ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ স

আচ্ছালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট দক্ষিণগাও বাজার এর পক্ষ থেকে সকল গ্রাহক, শুভাকাংখীসহ সবাইকে জানাই সালাম শুভেচ্ছা। এইগ্রুপে যারা আছেন তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার এলাকারসকলকে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে রেমিটপন্স পাঠানোর আহবান জানাচ্ছি। রাজারবাগ, কুসুমবাগ, দক্ষিনগাও, শাহীবাগ, মানিকদিয়া, বাইকদিয়া, নন্দিপাড়াসহ সকল এলাকার গ্রাহক, শুভাকাংখী, শুভানুধ্যায়ীদের প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলোঃ ০১৭১১-৪৫৮১৫১, ০১৭০০৯২৫২৪১

মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

অবশেষে পেলাম সেই কাঙক্ষিত লেখা। যা পড়ে কাদবো বলে চোখের অশ্রু জমা হয়ে আছে... ফাঁসির আগ মুহুর্তে আব্বুর শেষ সাক্ষাত ও দীর্ঘ মোনাজাত: ডা. নাঈম খালেদ


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  মাগরিবের কিছু আগে কারা কর্তৃপক্ষ ফোন করে মিঠু ভাইকে (আমার শহীদ পিতার ব্যক্তিগত সহকারী) জানালেন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা যেন সাক্ষাতের জন্য জেলগেটে চলে আসে। এটা শেষ সাক্ষাৎ কিনা কারা কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্ট করে বলতে অস্বীকার করে। অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই আমরা বাসা থেকে তিনটি গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই।
সাংবাদিকদের ভিড় ও নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে আমরা ২৬ জন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করি। সেখানে কারা প্রশাসনের ইস্যু করা চিঠি রিসিভ করে বুঝতে পারলাম এটাই আমাদের আব্বুর সাথে বিদায়ী সাক্ষাৎ। নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো কনডেম সেলে আব্বুর কক্ষে। সেলটির নাম রজনীগন্ধা। সেলের সর্বশেষ কক্ষ ৮ নম্বর প্রকোষ্ঠে আব্বু ছিলেন। রুমটি জানালা বিহীন, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে আনুমানিক ৮/৮ ফিট, একদিকে লোহার গরাদ দিয়ে ঘেরা আর তার সামনে ছোট একটি আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ।
রুমের ভেতরে সবুজ একটি জায়নামাযে বসে আব্বু আমাদের উল্টাদিকে কেবলামুখী হয়ে দোয়া করছিলেন। শান্ত ও স্পষ্ট উচ্চারণে আরবিতে দোয়া করছিলেন, খুব উচ্চৈঃস্বরেও না আবার খুব নিচুস্বরেও না। প্রতিটি বাক্যের মাঝে স্বভাব সুলভ একটু বিরতি। ঠিক যেমনটা আমরা আমদের ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি। পাশে হালকা বাদামি রঙের একটি বাচ্চা বিড়াল বসা। যেন উনার সাথে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। মুয়াজ (উনার তিন বছর বয়সী নাতী) সিঁড়ি বেয়ে উঠে লোহার গরাদ ধরে বলল, “দাদু দরজা খোলো আমরা আসছি”। আব্বু শান্তভাবে মোনাজাত শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। আমাদের দেখে লোহার গরাদের কাছে এসে বললেন, “তোমরা আসছো? এটাই তাহলে শেষ দেখা?”
আমার বোন একটু আবেগপ্রবণ হয়ে বললেন, “আল্লাহ চাইলে এটা শেষ দেখা না-ও হতে পারে।” এর পরে একটু আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হলে উনি সবাইকে শান্ত থাকতে বললেন, সবর করতে বললেন। উনি শিকের ওপার থেকেই সবার সাথে হাত মেলালেন। উনার পরনে ছিল সাদা সুতি পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি। গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে আর জানালাবিহীন রুমের কারণে উনার পাঞ্জাবিটি ঘামে ভেজা, কিন্তু মুখটা প্রশান্ত; কষ্ট বা উদ্বেগের লেশমাত্র নেই। দেখে কে বলবে একটু পরে উনার ফাঁসি দেবে এই জালিম সরকার।
শিকের ভেতর থেকে সবাই উনাকে দেখতে পাচ্ছিলাম না, উনিও সবাইকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। উপস্থিত কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করায় উনারা গেট খুলতে রাজি হলেন। আব্বু আঙ্গিনায় এসে আমাদের মাঝখানে একটি সাদা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসলেন। প্রথমেই তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সবার খোঁজ খবর নিলেন। এরপরই তিনি তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমাকে জেল সুপার রিভিউ খারিজ সংক্রান্ত রায় পড়ে শুনানোর পর জানতে চান আমি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ও প্রাণ ভিক্ষা চাইবো কিনা। আমি তাদেরকে বলেছি আমি কোন অন্যায় করিনি, ক্ষমা চাওয়ার অর্থই হল দোষ স্বীকার করে নেয়া, সুতরাং ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর জীবন-মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, তাই মানুষের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে ঈমান হারা হতে চাই না।”
আজ বিকেলে (১০ মে, ২০১৫) ডিআইজি প্রিজন এসে আমি যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাই না তা লিখিতভাবে দিতে বলেন। আমি স্পষ্ট ভাষায় লিখে দেই যে আমি ক্ষমাও চাইবো না, প্রাণভিক্ষাও চাইবো না।”
এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আব্বু সবাইকে সবর করার ও শক্ত থাকার নসিহত করছিলেন। উনার চোখে আমি কোন পানি দেখিনি। আবার উনাকে আবেগহীন রুক্ষও মনে হয়নি। মনে হচ্ছিল যেন এক প্রশান্ত আত্মা অপেক্ষা করছেন তার মহান রবের সাথে সাক্ষাতের জন্য। এরপর আম্মু ছাড়া আমরা সবাই আঙ্গিনা থেকে বের হয়ে আসি যাতে আব্বু আম্মুর সাথে একান্তে কিছু কথা বলতে পারেন।
আম্মু আব্বুকে সাহস যোগাচ্ছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শক্ত থাকার ব্যাপারে আর আল্লাহর কাছে শাহাদাতের উচ্চ মর্যাদার কথা বলছিলেন। আম্মু আরও বলেন আমরা আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দেব তুমি সৎ ও নেককার বান্দাহ ছিলে। তুমি কোন অন্যায় করোনি।
অন্যদিকে আব্বু আম্মুকে বলেন আজ থেকে তুমি ওদের বাবা ও মা দুটোই। তোমার মাঝে যেন ওরা আমাকে দেখতে পায়। আর তুমিও আমাদের সন্তানদের মাঝে আমাকে খুঁজে পাবে।
এরপর আমরা ভাইবোনেরা আবার ভেতরে যাই। আব্বু আমাদেরকে বলেন, “তোমরা ভাইবোনেরা মিলেমিশে থাকবে, আল্লাহ ও রাসূলের (সা:) পথে চলবে, মায়ের খেদমত করবে। তোমরা তোমাদের মায়ের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। আর তোমাদের আম্মা যেন তোমাদের মাঝে আমাকে খুঁজে পায়। তোমরা তোমাদের আব্বুকে যেভাবে দেখেছো সেটাই মানুষকে বলবে, আমার ব্যাপারে বাড়তি কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। আমরা বয়স এখন ৭৫ বছর, আমার সহকর্মীদের অনেকেই আমার মত লম্বা হায়াত লাভ করে নাই, তোমরা তোমাদের বাবাকে দীর্ঘদিন পেয়েছ, হায়াত মাউত আল্লাহর হাতে, আমার মৃত্যু যদি আল্লাহ আজকে রাতেই লিখে রেখে থাকেন তাহলে বাসায় থাকলেও মৃত্যু হত। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখবে আর শুকরিয়া আদায় করবে”।
এরপর আমরা আমাদের সন্তানদেরকে আব্বুর কাছে নিয়ে বলি আব্বু দেখেন আপনার তিন নাতীর নাম আপনার নামের সাথে মিল রেখে রাখা। দোয়া করবেন যেন তারা আপনার মত হতে পারে। আব্বু বলেন, “দোয়া করি ওরা যেন আমার চেয়েও অনেক বড় হয়, নবীর সাহাবাদের মত হয়।”
তখন তিনি একটা ঘটনা বললেন। একজন বড় আলেম তার সন্তানকে জিজ্ঞেস করেছিল তুমি কি হতে চাও? সে বলল, আমি তোমার মত বড় আলেম হতে চাই। তখন আলেমটি কাঁদতে শুরু করল। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে আলেম বলেন, আমিতো হযরত আলী (রা:) এর মত হতে চেয়েছিলাম আর এখন দেখ হযরত আলী (রা:) আর আমার মধ্যে কত ব্যবধান। এখন তুমি যদি আমার মত হতে চাও তবে তুমি কতদূর যেতে পারবে ভেবে দেখ।”
“মোমেন (মেঝো ছেলে) তো আমার থেকেও বড় আলেম, আমি অনেক বিষয়ে তার কাছ থেকে রেফারেন্স নেই।”
আমরা বলি “আমরা তো আপনার জন্য কিছুই করতে করতে পারি নাই”। উনি বললেন, “ফয়সালার মালিক আল্লাহ, তোমরা তো শুধু চেষ্টাই করতে পার। আমার চেয়ে বয়সে ছোট অনেক সাথীই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তো আমাকে অনেক আগেই দুনিয়া থেকে নিয়ে যেতে পারতেন। কোন যুদ্ধ না করেও যদি আল্লাহ শহীদী মর্যাদা দিতে চান সেটাতো পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার।”
