ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১ ।

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০১৫

লন্ডনে সাংবাদিকদের নিয়ে তারেক রহমানের ইফতার ও আড্ডা

২০০৭ সালে লন্ডনে আসার পর প্রথমবারের শুধুমাত্র সাংবাদিকদের সাথে বসলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ইফতার পূর্ব আলোচনা সভা, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ইফতারের পরে ঘন্টাখানিক চলে আড্ডা। এসময় তারেক রহমানকে সাংবাদিকদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে হয় তেমনি প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে চমৎকার আড্ডায় জমিয়ে রাখেন তারেক রহমান। আলোচনা ও প্রশ্নত্তর পর্বে তারেক রহমান যেমন বর্তমান সরকারকে অবৈধ বলে সমালোচনা করেন তেমনি ভবিষ্যতেরও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসময় তিনি অনেক সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করতেও দেখা যায়। 
বৃহস্পতিবার লন্ডনের সোনারগাঁও রেষ্টুরেন্টে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করে যুক্তরাজ্য বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তারেক রহমান।
২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন চলে আসেন তারেক রহমান। তখন থেকে পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন।
ইফতার মাহফিলে লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক-সম্পাদকগন এতে উপস্থিত ছিলেন । বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, মাহিদুর রহমান,যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সাধারন সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, সাবেক সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এ সালাম প্রমুখ।
আলোচনা সভায় তারেক রহমান বলেন, সত্যকে কখনো ঢেকে  রাখা যায় না। হয়ত কিছুক্ষন মানুষকে বোকা বানানো যায় তারপর আর নয়।
তিনি দেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, আমার প্রতি ও আমার দলের প্রতি অনেক অবিচার হয়েছে। দেশে আজ মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তিনি সাংবাদিক সাগর রুনির হত্যার প্রসংঙ্গ তুলে ধরেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ব্রিটেনের মত ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম গড়ে তুলবেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফরে ডিম, জুতা নিক্ষেপ করে দেশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন করা হয়ছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী যখন ভোট ডাকাতি করে তখনও দেশের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হয়।
ইফতার পর্ব শেষে তারেক বেশ কিছুক্ষন সাংবাদিকের সাথে চা পর্বে আড্ডায় মেতে উঠেন। এসময়ও অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন এবং বিএনপির ভবিষ্য পরিকল্পনা জানার চেষ্টা করেন। এসব অনেক প্রশ্ন কর্তাকে তারেক রহমান পাল্টা প্রশ্ন করেন।
এসময় স্থানীয় এক সাংবাদিক জামায়াতের সাথে তারেক রহমান কিংবা দলের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মিডিয়ার সৃষ্টি । মিডিয়া অনেক কিছু লেখে। আজ পর্যন্ত আমি কিংবা আমার দলের পক্ষ থেকে এমন কোন বক্তব্য আসেনি। তিনি বলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেছেন জামায়াতের সাথে আগের মতই জোটগত ভাবে আমরা আছি। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসংঙ্গে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে বিচার হলে সবার মত আমরাও মেনে নিতাম। দেশে আইনের শাসন অনুপস্থিত। রাজনৈতিক কারনে অনেককেই ফাঁসি দেয়া হচ্ছে।
ইফতার মাহফিলে প্রায় ২শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য সাংবাদিক গন হচ্ছেন| লন্ডন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক কেএম আবু তাহের চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক শাহ ইউসুফ, জনমতের প্রধান সম্পাদক নাহাস পাশা, নিউজ এডিটর মুসলেহ উদ্দিন, সায়েম চৌধুরী, চ্যানেল আই ইউরোপের ম্যানেজিং ডায়রেক্টর রেজা আহমদ ফয়ছল চৌধুরী সুয়েব, সুরমার পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, নিউজ এডিটর আব্দুল কাইয়ুম, সাবেক সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, বাংলা পোষ্ট ব্যারিষ্টার তারেক রহমান, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহিব চৌধুুরী, সাংবাদিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক শেখ মোজাম্মেল হোসেন কামাল, সময় নিউজ এর সাঈদ চৌধুরী, দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, চ্যানেল এস এর চিফ রিপোর্টার মোহাম্মদ জুবায়ের, এক্সিকিউটিব এডিটর সালেহ শিবলী, এটিএন বাংলা মোস্তাক আলী বাবুল, লন্ডন বিডিনিউজ২৪ এর চিফ এডিটর কামাল মেহিদী, সম্পাদক জাকির হোসেন কয়েছ, চ্যানেল এস এর সিনিয়র রিপোর্টার ইব্রাহিম খলিল, বেতার বাংলার সিইও নাজিম চৌধুরী, নিউজ এডিটর সৈয়দ শাহ সেলিম আহমদ, সাপ্তাহিক পত্রিকার মতিউর রহমান চৌধুরী, সাপ্তাহিক বাংলা মিররের সম্পাদক আব্দুল করিম গনি, একাত্তর টিভির লন্ডন প্রতিনিধি তানভির আহমদ, ইকরা টিভির অনুষ্ঠান প্রধান হাসান হাফিজুর রহমান, দর্পন সম্পাদক রহমত আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিন যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি আ স ম মাসুম, বাংলা সংলাপ মোশাহিদ আলী, বাংলা নিউজ এর সম্পাদক সুয়েব কবির, দ্যা গ্লোবাল নিউজ২৪ এডিটর নাজমুল হুসাইন, লন্ডন বাংলা কলামিস্ট এনাম চৌধুরী সহ অনেক সাংবাদিকবৃন্দ ৷ যুক্তরাজ্য বিএনপির মিডিয়া সেল এর তাজ উদ্দিন, আক্তার হোসেন, ড. মুজিবুর রহমান, নাজমুল হোসেন জাহিদ, ব্যারিস্টার জোহা, আক্তার মাহমুদ। এছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আলহাজ্ব তৈমুছ আলী, উপদেষ্টা মুজিবুর রহমান মুজিব, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী, তাজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা কামাল আহমদ, মাহতাব হোসেন, খছরুজ্জামান খছরু, আব্দুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নাসির আহমদ শাহীন, সচিব আবুল হোসেন, যুবদল আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ।

