ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১ ।

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০১৫

৬ এবং ৭ জুলাই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহবান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ জামায়াতের কারাবন্দী শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই নেতা-কর্মীদের মুক্তি প্রদান এবং ঢাকা ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী তান্ডব বন্ধের দাবীতে ৬ জুলাই সোমবার দেশের সকল মহানগরীতে এবং ৭ জুলাই মঙ্গলবার দেশের সকল জেলা-উপজেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ৫ জুলাই নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্ব শূন্য করে এ দেশের দেশপ্রেমিক ইসলামী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। দেশের জনগণ সরকারের এ ষড়যন্ত্র কখনো বাস্তবায়ন করতে দেবে না। এ দেশে ইসলামের শিকড় জনগণের হৃদয়ের গভীরভাবে গ্রোথিত। জনগণের হৃদয় থেকে এ শিকড় কখনো উপড়ে ফেলা যাবে না। সরকার ইসলামের ওপর যতই আঘাত হানবে, দেশপ্রেমিক ইসলামী জনতা ততই তাদের বিশ্বাসে আরও বলীয়ান হবে ইনশাআল্লাহ। সরকারের সকল জনস্বার্থ এবং ইসলাম বিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের আপামর জনগণের প্রতি আবারও আহবান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল জনাব আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ কারাবন্দী শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বেই নেতা-কর্মীদের মুক্তি প্রদান এবং ঢাকা ও মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারী দলের সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী তা-ব বন্ধের দাবীতে আমি ৬ জুলাই সোমবার দেশের সকল মহানগরীতে এবং ৭ জুলাই মঙ্গলবার দেশের সকল জেলা-উপজেলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষিত দুই দিনের এ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সর্বাত্মকভাবে পালন করার জন্য আমরা সংগঠনের সকল শাখার প্রতি আহবান জানাচ্ছি এবং উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার জন্য প্রিয় দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”

আ'লীগের বিরুদ্ধে এতিম প্রকল্প দখলের অভিযোগ

মাদারীপুর ইসলামী এতিম প্রকল্প আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল করেছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে রাজশাহী পশ্চিম সাংগঠনিক জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল খালেক ও মাদারীপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী আবুল বাশার, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির এবং ওই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ মাস্টারসহ জামায়াতের নেতাদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।
নেতাদের মুক্তি দাবি করে ডা. শফিকুর বলেন, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার হীন উদ্দেশ্যেই পুলিশ তাদের অন্যায়ভাবে পবিত্র রমজান মাসে গ্রেফতার করে কষ্ট দিচ্ছে।
তিনি বলেন,মাদারীপুর নতুন শহরের অবস্থিত ইসলামী এতিম প্রকল্পটি ধ্বংস করে এর সম্পদ আত্মসাৎ করার হীন উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অন্যায়ভাবে এটি দখল করেছে।
জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ইসলামী এতিম প্রকল্প দখল করার মধ্য দিয়ে সরকারের ইসলাম বিরোধী ফ্যাসিবাদী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে ফুটে উঠেছে।
সরকারের এহেন ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহাবান জানান তিনি।

চান্দগাঁও জামায়াতরে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফলি



 বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক : বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামী চান্দগাঁও উত্তর ওর্য়াডরে উদ্যোগে মাহে রমজানরে গুরুত্ব ও তাৎর্পয আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফলিরে আয়োজন কর। মহান আল্লাহর পক্ষ হতে এই রমজান মাসেই পবত্রি কুরআন নাজিল করা হয়। তাই রমজান কুরআন নাজলিরে মাস। পবিত্র এই রমজান মাসে শুধু রোজা পালনরে সাথে সাথে কুরআন শক্ষিা করতে হবে এবং কুরআন শিক্ষা দিতে হবে।নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই রমজান মাস আসলে বাংলাদশেরে মানুষ ইফতার মাহফলিসহ কুরআনরে শিক্ষা নিয়ে ব্যাপক ভাবে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু আমরা অত্যন্ত দুঃখরে সাথে লক্ষ করছি, সরকার এই রমজান মাসেও দেশের মুসলমি সম্প্রদায়কে নির্বিঘ্নে রোজা পালন ও কুরআনরে শিক্ষা গ্রহণে নানা ভাবে বাধা দিয়ে  মুসলমি সম্প্রদায়রে র্ধমীয় অনুষ্ঠানপালনে বাধা দিচ্ছেন।নেতৃবৃন্দ বলনে, আমরা আরো লক্ষ্য করছি এই রমজান মাসে কুরআন শক্ষিার আসর থেকে কুরআনরে আলোচনা থেকে ও ইফতার অনুষ্ঠান থেকে মহিলাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং মিথ্যারোপ করা হচ্ছে। এই ভাবে সরকার ৯০ ভাগ মুসলমি অধ্যুষতি বাংলাদশেরে র্ধমীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন নেতৃবৃন্দ পবিত্র মাসের পবিত্রতা নষ্ট করে দেশে বিভিন্ন স্থানে ইফতার মাহফিলে বাধা প্রদান ও মহিলাদের  গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা  ও প্রতবিাদ জানান এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে র্পূণ র্ধমীয় পরিবেশ বজায় রেখে রোজাপালনের সুযোগ দাবী করেন।
চান্দগাঁও উত্তর ওর্য়াড জামায়াতরে আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠনে নেতৃবৃন্দ এই সকল কথা বলনে। চান্দগাঁও উত্তর ওর্য়াড জামায়াতের সভাপতি প্রকৌশলী মুহাম্মদ খোরশদে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠতি উক্ত আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানা জামায়াত নেতা আবুজাওয়াদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আবু এস. আফরনি অন্যান্যরে মধ্যে বিন জিয়াউল হক প্রমূখ বক্তব্য রাখনে।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০১৫

লতিফ সিদ্দিকীকে মুক্তির প্রতিবাদ ও অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে ছাত্রশিবিরের বিবৃতি


