ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১ ।

শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আজ পৃথিবীর সমস্ত লাল গোলাপ আপনার জন্যই ফুটেছে!


আজ পৃথিবীর সমস্ত লাল গোলাপ আপনার জন্যই ফুটেছে! আমি বিশ্বাস করি ফেরেশতাগণ আজ আপনাকে অভিবাদন জানাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবেন। আপনার অন্যান্য সম্মানীত সাথীগনও আপনাকে অভিবাদন জানোর জন্য অপেক্ষা করছে নিশ্চয়ই। ওমর আল মুখতার, সাইয়্যেদ কুতুব থেকে শুরু করে আপনি।

মফস্বল শহর থেকে আসা এই আমি স্বাক্ষী আমাদের একটা মিডিয়া ট্রেনিং শেষে আপনি আমাদের কথা দিলেন তোমাদের একটা টিভি হবে। ভালো করে কাজ শেখো। আপনার ঘোষনায় আমরা যারা শিক্ষার্থী সবাই আনন্দে কাঁদছি কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম আপনিও কাঁদছেন। আপনি স্বপ্ন দেখে কাঁদতেন, স্বপ্ন সত্যি হলেও কাঁদতেন। আজ আপনার সন্তানের লেখায় পড়লাম আপনি হাসছেন। আমি জানি আমাদের চোখের পানি অনেকদিন শুকাবে না!
যে হিমালয়সম ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশের মানুষের জন্য যার হৃদয়ে আকাশসম স্বপ্ন আজ সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি হচ্ছে। আপনি হাসপাতাল গড়েছেন, ব্যাংক গড়েছেন, টিভি গড়েছেন আরও কত কিছু ইতিহাস অবশ্যই স্বাক্ষ্য দেবে।
সময়টা এখন সৃষ্টিশীল মানুষদের নয়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ব্যাংক ডাকাত, শেয়ার মার্কেটর লুটেরারা আজ আমাদের নৈতিকতার জ্ঞান দিতে আসছে! আসলে ক্ষমতা জিনিসটাই বুঝি এমন।
যে জাতি যেমন তাদের নেতাও তেমন এটাই চুড়ান্ত সত্য। আপনি আসলে এই জাতির নেতা হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। চেয়ে দেখুন, এই জাতির নেতৃত্বের চেয়ারগুলোতে কারা বসে আছে?
আপনি দেশের বাইরে গেলেন আর এদেশের মিডিয়া পাড়ার শিয়ালগুলো হুক্কাহুয়া আওয়াজ তুললো, ‘মীর কাসিম পালিয়েছেন!” আপনি আসলেন’ জানান দিলেন, মীর কাসিমরা পালাতে জানে না’ ইতিহাসের সকল সময়েই মীর কাসিমরা জীবন দিয়েছে কিন্তু তাদের দ্বায়িত্ব ছেড়ে পালায়নি। আপনার শুভাকাংখিরা বারবার আপনাকে দেশে ফিরতে বারণ করেছেন, তারা বলেছেন আপনি ন্যায় বিচার পাবেন না! কিন্তু আপনি বললেন, ইসলামী আন্দোলনে হাজার হাজার কর্মী প্রাণ দিচ্ছে, নেতারা প্রাণ দেবে না তা কি করে হয়?
আপনি জানতেন আপনার সাথে কি করা হবে। আপনি জয় করেছেন জীবনকে। মৃত্যুও আপনাকে হারাতে পারবে না। হে মহান শিক্ষক, আপনি জেনে রাখুন নিস্তব্ধতার এই গহীন রজনীতে পথ হারা মানুষ মীর কাসিমদের দেখানো আলোতেই পথ খুঁজে পাবে ইনশাঅাল্লাহ। ভানুমতির গল্প দিয়ে যারা তাদের বিজয় কেতন উড়াতে চায় সেই বেকুব আত্ম-অহংকারীদের জন্য আফসোস! সেই দিন তাদের অবশ্যই আসবে যারা আজকের কৃতকর্মের জন্য সবচেয়ে বেশি আফসোস করবে!
আমাদের বিনাশ নেই। প্রতিটি গভীর রাত্রি শেষে সুবহে সাদিকের আলোর মত আমরা জেগে উঠবোই।
.
কমরেড মাহমুদ এর টাইমলাইন থেকে।

পেকুয়া পাইলট স্কুলে জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশ।


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  পেকুয়া পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্জ সফিউল্লাহ কুতুবীর সভাপতিত্বএ অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া পাইলট স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাকির হোসেন হাওলাদার, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইলট স্কুলের পরিচালক ও পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব সফওয়ানুল করিম, পেকুয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল হাশেম, কক্সবাজার জেলা জঙ্গি বিরোধী কমিটির সদস্য এডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু, বিশিষ্ট সাংবাদিক এফ এম সুমনপাইলট স্কুলের শিক্ষক জহিরুল মোস্তফা, ইয়াসিন আরাফাত, হেলাল উদ্দীন, মাওলানা জহির, রেশমিন আক্তার, রিপু আক্তার প্রমুখ।
উপস্থিত ছাত্রদের একাংশ

কেন ক্ষমা চাইবো আমি ? বরং রাষ্ট্রপতির উচিত আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া

কেন ক্ষমা চাইবো আমি ? বরং রাষ্ট্রপতির উচিৎ আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া ।কারণ এই রাষ্ট্র আমার প্রতি ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে, এই রাষ্ট্র আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তাকে অপহরণ করে প্রমাণ করেছে আমার প্রতি তারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চায় । অতএব ক্ষমা কে চাইবে আপনারাই বলুন ?তোমরা কী ভেবেছ ? আমি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবো ? কেন ক্ষমা চাইবো ? 