পারিবারিক দোয়া অনুষ্ঠানে পুলিশের অভিযান: ১৩ মহিলাসহ ১৬ রোজাদার আটক


শীর্ষ নিউজ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায়  পারিবারিক দোয়ার অনুষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৬ পুরুষ ও মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ১৩ জন মহিলা ও তিন পুরুষ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার আবুল হাসান গাজী বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃত মহিলারা  হলেন-  শহরের মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের স্ত্রী তাহেরা খাতুন, কালিগঞ্জের রঘুনাথপুর গ্রামের আরশাদ আলির স্ত্রী জোবেদা খাতুন, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের শহিদুলের স্ত্রী ফজিলা খাতুন, মাদ্রাসাপাড়ার ইলিয়াস আলির স্ত্রী সেলিনা খাতুন, রমজান আলির স্ত্রী রেশমা খাতুন, বাবুর স্ত্রী সানজিদা খাতুন, আবদুল জলিলের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, টুটুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম, মোকছেদ আলির স্ত্রী হাসিয়া খাতুন, আলাউদ্দিনের স্ত্রী সালমা বেগম ও আবদুল মতিনের স্ত্রী শাহিদা খাতুন।
পুরুষদের মধ্যে আটকৃতরা হলেন- বাড়ির মালিক আবুল হাসানের ভাই বাবলু, তাদের আত্মীয় কিয়ামুদ্দি ও লুৎফর রহমান।
বাড়ির মালিক আবুল হাসান জানান, প্রত্যেক বছরের ন্যায় এবারও রমজান মাসে তাদের আত্মীয়-স্বজনের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বাড়িতে দোয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল থেকে পাড়ার কয়েকশ লোকজন দোয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শেষে অনেকে চলে যায়। এসময় পুলিশ এসে বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তাদের ১৬ আত্মীয়-স্বজনকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ।
সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা জানান, মহিলা জামায়াতের কোন ইফতার মাহফিল আজ ছিল না। পুলিশ যাদেরকে মহিলা জামায়াতের কর্মী হিসেবে দাবি করছে তারা সাধারণ জনগণ। জামায়াতের কোন রোকন এই দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলনা।
সাতক্ষীরা সদর থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ বলেন, তারা ওই বাসায় বসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের কাছ থেকেই ৪টি ককটেল পাওয়া যায়। এছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতার কাগজপত্রও উদ্ধার করা হয় ।
তিনি আরো জানান, গোপন সূত্রে তার কাছে খবর আসে যে ‘মহিলা জামায়াতের একদল নারী কর্মী শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার মাদ্রাসা পাড়ার ফজলুল হকের বাড়িতে গোপন মিটিংয়ে মিলিত হয়েছেন’। তিনি জানান উপপরিদর্শক সেলিম রেজাসহ কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে নিয়ে দ্রুত তিনি ওই বাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরে তাদেরকে আটক করা হয়।


বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫

চকরিয়ায় জামায়াতের ত্রাণ বিতরণ: বন্যা দুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা মানবিক দায়িত্ব


জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, বন্যা দুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তশালী ব্যক্তি ও মহলের এগিয়ে আসা নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, মানবেতন জীবন যাপন করা অসহায় মানুষগুলোর আর কোন দুয়ার নেই যে; বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর্তি জানানোর। সেই মানুষগুলো আজ অনাহারে অর্ধাহারে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে। রোযা রাখছে পানি খেয়ে। একটু সহযোগিতার দিকে চেয়ে আছে উপবাসে থাকা নারী-পুরুষ ও নিষ্পাপ শিশুগুলো। 
তিনি আরো বলেন, দলমত নির্বিশেষে তাদের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক ও মানবিক কর্তব্য। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুর্গত মানুষের সহায়তায় মানবতার কল্যাণে সেই কাজটি করে যাচ্ছে। তিনি বিত্তবানদের সাধ্যমতো যে যার অবস্থান থেকে বন্যা কবলিত গরীব, দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসার আহবান জানান। 
গতকাল রোববার পৌরসভা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আরিফুল কবিরের সভাপতিত্বে পৌর এলাকার বেশ’কয়েকটি স্থানে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এসব ত্রাণ বিতরণকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কক্সবাজার জেলা আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। 
এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা কুতুব উদ্দিন হেলালী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জামাল হোছাইন নূরী, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আজহারুল ইসলাম, জামায়াত নেতা রাসেল, আবদুল্লাহ বাহাদুর, শ্রমিক নেতা শওকত আলম প্রমুখ।
একইদিন লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন কক্সবাজার জেলার আমীর মুহাম্মদ শাহজাহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা উত্তর আমীর মাওলানা ছাবের আহমদ ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কাইছার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

চোখের সামনে আগামীর প্রজন্ম অসভ্য ও বর্বর হতে দেয়া যায় না: আবদুল জববার


ধর্ম-টর্ম মানিনা, মাদ্রাসা-টাদ্রাসা বন্ধ করে দাও; ঘর-সংসার মানিনা; লিভ টুগেদার চালু চাই। সমকামী বিয়ের বৈধতা চাই, ইসলামী রাজনীতি বন্ধ চাই, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা চাই, "মুক্তমনা" চালু চাই!!!
উপরোক্ত "শ্লোগান" গুলো কথিত মুক্তমনাদের নিয়মিত বক্তব্য- বিবৃতি, লেখনীতে শ্লোগানে পরিণত হয়েছে। তসলিম নাসরিন, সালমান রুশদী, লতিফ সিদ্দিকী ও তার দোসররা মানুষের জীবন প্রকৃতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে হীন নিচু প্রকৃতির রসম চালু করে বিশ্বব্যাপী কিছু অমানুষ সৃষ্টি করতে চায়।
যেসব নিচুতার ধারা চালু হলে মানুষ আত্মমর্যাদা ভুলে যায়, কুকুরের স্বভাব লাভ করে, লাজ-লজ্জা বলে কিছু থাকেনা। এতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসার বন্ধন তৈরী ও দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সৃষ্টি হয় জিঘাংসা, সংকীর্ণতা, লোভ এবং সৃষ্টির পরিবর্তে ভাঙ্গন!
দিন দিন এমন কুচক্রিবাজদের সংখ্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সভ্যতাকে বিকৃত অসভ্য আঘাত দিয়ে এরা আলোচনায় আসতে চায়। এতে এরা কোন কোন মহলের করুণার পাত্রও হয়। এরা এদের আপন ভুবন তৈরী করতে চায়!
সুস্থ বিবেক মাত্রই সত্য ও সুন্দরের পক্ষে। কেউ ইচ্ছে করলে ধর্ম-জীবন প্রত্যাখ্যান করে পশুর মত চলতে পারে। কিন্তু তাদের পশু সুলভ আচরণের ব্যাপ্তি মানব জীবনে ছড়িয়ে দেবে তা কখনো বরদাস্ত করা যায়না।
তাদের অসভ্যতা আমাদের সুখী পরিবারে ভাঙ্গন ধরাচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রতা ছড়িয়ে দিচ্ছে, বেহায়াপনা ও যৌন নিপীড়ন সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, ধর্মকে জঙ্গি মদদ দাতার মঞ্চে দাড় করানো হয়েছে, মা-বাবা সমাজ সংসারকে বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করে অধিক পরিমানে বৃদ্ধাশ্রম তৈরীতে মদদ দিচ্ছে। বিবাহ প্রথা ভেঙ্গে লিভ টুগেদারের নামে অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে! এরা সমাজের কীট নয়ত বা কী!!
এরা অবুঝ। বিবেকহীন। আপনার সন্তান যদি পাঁচ তলা ভবনের ছাদের উপর থেকে লাফ দিতে চায় তখন কি লাফ দিতে দিবেন? নিশ্চয় যে কোন মূল্যে বাঁচাতে চাইবেন। কারণ আপনি আপনার সন্তানকে ভালবাসেন, তার এত বড় ক্ষতি কোনো ভাবেই চাইবেন না। আমরা আল্লাহকে ভালবাসি, ইসলামকে ভালবাসি, সমাজ-সংসারকে ভালবাসি। আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে ভালবাসি। কারো হঠকারীতার কারণে সব ভিন্ন পথে মোড় নেবে তা কি করে হয়?
আগামী প্রজন্ম আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ফুলে ফলে সাজানো বাগান কিছু দুষ্কৃতিকারী এসে তছনছ করে দিবে এটা কখনো হতে পারেনা। এদের অনাচারকে রুখে দিতে হবে। আসুন সবাই একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।
লেখক: কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