আল্লাহ, রাসূল সাঃ ও ইসলামের মৌলিক বিধান পবিত্র হজ্জকে কটাক্ষকারী, আত্মস্বীকৃত নাস্তিক লতিফ সিদ্দিকীকে মুক্তির প্রতিবাদ ও অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার ও সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে পবিত্র রমজান মাসে লতিফ সিদ্দিকীর মত ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিককে মুক্তি দিয়ে সরকার চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিজেদেরকে চূড়ান্ত ভাবে ইসলাম বিদ্বেষী ও নাস্তিক্যবাদী শক্তির দোষর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার ছিল সর্বস্তরের মুসলমানদের সাথে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজী। যা তাকে মুক্তির মাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকে। কিন্তু সরকার মুসলমানদের কলিজায় আঘাত দিতে পরিকল্পিত ভাবে লতিফ সিদ্দিকীকে মুক্তি দিয়েছে। এই অনৈতিক মুক্তি মূলত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের প্রশ্রয় এবং লালনের ব্যবস্থা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর মাধ্যমে পরিকল্পিত ভাবে উস্কানি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
নেতৃবৃন্দ হুশিয়ার করে বলেন, সরকারের ধারাবাহিক ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ডে জনগণ এমনিতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। তার উপর মুসলমানদের সাথে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ অব্যাহত রাখলে গণবিস্ফোরণ ঘটবে। অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইসলাম রক্ষা ও ইসলামের দুশমনদের প্রতিহত করতে প্রয়োজনে বাংলার মুসলমানরা এক কাঁতারে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিবে। আর তখন যে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০১৫

১০৮ ঘন্টার হরতাল ও কিছু কথা -----------মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন


বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে হরতাল অতি পরিচিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির নাম। অতি সাধারণ বিষয়ে বা তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ইস্যু ছাড়াই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট কর্তৃক হরতাল পালন করার নজির এদেশে রয়েছে। যদিও সাধারণভাবে এদেশের মানুষ হরতাল পছন্দ করে না। কারণ হরতালের নাম শুনলেই এর একটি নেগেটিভ চিত্র মানুষের সামনে ভেসে আসে। আর তা হলো হরতাল মানেই আগের দিন থেকে শুরু করে হরতাল শেষ হওয়া পর্যন্ত গাড়িতে আগুন, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি ভাংচুরসহ অনেকটা গায়ের জোরে জনসাধারণকে হরতাল মানতে বাধ্য করা। এটি হচ্ছে আমাদের দেশের হরতালের অতি সামান্য একটি চিত্র। ফলে হরতাল ডাকলেই মানুষ আতংকগ্রস্থ হন, কারণ কখন কার উপর হামলা হয় এই আশংকায়। কিন্তু হরতালের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমধর্মী নজীর স্থাপন করলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হরতাল সম্পর্কে উপরে বর্ণিত চিত্রের কোন কিছু করা ছাড়াই জনগণের স্বত:স্ফূর্ত সমর্থন ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক তৎপরতার মাধ্যমে হরতাল বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। আমার এ বক্তব্য বাংলাদেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় পরিবেশিত সংবাদ দ্বারা সত্যায়িত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গত ৩১ শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে (মাঝখানে শুক্র, শনি ও মঙ্গলবার ছুটির দিনগুলো) বাদ দিয়ে ৭ নভেম্বর ভোর ৬ টা পর্যন্ত তিন দফায় মোট ১২০ ঘন্টার লাগাতার হরতাল আহবান করে। পরে পবিত্র আশুরার জন্য সোমবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টার হরতাল কমিয়ে এনে সর্বমোট ১০৮ ঘন্টার এক ব্যতিক্রমধর্মী হরতাল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এককভাবে টানা এত দীর্ঘ সময় হরতালের ঘটনা বিরল। অনেকটা বাধ্য হয়েই জামায়াত এ হরতাল আহবান করে। গত ২৯ শে অক্টোবর সকাল ১১ টার পর থেকে গণমাধ্যমে খবর আসতে থাকে ৩০ শে অক্টোবর বুধবার আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর তথাকথিত মানবতাবিরোধী মামলার রায় প্রদান করা হবে। খবরটি শুনার সাথে সাথে কিছুটা স্তম্ভিত হলাম। কিন্তু বিস্মিত হলাম না। কারণ এই সরকারের পক্ষে এ ধরণের অমানবিক ঘটনার জন্ম দেয়া মোটেই কোন বিস্ময়ের বিষয় নয়। কারণ মানবিকতা, সহমর্মিতা, মানবতাবোধ সম্মানীয় মানুষকে সম্মান প্রদান ইত্যাদি রাজনৈতিক শিষ্টাচার এ সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের কাছ থেকে বহু আগে উধাও হয়ে গেছে। মানবাধিকার লংঘন ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণে এ সরকার এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করেছে। যখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ-লক্ষ নেতা-কর্মী, সাধারণ বিবেকবান মানুষসহ বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতা, বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অভিবাবক, ভাষা সৈনিক, ডাকসু’র সাবেক নির্বাচিত জি.এস ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মজলুম জননেতা শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান । সবাই যখন অশ্রুসজল, নফল ইবাদত, দোয়া -দরুদ সহ নানা স্মৃতিচারণে ব্যস্ত ঠিক সেই মুহুর্তে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর, সাবেক সফল মন্ত্রী, বিশ্বের প্রভাবশালী ইসলামিক স্কলার ও ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী, আজন্ম ভদ্র, শান্ত-শিষ্ঠ একজন আল্লাহর মুহসিন বান্দা জননেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দেয়ার নীল নকশায় নতুন করে মেতে ওঠে সরকার। শুধু এখানেই শেষ নয়, মিথ্যা মামলায় সাজানো স্বাক্ষীর মাধ্যমে তাঁকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে ফাঁসির দন্ডে দন্ডিত করা হয়। সরকারের এহেন হীন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী তাৎক্ষণিক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সহ পরের দিন ৩১ শে অক্টোবর সকাল ৬ টা থেকে ০১ লা নভেম্বর সকাল ৬ টা পর্যন্ত প্রথম দফায় ২৪ ঘন্টা এবং শুক্র ও শনিবার বিরতি দিয়ে রবিবার সকাল ৬ টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত ৭২ ঘন্টার সর্বাতœক হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। জামায়াত নেতা-কর্মীগণ দল কর্তৃক ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে যখন ব্যস্ত তখনই ৩১ শে অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার পর জানা গেল ইসলামী আন্দোলনের আরেকজন সিপাহসালার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রিয় সভাপতি মীর কাশেম আলীর তথাকথিত মানবতাবিরোধী মামলার রায় ৩ নভেম্বর প্রদানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে সরকার কর্তৃক মিথ্যা ও সাজানো মামলায় মীর কাশেম সাহেবকেও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হলো। প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী একদিনের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও ২৪ ঘন্টার হরতাল আহবান করে। আমীরে জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চলতে থাকা কর্মসূচির মধ্যেই মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাসহ দেশবাসী অবগত হলাম ৪ নভেম্বর সোমবার জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সম্পাদক যিনি এফসিও অতিথি হিসেবে যুক্তরাজ্য সফর করেছেন, তাঁকে ট্রাইবুনাল কর্তৃক প্রদান করা প্রাণদন্ডের বিরুদ্ধে আপিলের রায় প্রদান করা হবে। একদিকে অভিবাবক হারিয়ে বাকরুদ্ধ আন্দোলনের জনশক্তি, অপর দিকে মানবতাবিরোধী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার কর্তৃক আমীরে জামায়াতসহ তিনজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ইসলামী আন্দোলনের তিন প্রাণপুরুষকে পর পর হত্যার ষড়যন্ত্র, ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাদেরকে দূর্বল করার অপচেষ্টা অন্যদিকে অব্যাহত উস্কানিমূলক আচরণের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ফায়দা হাসিলের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়। কর্মী ও জনগণের প্রিয় নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অবিচার আর মিথ্যাচার চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের কারণে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের শান্ত রাখাটা ছিল অনেক বড় ধৈর্যের পরীক্ষা। মানবতাবিরোধী সরকার ও তার উপদেষ্টারা মনে করেছিল প্রিয় নেতাকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছি সুতরাং এই অবস্থায় তারা তাদের চক্রান্ত সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারবে। তারা উপুর্যুপরি অপতৎপরতা চালিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনতাকে উত্তেজিত করতে চেয়েছিল। তারা বেশি চালাকি করতে গিয়ে নিজেরা গঁলায় দঁড়ি দিয়েছে। এ কাজটি করার জন্য তারা কোমলমতি ছাত্রদের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার সময়টাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। তারা ভেবেছিল এ সময় হয়তো জামায়াত হরতাল দেবেনা আর দিলে জনগণকে জামায়াতের বিরুদ্ধে উস্কানো সম্ভব হবে। বিধি বাম। সরকারের এ উদ্দেশ্য মাঠে মারা গিয়েছে। জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধে বিরুপ ভাবাপন্ন তো হয়ই-নি বরং স্বত:স্ফ’র্ত হরতাল মেনে নিয়ে জনগণ জামায়াতের প্রতি তাদের সহমর্মিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে। আর ধিক্কার জানিয়েছে সরকারের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত অন্যায়, অযৌক্তিক ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে। এ হরতাল পালনের মাধ্যমে জনগণ তাদের অবস্থান পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত করেছে। জনগণ সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে তথাকথিত মানবতাবিরোধী বিচারের নামে দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীনদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিচারের নামে যে প্রহসন চলছে তা তারা সমর্থন করেনা। এটিকে জনরায় হিসেবে গ্রহণ করে অবিলম্বে সরকার এ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ করবেন দেশবাসী তা প্রত্যাশা করেন। আমি লিখছিলাম ১০৮ ঘন্টার হরতাল প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে সেই স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ১৫ দলীয় জোট, ৭ দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক কখনও কখনও যৌথ কখনও কখনও আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন থেকে শুরু করে কেয়ারটেকারের দাবিতে আওয়ামীলীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। (অবশ্য জামায়াত তখন স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী ছিল না, যেহেতু তারা আওয়ামীলীগের সাথে আন্দোলন করেছে) এরপর বিএনপি, জামায়াত ও চারদলীয় জোট কর্তৃক শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অতি সম্প্রতি ২০ দলীয় জোট কর্তৃক স্বৈরাচারিনী শেখ হাসিনার অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। শুধু জামায়াতে ইসলামীর ডাকে পালিত হরতাল আমার মনে হয় রেকর্ড করেছে। মিডিয়ার ভাষ্যমতে জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডেকে তাদের ভাষায় কোন সহিংসতা তো দূরে থাক ঝটিকা মিছিল ছাড়া তেমন কোন পিকেটিং বা এ অন্যকোন তৎপরতা চালায়নি। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় জামায়াতের হরতালে বল প্রয়োগ ছাড়াই স্বত:স্ফুর্তভাবে জনগণ সমর্থন প্রদান করেছেন। যদিও মিডিয়ার একটি অংশ সরকারী দলের লোকদের মতো জামায়াতের হরতাল ঢিলেঢালাভাবে হচ্ছে, জীবনযাত্রা স্বাভাবিক, গণপরিবহন ও জনসাধারণ রাস্তায় নেমে এসেছে ইত্যাদি প্রপাগান্ডা চালিয়ে হরতালকে দূর্বল করতে কোন অপচেষ্টা বাকী রাখেনি। তারপরও তাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডায় জনগণ সাড়া দেয়নি। মিডিয়ার এ অংশটি অতি চালাকীর আশ্রয় নিয়ে সরকারের দালালী করতে গিয়ে শুধু নিজেদের প্রাইভেট চ্যানেলটিকেই নয় বরং পুরো প্রাইভেট মিডিয়ার বিশ্বাস যোগ্যতাকেই জনগণের সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। আল্টিমেটলি এর মধ্য দিয়ে সরকারী টেলিভিশন বিটিভি’র প্রতি মানুষের আস্থা হীনতার প্রেক্ষাপটে বেসরকারী টেলিভিশনের খবর ও অন্যান্য প্রতিবেদনের ব্যাপারে জনগণের উৎসাহ উদ্দিপনা ও আস্থা তারা ধ্বংস করে দিচ্ছেন। কোন কোন টিভি চ্যানেল হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে নির্লজ্জভাবে শুধু সরকারের পারপাসই সার্ভ করছেনা বরং তারা মিথ্যার বেসাতি চালাচ্ছে। তারা জাতিকে দ্বিধা বিভক্ত, হিংসা-বিদ্বেষ উসকিয়ে দেয়াসহ বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রতিনিধিত্বকারী, গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক ধারার অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তার দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে অব্যাহত বিষোদাগার চালিয়ে যাচ্ছে। মিডিয়ার এ অংশটি জনগণকে বোকা ভাবে আর নিজেদেরকে অতিবুদ্ধিমান মনে করে। কিন্তু প্রকারান্তরে নিজেরাই বোকার স্বর্গে বাস করছে। এবং নিজেদেরকে জন সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে একটি ঘৃণার জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে এটা বুঝতে পারলে তাদেরই ভালো হতো। মিডিয়াকে বলা হয় সমাজের দর্পন বা আয়না। আয়নার সামনে দাঁড়ালে আয়না কোন বেশ কম ছাড়াই প্রকৃত অবস্থান শো করে। তেমনি মিডিয়াকে দলবাজি ছাড়াই সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে। দলবাজি করার জন্য মিডিয়ার পরিচয় প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট দল বা রাজনীতির সাথে মিশে গেলেই তারা ভালো করবেন। ৪ নভেম্বর ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের একটা টকশো দেখলাম। বিষয় ছিলো ‘প্রতিফলন না প্রতিসরণ’। সেখানে এক নারী সাংবাদিক তার মত ব্যক্ত করে বললেন, জামায়াতে ইসলামীর ‘ওয়েবসাইট’ থেকে নিজউ পরিবেশন করে সংবাদ কর্মীরা নাকি ঠিক কাজ করছেনা। সেখানে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য চ্যানেলের অন্তত: বিশিষ্ট আরো পাঁচজন সাংবাদিক সর্বজনাব মোজাম্মেল বাবু, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আহমেদ জুবায়ের, রেজওয়ানুল হক ও মোস্তফা ফিরোজ দিপু উনারা অবশ্য এটার প্রতিবাদ করে বলেন, জামায়াত যেহেতু সাংবিধানিকভাবে একটি বৈধ রাজনৈতিক দল সুতরাং তাঁর ‘ওয়েবসাইট’ থেকে নিজউ প্রচারে কোন অসুবিধা থাকার কথা নয়। সম্মানিত বিশিষ্ট এ-পাঁচ সাংবাদিককে ধন্যবাদ সত্য ভাষণের জন্য। আমি মনে করি মিডিয়ার কোন পক্ষপাতিত্ব করা উচিত নয়। এতে ম্ক্তু গণমাধ্যমের গতি ধারা ব্যহত হবে। বাস্তবে এর দ্বারা ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী শক্তিই লাভবান হবে। ক্ষতিগ্রস্থ হবে মুক্তধারা, দেশ, দেশের জনগণ ও দেশের ভবিষ্যত কর্ণধারেরা। 
মিডিয়ার পরস্পর বিরোধী বক্তব্য মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জাতিকে হতাশ করে। যেমন জামায়াতের এই ১০৮ ঘন্টা হরতালের খবর প্রচার করতে গিয়ে ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমের একটা অংশ যে চালাকির আশ্রয় নিয়ে সরকারের পক্ষ অবলম্বন ও জামায়াতের বিরোধীতায় অবতীর্ণ হয়েছে তা খুবই নগ্নভাবে ধরা পড়েছে। চ্যানেলগুলোর নিউজ হেডলাইন ও বিস্তারিত নিউজ লাইভ কাষ্টসহ যেভাবে পরিবেশন করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত একটা চিত্র আমি পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
একটা হেডলাইন ছিল এভাবে: জামায়াতের হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে, মাঠে নেই জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীরা। অথচ ফুটেজে দেখানো হচ্ছে জামায়াত শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিল, আর সে মিছিলে আক্রমণ করছে পুলিশ এমন দৃশ্য। মাঠে না থাকলে মিছিলের ছবি কোথা থেকে আসল আর পুলিশই বা কার ওপর আক্রমণ চালালো? জনমনে এমন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। 
আরেকটা হেডলাইন: জামায়াতের ডাকে ৪৮ ঘন্টার হরতাল ঢিলেঢালাভাবে চলছে, রাজধানীতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। সেখানে লাইভ ফুটেজে দেখানো হচ্ছে রাস্তা-ঘাট ফাঁকা, কোন পরিবহন নেই। 
আরেকটা হেডলাইল হলো: জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দফা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে, গণপরিবহন সহ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেট গাড়ী রাস্তায় ব্যাপক চলছে। আবার একই সাথে বলা হচ্ছে, পরিবহনের অভাবে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি, মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছে । একদিকে ব্যপক গণপরিবহন চলছে, অন্যদিকে গন্তব্যে পৌছতে পরিবহনের জন্য রাস্তায় মানুষের জটলা ও ভোগান্তির দৃশ্য পরিবেশন। তাহলে এরকম পরস্পরবিরোধী সংবাদ পরিবেশনা থেকে মানুষ কি বুঝবে?
আরেকটি হেডলাইন: হরতালে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অন্যদিকে ফুটেজে কাঁচামালের বাজার দেখিয়ে বলা হচ্ছে, পরিবহনের অভাবে মাল আনা নেয়া যাচ্ছে না বলে জিনিস পত্রের দাম বেশি, ক্রেতার উপস্থিতি কম। 
অন্য আরেকটি হেডলাইন হলো: জামায়াতের হরতালে জনগণের সাড়া মেলেনি এবং জীবন যাত্রার ওপর এর কোন প্রভাব পড়েনি। আবার বলা হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে হরতালে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। বিদেশী অর্ডার বাতিল হচ্ছে ইত্যাদি। সুতরাং মিডিয়ার একটি অতি উৎসাহি দলকানা অংশ যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করুক না কেন তাদের পরিবেশিত এই সব সংবাদের ওপর যে দেশবাসীর পুরোপুরি আস্থা নেই এটি অত্যন্ত পরিষ্কার। ফলে তারা যা বলবে জনগণ তাতেই বিশ্বাস করে বা করবে তার কোন ভিত্তি নেই। জনগণ এখন অনেক সচেতন। মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে জনগণকে বোকা বানানোর দিন শেষ। কথা আছে মিথ্যা কথা কখনো জোড়া লাগেনা। সত্যকে ঢাকতে গিয়ে অসংখ্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। সেজন্যই হয়তো গোয়েবলস বলেছিলেন, একটা মিথ্যাকথা একশ বার বললে তা সত্য বলে মানুষ বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। মিডিয়ার এ অংশ গোয়েবলসকেও হার মানিয়েছে। গোয়েবলস বেঁচে থাকলে হাসতেন না কাঁদতেন তা জানিনা। কারণ তিনি যেটা ১০০বারের কথা বলেছিলেন তাঁর অনুসারীরা এটাকে ১০০০বার বলতেও দ্বিধা করছেনা। তবুও সত্যকে চাপা দিতে হবে। একটি টকশোতে কথা বলতে গিয়ে তাদেরই একজনের মুখ দিয়ে তার স্টেশন পলিছি ও তাদের ষড়যন্ত্রের কিছু দিক বেরিয়ে এসেছে। তারা জামায়াতের যেকোন ভাল কাজকে অর্থাৎ সত্যকে ঢাকবার জন্য কিভাবে ষড়যন্ত্রের কুটিল জাল বিস্তার করেন তার কিঞ্চিৎ বর্ণনা যারা ঐ টকশোটি দেখেছেন তারা হয়তা উপলব্দি করতে পেরেছেন। অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযায় এতো লোক কোথায় থেকে আসল! এটা জনগণকে ভুলভাবে বুঝানোর জন্য তিনি কি করেছেন তার একটা ফিরিস্তি দিলেন। তিনি বললেন, আমি ফুটেজে দেখালাম ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনার কর্মকর্তারা তাদের অফিসের কাজ গুলো গুছিয়ে অফিস ছেড়ে জানাজায় অংশ নিয়েছে। আর এভাবেই গোলাম আযমের জানাযা বিরাট বড় হয়েছে। মিথ্যার ভিত্তি যে মাকড়সার জালের চাইতেও দূর্বল এটা হলো তার দৃষ্টান্ত। জানাযায় লোক হয়েছে লক্ষ-লক্ষ আর ইবনে সিনা ও ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করে লোক সংখ্যা কত? সম্মানিত পাঠক আপনারা আমাদের দেশের মিডিয়ার এ অংশটি সম্পর্কে সম্মক অবহিত। তারপরও আমি তার কিঞ্চিৎ তুলে ধরলাম। এরাই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করাকে ঝটিকা বা ঢিলেঢালা বলে মিডিয়ায় কভারেজ দিতে চায়না। আর পুলিশের হামলা, গুলি ও বাড়াবাড়ির মোকাবেলায় আমাদের দু’একজন কর্মী আতœরক্ষার্থে ঢিল মারলে, এটিকে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে সহিংস আচরণ করা হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করে। তারা তিলকে তাল বানিয়ে জামায়াতকে সন্ত্রাসী, জঙ্গী সংগঠন হিসেবে তুলে ধরতে চায়। 
সুতরাং জামায়াতের ডাকে ১০৮ ঘন্টার হরতাল সফল হয়েছে এ দেশের জনগণের সমর্থন ও স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এবং মিডিয়ার এ অংশটির মিথ্যাচার সত্ত্বেও জনগণ দেখেছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা হরতাল ডেকে মাঠ থেকে উধাও হয়ে যায়নি। বরং তারা শক্তভাবে মাঠে ছিল। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মিছিল, পিকেটিং সবই তাঁরা করেছে। তবে তারা হরতাল বাস্তবায়নের জন্য গাড়িতে আগুন ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেনি। জ্বালাও পোড়াও ও ভাংচুরে যায়নি। এটি জামায়াত শিবিরের বৈশিষ্ট্যও নয়। বরং জামায়াত-শিবিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য হল-শৃঙ্খলা, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইন ও সংবিধানের অনুসরণ। যারা জামায়াত ও শিবিরকে সহিংস ও জঙ্গি বলেন, তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই তাদের এ বক্তব্যের ভিত্তি কি? তারা কি আজ পর্যন্ত জামায়াত ও শিবিরের ভাইদের কাছে একটি খেলনা পিস্তলও দেখাতে পেরেছেন? অবশ্যই পারেননি। আর পারবেনও না ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাবেক কেন্দ্রিয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও
কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