এরপর আব্বু ভিন্ন প্রসংগে যান। বিশেষ করে যারা তার জন্য, অন্যান্য নেতৃবৃন্দের জন্য সর্বোপরি ইসলামী আন্দোলনের জন্য কষ্ট করছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও সালাম জানাতে বলেন। সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন যেন আল্লাহ তায়ালা তার শাহাদাত কবুল করেন।
তখন আম্মু বলেন, আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতেও সম্মানিত করেছেন, আখেরাতেও সম্মানিত করবেন ইনশাআল্লাাহ। আব্বু তখন বলেন, আমি সামান্য অজ পাড়াগাঁয়ের ছেলে। আল্লাহর রহমতে আমার জন্য গোটা দুনিয়া ও বড় বড় আলেমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, দোয়া করেছেন। আমার মুক্তির ব্যাপারে ওআইসিতে আলোচনা হবে দেখে শেখ হাসিনা ওআইসি সম্মেলনে যায়নি, এগুলোতো পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। 
আমরা আব্বুকে বলি, আমাদের জন্য কাল কেয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, যেন আমরা জান্নাতে যেতে পারি। আব্বু বলেন, “তোমরা জান্নাতে যাওয়ার মত আমল কর, তাহলে ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যেতে পারবে।”
এরপর আব্বু আমাদের অনুরোধে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করেন। প্রায় ঘন্টাখানেক এই মোনাজাত পর্ব স্থায়ী হয়। আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করার পর প্রথমে প্রায় ২০ মিনিট, রাসূল (সা:) এর শিখিয়ে দেয়া মাসনুন দুআ গুলি, যেগুলি আব্বুকে সারা জীবন করতে দেখেছি সেগুলি পাঠ করেন।
অতঃপর তিনি বলেন, “হে আল্লাহ আমি তোমার এক নগণ্য গুনাহগার বান্দাহ, তুমি আমাকে যতটুকু তোমার দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দিয়েছো তা মেহেরবানি করে কবুল করে নাও। আমাকে ইসলাম ও ঈমানের উপর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার তাওফিক দাও আর শাহাদাতের মৃত্যু দান কর। হে আল্লাহ তুমি আমাকে আর আমার বংশধরদেরকে নামায কায়েমকারী বানাও আর আমাকে আমার পিতামাতাকে আর সকল মুমিনদেরকে কাল কিয়ামতের দিনে ক্ষমা কর।
হে আল্লাহ আমাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমান দান কর, তোমার উপর সত্যিকারের ভরসা করার তাওফিক দান কর। আমাদের জিহবাকে তোমার সার্বক্ষণিক জিকিরকারী বানাও। আমরা তোমার কাছে, তোমার ভয়ে ভীত অন্তর, উপকারী জ্ঞান, হালাল প্রশস্ত রিজিক, সুস্থ বুদ্ধি ও দ্বীনের সঠিক বুঝ ভিক্ষা চাচ্ছি। হে আল্লাহ আমাদেরকে মৃত্যুর পূর্বে তওবা করার তাওফিক দাও, মৃত্যুর সময় আরাম দান কর, মৃত্যুর পরে তোমার ক্ষমা লাভ করার তাওফিক দাও ও দোযখের আগুন থেকে রক্ষা কর।
হে আল্লাহ তোমার হালালকৃত জিনিসের মাধ্যমে হারাম থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও, তোমার আনুগত্যের মাধ্যমে তোমার নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দাও আর আমাদেরকে তুমি ছাড়া কারও মুখাপেক্ষী করো না। আল্লাহ তোমার নূর দিয়ে আমাদেরকে হেদায়াত দান কর। আমাদের সকল গুনাহ খাতা তোমার সামনে পরিষ্কার, তোমার কাছেই ক্ষমা চাচ্ছি ও তোমার নিকট প্রত্যাবর্তন করছি। ইয়া হান্নান ইয়া মান্নান।”
তিনি আরও দোয়া করেন, “হে আল্লাহ তুমি এই দেশকে তোমার দ্বীনের জন্য কবুল করে নাও, এই দেশের জন্য শান্তির ফয়সালা করে দাও। এ দেশকে গুম, খুন, রাহাজানি ও আধিপত্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষা কর”। তিনি দেশ ও দেশবাসীর সুখ সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করেন। এই আবেগঘন মোনাজাতের সময় আমার মেয়ে কয়েকজন জেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চোখে পানি দেখেছেন বলে পরে আমাকে জানায়।
মোনাজাত শেষে আব্বু মোমেনকে জিজ্ঞাস করেন, তিনি ফাঁসির মঞ্চে লুঙ্গি পরে না পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন? মোমেন বলে, পাঞ্জাবি-পাজামা পরে যাবেন।
ব্যক্তিজীবনে একজন চিকিৎসক হওয়ায় আমাকে এর আগে বহু মৃত্যু দেখতে হয়েছে। বহু লোককে দেখেছি রোগে শোকে মৃত্যুর প্রহর গুনতে। আমি দেখেছি তাদের চেহারায় মৃত্যুর ছায়া, কিংবা একটি মুহূর্ত বেশি বেঁচে থাকার আকুতি। কিন্তু আব্বুকে শেষ সাক্ষাতে দেখতে গিয়ে আমি জীবনে প্রথম দেখলাম নির্ভীক একজন জান্নাতী মেহমানকে, তাঁর মহান রবের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি নিতে। আব্বুর কাছে সুযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কালক্ষেপণ করার। মৃত্যুর সময় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তা আমরা সবাই জানি। আজ দেখলাম অন্তরে সেই বিশ্বাসকে ধারণ করে কিভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়।
আব্বুর সাথে যারাই মিশেছেন তারাই সাক্ষী দিবেন আব্বু খুবই নরম মনের মানুষ ছিলেন। উনার কাছের ও দূরের সব মানুষের খুঁটিনাটি বিষয়েও খোঁজ খবর রাখতেন। কারও কিছু হলে পেরেশান হয়ে বারবার খবর নিতেন। যেটা সবার প্রতি তার মমতা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আমাদের পারিবারিক সাক্ষাৎগুলোতে তিনি প্রায়ই নিজের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতেন, আমার মন বেশি নরম, আমি কি শেষ পর্যন্ত শক্ত থাকতে পারব? এরকম একজন মানুষের নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে সমস্ত জাগতিক মায়া মমতা ও আবেগের ঊর্ধে উঠে শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে কথা বলা সত্যিই বিস্ময়কর।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে আব্বু জিজ্ঞেস করলেন সাঁথিয়ায় দাফন করতে কে কে যাবে? আমি বললাম আমি আর মোমেন যাব। তিনি তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে সাবধানে যেতে বললেন আর মিঠু ভাইকে সাথে রাখতে বললেন। আম্মাকে রাতে সাঁথিয়া যেতে মানা করলেন। মোমেনকে জানাযার নামাযের ইমামতি করতে বললেন। মোমেন প্যান্ট শার্ট পরে ছিল, তিনি বললেন পাঞ্জাবি পরে জানাযা পড়াতে।
আব্বুর শেষ নসিহত-
তিনি সবাইকে কুরআন-হাদীস মেনে চলার ও আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা:) পথে চলার উপদেশ দেন। যে কোন পরিস্থিতিতে সবর করার ও আল্লাহর উপর রাজি খুশি থাকতে বলেন। আমার পরিষ্কার খেয়াল নেই উনি এই সাক্ষাতে নামাযের ব্যাপারে আলাদাভাবে বলেছেন কিনা তবে আগের প্রায় প্রতিটি সাক্ষাতে তিনি নামাযের ব্যাপারে বিশেষ তাগাদা দিতেন।
এরপর উনি বলেন আমার অসিয়তগুলো তোমরা আমার লেখা বইগুলোতে পাবে। বিশেষ করে জেলে বসে লেখা দুটি বই- কুরআন হাদীসের আলোকে রাসূল মুহাম্মদ (সা:) ও আদাবে জিন্দেগী এবং আগে লেখা বই কুরআনের আলোকে মুমিনের জীবন’ প্রভৃতি বইগুলো পড়তে বলেন।
সবশেষে আমার সবচেয়ে বড়বোন মহসিনা আপাকে বললেন, “আম্মু আমি তোমাকে নিয়ে বেশি চিন্তিত, তুমি আমার মা, আমার সবচেয়ে বড় সন্তান, তোমার মুখেই প্রথম আমি আব্বু ডাক শুনেছি। তুমি শান্ত থেক।” আম্মুকে বললেন, “আমার সোনার টুকরা ৬ ছেলে-মেয়েকে রেখে গেলাম তুমি এদের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। তোমরা যাও, আমি তোমাদের যাওয়া দেখি।”
আমরা একে একে হাত মিলিয়ে আমাদের জান্নাতী বাবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। ছোট্ট বিড়ালটিও আমাদের পিছু নিল। শেষ সময়ের দেখা আব্বুর উজ্জ্বল চেহারাটি সারাটি পথ চোখে ভাসছিল। কোথায় যেন শুনেছিলাম some birds are not meant to be caged, their feathers are just too bright.
জেল থেকে বের হয়ে রওয়ানা হলাম সাঁথিয়ার উদ্দেশ্যে, জীবিত বাবাকে রেখে চললাম তার দাফনের প্রস্তুতি নিতে। রাসূল (সা:) এর সেই হাদীসটি তখন বারবার মনে পড়ছিল, যখন তোমরা কোন বিপদ মুসিবতে পড়বে তখন স্মরণ কর সবচেয়ে বড় মুসিবতের কথা। সেটা হবে আমাকে হারানোর মুসিবত। (ইবনে মাজাহ)। এই উম্মত রাসূল (সা:) কে হারানোর কষ্ট সহ্য করেছে। এই উম্মত সবই সহ্য করতে পারবে। রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরিন।
(# লেখক: মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মেঝো ছেলে)