২৫ জুলাই নতুন ভোটার তালিকার হালনাগাদ

১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহসহ সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম ২০১৫-১৬ আগামী ২৫ জুলাই শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রথমে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণকারী সব নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ৩ পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট, দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট এবং তৃতীয় পর্যায়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। তিনি জানান, নাগরিকদের নিবন্ধন কার্যক্রম হবে দুই স্তরে। এর মধ্যে প্রথম স্তরে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পূর্বে জন্মগ্রহণকারী নাগরিকের নিবন্ধন হবে তিন পর্যায়ে।
প্রথম পর্যায়ে ১১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর এবং তৃতীয় পর্যায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর। নিবন্ধনের দ্বিতীয় স্তরে ১৯৯৮ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত জন্মগ্রহণকারী নাগরিকের নিবন্ধনও হবে তিন পর্যায়ে। প্রথম পর্যায় ২২ অক্টোবর থেকে ২ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ এবং ১৫ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায় হবে বলে জানান ইসি সচিব। সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ৫ হাজার ৪০০ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৬১ হাজার ৮০০ জনবল এ কাজে নিযুক্ত থাকবে। ২০০ টিমের মাধ্যমে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৫০ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করবে। পুরো হালনাগাদ কার্যক্রম দেখাশুনা করবে ১০ হাজার সুপারভাইজার।
হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয় ভোটারদের সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য। আপনারা যারা এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন তারা নির্ভুল, সঠিক ঠিকানা ও তথ্য প্রদান করবেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। যা আপনার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, এ হালনাগাদ কার্যক্রমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ৭২ লাখ নাগরিকের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসি যুগ্ম সচিব জেসমীন টুলী, গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।  ঢাকার নিউজের সৌজন্যে

প্রতিদিন মাত্র ৫টি খেজুর খাওয়া রোধ করবে ১০ টি শারীরিক সমস্যা!

রমজান মাস ছাড়া আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া একটু কমই হয়ে থাকে। রোজা রাখার সাথে খেজুরের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে বছরের অন্যান্য সময়ে আমরা অনেকেই খেজুর খাই না। কিন্তু অসাধারণ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুর আমাদের শারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকরী। একেক শারীরিক সমস্যার জন্য একেক পরিমাণের খেজুর প্রতিদিন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আর তাই গড়ে প্রত্যেকের দিনে ৫টি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রাখা উচিত, এতে করে ১০ ধরণের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১) হৃদপিন্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গবেষণায় দেখা যায়, পুরো রাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ার অভ্যাস হার্টের রোগীর সুস্থতায় কাজ করে।
২) খুব দুর্বল লাগছে, দেহে এনার্জির অভাববোধ করছেন, তাহলে ঝটপট খেয়ে নিন খেজুর। তাৎক্ষণিকভাবে দেহে এনার্জি সরবরাহের ক্ষেত্রে খেজুরের তুলনা নেই।Crystal-Honey-Dates
৩) গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস আমাদের দেহের ইন্টেস্টাইনের ভেতর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো প্যাথলজিক্যাল অর্গানিজমের উৎপাদন বৃদ্ধি করে যা ইন্টেস্টাইনের নানা সমস্যা দূর করে।
৪) খেজুর ল্যাক্সাটিভ ধরণের খাবার। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তারা খুব সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাসের মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।
৫) গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাবডোমিনাল ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে খেজুরের।dates
৬) খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার ও বিভিন্ন ধরণের অ্যামিনো অ্যাসিড যা সহজে খাবার হজমে সহায়তা করে। এতে করে খাবার হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
৭) খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব অল্প পরিমাণে সোডিয়াম। এতে করে প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের খারাপ কলেস্টোরল কমায় এবং ভালো কলেস্টোরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা কমায়।1
৮) খেজুর দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক। এবং প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রাতকানা রোগ ভালো করতেও সাহায্য করে থাকে।
৯) খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। যাদের এই রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
১০) একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস মাত্র ৪ সপ্তাহের মধ্যে লিপিডের কোয়ালিটি উন্নত করতে সহায়তা করে দেহের সুগারের মাত্রা বাড়ানো ছাড়াই।  সংগ্রীহিত

ইফতার মাহফিল থেকে জামায়াত নেতা সহ রোজাদারদের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা


ইফতারীর পূর্ব মুহূর্তে ইফতার মাহফিল থেকে জামায়াত নেতা জনাব জাহিদুর রহমানসহ ২৫ জন রোজাদারকে গ্রেফতার, ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল থানা জামায়াতের আমীর জনাব মোঃ কামালকে গ্রেফতার করে ১ দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়ার এবং টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল পুলিশ কর্তৃক বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান আজ ১ জুলাই নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-
“গত ৩০ জুন ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মাদপুরে একটি রেস্তোরায় আয়োজিত ইফতার মাহফিল থেকে ইফতারীর পূর্ব মুহূর্তে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতা জনাব জাহিদুর রহমানসহ ২৫ জন রোজাদারকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল থানা জামায়াতের আমীর জনাব মোঃ কামালকে গত ৩০ জুন রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে আজ ১ জুলাই ১ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে। গত ৩০ জুন টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলা জামায়াত কর্তৃক আয়োজিত ইফতার মাহফিলে পুলিশ বাধা দিয়ে ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে। জামায়াত নেতা জাহিদুর রহমানসহ ২৫ জন রোজাদারকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা এবং ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল থানা জামায়াতের আমীর জনাব মোঃ কামালকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে ১ দিনের জন্য রিমান্ডে নেয়ার এবং টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলা জামায়াতের ইফতার মাহফিলে পুলিশ বাধা দিয়ে ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দেয়ার ন্যক্কারজনক ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 
এ পবিত্র রমযান মাসে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে ও রিমান্ডে নিয়ে এবং টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দিয়ে সরকার রমযানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন করেছে। এ সব ঘটনার মাধ্যমে সরকারের ইসলাম বিরোধী ফ্যাসিবাদী চরিত্রই অত্যন্ত নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের এ ধরনের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। 
ঢাকা মহানগরী জামায়াতের নেতা জনাব জাহিদুর রহমান, ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল থানা জামায়াতের আমীর জনাব মোঃ কামালসহ সারাদেশে জামায়াতের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি প্রদান এবং ইফতার মাহফিল বন্ধ করে দেয়ার মত ন্যক্কারজনক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