আমিতো কোনো অপরাধ করিনি ! বরং এই বাংলাদেশকে আমি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ সিঙ্গাপুর বানাতে চেয়েছি । অসংখ্য মানবসেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল গড়ে তুলেছি । বাংলাদেশে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করেছি, যাতে এদেশের মধ্যবিত্তরা বিদেশে চিকিত্সার জন্য ব্যর্থ হয়ে বিনা চিকিত্সায় মারা না যায় । আমাদের ইবনে সিনা দেখে আজ অনেকেই বড় বড় হাসপাতাল বানিয়েছে । আমি তাদের সাধুবাদ জানাই, কিন্তু আমিই অগ্রপথিক তা কিন্তু মানতে হবে । তাদের হাসপাতাল উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে হয়ত আমাদের ইবনে সিনাকে ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু সেবায় কি ইবনে সিনাকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে ?
আমাদের নয়াদিগন্ত পত্রিকা, দিগন্ত টেলিভিশন যেমনি জনপ্রিয় তেমনি পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা । আমি কতোভাবেইনা এই বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চেয়েছি... আমাদের ইসলামি ব্যাংক যা কিনা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান । সমাজ থেকে দারিদ্র ও বৈষম্য ঘুচাতে ইসলামি ব্যাংকের কত শত প্রজেক্ট ছিল, সেবাগ্রহীতাদের মাঝে ইসলামি অনুশাসন মেনে চলার তীব্র অনুভূতি জাগিয়ে তোলার নানাবিধ সামাজিক কর্মসূচি ছিল । আজ সে ব্যাংক সরকারের সবচেয়ে বড় ডোনার । বিশ্বাস করুন এই ব্যাংকে যারা ব্যাংকিং ভালো বোঝে তাদের নয় বরং ইসলাম ভালো বোঝে এমন লোকদের অগ্রাধিকার দেয়া হতো । কত পরীক্ষিত ত্যাগী ভাইদের জড়ো করেছিলাম, বিবিএ এমবিএ বাধ্যতামূলক ছিল না, মাদ্রাসার কামেল পাশ, ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স পাশ ভাইদের নিয়োগ দিয়েছিলাম যাতে তারা ব্যাংক নয় ইসলামকে রক্ষা করে চলতে পারে । কিন্তু আফসোস ! কী চেয়েছিলাম আর কী হলো ! 
ব্যাংক ধংস হলে ব্যাংক আবার কেউ না কেউ গড়ে তুলবে, কিন্তু বিশ্বাস নষ্ট হলে ? আজ ইসলামি ব্যাংক যদি অপরাধীদের হাতকে শক্তিশালী করে সরলমনা ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসে আঘাত হানে ভেবে দেখেছেন আগামিতে ইসলামের নামে করা প্রতিষ্ঠানগুলো কত বড় হুমকির মুখে পড়বে । মানুষ ইসলামের নাম শুনলেই প্রতারণার গন্ধ খুঁজবে । এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক আমি নই । উদ্যোক্তা আর সেবক ছিলাম । 
-
বেতন ভাতা যা পেতাম তা দিয়ে আর দশটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মতই চলতো আমার সংসার । কেউ বলতে পারবে না মীর কাসেম আলীর পরিবারে কোনো বিলাসিতা ছিল বা আছে । আমার সন্তানেরা রাজকীয় হালে বড় হয়নি । অতি সাধারণ একজন হিসেবে বড় হয়েছে । তারা কেউই গাড়ি হাকিয়ে চলেনি, বিশাল অট্টালিকার মালিক হয়নি । আমাদের পরিবারের কারো নামে বিদেশী ব্যাংকএ কোনো একাউন্ট নেই । আমি অন্যদের মত সুইস ব্যাংকে দেশের টাকা পাচার করিনি । 
হত্যা খুন নির্যাতন । সব শতভাগ বানোয়াট । এরমধ্যে সত্যের লেশমাত্র নেই । কেন ক্ষমা চাইবো আমি ? বরং রাষ্ট্রপতির উচিত আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া । কারণ এই রাষ্ট্র আমার প্রতি ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে, এই রাষ্ট্র আমার ছেলেকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তাকে অপহরণ করে প্রমাণ করেছে আমার প্রতি তারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চায়, অতএব ক্ষমা কে চাইবে আপনারাই বলুন ? 
আপনারা ভাবছেন আমি হেরে গেছি ? আমি বিদেশ থেকে দেশে না ফিরলেই ভালো হতো ? আচ্ছা দেশে না ফিরলে আমার ফাঁসি হয়ত হত না, কিন্তু মৃত্যুর ফায়সালা কি আগপর হতো ? কে জিতেছে কে হেরেছে সময়ই বলে দেবে । আমি স্বাধীন বাংলাদেশে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার সুযোগ পেয়েছি, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছি, আইনী লড়াই চালানোর সুযোগ পেয়েছি । কিন্তু আজ যারা দম্ভভরে অন্যের পুতুল হয়ে নাচতেছে, তাদের পরিণতির কথা ভেবে করুণা হয় । তারা কি পারবে স্বাধীন দেশে মৃত্যুবরণ করতে ? 
রুটস দেখ । ক্রীতদাসদের জীবন দেখ । জানি এখনই সবকিছু বুঝে উঠতে পারবে না । যখন বুঝবে তখন বুঝেও লাভ হবে না । তোমাদের আজকের মিত্ররা কাল তোমাদের মিত্র থাকবে এমন প্রত্যাশার ঘোরে থেকো না । মনে রাখবেন দেশ না থাকলে মন্ত্রীত্ব থাকে না । চুরি করা অর্থ দিয়ে কী করবে ? দুদণ্ড পা ফেলার যায়গা পাবে না । তোমাদের মৃত্যু হবে কত লজ্জার, কত করুণ তা যদি এখনি ভাবতে পারতে ! আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু মনে রেখো আমরা যারা চলে গেলাম তারা বেঁচে গেলাম । যারা মাটি কামড়ে পড়ে আছ তারা হয়ত কবরের মাটিটুকুও পাবে না । বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তনের দিকে এগুচ্ছে । খেয়াল করেছো কেউ ? তাকাও সেদিকে । আমার জন্য অশ্রুপাত করতে হবে না । নিজের ভবিষ্যত দেখ.... মনের চক্ষু মেলিয়া....

 #FreeMirQuasemAl

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করলেন মীর কাসেম আলীর স্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর নিখোঁজ ছেলে ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মীর কাসেমের স্ত্রী খোন্দকার আয়েশা এই প্রতিবাদ জানান।

গত ৩১ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর ছেলে ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমান কোথায় গিয়েছে সেটাতো আমার জানার বিষয় নয়।’

মীর কাসেম আলীর স্ত্রী এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, গত ৯ আগস্ট মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে সাদা পোশাকে অস্ত্রধারী কয়েকজন ব্যক্তি ব্যারিস্টার আরমানকে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সামনে মিরপুর ডি ওএ ইচএসের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিদের দেখে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য মনে হলেও তারা সাদা পোশাকে ছিলেন।

খোন্দকার আয়েশা বলেন, ওই অস্ত্রধারীরা বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আরমানের খোঁজ করেন। আরমান দরজার কাছে গেলে তাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। তাদের সঙ্গে যেতে রাজি না হলে আরমানকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে চলে যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা পল্লবী থানাকে অবহিত করি। এবং পরদিন পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যার নম্বর- ৮০৮

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আরমানকে তুলে নেয়ার সংবাদ পরদিন ১০ আগস্ট দেশের প্রায় সকল গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থা আরমানকে তুলে নেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আয়েশা বলেন, এমতাবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘তার ছেলে কোথায় গিয়েছে সেটাতো জানার বিষয় নয়,’ বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। কারণ দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

স্ত্রী-সন্তানদের সামনে থেকে তুলে নেয়ার ২২ দিন পরেও আরমানের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন করেছি। পুনরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন করছি আমার ছেলে ব্যারিস্টার আহমেদ বিন কাসেম আরমানকে ফিরিয়ে দিন।

আরটিএনএন

নিরীহ আলেম-ওলামাদের হয়রানি না করে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করুন - মুফতি ফয়জুল্লাহ


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  জিহাদি বই উদ্ধারের নাটক না সাজিয়ে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ। শুক্রবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে তিনি এমন আহ্বান জানান।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, দেশকে ইসলাম শূন্য করার গভীর চক্রান্ত চলছে। এক দিকে সন্ত্রাসবাদী চক্র নিরীহ-নিরপরাধ মানুষ খুন করছে। অন্যদিকে এই পঁচা ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে জিহাদি বই উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে নির্বিচারে নিরীহ আলেম-ওলামাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’

জিহাদ আর সন্ত্রাস এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুটি বিষয় ভিন্ন ভিন্ন জগতের, ভিন্ন ধারা ও নীতির। এ দুয়ের মধ্যে আসমান-জমিনের পার্থক্য। সব অমানবিকতা, জুলুম ও সন্ত্রাস নির্মূল করে ‘আল্লাহ নির্দেশিত জিহাদ’। অমানবিকিতা, নৈরাজ্য ও ফেতনা সৃষ্টি করে ‘শয়তানী সন্ত্রাস’।

তিনি বলেন, অবিলম্বে নিষিদ্ধ বইয়ের তালিকা প্রকাশ করুন। ‘জিহাদি’ বই বলে গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধ করুন। জনজীবন বিপন্নকারী সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করুন। এসব অপকর্মের দায়ভার আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা বন্ধ করুন।

শাহাদাতের পদযাত্রী পিতার সাথে নিখোঁজ সন্তানের সাক্ষাত হবে? -ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- “ক্ষমতাপ্রাপ্ত রাজপুরুষের অত্যাচার ও বিচারাসনে বসিয়া বিচারকের অবিচারের মতো মন্দ কর্ম আর নেই।” আওয়ামী রক্ত পিপাসুরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়তো আরেকটি হত্যাকান্ডের আয়োজন করতে যাচ্ছে। গত ৩০ আগস্ট আপিল বিভাগ জনাব মীর কাসেম আলীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এটিই ছিল আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ।

জননেতা মীর কাসেম আলী মিন্টু ক্ষণজন্মা একজন প্রতিভাবান উজ্জল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত। যিনি এদেশের ছাত্র জনতার প্রিয় কাফেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রিয় সভাপতি, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সংগঠক, শিল্প উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণ মূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কারক হিসেবেই সকলের নিকট পরিচিত ও সমাদৃত।

জনাব মীর কাসেম আলী প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে মেধা, যোগ্যতা দিয়ে সাধ্যমতো সাজানোর কারিগর হিসেবে ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, দেশে-বিদেশে তিনি একজন উদ্যোক্তা, সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি একটি সপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু একজন দেশপ্রেমিক ও উন্নয়ন বান্ধব লোক যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা ইতিহাসের এক অপদৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এদশের মানুষ ড. মাহাথিরের উন্নয়ন মডেলে অবিভূত হয়ে বাংলার মাহাথিরকে খুজছে! আর আওয়ামীলীগ মীর কাসেমের মত বাংলার মাহাথিরদের হত্যার আয়োজন করছে!

