ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১ ।

বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬

‘নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বাংলাদেশের বিরাট ভুল’


শীর্ষ নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাটাকে তুরস্ক যে বাংলাদেশের ‘বিরাট এক ভুল’ বলেই মনে করে, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন তাদের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক।
দিল্লিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ড: বুরাক আকচাপার বিবিসিকে বলেছেন, এই ফাঁসি কার্যকর করায় তারা যে ক্ষুব্ধ, সেটা প্রকাশ করাটা তুরস্কের অধিকারের মধ্যেই পড়ে এবং তুরস্ক নিজামীকে কোনও যুদ্ধাপরাধী নয় বরং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখছে।
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে তুরস্ক ইতিমধ্যেই ঢাকা থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগান তীব্র ভাষায় এই ফাঁসির নিন্দা করেছেন।
বাংলাদেশে ১৯৭১-এ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয় ঠিক এক সপ্তাহ আগে।
সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশের সমালোচনা করেছে অনেক দেশই। কিন্তু তুরস্ক যে ভাষা ও ভঙ্গীতে তাদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছে তা প্রায় নজিরবিহীন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান মিঃ নিজামীর ফাঁসির আগে ও পরে বারবার এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন, এমন কী ইউরোপ কেন এই প্রশ্নে নীরব, সে প্রশ্নও তুলেছেন।
ফাঁসির পর তুরস্ক বাংলাদেশ থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আঙ্কারা ও ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও এখন হুমকির মুখে।
বাংলাদেশের নিজস্ব একটি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তুরস্ক কেন এত কঠোর অবস্থান নিয়েছে, দিল্লিতে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ড: বুরাক আকচাপারের কাছে তা জানতে চাইলে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, তুরস্কের এই কঠোর অবস্থান সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত।
ড: আকচাপার আপাতত ঢাকাতেও তাদের কূটনৈতিক কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো যে কখনওই সমীচিন নয়’ – আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গীটা স্পষ্টভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের মানুষকে আমরা বন্ধুর মতো, ভায়ের মতো ভালবাসি বলেই তাদের এই বার্তাটা দিতে চেয়েছি যে এভাবে কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধ করা যায় না।
তিনি বলছেন, তুরস্কের ইতিহাসেও একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে বিচার করে তারপর ফাঁসিতে ঝোলানোর নজির আছে।
''কিন্তু আজও আমরা সেই ফাঁসির জন্য অনুশোচনা করি। এভাবে আসলে কোনও সমাধান হয় না।''
তুর্কী রাষ্ট্রদূত যার কথা বলছেন, সেই আদনান মেন্দেরিসকে সংবিধান লঙ্ঘন করার অপরাধে তুরস্কের একটি সামরিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আজ থেকে ৫৫ বছর আগে।
এটা কি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়ে তুরস্কের হস্তক্ষেপ করার সামিল নয়? এ প্রশ্নের জবাবে ড: আকচাপার বলছেন, কোনও একটা জিনিস যদি আমরা মনে করি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, তাহলে আমাদেরও কিন্তু অধিকার আছে তা প্রকাশ করার।
''আমরা বাংলাদেশকে বন্ধু বলে মনে করি বলেই কিন্তু আমরা মন খুলে কথা বলছি। যাদেরকে আপনি একই পরিবারের সদস্য বলে মনে করেন, তাদের বেলায় কখনও কখনও কিন্তু চুপ করে থাকার চেয়ে বড় প্রতারণা আর কিছু হয় না।''
ড: আকচাপার বলেন, ''মৃত্যুদণ্ড এমনিতেই কোনও ভাল সাজা নয় – আর একজন রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিতে ঝোলানো তো কিছুতেই মানা যায় না। অমুক কারণ কি তমুক কারণ দেখিয়ে একজন রাজনৈতিক নেতাকে যদি হত্যা করা হয় – তাহলে আমাদেরও কিন্তু অবশ্যই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার আছে। তবে প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত অধিকারের নয় – আমাদের মূল কথাটা হল এই হত্যাকান্ডর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ কিন্তু ‘বিরাট একটা ভুল’ করেছে।''
তুর্কী রাষ্ট্রদূত নানাভাবে তার কথার মধ্যে দিয়ে এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন – মিঃ নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধ প্রমাণ করা হয়েছে সেগুলোকে তারা গুরুত্ব দিতে রাজি নন।
তুরস্ক তাকে বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই গণ্য করছে, কোনও যুদ্ধাপরাধী বলে মনে করছে না।
তাহলে বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধের সময়কার ভিক্টিমরা কীভাবে বিচার পাবেন? ড: আকচাপারের সংক্ষিপ্ত জবাব – ''টাইম ইজ দ্য বেস্ট হিলার, অর্থাৎ সময়ের চেয়ে ভাল উপশম আর কিছু হতে পারে না''।
সূ্ত্র: বিবিসি বাংলা

শীর্ষ নিউজ/এনএস

সোমবার, ১৬ মে, ২০১৬

যে হাদিসটি সবসময় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রেরণা জোগায় -


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক, ১৬ মে, ২৯১৬: রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর সাহাবাদের বলেন- “শেষ বিচারের দিনে এমন কিছু মানুষকে আনা হবে, যাদের বুক ও ডান হাতে জ্বলজ্বল করতে থাকবে নূর, তাদেরকে বলা হবে, আজকে তোমাদের জন্য সুসংবাদ, তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমাদের কল্যাণ হোক, তোমরা চিরদিনের জন্য প্রবেশ করো জান্নাতে।’ তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার এই ভালবাসা দেখে নবী-রাসূলগণ পর্যন্ত ঈর্ষান্বিত হবেন।”

একথা শুনে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ, এরা কারা?"
উত্তরে মুহাম্মাদ (সা) বললেন, “এরা আমাদের (নবীদের) মধ্য হতেও না, এরা তোমাদের (সাহাবীদের) মধ্য হতেও না। তোমরা আমার সঙ্গী, কিন্তু তারা আমার বন্ধু। তারা তোমাদের অনেক পরে আসবে। তারা কোরআনকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাবে এবং সুন্নাহকে মৃত অবস্থায় পাবে। তারা শক্তভাবে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে এবং পুনরুজ্জীবিত করবে। তারা এগুলো অধ্যয়ন করবে এবং মানুষকে শেখাবে। কিন্তু একাজ করতে গিয়ে তারা তোমাদের চেয়েও ভয়াবহ ও কঠিন নির্যাতনের শিকার হবে। প্রকৃতপক্ষে, তাদের একজনের ঈমান হবে তোমাদের চল্লিশজনের ঈমানের সমান। তাদের একজন শহীদ হবে, তোমাদের চল্লিশজন শহীদের সমান। কেননা তোমরা সত্যের পথে একজন সাহায্যকারী (আল্লাহর রাসূল) পেয়েছ, কিন্তু তারা কোন সাহায্যকারী পাবেনা।
প্রত্যেক জায়গায় তারা অত্যাচারী শাসক দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবে এবং তাদের অবস্থান হবে বায়তুল মাকদিস এর চারপাশে। তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নুসরাহ (সাহায্য) আসবে এবং তারা এই বিজয়ের গৌরবকে প্রত্যক্ষ করবে।”
তারপর তিনি (রাসূল সা) দু’আ করলেন-
“হে আল্লাহ, তুমি তাদেরকে নুসরাহ দান কর। জান্নাতে তুমি তাদেরকে আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ কর।”

