ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৭

জটিল রোগে আক্রান্ত, মজিবুর রহমান মন্জু হাসপাতালে ভর্তি আছেন: তার জন্য দোয়া চাই

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব মজিবুর রহমান মন্জু হাসপাতালে ভর্তি আছেন । 
তার বিষয়ে একজন লিখেছেন, নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত সকলের প্রিয় জনাব মজিবুর রহমান মন্জু হাসপাতালে ভর্তি আছেন,  হয়তো আল্লাহ চাইলে ফিরে যাবেন বাসায় । কিন্তু যতটুকু বুঝলাম, তার ট্রিটমেন্টটি বেশ জটিল । বর্তমান চিকিৎসা অব্যহত থাকলে শরীরে স্থায়ী কিছু ক্ষতিও হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তা স্বত্বেও এই চিকিৎসার কোন বিকল্প আমাদের সামনে নেই । আল্লাহ সব কিছুর মালিক । তিনি চাইলে মিরাকল কিছু ঘটিয়েও দিতে পারেন, সেই ভরসাতেই আছি ।
অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন মনজু ভাই শুয়ে আছেন দেখতে ভাল লাগছেনা । মনজু ভাই, আপনি ফিরে আসুন জলদি, এই দোয়া করি । মহান আল্লাহর কাছে মনজু ভাই এর জন্য শেফা কামনা করি এবং সবার কাছে বিনীত অনুরোধ মহান রবের কাছে দোয়া করবেন তিনি যেন মনজু ভাইকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন । আমিন ইয়া রব ।

সৌদি আরবের মক্কায় সিডর কোম্পানীর শ্রমিক ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৫জনের পরিচয় মিলেছে। তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় জেদ্দা কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) আলতাফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে শরিফুল ইসলাম, ঘাটাইলের পেচারআটা গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন, দেওপাড়া গ্রামের সিকদার পাতার ছেলে হানিফ, মাটিয়াটা গ্রামের চান মাসুদের ছেলে শহিদুল ইসলামএবং  বিবাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার আব্দুল ভুইয়ার ছেলে সোহেল রানা। তারা সবাই সিডর কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন।
আলতাফ হোসেন জানান, নিহতদের পরিচয় জানার পর নিহত এবং আহত বাংলাদেশিদের ক্ষতিপুরণ আদায়ের জন্য কোম্পানির সঙ্গে কথা আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের লাশ মক্কার আল নুর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে।
জানা গেছে গত ২৯ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ৫টার দিকে সৌদি আরবের মক্কা শহর হতে ৩৫ কি: মি: দূরবর্তী তায়েফ জেদ্দা বাইপাস সড়কের কাছে তরিক আল-খাওয়াজাত নামাক স্থানে সিডর কোম্পানির শ্রমিক ভিলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৪জন নিহত হন এবং ৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মক্কা আল-নূর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনে অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তার।
আহতরা হলেন, ময়মনসিংহ জেলার গরগাও উপজেলার নওটানা গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে খায়রুল,চরকামারী গ্রামের মকবুল মিয়ার ছেলে রুবেল, নয়াপাড়া গ্রামের সূলতান মিয়া। এর মধ্যে খাইরুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছে।
- bdmorning

সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে মানবাধিকারের ভয়াবহ চিত্র ফুঠে উঠেছে