জনাব মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আনা এ সবই কাগুজে অভিযোগ। যিনি মানবতার সেবায় যে জীবন নিয়োজিত করেছেন আর তাঁকে হত্যা করা হচ্ছে মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য!! কি সেলুকাস এ পৃথিবী! কি অদ্ভুত আর বিষ্ময়কর আমাদের রাজনীতি! কত নিষ্ঠুর, নোংরা, কুলষিত, ক্ষমতার মোহে দিকভ্রান্ত আওয়ামীলীগের এই নেতিবাচক শিষ্টাচার বহির্ভূত অপরাজনীতি! ধিক আজকের সমাজের এই ঘৃনিত বিষবাস্পকে। ধিক্ আওয়ামীলীগের এই অমানবিক, ফ্যাসিস্ট চরিত্রকে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইতিহাসের চাকা বার-বার ঘুরে আসে। সুতরাং এক মাঘে শীত যায় না, আর আওয়ামীলীগের ক্ষমতাও চিরস্থায়ী নয়।

অসংখ্য গুণের অধিকারী এই ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার, হরিরামপুর থানার, সূতালরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মীর তৈয়ব আলী ও মাতা মৃত রাবেয়া আখতার (ডলি বেগম)। পারিবারিকভাবে আদর করে তাঁকে পেয়ারু নামে ডাকতেন। ৪ ভাই ১ বোন। জনাব মিন্টু ১৯৭৯ সালে খন্দকার আয়েশা খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ২ ছেলে, ৩ মেয়ে। প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত। জনাব মীর কাসেম আলীর বাবা সরকারী চাকুরী করতেন বিধায় বরিশাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি তাঁর। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশান লাভ করেন।

মানবতার কল্যাণে জীবন ব্যায়িত মীর কাসেম আলী ছাত্রদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ছিলেন প্রথম কাতারে। ১৯৬৬ সালে যোগদান করেন মেধাবীদের প্রিয় সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘে। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে প্রাদেশিক জেনারেল সেক্রেটারি, ১৯৭৭ সালের শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। এরপর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা, কর্মপরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জনাব মীর কাসেম আলী আল-কুরআনের একজন নিবেদিত খাদেম। বাংলাদেশে ব্যাংকিং জগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী, ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের অন্যতম। শুধুমাত্র ইসলামী আন্দোলন করার অপরাধেই তাঁকে হত্যা করতে যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। আল্লাহ তায়ালা বলেন- “ওই ঈমানদারদের সাথে তাদের শত্রুতার এ ছাড়া আর কোন কারণ ছিল না যে তারা সেই আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।” (৮৫:৮)
কর্মজীবনে জনাব মীর কাসেম আলী ১৯৭৮ সালে আর্ন্তজাতিক সংস্থা রাবেতা আলম আল ইসলামীর কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেন। তিনি মুসলিম, হিন্দু, খৃষ্টান ঐক্য ও সম্প্রীতি স্থাপনে ভূমিকা পালন ও দেশে বিদেশে মানবিক উন্নয়নে কাজ করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের এই সিপাহসালার দ্বীনের দাওয়াত ও জনসেবার কাজে পৃথিবীর সমস্ত ইসলামী দেশ, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ভ্রমন করেন। অসংখ্য প্রতিভার অধিকারী এই মহান ব্যক্তিত্বকে আওয়ামীলীগ আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যার হীন চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

আওয়ামী লীগ গোটা জাতিকে বিভেদ, হিংসা আর অ-মানবিকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সমাজে আজ গণহত্যাকারী, খুনী, কোটি-কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, সশস্ত্র সন্ত্রাসী, দূর্নীতিবাজ, লম্পট, চরিত্রহীনরা যেন সাধু! আর নিরাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মিডিয়া ট্রায়াল আর বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে বানানো হচ্ছে মানবতা বিরোধী! গোয়েবলসীয় সূত্রের আলোকে চলছে সত্যপন্থীদের বিরুদ্ধে এই অসত্য প্রচারণা। আসলে এর শেষ কোথায়?

জনাব মীর কাসেম আলীকে নিয়ে একশ্রেনীর গাঁজাখুরী গল্পের যেন শেষ নেই। এবার দেখুন তাঁর সাথে দীর্ঘ সময় কারাগারে একসাথে অবস্থান কারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি তাঁর সর্ম্পকে কি লিখেছেন!! জনাব রনি- মীর কাসেম আলীর মন খারাপ! শিরোনামে ৫ নভেম্বর ২০১৪, দৈনিক নয়াদিগন্তে লিখেছেন-“জেলখানার অন্ড অবসরে আমি প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠতাম। মীর কাসেম তখন পরম স্নেহে আমাকে তার রুমে ডেকে নিতেন নতুবা আমার রুমে আসতেন। তিনি কথা বলতেন কম এবং শুনতেন খুব বেশি। তিনি আমার জীবন, দর্শন, রাজনীতি, ধর্ম, প্রেম-ভালোবাসা, সমাজ, সংসার, নির্বাচনী এলাকার খুঁটিনাটি নিয়ে মেধাদীপ্ত প্রশ্ন করতেন এবং সব কিছু শোনার পর সুন্দর বা আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি বলেই ক্ষান্ত থাকতেন। কয়েক দিন পর আমি বুঝলাম মীর কাসেম সমাজের অন্য মানুষের মতো নন। এ আমি বুঝেছিলাম তার আচার-আচরণ, চালচলন, কথাবার্তা, খাদ্যাভ্যাস ও ইবাদত বন্দেগীর ধরন দেখে। যেসব বিষয়ে আমার মনে প্রশ্ন জাগত, আমি নির্দ্বিধায় সেগুলো তাকে জিজ্ঞেস করতাম এবং তিনি সাধ্য মতো সুন্দর করে আমাকে সব কিছু বুঝিয়ে বলতেন।

জেলে যাওয়ার আগে বহুজনের কাছে বহুবার তার ব্যাপারে বহু কথা শুনেছি। তার নাকি আছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তিনি জামায়াতের প্রধান অর্থ যোগানদাতা, দেশে-বিদেশে তার রয়েছে নামে বেনামে বহু প্রতিষ্ঠান। দেশের মধ্যে চলাফেরার জন্য তিনি সব সময় নাকি নিজস্ব হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন ইত্যাদি। তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গুজবটি হলো- তিনি নাকি যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় করে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিলেন। আমি এসব গাঁজাখুরি গল্প বিশ্বাস করতাম না। আবার যারা ওসব বলত তাদের সাথে তর্কও করতাম না। কারণ, গুজবকারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্তর এত নিচু মানের যে, তাদের সাথে তর্ক করাটাই মস্তবড় এক নির্বুদ্ধিতা।

মার্কিন রাজনীতি, অর্থনীতি ও লবিস্ট ফার্ম সম্পর্কে আমার ধারণা বাংলাদেশের অনেকের চেয়ে স্পষ্ট। কারণ ওই বিষয়ের ওপর আমার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফেলোশিপ রয়েছে। ওখানকার লবিস্ট ফার্মগুলো কী কী কাজ করে বা করতে পারে তা আগে জানতে হবে।