বিচারের নামে তামাশা : ফেলানীর বাবা


বহুল আলোচিত ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারের রায়ে অভিযুক্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা-মা। আবারো রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম নুরু বললেন, ‘এটা বিচার নয়, ভারতীয় সরকারের তামাশা।’
গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিএসএফের বিশেষ আদালতের সোনারী ছাউনীতে বিএসএফের আধিকারী সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারিক প্যানেল ওই রায় দেন।
অপ্রত্যাশিত ওই রায়ে ফেলানীর বাবা-মাসহ এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার পর ফেলানীর বাড়িতে আসা লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা বলেন, ‘এই রায়ের ফলে কাঁটাতারবাসীর জীবন আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠল। বিএসএফ সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।’
ফেলানীর বাবা নুর হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ রায় আমি মানি না। স্বঘোষিত খুনিকে যে আদালত বেকসুর খালাস দিতে পারে, সেখানে ন্যায় বিচার হতে পারে না। ভারত সরকার বিচার নিয়ে তামাশা করেছে। তারা চায়নি ফেলানী ন্যায় বিচার পাক। তারা চেয়েছে তাদের খুনি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের মুক্তি। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আবারো আবেদন করবো।’
ফেলানী হত্যা মামলার আইন সহায়তাকারী ও কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এ রায় মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে সীমান্ত হত্যার ক্ষেত্রে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বিএসএফ।’
এর আগে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালত। পরে বিজিবি-বিএসএফের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিচার কাজ ফের শুরু করে বিএসএফ। চার মাস মুলতবি থাকার পর গত ২৫ মার্চ পুনর্বিচার কাজ শুরু হলেও বিএসএফের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অসুস্থ থাকায় ৩০ জুন পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। এ হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মনবাধিকার কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় উঠলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়।

লাইলাতুল কদর’ এ কি কি ইবাদত করবেন?