বুধবার, ১ জুলাই, ২০১৫

১৭ রমজান বদরের যুদ্ধ দিবস : সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক

মোহাম্মদ ইব্রাহীম

বদরের যুদ্ধের গুরুত্ব 


আজকের আলোচনাটি সাদামাটাভাবে করা, সম্মানিত পাঠকও সাদামাটাভাবে গ্রহণ করবেন বলে আশা করি। একজন গবেষক হিসেবে লিখিনি এবং গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যালোচনা না করার অনুরোধ করছি। যেহেতু ঐতিহাসিক ঘটনা এবং পবিত্র কুরআন কর্তৃক সমর্থিত, তাই ভুলভ্রান্তি না হওয়াই উচিত। এতদসত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত ছোটখাটো ভুলত্রুটি পাঠকদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রাখছি।
ইতিহাসে যতগুলো যুদ্ধ মুসলমানদের সাথে বিভিন্ন সম্প্রদায় বা জাতিগোষ্ঠীর কিংবা বিধর্মীদের সাথে সংঘটিত হয়েছে, তার মধ্যে বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বদরের যুদ্ধের তাৎপর্য ঐতিহাসিক। এ যুদ্ধটি ছিল ইতিহাস নির্ধারণকারী একটি লড়াই। বদরের যুদ্ধে যদি মুসলমানেরা পরাজিত হতেন, তাহলে দ্বীন ইসলামে মহান আল্লাহকে ডাকার মতো কোনো লোক এই পৃথিবীতে থাকত কি না তা কেবল সেই মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারো জানা ছিল না। শত্রুদের দৃষ্টিতে বদরের যুদ্ধ ছিল, সবে চারা গজাচ্ছে- সেই ইসলাম ধর্ম নামক অঙ্কুরকে আল্লাহর জমিন থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার যুদ্ধ। বদরের যুদ্ধের অপর একটি তাৎপর্য হলো, দ্বীন ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সা:কে একজন সেনাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। বদরের যুদ্ধের তৃতীয় তাৎপর্য হলো, মহান আল্লাহ তায়ালা অনেকটাই অদৃশ্যমানভাবে তাঁর প্রিয় বান্দাদের বিপদে কিভাবে সাহায্য করেন, তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই যুদ্ধে বিদ্যমান।

‘বদর’ নামক স্থানের পরিচিতি

বদরের যুদ্ধ হয়েছিল হিজরি দ্বিতীয় সালের ১৭ রমজান; আজ থেকে কয়েক দিন পর ১৭ রমজান আমাদের কাছে উপস্থিত হবে সেই বদরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে। আশা ও প্রার্র্থনা করব মুসলিম সমাজের কাছে, ১৭ রমজান আপনারা বদরের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করবেন, দোয়া করবেন এবং সেসব শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করবেন, যারা এই যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন দ্বীন ইসলামকে আল্লাহর জমিনে টিকিয়ে রাখার জন্য। বদর একটি জায়গার নাম। মক্কা শরিফ থেকে কিছুটা উত্তরে, মদিনা শরিফ থেকে কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে। প্রায় চৌদ্দ শ’ একত্রিশ কিংবা বত্রিশ বছর আগে ওই আমলের আরব দেশে মক্কা নগরীর কুরাইশদের সাথে যে বাণিজ্য হতো, সেই বাণিজ্যের কাফেলাগুলো চলাচল করার যে পথ ছিল, সেটি ‘বদর’ নামক জায়গার পাশ দিয়েই যেত।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট : মক্কাবাসীর চিন্তা

মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে চলে এলেন। তারপর মদিনাতে নতুন একটি নগররাষ্ট্র, নতুন সভ্যতা, সংস্কৃতি, স্বকীয়তা এবং দ্বীন ইসলামের মূল কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে মক্কার কুরাইশরা ঈর্ষান্বিত হলো। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তারা নানা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজতে লাগল। কুরাইশরা চিন্তা করল, আমরা তো সবাই মিলে মক্কায় তাঁকে (মুহাম্মদ সা:) দমন করে রাখতে পেরেছিলাম, কিন্তু এখন মদিনায় গিয়ে তিনি নতুনরূপে বাধাহীনভাবে ইসলাম প্রচার করে চলেছেন । যদি এরূপ অত্যাচার চলতে থাকে আর তার এই সংগ্রাম অগ্রসর হতে থাকে, তাহলে অচিরেই মদিনার মুসলিমগণ মক্কার লোকজনের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অতএব, অঙ্কুরেই তাদের বিনাশ করা প্রয়োজন।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট : মদিনাবাসীর চিন্তা

অপর দিকে, সবেমাত্র জন্ম নেয়া মদিনা নামক নগররাষ্ট্র তথা ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি ক্রমবর্ধমান হলেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা: এবং তার সাথীরা চিন্তা করলেন, আমরা মক্কা থেকে বের হয়ে এসেছি ঠিকই; কিন্তু মক্কার হুমকি থেকে আমরা এখনো মুক্ত হতে পারিনি। আমরা এখনো তেমন শক্তি অর্জন করতে পারিনি। তাই আগে আমাদের শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন এবং আল্লাহর দ্বীনকে তার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে হলে শত্রুদের মোকাবেলা করার কোনো বিকল্প নেই। মোটামুটি এ ধরনের চিন্তাভাবনার পরই মক্কা ও মদিনা- এ দুই শহরকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তা ছাড়া পরোক্ষভাবে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছিল যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করার।