Bangladesh Barta Desk:  ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ইসলামী ‎ছাত্রশিবিরের‬ কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ কর্তৃক দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে মানবাধিকারের ভয়াবহ চিত্র ফুঠে উঠেছে।
ডিসেম্বর মাসে সারা দেশে ১০১ জন লোক হত্যার স্বীকার হয়েছে। এ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ০৩ জন মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। ১৫ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ২০ জন নিহত হয়| ৫১ টি সহিংস_হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ৩১ জন এবং আহত হয়েছে ৩৬ জন। এছাড়াও ০৯ টি গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছে ০৯ জন এবং আহত হয়েছে ০২ জন।
এ মাসে অপহরণ হয়েছে ১৪ জন, অপহরণের পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ০৫ জনকে এবং হত্যার পর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ০৭ জনের। ‎রাজনৈতিক সহিংসতার‬‬‬‬‬‬‬‬ ২৪ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ০৪ জন, আহত হয়েছে ১৮১ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছে ০৮ জন। বিভিন্ন অভিযানের নামে ১৯ টি গ্রেফতারের ঘটনায় সাধারণ জনগণ, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘‪বিএসএফ‬‬‬‬‬‬‬’ কর্তৃক ০৬ টি হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছে ০১ জন, আহত হয়েছে ০২ জন, গ্রেফতার করা হয়েছে ০৩ জন, গুলিবিদ্ধ হয়েছে ০১ জন এবং মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ‘‪বিজিপি‬‬‬‬‬‬‬’ কর্তৃক ০৫ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ০৭ জন ও গ্রেফতার করা হয়েছে ০৯ জনকে।
নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনে নিহত হয়েছে ০৮ জন নারী এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ০৮ জন নারী, পারিবারিক কলহে নিহত হয়েছে ১৮ জন এবং আহত হয়েছে ০৫ জন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫০ জন নারী, ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ০২ জনকে, এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়েছেন ০২ জন নারী এবং যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে ১৬ জন শিশু ও নারী। এছাড়াও ২৩ টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ‪‎গণধর্ষণের‬‬‬‬‬‬‬‬ শিকার হয়েছে ০৭ জন নারী। শিশু নির্যাতনের ০৯ টি ঘটনায় নিহত হয়েছে ০৭ জন এবং আহত হয়েছে ০২ জন।
এছাড়া ‪‎সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের‬‬‬‬‬‬‬‬ উপর ০৫ টি হামলার ঘটনায় আহত হয়েছে ০২ জন, ০৪টি উপাসনালয়ে হামলা এবং ১০ ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
ক্ষমতাশীন দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে ‪শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার‬‬‬‬‬‬‬ ১৩ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ১১৬ জন। এ মাসে বিভিন্ন স্থান থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ৭০ টি লাশ উদ্ধার করেছে যার মধ্যে ২৬ টি লাশ অজ্ঞাত।

Courtesy: কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

৫ই জানুয়ারী একটি কলঙ্কিত দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে


Bangladesh Barta Desk:   ৫ই জানুয়ারী গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ৪ জানুয়ারী প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে নির্বাচনের প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এ দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে ১৫৩ জন সংসদ সদস্যকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে কোন নজির নেই। ৪৭টি ভোটকেন্দ্রে কোন ভোটারই ভোট দিতে যায়নি। সেই নির্বাচনের প্রহসন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনই ছিল ভোটারবিহীন একতরফা সাজানো প্রহসনের নাটক। এসব নির্বাচন থেকেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচনের সময় সরকার বলেছিল যে, ‘এ নির্বাচন শুধুমাত্র সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন। পরবর্তী সময় সকল দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।’ কিন্তু সরকার সে প্রতিশ্রুতি আজও পালন করেনি। বরং নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। 

বর্তমান সরকারের দুঃশাসনে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ। এ অবস্থা থেকে জাতিকে উদ্ধারের জন্য নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে সকলের নিকট একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। তাই জাতিকে এ দুঃসহ অবস্থা থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।” 

বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতিতে মহানগর (উত্তর) জামায়াতের গভীর দুঃখ প্রকাশ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ   রাজধানীর গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন।

এক বিবৃতিতে মহানগরী উত্তর আমীর বলেন, সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশেই অগ্নিদুর্ঘটনার প্রবনতা বেড়েছে। মূলত সরকার এসব দুর্ঘটনা রোধে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশে অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস ও দমকল বাহিনী থাকা স্বত্ত্বেও প্রায়ই অগ্নি দুর্ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

তিনি বলেন, রাজধানীর গুলশানে অগ্নিকান্ডে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অবর্ণনীয় আর্থিক সংকটে পরেছেন। এই ক্ষতি সহজেই পুরণ হওয়ার নয়। তিনি গুলশানে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসনের জন্য সরকার, দাতাসংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের বিত্তবান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সকল অধঃস্তন সংগঠনের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশা পূরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাবে-শিবির সভাপতি


