ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০

অধ্যক্ষ গোলাম আযমের ইন্তেকালে সিলেট জামায়াতের শোক


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলা উত্তরের  বায়তুল মাল সম্পাদক, নগরীর আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ গোলাম আযম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি সোমবার বিকেল ৩টায় কুমারগাওস্থ বাসায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে এক ছেলে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে মারা যান। তিনি সিলেট সদর উপজেলার ৭নং মোগলগাও ইউনিয়নের লালগ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মরহুম মাষ্টার আব্দুল গফুর মাতার নাম মরহুমা সৈয়দা খাতুন।

সিলেট জামায়াতের শোক

জামায়াতে ইসলামী সিলেট জেলা উত্তরের বায়তুল মাল সম্পাক শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ গোলাম আযমের ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট বিভাগ, সিলেট জেলা উত্তর, জেলা দক্ষিণ সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ। মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা।
এক যৌথ শোক বার্তায় শোক প্রকাশ করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সিলেট মহানগরী আমীর এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা দক্ষিণের সাবেক আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা দক্ষিণের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনোয়ার হোসাইন খান, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ আব্দুল হাই হারুন মো: ফখরুল ইসলাম, জেলা দক্ষিণের নায়েবে আমীর মাওলানা লোকমান আহমদ, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা সোহেল আহমদ, জেলা উত্তরের সেক্রেটারী জয়নাল আবেদীন জেলা দক্ষিণের সেক্রেটারী মো: নজরুল ইসলাম প্রমূখ
নেতৃবৃন্দ বলেন- আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ গোলাম আযমের মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন আদর্শবান শিক্ষককে হারিয়েছে। যা সহজে পূরণ হবার নয়। অধ্যক্ষ গোলাম আযম ১৯৯৯ সালে আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত দক্ষতা সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম সদর উচ্চ বিদ্যালয় কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়াও তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া উচ্চ বিদ্যালয়েও শিক্ষককতা করেন। মরহুম গোলাম আযম দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা উত্তরের বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আমৃত্যু ইসলামী আন্দোলনের জন্য কাজ করে গেছেন।
আল্লাহ তাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দিন। আমীন
 

বুধবার, ১০ জুন, ২০২০

চান্দগাঁও জামায়াত নেতা হাজীরপুল নিবাসী মোহাম্মদ ইসকান্দার আলীর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন হাজীরপুল নিবাসী বিশিষ্ট সমাজ সেবক জনাব মোহাম্মদ ইসকান্দার আলী আজ ১০ জুন ২০২০বুধবার বিকালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাযিউন।
তার মৃত্যুতে চান্দগাঁও থানাসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করে বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া মরহুমের ইন্তেকালের সংবাদ পেয়ে চান্দগাঁও থানাসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ মরহুমের বাড়িতে যান এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ও শান্তনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য মোহাম্মদ ইসকান্দার আলী চান্দগাঁও থানা জামায়াতের সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মরহুমের নামাজে জানাজা আজ আজ রাত ৯:০০টায় হাজীরপুল রহমানিয়া মাদ্রাসার পাশের ঈদগাঁ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

মাওলানা মাওদূদীর চিন্তাধারা : ডঃ ইউসুফ আল কারাদাওয়ী

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ‘মাআ আইম্মাতিত তাজদীদ ও রুওয়াহুম’ তথা ‘ইসলামি নবজাগৃতির ইমাম ও তাদের চিন্তাধারার সাথে’ গ্রন্থে আল্লামা ডঃ ইউসুফ কারাদাওয়ী ইসলামি আন্দোলনের কয়েকজন ইমামের চিন্তাধারার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়েছেন। এই বই থেকে মাওলানা মাওদূদীর প্রসংগ টা আলাদা করে একটা পুস্তিকা ইদানিং বের হয়েছে। এই বই এ মাওলানা মাওদূদীকে তিনি ‘ইমাম’ বলে সম্বোধন করেছেন। আমি এই রচনায় বইটার সার সংক্ষেপ তুলে ধরছি।
মাওলানা মাওদূদীর যুগে ভারতে চিন্তার যে সব দৈন্যতা ছিলো তা হলোঃ
১। গোঁড়া তাক্বলীদঃ এই চিন্তা ছিলো খুব ব্যাপক। মনে করা হতো আগের যুগের ইমামগণ কোন কিছুই আমাদের জন্য ছেড়ে যাননি। এদের মতে ইজতিহাদের সব দরোযা এখন বন্ধ কাজেই একটা মাযহাবের তাক্বলীদ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর কোন মাযহাবের বাইরে যাওয়া মনে হলো খোদ ইসলাম থেকে বের হওয়া।এই চিন্তার ধারক বাহকেরা পুরানো চিন্তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এরা পুরাতন ইলমে কালামের প্যাঁচের মধ্যে এমন ভাবেই আবর্তিত হচ্ছিলো যেন অদেখা কিছু শত্রুর সাথে তারা বিরামহীন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এমন কি ফিক্বহের যে সব বিষয় আলোচনা এখন শেষ হয়ে গেছে, তা নিয়েও তাদের ব্যস্ত দেখা যায়। আসল ব্যাপার হলো, এদের কাজ ছিলো নতুন কিছু এলেই তার বিরোধিতা করা কিংবা দ্বীনের তাজদীদের কোন কাজ দেখলেই তা অমান্য করা।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলাওয়ী এই চিন্তার মর্মমূলে আঘাৎ করে কাঁপিয়ে দেন, এবং ইসলামি চিন্তার নতুন দ্বার উন্মোচন করেন, তার পরেও ভারতীয় আলিমগনের বড় অংশ সেই প্রাচীনতার যুপকাষ্ঠে তড়পাতে ছিলো।