প্রস্তুতি পর্ব

অবশেষে রাসূল সা:-এর নেতৃত্বে মদিনা থেকে মুসলমানদের একটি দল বের হলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মক্কা নগরীর আরবদের বাণিজ্য কাফেলা, যেটা সিরিয়া থেকে ধনসম্পদ নিয়ে মক্কায় ফেরত যাবে তাদের মোকাবেলা এবং তাদের কাছ থেকে কিছু সংগ্রহ করা। সেজন্য তারা চলাচলের রাস্তার পাশে ওঁৎ পেতে ছিলেন। অপর দিকে ধনসম্পদ নিয়ে মক্কা নগরীর ব্যবসায়ীদের কাফেলা সিরিয়া থেকে ফেরত আসার সময় সংবাদ পেল যে, এই পথ ধরে গেলে পথিমধ্যে তাদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে। তাই তারা সবার সিদ্ধান্তক্রমে তাদের গতিপথ একটু পরিবর্তন করে মক্কায় যাওয়ার জন্য নতুন পথ আবিষ্কার করল এবং সেই পথ ব্যবহার করে তারা মক্কার কাছাকাছি চলে গেল। কিন্তু ইতোমধ্যে অন্য একটি ঘটনার উদ্ভব হলো। বাণিজ্য কাফেলার অনুরোধে মক্কা থেকে একদল সৈন্য অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রওনা দিয়েছিল কাফেলাকে এগিয়ে আনার জন্য। মক্কা থেকে উত্তর দিকে যে পথ ধরে বাণিজ্য কাফেলা আসছে সেই পথ ধরে, যাতে পথিমধ্যে বাণিজ্য কাফেলার ওপর কোনো বিপদ-আপদ এলে তারা সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে। কিন্তু বাণিজ্য কাফেলা মদিনার মুসলমানদের দৃষ্টি এড়িয়ে চলে গেল। এমনকি মক্কা থেকে আসা সাহায্যকারী লোকদেরও দৃষ্টির অগোচরে চলে গেল। মক্কা থেকে আগত সাহায্যকারী দল যখন বদর নামক স্থানে এসে অবস্থান করছিল তখন তারা সংবাদ পেল মুসলমানেরা তাদের আশপাশে আছে। মুসলমানেরা বদর নামক স্থানটির কাছেই অবস্থান করছিল। ফলে তারাও জানতে পারল, মক্কা থেকে আগত এবং অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত একদল সৈন্যবাহিনী তাদের পাশেই অবস্থান করছে। যুদ্ধটি চূড়ান্তরূপে দেখা দিলো। বদর নামক স্থানে কাফেররা এক দিকে অবস্থান নিলো, অন্য দিকে মুসলমানেরা অবস্থান নিলো। মুসলমানবাহিনী যে স্থানটিতে অবস্থান নিলো, সেখানে একটি পানির কূপ ছিল; পানি আহরণের জন্য কুয়ায় সহজে যাওয়া যেত। যেহেতু পানির কূপটি মুসলমানদের দখলে, সেহেতু কাফেররা পানির সঙ্কট অনুভব করল। কূপের পাশেই একটি পাহাড়, সেখানে মুসলমানদের সদর দফতর স্থাপন করা হলো। একটি তাঁবুর বন্দোবস্ত করা হলো, সেখানে রাসূলে পাক সা: অবস্থান নিলেন। এলাকাটি ছিল সমতল, কিন্তু তিন দিকে পাহাড়বেষ্টিত।

যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থান ও পরিবেশ

যুদ্ধক্ষেত্রটির অবস্থান ও পরিবেশের বর্ণনা দেয়া অবশ্যই প্রয়োজন। যে স্থানটিতে মুসলমানেরা অবস্থান নিয়েছিলেন, সেখানে সূর্যের তেজ সরাসারি তাদের মুখের ওপর পতিত হয়। কিন্তু কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। মুসলমানেরা যেখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করবেন, সেখানে মাটি একটু নরম, যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। অপর দিকে কাফেররা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে মাটি শক্ত এবং যুদ্ধের জন্য স্থানটি উপযুক্ত। কিন্তু অবস্থান নেয়ার ফলে অবশেষে কী হলো? পাঠক মনে করুন, আমরা সবাই সেই রাত্রিতে অবস্থান করছি! রমজান মাসের ১৬ তারিখ দিনটি শেষ, মাগরিবের পর তারিখ বদলে গেল, অতঃপর ১৭ রমজান শুরু হলো। সেই রাতে উৎকণ্ঠিত মুসলমানেরা এবং উৎকণ্ঠিত কাফেররা নিজ নিজ ক্যাম্পে অবস্থান করছে। সেই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট সিজদায় পড়ে সাহায্য প্রার্থনা করছেন মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ সা:। কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন অনেকটা এ রকম : ‘হে দয়াময় আল্লাহ, আগামীকালের নীতিনির্ধারণী যুদ্ধে তোমার সাহায্য আমাদের অতি প্রয়োজন। এই যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। আর আমরা যদি পরাজিত হই, তোমাকে সিজদা করার কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকার লোক এই পৃথিবীতে আর নাও থাকতে পারে। অতঃপর তুমি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো কী করবে। কারণ, তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মালিক। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে প্রাণপণ য্দ্ধু চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের জীবন তোমার পথে উৎসর্গ করলাম। বিনিময়ে তোমার দ্বীনকে আমরা তোমার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তুমি আমাদেরকে বিজয় দান করো। আমরা তোমার কাছে সাহায্য চাই।’ রাসূল সা:-এর আন্তরিক কাকুতি-মিনতি মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট কবুল হয়ে গেল। হজরত জিব্রাইল আ:-এর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব এলো, সাহায্য আসবে। তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। তোমাদের শিরকে উঁচু করো এবং দৃৃঢ় পদক্ষেপে দাঁড়াও।