১- ফরয নামায সমূহ ঠিক সময়ে জামাআ’তের সাথে আদায় করা। 
যেমন মাগরিব, ইশা এবং ফজরের নামায। তার সাথে সাথে সুন্নতে মুআক্কাদা, তাহিয়্যাতুল মসজিদ সহ অন্যান্য মাসনূন নামায আদায় করা।
২- কিয়ামে লাইলাতুল্ কদর করা।
অর্থাৎ রাতে তারবীহর নামায আদায় করা। নবী (সাঃ) বলেনঃ 
“যে ব্যক্তি ঈমান ও নেকীর আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে (নামায পড়বে) তার বিগত গুনাহ ক্ষমা করা হবে”। [ফাতহুল বারী,৪/২৯৪]
এই নামায জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। অন্যান্য রাতের তুলনায় এই রাতে ইমাম দীর্ঘ কিরাআতের মাধ্যমে নামায সম্পাদন করতে পারেন। ইশার পর প্রথম রাতে কিছু নামায পড়ে বাকী নামায শেষ রাতে পড়াতে পারেন। একা একা নামায আদায়কারী হলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘক্ষণ ধরে নামায পড়তে পারে।
৩- বেশী বেশী দুআ করা।
তন্মধ্যে সেই দুআটি বেশী বেশী পাঠ করা যা নবী (সাঃ) মা আয়েশা (রাযিঃ) কে শিখিয়েছিলেন।
মা আয়েশা নবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি লাইলাতুল কদর লাভ করি, তাহলে কি দুআ করবো? তিনি (সাঃ) বলেনঃ বলবে, (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল্ আফওয়া ফা’ফু আন্নী”। [আহমদ,৬/১৮২] অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। ক্ষমা পছন্দ কর, তাই আমাকে ক্ষমা কর”।
এছাড়া বান্দা পছন্দ মত দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যাবতীয় দুআ করবে। সে গুলো প্রমাণিত আরবী ভাষায় দুআ হোক কিংবা নিজ ভাষায় হোক। এ ক্ষেত্রে ইবাদতকারী একটি সুন্দর সহীহ দুআ সংকলিত দুআর বইয়ের সাহায্য নিতে পারে। সালাফে সালেহীনদের অনেকে এই রাতে অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে দুআ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এতে বান্দার মুক্ষাপেক্ষীতা, প্রয়োজনীয়তা ও বিনম্রতা প্রকাশ পায়, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।
৪- যিকর আযকার ও তাসবীহ তাহলীল করা। 
অবশ্য এগুলো দুআরই অংশ বিশেষ। কিন্তু বিশেষ করে সেই শব্দ ও বাক্য সমূহকে যিকর বলে, যার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করা হয়। যেমন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, “আল্ হামদু ল্লিল্লাহ” “সুবহানাল্লাহ”, “আল্লাহুআকবার” “আস্তাগফিরুল্লাহ”, “লা হাওলা ওয়ালা কুউআতা ইল্লা বিল্লাহ”। ইত্যাদি। প্রেকটিসিং অথেন্টিক ইসলাম ইন বাংলার সৌজন্যে

পাকিস্তানে সেনাবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানে সেনাবাহী একটি বিশেষ ট্রেন দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার শিল্পনগরী গুজরানওয়ালার কাছে চানাওয়ান খাল পার হওয়ার সময় ব্রিজ ভেঙ্গে গেলে ট্রেনটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল অসিম বাজওয়া শুক্রবার টুইটারে এক বার্তায় জানান, এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৮০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মী ও ডুবুরিরা। এদের মধ্যে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ইউনিট কমান্ডার, তার স্ত্রী ও মেয়েও রয়েছেন।
পাকিস্তান রেলওয়ের মুখপাত্র আব্দুল রউফ তাহির জানিয়েছেন, সামরিক ট্রেন দুর্ঘটনার ৯০ মিনিট আগে একই ব্রিজের ওপর দিয়ে অপর একটি যাত্রীবাহী ট্রেন নির্বিঘ্নে পার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মিতই আমাদের সেতুগুলো পরীক্ষা করে থাকি। এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুজা খানজাদা জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুর্ঘটনা হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তদন্ত করছে।
পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলে মন্তব্য করে এক বিবৃতিতে শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ঢাকার নিউজের সৌজন্যে

মুসলমানদের সঙ্গে প্রথম ইফতার করলেন জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের সঙ্গে এবারই প্রথম ইফতার মাহফিলে অংশ নিলেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। ইফতারে অংশ নিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করলেন, আগামী বছর নিজে একটি ইফতার অনুষ্ঠান আয়োজন করার।