২। অলিক কল্পনাঃভারতীয় ঊপমহাদেশে এই সময় অলিক কল্পনা বিলাসী বেশ কিছু আলিম উলামাগণের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যারা ইসলামী তাসাউফের অনুসারী ছিলোনা, অথচ নিজদের তাসাউফ পন্থী বলে জাহির করতো। এরা জীবন জগত থেকে ছিলো খুব ই পেছনে। এদের চিন্তার জগতে ছিলো গ্রীকদের যুক্তিবাদিতা ও তাদের দর্শন, তারা মিলিয়ে ফেলতো বেদান্ত মতবাদ, মনু ও যুরাথুষ্ঠীয় দর্শনের সাথে সঠিক ইসলামের ধ্যান ধারণা।

৩। পাশ্চত্যের পদলেহনঃ এখানে অনেক আলিম উলামাদের মাঝে পাশ্চত্যের প্রতি অন্ধ ভালোবাসাও দেখা যায় এই সময়। এরা পাশ্চত্যের উন্নয়ন কে শুধু রোল মডেল মনে করতোনা, এরা পাশ্চত্যের দর্শনকেও মনে করলো ইসলামের অল্টার্নেটিভ।

৪। পরাজিত মানসিকতাঃ কিছু আলিম উলামার উদ্ভব ও এই ভারতে দেখতে পাই যারা মনের দিক দিয়ে ছিলো এপলোজেটিক। তারা ইসলামে কোন জটিল বিষয় দেখলেই সে গুলো অস্বীকার করে ফেলতো বা তার এমন জবাব তৈরি করতে থাকতো যাতে বুঝা যেতো ইসলাম এই বিষয় টা অবতারণা করে ভুল করেছে।
দাস প্রথা, জিহাদ, বহু বিবাহ, বিয়ে তালাক, হিজাব ইত্যাদি বিষয়ে তাদের মতামত গুলো দেখলেই বুঝা যাবে কত পরাজিত মানসিকতার তারা ছিলো।

৫। হাদীস অস্বীকারঃ এই সময়ে ভারতে হাদীস অস্বীকার করার মত মানুষ ও দেখা গেলো। যারা মনে করতো ইসলাম মানতে এখন কুরআন ই যথেষ্ঠ, হাদীসের প্রয়োজন নেই।
৬। কাদিয়ানিদের উত্থানঃ গোলাম আহমাদ কাদিয়ানির মাধ্যমে ভারতে শুরু হয় আরেক ফিতনাহ, যার মাধ্যমে ইসলামের নবুওয়াত-রিসালাত এর মর্মমূলে আঘাতের ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
মাওলানা মাওদূদীর ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাধারার বিকাশঃ
এই মারাত্মক সংকটে ভারতে যে সব আলিম উলামার লেখনী ও বক্তব্য মুসলমানদের মন মগজে সঠিক ইসলামের আক্বীদা বিশ্বাস কে প্রতিস্থাপনের কাজ করেছেন, মাওলানা মাওদূদী তাদের অন্যতম। তার চিন্তা দর্শন কে নিচের কয়েকটা পয়েন্টে আলোচনা করা হলোঃ

১- ইসলাম কে পরিপূর্ন ভাবে মেনে চলাঃ
মাওদূদী যে ইসলামে বিশ্বাস করতেন তা ছিলো ঐ সব মাযহাব পন্থী আলিমগণের চিন্তা ভাবনার বাইরে। ওরা মনে করতো একটা মাযহাবের বাইরে যাওয়া যাবেন, এখন ইজতিহাদের কোন সুযোগ নেই, ওরা মনে করতো আগেকার কয়েকটা ফিকহ বই এর বাইরে যা আলোচনা আসবে তা বাতিল।
মাওলানা মাওদূদীর চিন্তা দর্শন ঐসব আলিমদের ও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলো যারা কোন মাযহাব মানেনা বটে, কিন্তু কুরআন হাদীসের মূল কথা গুলো আক্ষরিক অর্থে গ্রহন করে থাকে। মাক্বাসিদে শারিয়ায় তাদের কোন দখল ছিলোনা, ইসলামের মূল স্পিরিট সম্পর্কে তাদের গভীর জ্ঞান ছিলোনা, যারা নতুন জাহেরি মতবাদ নিয়ে দাপটে বেড়াচ্ছে।

তিনি যে ইসলাম বুঝেছিলেন তা, ঐসব তাসাউফপন্থীদের নাগালের বাইরে ছিল, যারা দ্বীন মানার নাম করে এর আক্বীদাহ বিশ্বাসকে নষ্ট করে ফেলেছে, যারা ইবাদাতের প্রতিটা ক্ষেত্রে বিদ’আতের স্বর্গরাজ্য বানায়ে ফেলেছে, পীর মূরিদির নামে তারা দ্বীন কে গোসলকারীর সামনে মৃতদেহের মত বানিয়ে নিয়েছে।
যারা পাশ্চত্য সভ্যতার ভক্ত হয়ে গেলেন, কিংবা পাশ্চত্য দর্শনের গোলাম হয়ে গেলেন, মক্কা থেকে ঘুরে ইউরোপকে যারা কিবলা বানালেন, তিনি গেলেন তাদের বাইরে।
তিনি যে ইসলামের দিকে মানুষকে ডেকেছেন তা হলো খাঁটি ইসলাম। ইসলামের নামে যে সব মতবাদ গুলিয়ে ফেলা হচ্ছিলো তার বিপরীতে তিনি দাঁড়ালেন, তিনি বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, ইসলাম ই ইসলাম। এর সাথে সমাজতন্ত্র, ডেমোক্রেসি কিংবা জাতীয়তাবাদের কোন সম্পর্ক নেই।
তিনি ইসলাম বলতে বুঝিয়েছেন, এটা শুধু আক্বীদাহ বিশ্বাসের কিছু বিষয় নয়, বরং এটা ব্যাপক। আক্বীদাহ বিশ্বাস এর মূল প্রতিপাদ্য, কিন্তু তার প্রতিফলন আসতে হবে রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এখানে শুধু কতিপয় ইবাদাত মেনে চলার জন্য ইসলাম আসেনি, দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ই হচ্ছে ইবাদাহ। এক্ষেত্রে তিনি ইমাম ইবনে তাইমিয়্যার চিন্তাকেই বিকশিত করেছেন।
তিনি যে ইসলাম বুঝেছেন তা কমপ্লিট কোড অফ লাইফ। এখানে চারিত্রিক সৌন্দর্য কে যেমন উপজীব্য করা হয়েছে, তেমনি এটাতে একাধারে রয়েছে ইবাদাতী যিন্দেগী, চারিত্রিক বৈশিষ্ট, সামাজিক বিধি-বিধান, অর্থনৈতিক নীতিমালা এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচি। কোন একটা ও বাদ দেয়ার সুযোগ এখানে নেই।