ঐশী সাহায্যের একাধিক উদাহরণ

পবিত্র কুরআনের সূরা আনফালের ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা এ ঘোষণাটি দিয়েছেন। ওই রাতে মরুভূমিতে প্রবল বৃষ্টি হলো, যা একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বৃষ্টি মুসলমানদের উপকারে এলো। কারণ, বৃষ্টির কারণে কাফেরদের যুদ্ধের মাঠের শক্ত মাটি কাদায় ভরে পিচ্ছিল হয়ে গেল। অপর দিকে মুসলমানদের যুদ্ধের মাঠ শক্ত হয়ে গেল। বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া শীতল হলো। উৎকণ্ঠিত-উদ্বিগ্ন মুসলমানদের চোখে তন্দ্রাচ্ছন্নভাবে প্রশান্তি এসে যায়। অপর একটি ঘটনা, যেটি মহান আল্লাহ তায়ালা ঘটিয়েছেন, তা হলো- কাফেররা যখন মুসলমানদের ক্যাম্পের দিকে তাকাচ্ছিল, ঠিক তখন কাফেরদের চোখে মুসলমানদের ক্যাম্প অনেক বড় মনে হচ্ছিল। তারা চিন্তায় পড়ে গেল, এত মুসলমান কোত্থেকে এলো! অপরপক্ষে, মুসলমানেরা যখন কাফেরদের ক্যাম্পের দিকে তাকাচ্ছিল, তখন কাফেরদের ক্যাম্প মুসলমানদের চোখে অনেক ছোট মনে হচ্ছিল এবং তারা ভাবতে লাগল, কাফেররা তো তেমন বেশি না; আগামীকালকের যুদ্ধে এদেরকে আমরা পরাজিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ। অতঃপর এমন মনে হচ্ছিল, মুসলমানদের চোখে দেখা দিয়েছিল অন্য এক স্বপ্ন যে, আমরা তাদের সমান সমান। আর এ ধরনের চিন্তা-চেতনা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুসলমানদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিল, যাতে করে মুসলমানেরা তাদের মনোবল হারিয়ে না ফেলেন। দিনের বেলায় যুদ্ধ শুরু হলো। প্রথমে তিনজন করে উভয় পক্ষ থেকে এলো এবং কাফেরদের তিনজনই মৃত্যুবরণ করল। অতঃপর, কথা মোতাবেক উন্মুক্ত প্রান্তরে উন্মুক্তভাবে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই আমলের যুদ্ধের অস্ত্র ছিল তরবারি, তীর-ধনুক, বর্ম, বল্লম ইত্যাদি। মুসলমানেরা প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা তার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মুসলমানদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা পাঠিয়ে দিলেন। সাধারণত ফেরেশতারা মানুষের চোখের অদৃশ্য থাকে। কিন্তু যুদ্ধের পর সাহাবিগণ সাক্ষী দিলেন যে, আমরা মানুষ দেখিনি তথা পরিচালনাকারী দেখিনি, কিন্তু আমরা দেখেছি দীর্ঘ আকৃতির তরবারি, যেগুলো শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করছিল।
আরেকটি পর্যায়ে যুদ্ধ চলাকালে জিব্রাইল আ: এসে মহানবী সা:কে জানালেন, হে আল্লাহর রাসূল। আপনি আপনার হাতে একমুষ্টি ধুলো নিন আর শাহাদাত আঙুল ইশারা করে কাফেরদের দিকে ছুড়ে দিন। রাসূল সা: একমুষ্টি ধুলো তাঁর হাতে নিলেন এবং শত্রুপক্ষের দিকে নিক্ষেপ করলেন। সম্মানিত পাঠকগণ, বিষয়টি আসলেই বিস্ময়ের। আমরা চাইলেই একমুষ্টি ধুলো কিংবা বালু হাতে নিয়ে এ কাজটি করতে পারি। শিশুরা খেলার মাঠে দুষ্টুমিবশত এ কাজটি করে থাকে। কিন্তু চিন্তা করার বিষয় হলো, একমুঠ ধুলো যদি কেউ কারো দিকে ছুড়ে দেয়, তাহলে তা কত দূর উড়ে যাবে? কিন্তু অসংখ্য প্রমাণে এসেছে, সেই বদরের মাঠে রাসূলের ছুড়ে দেয়া ধুলো সেদিন অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছে এবং সব কাফেরের চোখে মুখে নাকে গিয়ে লেগেছে। এ ছাড়া পবিত্র কুরআনের সূরার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালা সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন, ‘হে রাসূল। সেদিন সেই ধুলো আমি সবার চোখে পৌঁছে দিয়েছি। আপনি কেবল নিক্ষেপ করেছেন। এর কারণ ছিল কাফেররা যেন ভালোভাবে তাদের যুদ্ধের অবস্থান না দেখতে পায় এবং অতি দ্রুত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এমনকি বলা হয়েছে, তারা তাদের হাতের অস্ত্র ছেড়ে চোখ কচলাতে শুরু করেছিল।’ একটু চিন্তা করলে দেখা যায়, যদিও আমরা জাগতিক দৃষ্টিতে দেখলাম ধুলোগুলো রাসূল সা: তাঁর হাত দিয়ে ছুড়েছেন, কিন্তু এই একমুষ্টি ধুলো কিভাবে শত্রুবাহিনীর চোখে গেল? তাই বলতে হচ্ছে, এটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে সম্ভব নয়, এটা হয়েছে অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে, যা স্বয়ং আল্লাহ ঘটিয়েছেন। আর এটাই হলো ঐশী বা গায়েবি সাহায্য।

শয়তান ইবলিসের অংশগ্রহণ

মক্কাবাসী কাফেরদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য অভিশপ্ত ইবলিসও এসেছিল সেদিন। আর ইবলিস এসেছিল সোরাকা নামক এক ব্যক্তির আকৃতি ধরে। কিন্তু যুদ্ধের মাঠে নেমে যখন ইবলিস দেখল, আল্লাহর ফেরেশতারা মুসলমানদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধের মাঠে বিদ্যমান, ঠিক তখনই সে পালিয়ে যেতে লাগল। কাফেরদের মধ্য থেকে কেউ একজন বলে উঠল, সোরাকা, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সোরাকা, তুমি কি বলনি যে, তুমি আমাদের সাহায্য করবে এবং আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে না? সে সময় ইবলিস (ছদ্মবেশে সোরাকা) বলল, এখানে এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি, যা তোমরা দেখতে পাও না। আল্লাহকে আমার ভয় হচ্ছে, তিনি কঠোর শাস্তিদাতা।’ এরপর ইবলিস আত্মগোপন করেছিল।

ফেরেশতাদের অংশগ্রহণ

এ যুদ্ধের আরেকটি ঘটনা হলো আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদেরকে সাহায্য করেছিলেন ফেরেশতা দিয়ে। বুখারি শরিফের হাদিস মোতাবেক, যুদ্ধের শেষে সাহাবিদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সাক্ষী দিয়েছেন, আমরা সাদা পোশাক পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করতে দেখেছি। তাদেরকে আমরা যুদ্ধের আগে কখনো দেখিনি, এমনকি যুদ্ধের পরও দেখিনি। আবার কিছুসংখ্যক সাহাবি বলেছেন, আমরা তরবারি ব্যবহারকারীকে দেখছি না, কিন্তু তরবারিটি দেখছি। তাদের তরবারিগুলো আমাদের তরবারির চেয়ে দৈর্ঘ্যে অনেক লম্বা এবং সেগুলো শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করছিল। সেদিন সাদা পোশাক পরিহিত ফেরেশতাদের আকৃতি কারো চোখে দেখা গিয়েছিল, আবার কারো চোখে দেখা যায়নি। মূলত তারা ছিল আল্লাহর প্রেরিত ফেরেশতা। মুসলমানদের হয়ে বদরের প্রান্তরে তারা যুদ্ধ করেছিল।