আমি মীর কাসেমের কথা শুনছিলাম এবং তার রুমের চার দিকে চোখ বুলাচ্ছিলাম। জামা-কাপড়, সাজসজ্জা, আসবাবপত্র কোনো কিছুই আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়নি, বিশেষ করে ডিভিশনপ্রাপ্ত অন্য কয়েদিদের তুলনায়। আমরা সবাই জেলখানার ভেতরের দোকান থেকে কিনে মিনারেল ওয়াটার খেতাম। অন্য দিকে মীর কাসেম খেতেন সাধারণ ট্যাবের পানি। কোনো বিদেশী ফলমূল খেতেন না। জাম্বুরা, আনারস, আমড়া, কলা প্রভৃতি দেশী ফল সময় ও সুযোগ মতো খেতেন। আমাদের সবার রুমে ছয়টি করে সিলিং ফ্যান ছিল। আমরা নিজেরা সব সময় সব ফ্যান ছেড়ে রাখতাম। মীর কাসেম ভুলেও সে কাজটি করতেন না- দরকার পড়লে একটি মাত্র ফ্যান ছাড়তেন।

একদিন রশিকতার একপর্যায়ে তিনি “আমার কথা শুনে তিনি শিশুর মতো হো হো হেসে উঠলেন। তারপর হাসতে হাসতে আসমানের পানে তাকালেন এবং বললেন, এমপি সাহেব! সব ফয়সালা তো ওই আসমান থেকেই আসবে! আমার মুখের ওপর যেন বজ্রপাত হলো, বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। আমি অনেকটা অমনোযোগী হওয়ার ভান করে এদিক-ওদিক তাকাতে থাকলাম; কিন্তু কিছুতেই নিজের দুর্বলতা গোপন রাখতে পারলাম না। আমি তার মুখপানে তাকালাম। আমার চোখ অস্বস্তিতে জ্বালাপোড়া করতে লাগল। আমি দু’হাতে মুখ ঢেকে চোখের যন্ত্রণা আড়াল করতে চেষ্টা করলাম। তিনি তখনো আকাশের পানে তাকিয়ে ছিলেন”।

জনাব মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ড স্থগিত করতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞদের আহ্বান অব্যাহত। দেশে-বিদেশে এই অন্যায় দন্ডের প্রতিবাদে ব্যক্তিদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ নিন্দা চলছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ডাদেশ রহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মীর কাসেম আলীর পুনর্বিচারের আহ্বান জানানো হয়েছে। তার রিভিউ শুনানির আগে, তার ছেলে ও ডিফেন্স টিমের সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্যাতন, বিনা বিচারে আটক ও জোরপূর্বক অপরহণবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা। এতে বলা হয়, মৃত্যুদ- প্রয়োগে সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখার অভিযোগ রয়েছে।

মীর কাসেম আলীর ছেলে ও তার ডিফেন্স টিমের আইনজীবী মীর আহমেদ বিন কাসেমকে গত ৯ আগস্ট তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ বিশেষজ্ঞ দল। তাদের মতে, মীর কাসেম আলীর রিভিউ শুনানির দুই সপ্তাহ আগে কী সন্দেহ বা অভিযোগে, কাদের দ্বারা এবং কোথায় তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। মীর আহমেদ বিন কাসেমের অবস্থান সম্পর্কে অবিলম্বে জানানোর জন্য জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিদাতা বিশেষজ্ঞরা হলেন, মিস এজেন্স চেল্লেমার্ড, মিস. মোনিকা পিন্টু, মি. জোয়ান ই. মিনডেজ, মি. সিটোনডিজেই রোল্যান্ড আডিজুভি।

মৃত্যুদ- কার্যকরের কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অ্যামনেস্টি অভিযোগ করে বলে, অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মীর কাসেমকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই তার আসন্ন ফাঁসির কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে।‘বাংলাদেশ : হল্ট ইমিনেন্ট এক্সিকিউশন অব মীর কাসেম আলী আফটার আনফেয়ার ট্রায়াল’ শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

পাটেল বলেন, শুরু থেকেই বিচার প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু বিচার বিষয়টিকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। মৃত্যুদ- একটি নিষ্ঠুর ও অপূরণীয় শাস্তি। যা কেবল বিচার প্রক্রিয়ায় অবিচারের মিশ্রণ ঘটাবে। চম্পা বলেন, আন্তর্জাতিক গুম দিবসে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে, পুঙ্খানুপুঙ্খ মীর আহমেদ কাসেম আলীর জোরপূর্বক গুমের তদন্ত করতে হবে।

মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদ- স্থগিতের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ৩৫ জন এমপি। চিঠিতে তারা বলেন-“প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি), যা যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যে কোন বিচার করবার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি দেশীয় আদালত, এর বিচার প্রক্রিয়ার বেআইনি দিকগুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে আমরা আপনাকে লিখছি।

আমরা স্মরণ করছি, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গৃহীত একটি রেজ্যুলুশনে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, বিশেষ করে সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদন্ড থেকে অনেক দূরে থাকবার কারণে আইসিটি’র তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এই আদালত থেকে ইতোমধ্যে ১৭ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচ জনের রায় কার্যকর করা হয়ে গিয়েছে।

জনাব মীর কাসেম আলী, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী’র একজন নেতা এবং মিথ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাবান্বিত প্রসিকিউশনের একজন ভিকটিম, তাকে ২০১৪ সালের ২রা নভেম্বর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। অসংখ্য সূত্র বলছে, তার এই বিচারটি সকল আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা এবং উন্মুক্ততার মানদন্ডে ব্যর্থ হয়েছে। জনাব আলীর এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যথার্থ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত হবার আগ পর্যন্ত এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর না করতে আমরা বাংলাদেশের সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানাচ্ছি।

একই সাথে, জনাব মীর কাসেম আলীর পুত্র মীর আহমাদ বিন কাসেম, যিনি তার বাবার মামলার মূল কৌসুলীর ভূমিকা পালন করেন, আমরা তার কথিত অপহরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি”। (সুত্র: দৈনিক সংগ্রাম)

মুলত এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে, জনাব মীর কাসেম আলীকে ন্যায় বিচারের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” (৫৭:২৫) অন্যত্র বলা হয়েছে-“আল্লাাহ তা’আলা কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বিচারক নন?”(৯৫ঃ৮)

পৃথিবীর সকল নীতি-নৈতিকতা, মানবাধিকরি লংঘন করে ইতোপূর্বে জামায়াতের ৪ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। ২ জন কারাগারে ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর যে ব্যক্তি জেনে বুঝে কোন মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। তার ওপর আল্ল¬াহর গযব ও তাঁর লানত এবং আল্লাহ তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” (৪ ঃ ৯৩)

জনাব মীর কাসেম আলী যখন শাহাদাতের পদযাত্রী তখন তাঁর আদরের প্রিয় সন্তান ব্যারিষ্টার আরমান এখনো নিখোঁজ। গত ৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১১টায় রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস এর বাসা হতে সাদা পোশাক পরিহিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে গ্রেফতার করেছে।

ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত প্র্যাকটিশনার। তিনি লিংকস ইন থেকে ২০০৭ সালে ব্যারিস্টার সনদ অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে ২০০৫ সালে এলএলবি (অনার্স) পাস করেন। পড়াশুনা শেষে দেশে ফিরে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) একজন এডভোকেট হিসেবে ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর সনদপ্রাপ্ত হন। ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। খুব অল্প বয়সে একজন আইনজীবী হিসাবে মামলা পরিচালনায় তার মেধা, প্রজ্ঞা এবং দক্ষতা অনেককে হতবাক করেছে।

ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের মুক্তি দাবি করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। জনগণের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এটি নাগরিকের প্রতি কারো করুনা নয়। অথচ উদ্বিগ্ন পরিবার ও স্বজনরা থানায় গেলে তাদের মামলা গ্রহন না করা আইনি প্রতিকার পাওয়ার নাগরিক অধিকারের লংঘন নয় কি?