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ   বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেন, আদর্শীক পন্থায় সকল সম্ভাবনাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ দেশ গঠন ছাত্রশিবিরের লক্ষ্য। একই সাথে তা জাতির প্রত্যাশা। সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে ছাত্রশিবির জাতির প্রত্যাশা পূরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাবে। 

তিনি আজ ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর ও মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শাখা সভাপতি তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহ-সেক্রেটারী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং মহানগরী দক্ষিণের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ শোয়াইব।

শিবির সভাপতি বলেন, জাতির এক ঐতিহাসিক প্রয়োজনে ছাত্রশিবিরের পথ চলা শুরু হয়েছিল। এ দীর্ঘ পথ চলার প্রতিটি বাকে বাকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদেরকে সিমাহীন ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অকালে ঝড়ে গেছে হাজারো সম্ভাবনা। যা এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু ছাত্রশিবিরের এই ত্যাগ বৃথা যায়নি। এই প্রচেষ্টা জাতিকে একটি সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দূর্জয় কাফেলা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে। ছাত্রশিবিরের পতাকা তলে আজ লাখো তরুণ সৎ, যোগ্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ গঠনের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যত বাধাই আসুক না কেন, ছাত্রশিবির তার লক্ষ্য থেকে পিছু হটবেনা। জাতির প্রত্যাশা পূরণে ছাত্রশিবির তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যাবে। এই আদর্শিক পথ চলায় সহযোগির ভূমিকা পালন করতে আমরা দেশের ছাত্র-জনতার প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো সত্য ও ন্যায়ের পথ মসৃন নয়। আমরা এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার ব্যপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ছাত্রশিবির তার পথ চলায় প্রতিটি প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করেছে আদর্শ আর চারিত্রিক শক্তি দিয়ে। এখনো তার ব্যতিক্রম হবে না। আমরা বিশ্বাস করি বাতিল পন্থা সময়ের ব্যবধানে আদর্শিক শক্তির কাছে অবশ্যই পরাজিত হবে। সুতরাং নতুন বছরে নতুন উদ্যামে ঈমানের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, ছাত্রশিবির আজ এক বিশাল কাফেলায় পরিণত হয়েছে কিন্তু লাখো ছাত্র পথহারা বা বিপথে ডুবে আছে। তাই চারিত্রিক ও আদর্শিক শক্তি দিয়ে ছাত্রসমাজকে কুরআনের আলোকে সাজানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আর কুরআনের আলোকে আগামী প্রজন্ম গঠন করতে পারলেই জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব।

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭

"ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিরাণ ভূমিতে পরিণত হবে সিলেট"