[ মুসনাদে ইমাম আহমাদ ]

জীর্ণশীর্ণ নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতু


বাংলাদেশ বার্তা ১৬,২০১৬: ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পুরাতন হালদা সেতু লাখো মানুষের কত উপকারে আসে সেতুটি। অথচ কেউ এ সেতুর উপকারে এগিয়ে আসছেন না। ধুকে ধুকে মরছে এ সেতুটি। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত শতবর্ষী এ সেতুটির নিরব কান্না কারো চোখে পড়ছে না। মুক্তিযুদ্ধসহ বহু কালজয়ী ইতিহাসের নিরব সাক্ষী এ সেতুটির দিকে ফিরে থাকানোর সময় নেই সংশ্লিষ্ট কর্তাদের। যদিও এ সেতুটি নিথর দেহ নিয়ে একটু সংষ্কারের আশায় প্রহর গুনছে। 
এশিয়ার মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত হালদা নদী। এ নদীর ওপর ফটিকছড়ি- হাটহাজারী উপজেলাদ্বয়ের সেতু বন্ধন হয়ে এখনো দাড়িঁয়ে আছে নাজিরহাট পুরাতন সেতুটি। এ সেতু দিয়ে দু’উপজেলার লাখো মানুষ প্রতিদিন যাতায়ত করছেন। 
এছাড়াও, নাজিরহাট পৌরসভার প্রধান প্রবেশপথ সেতুটি। নাজিরহাট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, নাজিরহাট জেএম আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসা, নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা (কওমি), নাজিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ কমপক্ষে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ছাড়াও নাজিরহাট বাণিজ্যিক কেন্দ্রে আসা যাওয়া করে থাকে হাজার হাজার জনগোষ্ঠি। 
এ সেতুটির পার্শ্বে আরেকটি সেতু নির্মিত হবার প্রতিশ্রুতি শুনতে শুনতে ভুক্তভোগী চরম বিরক্ত। যে কোন সময় সেতুটি ধসে বড় ধরনের দূঘর্টনার আশংকা রয়েছে। এ সেতুটি ভেঙে পড়লে বৃহত্তর ফটিকছড়ি-হাটহাজারীর মত বৃহৎ দুটি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। এছাড়া আরো শত শত শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আংশকা রয়েছে। একই সাথে নাজিরহাট বাণিজ্যিক জনপদে ব্যবসা বাণিজ্যেও ধস নামবে। সবমিলিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে নাজিরহাট কেন্দ্রিক কয়েক লাখ মানুষ। 
এ বিপর্যয় মোকাবেলা করতে এবং দু’উপজেলার লাখো মানুষের জীবন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সেতুটি সংষ্কার জরুরী। সেতুটির ১’শ গজ উপরে ভারী যানবাহন চলাচলের সুবির্ধার্থে আরো একটি নতুন সেতু নির্মাণ করার দাবী দিয়েছেন এলাকাবাসী।

জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থনে গভীর উদ্বেগ----!!!!!


বাংলাদেশ বার্তা ১৬মে ২০১৬ঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থনের প্রচারিত খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আজ ১৫ মে নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-

“আওয়ামী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে একে একে হত্যা করছে।
বিচারের জন্য ব্যবহৃত ১৯৭৩ সালের কালো আইন, বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবী, জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে আইনের সংশোধনের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পেশ করা সত্ত্বেও সরকার তা আমলে নেয়নি। সরকার দলীয় লোকদের দ্বারা মিথ্যা ও সাজানো সাক্ষ্য দিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করে তা কার্যকরের নামে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে যেভাবে হত্যা করছে তাতে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ববাসী প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। দেশের জনগণের নিকট এ বিচার গ্রহণযোগ্য হয়নি। জনগণ মনে করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সরকার বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করছে।
জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুর পর জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি ও আমীরে জামায়াত শহীদ মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার পর তার নিজ এলাকা সাঁথিয়া ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী গায়েবানা জানাজায় মানুষের ঢল থেকে প্রতীয়মান হয় জনগণ এ বিচার গ্রহণ করেনি এবং জনগণ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে অপরাধী বলে মনে করে না।
বিচারের বাস্তবতা উপলব্ধি করে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল বার এসোসিয়েশন ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে বিচারকে অগ্রহণযোগ্য, অস্বচ্ছ বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং মৃত্যুদন্ড বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। তার হত্যাকান্ডের পর সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা আশা করি ভারতও এ সত্যটি উপলব্ধি করবে। বাংলাদেশের জনগণ ভারতকে জনগণের প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে দেখতে চায়, কোন দল কিংবা সরকারের নয়। কিন্তু বিচার সম্পর্কে ভারতের বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। আমরা ভারতের এ বক্তব্যে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।”

রবিবার, ১৫ মে, ২০১৬

হে! জাতীয় বীর আপনাকে সালাম ও অভিনন্দন -ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম


বাংলাদেশ বার্তা ১৫মে ২০১৬ঃ হে! বিশ্বনন্দিত ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, মুসলিম উম্মাহর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, আমাদের প্রাণপ্রিয় শ্রদ্ধেয় নেতা আপনাকে লক্ষ-কোটি সালাম। দীর্ঘ সময় জুলুম-নির্যতন, অন্যায়-অবিচারের মোকাবেলা করে আপনি এ জাতির সামনে এখন ধৈর্য্য ও ইনসাফের প্রতিক। সময়ের ব্যবধানে হয়ত আপনি মহান আল্লাহর প্রিয় মেহমান হতে যাচ্ছেন! এই সৌভাগ্য একাই আপনার এই জন্য হে! জাতীয় বীর আপনাকে অভিনন্দন। 
সারা জীবন অন্যায়ের সামনে মাথা না নোয়াবার যে দীক্ষা আমাদের দিয়েছেন আপনি জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত তা পালন করেছেন অক্ষরে-অক্ষরে। বাতিলের কোন চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রই আপনাকে কাবু করতে পারেনি। আপনি এখন ১৬ কোটি মানুষের দুরান্ত সাহসের বাতিঘর এ জন্য আপনাকে মোবারকবাদ। যারা আপনাদেরকে আজ স্ব্ধাীনতা বিরোধী বলে ফাঁসি দিচ্ছে তারা নিজেরাও স্বীকার করবেন এটি রাজনৈতিক কারণেই শুধু। এদেশের তরুন প্রজন্ম আপনাদেরকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করবে। হে! সিপাহসালার আপনাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা আর শ্রদ্ধার মাল্যদান ছাড়া আমাদের কাছে আর কি আছে! আপনার মুক্তির জন্য আমরা কিছুই করতে পারিনি। মুসলিম বিশ্বের অনৈক্য আর ক্ষমতার রাজনীতির কারণে কেউ খুব উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও রাখতে পারেনি। এ দূর্ভাগ্য মুসলিম উম্মাহর। আপনি কোন ব্যক্তি নন। আপনি গোটা মুসলিম উম্মাহর সম্পদ। কিন্তু দূর্ভাগ্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো আজ পাচাটা গোলামের জিগিরে আবদ্ধ। আপনার বিদায়ে আমাদের ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রক্তক্ষরন আর অব্যক্ত বেদনায় অশ্রু বিসর্জিত হচ্ছে। প্লিজ আমাদের নিজগুনে ক্ষমা করবেন। 
হে আল-কুরআনের দায়ী আপনাকে হত্যার সরকারী চক্রান্তে বিক্ষুব্ধ ও ভারাক্রান্ত গোটা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ। হে সংগ্রামী বীর আপনি যখন শাহাদাতের পরম সৌভাগ্য লাভের আশায় পাগলপারা তখন সারা পৃথিবীর ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এখন এক শাসরুদ্ধকর অবস্থা অতিক্রম করছে। আল্লাহর দরবারে বায়তুল্লাহর গেলাফ ধরে আর নামাজে চোখের পানিতে জায়নামাজ ভাসাচ্ছে পৃথিবীর লক্ষ-কোটি মানুষ। তাদের কন্ঠে আকুতি-হে! জীবন-মৃত্যুর মালিক মহান পরওয়ারদেগার তুমি আমাদের ফরিয়াদকে কবুল কর। হে! আরশের মালিক তুমি আমাদের অশ্রুসিদ্ধ বিনীত আকুতি কবুল কর।
শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা, শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে হত্যার পর আপনাকে হত্যার গভীর চক্রান্ত চলছে। আল্লাহ প্রদত্ত মেধার বিস্ময়কর প্রতিভা আপনি। অসংখ্য আলেম ও ইসলাম প্রিয় জনগণের রুহানি উস্তাদ আপনি। ২০১৫ সালে আমেরিকার বিখ্যাত “দ্যা রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার” প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ৫০০ জন প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তির অন্যতম হিসাবে আপনাকে মর্যাদা দিয়েছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপনার বলিষ্ঠ ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদাকে বহির্বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল করেছে। দূর্নীতিমুক্ত ও ইনাসফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের অগ্রসেনানী আপনি। বাংলাদেশ গড়ার দূর্নীতিমুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের কারিগর আপনি ও শহীদ আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। এ জাতি চিরদিন আপনাদের স্মরণ রাখবে।
কিন্তু যার জন্য এত ফরিয়াদ রোনাজারি আহাজারি তিনি নি:শ্চল, আটল এবং অবিচল। তাঁর মধ্যে নেই কোন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার চাপ। বরং কারাগার থেকে দৃঢ়তার সাথে উচ্চারণ করলেন-“জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। মহান আল্লাহ আমার মৃত্যুর জন্য যে সময় ও স্থান নির্ধারণ করে রেখেছেন ঠিক সে সময় এবং সে স্থানেই আমার মৃত্যু হবে। তার আগেও নয়, পরেও নয়। আমার মাঝে কোন দুর্বলতা নেই। আমি কোন অন্যায় করিনি। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ সরকার আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আল্লাহ যদি আমাকে শহিদী মৃত্যু দেন তাহলে সেটা হবে আমার চরম সৌভাগ্য। 
আমি আমার পরিবার, সংগঠনের সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণ করার আহবান জানাচ্ছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আমি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি প্রাণের মালিক আল্লাহ। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি দেশবাসীকে আমার সালাম জানাচ্ছি ও দোয়া চাচ্ছি যাতে আমি জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ঈমানের ওপর দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পারি। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। আল্লাহ আমার জন্মভূমি এই প্রিয় বাংলাদেশকে ইসলামের জন্য কবুল করুন”। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনেও থেকে ও ধৈয্য, সহনশীলতা আর নিজ জন্মভূমির প্রতি আপনার ভালোবাসা গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। 