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার রক্ত আর বাতিলের চাপানো ফাসির দড়ি বাংলার জমিনে ইসলামী আন্দোলনের চির স্থায়ী প্রেরণা হিসেবে থাকবে: শাহজাহান চৌধুরী

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল  শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ৩য় শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী চট্রগ্রাম মহানগরীর ,খুলশী থানা শাখার উদ্দ্যেগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 
খুলশী থানা জামায়েতের আমীর জনাব আব্দুল কাদের এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে  প্রধান অতিথি এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া আসন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক সংসদ সদস্য ও সংসদীয় দলের হুইফ, মজলুম জননেতা আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। প্রধান অতিথি আলোচনা সভায় বলেন, শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলার ইসলামী আন্দোলনের একজন সর্বোৎকৃষ্ট সিপাহসালার।তার প্রতিটি ফোটা রক্ত, ত্যাগ তিতিক্ষা, কারাগারের জীবন আর বাতিলের চাপানো ফাসির দড়ি এই জমিনে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী এবং সর্বোপরি ইসলামী আন্দোনের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
তিনি আরো বলেন, শহীদি মৃত্যুর এই বড় নিয়ামত যে ব্যক্তি হাসি মুখে গ্রহন করেছে সে কখনো অপরাধী হতে পারেনা। যারা শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে জুডিশিয়াল কিলিং এর মাধ্যমে হত্যা করেছে তাদের কেও এই জমিনে একদিন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইয়ের অনুসারীরা বিচারের সামনে নিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ। আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইয়ের রেখে যাওয়া এই আন্দোলনকে আরো দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে অধ্যাপক আলমগীর ভুইঞা, খুলশী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি জনাব ইকরাম, জনাব কাজী শাহীন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা শেষে শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি শাহজাহান চৌধুরী।

আবদুল কাদের মোল্লার ৩য় শাহাদাত বার্ষিকী: চান্দগাঁও জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬: বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি ও সাংবাদিক নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৩য় শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে  চান্দগাঁও থানা জামায়াতের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 
চান্দগাঁও থানা জামায়াত নেতা আবু জাওয়াদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে সর্বজনাব অধ্যাপক আবু এস. আফরিন, আবু নাহিদ, মোহাম্মদ ওমর, এম. ইসমাইল, মুহাম্মদ ওসমান, এন. হোসাইন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। 
আলোচনা সভায় বক্তারা বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি ও সাংবাদিক নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার স্মৃতিচারণ করে বলেন, শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা বিচারিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। আদালতের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই তড়িঘড়ি করে এই নেতাকে ফাঁসি দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছিল জামায়াত নেতা দের হত্যা করাই সরকারের উদ্দেশ্য ছিল। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আবদুল কাদের মোল্রার বিচারিক হত্যাকান্ডের ঘটনায় তথাকথিত যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ব্যবস্থার একটি বিভৎস চিত্র ফুটে উঠেছে।
নেতৃবৃন্দ শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার শেষ ইচ্ছার আলোকে তার শাহাদাতকে কাজে লাগিয়ে সকল প্রকার শোষঃণ-জুলুম অবসানের লক্ষ্যে  ইসলামী বিপ্লব সাধনের জন্য কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনা শেষে শহীদ আবদুল কাদের মোল্লাসহ পরলোকগত সকল নেতৃবৃন্দের মাগফিরাত কামনা এবং আমীরে জামায়াত মাওলানা মকবুল আহমাদসহ সকল নেতৃবৃন্দের জন্য দোয়া কামনা করা হয়। এছাড়া দেশ, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মুনাজত করা হয়।

সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

শিশুর রাতকানা রোগ: অধ্যাপক নইম কাদের

বাংলঅদেশ বার্তা ডেস্ক, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ইংঃআমাদের দেশে রাতকানা একটি অতি পরিচিত রোগ। শিশুদের যে সব রোগে বেশি ভোগতে দেখা যায়, রতকানা একটি। শিশু দিনের বেলায়, দিনের আলোয় ভালই দেখতে পায়। কিন্তু রাত নেমে আসলে সমস্যা দেখা দেয়। রাতকানা রোগ হল- রাতে কম দেখে, ঝাপসা দেখে, একেবারে দেখে না। যেহেতু রাত্রিকালে, রাতের অন্ধকারে কম দেখে তাই রোগের নাম রাতকানা বা Night blindness.
  এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু রাতকানা রোগে আক্রান্ত হয়। এবং এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৮৮জন শিশু অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে যারা নানাবিধ অন্ধত্বে ভোগে তাদের মধ্যে শতকরা দু শতাংশ ভিটামিন এর অভাবজনিত কারণে। রাতকানা রোগের শিশুদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশু স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এ সংখ্যা বেশি।
কারা বেশি ভোগে : রাতকানা রোগে অধিকাংশ ৬বছরের নিচে বয়সের শিশুরা ভোগে। কারণ : রাতকানা রোগের নানাবিধ কারণ আছে। তবে, প্রধান কারণ শিশুর দেহে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব বা স্বল্পতা। মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন প্রয়োজন হয়। ভিটামিন ‘এ’ তেমনি অতি প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন। 
শরীরেঞ্জভিটামিন ‘এ’ এর স্বল্পতা, পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ না করা। অপুষ্টি। জন্মের সময় বাচ্চার ওজন কম হওয়া।
বিভিন্ন রোগে ভোগার করণে শরীরে ভিটামিন এর স্বল্পতা। বিশেষ করে হাম, ডায়রিয়া, হুপিং কাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি রোগে ভোগার পর।
ভিটামিন ‘এ’ এর স্বল্পতায় চোখে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হয়। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে চোখের নিঃসরণ গ্রন্থি ঠিকমত কাজ করে না। ফলে চোখে অত্যধিক শুষ্কতা দেখ দেয়। চোখে পুুঁজ, চোখের মনিতে ঘা ইত্যাদি দেখা দেয়।
লক্ষণ : রোগী দিনের বেলায় ঠিকই দেখতে পায়, কিন্তু রাতে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়, কম দেখে বা একেবারে দেখে না। চোখের সাদা অংশ এবং চোখের মণি শুকিয়ে যায়, শুষ্ক হয়ে যায়। চোখের পানি কমে যায়।
চোখে ঘা গয়, পুঁজ তৈরি হয়। চোখের মণি ঘোলাটে ও ফ্যকাশে হয়ে পড়ে। চোখের সাদা অংশের রঙ ক্রমশ পরিবর্তন হয়ে বাদামী হয়ে যায়।
চোখ লাল হয়ে যায়। উজ্জল আলোর দিকে সরাসরি থাকাতে পারে না।
শারীরের চামড়া শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়।
মারাত্মক জটিলতা : শিশু চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রতিরোধ : শিশুকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খোঁজার জন্য বেশি দূরে যেতে হয় না, কষ্ট করতে হয় না। আমাদের চার পাশেই রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ হাজারো খাবার। প্রথমেই মায়ের বুকের দুধ। রাতকানা রোগ প্রতিরোধে মায়ের বুকের দুধের বিকল্প নেই। শিশুকে জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়াতে হবে। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত আলগা খাদ্য বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে পারলে ভাল। 
৬ মাস বয়স পূর্ণ হবার পর ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ আলগা খাবার খেতে দিতে হবে। গর্ভবতী ও প্রসূতিকে পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে।
ভিটামিন‘ এ’ - দৈনন্দিন খাবারের বিভিন্ন উৎস থেকে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করা যায়। প্রাণীজ উৎস যেমন- ডিম, দুধ, মাখন, কলিজা, ছোট ছোট মাছ, মাছের তেল, মাংস ইত্যাদি।
উদ্ভিজ উৎস- সবুজ পাতাযুক্ত শাক এবং রং এর বিভিন্ন মৌসুমি ফল। যেমন- কচুশাক, পুঁই শাক, লাউ শাক, পালং শাক, কলমি শাক, কুমড়া শাক, পাট শাক, হেলেঞ্চা শাক, মুলা শাক, সজিনা পাতা ইত্যাদি সবুজ শাক। গাজর, শালগম, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু, পাকা কাঁঠাল, পাকা পেপে, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি মৌসুমি ফল।
শিশু বিভিন্ন রোগে ভোগার করণে শরীরে ভিটামিন এর স্বল্পতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হাম, ডায়রিয়া, হুপিং কাশি, যক্ষ্মা ইত্যাদি। তাই এসব রোগে ভোগার পর পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে।