২। আধুনিকতা ও যুগোপযোগিতাঃ
মাওদূদীর চিন্তাধারার আরেক বৈশিষ্ট হলো তিনি এক চোখে যেমন ইসলাম কে দেখেছেন, অন্য চোখে তেমন বর্তমান যুগকেও রেখেছেন। তিনি বর্তমানকে ছেড়ে অতীত নিয়ে থেকেন নি, বরং আধুনিক মনষ্কের সাথে কথা বলেন তাদের ই ভাষায়, আধুনিক দর্শনের ভাষায় তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। এই কাজ করতে চেয়ে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাকে চষে বেড়াতে যেমন হয়ে, আধুনিক বিভিন্ন চিন্তা দর্শনের সাথে তাকে পরিচিত হতে হয়েছে। আর এটাই হলো একজন সফল দায়ী ইলাল্লাহ এর গুণ। আল্লাহ্ তাআলা বলেছেনঃ আমি প্রতিটি নবী কে তার নিজ জাতির ভাষা দিয়ে পাঠিয়েছি, যাতে করে অহীর কথা গুলো জাতির কাছে পরিস্কার করে দিতে পারেন। (ইব্রাহীমঃ ৪)

এক্ষেত্রে আল্লাহ্ তাআলা তাকে ‘নীতিমালা’ ও ‘দর্শন’ প্রনয়নের মত প্রতিভা দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের ছড়ানো মুক্তো মাণিক গুলো এক সুতোয় গেঁথে ছোট ছোট বিষয় গুলো কে বৃহত্তর নীতিমালায় একত্রিত করেছেন। নানা প্রশাখা গুলোকে মূলধারায় নিয়ে এসেছেন। এ থেকেই তৈরি হতে পেরেছে ইসলামি দর্শনের। চিন্তা ও জ্ঞানের জগতে এ ধরণের প্রতিভা খুব ই বিরল। তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রতিভার অধিকারি।
মাওদূদির লেখা বই গুলো পড়লে যে বিষয় টা সহজে চোখে ধরে তাহলোঃ তিনি আসলে তার যুগেই বাস করেছেন; এই যুগের সমস্যাগুলো তিনি পরিস্কার ভাবে বুঝতে পেরেছেন; তার সমাজে যে সব স্রোতধারা চলেছে তার সম্পর্কে যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা তার ছিলো। যে সব প্রভাবশালী নতুন দর্শন ও সভ্যতা আধুনিক বিশ্ব কে নাড়িয়ে দিয়েছে, কিংবা জ্ঞান বিজ্ঞানের যে সব অবদান আজ বর্তমান জেনারেশানকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তা গভীর ভাবে অধ্যায়ন করেছেন।
তিনি এই সব চাকচিক্যময় সভ্যতার অন্ধকার অলি গলি সম্পর্কে সাম্যক জ্ঞান রাখতেন। ফলে তিনি তার দূর্বলতা গুলো আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরতে পেরেছিলেন। তিনি বর্তমান সভ্যতার মূল উৎস গুলো গভীর ভাবে গবেষণা করে দেখেছেন। যে সব দার্শনিক ভিত্তিমূলে বর্তমান সভ্যতা দাঁড়িয়েছে তা ছিলো তার নখ-দর্পনে। তিনি এর বৈশিষ্ট গুলো জানতেন, এর রোগ গুলো ও তার ব্যাপ্তি বুঝতেন; ফলে এর বহিরাবরণ দেখে তিনি প্রতারিত হননি, রূপ দেখে ভড়কে জাননি, বাইরের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হয়ে ভেতরের অন্ধকার সম্পর্কে চোখ বন্ধ রাখেননি।

৩। চ্যালেঞ্জ গ্রহন করাঃ
ইসলামের যে সব স্কলার ইসলামের উপর আরোপিত প্রশ্নের সামনে কিছুটা ‘অনুনয়ের’ সুর তোলেন, কিংবা পাশ্চত্য সভ্যতার ধ্বজাধারী লিবারেল ও সমাজতান্ত্রিক দের অপ্রতিরোধ্য অপপ্রচারে কাতর হয়ে “ইসলামে কিছু দূর্বলতা আছে” ভেবে যারা আত্মরক্ষা মূলক অবস্থান নিয়ে ‘আইনজীবি’র ভূমিকা পালন করেন, মাওদূদি সে পথে চলেন নি। সত্যিই, মাওদূদি কখনো পাশ্চাত্য সভ্যতার সামনে কিংবা তাদের দর্শনের মুকাবিলায়, অথবা ঐ সব বাতিলের সয়লাবে নিযে আত্মরক্ষা মূলক পদক্ষেপ নেন নি, আইন জীবির ভূমিকা গ্রহন করেন নি।বরং তিনি ছিলেন ওদের চ্যালেঞ্জ গ্রহনকারী, এবং ছুড়েও দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ। তিনি পাশ্চত্য সভ্যতার ঐ সব বড় বড় মূর্তি সমূহের সামনে অন্যদের মত হাঁটু গেড়ে বসে যান নি। এই সভ্যতার সামনে অন্যদের মত মাথা নত করে সেজদায় লুটেন নি।বরং তিনি ইসলাম পন্থী হওয়ায় গর্ব বোধ করেছেন, ইসলামের সার্বজনীন মেসেজের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাথতেন। তিনি মনে করতেন, আমাদের বুঝার দূর্বলতা থাকতে পারে, কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা মানুষকে চলার জন্য যা দিয়েছেন তার ধারে কাছেও কোন মনুষ্য রচিত জীবন বিধান যেতে পারেনা। “সৃষ্টি যিনি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনিই সর্বোজ্ঞ এবং পারদর্শি… (আলমুলকঃ ১৪)