হে জাতীয় বীর আপনার বিরুদ্ধে আনা এ সবই কাগুজে অভিযোগ। আপনি এ সমাজেই বেড়ে ওঠা সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় ব্যক্তিত্ব খেতাবে ভূষিত। আপনি কাউকে একটু ধমক আর কটুকথা বলার নজির নেই। এই দীর্ঘ জীবনে নেই কোন অন্যায় অবিচার-জুলুম আর অমানবিকতার কোন চিহ্ন!। বরং চরম শত্রুও স্বীকার করবেন ব্যক্তিগত জীবনে আপনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, পরিশীলিত, মৃদুভাষী, অমায়িক ব্যবহার, স্বচ্ছ চিন্তার অধিকারী ও সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। আপনি সত্যিই এক অসাধারণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সকলের নিকট সমাদৃত। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশবাসীর কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ মানুষ হিসেবে দেশবাসীর হৃদয়ে আপনি স্থান করে নিয়েছেন। এদেশের জনগণ কখনো আপনাদের ভূলবেনা।
আপনাকে আজ যারা এমন ভয়ঙ্করভাবে উপস্থাপন করছে দীর্ঘ ৪৫ বছরে তারা আপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন জায়গায় একটি মামলা অথবা জিডিও করতে পারেনি। আপনি দুটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন অথচ আপনার বিরুদ্ধে এক টাকার দূর্নীতিও আবিষ্কার করা যায়নি। বরং লক্ষ-লক্ষ মানুষের ভোটে এদেশের জনগন আপনাকে বার-বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় রেখেছেন সততা, দক্ষতা, দেশপ্রেমের উজ্জল দৃষ্টান্ত। আপনি হয়ে উঠেছেন ন্যায়, ইনসাফের প্রতিক। আপনাকে লক্ষ-কোটি সালাম ও অভিনন্দন।
অর্ধ শতাব্দী কাল আপনি এ জমীনে আল-কুরআনের আহবান পৌছিয়েছেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে-প্রান্তে। মানবতার সেবায় যে জীবন নিয়জিত করেছেন আর আপনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চলছে মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য!! কি সেলুকাস এ পৃথিবী! কি অদ্ভুত আর বিষ্ময়কর আমাদের রাজনীতি! কত নিষ্ঠুর, নোংরা, কুলষিত, ক্ষমতার মোহে দিকভ্রান্ত আওয়ামীলীগের এই নেতিবাচক শিষ্টাচার বহির্ভূত অ-পরাজনীতি! ধিক আজকের সমাজের এই ঘৃনিত বিষবাস্পকে। ধিক্ আওয়ামীলীগের এই অমানবিক, ফ্যাসিস্ট চরিত্রকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইতিহাসের চাকা বার-বার ঘুরে আসে। সুতরাং এক মাঘে শীত যায় না, আর আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ও চিরস্থায়ী নয়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে কোন মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। তার ওপর আল্লাহর গযব ও তাঁর লানত এবং আল্লাহ তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” (৪ ঃ ৯৩) আজ আপনাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে আপনি হয়ে উঠবেন অমর! এগিয়ে যাবেন জান্নাতের দিকে। আর হত্যাকারীরা জাহান্নামকেই নিজেদের ঠিকানা বানিয়ে নিচ্ছে? যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী দুনিয়া বাসী খুনিদের অভিশাপ দিতে থাকবে।
এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে দুই দুইবার আপনাকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। কৃষি ও শিল্পমন্ত্রী হিসাবে সর্বমহলে নিজেকে একজন সৎ, দক্ষ ও অমায়িক নেতার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। আপনার সাথে কাজ করা ব্যক্তিরা তা একবাক্যে স্বীকার করেছেন। বিদায়ের বেলায় আপনার মন্ত্রণালয়ের সচিব আইয়ুব কাদরীকে কাঁদতে দেখেছি। এতে বুঝা যায় আপনার সহকর্মীরা আপনাকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। মেধা ও নৈতিকতা সমন্বয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবার জন্য ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে সংগ্রাম করে আসা মানুষ আপনি। জেল-জুলুম, নির্যাতন আর রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে নিজেই এখন মজলুমের এক আবহ হয়ে দন্ডায়মান। বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম, শিক্ষা আন্দোলন, ১/১১ বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র, কেয়ার-টেকার সরকার আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আপনি ছিলেন আপোষহীন। মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে সর্বদা সোচ্চার থেকেছেন। এদেশের মানুষের তাহজীব-তামুদ্দুন, ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সবার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ছিলেন আছেন প্রথম কাতারে। জীবননাশের চেষ্টাও হয়েছিল অনেকবার। কিন্ত কিছুই আপনাকে টলাতে-দমাতে পারেনি। নাস্তিকতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের রক্তচক্ষু মোকাবেলা করে নীতির প্রশ্নে সদা আপোষহীন ছিলেন আপনি। কেবলমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার আপরাধে আজ ফাঁসির মুখোমুখি। সরকার শুধুমাত্র আদর্শিক কারণেই আপনাকে হত্যার পাঁয়তারা করছে।
বর্তমান ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের রোশানলে পড়ে কারাগারের চার দেয়ালে বন্দী প্রায় ৬ বছর। আপনার অনপস্থিতিতেও ক্ষুরধার লেখনি, সুনিপুণ বক্তব্য এদেশের তরুণ সমাজকে আলোড়িত করেছে দারুনভাবে। আপনার ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা-আন্তরিকতা ও দেশ প্রেমের মাধ্যমে আপনি হয়ে উঠেছেন একটি সফল প্রতিচ্ছবি। দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তা সত্যিই বিরল। এই অহংকার বাংলাদেশের জনগণের। 