নইম কাদের
চেম্বার : হোমিও হেলথ হোম, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।
মোবাইল : ০১৯৯১ ৯৪ ৮৫ ৯১

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইতালীর এমপি কন্যার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে ইউরোপজুড়ে তোলপাড়

বাংলঅদেশ বার্তা ডেস্কঃ ইতালীর সাবেক পার্লামেন্ট সদস্যের কন্যার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে ইউরোপজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। গোটা ইউরোপে যখন ইসলাম নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে তখন ইসলাম গ্রহণের হার কমেনি। সম্প্রতি ইউরোপের মানুষের ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ বেড়েছে। বাড়ছে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যাও।
এরই অনন্য নজির- ইতালীর সাবেক এমপি ফ্রাংকো বারবাতোর মেয়ের ইসলাম গ্রহণ। ইসলাম গ্রহণের পর ইসলামের অনুশাসন মেনে তিনি এখন পূর্ণাঙ্গ ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিজাবী নারী। তিনি খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। ম্যানুয়েলা ফ্রাংকো বারবাতো নামের ওই তরুণীর নতুন নাম আয়েশা।
ম্যানুয়েলার এই ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এখন ইতালিতে আলোচনার বিষয়। শুধু ইতালীতেই নয়, গোটা ইউরোপেও নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। খ্রিস্টান উগ্রপন্থীরা কঠোরভাবে সমালোচনা করছেন তার। সমালোচনা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না নওমুসলিম ওই তরুণীর বাবাও।
ফ্রাংকো বারবাতোকে হাফিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনার মেয়ে তো মুসলমান হয়ে গেল, এখন আপনার কেমন লাগছে?
তার উত্তর ছিল, ‘শুধু খারাপ না, খুবই খারাপ লাগছে। কারণ এটি একটি অত্যন্ত কঠোর ধর্ম, খুবই চরমপন্থী, একদম সেকেলে! এই ধর্মটি মৌলবাদী। আমার মেয়ে আমার সাথে থাকাবস্থায় আমি নিজে দেখেছি। প্রতিদিন দেখেছি নামায়ের সময় হলে সে সন্তানের কথাও ভুলে যায়! এজন্য আমি তার প্রতি রাগ করতাম। সে যা নিজের জন্য পছন্দ করেছে আমি তাতে খুবই ব্যথিত।’
তবে আয়েশা ইসলাম গ্রহণ করতে পেরে খুবই আনন্দিত ও সন্তুষ্টু। তিনি বলেন, ‘আমার আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য আমি গর্বিত। এ সব আল্লাহর নিয়ম, আমার অভিযোগ করার কী আছে?’
নিজের হিজাব পরিধান নিয়ে চারপাশে যত কথা। তার উত্তরে আয়েশা বলেন, ‘হিজাব আমার জীবনের অংশ, যা আল্লাহ আমার জন্য পছন্দ করে দিয়েছেন।’
আয়েশা আগে বাবার সাথে থাকলেও প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার পর তার স্বামীকে নিয়ে ভারতে চলে গেছেন। সেখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন করছেন। বিবাহিত জীবনে তার দুই শিশু সন্তান রয়েছে। ইতালীর সরকারি সংস্থার হিসেবে তা প্রায় বিশ হাজার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইতালির এই চিত্র প্রমাণ করে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান ধর্ম হিসাবে ইসলামের প্রসার ঘটছে।

বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

৯ বছর পর নিজের জীপ ফিরে পেলেন জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী

বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ৯ বছর পর দূনীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কাছ থেকে নিজের জীপ ফিরে পেয়েছে জামায়াত দলীয় সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী। গত সোমবার দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ- সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সফিউল্যার কাছ থেকে শাহজাহান চৌধুরী নিজেই গাড়িটি বুঝে নিয়েছেন।
সংসদ সদস্য থাকা কালীন এমপি কোটায় রেঞ্জ রোভার ভি-৮ মডেলের গাড়িটি নিয়েছিলেন শাহজাহান চৌধুরী।দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ২০০৭ সালের ১৯ জুলাই গাড়িটি জব্দ করেন।দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর কাছে গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৮৫৯৫) ফেরত দিয়েছে দুদক। 

শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ও কারা জীবনের সেই দিনগুলো --------- ----- ডা: মো:ফখরুদ্দিন মানিক

