্মগত অধিকার, যা জাতি, গোত্র, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য। বাংলাদেশ সংবিধানের, ৩৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকটি মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার, ৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমাবেশের স্বাধীনতা, ৩৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংগঠনের স্বাধীনতা ও ৩৯নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, এই সব অধিকারের সবগুলিই বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বর্নিত হয়েছে। উপরোক্ত অধিকারগুলির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে বাংলাদেশের কোন নাগরিকই পরিপূর্ণভাবে উপরোক্ত অধিকারগুলি ভোগ করতে পারছেনা। অথচ রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব নাগরিকের এই অধিকারগগুলি পরিপূর্নভাবে বাস্তবায়ন করা।
ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ মনে করে, সংবিধান স্বীকৃত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চত করা না গেলে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারলে এবং মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতা না পেলে শুধু কাগজে কলমে গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করলেই সেটিকে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বলা যায়না। রাষ্ট্র পরিচালনার সকলক্ষেত্রে জনগণ নিজেদেরকে নাগরিক ভাবতে ও অংশগ্রহন করতে না পারলে সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র গড়ে উঠবেনা। এজন্য সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে আইন কাঠামো প্রনয়ন অতীব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে কোনদিনই মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষকতায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, প্রশাসনের হেফাজতে নির্যাতন, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা ও নির্যাতন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা দিন দিন বেড়েই চলছে। বিশেষ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে, দিন দিন ধর্ষণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে সমগ্র দেশের নারী সমাজের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে পড়েছে। ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ১৭৯ জন লোক হত্যার স্বীকার হয়েছে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬ জন মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ১১ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ১৫ জন নিহত হয়। উল্লেখ্য, গত ১৫ই ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়ন জামায়াত নেতা মো. ওসমান গণি (৩০) পুলিশের ‘গুলিতে’ নিহত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবী নিহত ওসমান গণির বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।
ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার ১০ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ৬০ জন ছাত্র। উল্লেখ্য, ১৭ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ মাসে ৬৪ টি সহিংস হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪২ জন, আহত হয়েছে ৫৯ জন এবং গুলিবিদ্ধ ৮ জন। এছাড়াও গণপিটুনির ৭ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৪ জন। বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ ২২ জন পুরুষের, ১৪ জন মহিলার এবং ১১জনের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে। 
এ মাসে ২৪ টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪ জন, আহত হয়েছে ১১৭ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ২ জন। এছাড়া পৌরসভা নির্বাচন’২০১৫ উপলক্ষে সহিংসতার ৭৫ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ২ জন, আহত হয়েছে ৩৮১ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ৩১ জন। যার অধিকাংশ ঘটনায় সরকার দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। উল্লেখ্য, ৩০ই ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নির্বাচনি সহিংসতায় নুরুল আমিন নামক একজন নিহত হয়।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ৬ টি হামলা হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫ জন। উল্লেখ্য, ১০ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিনাজপুরে কাহারোলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) মন্দিরে কীর্তন ও ধর্মসভা চলার সময় দুবৃত্তরা হামলা চালায় এসময় দুই জন গুলিবিদ্ধ হন।
নারী নির্যাতনের অংশ হিসেবে যৌতুক জন্য নির্যাতনে নিহত হয়েছে ৯ জন নারী এবং শারিবীক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭ জন নারী, পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছে ১৬ জন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬ জন নারী, এসিড নিক্ষেপের ১ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ১জন, আত্মহত্যার স্বীকার হয়েছে ১৭ জন, ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে ৩৫ জন নারী, ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ৫ জন। উল্লেখ্য, ৮ই ডিসেম্বর নোয়াখালী সদর উপজেলার শল্লা গ্রামে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন চালিয়ে মিনা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা হত্যা করে সদর উপজেলার শল্লা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেনে। নিহত মিনা আক্তার সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চর জুবলী গ্রামের আবদুল হকের মেয়ে।
এমাসে আইন-শৃংখলা বাহিনী কর্তৃক গুম হয়ে ২ জন শিবির নেতা। এছাড়া অপহরন হয়েছে ২১ জন, এর মধ্যে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ৩ জনের এবং জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৯ জনকে । উল্লেখ্য, গত ৮ই ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর গাবতলী থেকে ২ ছাত্রকে র‌্যাব পরিচয়ে অন্যায়ভাবে আটকের পর অস্বীকার করে। আটককৃতরা হলো জয়পুরহাট আইন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবুজর গিফারী ও জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের ৪থ বর্ষের ছাত্র ওমর ফারুক।পরবর্তীতে ১৮ই ডিসেম্বর র‌্যাবের হাতে আটকের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি আবু যর গিফরী ও সেক্রেটারি ওমর আলী ও এক জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘বিএসএফ’ কর্তৃক ৯ টি হামলার ঘটনায় শারীরিক নির্যাতন ও গুলি করে ৪ জন বাংলাদেশী হত্যা করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে ১ জন বাংলাদেশীকে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৮ জন বাংলাদেশী। উল্লেখ্য, ২৬ই সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১নং নিজপাট ইউনিয়নের বাইরাখেল হর্নি ময়না বস্তি গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে মো. জমির উদ্দিন (২২) নিহত হয়েছে।
বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানী ও নির্যাতনের অংশ হিসেবে ৭৯ টি ঘটনায় বিরোধী দলের ৮৯১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সন্ত্রাসী ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের ৭ টি হামলায় নিহত হয়েছে ১ জন সাংবাদিক, আহত হয়েছে ৫ জন সাংবাদিক এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ২জন সাংবাদিক। উল্লেখ্য, ১৯শে ডিসেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুরে ট্রেনের তেল চুরির প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের তালাশ টিমের সাংবাদিক সবুজ মাহমুদ, ভিডিও গ্রাফার রাকিবুল ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন তাইবুর হাসানকে মারধর করে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় অপরাধীরা।
আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে জনগনের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে। তাই ইসলামী ছাত্রাশিবিরের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগের পক্ষ থেকে দেশের সকল সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দেশি-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