মুসলমানদের ইফতার আয়োজনে শরিক হয়ে ইসলামকে জার্মানির অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন মার্কেল। এ সময় জার্মানির সরকারি মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্ট ঘোষণা করেন, মার্কেল আগামী বছর প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্য একটি ইফতার পার্টি আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এ ইফতার চ্যান্সেলরের সরকারি দফতরে অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি হয়ে যাবে বার্ষিক অনুষ্ঠানমালার একটি অংশ।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) রাজধানী বার্লিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি গেস্ট হাউস ‘ভিলা বোর্সিগ’-এ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জার্মানি এবং ইউরোপজুড়ে আন্তঃধর্মীয় আস্থা ও সম্মান গড়ে তোলার আহবান জানান। তিনি রমজানের রোজাকে মুসলিমদের প্রকৃত আদর্শের প্রতিফলন ও পরীক্ষা বলে আখ্যায়িত করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ধর্মের নামে সংঘটিত সহিংস কার্যক্রমের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা স্মরণ করে মার্কেল বলেন, ‘এ কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয় ইসলামকে যা দুঃখজনক।’
মার্কেল বলেন, জার্মান মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে তিনি অনুমোদন করেন না এবং ইসলামকে জার্মানির অংশ বিবেচনা করেন। যারা মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখে তিনি তাদের বিরোধিতা করেন। গত জানুয়ারিতে দেশটিতে কথিত প্যাট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান্স অ্যাগেইন্স দ্য ইসলামাইজেশন অব দ্য ওয়েস্ট তথা পেগিডা ইসলাম ও অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুললে মার্কেল তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিবৃতি দেন। এসময় তিনি প্রথম বলেন, ইসলাম হচ্ছে জার্মানির অঙ্গ। তিনি মধ্য জানুয়ারিতে তার বিবৃতির উল্লেখ করে পেগিডা, তার প্রতিনিধি ও সমর্থকদের জার্মানবাসীর অন্তরে ঘৃণা প্রবেশ করানোর দায়ে অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ঘৃণা, বর্ণবাদ এবং চরমপন্থার কোনো স্থান এদেশে নেই। দেশ টিকে আছে গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও বহুমতের ওপর।
মঙ্গলবারের ইফতার বক্তৃতায় মার্কেল মুসলিমদের মসজিদে হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এটা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রবিরোধী। তিনি আরো যোগ করেন, এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়া একান্ত কর্তব্য।
মার্কেলের সঙ্গে ইফতারে আরো যোগ দেন তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ ইমিগ্রেশনমন্ত্রী আয়দান ওজোগ, জার্মানিতে মুসলমানদের সমন্বয় পরিষদের মুখপাত্র নুরহান সয়কান, জার্মানিতে ইহুদিদের সেন্ট্রাল কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্কুস্টার, জার্মান ইভানজেলিক্যাল চার্চের প্রেসিডেন্ট হাইনরিশ বেডফোর্ড এবং জার্মান ক্যাথলিক কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট অ্যালোয়িজ গ্লুক।
জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে মার্কেল এই প্রথমবার কোনো ইফতারে অংশগ্রহণ করলেন। এসময় সরকারি মুখপাত্র স্টিফেন সেইবার্ট আরো ঘোষণা করেন যে, মার্কেল আগামী বছর প্রথমবারের মতো একটি ইফতার পার্টি আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ইফতার চ্যান্সেলরের সরকারি দফতরে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং জার্মানিতে মুসলিম সুশীল সমাজের সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে আমন্ত্রিত হবেন। তার মতে, জার্মানিতে ইফতার একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের অংশ হয়ে যাবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


""জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা বিশ্ব গণতান্ত্রিক ও ইসলামিক আন্দোলনের একজন সৈনিক হিসেবে বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে""--রাকেশ রহমান