সৈন্য সংখ্যা ও হতাহত সংখ্যা

বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা আর কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা সম্পর্কে ছোটখাটো মতপার্থক্য আছে। তবে যে মতামতটি জোরালোভাবে গ্রহণযোগ্য সেটা এ রকম : মুসলমানেরা ছিলেন ৩১৩ জন, অপরপক্ষে কাফেরদের সংখ্যা ছিল এক হাজার। মুসলমানদের ৩১৩ জন সাহাবির মধ্যে ৮৫ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবি, বাকি সবাই ছিলেন মদিনার আনসার। আনসারদের মধ্যে ৬১ জন আওস গোত্রের আর ৬৯ জন ছিলেন খাজরাজ গোত্রের। পুরো ৩১৩ জনের দলে উট ছিল ৭০টি আর ঘোড়া ছিল মাত্র দু’টি। অপরপক্ষে, কাফেরদের এক হাজারের দলের ৬০০ জনের কাছে ছিল দেহ রক্ষাকারী বর্ম এবং তাদের কাছে ঘোড়া ছিল ২০০টি। যুদ্ধ শেষে দেখা গেল, কাফেরদের মধ্য থেকে ৭০ জন নিহত হয়েছে এবং ৭০ জন হয়েছে বন্দী। মুসলমানদের মধ্য থেকে শহীদ হয়েছিলেন ১৪ জন, তার মধ্যে ছয়জন ছিলেন মুহাজির সাহাবা, অপর আটজন ছিলেন আনসার সাহাবা।

উপসংহার ও শিক্ষণীয়

বদরের যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য প্রথম সমন্বিত এবং যতটুকু সম্ভব, পরিকল্পিত যুদ্ধ। যুদ্ধের ময়দানে সুবিধাজনক অবস্থান নেয়া, পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে রাখা, সূর্যের আলোর কথা বিবেচনা করে সৈন্যদের দাঁড় করানো এবং যুদ্ধের আগে শত্রুদলের চারপাশ পর্যবেক্ষণে রাখা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষণীয়। সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় ছিল, অজাগতিক তথা সব কিছুর জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুল করা। নিজের দ্বারা সম্ভব সর্বপ্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে, কিন্তু সাফল্যের জন্য সে প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করা যাবে না। নির্ভর করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ওপর। বদরের যুদ্ধে মুসলমানেরা জয়ী না হলে কী হতে পারত, সেটা কল্পনা করার প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য দয়া আর মেহেরবানির বদৌলতে মুসলমানদের অগ্রযাত্রার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল এবং বদরের যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আজ চৌদ্দ শ’ একত্রিশ বছর পর বিশ্বের সর্বস্তরের মুসলমান সেই অকুতোভয় সৈনিকদের স্মরণ করবেন এবং প্রয়োজনে বদরের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে যাতে যেতে পারেন, সেই মানসিকতায় বলীয়ানরূপে নিজেদেরও সজ্জিত করবেন বলে আশা করি। তবে বদরের যুদ্ধ যেমন ছিল আত্মরক্ষার্থে, তেমনি মুসলমানদের যুদ্ধ হবে আত্মরক্ষার্থে, সত্যের অনুকূলে, নির্যাতিত-নিপীড়িতদের অনুকূলে এবং কল্যাণ কামনায়। ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সৌজনৌ
লেখক :
মেজর জেনারেল (অব:);
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com

সেহেরি : অতিভোজ ও দীর্ঘ ঘুম পরিহার করুন, সুস্থ থাকুন: অধ্যাপক নইম কাদের


রমজান মাসের অপর নাম আত্মগঠনের মাস। সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একই সাথে দেহ ও মন গঠন করা হয়। সংযম ও নিয়ামানুবর্তিতার কঠোর অনুশীলন রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। যাবতীয় কু-প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রেখে যেমন ‘নফস’ দমন করা হয়, তেমনি অতিভোজ, অনিয়মিত ভোজ এবং জীবনযাত্রায় যাবতীয় অনিয়ম পরিহার করে সুস্থ দেহ গঠন করার তালিম নেয়ার মোক্ষম সুযোগ রয়েছে রমযান মাসে। 
রমযানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। তন্মধ্যে পানাহারে সংযম অন্যতম। অনেকে ইচ্ছা করেই সেহেরিতে স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি আহার করেন। তাঁদের ধারণা খাদ্য বেশি গ্রহন করলে দীর্ঘক্ষণ থাকবে, দেহে বাড়তি শক্তি যোগাবে, ক্লান্তি প্রতিরোধ করবে। এ ধারণা সঠিক নয়। একসাথে যত বেশি খাদ্য গ্রহণ করা হোক, ৩ থেকে সাড়ে ৩ঘণ্টার মধ্যে খাদ্য হজম হয়ে যায়। সুতরাং তা দীর্ঘক্ষণ হজম না হয়ে দেহের ভেতরে অক্ষুন্ন থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। মনে রাখা দরকার, শরীরের স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী আহার গ্রহন করতে হবে, অতিরিক্ত পানাহার সর্বদা ক্ষতিকর। এর ফলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে, মেদ জমতে পারে, কোলেস্ট্রল বেড়ে যেতে পারে। অতি ভোজনের কারণে পরিপাকতন্ত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়ে হজমশক্তি বাধাগ্রস্ত হলে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় যা পরবর্তীতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। 
সেহেরিতে অতিরিক্ত নয়, স্বাভাবিক নিয়মে পরিমিত খাবার গ্রহণ করাই শ্রেয়। অনেকে মনে করেন রমজযান মাসে দামি খাবার খাওয়া ভাল। রান্না ও ফ্রাই করা হরেক রকমের গোস্ত, মাছ, ডিম, তেলে ভাজা, ঘিয়ে ভাজা ইত্যাদি রমযানের প্রিয় খাবার। এভাবে করতে গিয়ে সেহেরি অনেক সময় খাদ্য বিলাসিতায় পরিণত হয়। মনে রাখতে হবে, সেহেরি উপলক্ষে পানাহার করা সুন্নত। খাদ্য বিলাসিতার সাথে সুন্নাতের সম্পর্ক নেই। যদি তা অপচয়ের পর্যায়ে পড়ে, সুন্নাত পালনের সওয়াবের পরিবর্তে উল্টা অপচয়কারি হিসেবে শাস্তি ভোগ করতে হবে। পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে- অপচয়কারি শয়তানের ভাই। সেহেরির খাদ্য তালিকায় গোস্তের সাথে নিয়মিত মাছ, সব্জি, ডাল ইত্যাদি রাখা দরকার। সাথে কিছু ফলমূল হলে ভাল। দুধ ও দই আদর্শ খাবার। প্রশ্ন হতে পারে- রোযা উপলক্ষে সেহেরিতে কী পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা দরকার। একেবারে স্বাভাবিক নিয়মে একজন মানুষ এক বেলায় যে পরিমাণ খাদ্য গ্রহন করেন সেহেরিতেও খাদ্যের পরিমাণ হবে তাই। 
সেহেরির পর অনেকে লম্বা ঘুম দেন। এমনকি ঘুমানোর জন্য ফজর নামাজের জামা‘ত স্বাভাবিক সময়ের চাইতে কিছুটা এগিয়ে আনা হয়। সেহেরির পর দীর্ঘ ঘুম স্বাস্থ্যেসম্মত নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভরা পেটে ঘুম খাদ্য পরিপাকে বাধা সৃষ্টি করে। স্বাভাবিক নিয়মে খাদ্য হজম না হলে পরিপাকতন্ত্রে নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়। 
অনেকে মনে করেন সেহেরির পর লম্বা বিশ্রাম শরীরের জন্য ভাল। এধারণাও সঠিক নয়। বরং স্বাভাবিক নিয়মে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা শুরু করাই উত্তম। রমজানে বিশ্রাম নেয়ার উত্তম সময় হচ্ছে দিনের শেষ বেলা। রোজা রাখার পর বিকেলের দিকে ক্ষুধা লাগাটা স্বাভাবিক এবং শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এ সময় যতটা সম্ভব ভারি কাজ পরিহার করা ভাল। এ জন্য ইফতারি সামনে নিয়ে বিভিন্ন দোয়া ও মুনাজাতের বিধান রাখা হয়েছে যাতে রোজাদাররগণ এ সময় কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকেন।
রমযানে অনেককে বিভিন্ন প্রকার পেটের পীড়ায় ভোগতে দেখা যায়। বিশেষ করে পায়খানার অনিয়ম, পেটে অতিরিক্ত গ্যাস জমা, বুক জ্বালা, ঢেকুর উঠা, দুর্গন্ধযুক্ত অধঃবায়ু নিঃসরণ ইত্যাদি। এর কারণ সেহেরির খাদ্য তালিকায় গুরুপাক খাদ্য বেশি রাখা, চর্বিযুক্ত, তেল-মসলাযুক্ত ভাজি-পুড়া ইত্যাদি মুখরোচক খাদ্য বেশি গ্রহন করা, সেহেরির পর লম্বা বিশ্রাম ও লম্বা ঘুম।
সেহেরিতে অতিভোজ পরিহার করুন, সেহরির পর লম্বা ঘুম ও লম্বা বিশ্রাম পরিহার করুন, স্বাভাবিক নিয়মে দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু করুন, সুস্থ থাকুন।