সর্বশেষ কাশিমপুর কারাগারে মীর কাসেম আলী সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের মীর কাসেমের স্ত্রী আয়েশা খন্দকার বলেন- আমার এক ছেলেকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। ছেলেকে খুঁজে পাওয়া গেলে তার সঙ্গে কথা বলে উনি (মীর কাসেম) সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মীর কাসেম আলীর স্ত্রীর আবেদন অনেককে কাঁদিয়েছে। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন- “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যথাযথ সম্মানপূর্বক নিবেদন,‘আমি এক অসহায় মা। মীর কাসেমের মৃত্যুদ- বহাল থাকায় আপনার নিকট আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আরজ এই যে আমার পরিবারে কোন পুরুষ লোক নেই। আমার সন্তান ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) এবং তার বাবা আমাদের পরিবারের যাবতীয় কাজ করত। তার অবর্তমানে আমরা খুবই অসহায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৯ই আগস্ট সাদা পোশাকে উঠিয়ে নেয়ার পরে আজ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাইনি।

জনাব প্রধানমন্ত্রী, আমি স্বামীর এই শেষ মুহুর্তে তাকে অবশ্যই আমাদের মাঝে পেতে চাই। তাকে ছাড়া আমাদের কোন কাজই করতে পারা সম্ভব নয়। যেকোন ভাবেই হোক মানবীয়ভাবে এবং বাস্তব প্রয়োজনেই আমাদের কাছে আরমানকে ফিরিয়ে দিন”।
মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ জনাব মীর কাসেম আলী দেশবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রেখেছেন বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি ছিলেন দূর্নীতিমুক্ত ও ইনাসফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে অগ্রসেনানী। যারা সারা জীবন মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের দিকে আহবান করেছেন। একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর সততা, দক্ষতা দেশপ্রেমের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করবে। মানুষের হৃদয় থেকে এই মহান সংগ্রামী প্রাণপুরুষদের মুছে ফেলা যাবেনা।

আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, “এরা তাদের মুখের ফুঁ দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। অথচ আল্লাহর ফয়সালা হলো তিনি তার নূরকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন। কাফেররা তা যতই অপছন্দ করুক না কেন।” (সফ- ৮) তারা ইসলামী নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ইসলামী আন্দোলনকে দমন করতে চায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী জুলুম-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে ইসলামী আদর্শবাদী আন্দোলন কিংবা তার অনুসারীদেরকে দমানো যায় না। বরঞ্চ নির্যাতন-নিপীড়নের ফলে আন্দোলনের কর্মীদের ঈমান আরো মজবুত হয় এবং আন্দোলন আরো বেগবান ও তীব্র গতি পায়।

আওয়ামীলীগ জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার দিনক্ষণ ঠিক করে উল্লাস করছে। কিন্তু মানুষ খেকো, রক্তপিপাসুদের এই উল্লাস ক্ষণস্থায়ী। জালেমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদেরকে হত্যা করে নিজেদের ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নিচ্ছে। আর শহীদরা মহান জান্নাতে আল্লাহর মেহমান হিসেবে মর্যাদা লাভ করবে। সেদিন বেশী দুরে নয় তাদের রক্তের বিনিময়ে এ জমিনে ইসলামের বিজয় হবেই ইনশাল্লাহ।

হে! আরশের মালিক, তুমিই আমাদের জন্ম-মৃত্যু নির্ধারণ কর। কিন্তু জালেমরা মৃত্যুর দিনক্ষন ঠিক করে উল্লাস করছে! ক্ষমতার দাপটে তার আজ বেপরোয়া! ও দিশেহারা। হে! পরওয়ারদেগার, তুমি তোমার প্রিয় গোলামদের হেফাজত কর। তোমার প্রিয় বান্দাদের প্রতি করুণা ও রহমত বর্ষন কর। আমাদের প্রিয় নেতাদেরকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও। হে! আল্লাহ তুমি আমাদের অশ্রুসিদ্ধ ফরিয়াদ কবুল কর। আমীন।।

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের ৩৫ জন এমপি

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি), যা যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত যে কোন বিচার করবার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি দেশীয় আদালত, এর বিচার প্রক্রিয়ার বেআইনি দিকগুলো নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে আমরা আপনাকে লিখছি।
আমরা স্মরণ করছি, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গৃহীত একটি রেজ্যুলুশনে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, বিশেষ করে সেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদন্ড থেকে অনেক দূরে থাকবার কারণে আইসিটি’র তীব্র সমালোচনা করা হয়েছিল। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এই আদালত থেকে ইতোমধ্যে ১৭ জন ব্যক্তিকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচ জনের রায় কার্যকর করা হয়ে গিয়েছে।
জনাব মীর কাসেম আলী, যিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী’র একজন নেতা এবং মিথ্যা এবং রাজনৈতিক প্রভাবান্বিত প্রসিকিউশনের একজন ভিকটিম, তাকে ২০১৪ সালের ২রা নভেম্বর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়। অসংখ্য সূত্র বলছে, তার এই বিচারটি সকল আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা এবং উন্মুক্ততার মানদন্ডে ব্যর্থ হয়েছে। এই মামলায় তার রিভিউ পিটিশনের রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩০শে আগস্ট। তবে ইতোপূর্বে যেভাবে অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে এবং যথার্থ আইনী প্রক্রিয়ার গুরুতর লংঘনের মাধ্যমে পুরো মামলাটি পরিচালিত হয়েছে, তাতে এই রিভিউ প্রক্রিয়াটিও যে আইনের যথার্থ প্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিচালিত হবে, সেটা আমরা বাস্তবিকভাবে ভাবতে পারছি না। বিশেষত রিভিউ পিটিশনের রায়ের সাথে সাথেই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হতে পারে, এমন কিছু সংবাদে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। জনাব আলীর এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যথার্থ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত হবার আগ পর্যন্ত এই মৃত্যুদন্ড কার্যকর না করতে আমরা বাংলাদেশের সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আহবান জানাচ্ছি।
একই সাথে, জনাব মীর কাসেম আলীর পুত্র মীর আহমাদ বিন কাসেম, যিনি তার বাবার মামলার মূল কৌসুলীর ভূমিকা পালন করেন, আমরা তার কথিত অপহরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা জেনেছি যে, তাকে তার বাসা থেকে ৯ই আগস্ট তুলে নেয়া হয়েছিল এবং এরপর তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার সন্ধান খুঁজে বের করে তার অবস্থান এবং সুস্থতা নিশ্চিত করতে জোরদার পদক্ষেপ নেবার জন্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
ধন্যবাদান্তে
ইউরোপীয়ান পার্লামেন্টের সদস্যবৃন্দ
1. হাইডি হৌতালা
2. ইজাসকুন বিলবো বারাকান্দিকা
3. মালিন বরক
4. ফ্যাবিও মাসিমো কাস্ট্যালদো
5. ফ্যাবিও দে মাসি
6. স্টেফান ইক
7. অ্যানা গোমেজ
8. হ্যান্স ওলাফ হিঙ্কেল
9. মারিয়া হিউবুক
10. ইভা জোলি
11. ইউসো জুরাইস্তি
12. জ্যুড কিরটন ডার্লিং
13. স্টেইলস কৌলুগ্লু
14. মেরহা কিলোনেন
15. বারন্ড লমেল
16. উলরিখ লুনাসিক
17. স্যাবিন লোসিং
18. লুইস মিচেলস
19. ম্যারিনা মিচেলস
20. দিমিত্রিস পাপাদিমৌলিস
21. কাতি পিরি
22. মিশেল রিভাসি
23. লিলিয়ানা রডরিগুয়েজ
24. ব্রনিস হোপ
25. হেলমুট শুলজ
26. মলি স্কট কাতো
27. বারবারা স্পিনেল্লি
28. বারট স্টেস
29. ইভান স্টেফানিক
30. মারক তারাবেল্লা
31. মিগুয়েল আরবান
32. আরনেস্ট উরতাসুন
33. ইভো ভাল
34. ভ্যারি ক্রিস্টিন ভিজিয়েত
35. জোসেফ উইডেনহোলজার