হে সিপাহসালার আপনি ন্যায় বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” (৫৭:২৫) অন্যত্র বলা হয়েছে-“আল্লাাহ তা’আলা কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?”(৯৫ঃ৮) হযরত আলী (রাঃ) বলেছিলেন- “ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজপুরুষের অত্যাচার ও বিচারাসনে বসিয়া বিচারকের অবিচারের মতো মন্দ কর্ম আর নেই।” আজ বাংলাদেশ সরকার যে আইন দিয়ে কথিত যুদ্ধোপরাধীদের বিচার করছে তা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, কালো আইন হিসেবে খ্যাত। বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলো আশঙ্কা করে আসছে, সরকার তার পরিচিত প্রতিপক্ষ এবং রাজনৈতিক শত্রুদেরকে দমন করতেই এ বিচারকে ব্যবহার করছে।” আবারো মনে হয় সেই সত্যই প্রমাণিত হতে চলছে।
আমাদের সমাজে আজ গণহত্যাকারী, খুনী, কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, সশস্ত্র সন্ত্রাসী, দূর্নীতিবাজ, লম্পট, চরিত্রহীনরা যেন সাধু! আর নিরাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মিডিয়া ট্রায়াল আর বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে বানানো হচ্ছে মানবতা বিরোধী! গোয়েবলসীয় সূত্রের আলোকে চলছে সত্যপন্থীদের বিরুদ্ধে এই অসত্য প্রচারণা।
আল্লাহ বলেন- “যারা আল্লাহর ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছে তারাই তাদের রবের কাছে ‘সিদ্দীক’ ও ‘শহীদ’ বলে গণ্য। তাদের জন্য তাদের পুরস্কার ও ‘নূর’ রয়েছে। আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছে তারাই দোযখের বাসিন্দা। (৫৭:১৯)
হযরত উম্মে হারেসা বিনতে সারাকা থেকে বর্ণিত, “তিনি হুজুর (ﷺ) এর দরবারে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্ল¬াহ, আপনি কি হারেসা সম্পর্কে কিছু বলবেন না? জঙ্গে বদরের পূর্বে একটি অজ্ঞাত তীর এসে তাঁর শরীরে বিঁধে যায় এবং তিনি শহীদ হন। যদি তিনি জান্নাতবাসী হয়ে থাকেন তাহলে আমি সবর করবো, অন্যথায় প্রাণ ভরে কাঁদব। হুজুর (ﷺ) জবাব দিলেন, হারেসার মা, বেহেশতে তো অনেক বেহেশতবাসীই রয়েছেন, তোমার ছেলে তো সেরা ফেরদাউসে রয়েছেন।” আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি বলছেন, বালা মুসিবত অর্থাৎ পরীক্ষা যত কঠিন হবে, তত বড় পুরস্কার প্রদান করা হবে। (যদি বান্দা বিপদ মুসিবতে দিশেহারা হয়ে সত্যের পথ থেকে সরে না যায়।)
সুতরাং ঈমানের প্রত্যেক দাবীদারকে অনিবার্যভাবে পরীক্ষার চুল্লী অতিক্রম করতে হবেই। বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হবে, বিপদ-মুসিবত ও সংকটের মোকাবিলা করতে হবে। এর ব্যতিক্রম অতীতেও হয়নি এখনো হবে না। হযরত রাশেদ বিন সা’দ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। কোনো এক ব্যক্তি রাসূলূল্ল¬াহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্ল¬াহর রাসূল (ﷺ)! কবরে সকল মুমিনের পরীক্ষা হবে, কিন্তু শহীদের হবে না, এর কারণ কী? হুজুর (ﷺ) জবাবে বললেন, “তার মাথার ওপর তলোয়ার চমকানোই তার পরীক্ষার জন্য যথেষ্ট।”
হে প্রানপ্রিয় নেতা (মাওলানা নিজাম) আপনি এখন বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ শহীদ হাসানুল বান্না, সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী, সাইয়েদ কুতুব শহীদ, ওমর মুখতার, অধ্যাপক গোলাম আযম এর কাতারে দন্ডায়মান। ঈমান-ইলম, আমল, সংগঠন পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে আপনি যেন মাওলানা মওদূদীর-ই প্রতিচ্ছবি ধীশক্তিসম্পন্ন। আপনার স্থির চিন্তার ব্যক্তিকে বিশ্ববাসী দেখেছে ২৮ অক্টোবর ২০০৬ পল্টনের রক্তাক্ত প্রান্তরে। এমনই এক দিনে মাওলানা মওদূদীর সম্মেলনে যখন হামলা চালানো হয়েছিল। মাওলানা মওদূদীকে লক্ষ্য করে যখন মুহুর্মুহু গুলি করা হচ্ছিল তখন সবাই বসে পড়ল। আর চিৎকার করে সবাই বলল, মাওলানা বসুন বসুন! সেদিন তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বললেন, আমিই যদি বসে যাই তাহলে দাঁড়িয়ে থাকবে কে? তার আল্লাহর প্রতি অগাধ তাওয়াক্কুল সেদিন সবাইকে উজ্জীবিত করেছিল। ঠিক তেমনি ২৮শে অক্টোবর ১৪ দলের সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ স্তব্ধ করতে পারেনি আপনার দৃঢ় কদমকে। অসংখ্য ভাইয়ের শাহাদাত, আহত, রক্তাক্ত জমিনে দাঁড়িয়েও আপনার কণ্ঠ ছিল তেজোদীপ্ত। ছিলেন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলে ভরপুর। ছিলেন পাহাড়ের মতো অটল এবং অবিচল। সে দিন যেন মাওলানা মওদূদীরই প্রতিচ্ছবি-ই দেখেছি। 
যুগে যুগে নবী-রাসূল ও সত্যপন্থীদের ওপর জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, নিপীড়ন হয়েছে নানাভাবে, নানা কৌশলে। কিন্তু কোন দলন নিপীড়নই ইসলামী আন্দোলনের পথচলা থামিয়ে দিতে পারেনি, এখনও পারবে না ইনশাল্লাহ। আপনি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিত্বই নয়, এদেশের তৌহিদী জনতার কণ্ঠস্বর, গণমানুষের নেতা, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। আপনাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুধু মিথ্যাই নয়, যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার। ইতিহাস বলে শহীদের রক্ত বৃথা যায় না। শহীদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে বিজয় আসবেই। 
তিবরানীতে হযরত মুয়াজ বনি জারুন (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীস যাতে বলা হয়েছে যে, ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থা যখন বিকৃত হয়ে যাবে, তখন বিপদগামী শাসকরা কর্তৃত্বশীল হবে এবং তারা সমাজকে ভ্রান্ত পথের দিকে নিয়ে যাবে। তাদের নির্দেশ মেনে চললে জনগণ গোমরাহ হয়ে যাবে। আর তাদের নির্দেশ অমান্য করলে তারা তাদের হত্যা করবে। এ কথা শোনার পর লোকেরা জিজ্ঞেস করলো তারপর তারা কি করবে, তিনি বললেন : সে সময়ে তোমাদেরকে হযরত ঈসার সহচরগণ যা করছিল তাই করতে হবে। তাদেরকে করাত দিয়ে চিরে ফেলা হয়েছে। শূলে চড়ানো হয়েছ, তবুও তারা বাতিলের কাছে আত্মসর্মপণ করেননি।