শুক্রবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৬

বিশ্বনাথ শ্রমিক কল্যাণের শীতবস্ত্র বিতরণ শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ----- ফখরুল ইসলাম খান।


বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট জেলা দক্ষিনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম খান বলেন- শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ধনীদের সম্পদে গরীবের হক রয়েছে, এ হক আদায় করলে দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তির পথ সুগম হয়। যারা প্রতিবেশীকে উপোষ রেখে পেট ভরে খায় তারা প্রকৃত মানুষ নয়। কলকারখানায় শ্রেনী সংগ্রামের বদলে পারস্পরিক সহযোগীতামূলক ইসলামী শ্রমনীতি চালু করতে হবে। ইসলামী শ্রমনীতি চালু করা ছাড়া আর কোনো উপায়েই কখনো শ্রমিক সমাজের মুক্তি আসবেনা। দেশের সর্বস্তরে ইসলামী শ্রমনীতি চালু করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
আজ ১লা জানুয়ারী’১৬ জুম’আ বার সকাল ৯টায় বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ফখরুল ইসলাম খান উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বিশ্বনাথ উপজেলা সভাপতি জাহেদুর রহমানের সভাপতিত্বে কামরুল ইসলাম দুলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাষ্টার ইমাদ উদ্দিন, বিশ্বনাথ পুরান বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আবুল খয়ের, শ্রমিক কল্যাণের উপজেলা সহসভাপতি মাওলানা শুয়াইবুর রহমান, শ্রমিকনেতা হারুনুর রশিদ, আমজাদ হোসাইন, বিলাল আহমদ ও রুহুল আমীন প্রমুখ।

সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্খিত মঞ্জিলে নিয়ে যেতে হবে -নব নির্বাচিত শিবির সভাপতি


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী অপশাসনে সারাদেশ আজ কারাগারে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরে কারারুদ্ধ দেশবাসীকে মুক্ত করার লড়াই চলবে। যৌথবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে সারাদেশে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের রক্তে রঞ্জিত করা হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছে, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে কিন্তু বাতিলের সামনে মাথা নত করেনি।
তিনি ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনত্তর বৈঠকে এসব কথা বলেন। এসময় সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার, নব মনোনিত সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিন, মতিউর রহমান আকন্দ, নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, আজকের কার্যকরী পরিষদের সমাপনী অধিবেশন যখন করছি তখন কারা প্রকোষ্টে দিন যাপন করছেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মো. দেলাওয়ার হোসেনসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী। যাদের অনেকের উপর গ্রেফতারের পর থেকেই অমানুসিক নির্যাতন করা হয়েছে। জালিম সরকার মনে করেছিল ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আটকে রেখে এই সংগঠনের কাজকে দমাতে পারবে। কিন্তু তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের লাখো নেতাকর্মী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, ত্যাগ কুরবানী ইসলামী আন্দোলনে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে যে নজির স্থাপন করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করেছে। শাহাদাতের তামান্না বুকে ধারণ করে ইসলামী আন্দোলনকে কাঙ্খিত মঞ্জিলে নিয়ে যেতে হবে। একই সাথে ঈমানী মজবুতি নিয়ে ময়দানে অতীতের মত জোরালো ভূমিকা পালন করে যেতে হবে।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মতিউর রহমান আকন্দ শাহাদাতবরণকারী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে, শত নির্যাতন সয়ে অপশাসন বিরোধী আন্দোলনে মাইলষ্টোন রচনা করেছেন। শহীদ ভাইয়েরা যে প্রেরণায় আমাদের উজ্জীবিত করে গেছেন, সেই প্রেরণাকে বুকে নিয়ে আমরা সামনের সকল বাঁধা মাড়িয়ে যাব। ইসলাম ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে ছাত্রশিবিরই বাংলাদেশকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিবে। তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরই জাতির মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবে। শত বাধা আর নির্যাতনের পরও তরুন প্রজন্ম ছাত্রশিবিরকেই মেধা বিকাশ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের জন্য গাইডলাইন হিসেবে গ্রহণ করেছে।
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অসংখ্য ভাইয়ের শাহাদাতে আজ বাংলাদেশের যমীন কথা বলতে শুরু করেছে। ছাত্রশিবির আজ বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে পৌছে গেছে। অগণিত ভাইয়েরা নিজের জীবন দিয়ে ছাত্রশিবিরকে যে উচ্চতায় তুলে ধরেছেন, ত্যাগের বিনিময়েই নেতাকর্মীদের সে অবস্থান ধরে রাখতে হবে। আদর্শের দাওয়াত দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। নিত্য নতুন কৌশল আর প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসূচি পালন করতে হবে।