বামপন্থা সর্বকালেই গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, স্বাধীন বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড শুরু করেন স্বাধীনতার পক্ষের বামপন্থীরা -ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  ধর্মের প্রভাবকে বিলীন করার উদ্দেশ্যে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হৈচৈ করা বামপন্থী সমাজতন্ত্রীদের একটা কৌশল। কারণ জাতিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে ধর্মহীন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। আমাদের মুসলিম সমাজ কখনও সাম্প্রদায়িক ছিল না এবং সাম্প্রদায়িকতার দোষে তাদের নিন্দা করা মোটেও কাম্য নয়। তাই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতিকে সতর্ক করতে গিয়ে তারা ধর্মীয় সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে বলেই আমার ধারণা। যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের সততার সঙ্গে বলা প্রয়োজন, তারা সাধারণ মানুষের নির্বাচনে বিশ্বাস করেন না। তারা ধর্মনিরপেক্ষ নীতির পথ ধর্মহীনতাকেই মনে করেন। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থায় তারা আস্থাশীল নন। তারা দলীয় একচ্ছত্র শাসনের প্রবক্তা।

এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড শুরু করেন স্বাধীনতার পক্ষের বামপন্থীরা, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো চরম ইসলামপন্থীরা নয়। অথচ এসব বামপন্থী গ্র“পের স্বাধীনতাপূর্ব রাজনীতিতে জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করার মতো না ছিল জনসমর্থন, না ছিল পেশিশক্তি।

স্বাধীন বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রবক্তারা ভয়াবহ সন্ত্রাসী তৎপরতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গণতন্ত্রের বদলে এ দেশের মানুষের ওপর সমাজতন্ত্র চাপিয়ে দেয়ার উত্তাপ-উত্তেজনা থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম উৎসাহ পাচ্ছে কিনা তা আমাদের ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কারণ ধর্মীয় জঙ্গিবাদ যেমন দেশের মধ্যে শুধু সীমাবদ্ধ থাকে না, ঠিক তেমনি একইভাবে সমাজতন্ত্রের ক্ষেত্রেও বাইরের উৎসাহ-সহযোগিতা থাকে।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্যে ধর্মহীন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুকে ব্যবহারের জন্য নৈরাজ্য সৃষ্টি ও সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে তার ওপর বিপুল চাপ সৃষ্টি করতে হয়।

এ দেশের জনগণই তাদের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে তৈরি করেছে। জনগণের নেতা জনগণের সৃষ্টি। তার সংগ্রামের প্রকাশ্য লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র তথা জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তিনি প্রায়ই গর্বের সঙ্গে বলতেন : এ দেশের মানুষ আমাকে ভালোবাসে এবং আমিও তাদের ভালোবাসি। জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি তার রাজনীতি ছিল না।

তিনি ছিলেন সত্যিকারের জনগণের নেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাঁচে গড়া গোঁড়ামিতে বিশ্বাসী নেতা তিনি ছিলেন না এবং সমাজতন্ত্রের ডগমাভিত্তিক রাজনীতিতে তার বিশ্বাস ছিল না। জনগণের ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। রাষ্ট্রপরিচালনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে ভুল-ভ্রান্তি তারও নিশ্চয়ই হয়েছে। কম-বেশি সবারই হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে গণমানুষের মতামতের প্রাধান্য অস্বীকার করা যাবে না। তার ছয় দফার প্রতি সমর্থন জনগণের ভোটেই পেয়েছিলেন। সমাজতন্ত্রের ডগমাটিক চিন্তায় জনগণের মঙ্গল হচ্ছে কিনা তা জনগণ থেকে জানতে হবে না। সমাজতান্ত্রিক থিওরি বৈজ্ঞানিক। তাই বৈজ্ঞানিক উপায়ের ওপর আস্থা রাখলেই হল।

বঙ্গবন্ধু যদি জনসমর্থিত নেতা বা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের নেতা না হবেন, তাহলে তিনি যে আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নির্যাতন ভোগ করলেন তার এসব কর্মকাণ্ডকে তাহলে নিষ্ঠুরতম ভাষায় লোক দেখানো চাতুর্য বলতে হবে। বিপ্লবী কোনো নেতা জনসমর্থনের ওপর নির্ভরশীল নন। তিনি নিজেই নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুকে বিপ্লবী নেতা বলা হলে তিনি যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিশ্বস্ত সাগরেদ ছিলেন, নেতা হিসেবে যিনি ছিলেন গণতন্ত্রের জীবন্ত প্রতিমূর্তি, শাসনতান্ত্রিক পন্থা ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, সেই মহান নেতার সঙ্গে তার সম্পর্কের গুরুত্ব বলতে গেলে কিছু থাকে না। অস্বীকার করতে হয় তার প্রিয় মানিক ভাইয়ের প্রভাবের কথাও।

তাহলে এটাও বলতে হবে, যেসব নেতাকর্মী শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন, তারা গণতান্ত্রিক দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন না। উদ্দেশ্য হাসিলের পথ ও পন্থার হেরফের হতেই পারে। তবে দর্শন ফেলে দিয়ে নয়। সেটা হলে তো তা হবে ক্ষমতালোভীদের সুবিধাবাদী রাজনীতি।

পাকিস্তান আমলে দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা বামপন্থীদের কাছ থেকে যখন আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার চ্যালেঞ্জ এল তখন আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে শক্তি জোগান বঙ্গবন্ধু। কাউন্সিলররা বিপুল ভোটে সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্ব সমর্থন করেন। গণতন্ত্রের সংগ্রামকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুও সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে তার সঙ্গেই থাকেন। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ভাঙনের ঝুঁকি নিয়েছিল, তবু বামপন্থীদের বিপ্লবী রাজনীতির কাছে নতি স্বীকার করেনি।

আওয়ামী লীগের ভেতরের একটি ক্ষুদ্র অংশ হিসেবে বামপন্থীরা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে নতুন দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। মওলানা ভাসানীর ওপর পরম শ্রদ্ধা রেখেও স্বীকার করতে হবে যে তার নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তবে ব্যক্তি ভাসানী শক্তিশালী ছিলেন।

বামপন্থীরা বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিচ্ছিলেন; কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাদের কথা শোনেননি। তিনি তখন জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাসে অটল থাকেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ঘোষিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। বামপন্থী গ্র“পগুলো তাকে বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। তাদের কৌশল পরিষ্কার। নির্বাচনে তো তাদের কোনো স্থান থাকবে না। নির্বাচন না হলে তারা বড় বড় নেতা সেজে বড় বড় বিপ্লবী কথা শোনাতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধু জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস রাখতেন। অস্ত্রনির্ভর বিপ্লবী রাজনীতির কোনো চিন্তাভাবনা তার ছিল না এবং তিনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রেরও অংশীদার হতে চাননি। বামপন্থী রাজনীতি কখনও জাতীয়তাবাদী হতে পারে না। সমাজতন্ত্র অবশ্যই আন্তর্জাতিক।

তিনি জানতেন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নিলে জনগণের সমর্থন পেয়ে অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে তিনি নিশ্চিত ছিলেন, জনগণের রায় পেলে প্রধান সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান আরোপিত আইনি বাধ্যবাধকতার কোনো গুরুত্ব থাকবে না।

যে মানুষটির শক্তির উৎস ছিল জনগণ এবং জনসমর্থন, তাকে কোনোভাবে বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক নেতা বলা যায় না। তিনি বৈজ্ঞানিক অথবা অবৈজ্ঞানিক কোনো ডগমারই নেতা ছিলেন না।

সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণ নেতাদের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে না, তারা মার্কসবাদ অনুসরণে তাদের মার্কসবাদী জ্ঞান দিয়ে জনগণকে সেবা দেয়ায় বিশ্বাসী। কথায় বলে পাগলেও নিজের ভালো বুঝে। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক ভাবনায় জনগণ নিজেরাই নিজেদের ভালো বুঝে না- তারা ভাবে, সমাজতন্ত্রই তাদের মুক্তি আনবে।

সমাজতান্ত্রিক দর্শনকে কার্যকর করতে জনমত নয়, রাষ্ট্রীয় শক্তিই সবকিছু। অবশ্য সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তি প্রয়োগ তাদের কাছে এত স্বাভাবিক যে, রাষ্ট্রীয় শক্তির অপপ্রয়োগ কাকে বলে সেটাই তাদের জানা নেই।