তাইতো কবি বলেছেন-
“ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয় গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা দেবে কোন বলিদান।”

সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমই এর দাবী: ৩ বছরে ৬১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক: গত তিন বছরে ৬১৮ তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। নতুন করে ৩১৯ কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে আছে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকতে না পেরে কারখানাগুলোর এই পরিণতি হচ্ছে।

আজ শনিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ কার্যালয়ে আজ দুপুরে সংবাদ এ সম্মেলন হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও বিশ্ববাজারে পোশাকের দরপতনের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শিল্প উদ্যোক্তারা।
সিদ্দিকুর রহমান ২০২১ সালে পোশাক রপ্তানি পাঁচ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যেতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি পোশাকশিল্পের জন্য ১০ শতাংশ হ্রাসকৃত হারে কর আরোপের সুবিধাটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য বৃদ্ধি করার কথা বলেন।

শনিবার, ১৪ মে, ২০১৬

ফাঁসির আগ মুহুর্তে আব্বুর শেষ সাক্ষাত ও দীর্ঘ মোনাজাত: নিজামীর মেঝ ছেলে>ডা. নাঈম খালেদ

মাগরিবের কিছু আগে কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে মিঠু ভাইকে (আমার শহীদ পিতার ব্যক্তিগত সহকারী) জানালেন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা যেন সাক্ষাতের জন্য জেলগেটে চলে আসে। এটা শেষ সাক্ষাৎ কিনা কারা কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্ট করে বলতে অস্বীকার করে। অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমরা বাসা থেকে তিনটি গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। 
সাংবাদিকদের ভিড় ও নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে আমরা ২৬ জন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে কারা প্রশাসনের ইস্যু করা চিঠি রিসিভ করে বুঝতে পারলাম এটাই আমাদের আব্বুর সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ। নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো কনডেম সেলে আব্বুর কক্ষে। সেলটির নাম রজনীগন্ধা। সেলের সর্বশেষ কক্ষ ৮ নম্বর প্রকোষ্ঠে আব্বু ছিলেন। রুমটি জানালা বিহীন, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে আনুমানিক ৮/৮ ফিট, একদিকে লোহার গরাদ দিয়ে ঘেরা আর তার সামনে ছোট একটি আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ।
রুমের ভেতরে সবুজ একটি জায়নামাযে বসে আব্বু আমাদের উল্টাদিকে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করছিলেন। শান্ত ও স্পষ্ট উচ্চারণে আরবিতে দোয়া করছিলেন, খুব উচ্চৈঃস্বরেও না আবার খুব নিচুস্বরেও না। প্রতিটি বাক্যের মাঝে স্বভাব সুলভ একটু বিরতি। ঠিক যেমনটা আমরা আমদের ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি। পাশে হালকা বাদামি রঙের একটি বাচ্চা বিড়াল বসা। যেন উনার সাথে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। মুয়াজ (উনার তিন বছর বয়সী নাতী) সিঁড়ি বেয়ে উঠে লোহার গরাদ ধরে বলল, “দাদু দরজা খোলো আমরা আসছি”। আব্বু শান্তভাবে মোনাজাত শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। আমাদের দেখে লোহার গরাদের কাছে এসে বললেন, “তোমরা আসছো? এটাই তাহলে শেষ দেখা?”
আমার বোন একটু আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, “আল্লাহ চাইলে এটা শেষ দেখা না-ও হতে পারে।” এর পরে একটু আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলে উনি সবাইকে শান্ত থাকতে বললেন, সবর করতে বললেন। উনি শিকের ওপার থেকেই সবার সাথে হাত মেলালেন। উনার পরনে ছিল সাদা সুতি পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি। গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে আর জানালাবিহীন রুমের কারণে উনার পাঞ্জাবিটি ঘামে ভেজা, কিন্তু মুখটা প্রশান্ত; কষ্ট বা উদ্বেগের লেশমাত্র নেই। দেখে কে বলবে একটু পরে উনার ফাঁসি দেবে এই জালিম সরকার।
শিকের ভেতর থেকে সবাই উনাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না, উনিও সবাইকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। উপস্থিত কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করায় উনারা গেট খুলতে রাজি হলেন। আব্বু আঙ্গিনায় এসে আমাদের মাঝখানে একটি সাদা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসলেন। প্রথমেই তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সবার খোঁজ খবর নিলেন। এরপরই তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমাকে জেল সুপার রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় পড়ে শুনানোর পর জানতে চান আমি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ও প্রাণ ভিক্ষা চাইবো কিনা। আমি তাদেরকে বলেছি আমি কোন অন্যায় করিনি, ক্ষমা চাওয়ার অর্থই হল দোষ স্বীকার করে নেয়া, সুতরাং ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর জীবন-মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, তাই মানুষের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে ঈমান হারা হতে চাই না।”
আজ বিকেলে (১০ মে, ২০১৫) ডিআইজি প্রিজন এসে আমি যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই না তা লিখিতভাবে দিতে বলেন। আমি স্পষ্ট ভাষায় লিখে দেই যে আমি ক্ষমাও চাইবো না, প্রাণভিক্ষাও চাইবো না।”
এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আব্বু সবাইকে সবর করার ও শক্ত থাকার নসিহত করছিলেন। উনার চোখে আমি কোন পানি দেখিনি। আবার উনাকে আবেগহীন রুক্ষও মনে হয়নি। মনে হচ্ছিল যেন এক প্রশান্ত আত্মা অপেক্ষা করছেন তার মহান রবের সাথে সাক্ষাতের জন্য। এরপর আম্মু ছাড়া আমরা সবাই আঙ্গিনা থেকে বের হয়ে আসি যাতে আব্বু আম্মুর সাথে একান্তে কিছু কথা বলতে পারেন।
আম্মু আব্বুকে সাহস যোগাচ্ছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শক্ত থাকার ব্যাপারে আর আল্লাহর কাছে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদার কথা বলছিলেন। আম্মু আরও বলেন আমরা আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দেব তুমি সৎ ও নেককার বান্দাহ ছিলে। তুমি কোন অন্যায় করোনি।
অন্যদিকে আব্বু আম্মুকে বলেন আজ থেকে তুমি ওদের বাবা ও মা দুটোই। তোমার মাঝে যেন ওরা আমাকে দেখতে পায়। আর তুমিও আমাদের সন্তানদের মাঝে আমাকে খুঁজে পাবে।
এরপর আমরা ভাইবোনেরা আবার ভেতরে যাই। আব্বু আমাদেরকে বলেন, “তোমরা ভাইবোনেরা মিলেমিশে থাকবে, আল্লাহ ও রাসূলের (সা:) পথে চলবে, মায়ের খেদমত করবে। তোমরা তোমাদের মায়ের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। আর তোমাদের আম্মা যেন তোমাদের মাঝে আমাকে খুঁজে পায়। তোমরা তোমাদের আব্বুকে যেভাবে দেখেছো সেটাই মানুষকে বলবে, আমার ব্যাপারে বাড়তি কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। আমরা বয়স এখন ৭৫ বছর, আমার সহকর্মীদের অনেকেই আমার মত লম্বা হায়াত লাভ করে নাই, তোমরা তোমাদের বাবাকে দীর্ঘদিন পেয়েছ, হায়াত মাউত আল্লাহর হাতে, আমার মৃত্যু যদি আল্লাহ আজকে রাতেই লিখে রেখে থাকেন তাহলে বাসায় থাকলেও মৃত্যু হত। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখবে আর শুকরিয়া আদায় করবে”।
এরপর আমরা আমাদের সন্তানদেরকে আব্বুর কাছে নিয়ে বলি আব্বু দেখেন আপনার তিন নাতীর নাম আপনার নামের সাথে মিল রেখে রাখা। দোয়া করবেন যেন তারা আপনার মত হতে পারে। আব্বু বলেন, “দোয়া করি ওরা যেন আমার চেয়েও অনেক বড় হয়, নবীর সাহাবাদের মত হয়।”
তখন তিনি একটা ঘটনা বললেন। একজন বড় আলেম তার সন্তানকে জিজ্ঞেস করেছিল তুমি কি হতে চাও? সে বলল, আমি তোমার মত বড় আলেম হতে চাই। তখন আলেমটি কাঁদতে শুরু করল। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে আলেম বলেন, আমিতো হযরত আলী (রা:) এর মত হতে চেয়েছিলাম আর এখন দেখ হযরত আলী (রা:) আর আমার মধ্যে কত ব্যবধান। এখন তুমি যদি আমার মত হতে চাও তবে তুমি কতদূর যেতে পারবে ভেবে দেখ।”
“মোমেন (মেঝো ছেলে) তো আমার থেকেও বড় আলেম, আমি অনেক বিষয়ে তার কাছ থেকে রেফারেন্স নেই।”