তিনি পাশ্চত্য সভ্যতার সমস্যা ও দূর্বলতা সম্পর্কে ব্যাপক জানতেন। জানতেন ইসলামের সাথে কোথায় কোথায় তা সাংঘর্ষিক। এজন্যই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে পাশ্চত্য সভ্যতার মর্মমূলে আঘাত হানা, সম্ভব হয়েছে এর দোষ ও ত্রুটি গুলো অত্যন্ত সাবলিল ও সমালোচনার ভাষায় তুলে ধরা। এজন্য যারা এই কাজে ব্রতী ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে বেশী শক্তিশালী। এতে পাশ্চত্য সভ্যতার বিপরীতে ইসলামের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে দারুন সহায়ক হয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি আসলেই পথিকৃত হয়ে রইবেন।
তিনি ‘পর্দা ও ইসলাম’ বই লিখে পাশ্চত্যের সামাজিক জীবনধারার কঠোর সমালোচনা করেন, এবং তার বিপরীতে পবিত্রতা আর্জন ও নারী এবং পরিবার সম্পর্কে ইসলামি দর্শনের ব্যাখ্যা করেন। এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন ইসলাম এক্ষেত্রে পাশ্চত্যের জীবন দর্শনের চেয়ে কত ব্যাপক ও গভীরতর হতে পারে।
তিনি ‘সুদ’ বই টি লিখে পাশ্চত্য সভ্যতার অর্থনৈতিক দর্শনের অসারতা প্রমান করেছেন। তিনি এই সভ্যতার মূল দর্শন পুঁজিবাদি অর্থব্যবস্থার দূর্বলতা তুলে ধরে সুদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (স) যুদ্ধ ঘোষণার কারণ গুলো ব্যখ্যা করেছেন।

তিনি ‘ইসলামিক ব্যাঙ্কিং’ উপর বই লিখে এক দিকে পাশ্চত্য অর্থনৈতিক দর্শনের সমালোচনা করেছেন এবং ইসলামি ব্যাঙ্কিং এর নীতিমালা ব্যাখ্যা করেছেন। যার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে আজকের ইসলামি ব্যাংকের সফল প্রতিষ্ঠান।
এখানে চ্যালেঞ্জ ও চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় মাওদূদীর কিছু ত্রুটি হয়ত হয়ে গেছে। পাশ্চত্য সভ্যতার বিপরীতে ইসলামি আইডেন্টেটি রক্ষায়, ইসলামি সভ্যতার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে এবং ইসলামি দৃষ্টিকোনের ব্যাখ্যায় তিনি কিছুটা কঠোরতা দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি অন্যদের মত কোন দূর্বলতা বা কম্প্রোমাইজের আশ্রয় নেয়া ভালো মনে করেন নি।
আমরা দেখতে পেয়েছি ইসলামে পর্দার ব্যাখ্যা করতে যেয়ে তিনি নিকাব (মুখ ঢাকা) অজিব মনে করেছেন, এমন কি চাচা ও মামার সামনেও মুখ ঢাকা ফরজ মনে করেছেন।
ইসলামি অর্থনীতির আলোচনা করতে যেয়ে অন্যান্য স্কলার যেমন ডঃ মুস্তাফা সিবাঈ তার ‘ইসলামের সমাজতন্ত্র’ বই এ ও মুহাম্মাদ গাযযালি তার ‘ইসলাম ও সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতি’বই এ ইসলামের সামাজিক সুবিচার সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ উদারতা দেখিয়েছেন। কিন্তু মাউদূদি এখানে খুব কট্টর।
রাজনৈতিক দর্শন আলোচনা করতে যেয়ে মাউদূদি ডেমোক্রেসি কে অগ্রহনযোগ্য মনে করেছেন। এর কঠোর সমালোচনা করেছেন। কারন তিনি এর মূল দর্শনের দিকে তাকিয়েছেন বেশি। এবং ভেবেছেন এটা আল্লাহর আইনের শাসনের বিপরীতে মানুষের শাসন। তিনি অন্য কোন দৃষ্টিকোণে এটার বিচার বিশ্লেষণ করেন নি। সরকার প্রধান নির্বাচন, নীতি নির্ধারক নির্বাচন ও তাদের ইম্পীচমেন্ট বা বহিস্কার সংক্রান্ত নীতিমালা ইত্যাদিতে গণতন্ত্র থেকে নেয়ার মত অনেক কিছু আছে। গণতন্ত্র আসলে একনায়কতন্ত্রের বিপরীতে জনগণের ক্ষমতায়ন। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো ক্ষমতা জনতার হাতে থাকবে, সরকারের হাতে নয়। আর মুসলিম বিশ্বে গনতন্ত্র ইসলামি শারীয়াহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এই দৃষ্টিকোণে তিনি গনতন্ত্রকে দেখেন নি বলে মনে হয়েছে।