সমাজতন্ত্রীরা বিশ্বাস করেন না যে জনগণের কিছু অলংঘনীয় অধিকার থাকতে হয়, যেসব অধিকারের প্রতি সরকারকে অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। আজকের আধুনিক যুগে পশুদেরও কিছু অধিকার আছে। কিন্তু সমাজতন্ত্রে জনগণের কোনো অধিকার নেই, আছে কেবল নির্দেশ মানার দায়িত্ব।

সোজা কথায় বলতে হয়, ক্ষমতার দাপটে বিশ্বাসী কিছু লোক স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার আধুনিক ব্যবস্থা হিসেবে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অন্ধ ভক্ত। নিজেদের মজলুম জনগণের নিঃস্বার্থ দরদি বলে দাবি করে রাষ্ট্রীয় সব স্বার্থের মালিক তারা হয়ে যান। সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক সুবিচার কায়েমের নীতিগত দিক প্রশংসনীয়। কিন্তু সমাজতন্ত্রের রাজনৈতিক দিক কঠিন স্বৈরতন্ত্র ভিন্ন কিছু নয়। সমাজতান্ত্রিক প্রশাসনে জনগণের ভোটাধিকারকে অস্বীকার করা হয়। যুক্তি হল দেশ শাসনের প্রশ্নে তাদের জ্ঞান-বুদ্ধির ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না। অর্থাৎ সমাজতন্ত্রে দীক্ষিত শাসকরাই একমাত্র জানেন দেশ ও জনগণের মঙ্গল কিসে। তারা যাকে বলবে উন্নয়নের রাজনীতি সেটাই জনগণের উন্নয়ন বলে মেনে নিতে হবে। বর্তমান বিশ্বে সর্বাত্মক কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্র দ্রুত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাকি দুনিয়া এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

তথাপি এখনও বাংলাদেশের মতো অস্থিতিশীল এবং দুর্নীতিতে ভরা দেশে বিদ্যমান দুর্বল ও ব্যর্থ গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ঘাড়ে চেপে বামপন্থীরা ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাষ পোষণ করে চলেছেন। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন না দিয়ে রাজা-বাদশাদের মতো তারা ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার বাসনা পোষণ করে থাকেন।

এটা অস্বীকার করা যাবে না, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি সত্যিকার আস্থার প্রমাণ স্বরূপ ১৯৭২ সালে গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র দিয়েছিলেন এবং গণতান্ত্রিক পথ ও পন্থার প্রতি তার নিষ্ঠার কারণে ১৯৭৩ সালে সেই শাসনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারও তিনি গঠন করেছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনী রাজনীতির বিলোপ সাধনে আগ্রহী ছিলেন না।

কিন্তু শিগগিরই বামপন্থী গ্রুপগুলো একটা সুযোগ পেয়ে গেল বঙ্গবন্ধুকে সমাজতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করার। সরকার পরিচালনায় তিনি নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। নিজের লোকদের দুর্নীতি ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। বামশক্তিগুলো সন্ত্রাস আর হাট-বাজার লুট করার পথ বেছে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্য সরকার পরিচালনার কাজটি অধিকতর কঠিন করে তোলে। উগ্রপন্থীদের হাতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর জীবন হারাতে হয়। যে কারণে প্রতিটি সংসদ সদস্যের জন্য অস্ত্রধারী লোক দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু নিজেও এক ধরনের অসাংবিধানিক পরিবর্তনের আশংকায় ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর কর্তৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ করেছিল। এমনকি তারা প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর চামড়া খুলে ফেলার স্লোগান দেয়ার মতো সাহস দেখিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদেরই একাংশ ক্ষমতা গ্রহণের জন্য অস্থির হয়ে পড়লেন। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলেন না। তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। কর্তৃত্ববাদী সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি গ্রহণ করলে তাকে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছিল। সেক্ষেত্রে জনগণের ভোটের আর প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজন থাকবে না জনসমর্থন লাভের। সরকার জনপ্রিয়তা হারালেও কিছু যাবে আসবে না। সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরার জন্য স্বাধীন সংবাদপত্রের অস্তিত্ব থাকবে না। এভাবেই ১৯৭৫ সালে বামপন্থীরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সরকারের অংশে পরিণত হয়। এভাবে গঠিত হয় একদলীয় বাকশাল সরকারের যৌক্তিকতা। যাদের পেছনে কোনো জনসমর্থন নেই, তারাই আওয়ামী লীগের বিপ্লবী অংশ হয়ে রাষ্ট্রীয়ক্ষমতা গ্রহণ করলেন- এখনও আছেন। কোনোরূপ বিপ্লব ছাড়াই দেশ বিপ্লবী সরকারের অধীনস্থ হল। বঙ্গবন্ধুর ওপর চাপিয়ে দেয়া পরিবর্তনকে তিনি দ্বিতীয় বিপ্লব না বলে কী-ই বা বলবেন? দেশে তাই দ্বিতীয় বিপ্লব হয়ে গেল। গণতন্ত্র নিধনের পরিবর্তনকে তো গণতান্ত্রিক পরিবর্তন বলা যেত না।

কিন্তু আমাদের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা এবং মধ্যপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে আমাদের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গাটি অবিচল ও অপরিবর্তিত থেকে গেল, যেমনটি ঐতিহাসিকভাবে প্রত্যাশিত। দেশে সংঘাতের রাজনীতি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটাতে হলে আমাদের অবশ্যই এ দেশের মানুষের মন-মানসিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীকে অস্বীকার করে ক্ষুদ্র সম্মিলিত শক্তির আধিপত্য বিস্তার বর্তমান যুগে অসম্ভব। নৈরাজ্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন হবে।

তাই উগ্রবাদের মোকাবেলা করার সর্বোত্তম পন্থা হবে রাষ্ট্রপরিচালনায় জনগণের ইচ্ছাকেই শেষ কথা হিসেবে মেনে নেয়া। আমরা কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার সংঘাত ঘটিয়ে ইন্দোনেশিয়ার মতো নির্মম রক্তপাতের মুখোমুখি হতে চাই না। ধর্মীয় গোঁড়ামিতে বিশ্বাসীরা এবং সমাজতন্ত্রীরা কখনও প্রতিপক্ষের ব্যাপারে সহনশীলতা দেখায় না এবং শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথও তাদের পথ নয়।

ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সমাজতন্ত্রবাদ- দুটিই সন্ত্রাসী শক্তির ওপর নির্ভরশীল। ধর্মের নামে হত্যা করা এবং বিপ্লবী রাজনীতির মাধ্যমে জীবন নেয়ার মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। তাই আমরা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং বৈপ্লবিক রাজনীতি কোনোটাই চাই না।

আমরা আমাদের মধ্যকার ঐক্য ও ধর্মীয় বন্ধন ছিন্ন-ভিন্ন হতে দিতে পারি না। আমরা সবাই মিলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই আমাদের গর্বের বাংলাদেশ গড়তে পারি। হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে নয়, একের ওপর অপরের মনিবসুলভ কর্তৃত্ব দাবি করেও নয়। আমাদের মেধা ও মননশীলতার সুস্থ প্রয়োগের মাধ্যমেই আমরা নিজেদের শান্তি ও স্বস্তির জীবন গড়তে পারি। শেষ কথা হিসেবে যা বলতে চাই তা হল, বিপ্লবী রাজনীতি করতে গিয়ে জনজীবনে ধর্মীয় গোঁড়ামিকে আহ্বান জানাবেন না।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে প্রবাসী বাংলাদেশেী শরীয়তপুরের সরকারী গালর্স স্কুলের সাবেক শিক্ষিকা নাজমা মারা গেছেন