২০১৩ সালের ৪ডিসেম্বর। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ২বার রিমান্ডের জন্য ঢাকা কারাগার থেকে এসে অনেকটা স্থায়ী বসবাসের মত কাশিমপুর ২নং কারাগারে আছি। বিগত সাড়ে ৫ মাসে এখানে অনেক পুরাতন এবং পরিচিত। আমাদের ভাইদের মধ্যে জুন মাসে একেবারে কমতে কমতে ৪/৫ জন থেকে গত কিছুদিনের আন্দোলনের কারনে এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। প্রায় ৫০/৫৫ জনের মত। মুরব্বীদের মধ্যে মীর কশেম ভাই, কামারুজ্জামান ভাই, এ টি এম আজহার ভাই, আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই। একসময় ছাত্রদের অনেক দায়ীত্ত্বশীল থাকলেও এখন কেবল মাত্র ঢাকা মহানগরী পশ্চিমের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া দ্বিতীয়বারের মত গ্রেপ্তার হয়ে এখানে আছে।
মীর কাশেম ভাই, আজাহার ভাই ডিভিশনে, উনাদের সাথে আছেন দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, তারেক জিয়ার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। আব্দুল কাদের মোল্লা ভাই ট্রাইবুনালের যাবজ্জীবন সাজার পর ডিভিশন থেকে ৬০ সেল পূর্ব এ আছেন। কামরুজ্জামান ভাই ট্রাইবুনাল থেকে মৃত্যুদন্ডের সাজার পর ৪০সেল এ [ফাঁসির] আছেন। আমি, কিবরিয়া মেডিকেলে আর আমাদের বাকি ভাইয়েরা ৪,৫,৬ নং বিল্ডিং এ ভাগ করে আছেন।অসুসস্থতা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কারনে মেডিকেলে থাকা, যদিও প্রথম আমাদের ভাইদের সাথে ৬নং বিল্ডিং এ উঠার পর পরের দিন সকালেই জেলার শুভাষ শাস্তি হিসেবে ৪০ সেল পূর্বতে আমাকে স্থানান্তর করে।
প্রথমে খারাপ লাগলেও পরে যখন জানলাম ঐখানে মোল্লা ভাই এবং শামীম সাঈদি ভাই আছেন তখন খুশি হলাম। কিন্তু তখনও জানা ছিলনা এখানে কষ্টের ধরন কেমন। ঐ সেলটা মুলত পানিশমেন্ট সেল। জে এম বি এবং হিজবুত তাহরীর লোকদের রাখা হয়। সারাদিনে মাত্র ৩ ঘন্টার জন্য সেলের দরজা খুলে দেয়া হয় বারান্দায় হাটার জন্য। সকালে ১ ঘন্টা ১১টায়, বিকালে ২ ঘন্টা ৩টায়। প্রতি সেলে ৩ জন। কাদের মোল্লা ভাই ,শামীম সাঈদী ভাই এবং হলমার্ক কেলেংকারীর আসামী সোনালী ব্যাংকের ডি জি এম আজিজ ভাই আলাদা আলাদা এক রুমে থাকতেন।
পরবর্তীতে সংগঠনের সিদ্ধান্তে আমি মেডিকেলে চলে আসি যেখান থেকে সব দিকের খোজ খবর রাখা সহজ হতো। কারন মেডিকেল ছিল বিশাল কারাগারের মাঝখানের দিকে।
মুলকথায় আসি-
৬০ সেল পশ্চিমে থাকা কয়েকজন পরিচিত ভাই দুপরে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিয়েছেন। কারাগারের অনেক জায়গাতে দায়ীত্বরত কারারক্ষীদের অনুমতি সাপেক্ষে যাওয়া যায়। কিছু জায়গাতে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য এমনিতে যাওয়া যায়। তবে ফাঁসির সেল এবং ৬০ সেল পূর্ব, পশ্চিমে যেতে হলে সুবেদারের অনুমতি নিতে হয়। যদি ও সবসময় সুবেদার এ অনুমতি দেন না। ডেপুটি জেলার, জেলারের অনুমতি লাগে। যথাযথ কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমি ৬০ সেল পশ্চিমে এসে দুপুরে খাবারের পর গল্প করছি। প্রায় ২ টার দিকে নিচ থেকে ডাঃ মানিক ভাই বলে বেশ কয়েকজনের একসাথে ডাকার শব্দ পেলাম।ডাঃ মানিক ভাই এবং শিবিরের মানিক ভাই নামে ততদিনে কারাগারের সবার কাছে পরিচিত হয়ে গিয়েছি। আমি ছিলাম ৩ তালার একটি রুমে। নিচে চিৎকারে সব রুম থেকে লোক বারান্দায় বের হয়ে আসলো। আমিও শব্দ শুনে বারান্দায় বের হয়ে এসে দেখি গেইটের সামনে সুবেদার, সি আই ডি জমাদার, লোকাল জমাদার, ২/৩ জন কারারক্ষী সহ বিশাল বাহিনী। প্রথমে দেখে ভয় পেয়ে গেলাম এজন্য যে জেলার, সুপারের কাছে কেউ রিপোর্ট করলো কিনা? কারাগার এমন জায়গা যেখানে বছরে পর বছর সব সুবিদা দিয়ে থাকলেও মুহূর্তেই পল্টি। তখন কেউ ফিরেও দেখেনা। সব প্যকেট করে চালান। শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভি আই পি আসামীদের ক্ষেত্রে প্রায় এরকম ঘটে। আমিও প্রথম একটু আতংকিত হলাম, না জানি কোন ভুল হল কিনা? একেবারে কিছু না বললেও এভাবে বের করে নেয়াটা আমাদের জন্য অসম্মানের। ততদিনে পুরো কারাগারে আমাদের সম্পর্কে ভাল একটা পরিচিতি এবং সুনাম তৈরী হয়েছে। যদিও আত্মবিশ্বাস ছিল সেরকম কোন ভুল করিনি কিন্তু কারাগার বলে কথা!উনাদের সাথে আরো দাঁড়ানো গিয়াস উদ্দিন মামুন ভাই এবং আহাসান উল্লাহ মাষ্টার হত্যা মামলার আসামী পাপ্পু ভাই।
আমাকে বের হতে দেখে মামুন ভাই জোরে ডাক দিয়ে বলল, "মানিক ভাই দ্রুত নেমে আসেন” প্রাথমিক ভাবে বুজতে পারলাম কোন রিপোর্ট হয়নি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় হবে। তখনো বুজতে পারিনি এর চাইতে বিষ্ময়কর এবং কষ্টকর সংবাদ অপেক্ষা করছে। একটু কাছাকছি আসতে সুবেদার বলল, মানিক ভাই মোল্লা স্যারের চালান আসছে, উনাকে ঢাকা পাঠাতে হবে দ্রুত উনাকে রেডি করে দেন।“ কথাটা শুনার সাথে সাথে আমার কাছে মনে হল বজ্রপাত হয়েছে, পা চলতে চাচ্ছিল না। সাথে সাথে ইন্নালিল্লাহ পড়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। মামুন ভাই এবং পাপ্পু ভাই আমাকে ধরে বলল, "মানিক ভাই দেরী করা যাবেনা আপনি যান উনার সব গুছিয়ে দেন আমরা একটু পরে আসছি”
আপীল বিভাগে উনার মৃত্যুদন্ডের রায় হয়েছে অনেক আগে। এখন আলোচনা চলছে উনার রিভিউ হবে কি হবেনা তা নিয়ে। এদিকে ১৮ দলের কর্মসূচীও পালন হচ্ছে জোরালোভাবে। সে থেকে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়ে ছিল সরকার পতনের। মনে হয়েছিল সরকার হয়তো বিরোধীদলের আন্দোলন মোকাবেলায় ব্যস্ত থাকবে এসবে মনযোগ দিবেনা। কিন্তু হঠাৎ আজকে মোল্লা ভাইয়ের চালানের কথা শুনে হতচকিত হয়ে গেলাম। মনে হল সরকার আন্দোলন কে মোকাবেলা করতে না পেরে আমাদের কে দুর্বল করে দেয়ার জন্য রাজনৈতিক জিগাংসা বাস্তবায়নের চুড়ান্ত সীদ্ধান্ত নিবে। এসব চিন্তা করতে করতে কারারক্ষীদের ছাড়িয়ে দ্রুত ৬০ সেল পূর্বে এসে পৌছলাম। আমার কানে এখন কোন কথা যাচ্ছেনা।
২য় তালায় মোল্লা ভাইয়ের রুমে সামনে এসে উনাকে সালাম দিতেই উনি বললেন ‘মানিক আসছ, আমাকে ঢাকা নিয়ে যাবে” কথা বলছেন আর নিজের জিনিস গুলো ঘুচাচ্ছেন। সাথে অন্য রুমের কয়েকজন ভাই, আমি কোন কথা না বলে উনার ব্যাগ গুছানোতে হাত লাগালাম। অনেক জিনিস পত্র, সব কিছুই বাসার মত করে সাজানো। উনার একজন সেবক থাকলেও অধিকাংশ কাজ নিজেই করতেন। উনার নিজস্ব একটা স্টাইল আছে। দুনিয়ার তাবৎ বিষয়ে মোল্লা ভাইয়ের আগ্রহ আছে জানা শোনাও আছে। উনার সেবক দুলালসহ জিনিসগুলো উনাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ভ্যানে রাখছি। প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যে আমি উনার সেবক এবং ঐখানে থাকা কিছু ভাইয়ের সহযোগিতায় সব কিছু গুছিয়ে দিলাম। সর্বশেষ উনি অজু করে কয়েদি কাপড় পড়ে রেডি হলেন। আমরা মন খারাপ করে থাকলেও উনি স্বাভাবিক ভাবে রেডি হচ্ছেন, কথা বলছেন। অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সেখানে থাকা ভাইদের এবং সেবকের মাধ্যমে অন্যকে দেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। সাথে থাকা খেজুর ও অন্যন্য খাবার সবাইকে দিচ্ছেন।
কারাগারে উনি নিয়মিত সোমবার এবং বৃহস্প্রতিবার রোজা রাখতেন আজকেও রোজা রেখেছেন। একটা বক্সে আলাদা করে কিছু খেজুর, পানি, সামান্য খাবার আলাদা করে রেখে দিলাম। ভ্যান করে উনার মালামাল গুলো গেইটে পাঠিয়ে দেয়া হল।
উনার বিদায় নেয়ার পালা। এখানে থাকা জে এম বি এবং হিজবুত তাহরির ছেলেরা উনাকে মোল্লা আংকেল বলে ডাকত। মোল্লা ভাইও তাদের কে ভালবাসতেন। সবাই যখন কোলাকুলি করে বিদায় দিচ্ছে সেই পরিবেশটি ক্রমান্নয়ে ভারী হয়ে উঠল। সবার চোখে পানি ,গলা ধরা, কিন্ত মোল্লা ভাই স্বাভাবিক। সবাইকে সান্তনা দিচ্ছেন আর বলছেন ‘দোয়া কর আল্লাহ যেন আমার শাহাদাৎ নসিব করে এবং শাহাদাত কবুল করে’। এখানে দায়ীত্ত্বে থাকা কারারক্ষীরাও হাত ধরে দোয়া চাইলেন কোন অপরাধ করলে মাফ করে দিতে বললেন। মোল্লা ভাই হাসি মুখে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন। অনেক্ষন আগেই মামুন ভাই,পাপ্পু ভাই আরো কয়েকজন ভাই এসেছেন। এখান থেকে বের হয়ে আমরা ডিভিশনের দিকে গেলাম। গেইটের সামনে পৌছতে মীর কাশেম ভাই নেমে আসলেন। হরতালের কারনে আজহার ভাই এবং মাহমুদুর রহমান সাহেবকে আগেই ঢাকা কারাগারে নিয়ে গিয়েছে। মীর কাশেম ভাই হেঁটে আসছেন উনার পরিচিত ভংগিতে। মুখে দোয়া পড়ছেন,এক হাত দিয়ে মোল্লা ভাইয়ের হাত ধরলেন আরেক হাতের শাহাদাত আঙ্গুল উপরের দিকে তুলে বললেন,” আল্লাহু আকবর, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন, আল্লাহ মজলুমদের পক্ষে আছেন। আমাদের দোয়া থাকলো সত্যের বিজয় হবে”। এক শাহাদাত পথযাত্রী আরেক পথযাত্রীকে যখন জড়িয়ে ধরলো পরিবেশ আবারো ভারী হয়ে উঠলো। ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও প্রশাসনের তাগদা দেয়ার কারনে ছেড়ে দিলেন। হাত ধরা অবস্থায় মোল্লা ভাই মীর কাশেম ভাইকে বললেন, আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম মোবারক রাত অর্থাৎ জুমার রাতে যেন আমার শাহাদাত হয়, আজকে বৃহস্পতিবার, আজকে রাত জুমার রাতই হবে”। মীর কাশেম ভাই সাথে সাথে একটু ধমকের স্বরে বললেন,”খবরদার এরকম কথা বলবেন না। আল্লাহর ফয়সালা আমাদের জন্য যথেস্ট”। মোল্লা ভাই খুব সুন্দর করে হাসলেন। অনেক নির্মল এবং পবিত্র হাসি। মোল্লা ভাইয়ের চেহারা মনে করলে ঠিক এ চেহারাটি সব সময় আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে। মির কাশেম ভাই থেকে বিদায় নিয়ে গেইটের উদ্দেশ্যে বের হলাম। ততক্ষনে রাস্তায় অনেক লোক। আমাদের ভাইয়েরা এবং পরিচিত অনেকে। পথে যারা সু্যোগ পেয়েছে হাত মিলিয়েছে, অনেকের চোখ টলমল, আমি তখনো স্বাভাবিক থাকার চেস্টা করে যাচ্ছি। কারাগারের সবচাইতে খারাপ অফিসারটিও এসে মোল্লা ভাইয়ের হাত ধরে বললেন,” স্যার আমাদের জন্য দোয়া করবেন, কোন বেয়াদবী করলে মাফ করে দিয়েন” মোল্লা ভাই বললেন তোমাদের সবার জন্য আমার দোয়া আছে, কারো ব্যাপারে আমার কোন অভিযোগ নাই, তোমরা আমাকে অনেক সম্মান করেছ।
হাটতে হাটতে আমরা গেইট পর্যন্ত চলে আসলাম। এবার বিদায় দেয়ার পালা। এখানে থাকা সবার সাথে হ্যান্ডশেক কোলাকুলি করলেন। সবার শেষে আমি ,আমাকে ধরে কপালে চুমু খেলেন ,আমি উনার হাতে এবং কপালে চুমু খেলাম। নিজেকে আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, কান্না জড়িত কন্ঠে দোয়া চাইলাম, এত বড় মানুষকে আমি কি বলব। মোল্লা ভাই বললেন, “দোয়া কর, আর দেখা নাও হতে পারে”। খুব জোর করে উনাকে চেপে ধরলাম, আমার পিঠে হাত দিয়ে সান্তনা দিলেন। একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেড়ে দিলাম। সবাইকে হাত নেড়ে সালাম দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেলেন। অজানা আশংকা নিয়ে যখন আস্তে আস্তে ওয়ার্ডের দিকে ফিরছি তখন সবার চোখে পানি, মামুন ভাই, পাপ্পু ভাই, কেপ্টেন রেজা ভাই, আইয়্যুব ভাই, কিবরিয়া,সানজিবসহ আরো অনেকে।
মামুন ভাই বলছেন, আমার দেখা রাজনিতীবিদদের মধ্যে একজন সাধারন মানুষ জনাব আব্দুল কাদের মোল্লা।