৪। একজন সংস্কারক হিসেবে মাউদূদিঃ
প্রতিটি স্কলার যে একজন সংস্কারক হবেন তা নয়। অনেক স্কলার কে দেখা যায় তারা চিন্তা, দর্শন ও গবেষণা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, সমাজ ও সংস্কার নিয়ে ভাবেন না। সংস্কারের জন্য কাজ করেন তারা সমাজের সমস্যা ও তার উৎস নিয়ে গুরুত্ব দেন, যাতে রোগ নির্ণয় সহজ হয় ঔষধ দেয়াও যায় দ্রুত। মাউদূদি ছিলেন উম্মাতের একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার। তিনি উম্মাহর মূল সমস্যা গুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। সেটা ছিলো তার ভাষায় জাহিলিয়্যাত। তিনি এই রোগ টাকে মানব জাতির ইতিহাসের সব চেয়ে প্রাচীনতম রোগ বলে অভিহিত করেছেন।তিনি মনে করেন জাহিলিয়্যাতের মূলোৎপাটন ই ছিলো নবী রাসূল (আ) গণকে পাঠানোর একমাত্র কারণ ছিলো। তিনি এই জাহিলিয়্যাত কে কয়েকভাগে বিভক্ত করেছেন, খাঁটি জাহেলিয়্যাত, শির্ক ও অলিক কল্পনার মিশ্রিত জাহিলিয়্যাত কিংবা বৈরাগ্যবাদি জাহিলিয়্যাত। তিনি মনে করেন এ জাহিলিয়্যাত সমূহের সাথেই যুগে যুগে নবী রাসূলেরা (আ) লড়াই করেছেন। তিনি এটাও মনে করেন একজন পূর্ণ মুজাদ্দিদের কাজ হলো এই জাহিলিয়্যাতের ধ্বজাধারিদের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে আনা।
তিনি মনে করেন জাহিলিয়্যাতের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। অনেকেই মনে করেন ইসলামের আগের যুগ কে জাহিলিয়্যাতের যুগ বলে। এটা ঠিক নয়। বরং জাহিলিয়্যাত হলো চিন্তা দর্শন, অনুভুতি ও কিছু ক্ষেত্র। যেখানেই তা পাওয়া যাবে জাহিলিয়্যাত হিসাবে তাকে চিহ্নিত করা হবে। এই জাহিলিয়্যাতের চিহ্ন হলো আল্লাহর হেদায়েতের বাইরে চলা, এবং আল্লাহর হুকুম ও শাসন পদ্ধতির বাইরে যাওয়া।
তিনি এই জাহিলিয়্যাতের মুলোৎপাটন করতে যেয়ে পরিপূর্ণ ভাবে আন্দোলনের গুরুত্বারোপ করেছেন, এক্ষেত্রে কোন সন্ধি করা যাবেনা বলে পথ দেখিয়েছেন। আর সেই আন্দোলনের পথ হবে ‘ইসলামি বিপ্লবের পথ’।


মাওলানা মাওদূদীর চিন্তাধারা : ডঃ ইউসুফ আল কারাদাওয়ী
অনুবাদ ও সংকলনে : শাইখ ড. আব্দুস সালাম আজাদি Abdus Salam Azadi
------------------------------------------------------------

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবার দাবী জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের বিবৃতি


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ করোনা ভাইরাসে চট্টগ্রাম এখন হট ¯পট। যতই দিন যাচ্ছে ততই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ৩ হাজার ১৯১ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে মারা গেছেন ৭৮ জন। গতকাল সীতাকুন্ড ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে ২১২টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামের ৪৭ জনের করোনা পজিটিভ, চমেক হাসপাতালে ২৬১টি নমুনা পরীক্ষায় চট্টগ্রামের ১০১ জন, এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৯৬ জন। ভেটেরেনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জন পজিটিভ, এর মধ্যে ৮ জন মহানগরীর। করোনার বড় ঝুঁকিতে এখন চট্টগ্রাম মহানগরী। চট্টগ্রাম মহানগরীর করোনা রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত অপ্রতুল। ইতোমধ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি আক্রান্ত রোগীরা। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন। চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস মহামারি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের চিকিৎসা সেবা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। কোন নাগরিক বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না এটাই জনগণের প্রত্যাশা। এ ক্ষেত্রে আজ করোনায় আক্রান্ত রোগীরা অবহেলার শিকার। ন্যুনতম সেবা পাওয়া জনগণের নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। করোনা আক্রান্ত হট¯পট চট্টগ্রামে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ছে না। হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা একেবারেই কম। ফলে চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে আক্রান্তরা। আইসিইউ ও অক্সিজেন পাওয়া যেন চিন্তাই করা যায় না। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর কোন অগ্রগতি নেই। দিন দিন মৃত্যুহার বেড়েই চলেছে। অথচ সে তুলনায় নমুনা টেস্টের হার বাড়েনি। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার করোনা রোগীর জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৪২০টি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ৬০% রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া প্রয়োজন। বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কঠিন সংকটময় পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হলেও হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই মিলছে না। হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে যেতেই আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে মৃত্যু হারও দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম নগরীর সংকট মোকাবেলায় চমেক হাসপাতালেও পর্যাপ্ত বেড নেই। জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যা বৃদ্ধির কাজও শেষ হয়নি, পর্যাপ্ত জনবল ও নেই। হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল প্রস্তুত হলেও এখনও পর্যন্ত চালু করা যায়নি। ই¤েপরিয়াল ও ইউএসটিসি অধিগ্রহণ করা হয়, এতে ৫০টি আইসিইউ ও ৩৫০ শয্যা আছে তবে তা কবে নাগাদ চালু হবে তা অনিশ্চিত।
বিবৃতিতে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, মৃত্যুর দিক থেকে ঢাকার পর চট্টগ্রামের অবস্থান। করোনা ভাইরাস বিস্তারে রেড জোনে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। অবিলম্বে চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস আক্রান্তরোগীদের পর্যাপ্ত শয্যা, আইসিইউ সুবিধা এবং অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা সহ করোনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