আমরা বলি “আমরা তো আপনার জন্য কিছুই করতে করতে পারি নাই”। উনি বললেন, “ফয়সালার মালিক আল্লাহ, তোমরা তো শুধু চেষ্টাই করতে পার। আমার চেয়ে বয়সে ছোট অনেক সাথীই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তো আমাকে অনেক আগেই দুনিয়া থেকে নিয়ে যেতে পারতেন। কোন যুদ্ধ না করেও যদি আল্লাহ শহীদী মর্যাদা দিতে চান সেটাতো পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার।”
এরপর আব্বু ভিন্ন প্রসংগে যান। বিশেষ করে যারা তার জন্য, অন্যান্য নেতৃবৃন্দের জন্য সর্বোপরি ইসলামী আন্দোলনের জন্য কষ্ট করছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও সালাম জানাতে বলেন। সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন যেন আল্লাহ তায়ালা তার শাহাদাত কবুল করেন।
তখন আম্মু বলেন, আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতেও সম্মানিত করেছেন, আখেরাতেও সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাাহ। আব্বু তখন বলেন, আমি সামান্য অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে। আল্লাহর রহমতে আমার জন্য গোটা দুনিয়া ও বড় বড় আলেমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দোয়া করেছেন। আমার মুক্তির ব্যাপারে ওআইসিতে আলোচনা হবে দেখে শেখ হাসিনা ওআইসি সম্মেলনে যায়নি, এগুলোতো পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। 
আমরা আব্বুকে বলি, আমাদের জন্য কাল কেয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, যেন আমরা জান্নাতে যেতে পারি। আব্বু বলেন, “তোমরা জান্নাতে যাওয়ার মত আমল কর, তাহলে ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যেতে পারবে।”
এরপর আব্বু আমাদের অনুরোধে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করেন। প্রায় ঘন্টাখানেক এই মোনাজাত পর্ব স্থায়ী হয়। আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করার পর প্রথমে প্রায় ২০ মিনিট, রাসূল (সা:) এর শিখিয়ে দেয়া মাসনুন দুআ গুলি, যেগুলি আব্বুকে সারা জীবন করতে দেখেছি সেগুলি পাঠ করেন।
অতঃপর তিনি বলেন, “হে আল্লাহ আমি তোমার এক নগণ্য গুনাহগার বান্দাহ, তুমি আমাকে যতটুকু তোমার দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দিয়েছো তা মেহেরবানি করে কবুল করে নাও। আমাকে ইসলাম ও ঈমানের উপর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার তাওফিক দাও আর শাহাদাতের মৃত্যু দান কর। হে আল্লাহ তুমি আমাকে আর আমার বংশধরদেরকে নামায কায়েমকারী বানাও আর আমাকে আমার পিতামাতাকে আর সকল মুমিনদেরকে কাল কিয়ামতের দিনে ক্ষমা কর।
হে আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমান দান কর, তোমার উপর সত্যিকারের ভরসা করার তাওফিক দান কর। আমাদের জিহবাকে তোমার সার্বক্ষণিক জিকিরকারী বানাও। আমরা তোমার কাছে, তোমার ভয়ে ভীত অন্তর, উপকারী জ্ঞান, হালাল প্রশস্ত রিজিক, সুস্থ বুদ্ধি ও দ্বীনের সঠিক বুঝ ভিক্ষা চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমাদেরকে মৃত্যুর পূর্বে তওবা করার তাওফিক দাও, মৃত্যুর সময় আরাম দান কর, মৃত্যুর পরে তোমার ক্ষমা লাভ করার তাওফিক দাও ও দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর।
হে আল্লাহ তোমার হালালকৃত জিনিসের মাধ্যমে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও, তোমার আনুগত্যের মাধ্যমে তোমার নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও আর আমাদেরকে তুমি ছাড়া কারও মুখাপেক্ষী করো না। আল্লাহ তোমার নূর দিয়ে আমাদেরকে হেদায়াত দান কর। আমাদের সকল গুনাহ খাতা তোমার সামনে পরিষ্কার, তোমার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি ও তোমার নিকট প্রত্যাবর্তন করছি। ইয়া হান্নান ইয়া মান্নান।”
তিনি আরও দোয়া করেন, “হে আল্লাহ তুমি এই দেশকে তোমার দ্বীনের জন্য কবুল করে নাও, এই দেশের জন্য শান্তির ফয়সালা করে দাও। এ দেশকে গুম, খুন, রাহাজানি ও আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষা কর”। তিনি দেশ ও দেশবাসীর সুখ সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করেন। এই আবেগঘন মোনাজাতের সময় আমার মেয়ে কয়েকজন জেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চোখে পানি দেখেছেন বলে পরে আমাকে জানায়।
মোনাজাত শেষে আব্বু মোমেনকে জিজ্ঞাস করেন, তিনি ফাঁসির মঞ্চে লুঙ্গি পরে না পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন? মোমেন বলে, পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন।
ব্যক্তিজীবনে একজন চিকিৎসক হওয়ায় আমাকে এর আগে বহু মৃত্যু দেখতে হয়েছে। বহু লোককে দেখেছি রোগে শোকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে। আমি দেখেছি তাদের চেহারায় মৃত্যুর ছায়া, কিংবা একটি মুহূর্ত বেশি বেঁচে থাকার আকুতি। কিন্তু আব্বুকে শেষ সাক্ষাতে দেখতে গিয়ে আমি জীবনে প্রথম দেখলাম নির্ভীক একজন জান্নাতী মেহমানকে, তাঁর মহান রবের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি নিতে। আব্বুর কাছে সুযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কালক্ষেপণ করার। মৃত্যুর সময় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তা আমরা সবাই জানি। আজ দেখলাম অন্তরে সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে কিভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়।
আব্বুর সাথে যারাই মিশেছেন তারাই সাক্ষী দিবেন আব্বু খুবই নরম মনের মানুষ ছিলেন। উনার কাছের ও দূরের সব মানুষের খুঁটিনাটি বিষয়েও খোঁজ খবর রাখতেন। কারও কিছু হলে পেরেশান হয়ে বারবার খবর নিতেন। যেটা সবার প্রতি তার মমতা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমাদের পারিবারিক সাক্ষাৎগুলোতে তিনি প্রায়ই নিজের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতেন, আমার মন বেশি নরম, আমি কি শেষ পর্যন্ত শক্ত থাকতে পারব? এরকম একজন মানুষের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে সমস্ত জাগতিক মায়া মমতা ও আবেগের ঊর্ধে উঠে শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে কথা বলা সত্যিই বিস্ময়কর।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে আব্বু জিজ্ঞেস করলেন সাঁথিয়ায় দাফন করতে কে কে যাবে? আমি বললাম আমি আর মোমেন যাব। তিনি তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে সাবধানে যেতে বললেন আর মিঠু ভাইকে সাথে রাখতে বললেন। আম্মাকে রাতে সাঁথিয়া যেতে মানা করলেন। মোমেনকে জানাযার নামাযের ইমামতি করতে বললেন। মোমেন প্যান্ট শার্ট পরে ছিল, তিনি বললেন পাঞ্জাবি পরে জানাযা পড়াতে।
আব্বুর শেষ নসিহত-
তিনি সবাইকে কুরআন-হাদীস মেনে চলার ও আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা:) পথে চলার উপদেশ দেন। যে কোন পরিস্থিতিতে সবর করার ও আল্লাহর উপর রাজি খুশি থাকতে বলেন। আমার পরিষ্কার খেয়াল নেই উনি এই সাক্ষাতে নামাযের ব্যাপারে আলাদাভাবে বলেছেন কিনা তবে আগের প্রায় প্রতিটি সাক্ষাতে তিনি নামাযের ব্যাপারে বিশেষ তাগাদা দিতেন।
এরপর উনি বলেন আমার অসিয়তগুলো তোমরা আমার লেখা বইগুলোতে পাবে। বিশেষ করে জেলে বসে লেখা দুটি বই- কুরআন হাদীসের আলোকে রাসূল মুহাম্মদ (সা:) ও আদাবে জিন্দেগী এবং আগে লেখা বই কুরআনের আলোকে মুমিনের জীবন’ প্রভৃতি বইগুলো পড়তে বলেন।
সবশেষে আমার সবচেয়ে বড়বোন মহসিনা আপাকে বললেন, “আম্মু আমি তোমাকে নিয়ে বেশি চিন্তিত, তুমি আমার মা, আমার সবচেয়ে বড় সন্তান, তোমার মুখেই প্রথম আমি আব্বু ডাক শুনেছি। তুমি শান্ত থেক।” আম্মুকে বললেন, “আমার সোনার টুকরা ৬ ছেলে-মেয়েকে রেখে গেলাম তুমি এদের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। তোমরা যাও, আমি তোমাদের যাওয়া দেখি।”
আমরা একে একে হাত মিলিয়ে আমাদের জান্নাতী বাবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ছোট্ট বিড়ালটিও আমাদের পিছু নিল। শেষ সময়ের দেখা আব্বুর উজ্জ্বল চেহারাটি সারাটি পথ চোখে ভাসছিল। কোথায় যেন শুনেছিলাম some birds are not meant to be caged, their feathers are just too bright.
জেল থেকে বের হয়ে রওয়ানা হলাম সাঁথিয়ার উদ্দেশ্যে, জীবিত বাবাকে রেখে চললাম তার দাফনের প্রস্তুতি নিতে। রাসূল (সা:) এর সেই হাদীসটি তখন বারবার মনে পড়ছিল, যখন তোমরা কোন বিপদ মুসিবতে পড়বে তখন স্মরণ কর সবচেয়ে বড় মুসিবতের কথা। সেটা হবে আমাকে হারানোর মুসিবত। (ইবনে মাজাহ)। এই উম্মত রাসূল (সা:) কে হারানোর কষ্ট সহ্য করেছে। এই উম্মত সবই সহ্য করতে পারবে। রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন। (লেখক: মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মেঝো ছেলে)