ණ☛ " আমি একজন সুপরিচিত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। শুধু মুক্তিযোদ্ধা পরিবারই নয় বরং রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। যে পরিবারের সৎ, আদর্শ ও প্রতিবাদের জন্য শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতেও পরিচিতি রয়েছে। যাক আমি আমার ব্যাপক পরিচিতি উল্লেখ করতে আগ্রহী নই। উপরের এই উক্তি গুলো আমার জীবনে বাস্তব পরীক্ষিত। যেহেতু আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান তাই ছেলে বেলা থেকেই বেড়ে উঠার পাশাপাশি বাবা চাচাদের যুদ্ধের সময়কার গল্প বেশি বেশি শুনতাম। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা, ছবি সংগ্রহ করা ও দেশাত্ববধক গান প্রচুর পরিমাণে শুনতাম। ধীরে ধীরে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা, বিভিন্ন লেখকের বই পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে পড়তাম। মনে প্রানে হ্বদয়ে জায়গা দিয়েছিলাম একটি নাম ' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান'। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণটা মুখস্থ ছিল। যেহেতু আমার পরিবারের সাথে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার সাথে একটা সুমুধুর সম্পর্ক ছিল সেই সুবাদে সুযোগ পেলেই যেতাম তাঁর বাসায়। একবার তো এক মজার ঘটনা ঘটলো, তখন আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে স্কুলের হাফ টাইম-এ পেট খারাপের কথা বলে হেড মাষ্টারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় গিয়ে ছোট ফুফির সাথে ধানমন্ডী ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে গেলাম, গিয়েই তো খেলাম ধরা দেখি আমার হেড মাষ্টার ( অধ্যক্ষ মৃত কামরুজ্জামান, সাবেক আওয়ামীলীগ এম পি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ) ঐখানে বসা। স্যার আমাকে দেখা মাত্র মৃদু হাসলেন এবং বুঝে গেলেন আমার ছোট হ্বদয়ে শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি কতটুকু ভালোবাসা।
ණ☛ আমাদের বাসায় শেখ মুজিবর রহমানের যে বিশাল বিশাল ছবি ছিল তা আমার মনে হয় সারা বাংলাদেশে এত বড় এবং এতো ছবি কারো বাসায় ছিল না। যার কারণে শুধু মাত্র শেখ হাসিনার মিশিলে এই ছবিগুলো নিয়ে যাওয়া হতো, আমরাও শেখ হাসিনার পাশেই থাকতাম। মুক্তিযুদ্ধের একটি সর্ট ফিল্ম আছে নাম ৭১'এর যীশু। এই ছবিটি অতুলনীয়। আমার ধারনা আমার মত খুব কম যুবকই আছে যারা ৭১'এর ইতিহাস এতো বেশি পড়েছে বা জেনেছ। এখনকার তরুণ সমাজ ইতিহাস সঠিক ভাবে না পড়ে না জেনে, শুনে শুনে তর্ক করে যুক্তি, ভিত্তি জ্ঞান ছাড়া। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমি আমার মাথায় রাখি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অনুভূতি আমি আমার হ্বদয়ে রাখি ঠিক যেন ৭১'এর একজন মুক্তিসেনার মত। শেখ মুজিবরের প্রতি অন্ধের মত পাগল ছিলাম যে , শেখ মুজিবরের কণ্ঠের সাথে ঢাকার সাবেক মেয়র ও সাবেক ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মৃত মেয়র হানিফের কণ্ঠের সাথে খুব মিল ছিল। তাই মেয়র হানিফের কণ্ঠের ভাষণ শুনার জন্য আমি ব্যাকুল হয়ে থাকতাম।
ණ☛ কিন্তু ১৯৯৭ সালে আমার প্রিয় চাচা মুক্তিযোদ্ধা মৃত মতিউর রহমান রেন্টুর ('আমার ফাঁসি চাই'- এর লেখক) - এর সাথে শেখ হাসিনা যে অনৈতিক ব্যবহার করেছে তার পর থেকে একটা অনীহা জন্মায় আওয়ামীলীগের প্রতি। সেই অনীহা থেকেই নতুন করে আবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করি। শুরু করতে না করতেই জানতে পারলাম যে ৭ই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবর রহমান ছিলেন শুধু মাত্র একজন জ্বালাময় পাঠক, তখন প্রশ্ন জাগল এর রচয়তা কে? খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জনাব নূরে আলম সিদ্দিকী ও জাসদের আধ্যাত্মিক গুরু সিরাজুল আলম খান। এরপর ধীরে ধীরে ইতিহাস বলতে শুরু করলো শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কাজে লাগিয়েছিলেন বাংলাদেশে জনগণের আবেগ, ভালোবাসা। শেষ পর্যন্ত তিনি অপেক্ষায় ছিলেন এবং আশায় ছিলেন ক্ষমতা তাঁর হাতে হস্তান্তর করা হবে। উনি যদি একবারের জন্যও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাইতেন এবং ৭ই মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতেন তাহলে এক মাসও লাগতো না বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হতে। এই মর্মে আজ স্পষ্ট বোঝা যায় শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন।
ණ☛ সুতরাং এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভারতীয় গোলামীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও ঐ সময় স্বাধীনতার পক্ষে সম্মতি দেননি। কি কি কারণে দেয়নি? কিন্তু কেন? একবারও কি আমরা হাতিয়ে বা গবেষণা করে দেখেছি? কারন গুলো কি কি? দেখিনি বা দেখতেও চাইনি। হয়তো; ঐ কারন গুলো বোঝার মতো জ্ঞান আমাদের নেই। আর যারা বুঝেছেন বা জানতেন তারা প্রকাশ বা ব্যাখ্যা করলে বের হয়ে আসত বা আসবে যে জামায়াতে ইসলামীরা স্বাধীনতার বিরোধী নয় বরং দেশ প্রেম থেকেই দেশের ও জাতির মঙ্গলেই তারা ৭১'এর স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। শুধু কি জামায়াতে ইসলামী? আমাদের বাংলার প্রথম স্তম্ভ শেরে বাংলা এ কে ফজরুল হকের পর দ্বিতীয় স্তম্ভ যিনি মৌওলানা ভাসানী তিনিও চাননি ভারতীয় গোলামী।
ණ☛ একজন ব্যক্তির স্বার্থের জন্য আমরা লাখো রক্তের বিনিময়ে ত্যাগ স্বীকার করে এতো কিছু পর আমরা স্বাধীন একটা দেশ পেয়েও পরাধীনতার শিকলে আটকা পরলাম যার মাশুল এখনও দিতে হচ্ছে। যেই গার্মেন্স শিল্প আমার দেশের অহংকার যা ভারত একশত বছরে সাধনা করলেও আমার দেশের গার্মেন্স শিল্পের সাথে পারবে না। নিজের দেশের শার্ট প্রবাসে বসে বেশি দাম দিয়ে কিনেও বিশ্বাস হয় না যে এইটা আমার দেশের তৈরি যা ইউরোপের ফ্যাশান বাজারে তাল মিলিয়ে চলছে তাও আবার বিশ্ব বিখ্যাত ফ্যাশানের রাজা ইতালিতে। চোখ আমার ছল ছল করে যখন দেখি আমার দেশের এই গার্মেন্স শিল্প ধ্বংসের পিছনে এই সরকারের আরো একটি অনুদান রয়েছে। খাবারে ফরমালিনের অতিরিক্ত উদারতার কারণে বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশের খাবার প্রবেশের অনুমতি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিশের দেশ বাংলাদেশ, গলদা চিংড়ির দেশ বাংলাদেশ, আম কাঁঠালের দেশ বাংলাদেশ, পান সুপারির দেশ বাংলাদেশ, স্বাদের লাউ বানাইল মরে বৈরাগী আজ এই গুলো কথাই থেকে যাচ্ছে এই সব আসছে ভারত, বার্মা, পাকিস্থান, শ্রীলংকা ও চায়না থেকে আর তাই আমাদের খেতে হচ্ছে আর এইটাও এই সরকারের ফসল। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অভিশাপ। পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন আমাদের সুন্দরবন। এই বন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই বনকে ঘিরে একটি পর্যটক অঞ্চল তৈরি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতো পাশাপাশি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া যেতো চোখ বন্ধ করে। বিগত ৬ বছরে তার কিছুই না করে বরং তেল ফেলে পৃথিবীর মূল্যবান সম্পদের একটি সুন্দরবনকে আজ ধ্বংসস্তূপ দার প্রান্তে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । বাংলাদেশ আজ সকল ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এমনকি ধর্ম চর্চার দিক থেকেও ভারতের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। ভারতের সরকার ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক চর্চা, অর্থনৈতিক অবস্থা শিক্ষণীয়। অপরদিকে বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে ভারতের অনুমোদন ও স্বীকৃতি ছাড়া এক চুলও এদিক ওদিক হওয়া সম্ভব নয়।
ණ☛ বন্ধুত্ব সম্পর্ক আর দাসত্বের ভিতরে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। গত মাসে ভারতের সাথে যে চুক্তিগুলো বর্তমান সরকার করেছে তা এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায় এই চুক্তিগুলো সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের সমর্থন নিতে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোন গোপন চুক্তি? বাংলাদেশের এই সকল ক্ষেত্রে ভারতের কাছে পরাধীনতার ও গোলামীর যে হুঁশিয়ারি জামায়াতে ইসলামী দিয়ে এসেছিলো আজ তা হুবুহু মিলে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশীরা স্বাধীনতা তথা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সকল প্রকার স্বাধীনতার বিসর্জন দিয়ে কোন একটি রাজনৈতিক দলের নিজ কেন্দ্রিক সুবিধার জন্য দেশকে আজ বিসর্জন দিতে যাচ্ছি। আর এই বিরোধিতা করতে গিয়েই জামায়াতে ইসলামীদের যেসব শীর্ষ নেতারা বিনা বিচারে মিথ্যা দুর্নাম নিয়ে নাটকীয় ভাবে ফাঁসিতে একজন একজন করে ঝুলছেন এতে করে ঐসব নেতারা বিশ্ব ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে বিশ্ব গণতান্ত্রিক ও ইসলামিক আন্দোলনের এক একজন সৈনিক হয়ে। 
('রাকেশ রহমান'---লেখক কলামিস্ট ও প্রেসিডিয়াম সদস্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি)।