Bangladesh Barta Desk: করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তৃতির মধ্যে ৩০ মে থেকে স্কুল-কলেজ ব্যতীত সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রূপ লাভ করছে। যতই টেষ্ট করা হচ্ছে ততই রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই মৃত্যুবরণ করছে মানুষ। করোনা ভাইরাসের এ জটিল পরিস্থিতিতে সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে যে ৩১ মে থেকে সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সকল অফিস খুলে দেয়া হবে। জন প্রশাসন মন্ত্রী বলেছেন, হাটবাজার, দোকানপাট আগের মতোই চালু থাকবে। সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। ব্যাংকগুলোর শাখা খোলা থাকবে।
তিনি বলেন, সরকারের এ ঘোষণায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি করোনা ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তৃতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের এ সিদ্ধান্ত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।
তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি উত্তরণের পরই কেবল অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা যেতে পারে। এর পূর্বে কোনো অবস্থাতেই অফিস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান খোলা সমীচীন হবে না।
জনগণের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান জানান।

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

জনাব মোঃ জাফর সাদেকের সুস্থতা কামনা করে দোয়ার আহবান


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য জনাব মোঃ জাফর সাদেকের সুস্থতা কামনা করে দোয়ার আহবান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ২৬ মে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার আমির মোঃ জাফর সাদেক গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। দেশব্যাপী অসংখ্য মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বড়ছে। প্রতিদিনই মানুষ মৃত্যুবরণ করছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মোঃ জাফর সাদেকসহ দেশব্যাপী করোনয় আক্রান্ত সকলের সুস্থতা কামনা করে আল্লাহ তায়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে, বিগলিত চিত্তে দোয়া করার জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল সহকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
সেই সাথে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা ইতোমধ্যে ইন্তিকাল করেছেন তাদেরকে শহীদি মর্যাদা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করছি।

মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০

আমাদের ঈদ আজ কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে বন্দী।

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আমার হৃদস্পন্দন, আমার ভাললাগা-ভালবাসা, আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হাফিজাহুল্লাহ'র সাথে সাক্ষাত করতে পারছিনা আজ ২ মাস ১৬ দিন। শেষবার যখন আব্বার সাথে সাক্ষাতে গিয়েছিলাম সেবারও আমাদেরকে দেখা করতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ, গেট থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিল আমাদেরকে।
জানিনা বর্তমানে করোনার এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আমার ৮১ বছর বয়স্ক অসুস্থ আব্বা কেমন আছেন আর কীভাবেই বা আছেন? কোন রকমের কোন যোগাযোগই করতে পারছিনা।
গতকাল কারা ফটকের টিএন্ডটি নম্বরে ফোন দিয়েছিলাম ঈদ উপলক্ষে পরিবারের ২/১ জনকে সাক্ষাতের অনুমতি দেবে কিনা তা জানার জন্য। ফোন রিসিভকারী ব্যাক্তি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কঠিন ভাষায় জানিয়ে দিলেন, 'সাক্ষাত হবেনা।' আমি বললাম, 'পত্রিকায় দেখতে পেলাম সরকার কারা বন্দীদেরকে ২/৪ মিনিট তার স্বজনদের সাথে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে। সাক্ষাত যদি নাও হয় তবে অন্ততঃ আমাদেরকে ২/৪ মিনিট মোবাইলে কথা বলার সুযোগ করে দিন।' ওপাশ থেকে উত্তর এলো, 'এ সুযোগ সাধারণ হাজতী বা কয়েদীদের জন্য, দাঙ্গাবাজ কোনো আসামীর জন্য নয়।'
কান থেকে ফোন সরিয়ে নিলাম। নতুন করে জানলাম, কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদী সরকারের দৃষ্টিতে শুধু যুদ্ধপরাধীই (!) নন, ভয়ংকর দাঙ্গাবাজও (!) বটে। চোখের পানি মুছলাম। আকাশ পানে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে আমার যা বলার তা বলে দিয়েছি।
আমার মনে পড়ছে আজ থেকে ১০ বছর আগের কথা। ২০১০ সালের ২৯ জুন আমাদের শহীদবাগের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আমার আব্বা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের হাস্যকর এক মামলায় গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। সেই থেকে কেটে গেছে ১০টি বছর। একে একে হারিয়ে গেছে আমাদের জীবন থেকে ২০টি ঈদ।
যে মানুষটি বিগত ৫০টি বছর ধরে বিশ্বব্যাপি বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি জনপদের মানুষকে কোরআনের দাওয়াত দিয়েছেন, মানুষকে কোরআনের পথে আহবান করেছেন সেই তিনিই নাকি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করেছেন !!
ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের মামলায় গ্রেফতারের পরপরই কথিত যুদ্ধাপরাধসহ আওয়ামী সরকার তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের জন্য আমার আব্বার বিরুদ্ধে -
•• রমনা থানায় গাড়ি ভাংচুর, গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের কাজে বাঁধা দেয়ার কথিত অভিযোগে (!) ২টি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় আবার জিজ্ঞাসাবাদের নামে আব্বাকে ডিবি অফিসে ৩ দিন রিমান্ডেও নিয়েছিল।
•• রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে (!) উত্তরা মডেল থানায় ১টি মামলা দায়ের করে। এই মামলাতেও জিজ্ঞাসাবাদের নামে আব্বাকে রমনা থানায় ৩ দিন রিমান্ডে নিয়েছিল।
•• পল্টন মডেল থানায় গাড়ি ভাংচুর, গাড়ি পোড়ানো, পুলিশের কাজে বাঁধা ও রাষ্ট্রপতির (তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান) গাড়ি বহরে হামলার হাস্যকর অভিযোগে (!) ৩টি মামলা দায়ের করে। হাস্যকর এইসব মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমার আব্বাকে ডিবি অফিসে প্রতিটি মামলায় ৩ দিন করে মোট ৯ দিন রিমান্ডে নিয়েছিল।
•• শেরেবাংলা নগর থানায় যাকাতের ৫ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগে (!) ১টি মামলা
•• কদমতলী থানায় পেট্রোল বোমা ও ককটেল বানানোর হাস্যকর অভিযোগে (!) ১টি মামলা দায়ের করে। এবং এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে আব্বাকে রমনা থানায় ৩ দিন রিমান্ডে নিয়েছিল।
•• রাজশাহীর মতিহার থানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যার কথিত অভিযোগে (!) ১টি হত্যা মামলা
•• জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ২ লক্ষ টাকার আয়কর ফাঁকির হাস্যকর অভিযোগে (!) ১টি মামলা এবং
•• পিরোজপুরে অর্থের প্রলোভন ও ভীতিপ্রদর্শন করে ২টি কল্পিত যুদ্ধাপরাধের মামলা
•• পিরোজপুরের নাজিরপুরে আওয়ামীলীগের অফিসে রক্ষিত প্রধানমন্ত্রী ও তার পিতার ছবি ভাংচুরের (!!) অভিযোগসহ মোট ১৩টি মামলা দায়ের করে আওয়ামী সরকার।
এইসব কল্পিত অভিযোগ আর মিথ্যা মামলায় আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বাকে টানা ৪১ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়। এছাড়া সরকারের সেফ হোমেও তাকে একদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। এভাবে টানা রিমান্ডে নিয়ে আমার আব্বার উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লামা সাঈদীর মতো একজন কোরআনের দা'ঈ ও সিনিয়র রাজনীতিবিদকে এতোদিন রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক ঘটনা।
এখন থেকে ১০ বছর আগে গ্রেফতার হওয়ার সময় আমার আব্বার বয়স ছিল ৭১। এই ৭১ বছরের মধ্যে আমার আব্বার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন থানায় কোন মামলা তো বহুদূরের কথা সামান্য একটি জিডিও তার বিরুদ্ধে কোন বিষয়েই ছিলনা।
কিন্তু কি আশ্চর্যের বিষয়, জন্মের পর থেকে নিয়ে জীবনের ৭১টি বছরের মধ্যে যার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধেই একটি মামলাও ছিলোনা, সেই তারই বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই আবিস্কার করলো হাজারো অভিযোগ আর দায়ের করলো এক এক করে মোট ১৩টি মামলা !!
আওয়ামী সরকারের রোষানলে কারান্তরীণ অবস্থায়ই আমার আব্বা হারিয়েছেন তার মমতাময়ী প্রিয় মা গুলনাহার ইউসুফ সাঈদী, ছোট ভাই হুমায়ুন কবির সাঈদী এবং কলিজার টুকরা বড় সন্তান রাফীক বিন সাঈদীকে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে একই মাঠে সন্তান হয়ে মায়ের এবং পিতা হয়ে পুত্রের নামাজের জানাজা পড়ানোর মতো দুঃসহ যন্ত্রনা সইতে হয়েছে আমার আব্বাকে। শুধু তাই নয়, মা কিংবা সন্তানের লাশের পাশে এমনকি স্বজনদের সাথেও ব্যাথা ভোলার জন্য সামান্য কিছু সময়ও তাকে কাটাতে দেয়া হয়নি। জানাজা শেষেই মাঠ থেকে আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কারাগারে। আর ছোট ভাই হুমায়ুন কবির সাঈদীর নামাজে জানাজায় তো অংশগ্রহণই করতে দেয়নি আওয়ামী সরকার!!
আমি প্রায়ই একাকী বসে ভাবি ..
আহ্! কী অব্যক্ত বেদনাময় সময়-ই না কাটিয়েছেন আমার আব্বা তখন !!
আমার প্রানপ্রিয় আব্বার বয়স এখন ৮১ চলছে। নানারকম শারিরীক অসুস্থতা নিয়ে কারাগারে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। চিকিৎসার অভাবে হাঁটু ও কোমড়ের ব্যথার তীব্রতা প্রতিদিন বাড়ছেই। ৩৯ বছরের ডায়াবেটিক আর হার্টের সমস্যা তো তার নিত্যদিনের সঙ্গী। শারিরীক অসুস্থতার কারনে আব্বা কারো সহযোগিতা ছাড়া একাকী হাটাচলা করতে পারেন না। দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন না। এমনকি শোয়া অবস্থা থেকে বিছানা থেকে উঠতে গেলেও কারো না কারো সহযোগিতা নিয়ে উঠতে হয়।
এমন একটি অবস্থায় আব্বার শারিরীক অবস্থা নিয়ে আমরা সবসময়ই দুঃশ্চিন্তায় থাকি। এর মধ্যে এখন আবার নতুন করে যোগ হয়েছে করোনা নিয়ে উদ্বেগ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের লক্ষ কোটি মানুষ অসুস্থতা, বয়স ও মানবিক বিবেচনায় সরকারের নিকট আল্লামা সাঈদীর মুক্তি দাবি করে যাচ্ছে কিন্তু 'মানবতার ঠিকাদার' এই সরকার কোটি মানুষের এই মানবিক দাবিটি পূরণে আন্তরিক তো নয়ই, উল্টো গত আড়াই মাস ধরে আব্বার সাথে আমাদের সাক্ষাত বন্ধ করে রেখেছে।
আব্বাকে কারাগারে রেখে এটি আমাদের ২১তম ঈদ। আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা কারাগারে থাকা অবস্থাতেই আমরা হারালাম কলিজার টুকরা বড় ভাইকে, হারালাম ছোট চাচাকে, তেমনি হারিয়েছি প্রিয় দাদীকেও।
আমাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ বলতে এখন আর কিছুই নেই। আমাদের ঈদ আজ কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি।আমাদের ঈদ আনন্দ এখন আমরা খুঁজে বেড়াই অতীত স্মৃতির মাঝে। চারপাশের মানুষের ঈদের আনন্দ দেখে আজকাল মাঝে মধ্যে বড় ঈর্ষা হয় আমার। আহারে! এই ঈদ আনন্দ এক সময় আমাদেরো তো ছিল ! সরকার আমাদের এই আনন্দটুকুনও কেড়ে নিয়েছে।
Masood Sayedee - মাসুদ সাঈদী