শুক্রবার, ১৩ মে, ২০১৬

প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে মাওলানা নিজামীকে হত্যা করেছে সরকার: শিবির সেক্রেটারী জেনারেল

বাংলাদেশ বার্তা ১৩ মে ২৯১৬ঃ বিশ্ব বরেণ্য আলেমে দ্বীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে সরকার হত্যা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত।
শুক্রবার রাজধানীর এক মিলনায়তনে মাওলানা নিজামীর মাগফেরাত কামনায় কুরআন খানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এইচ আর ডি সম্পাদক শাহীন আহাম্মদ খান, দাওয়া সম্পাদক আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও প্লানিং এন্ড ডেভলপমেন্ট সেক্রেটারী সুলতান মাহমুদ রিপন প্রমুখ।
দোয়াপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সেক্রেটারী জেনারেল বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী তাঁর শাহাদাতের পূর্বে বলে গিয়েছিলেন, “আমার শাহাদাত পরিবর্তনের সূচনা করবে”। আমরাও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শহীদের রক্ত অবশ্যই কথা বলবে। যেই জমিনে এত শহীদের রক্ত ঝরেছে, সেই জমিনে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী মাওলানা নিজামীর গায়েবানা জানাযায় অজস্র মানুষের ঢল প্রমান করে, আল্লাহ যাকে সম্মানিত করতে চান, তাঁকে কেউ অপমানিত করতে পারে না। সরকারের মদদপুষ্ট মিডিয়ার মিথ্যা গোয়েবলসীয় প্রচারণাও পারবে না। মাওলানা নিজামীর এই এই ত্যাগ বাংলাদেশে ইসলামের বিজয়কে ত্বরাণ্বিত করবে, ইনশাআল্লাহ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলায় বর্জপাতে ৪২ ব্যক্তি নিহত হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ -ডাঃ শফিকুর রহমান


বাংলাদেশ বার্তা ১৩ মে২০১৬ঃ গত ১২ মে বর্জপাতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৪টি জেলায় কমপক্ষে ৪২ ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ১৩ মে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্জপাতে একই দিনে নারী-শিশুসহ ৪২জন লোক নিহত এবং বহু সংখ্যক লোক আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদেনা জ্ঞাপন করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। 
আমাদের দেশে সাধারনতঃ মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত কালবৈশাখী ঝড় হয়ে থাকে। এ সময় বর্জপাতও ঘটে। আবহাওয়াবিদদের মতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। কাল বৈশাখী শুরু হলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাওয়া উচিত।
তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের যথাযথভূমিকা পালন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সব কিছুর উপর আল্লাহ তায়ালার সাহায্যই বড় কথা। বিপদে-আপদে পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাঁর করুনা চেয়ে আমাদেরকে ধর্ণা দিতে হবে। আল্লাহ পাক আমাদের এই বিপদগ্রস্থ জাতিকে সকল প্রকার আসমানী ও জমিনী বালা মুছিবত থেকে হেফাজত করুন।”

ফাঁসি বা মৃত্যুতে পেরেসান না হয়ে সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে হবে -মকবুল আহমাদ

বাংলাদেশ বার্তা ১৩মে ২০১৬ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন একজন একনিষ্ঠ আল্লাহওয়ালা মানুষ। তিনি ৫ বছর ২টি মন্ত্রণালয় চালালেও তার আদর্শবিরোধীরা তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। তিনি স্বচ্ছ চিন্তার লোক ছিলেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও প্রাণভিক্ষার সামান্য চিন্তাও তাকে স্পর্শ করেনি বরং সন্তষ্ট চিত্তে ও আল্লাহর সন্তষ্টির জন্যে হাসিমুখে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন। যা আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাই ফাঁসি বা মৃত্যুতে পেরেসান না হয়ে শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর শাহাদাত কবুল করে জান্নাতের উচ্চমর্যাদা দানের জন্য দোয়া করেন।
তিনি আজ রাজধানীর একটি মিলনায়তে আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর জন্য কেন্দ্র ঘোষিত দোয়া কর্মসূচীর অংশ হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল। উপস্থিত ছিলেন সদ্য কারামুক্ত সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইবনে কারীম আহমদ মিঠু ও মাওলানা ফরিদুল ইসলাম প্রমূখ।
ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, ফাঁসির মঞ্চের মুখোমুখি হয়ে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দৃঢ়তা ও আপোষহীনতা তাকে মর্যাদার উচ্চাসনে অভিষিক্ত করেছে। তার প্রতি ফোটা রক্ত বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে নব উদ্দমের সৃষ্টি ও গতিশীলতা দিয়েছে। মূলত তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত আলেমে দ্বীন ও ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫শ ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে অন্যতম। মূলত এতেই তার পান্ডিত্য ও উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উত্তম ও বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। সরকার তার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও জনপ্রিয়তায় ঈশ্বার্নিত হয়ে কথিত বিচারের নামে প্রসহন করে একজন বরেণ্য জাতীয় নেতা ও খ্যাতিমান আলেমে দ্বীনকে হত্যা করেছে। কিন্তু হত্যা করে ইসলামী আন্দোলন অতীতে নির্মূল করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না।
তিনি বলেন, মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু মাওলানা নিজামী তার পান্ডিত্যপূর্ণ লেখনীর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদের দুরতম সম্পর্ক নেই। মূলত ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা ও ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি কল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সরকার পরিকল্পিতভাবেই দেশের ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। সে ধারাবাহিকতায় একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে জাতীয় নেতাদের। মূলত সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমীরে জামায়াতসহ শীর্ষনেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে বরেণ্য জাতীয় নেতাদের হত্যা করছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের উপর জুলুম-নির্যাতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তাই যেকোন প্রতিকুল পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য নিয়ে অকুতোভয় সৈনিকের মত ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদানের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে হবে। আর একাজ আমাদেরকে জীবনের শেষ মহুর্ত পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই শহীদ আমীরে জামায়াতসহ শহীদানের আত্মত্যাগ ও রক্ত সার্থক হয়ে উঠবে।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ইসলামী আন্দোলনের সিপাহসালার, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা শহীদানের রক্ত কোনভাবেই বৃথা যেতে দেবে না বরং দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের বদলা নেয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সানন্দে ও হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন উচুমানের দাঈ ইলাল্লাহ ও মুবাল্লিগে দ্বীন এবং ইসলাম সিংহ পুরুষ। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার কন্ঠ। তিনি তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ মানুষের মাঝে উচ্চকিত করে তুলেছেন। কিন্তু সরকার তাকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে হত্যা করেছে। তাই আমাদেরকে তার রেখে যাওয়া কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।