ইমামসহ দুজনকে গুলি চালিয়ে হত‌্যার মাস না গড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি এক নারী ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) নিহত নাজমা খানম ঝর্না (৬০) কুইন্সের জ‌্যামাইকা হিলস এলাকায় থাকতেন। তিনি ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক’ হামলার শিকার বলে স্বজনদের ধারণা।
রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনেই নরম‌্যাল রোডে নাজমা দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন বলে পুলিশ ও তার স্বজনরা জানিয়েছে। তিন সন্তানের মা নাজমার এক সন্তান নিউ ইয়র্কে থাকেন। অন‌্য দুই ছেলে-মেয়ে থাকেন বাংলাদেশে। শরীয়তপুর জেলার বাসিন্দা নাজমা বাংলাদেশে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। নাজমার বোনের ছেলে মোহাম্মদ কবির নিউ ইয়র্ক মুসলিম পুলিশ অফিসার অ‌্যাসোসিয়েশনের সদস্য। পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় কাছেই ছিলেন নাজমার স্বামী সামসুল হক। স্ত্রীর চিৎকারে তিনি এগিয়ে আসার আগে হামলাকারীরা কেটে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে নাজমাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। নাজমার ভাই বাংলাদেশে থাকা আলতাফ হোসেন ভগ্নিপতিকে উদ্ধৃত করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তার বোন এবং ভগ্নিপতি কেনাকাটার জন্য বাসার বাইরে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় বাসার কাছাকাছি আসার আগে তার বোন কিছুটা এগিয়ে যান। “এরই মধ্যে বোনের চিৎকার শুনে ভগ্নিপতি তাকিয়ে দেখেন, ২/৩জন দুর্বৃত্ত বড় ধরনের চাকু দিয়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাচ্ছে।” নাজমার ভাগ্নে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী মোহাম্মদ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা হেইট ক্রাইম। কারণ আমার খালা মুসলিম পোশাকে হাঁটছিলেন। তার কাছে থেকে কিছুই নেয়নি দুর্বৃত্ত।” তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এখনি কোনো সিদ্ধান্ত না টেনে বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে ঘাতককে গ্রেপ্তারে সহায়তা চেয়ে কোনো তথ‌্য থাকলে তা ১-৮০০-৫৭৭-৮৪৭৭ নম্বরে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে ডিভি লটারিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাড়ি জমিয়েছিলেন শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ‌্যালয়ের শিক্ষক নাজমা। তার স্বামীও শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।সেখানে গিয়ে তারা ব্যবসা করছিলেন বলে জানান আলতাফ।
গত ১৩ অগাস্ট কুইন্সের ওজন পার্কে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি (৫৫) এবং তার সাথী থারা মিয়াকে (৬৪)। ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অস্কার মরেল (৩৫) নামক এক স্পেনিশভাষীকে। ১৭ দিনের ব্যবধানে আরেক বাংলাদেশি পথে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় কুইন্সের জ্যামাইকা এবং ওজনপার্ক এলাকায় বসবাসরত লক্ষাধিক বাংলাদেশির মধ‌্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখানকার সব বাংলাদেশিই বাঙালি পোশাকে চলাফেরা করেন। এভাবে চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হওয়ায় কেউই এখন নিরাপদবোধ করছেন না।”
১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাসরত আকবর বলেন, “ভেবেছিলাম, এটি আমাদের নিরাপদ আবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় একেবারেই অপরিচিত লাগছে এলাকাটি।”

যে সব কারণে ক্যান্সার হতে পারে অধ্যাপক নইম কাদের

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্ক ১ আগষ্ট ২০১৬ঃ কি কি কারণে ক্যান্সার হচ্ছে বা হতে পারে তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। অদ্যাবধি ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কোন কারণ চিহ্ণিত করা সম্ভব হয়নি। তবে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্যান্সারের কারণ খুঁজে পেতে ব্যাপক গবেষণা চলছে। গবেষণায় ক্যান্সারের কিছু কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এ সবের মধ্যে খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন অন্যাতম।
ধূমপান : ধূমপায়ীদের জন্য এটা অবশ্যই দুঃসংবাদ যে, ক্যান্সার বিষয়ক যত গবেষণা হয়েছে, সব গবেষণায় ধূমপান ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ধূমপানের মাধ্যম ফুসফুস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে বেশি। এ পর্যন্ত যারা ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অধিকাংশ হয় নিয়মিত স্মোকার অথবা জীবনের কোন না কোন সময় ধূমপান করতেন। ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ভাগ ধূমপায়ী ও তামাক সেবী।
মাদবদ্রব্য সেবন : মদ ও মাদকদ্রব্য সেবন ক্যান্সার সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সকল প্রকার মাদকদ্রব্য ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। মুখগহ্বর, ফুসফুস, লিভার, কণ্ঠনালী প্রভৃতি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ মাদবদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।
পান : কিছু মানুষকে দেখা যায়, সারাক্ষণ পান চাবান। তাদের ঠোঁট, দাঁত ও জিহ্বাসহ পুরো মুখমণ্ডল বিশ্রি এক বর্ণ ধারণ করে। অতিরিক্ত পান খাওয়া মানে ক্যান্সারের ঝুঁকি। আর যারা পানের সাথে চুন, সুপারি, খয়ের, নানারকম মসল্লা, বিভিন্ন নামের জর্দা, সাদাপাতা ইত্যাদি খান, তাদের মুখ গহ্বর, জিহ্বা, ঠোঁট, মাড়ি ইত্যাদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি। পানের সাথে চুন, সুপারি ও জর্দা ইত্যাদির মিশ্রণে মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশে এক প্রকার ক্ষত তৈরি হয়। এই ক্ষত যে কোন সময়ে ক্যান্সারে রূপ লাভ করতে পারে। পানের সাথে খাওয়া খয়ের এর প্রধান উপাদান ট্যানিন থেকে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রমাণিত। একইভাবে মিষ্টি সুপারিতে থাকে ছত্রাক। অ্যাকালট্রপিন ছত্রাকে আক্রান্ত সুপারি লিভার ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
চিনি ও লবণ : গবেষণায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত চিনি ও লবণ ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব চিনি ও লবণ কম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
অলস জীবন : চিকিৎসা বিজ্ঞানের নানা গবেষণায় এ কথা বারবার প্রমাণ হয়েছে যে, মানব দেহের সুস্থতা নির্ভর করে ভারসাম্যপূর্ণ পরিশ্রমের উপর। অলস জীবন যাপন মানে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন। ক্যান্সার বিষয়ক গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যারা পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করেন তাদের তুলনায় যারা পরিশ্রমী নন, অলস জীবন যাপনে অভ্যস্থ, তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বংশগত ইতিহাস : ক্যান্সার কি বংশগত রোগ? পিতা-মাতা কারো ক্যান্সার হলে সন্তানদের জীবন কতটুকু ঝুঁকিপূর্ণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্যান্সার বংশগত রোগ নয়। তবে, পিতা-মাতা বা বংশে নিকটতম কেউ ক্যান্সার হলে জিনগত কারণে সন্তানের ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 
পেশাগত কারণ : কিছু কিছু পেশা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে যাদেরকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকতে হয়, ব্যবহার করতে হয়, তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ। যারা বিভিন্ন রঙের কারখানায়, জাহাজতৈরি শিল্পকারখানায়, গ্যাস ও রাবার কারখানায় কাজ করেন, অন্যদের তুলনায় তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। এ জাতীয় পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মূত্রথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি বলে গবেষণায় জানা গেছে।
বয়স : বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। যে কোন বয়সের নারী-পুরুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশুদের তুলনায় বৃদ্ধ বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি। এ ক্ষেত্রে ষাটোর্ধ বয়স অধিক ঝুকিপূর্ণ। ক্যান্সার আক্রান্তদের উপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৭০ভাগের বয়স ৬০ এর বেশি।
সূর্যের তাপ : জীবন ধারণের জন্য সূর্যের তাপ অপরিহার্য। তবে অতিরিক্ত সূর্যের তাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যারা তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, বা যাদেরকে প্রায়ই রোদে কাজ করতে হয়, তাদের ত্বক ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি আছে।
বুকের দুধ : মায়ের বুকের দুধ সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার। অনেকে মা কর্মব্যস্ততা ইত্যাদি অজুহাতে সন্তানকে পর্যাপ্ত দুধ পান করান না। এটি স্তন ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
যে কোন সময়, যে কোন বয়সে ক্যান্সার হতে পারে। তবে উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো ক্যান্সার বিষয়ক নানা গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে পারলে ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলক কমে যাবে।