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

ইসলামী ব্যাংকগুলো কি ঘুরিয়ে সূদ খায়? এইপ্রশ্ন আপনার মনেও থাকতে পারে জেনে নিন সত্যটাঃ


বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শরীয়াহ ভিত্তিক কিনা , তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে । কেউ কেউ মনে করেন এটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক , আবার কেউ মনে করেন ইসলামী ব্যাংক প্রচলিত সুদী ব্যাংকের মত সুদ খায় , তবে সরাসরি না খেয়ে একটু ঘুরিয়ে খায় । তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হল , মন্তব্যকারীদের অধিকাংশই সুদ ও মুনাফার মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা খুবই কম রাখেন । তাই সুদ ও মুনাফার ধারণা পরিষ্কার হলেই বুঝা যাবে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শরীয়াহ ভিত্তিক কিনা ? এজন্য প্রথমে সুদ ও মুনাফার সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা পাওয়ার জন্য আলোচনা করা হল -
সুদ হচ্ছে ঋণকৃত অর্থের উপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিত সুনির্দিষ্ট অতিরিক্ত পাওনা । অর্থাৎ সুদের সাথে ‘নিশ্চিত’ এবং ‘সুনির্দিষ্ট’ শব্দ দুটির সম্পর্ক রয়েছে । যেমন আপনি কারো নিকট হতে ২০% সুদে ১০০০ টাকা ঋণ নিলেন । এই ঋণকৃত টাকা আপনি ব্যবসায় খাটাতে পারেন , আবার শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন , আবার ভোগে ব্যয় করতে পারেন । এই ১০০০ টাকা নিয়ে আপনি যাই করেন না কেন , বছর শেষে ঋণ প্রদানকারীকে ২০০ টাকা প্রদান করতে হবে । এক্ষেত্রে ঋণ প্রদানকারী নিশ্চিত জানে যে , বছর শেষে আপনার নিকট হতে সে নির্দিষ্ট ২০০ টাকা পাবে । এখানে ২০০ টাকা হল সুদের পরিমাণ , যা ইসলামে নিষিদ্ধ ।
অন্যদিকে মুনাফা হল ব্যবসা বা শিল্পখাতে বা উৎপাদনশীল কোন খাতে বিনিয়োগকৃত অর্থের উপর একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনিশ্চিত অনির্দিষ্ট অতিরিক্ত পাওনা । অর্থাৎ মুনাফার সাথে ‘অনিশ্চিত’ এবং ‘অনির্দিষ্ট’ শব্দ দুটির সম্পর্ক রয়েছে । ‘অনিশ্চিত’ শব্দটি থাকার কারণে অতিরিক্ত পাওনার বিষয়টি নিশ্চিত নয় । অর্থাৎ কোন কোন সময় অতিরিক্ত পাওনার পরিবর্তে ক্ষতি হতে পারে । আবার ‘অনির্দিষ্ট’ শব্দটির কারণে বলা যায় যে , অতিরিক্ত পাওনার পরিমাণটি সুনির্দিষ্ট নয় । যেমন আপনি কারো নিকট হতে ১০০০ টাকা নিয়ে ব্যবসায় খাটাতে পারেন বা শিল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন । এক্ষেত্রে যার নিকট হতে আপনি টাকা নিয়েছেন , তাকে আগাম বলতে পারবেন না যে , আমি আপনাকে ২০০ টাকা মুনাফা দেব । বরং বলতে পারেন , অর্জিত মুনাফার বা ক্ষতির ৫০% আপনি পাবেন । এখন বছর শেষে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ ৪০০ টাকা হলে এর ৫০% ২০০ টাকা অর্থপ্রদানকারী পাবে , যা মুল অর্থের (১০০০ টাকার) ২০% । আবার অর্জিত মুনাফার পরিমাণ ৩০০ টাকা হলে এর ৫০% ১৫০ টাকা অর্থপ্রদানকারী পাবে , যা মুল অর্থের (১০০০ টাকার) ১৫% । অর্থাৎ মুনাফার পরিমাণ সুনির্দিষ্ট নয় , এটি মূল টাকার ২০% হতে পারে , আবার ১৫% হতেও পারে ।
এখন সুদ ও মুনাফার উপরোক্ত ধারণা নিয়ে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শরীয়াহ ভিত্তিক কিনা , তা অনুসন্ধান করা যায় । এক্ষেত্রে মডেল হিসেবে ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে লিমিটেড’ কে বিবেচনায় আনা হল । কারণ বাংলাদেশে এটিই প্রথম ইসলামী ব্যাংক এবং এই ব্যাংকের কার্যক্রম বাংলাদেশের সর্বত্র বিদ্যমান এবং একইসাথে অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকের তুলনায় এই ব্যাংকের কার্যক্রম অধিকতর শরীয়াহ ভিত্তিক বলে অনেকে মনে করেন । তাছাড়া বাংলাদেশে কিছু সুদী ব্যাংক আছে , যারা তাদের কিছু শাখায় ইসলামী ব্যাংকিং চালু করেছে , কিন্তু অনেকেরই কাছে এ ধরনের ব্যাংকিং নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে । তাই বাংলাদেশের সর্ব বৃহৎ ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে লিমিটেড’ এর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে দেখব যে , বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং আছে কিনা ? পাঠকদের সুবিধার জন্য আলোচনাকে কয়েকেটি ধাপে বিভক্ত করা হল ।
(১) যে কোন সুদী ব্যাংকে আমানতকারী নির্দিষ্ট সুদের হারে অর্থ আমানত হিসেবে রাখে । কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারী লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে অর্থ বিনিয়োগ করে । ইসলামী ব্যাংকে ‘মুদারাবা’ হিসাবে অত্যন্ত পরিষ্কার ভাবে লাভ-ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ থাকে ।
(২) সুদী ব্যাংকে সুদের হার শতকরায় উল্লেখ থাকে । আবার ইসলামী ব্যাংকেও মুনাফার হার শতকরায় উল্লেখ থাকে । তাই একটি বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয় যে , সুদী ব্যাংক যেখানে ১২% সুদ বলে , সেখানে ইসলামী ব্যাংক ১২% মুনাফা বলে । অর্থাৎ উভয়ের ভিতর কোন মৌলিক পার্থক্য নেই । এই বিভ্রান্তির কারণ হল অনেকে অজ্ঞতাবশতঃ শতকরা হারকেই সুদ বলে মনে করে । প্রকৃতপক্ষে সুদ , মুনাফা , জনসংখ্যার বৃদ্ধি , প্রবৃদ্ধি , কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ইত্যাদিকে সহজে বুঝার জন্য শতকরা হারে রূপান্তর করা হয় । সুতরাং মুনাফার হার ১২% বলা দোষণীয় নয় ।
(৩) সুদী ব্যাংকে সুদের হার ১২% উল্লেখ থাকলে বছর শেষে আমানতকারী ১ লক্ষ টাকার উপর ১২ হাজার টাকা সুদ পাবে , তা নিশ্চিত । কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে যে ১২% মুনাফার কথা বলা হয় , তা হল প্রত্যাশিত মুনাফার হার । এটি বছর শেষে ১৩% হতে পারে , আবার ১১% হতে পারে । অর্থাৎ প্রত্যাশিত মুনাফার হার ১২% এ ১লক্ষ টাকা আমানত (প্রকৃতপক্ষে বিনিয়োগ) রাখলে বছর শেষে প্রকৃত মুনাফার হার ১৩% হলে আমানতকারী ১৩ হাজার টাকা এবং প্রকৃত মুনাফার হার ১১% হলে আমানতকারী ১১ হাজার টাকা পাবে । অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংকে পূর্ব হতে মূল টাকার উপর মুনাফার হার নির্দিষ্ট করা যায় না ।
(৪) সুদী ব্যাংকে আমানতকারী তার মেয়াদী হিসাবের ৮০% হতে ৯০% ঋণ হিসেবে নিজে উত্তোলন করতে পারবে এবং উত্তোলিত টাকার উপর নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রদান করতে হবে । অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারী তার মেয়াদী হিসাবের ৯০% ঋণ হিসেবে নিজে উত্তোলন করতে পারবে এবং উত্তোলিত টাকার উপর কোন ধরনের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে না ।
(৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী সুদী ব্যাংক তার রিজার্ভের ১৯% কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে এবং জমা রাখা টাকার উপর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে সুদ গ্রহণ করে , যা সুদী ব্যাংকের একটি নিশ্চিত আয় । অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক তার রিজার্ভের ১১.৫% কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে এবং জমা রাখা টাকার উপর বাংলাদেশ ব্যাংক হতে কোন ধরনের সুদ গ্রহণ করে না ।
(৬) সুদী ব্যাংক ‘কল মানি’ মার্কেটে অংশগ্রহণ করতে পারে । কিন্তু ইসলামী ব্যাংক ‘কল মানি’ মার্কেটে অংশগ্রহণ করতে পারে না । সাধারণত কোন ব্যাংকের তারল্য সংকট (গ্রাহকদেরকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করার মত অর্থ ব্যাংকে না থাকা) দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অতি উচ্চ সুদের হারে অন্য ব্যাংক হতে কিছু সময়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করে থাকে । ফলে ‘কল মানি’ মার্কেটে অর্থ বিনিয়োগ করে সুদী ব্যাংক আয় অর্জন করতে পারে , সেখানে সুদের কারণে ইসলামী ব্যাংক এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে না ।
(৭) সুদী ব্যাংক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সুদের হারে অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করে । এক্ষেত্রে সুদী ব্যাংক এতটুকু বিষয় বিবেচনা করে যে , সুদসহ মূল অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা কতটুকু । অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক কখনও বিক্রেতা হিসেবে , আবার কখনও অংশীদারী হিসেবে কাজ করে । যেমন বাড়ী নির্মাণের জন্য আপনার ৫ লক্ষ টাকার সিমেণ্টের প্রয়োজন । এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক সিমেণ্ট বিক্রয়কারী কোন প্রতিষ্ঠার হতে ক্রেতা হিসেবে ৫ লক্ষ টাকার সিমেণ্ট ক্রয় করবে এবং বিক্রেতা হিসেবে আপনার নিকট এই সিমেণ্ট কিস্তিতে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রয় করবে । অর্থাৎ সুদী ব্যাংকে ঋণ গ্রহণকারী সরাসরি নগদ টাকা ব্যাংক হতে পেয়ে যায় । কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগকারীর নগদ টাকা ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই , বরং ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী পণ্য , যন্ত্রপাতি , কাঁচামাল ইত্যাদি পেয়ে থাকে ।