সুরমা নিউজঃ সিলেট অঞ্চলে সর্বশেষ ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৯৭ সালের ১২ জুন। ওইদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে প্রলংয়কারী ভূমিকম্প ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থ কোয়াক’ নামে ইতিহাসে পরিচিত। সে হিসেবে, সিলেট অঞ্চলে ভয়ানক ভূমিকম্প হওয়ার সময় এক শতাব্দি তথা ১শ বছর পেরিয়ে গেছে। আর তাই ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোনে পড়া সিলেটে যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূকম্প ঘটতে পারে। কেননা, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ১শ বছর পর পর বেশি মাত্রার ভূকম্প হয়ে থাকে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাউকি ফল্টে যদি ৮ মাত্রার ভূকম্প হয়, তবে সিলেট জনশূন্য হয়ে যাবে।
ইতিহাস বলছে, ১৫৪৮ সালে প্রচন্ড ভূমিকম্পে সিলেট এলাকায় ব্যাপক ভূ-পরিবর্তন ঘটে। উঁচু-নিচু ভূমি সমতলে পরিণত হয়। এরপর ১৬৪২, ১৬৬৩, ১৮১২ ও ১৮৬৯ সালের ভূমিকম্পে সিলেটের মানচিত্র অনেকটাই পাল্টে যায়। সিলেটে এ যাবৎকালের মধ্যে ১৮৯৭ সালের ১২ জুন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে সংঘটিত ভূমিকম্প ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থ কোয়াক’ নামে পরিচিত। ৮ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫০ বর্গ কি.মি. এলাকার পাকা দালানকোঠার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। শুধু সিলেট জেলারই ৫৪৫টি ভবন ভেঙে পড়ে। মারা যান অসংখ্য মানুষ। ওই ভূকম্পের ফলেই সিলেট জুড়ে সৃষ্টি হয় বিশালাকারের হাওর, বিল, জলাশয়ের। পরবর্তীতে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই ৭.৬ মাত্রার ভূকম্প সংঘটিত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, সিলেট অঞ্চল যে টেকনোটিক প্লেটে রয়েছে, তা ক্রমেই উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এক শতাব্দিতে তা এক মিটার করে সরছে। এ কারণে এ অঞ্চল প্রবল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে ৩টি ভূকম্প বলয়ের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তথা প্রথম বলয়েই রয়েছে সিলেট। এ বলয়ে ৭ থেকে ৯ মাত্রার ভূকম্প হতে পারে। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় প্রতি ১শ বছর পর পর বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটতে পারে। সিলেটে ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্পের পর পেরিয়ে গেছে ১শ বছরের বেশি। যে কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের আরেকটি ভূমিকম্পের আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাউকি ফল্টে রিখটার স্কেলে ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূকম্প হলেই সিলেটে পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর ভূমিকম্পের মাত্রা যদি হয় ৮, তবে জনশূন্য বিরাণ ভূমিতে পরিণত হবে সিলেট। রিখটার স্কেলের ৮ মাত্রার ভূকম্পের কয়েক সেকেন্ডে গোটা সিলেটে হাজার হাজার ভবন মাটির সাথে মিশে যাবে। প্রাণহানি ঘটবে লাখ লাখ মানুষের। ক্ষতি হবে হাজার হাজার কোটি টাকার। এমনিক ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, ডাউকি ফল্টে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে সিলেট!
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ভিাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে ভূমিকম্পের স্থায়ীত্ব ৩০-৪০ সেকন্ড হয়ে থাকে। কিন্তু গত ২৫ এপ্রিল, শনিবার যে ভূকম্প হয়েছে, সেটা বিস্ময়করভাবে ৯০ সেকন্ড স্থায়ী ছিল। এটা অবশ্যই বিপদসংকেত।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ডাউকি থেকে মাত্রা ২শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সিলেট। ডাউকি পয়েন্টে যদি ৬ মাত্রার ভূকম্পও হয়, তবে পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর যদি ৭.৯ মাত্রার ভূকম্প হয়, তবে সিলেট নগরী বলে কিছুই থাকবে না। ১০-১৫ হাজার ভবন নিমিষেই মাটির সাথে মিশে যাবে।

এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প

এক ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফেনী, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে ভূমিকম্প হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পে ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠলো সিলেট। দু’দফায় অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল প্রায় এক মিনিট। সিলেটে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি না হলেও সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে একজন নিহত ও এক মাদরাসা ছাত্রসহ দুজন আহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম হিরণ মিয়া। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের মৃত সুনু মিয়ার ছেলে। না গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী দারুল উলুম এমদাদিয়া মাদারাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নাজিউর রহমান (১৩)। সে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা সদরের আবদুল হাইয়ের ছেলে। নাজিউর ওই মাদরাসার আবাসিক ছাত্র।
মাঝারি থেকে ও মৃদু- দুই দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকাল তিনটা ৭ মিনিটে দিকে দুটি ভূকম্পন হয় বলে জানিয়েছেন। এর আগে রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড।
ভূমিকম্পের সময় রাজধানীতে সব ভবন দুলতে থাকে। আতঙ্কিত লোকজন বিল্ডিং থেকে রাস্তায় নেমে আসে। সবার চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। আবার অনেকে ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেন।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ত্রিপুরার আম্বাসা এলাকায়। এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি। এর আগে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল পাঁচ। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭৬ কিলোমিটার দূরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসায়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৬ কিলোমিটার গভীরে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার লনতারাইয়ের দক্ষিণ মাছমারা এলাকায়। তারা এর বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করছেন। 
আমাদের কন্ঠস্বর