সোমবার, ২৫ মে, ২০২০

চান্দগাঁও জামায়াতের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওবাসী সহ সবার প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী মজলিসে শুরা সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমীর  ও সেক্রেটারি ।
এক যৌথবার্তায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে খুশীর সওগাত নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। ঈদুল ফিতর হলো মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার সমাপনী অনুষ্ঠান। এ পবিত্র রমযান মাসেই আল্লাহ মানবজাতির হেদায়াতের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। রমযানের দাবি হলো কুরআনের আলোকে একটি তাকওয়া ভিত্তিক ইসলামী সমাজ কায়েম করা। রাসূল (সাঃ) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার আদলে একটি ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষ সেখানে সত্যিকার অর্থে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সক্ষম হবে। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা ও ঈদুল ফিতর আমাদেরকে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে উদ্বুদ্ধ করে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতি ভাইরাস কোভিড-১৯ বা করোনার ভয়াবহ সংক্রমণে মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সেই মুহূর্তে পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের দ্বারে সমাগত। এমতাবস্থায় আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সর্বস্তরের জনশক্তিসহ সবার প্রতি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, ঈদ মোবারক।
শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ঈদ মুসলমানদের জীবনে নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ। আমাদের জাতীয় জীবনেও ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। ঈদের উৎসবে মুসলিম উম্মাহ শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত বিশ্ব গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করে। ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করতে দেশের দুঃস্থ, দরিদ্র ও সঙ্গতিহীন মানুষের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সমাজের বিত্তবান মানুষরা ঈদের আনন্দকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন বলেও নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেইসাথে ঈদের সালাত আদায় ও ঈদ উদযাপনে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব নির্দেশিকা মেনে চলার জন্য সকলকে আহবান জানান।

দুঃস্থদের সাথে আমীরে জামায়াতের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর ও শেরে বাংলা নগরে শনিবার পৃথক দুই অনুষ্ঠানে দুঃস্থদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এসময় তিনি তাদের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেন।
উভয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বিএনপি'র মহানগরী উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মিরপুর থানা সভাপতি আব্দুল আলী আব্দুল এবং যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম নুরু।
আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মিরপুর পূর্ব থানা আমীর শাহ আলম তুহিন, থানা শুরা সদস্য মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, টিপু সুলতান এবং শেরে বাংলা নগর উত্তর থানা আমীর আব্দুল আউয়াল আজম, থানা শুরা সদস্য আজিজুর রহমান তরুন, অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম প্রমুখ।
করোনা পরিস্থিতির নাজুকতার মধ্যে আয়-রোজগার না থাকায় যারা কষ্টে আছেন তাদের প্রতি আমীরে জামায়াত সহমর্মিতা জানান। তিনি বলেন, ক্ষুধার জালা বড়ই কষ্টের। তারপরও এ অবস্থাতে আমরা যদি নৈতিক থাকতে পারি কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ নিশ্চয় এর উত্তম প্রতিদান দেবেন।
আমীরে জামায়াত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, হাদীসে এসেছে জান্নাতে ধনীদের তুলনায় গরীবদের সংখ্যা হবে বেশি। তাই ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা চালাতে হবে, কিন্তু ধৈর্য হারিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে জান্নাত হারানো যাবে না।
তিনি বলেন, গরীবের চেয়ে ধনীদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বেশি। তাদেরকে যাকাত, উশর ও ফেতরা আদায় করতে হয়; সদকা দিতে হয়। এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে কেয়ামতের দিন কঠিন আযাবের সম্মুখীন হওয়া লাগবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, করোনা পরিস্থিতি ধনী গরীব সবার জন্য পরীক্ষা। আলহামদুলিল্লাহ ধনী-গরীব উভয় মহলেই ধৈর্যশীল ভাইবোনদের দেখা পেয়েছি। সীমিত সামর্থের মধ্যেও অনেকে আন্তরিকভাবে এই সংকটকালীন মুহুর্তে এগিয়ে এসেছেন। সহসা এ পরিস্থিতি উত্তরণের সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় সহযোগিতার মনোভাব আমাদেরকে অব্যাহত রাখতে হবে।
করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ক্ষমতাসীন সরকারের বলে মন্তব্য করেন তিনি। দৃঢ়তার সাথে বলেন, সংকটকালীন সময়ে প্রত্যেকের তৎপরতার একদিন মূল্যায়ন হবে ইনশাআল্লাহ।
আজকের আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরসহ সারাদেশে জামায়াতে ইসলামী মানবিক সাহায্য তৎপরতা চালিয়ে আসছে। মাবুদের কাছে আরজ করি তিনি যেনো এ ধরণের কাজে জামায়াতে ইসলামীকে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার তৌফিক দেন।