(৮) ইসলামী ব্যাংক ক্রেতা হিসেবে সিমেণ্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হতে যে সিমেণ্ট ক্রয় করেছে , তার প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার এর ঘাটতি থাকলে , বছর শেষে ইসলামী ব্যাংকের অডিট শাখা এ লেনদেনকে সন্দেহযুক্ত লেনদেনের তালিকায় ফেলে দেন । এবং এই লেনদেন হতে প্রাপ্ত লাভের পরিমাণ ৬০ হাজার টাকা কারো মধ্যে বণ্টন না করে ব্যাংক ফাউন্ডেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয় , জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য । অর্থাৎ এই ৬০ হাজার টাকা আমানতকারীদের মুনাফা , শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেণ্ট , ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন হিসেবে বণ্টন করা হয় না ।
(৯) ইসলামী ব্যাংক আপনার নিকট যে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সিমেণ্ট বিক্রয় করেছে , তা যদি আপনি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর কিস্তিতে অথবা এককালীন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন এবং ব্যর্থ হওয়ার উপযুক্ত কারণ ব্যাংকে দেখাতে পারেন , তবে ইসলামী ব্যাংক আপনার নিকট হতে কোন জরিমানা আদায় করবে না । কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার উপযুক্ত কারণ না থাকলে ব্যাংক আপনার নিকট হতে জরিমানা আদায় করবে । কিন্তু জরিমানার টাকাটা বৈধ কিনা , তা নিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকায় জরিমানার টাকা কারো মধ্যে বণ্টন না করে ব্যাংক ফাউন্ডেশনে পাঠিয়ে দেয়া হয় , জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য । অর্থাৎ এই টাকাও আমানতকারীদের মুনাফা , শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেণ্ট , ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন হিসেবে বণ্টন করা হয় না ।
(১০) বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় , বছর শেষে ইসলামী ব্যাংক ঐ সমস্ত ব্যাংক হতে বৈদেশিক মুদ্রায় সুদ পায় । এই সুদও কারো মধ্যে বণ্টন না করে ‌'ব্যাংক ফাউন্ডেশনে' পাঠিয়ে দেয়া হয় , জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার জন্য । অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রায় অর্জিত সুদও আমানতকারীদের মুনাফা , শেয়ার হোল্ডারদের ডিভিডেণ্ট , ব্যাংক কর্মচারীদের বেতন হিসেবে বণ্টন করা হয় না ।
উপরের ধাপগুলো হতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে , প্রচলিত সুদী ব্যাংকের সাথে ইসলামী ব্যাংকের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে । আর এ পার্থক্য রচিত হয়েছে সুদের উপর ভিত্তি করে । তাই ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগের ধরন প্রচলিত সুদী ব্যাংকের বিনিয়োগের ধরন হতে ভিন্ন হয় । ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ নিম্নোক্তভাবে তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত করে থাকে -
(১) মুদারাবাঃ এ পদ্ধতিতে ব্যাংক আমানতকারীদের নিকট হতে অর্থ গ্রহণ করে থাকে এবং ব্যাংক তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সে অর্থকে বিনিয়োগ করে । বিনিয়োগ হতে প্রাপ্ত লাভ ও ক্ষতি একটি নির্দিষ্ট হারে আমানতকারী এবং ব্যাংক গ্রহণ করে থাকে ।
(২) বাই মুরাবাহাঃ এ পদ্ধতিতে ব্যাংক আমানতকারীদের নিকট হতে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পণ্য ক্রয় করে বিক্রেতা হিসেবে অন্যের নিকট পণ্য ক্রয়ের খরচের সাথে মুনাফা যোগ করে বিক্রয় করে । যেমন ইসলামী ব্যাংকের একটি পণ্য ক্রয় করতে ১০০০ টাকা খরচ পড়ল । ব্যাংক এর সাথে ১৫০ টাকা মুনাফা যোগ করে ক্রেতার নিকট (যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে চায়) ১১৫০ টাকা দিয়ে বিক্রয় করল । এক্ষেত্রে পণ্যের মূল্য ক্রেতা একটি ভবিষ্যৎ সময়ে এককালীন পরিশোধ করতে পারে , আবার কিস্তিতেও পরিশোধ করতে পারে । ২০১১সালে এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে মোট বিনিয়োগের ৫৭.৯২% ।
(৩) বাই মুয়াজ্জালঃ এই পদ্ধতিও বাই মুরাবাহা প্রায় অনুরূপ । তবে এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক বিক্রেতা হিসেবে তার পণ্যের স্থির মূল্য ঘোষণা করে । এই মূল্যের মধ্যে ব্যাংকের মুনাফা কত , তা ক্রেতাকে বলে না । ২০১১ সালে এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে মোট বিনিয়োগের ৫.২০% ।
(৪) মুশারাকাঃ এ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংক এবং এক বা একাধিক ব্যক্তির মধ্যে অংশীদারীদের ভিত্তিতে কারবার পরিচালিত হয় । এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক এবং এক বা একাধিক ব্যক্তি মূলধন , ব্যবস্থাপনা ইত্যাদিতে পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অংশগ্রহণ করে থাকে । যেমন একটি প্রকল্পে ইসলামী ব্যাংক ১০০০ টাকা প্রদান করল এবং ব্যক্তি ৫০০ টাকা প্রদান করল এবং উভয়ই কারবার পরিচালনা করতে থাকে । কারবারের লাভ-ক্ষতি পূর্ব নির্ধারিত অনুপাতে উভয় পক্ষ গ্রহণ করে থাকে । ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ২য় বছরে অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে মোট বিনিয়োগের ২৫.৬৫% । কিন্তু বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থাপনায় ইসলামী শিক্ষা না থাকার কারণে মুশারাকা পদ্ধতিতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় । ফলে ২০১১ সালে মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে মোট বিনিয়োগের মাত্র .০১২% অর্থাৎ ৩ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা । বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থাপনায় ইসলামী শিক্ষার প্রবেশ ঘটলে অবশ্যই মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে ।
(৫) হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল্কঃ এ ধরনের বিনিয়োগে ভাড়া , ক্রয় এবং অংশীদারিত্ব এই তিনটি পদ্ধতির সমন্বয় হয়েছে । সাধারণত বাড়ী বা গাড়ীর ক্ষেত্রে এ ধরনের বিনিয়োগ করা হয় । যেমন আপনি ১ লক্ষ টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক ৪ লক্ষ টাকা মোট ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি বাড়ী ক্রয় বা নির্মাণ করা হল । এক্ষেত্রে আপনি বাড়ীর ২০% এবং ইসলামী ব্যাংক ৮০% এর (মূলধন বিনিয়োগ অনুযায়ী) মালিক । এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক বাড়ীর ৮০% অংশ আপনার নিকট ইজারা বা ভাড়া দিবে । যদি বাড়ীর বাৎসরিক ভাড়া ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় , তবে ইসলামী ব্যাংক এর ৮০% অর্থাৎ ৬০ হাজার টাকা পাবে । আপনি যদি বাৎসরিক ভাড়া ৬০ হাজার দেয়ার পরও আরও অতিরিক্ত ১ লক্ষ টাকা দেন , তবে বছর শেষে বাড়ীর মালিকানা আপনার ২০% হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৪০% এবং ইসলামী ব্যাংকের হ্রাস পেয়ে ৬০% হবে । এভাবে ভাড়া প্রদানের সাথে সাথে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত ৪লক্ষ টাকা ক্রমান্বয়ে পরিশোধ করতে থাকলে বাড়ীর মালিকানায় আপনার অংশ বাড়তে থাকেবে এবং ইসলামী ব্যাংকের অংশ কমতে থাকবে এবং এক সময় আপনি বাড়ীর সম্পূর্ণ অংশের মালিক হয়ে যেতে পারবেন । উল্লেখ্য যে , এ পদ্ধতিতে বাড়ীর মালিকানায় আপনার অংশ বাড়ার সাথে সাথে আপনার প্রদত্ত ভাড়ার পরিমাণ কমতে থাকবে । ২০১১ সালে এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ হয়েছে মোট বিনিয়োগের ২৯.১২% ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি । ইসলামী ব্যাংকিং এর জন্য প্রয়োজন , কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি আলাদা ইসলামী শাখা , যা ইসলামী ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে । কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের কোন ইসলামী শাখা নেই । তাই একটি সুদ ভিত্তিক অর্থনীতিতে ১০০% শরীয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক আশা করাটা কতটুকু যৌক্তিক হতে পারে , তা পাঠকরাই ভাল বলতে পারবেন । তবে এতটুকু বলা যেতে পারে , প্রচলিত সুদী ব্যাংক হতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মুসলমানদের জন্য একটি আদর্শ ব্যাংক । আর এখানে ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম আলোচিত হয়েছে , ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ এর ভিত্তিতে । কারণ বাংলাদেশে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে এই ব্যাংকটিই শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ।
-আবু নিশাত ৩১ অক্টোবর ২০১২

পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন চরিত নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা সভা আয়োজনের আহ্বান


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন চরিত নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা সভার আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছেন মানবজাতির মুক্তির দূত হিসেবে। তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত আছে সকল মানুষের মুক্তি ও কল্যাণ। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সকল ধর্মের মানুষই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.) এর আদর্শ ছিল মহান আল্লাহ তায়ালার নাজিলকৃত সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন। বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে আল-কুরআন এবং রাসূল (সা.) এর সুন্নাহ। তাই গোটা মানবজাতিকে কুরআন ও সুন্নাহর পথেই ফিরে আসতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের রচিত কোন মতবাদই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। তাই শান্তির পথ খুঁজে পেতে হলে মহানবী (সা.) এর জীবন চরিত নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। যাতে বিশ্বের পথহারা মানুষ আল্লাহর মনোনীত বিধান সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে। যাতে মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক শিক্ষা, সংস্কৃতিক, আইন-বিচারসহ সকল ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তায়ালা ও রাসূলের আদর্শ মেনে চলতে পারে সে জন্য রাসূল (সা.) এর জীবন চরিত নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবন চরিত নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনার জন্য গোটা রবিউল আউয়াল মাসব্যাপী সকল পর্যায়ে আলোচনা সভার আয়োজন করার জন্য তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল শাখার প্রতি আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

৪৫ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের পক্ষকালব্যাপি কর্মসূচি ঘোষনা ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়কে অর্থবহ করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে----শিবির সভাপতি


বাংলাদেশ বার্তা ডেস্কঃ  বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, রক্ত সাগর পেরিয়ে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। কিন্তু ৪৫ বছর পরও প্রকৃত অর্থে জাতি বিজয়ের সুফল ভোগ করতে পারেনি। স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা আজো স্বপ্নই রয়ে গেছে। আজ প্রমাণ হয়েছে নৈতিকতা সমন্বয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন দেশ প্রেমিক নেতৃত্ব ছাড়া জাতির কাঙ্খিত কল্যাণ সম্ভব নয়। তাই মহান বিজয়কে অর্থবহ করতে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি কর্মীকে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

তিনি আজ রাজধানীর এক মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপি কর্মসূচি ঘোষনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোবারক হোসেনের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, মানবাধিকার সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক, দাওয়াতী কার্যক্রম সম্পাদক আনিছুর রহমান বিশ্বাস।

শিবির সভাপতি বলেন, সমসাময়িক কালে যেসব দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে তার বেশির ভাগই আজ সমৃদ্ধ দেশের তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের। বরং এখানে উল্টো চিত্র দেখতে হচ্ছে জাতিকে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা বীরোচিত ভূমিকা রেখেছেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে তাদের বিশাল অংশ আজ অবহেলিত। তাদের উত্তরসুরিদের অনেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ রাষ্ট্রীয় শক্তি চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত। মহান বিজয়ের চেতনা হওয়ার কথা ছিল এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। কিন্তু দু:খজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে স্বার্থ হাসিলের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতির গৌরবের মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণতি করা হয়েছে। যে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য সেই মুক্তিযুদ্ধকেই ব্যবহার করেই জাতিকে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে। যারা আজ মুক্তিযুদ্ধের একচ্ছত্র দাবীদার তাদের দ্বারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুন্ঠিত হয়েছে বার বার। কিন্তু ছাত্রশিবির তার প্রত্যয় ভূলে যায়নি। বিজয়কে অর্থবহ করতে এবং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরীর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিয়ে দেশ-বিদেশের চলমান ষড়যন্ত্রে নিত্য নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। সম্প্রতি দেশে জঙ্গি হামলা, সরকার দলীয় নেতাদের মদদে বি.বাড়ীয়সহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর নির্বিচারে হামলা এবং বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। যে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের মানুষ স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছে তা আজো অর্জিত হয়নি। জনগণের মৌলিক অধিকার আজ কয়েমী স্বার্থবাদীদের ইচ্ছার কাছে জিম্মি। 

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বৈষম্য দূর, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের জন্য রক্ত সাগর পাড়ি দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু আদর্শহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাধীনতার এত বছর পরও তা অর্জিত হয়নি। এই রাজনৈতিক শুন্যতাকে ইসলামী মূল্যবোধের আদর্শ দিয়ে পূরণ করতে হবে। নৈতিকতা ভিত্তিক আদর্শীক নেতৃত্ব তৈরীর লক্ষ্য নিয়েই ছাত্রশিবির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রচেষ্টা আরও তীব্র করতে হবে। বিজয়ের অর্জনকে অর্থবহ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। 

উল্লেখ্য, ৪৫ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ১. বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা ২. শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআনখানী ও দোআ মাহফিল, ৩. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধণা, ৪. মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, ৫. দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ৬. ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ও স্বেচ্ছায় রক্তদান, ৭.অনাথ ও পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, ৮.কুইজ, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ৯. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেয়ালিকা প্রকাশ।