পুলিশের গাড়িতে উঠার আগ মুহুরতে মাইশাকে দেখতে পেলাম তার বাবার কোলে

স্বদ্য জন্ম নেওয়া তিন মাসের মাইশাকে বাসায় ঘুম পাড়িয়ে রেখে আফসানা দুই তলা থেকে চার তলায় এসেছিল শুদ্ধভাবে কোরআন শিখতে।সামনে রমজানে যেন কাজে লাগাতে পারে।
অনেকদিন ধরে ভাবে কোথাও যেয়ে শিখবে, বিভিন্ন কারনে হয়ে ওঠেনি। এবার যখন সুইটি আপা খবরটা দিল এই সুযোগ আর ছাড়তে ইচ্ছা হলনা।
একই ফ্লাটে এই সুযোগ পাওয়া গেলে কে ছাড়তে চায়...!!
সিজারিয়ান প্যাশেন্ট হওয়ায় চার তলায় উঠতে একটু কষ্ট হল।
নির্দিষ্ট রুমে যেয়ে আফসানা সকল কষ্ট ভুলে গেল। জান্নাতুল করীম সুইটি আপা সহ ২৫/২৬ জন মেয়েকে দেখতে একটা ফুলের বাগানের মত লাগছে!
ছাত্রী সংস্থার এই বাগানের একজন জনশক্তি হতে পেরে অনেক ভাল লাগে তার...
শুরু হয়েছে কোরআন শিক্ষার তালিম। নাজমা আপা শুরু করলেন, তিনি কোরআনের হাফেজ। কি মধুর কন্ঠ তার...!
তার তেলাওয়াত শুনতে শুনতে মন টা সিক্ত হয়ে উঠছে।
সাথে ভাবতে থাকে একটু নীচ থেকে ঘুরে আসার কথা।
তিন মাসের মেয়েটা একটু পর পর ঘুম থেকে উঠেই কান্না শুরু করে খাবার জন্যে। এই উঠছি,
এই উঠছি করেও উঠা হয়না, শুনতে থাকে কোরআন পাঠ।
এরই ভিতর দরজায় ধাক্কা ধাক্কির শব্দ শুনা যায়। এই বাসার খালাম্মা দরজাটা খোলার সাথে সাথে হুড়মুড় করে রুমের ভিতর ঢুকে পড়ে পুলিশের পোশাক পড়া একদল জানোয়ার।
পশুর মত দাত বের করে খিস্তি মারতে থাকে নিস্পাপ মেয়ে গুলির সাথে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোরআন পাঠের আয়োজন করার মত সাহস আমরা কোথায় পেলাম এটাই তারা জানতে চায়।
সুইটি আপা দড়াজ গলায় উত্তর করল- যে কাজের অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন সেটার অনুমতি আপনাদের কাছ থেকে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনা।" আমাদের সবাইকে এক প্রকার বেধে নিচে নামিয়ে আনতে থাকে।
প্রথম পুলিশ দেখে অবাক ও আতংকিত হলেও সুইটি আপার উত্তর শুনে সকল ভয় চলে যায়।
পুলিশের গাড়িতে উঠার আগ মুহুরতে মাইশাকে দেখতে পেলাম তার বাবার কোলে।
গলা ফাটিয়ে চিতকার করছে,
যেন তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে সে। মাইশার বাবা ধীরে ধীরে গাড়ির কাছে এসে আফসানার হাতে হাত রাখে। বলে-
আমি খুব খুশি হয়েছি তোমার চোখে পানি না দেখে,
তোমার চোখের পানি দেখলে এই জানোয়ার গুলা বন্য আনন্দ লাভ করতো।
তুমি চিন্তা করনা। আল্লাহ এর প্রতিদান দিবেন.....
গাড়ি আগাতে শুরু করে,
বাচ্চাটা বড় বড় চোখে ঘাড় ফিরে মা কে দেখতে থাকে।
একদম বাবার মত মায়া ভরা চোখ পেয়েছে!!
দুই চোখ জ্বালা করে ওঠে আফসানার,
মনে হয় চোখের পানির বাধ ভেংগে যাচ্ছে। নাহ,
আমি কাঁদবো না, কিছুতেই না...