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৭

জাহাঙ্গীর কবির নানকের উস্কানীমূলক মিথ্যা বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ০২ জানুয়ারী ২০১৭:   গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকান্ডের ঘটনায় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের উস্কানীমূলক, অসত্য ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আজ ২ জানুয়ারী প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “গত ১ জানুয়ারী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের প্রদত্ত উস্কানীমূলক মিথ্যা বক্তব্যে আমরা বিস্মিত হয়েছি। 

আমরা গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যার নিন্দা এবং ঐ হত্যাকান্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছি। তা সত্ত্বেও কোন রকম তদন্ত ছাড়াই জাহাঙ্গীর কবির নানক জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি ইংগিত দিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর হীন উদ্দেশ্যেই তিনি এ হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন। নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রীর বক্তব্যে এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের দিকেই ইংগিত দেয়া হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দারা বলেছে যে, খুনিরা এমপি লিটনের পূর্ব পরিচিত। এমপি লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অথচ তা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের নেতারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিকে ইংগিত দিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার জন্যই এসব বক্তব্য দেয়া হচ্ছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। 

আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই জামায়াত-ছাত্রশিবিরের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। কোন ঘটনা ঘটলেই তার সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালায়। অতীতেও বার বার এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু তারা তাদের বক্তব্যের সত্যতা কখনো প্রমাণ করতে পারেনি। আমি আবারো দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, জামায়াত ও ছাত্রশিবির সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। তাই সংসদ সদস্য লিটনের হত্যাকান্ডের সাথে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কোন সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না। নিজেদের দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার হীন উদ্দেশ্যেই এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই যে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রবণতা ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করুন। তাহলেই দেশে শান্তি আসবে। 
সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনে হত্যাকান্ড ও তার পরবর্তী ঘটনাসমূহের বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি প্রদান এবং এ ঘটনার সাথে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের যে সমস্ত নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে নিঃর্শতভাবে মুক্তি দেয়ার জন্য আমি আবারও জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এমপি লিটনের খুনিদেরকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে জামায়াত শিবিরের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে -অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  দুর্বৃত্তদের গুলিতে গাইবান্ধা-১ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন খুন হওয়ার পর খুনিদেরকে আড়াল করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দোষ চাপিয়ে গণহারে গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় জামায়াতের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আজ ০১ জানুয়ারী ২০১৭ প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “একজন এমপির বাড়িতে দুর্বৃত্তরা ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাই প্রমাণ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কী সাংঘাতিক অবনতি ঘটেছে! অথচ সরকার ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অহরহ বলে বেড়াচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমি এ হত্যাকান্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করছি এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি করছি। 

দেশে কোন ঘটনা ঘটলেই তার তদন্ত ছাড়াই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর দোষ চাপিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে অত্যাচার চালানো হয়। সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর আর কত অত্যাচার চালাবে? আমরা বারবার বলেছি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই কোন হত্যাকান্ডের সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ত থাকার প্রশ্নই আসে না। প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার হীন উদ্দেশ্যেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে এ সব বক্তব্য দেয়া হয়। অতীতে বারবার বিভিন্ন ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু কোন ঘটনাই আজ পর্যন্ত তারা প্রমাণ করতে পারেনি। 

আওয়ামী লীগের এমপি লিটন হত্যার পর সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও পলাশবাড়িসহ গাইবান্ধা, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট জেলায় বাড়ি ঘরে হানা দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রায় অর্ধশতাধিক নিরপরাধ নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জে জামায়াত সমর্থক ডা. আবদুল গাফ্ফারের দোকান এবং বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অথচ এ ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমি আওয়ামী লীগ কর্মী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতার তীব্র নিন্দা করছি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের নিঃশর্তভাবে অবিলম্বে মুক্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে জনগণকেও এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”